সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ইঞ্জিনিয়ারিং

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় গবেষণায়, এখন কমনওয়েলথ স্কলারশিপে কেমব্রিজে শরূপ
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় গবেষণায়, এখন কমনওয়েলথ স্কলারশিপে কেমব্রিজে শরূপ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী শাহ মো.শরূপ হাসান আনন্দ উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজে জায়গা করে নিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে ৪.০০-এর মধ্যে পূর্ণ ৪.০০ সিজিপিএ অর্জনের পর ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কেমব্রিজে এমফিল করতে যাচ্ছেন তিনি। তার উচ্চশিক্ষার এই যাত্রায় রয়েছে কমনওয়েলথ স্কলারশিপের অর্থায়ন।   কেমব্রিজে শরূপ এমফিল ইন বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস বাই অ্যাডভান্সড স্টাডি প্রোগ্রামে পড়বেন। তার বিশেষায়িত ক্ষেত্র ইনফেকশন বায়োলজি অ্যান্ড মলিকিউলার ইমিউনোলজি। কেমব্রিজে অধ্যয়নকালে তিনি ঐতিহাসিক ম্যাগডালেন কলেজের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।   কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইনফেকশন বায়োলজি অ্যান্ড মলিকিউলার ইমিউনোলজি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কমনওয়েলথের অর্থায়নের আওতায় থাকা এমফিল ক্ষেত্রগুলোর একটি। এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষায় সংক্রমণ, রোগজীবাণু ও মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে গভীরভাবে অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে।   শরূপের একাডেমিক পথচলার গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে ঢাকাতেই। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করেন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ থেকে। এরপর ২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা শুরু করেন। ২০২৫ সালে তিনি সর্বোচ্চ ৪.০০ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।   বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন শরূপ। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু আশফাকুর সাজিবের গবেষণাগারে কাজ করেন তিনি। সেখানে রোগজীবাণুর আচরণ, মানবদেহে রোগজীবাণু প্রবেশের পর প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া এবং আণবিক পর্যায়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।   এই গবেষণার অভিজ্ঞতাই পরবর্তী উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্র বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। কেমব্রিজে তার পড়াশোনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হবে হোস্ট-প্যাথোজেন ইন্টারঅ্যাকশন, অর্থাৎ রোগজীবাণু ও আক্রান্ত মানবদেহের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক। একই সঙ্গে সংক্রামক জীবাণু কীভাবে মানবদেহকে আক্রান্ত করে এবং শরীরের ইমিউন সিস্টেম কীভাবে সেই আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেসব বিষয় নিয়েও তিনি উচ্চতর পর্যায়ে কাজ করবেন।   ইনফেকশন বায়োলজি ও মলিকিউলার ইমিউনোলজি আধুনিক জীববিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাক্ষেত্র। সংক্রামক রোগের কার্যপ্রক্রিয়া বোঝা, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ এবং আণবিক পর্যায়ে সংক্রমণের বিভিন্ন ধাপ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই ক্ষেত্রের গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শরূপের আগের গবেষণা অভিজ্ঞতার সঙ্গেও এই বিশেষায়িত শিক্ষার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ ফল অর্জন থেকে কেমব্রিজে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ পাওয়া পর্যন্ত শরূপের এই পথচলা বাংলাদেশের তরুণ গবেষকদের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে অর্জিত অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি এখন আন্তর্জাতিক পরিসরে জীববিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় উচ্চতর পড়াশোনা ও গবেষণার নতুন অধ্যায় শুরু করছেন।   সূত্র: দ্যা এক্সিলেন্স অফ ঢাকা ইউনিভার্সিটি

