সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

এআই চাকরি কেড়ে নিতে পারে, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়েতে রিজেক্ট করলেন নারী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৪:৪
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়েতে রিজেক্ট করলেন নারী
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়েতে রিজেক্ট করলেন নারী

ভারতে এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এক নারী, কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তির চাকরি কেড়ে নিতে পারে বলে তার আশঙ্কা। ম্যাচমেকার ও ডেটিং কোচ ওএন্দ্রিলা কাপুরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও ঘিরে ঘটনাটি আলোচনায় এসেছে। কাপুরের দাবি, ওই নারী তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে এআইয়ের কারণে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি অনিশ্চিত। বিষয়টি ভারতের বিয়ের বাজারে পেশা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

 

কাপুর জানান, ভারতীয় ম্যাচমেকিংয়ে দীর্ঘদিন ধরে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা পছন্দের পাত্রদের তালিকায় ওপরের দিকে ছিলেন। ভালো বেতন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজের সুযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজ বা ভিসার সম্ভাবনার কারণে অনেক পরিবার এই পেশার পাত্রদের বাড়তি গুরুত্ব দিত। কিন্তু প্রযুক্তি খাতে একের পর এক ছাঁটাই এবং এআইয়ের দ্রুত বিস্তারের খবরের মধ্যে কিছু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি মনে করেন। এবার সেই পরিবর্তনেরই একটি উদাহরণ হিসেবে ওই নারীর সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে।

 

কাপুরের ৫ সেপ্টেম্বরের পোস্টে বলা হয়, ওই নারী তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি কোনো সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করবেন না, কারণ এআই তার চাকরি নিয়ে নিতে পারে। কাপুর বলেন, ম্যাচমেকার হিসেবে তিনি নানা ধরনের পছন্দ ও শর্ত শুনেছেন, তবে এই কারণটি তাকে বিশেষভাবে ভাবিয়েছে। তার প্রশ্ন, এআইয়ের পরিবর্তনের প্রভাব থেকে আসলে কোন পেশা পুরোপুরি নিরাপদ?

 

কাপুরের মতে, এআইয়ের প্রভাব এখন শুধু প্রযুক্তি খাতেই সীমাবদ্ধ নেই। ফাইন্যান্স, ডিজাইন, কনসাল্টিং, আইন, হেলথকেয়ারসহ বিভিন্ন পেশায় প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়ছে। ফলে শুধু বর্তমান পেশার নাম দেখে ভবিষ্যতের চাকরির নিরাপত্তা বিচার করলে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। তার বক্তব্য, একজন মানুষকে বিয়ের ক্ষেত্রে আগামী ৪০ বছরের জন্য একটি নির্দিষ্ট চাকরি বেছে নেওয়া হচ্ছে না, বরং এমন একজন সঙ্গী বেছে নেওয়া হচ্ছে, যিনি সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন।

 

কাপুর আরও বলেন, চাকরির পদবি বা পেশা সময়ের সঙ্গে বদলে যেতে পারে। কোনো কোম্পানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, কোনো শিল্পে পরিবর্তন আসতে পারে, আবার নতুন প্রযুক্তির কারণে কাজের ধরনও পাল্টে যেতে পারে। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে শুধু পেশার স্থায়িত্বকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে দেখলে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি ভুল নিরাপত্তাবোধ তৈরি হতে পারে। তার মতে, কঠোর পরিশ্রম, মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা, আর্থিক দায়িত্বশীলতা এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতা একজন জীবনসঙ্গীর ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

 

কাপুরের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কেউ মনে করছেন, বিয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ওই নারীর উদ্বেগ পুরোপুরি অযৌক্তিক নয়। অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, একটি নির্দিষ্ট পেশাকে এআইয়ের কারণে ভবিষ্যৎ অনিরাপদ ধরে নিয়ে পুরো পেশার মানুষকে বিয়ের জন্য অযোগ্য ভাবা ঠিক নয়। আলোচনায় উঠে এসেছে, প্রযুক্তির পরিবর্তন যখন প্রায় সব খাতেই প্রভাব ফেলছে, তখন জীবনসঙ্গী নির্বাচনে বর্তমান চাকরির পাশাপাশি ব্যক্তির দক্ষতা, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং আর্থিক দায়িত্বশীলতাও বিবেচনা করা উচিত।