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
বুয়েটের মেকানিক্যাল থেকে শিক্ষকতা, এবার পিএইচডির জন্য প্রিন্সটনে সানজানা
বুয়েটের মেকানিক্যাল থেকে শিক্ষকতা, এবার পিএইচডির জন্য প্রিন্সটনে সানজানা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পড়াশোনা করে একই বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেছেন সানজানা। এবার বুয়েটের সেই একাডেমিক পথ পেরিয়ে পিএইচডি করতে যাচ্ছেন বিশ্বখ্যাত প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে।   বুয়েটে ভর্তি হওয়ার আগে প্রকৌশল নিয়ে পড়াশোনার লক্ষ্য থাকলেও সেখানে শিক্ষকতা করবেন, এমন পরিকল্পনা শুরু থেকেই তাঁর ছিল না। তবে বুয়েটে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম দিন থেকেই শিক্ষকতা পেশার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে নিয়মিত একাডেমিক কাজ, পড়াশোনা ও গবেষণার প্রস্তুতি চালিয়ে যান তিনি। পাশাপাশি বুয়েটের শিক্ষাজীবনও উপভোগ করেছেন।   পিএইচডির জন্য সানজানা প্রায় ১০ থেকে ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন। এর মধ্যে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের পর মাত্র ১০ মিনিটের একটি সাক্ষাৎকারেই তাঁর সামনে খুলে যায় পিএইচডির সুযোগ। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর বিশ্বখ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সুযোগ তাঁর একাডেমিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হয়ে উঠেছে।   এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই পথচলার নানা দিক তুলে ধরেছেন সানজানা। সেখানে এইচএসসি পর্যায় থেকে শুরু করে বুয়েটে ভর্তি হওয়া, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বিভিন্ন স্মৃতি এবং একাডেমিক কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।   বুয়েটে পড়াশোনার পাশাপাশি কীভাবে একাডেমিক কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনকে সামলে চলেছেন, সেই অভিজ্ঞতাও উঠে এসেছে তাঁর কথায়। একই সঙ্গে বুয়েটে শিক্ষকতা পেশায় আসার কারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেছেন তিনি।   পিএইচডির প্রস্তুতি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন, সাক্ষাৎকার এবং শেষ পর্যন্ত প্রিন্সটনে সুযোগ পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটিও ছিল তাঁর এই পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী থেকে একই বিভাগের শিক্ষক এবং সেখান থেকে প্রিন্সটনে পিএইচডির সুযোগ পাওয়া তাঁর একাডেমিক যাত্রায় নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে।   সূত্র: বিয়ন্ড স্টোরিস

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়েতে রিজেক্ট করলেন নারী
এআই চাকরি কেড়ে নিতে পারে, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়েতে রিজেক্ট করলেন নারী

ভারতে এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এক নারী, কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তির চাকরি কেড়ে নিতে পারে বলে তার আশঙ্কা। ম্যাচমেকার ও ডেটিং কোচ ওএন্দ্রিলা কাপুরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও ঘিরে ঘটনাটি আলোচনায় এসেছে। কাপুরের দাবি, ওই নারী তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে এআইয়ের কারণে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি অনিশ্চিত। বিষয়টি ভারতের বিয়ের বাজারে পেশা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   কাপুর জানান, ভারতীয় ম্যাচমেকিংয়ে দীর্ঘদিন ধরে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা পছন্দের পাত্রদের তালিকায় ওপরের দিকে ছিলেন। ভালো বেতন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজের সুযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজ বা ভিসার সম্ভাবনার কারণে অনেক পরিবার এই পেশার পাত্রদের বাড়তি গুরুত্ব দিত। কিন্তু প্রযুক্তি খাতে একের পর এক ছাঁটাই এবং এআইয়ের দ্রুত বিস্তারের খবরের মধ্যে কিছু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি মনে করেন। এবার সেই পরিবর্তনেরই একটি উদাহরণ হিসেবে ওই নারীর সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে।   কাপুরের ৫ সেপ্টেম্বরের পোস্টে বলা হয়, ওই নারী তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি কোনো সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করবেন না, কারণ এআই তার চাকরি নিয়ে নিতে পারে। কাপুর বলেন, ম্যাচমেকার হিসেবে তিনি নানা ধরনের পছন্দ ও শর্ত শুনেছেন, তবে এই কারণটি তাকে বিশেষভাবে ভাবিয়েছে। তার প্রশ্ন, এআইয়ের পরিবর্তনের প্রভাব থেকে আসলে কোন পেশা পুরোপুরি নিরাপদ?   কাপুরের মতে, এআইয়ের প্রভাব এখন শুধু প্রযুক্তি খাতেই সীমাবদ্ধ নেই। ফাইন্যান্স, ডিজাইন, কনসাল্টিং, আইন, হেলথকেয়ারসহ বিভিন্ন পেশায় প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়ছে। ফলে শুধু বর্তমান পেশার নাম দেখে ভবিষ্যতের চাকরির নিরাপত্তা বিচার করলে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। তার বক্তব্য, একজন মানুষকে বিয়ের ক্ষেত্রে আগামী ৪০ বছরের জন্য একটি নির্দিষ্ট চাকরি বেছে নেওয়া হচ্ছে না, বরং এমন একজন সঙ্গী বেছে নেওয়া হচ্ছে, যিনি সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন।   কাপুর আরও বলেন, চাকরির পদবি বা পেশা সময়ের সঙ্গে বদলে যেতে পারে। কোনো কোম্পানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, কোনো শিল্পে পরিবর্তন আসতে পারে, আবার নতুন প্রযুক্তির কারণে কাজের ধরনও পাল্টে যেতে পারে। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে শুধু পেশার স্থায়িত্বকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে দেখলে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি ভুল নিরাপত্তাবোধ তৈরি হতে পারে। তার মতে, কঠোর পরিশ্রম, মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা, আর্থিক দায়িত্বশীলতা এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতা একজন জীবনসঙ্গীর ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   কাপুরের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কেউ মনে করছেন, বিয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ওই নারীর উদ্বেগ পুরোপুরি অযৌক্তিক নয়। অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, একটি নির্দিষ্ট পেশাকে এআইয়ের কারণে ভবিষ্যৎ অনিরাপদ ধরে নিয়ে পুরো পেশার মানুষকে বিয়ের জন্য অযোগ্য ভাবা ঠিক নয়। আলোচনায় উঠে এসেছে, প্রযুক্তির পরিবর্তন যখন প্রায় সব খাতেই প্রভাব ফেলছে, তখন জীবনসঙ্গী নির্বাচনে বর্তমান চাকরির পাশাপাশি ব্যক্তির দক্ষতা, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং আর্থিক দায়িত্বশীলতাও বিবেচনা করা উচিত।   তবে ঘটনাটি কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা বড় পরিসরের জরিপের ফল নয়। এটি কাপুরের সঙ্গে কথা বলা এক নারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বর্ণনা, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এআই ভবিষ্যতে বিভিন্ন পেশার কর্মসংস্থানে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চললেও এই একটি ঘটনার ভিত্তিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির নিরাপত্তা সম্পর্কে কোনো সার্বিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
১৫ বার অ্যামাজনের প্রত্যাখ্যান, শেষ পর্যন্ত জার্মানিতে ১.১ কোটি রুপির চাকরি
১৫ বার অ্যামাজনের প্রত্যাখ্যান, শেষ পর্যন্ত জার্মানিতে ১.১ কোটি রুপির চাকরি

কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনা না করেও প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়ার উদাহরণ তৈরি করেছেন ভারতের গন্তব্য মালভিয়া। ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এই তরুণ অ্যামাজনে চাকরির জন্য প্রায় ১৫ বার আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হন। কিন্তু থেমে না গিয়ে দক্ষতা বাড়িয়ে আবেদন চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত জার্মানিতে অ্যামাজনের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে সুযোগ পান। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর বার্ষিক প্যাকেজ প্রায় ১.১ কোটি রুপি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।    মালভিয়া ভারতের এলএনসিটি ভোপাল থেকে ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিটেক সম্পন্ন করেন। কম্পিউটার সায়েন্স তাঁর মূল বিষয় না হলেও প্রথম বর্ষের শেষ দিক থেকেই প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়ার প্রস্তুতি শুরু করেন। ধীরে ধীরে ডেটা স্ট্রাকচার অ্যান্ড অ্যালগরিদম, পাইথন, মেশিন লার্নিং, প্রোগ্রামিং ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে দক্ষতা অর্জন করেন।   তাঁর প্রস্তুতির বড় অংশজুড়ে ছিল নিয়মিত কোডিং অনুশীলন ও প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামিং। পেশাগত প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি লিটকোডে ৬৫০টির বেশি সমস্যা সমাধান করেছেন এবং ১ হাজার ৯৮০-এর বেশি রেটিং অর্জন করেছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন কোডিং কমিউনিটিতে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন এবং কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ আয়োজনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।    শুধু অনলাইন কোডিং অনুশীলনেই থেমে থাকেননি মালভিয়া। পড়াশোনার পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ করেছেন এবং বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেছেন। এর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপ্লিকেশনও ছিল, যেখানে ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই, এপিআই, ডেটাবেস ও রিঅ্যাক্টভিত্তিক ফ্রন্টএন্ডের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল।    তবে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় অ্যামাজনে চাকরির আবেদন। যোগ্য পদ খুঁজে পেলে তিনি বিভিন্ন দেশ ও লোকেশনের জন্য নিয়মিত আবেদন করতেন। একের পর এক প্রত্যাখ্যান এলেও আবেদন বন্ধ করেননি। প্রায় ১৫ বার ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত জার্মানিতে অ্যামাজনের একটি সুযোগের জন্য নির্বাচিত হন এবং বাছাই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করেন।    এলএনসিটির প্লেসমেন্ট রেকর্ডেও অ্যামাজনে প্রায় ১.১০ কোটি রুপির প্যাকেজে তাঁর নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা এই প্যাকেজের অঙ্কটি মোট পারিশ্রমিকের হিসাব হতে পারে, যেখানে বেতন, সুবিধা ও অন্যান্য উপাদান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তাই এটিকে সরাসরি হাতে পাওয়া বেতন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।    ২০২৩ সালের আগস্টে মালভিয়া অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন। জার্মানিতে তাঁর কাজের সঙ্গে বড় পরিসরের ব্যাকএন্ড সিস্টেম, বিতরণকৃত প্রযুক্তি, এপিআই ও ক্লাউডভিত্তিক সফটওয়্যার সেবার মতো বিষয় যুক্ত ছিল।    তবে মালভিয়ার অ্যামাজন অধ্যায় এখন শেষ হয়েছে। সাম্প্রতিক এক পেশাগত আপডেটে তিনি জানিয়েছেন, অ্যামাজন ছেড়ে ট্যাক্সফিক্সে যোগ দিচ্ছেন। অর্থাৎ ১৫টি প্রত্যাখ্যান পেরিয়ে অ্যামাজনে পৌঁছানোর গল্পের পর তাঁর প্রযুক্তি ক্যারিয়ারে শুরু হয়েছে নতুন অধ্যায়।    মালভিয়ার গল্পের মূল শিক্ষা শুধু ১.১ কোটি রুপির চাকরি নয়। কম্পিউটার সায়েন্সের ডিগ্রি না থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতা তৈরি করা, বাস্তব প্রকল্পে কাজ করা, ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা নেওয়া এবং বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরও উপযুক্ত সুযোগের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই তাঁর ক্যারিয়ার গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী
ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