 

তবে ঘটনাটি কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা বড় পরিসরের জরিপের ফল নয়। এটি কাপুরের সঙ্গে কথা বলা এক নারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বর্ণনা, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এআই ভবিষ্যতে বিভিন্ন পেশার কর্মসংস্থানে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চললেও এই একটি ঘটনার ভিত্তিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির নিরাপত্তা সম্পর্কে কোনো সার্বিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
অটিজম ছেলের জন্য খুঁজলেন নিরাপদ আশ্রয়
মৃত্যুর আগে ১ হাজার প্রতিষ্ঠানে ছুটলেন বাবা, অটিজম ছেলের জন্য খুঁজলেন নিরাপদ আশ্রয়

মৃত্যু যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, তখনও নিজের জন্য নয়—ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছুটে বেড়িয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার লেখক জিওন গিয়ং-চেওল। লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের কাছ থেকে মাত্র ছয় মাসের আয়ুর কথা শোনার পর তার একমাত্র চিন্তা হয়ে ওঠে, তিনি না থাকলে গুরুতর অটিজমে আক্রান্ত ছেলে জেওন কীভাবে বাঁচবে।   জিওন দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ছেলেকে একাই বড় করেছেন। ২৬ বছর বয়সী জেওনের ২০০৭ সালে গুরুতর অটিজমের শনাক্তকরণ হয়। ছেলের স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করা সম্ভব নয়—তাই নিজের মৃত্যুর পর তার জন্য এমন একটি জায়গা খুঁজতে শুরু করেন, যেখানে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদে থাকা ও প্রয়োজনীয় যত্ন পাওয়া সম্ভব।   এই খোঁজ সহজ ছিল না। জিওন দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে প্রায় ১ হাজার আবাসিক ও সেবাকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং অনেক জায়গা নিজেও ঘুরে দেখেন। কিন্তু গুরুতর প্রতিবন্ধকতা, প্রয়োজনীয় কর্মী ও যত্নের সীমাবদ্ধতার কারণে তার ছেলেকে গ্রহণ করতে রাজি হয়নি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান। কোথাও ভর্তি হওয়ার পরও পরে তাকে বের হয়ে আসতে হয়েছে।   তবু থামেননি জিওন। নিজের অভিজ্ঞতা ও ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে লড়াইয়ের গল্প তিনি অনলাইন লেখালেখির প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করতে শুরু করেন। পরে তার গল্প বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানে উঠে আসে। প্রকাশিত হয় তার লেখা বই ‘হ্যালো, পিটার প্যান’। গল্পটি ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থনও আসে; প্রায় ২ হাজারটি সমর্থনমূলক মন্তব্যের পাশাপাশি প্রায় ৮ কোটি কোরিয়ান ওন অনুদান দেওয়া হয় বলে ইয়নহাপ জানিয়েছে।   শেষ পর্যন্ত জেওনের জন্য ৩৬৫ দিন যত্ন নেওয়ার সুবিধা থাকা একটি কমিউনিটি আবাসনের ব্যবস্থা হয়। গুরুতর বিকাশগত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য তৈরি ওই আবাসনেই জেওন থাকতে শুরু করেন। ছেলের জন্য একটি নিরাপদ জায়গা নিশ্চিত হওয়ার পর জিওনের নিজের চিকিৎসাজীবনও শেষের দিকে এগিয়ে যায়।   জিওনকে চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে প্রায় ছয় মাসের আয়ুর কথা বলেছিলেন। কিন্তু তিনি সেই সময়ের চেয়ে প্রায় এক বছর বেশি বেঁচে ছিলেন। ২০২৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিটে ৬৩ বছর বয়সে তিনি মারা যান বলে ইয়নহাপ জানিয়েছে। মৃত্যুর আগ পর্যন্তও তিনি শুধু নিজের ছেলের কথা ভাবেননি; গুরুতর অটিজমে আক্রান্ত অন্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একটি কল্যাণ ফাউন্ডেশন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।   তার এই গল্প এখন দক্ষিণ কোরিয়ায় গুরুতর বিকাশগত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি যত্ন ও তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একজন বাবা নিজের জীবনের শেষ সময়টুকু ব্যবহার করেছেন এমন একটি নিশ্চয়তা তৈরি করতে, যাতে তার অনুপস্থিতিতেও ছেলে একা হয়ে না পড়ে।   সূত্র: ইয়নহাপ, কোরিয়া হেরাল্ড, চোসুনবিজ, এসবিএস, এমবিসি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৪:৪২
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়েতে রিজেক্ট করলেন নারী

এআই চাকরি কেড়ে নিতে পারে, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়েতে রিজেক্ট করলেন নারী

নেটওয়ার্ক ঠিকমতো না পাওয়ায় টেকনিশিয়ানকে টাওয়ারে বেঁধে রাখল গ্রামবাসী

নেটওয়ার্ক ঠিকমতো না পাওয়ায় টেকনিশিয়ানকে টাওয়ারে বেঁধে রাখল গ্রামবাসী

কলকাতা থেকে ২২ হাজার রুপিতে এমবিবিএস সনদ

কলকাতা থেকে ২২ হাজার রুপিতে এমবিবিএস সনদ, দেশে ভুয়া চিকিৎসকের ভয়াবহ চিত্র

৪.০ জিপিএতে ১২৬ কলেজে আবেদন
৪.০ জিপিএতে ১২৬ কলেজে আবেদন, সবগুলোতেই চান্স; বৃত্তি ৯০ লাখ ডলারের বেশি

ইন্ডিয়ানার গ্যারি লাইটহাউস কলেজ প্রিপারেটরি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী আরাসেলি কুয়েভাস ১২৬টি কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে আলোচনায় এসেছেন। একই সঙ্গে তিনি পেয়েছেন মোট ৯ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তির প্রস্তাব। ৪.০ জিপিএ নিয়ে নিজের গ্র্যাজুয়েটিং ক্লাসে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এই শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির জন্য প্রায় ৩০টি রচনা লিখেছেন।    ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, কুয়েভাস গ্যারি লাইটহাউস কলেজ প্রিপারেটরি ক্যাম্পাসের সিনিয়র শিক্ষার্থী ছিলেন। কলেজে আবেদনের সময় তিনি নিজেকে আরও চ্যালেঞ্জ করতে চেয়েছিলেন এবং যত বেশি সম্ভব কলেজে ভর্তির সুযোগ তৈরি করতে আবেদন করেন। তার সেই পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত ১২৬টি কলেজের গ্রহণযোগ্যতায় পরিণত হয়।    কুয়েভাসের একাডেমিক ফলও ছিল অসাধারণ। তার জিপিএ ছিল ৪.০ এবং তিনি নিজের ক্লাসে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। এতগুলো কলেজে আবেদন করার পাশাপাশি তাকে প্রায় ৩০টি রচনা লিখতে হয়েছে। প্রতিটি আবেদনের শর্ত ও প্রয়োজন অনুযায়ী এসব রচনা প্রস্তুত করতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    আবেদনের কৌশল হিসেবেও কুয়েভাস Common App ব্যবহার করে এমন কলেজগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি যেসব কলেজে অ্যাপ্লিকেশন ফি ছিল না অথবা ফি মওকুফের সুযোগ ছিল, সেসব প্রতিষ্ঠানেও আবেদন করেছেন। এতে বিপুলসংখ্যক কলেজে আবেদন করার খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।    তার এই সাফল্যের আরেকটি বড় দিক হলো বৃত্তির প্রস্তাব। বিভিন্ন কলেজ থেকে পাওয়া অফারের মোট মূল্য ৯ মিলিয়ন ডলার। কুয়েভাসের পরিবারের জন্য এই বৃত্তি বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা হতে পারে। তার মা প্যাট্রিসিয়া গনজালেজও জানিয়েছেন, পরিবারের আরেক সন্তান ইতোমধ্যে কলেজে পড়ায় এই বৃত্তির সুযোগ ভবিষ্যৎ শিক্ষার খরচ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।    কুয়েভাস এমন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন, যেখানে শিক্ষার্থীদের কলেজে যাওয়ার জন্য শুরু থেকেই প্রস্তুত করা হয়। গ্যারি লাইটহাউস কলেজ প্রিপারেটরি ক্যাম্পাসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ৯ থেকে ১২ গ্রেডের শিক্ষার্থীদের কলেজ প্রস্তুতির পাশাপাশি বিভিন্ন কলেজ ক্রেডিট অর্জনের সুযোগও দেয় এবং তাদের প্রায় ১০০ শতাংশ শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়।    এখন কুয়েভাসের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোন কলেজে ভর্তি হবেন। তিনি ইন্ডিয়ানার কোনো কলেজে থেকেই উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার দিকে ঝুঁকেছিলেন এবং সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনার পরিকল্পনা করেছিলেন। ২০২৬ সালের মে মাসের কলেজ সিদ্ধান্তের সময়সীমার আগে তাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছিল।    ১২৬টি কলেজে ভর্তির সুযোগ এবং ৯ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তির প্রস্তাব তার সামনে উচ্চশিক্ষার একাধিক পথ খুলে দিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত একটি কলেজই বেছে নিতে হবে তাকে। সেই সিদ্ধান্তের চেয়েও বড় বিষয়, একাডেমিক ফল, পরিকল্পিত আবেদন এবং দীর্ঘ প্রস্তুতির মাধ্যমে ইন্ডিয়ানার এই শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে কলেজ ভর্তির প্রতিযোগিতায় ব্যতিক্রমী একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ০:৫৮
মিশন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে সম্পর্ক ছিন্ন করল সেনাসদস্য