১৯৯৭ সালে ওমরা করতে সৌদি আরবের মদিনায় গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড সিস্টেমে একটি সমস্যা চোখে পড়ে তুরস্কের অডিও ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ টেকিন টুপুজদাগের। ইমামের কণ্ঠ স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছিল না, ছিল অতিরিক্ত প্রতিধ্বনি ও শব্দের প্রতিক্রিয়া। সেই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগই পরে তাকে পবিত্র দুই মসজিদের সাউন্ড সিস্টেম উন্নয়নের দীর্ঘ ১০ বছরের কাজে যুক্ত করে।   মসজিদে নববীর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কথা বলে নিজের পদ্ধতি পরীক্ষা করার সুযোগ পান টুপুজদাগ। একটি নির্দিষ্ট অংশে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করার পর শব্দের মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়। এরপর পুরো সাউন্ড সিস্টেম উন্নয়নের কাজে তাকে যুক্ত করা হয়।   পরবর্তী এক দশকে মসজিদে নববীর অডিও ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। মাইক্রোফোন, কেবল, স্পিকারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরিবর্তন ও সমন্বয় করা হয়। ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের কণ্ঠের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সাউন্ড সেটিংও আলাদাভাবে সমন্বয় করা হয়।   শব্দের প্রতিধ্বনি ও ফিডব্যাক কমানোর পাশাপাশি পুরো মসজিদকে সাতটি অডিও জোনে ভাগ করা হয়। নামাজের বিভিন্ন অবস্থায়ও যেন ইমামের কণ্ঠ মুসল্লিদের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছায়, সে জন্য অতিরিক্ত মাইক্রোফোন ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়।   মসজিদে নববীর পাশাপাশি মক্কার মসজিদুল হারামের সাউন্ড সিস্টেম নিয়েও কাজ করেন টুপুজদাগ। তার কাজের ফলে সাউন্ডের স্বচ্ছতা বাড়ে এবং বিস্তৃত ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জে শব্দ পৌঁছানোর সক্ষমতা উন্নত হয় বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।   সৌদি আরব ছাড়ার আগে টুপুজদাগ স্থানীয় সৌদি প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদেরও প্রশিক্ষণ দেন। পরবর্তীতে তারা দেশটির বিভিন্ন মসজিদের অডিও সিস্টেম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত হন।   একটি ওমরা সফরে গিয়ে সাউন্ডের একটি সমস্যা চোখে পড়া থেকে শুরু হয়েছিল যে উদ্যোগ, সেটিই শেষ পর্যন্ত মসজিদে নববী ও মসজিদুল হারামের অডিও ব্যবস্থা উন্নয়নের এক দশকের দীর্ঘ প্রকল্পে পরিণত হয়।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: এনটিভি
মাইক্রোসফটের সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হলেন নীলফামারীর সোহান

বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলে প্রায় চার বছর কাজের পর এবার মাইক্রোসফটে সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছেন নীলফামারীর ডোমার উপজেলার আল নাসিরুল্লাহ সিদ্দিকী সোহান। ২৬ আগস্ট নিজের ফেসবুক পোস্টে মাইক্রোসফটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।    সোহান ডোমার পৌর শহরের পল্টনপাড়া এলাকার হামিদার রহমান ও উম্মে আয়েশা সিদ্দিকার ছেলে। নিজের পোস্টে তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার আনন্দের কথা জানিয়ে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।    শিক্ষাজীবনে সোহান ২০১১ সালে ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৩ সালে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ থেকে ২০১৮ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।    স্নাতক শেষ করে দেশে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন সোহান। অরবিটেকস বাংলাদেশে প্রায় ১১ মাস এবং স্যামসাংয়ে প্রায় এক বছর কাজ করার পর ২০২০ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে যান। সেখানে টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব ডর্টমুন্ডে ডেটা সায়েন্সে স্নাতকোত্তর পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করতে থাকেন।    এরপর গুগলের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে সফল হন তিনি। ২০২২ সালের শেষ দিকে গুগলের পোল্যান্ড অফিসে সাইট রিলায়েবিলিটি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। প্রায় তিন বছর নয় মাস গুগলে কাজ করার পর ২৪ আগস্ট মাইক্রোসফটে সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    প্রযুক্তি খাতে সোহানের এই অগ্রযাত্রায় বড় ভাই শাহেদ শাহরিয়ারের দিকনির্দেশনার কথাও উঠে এসেছে। শাহেদ নিজেও গুগলের ডাবলিন অফিসে কর্মরত বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিন সোহানের নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার খবরে আনন্দ প্রকাশ করে তাকে বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার সাফল্যে পরিবার, নিজ এলাকা এবং সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সূএ: এন টিভি

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
২.৫৭ সিজিপিএ নিয়ে পিএইচডি অর্জন করল আরমান সৈকত!
২.৫৭ সিজিপিএ নিয়ে পিএইচডি অর্জন করল আরমান সৈকত!

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে ২ দশমিক ৫৭ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক শেষ করেছিলেন আরমান সাইকট। সাধারণ ধারণা অনুযায়ী, এমন ফলাফল নিয়ে উচ্চশিক্ষার বড় সুযোগ পাওয়া কঠিন। কিন্তু সেই ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করে দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সপেরিমেন্টাল কোয়ান্টাম রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে পূর্ণ অর্থায়নে ইন্টিগ্রেটেড পিএইচডি প্রোগ্রামে সুযোগ পেয়েছেন তিনি।   আরমানের এই অর্জনের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে একাডেমিক ফলাফলের বাইরে গবেষণায় তার দীর্ঘ প্রস্তুতি। স্নাতক শেষ করার পর তিনি প্রায় ১৪ মাস গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এ সময় গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন এবং কোয়ান্টাম বিজ্ঞানে নিজের দক্ষতা ও আগ্রহ তৈরি করেন।   তবে এই সুযোগ একবারে আসেনি। গবেষণার সুযোগ ও পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য তিনি প্রায় ১০০ জন অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ইমেইল পাঠানো, প্রত্যাখ্যান সামলানো এবং নতুন সুযোগ খুঁজে যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পান তিনি।   আরমানের যাত্রা দেখাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই একজন শিক্ষার্থীর পুরো ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। গবেষণার অভিজ্ঞতা, নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা, শেখার আগ্রহ, মেন্টরশিপ এবং দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।   বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য তার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা দিচ্ছে। সিজিপিএ প্রত্যাশার চেয়ে কম হলেও গবেষণার কাজ, প্রকাশনা, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা দিয়ে নিজের প্রোফাইল শক্তিশালী করার সুযোগ থাকে।   আরমান সাইকটের কোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়। এটি এমন শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ, যারা তুলনামূলক কম সিজিপিএর কারণে নিজেদের একাডেমিক ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েন।   তার পথচলা অন্তত এটুকু স্পষ্ট করে, একটি ট্রান্সক্রিপ্ট একজন শিক্ষার্থীর সম্ভাবনার পুরো গল্প বলে না। লক্ষ্য, গবেষণার দক্ষতা, কৌতূহল এবং বারবার চেষ্টা করার মানসিকতাও ভবিষ্যতের দরজা খুলে দিতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে

ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০