“সে উধাও হয়ে আমাদের অসহায় করে গেছে”: মিশন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে সম্পর্ক ছিন্ন করল সেনাসদস্য

ডিএনএ পরীক্ষায় আপন বোনের পরিচয় পাওয়ার পর মীনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল তিজেনের পুনর্মিলন। ছবি: সংগৃহীত

৪০ বছর পর ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল, এতদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আসলে আপন দুই বোন

সুইডেনে মুসলিমদের সমঅধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবি জানিয়েছে ভিজন পার্টি। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিমদের সমান অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান সুইডেনের ভিজন পার্টির

‘দ্য শাইনিং সোলো’ রিয়েলিটি শোতে ইউ সান। ছবি: সংগৃহীত
সিলিকন পুতুলের মতো চেহারা, কোরীয় রিয়েলিটি শো তারকার ত্বক নিয়ে নেটিজেনদের আলোচনা

দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ডেটিং রিয়েলিটি শো ‘দ্য শাইনিং সোলো’-এর চতুর্থ পর্বে ২৭ বছর বয়সী এক প্রতিযোগীর ত্বক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানটিতে ইউ সান নামে পরিচিত ওই তরুণীর মুখের ত্বক এতটাই মসৃণ ও সমান দেখায় যে, দর্শকদের একাংশ সেটিকে নিখুঁত সৌন্দর্যের উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ এটিকে অতিরিক্ত প্রসাধনী ও সৌন্দর্যচর্চার সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে দেখেছেন।   উচ্চমানের ক্যামেরায় ধারণ করা অনুষ্ঠানের দৃশ্যে ইউ সানের মুখে দৃশ্যমান কোনো লোমকূপ বা বলিরেখা প্রায় চোখে পড়েনি। আলো তাঁর মুখে পড়লে ত্বকটি অনেকটা চীনামাটির মতো মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। সেই দৃশ্য প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা ধরনের মন্তব্য।   একটি ভাইরাল পোস্টে দাবি করা হয়, এই ধরনের ত্বকের চেহারার পেছনে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, রেজুরান ও জুভেলুকের মতো সৌন্দর্যচিকিৎসার ভূমিকা থাকতে পারে। তবে ইউ সান নিজে এসব চিকিৎসা নিয়েছেন কি না, কতবার নিয়েছেন বা তাঁর ত্বকের বর্তমান চেহারার প্রকৃত কারণ কী, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।   হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে প্রসাধনী ও নান্দনিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি উপাদান। রেজুরান ও জুভেলুকও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ত্বকের সৌন্দর্য ও গঠন উন্নত করার জন্য ব্যবহৃত নান্দনিক চিকিৎসার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এসব চিকিৎসার ফল ব্যক্তি ও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। অতিরিক্ত ব্যবহারের সঙ্গে ইউ সানের চেহারার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনো চিকিৎসাগত প্রমাণও প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়াও ছিল বিভক্ত। চীনা ও দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু ব্যবহারকারী তাঁর মুখের চেহারাকে কৃত্রিম পুতুল বা সিলিকনের তৈরি মূর্তির সঙ্গে তুলনা করেছেন। আবার অনেকে এমন ত্বককে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও নিখুঁত বলে প্রশংসা করেছেন।   তবে এই আলোচনা শুধু একজন টেলিভিশন ব্যক্তিত্বের চেহারা নিয়ে মন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সৌন্দর্যচর্চা এবং তরুণদের ওপর নিখুঁত চেহারা ধরে রাখার সামাজিক চাপ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   দক্ষিণ কোরিয়ায় ত্বকের যত্ন ও নান্দনিক চিকিৎসার জনপ্রিয়তা বহুদিনের। দেশটির সৌন্দর্যশিল্পে ত্বকের গঠন, উজ্জ্বলতা ও বয়সের ছাপ কমিয়ে দেখানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা ও প্রসাধনী ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং উচ্চমানের ক্যামেরার যুগে মানুষের চেহারা আরও কাছ থেকে ও বিস্তারিতভাবে দেখা যায়। ফলে সামান্য ত্বকের দাগ, লোমকূপ বা বলিরেখাও দর্শকের চোখে পড়তে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি অদৃশ্য করে দেওয়াকে সৌন্দর্যের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখলে মানুষের মধ্যে অবাস্তব প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা সম্পাদিত ছবি, ফিল্টার এবং অতিরিক্ত মসৃণ ত্বকের সঙ্গে নিজের চেহারার তুলনা করার প্রবণতা আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে।   ‘দ্য শাইনিং সোলো’-তে ইউ সানের উপস্থিতি তাই সৌন্দর্যের সংজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ক্যামেরায় নিখুঁত দেখানো ত্বককে কেউ সৌন্দর্যের চূড়ান্ত প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন, মানুষের স্বাভাবিক ত্বকের বৈশিষ্ট্যগুলোও সৌন্দর্যের অংশ।   তবে ইউ সানের ব্যক্তিগত সৌন্দর্যচর্চা বা কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যকে তাঁর চিকিৎসার প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের আলো, মেকআপ, ক্যামেরার প্রযুক্তি এবং ছবি প্রক্রিয়াকরণের কারণেও ত্বকের চেহারা বাস্তবের তুলনায় আলাদা দেখা যেতে পারে।   শেষ পর্যন্ত এই ঘটনা সৌন্দর্যের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা কতটা বদলে যাচ্ছে, সেই পুরোনো প্রশ্নটিকেই সামনে এনেছে। প্রযুক্তি যখন মানুষের চেহারার প্রতিটি সূক্ষ্ম বিষয়কে দৃশ্যমান করে তুলছে, তখন স্বাভাবিক ত্বককে গ্রহণ করা এবং সৌন্দর্যের জন্য কতটা পরিবর্তন প্রয়োজন, তা নিয়ে বিতর্কও বাড়ছে।   সূত্র: ইউপিএসওসিএল, দ্য শাইনিং সোলো

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ২২:৩৮
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন অভিবাসন বিধিনিষেধের প্রস্তাব করেছে ফিনল্যান্ড সরকার। ছবি: সংগৃহীত

ফিনল্যান্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়ম কঠোর করছে সরকার, স্পাউজ ভিসা ও নাগরিকত্ব পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা

জার্মানিতে দক্ষ কর্মীদের চাকরি খোঁজার সুযোগ দিচ্ছে অপরচুনিটি কার্ড। ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির অপরচুনিটি কার্ডে নতুন সুবিধা, ভিসা ছাড়াই যেতে পারবেন ৮ দেশের নাগরিক

২২ বছর হিমায়িত থাকা ভ্রূণ থেকে জন্ম নেওয়া কন্যাসন্তান জর্জিয়াকে কোলে নিয়ে ক্রিস্টিনা রাপ্তি-তজেলেপি। ছবি: সংগৃহীত

বাইশ বছর হিমায়িত থাকা ভ্রূণ থেকে কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন গ্রিসের এক নারী

0 Comments