- প্রচ্ছদ
- Topic
ইতিহাস
সিরিয়ার দেইর এজ-জোর শহর যখন আই এ সের দখলের মুখে, তখন যুদ্ধের ঝুঁকি উপেক্ষা করে প্রায় ৩০ হাজার ঐতিহাসিক প্রত্নবস্তু সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান দেশটির প্রত্নতাত্ত্বিকরা। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে সেই দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে পরিচালিত ওই অভিযানে দেইর এজ-জোর জাদুঘরের মূল্যবান সংগ্রহগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এসব নিদর্শনের মধ্যে মেসোপটেমিয়ার প্রাচীন সভ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত বহু গুরুত্বপূর্ণ বস্তু ছিল। গবেষণাটির লেখক ও প্রত্নতত্ত্ববিদ অধ্যাপক মামুন আবদুলকরিমের নেতৃত্বে ওই সময় সিরিয়ার প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর অধিদপ্তর উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। তিনি ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সংস্থাটির মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর সময়কালে সিরিয়ার বিভিন্ন জাদুঘর থেকে প্রায় ৩ লাখ প্রত্নবস্তু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার ছিল দেইর এজ-জোর জাদুঘরের। দেইর এজ-জোর ছিল সিরিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা। জাদুঘরটির অনেক নিদর্শন এসেছে হালাফ, দুরা-ইউরোপোস ও মারির মতো প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে। তবে শহরটি তখন ছিল ভয়াবহ সংঘাতের মধ্যে। জাদুঘরটি একটি সামরিক বিমানবন্দরের সঙ্গে সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি পথ দিয়ে যুক্ত ছিল। ফলে প্রত্নবস্তু সরিয়ে নেওয়ার প্রতিটি ধাপেই ছিল বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি। গবেষণায় বলা হয়েছে, যুদ্ধের সময় এমন উদ্ধার অভিযান শুধু পরিবহন ও পরিকল্পনার বিষয় নয়। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, পরস্পরের ওপর আস্থা রাখা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলানোর সক্ষমতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অধ্যাপক আবদুলকরিমের মতে, যুদ্ধের মধ্যে সবকিছু নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা করলে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারিয়ে যেতে পারে। দেইর এজ-জোরের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০১৪ সালের পর সিরিয়া ও ইরাকের বড় অংশে আই এ সের নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত হলে বহু জাদুঘর ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা লুট ও ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়ে। ইরাকের মসুলে জাদুঘর লুট এবং নিনেভে ও আসিরীয় সভ্যতার বহু নিদর্শন ধ্বংসের ঘটনাও সিরিয়ার প্রত্নতত্ত্ব কর্তৃপক্ষকে জরুরি সংরক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করতে বাধ্য করে। অধ্যাপক আবদুলকরিম বলেন, এসব প্রত্নবস্তু শুধু জাদুঘরের সংগ্রহ নয়। এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজার বছরের মানব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের স্মৃতি। তাঁর ভাষায়, ৩০ হাজার নিদর্শন উদ্ধার করার অর্থ শুধু ৩০ হাজার বস্তু রক্ষা করা নয়; বরং যুদ্ধের কারণে মুছে যেতে বসা হাজার বছরের ইতিহাসকে সংরক্ষণ করা। নতুন গবেষণাটি Museum Management and Curatorship সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে যুদ্ধ বা সংকটের আগেই জাদুঘর ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রক্ষায় প্রস্তুতি, নথিপত্র, পেশাগত সক্ষমতা ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তি তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির হ্যারিসন পরিবার ১৯৫৫ সালে দেশজুড়ে আলোচনায় আসে ১৩ ছেলে নিয়ে একটি ছবি প্রকাশের পর। এমোরি ও থেলমা হ্যারিসনের সন্তানদের নিয়ে তোলা ওই ছবি পরিবারটির অস্বাভাবিক বড় আকার এবং একের পর এক ছেলে সন্তানের জন্মের কারণে সে সময় ব্যাপক সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ তৈরি করেছিল। জোন্সবরো ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী এই পরিবারকে সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অল-বয় পরিবারগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরা হয়। ছবিতে হ্যারিসন দম্পতির ১৩ জীবিত ছেলেকে একসঙ্গে দেখা যায়। পরবর্তী পারিবারিক নথি অনুযায়ী, থেলমা মোট ১৪টি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। তাদের একজন, আলভিন ল্যান্ডন হ্যারিসন, ১৯৩৫ সালে শিশুকালেই মারা যায়। ফলে পরিবারের ১৩ ছেলে বেঁচে ছিল। পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, এমোরি ও থেলমার প্রথম সন্তান গাই লেস্টার হ্যারিসন জন্ম নেন ১৯৩৪ সালে। এরপর একে একে পরিবারে যোগ হয় আরও ছেলেসন্তান। ১৯৫৫ সালে জন্ম নেওয়া ইভান হিউস্টন হ্যারিসন ছিলেন জীবিত ছেলেদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। এত বড় একটি ছেলে-সন্তানের পরিবারই হ্যারিসনদের জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করে তোলে। তবে পরিবারের গল্প সেখানেই শেষ হয়নি। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ছেলে সন্তানের পর ১৯৫৮ সালের ২৮ এপ্রিল টেনেসির জনসন সিটির একটি হাসপাতালে থেলমা জন্ম দেন কন্যাসন্তান বারবারা অ্যানকে। ওই সময়ের সংবাদপত্রে ঘটনাটিকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। সন্তান জন্মের পর এমোরি ও থেলমাকে নবজাতক মেয়েটিকে কোলে নিয়ে থাকতে দেখা যায়। বারবারার জন্মের মধ্য দিয়ে পরিবারের দীর্ঘ ছেলে সন্তান জন্মের ধারায় পরিবর্তন আসে। ১৩ জীবিত ছেলেকে ঘিরে যে পরিবারটি কয়েক বছর আগেই জাতীয় সংবাদে পরিণত হয়েছিল, সেখানে এবার যোগ হয় একমাত্র কন্যাসন্তান। হ্যারিসন পরিবারের পারিবারিক নথিতে মোট ১৪ ছেলে এবং পরে বারবারা অ্যানের জন্মের তথ্য পাওয়া যায়। ফ্যামিলি সার্চের নথিতেও আলভিনকে ১৯৩৫ সালে মারা যাওয়া সন্তান হিসেবে এবং বারবারাকে ১৯৫৮ সালে জন্ম নেওয়া কন্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হ্যারিসন পরিবারের এই ব্যতিক্রমী গল্পের আরেকটি অধ্যায় শেষ হয় ২০২৬ সালে। এমোরি ও থেলমার কন্যা বারবারা অ্যান হ্যারিসন রবার্টস ২৪ এপ্রিল ২০২৬ সালে ৬৭ বছর বয়সে মারা যান। তাঁর মৃত্যুসংবাদে তাঁকে এমোরি ও থেলমার কন্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাঁর ভাইদের মৃত্যুর তথ্যও দেওয়া হয়েছে। এমোরি হ্যারিসন ১৯৭১ সালে এবং থেলমা হ্যারিসন ১৯৭৬ সালে মারা যান। তাঁদের সন্তানদের পরবর্তী জীবন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন টেনেসিতে থেকে গেলেও পরিবারের সদস্যরা পরবর্তীতে ইন্ডিয়ানা ও টেক্সাসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও বসবাস করেন। তবে ১৯৫৫ সালের সেই ছবি আজও হ্যারিসন পরিবারের সবচেয়ে পরিচিত স্মৃতি হয়ে আছে। একদিকে ১৩ জীবিত ছেলেকে নিয়ে জাতীয়ভাবে আলোচিত হওয়া, অন্যদিকে চার বছর পর দীর্ঘ ছেলে সন্তান জন্মের ধারার পর একটি মেয়ের আগমন, সব মিলিয়ে পরিবারটির গল্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের এক বিরল মানবিক কাহিনি হয়ে রয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আকাশে বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর যুদ্ধবন্দি হিসেবে আটক হওয়া মার্কিন সেনা সার্জেন্ট লিওনার্ড জে. ম্যাকনিলের পরিচয় অবশেষে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের ডিফেন্স অ্যাকাউন্টিং এজেন্সি । মৃত্যুর প্রায় ৮০ বছর পর তাঁর মরদেহ নিজ অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। ডিপিএএ জানায়, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সী ম্যাকনিল যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি এয়ার ফোর্সের একজন টেল গানার ছিলেন। তিনি একটি বি-২৯ ‘সুপারফোর্ট্রেস’ বোমারু বিমানে দায়িত্ব পালন করতেন। ১৯৪৫ সালের ৫ মে জাপানের কিউশু দ্বীপের ওপর একটি সামরিক অভিযানের সময় তাঁর বিমানটি জাপানি বাহিনীর হামলায় ভূপাতিত হয়। তিনি জীবিত অবস্থায় ধরা পড়লেও পরে যুদ্ধবন্দি হিসেবে মারা যান। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘদিন তাঁর ভাগ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে ঐতিহাসিক নথি, সামরিক রেকর্ড, নৃতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, দন্ত পরীক্ষার তথ্য এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। ডিপিএএ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে শনাক্ত করার পর পরিবারের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ম্যাকনিলের মরদেহ পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় ফ্লোরিডায় দাফন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে আট দশক ধরে চলা একটি পরিবারের অপেক্ষার অবসান ঘটছে। ডিফেন্স পিওডব্লিউ/এমআইএ অ্যাকাউন্টিং এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিখোঁজ বা অশনাক্ত হয়ে যাওয়া মার্কিন সেনাসদস্যদের পরিচয় শনাক্ত ও স্বদেশে ফিরিয়ে আনার কাজ এখনও চলমান। আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তি এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতি বছরই বহু দশক আগে নিখোঁজ হওয়া সেনাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি বা সেমি কুইনসেন্টেনিয়াল (Semiquincentennial) উপলক্ষে যখন পুরো দেশ জুড়ে নানা উৎসবের প্রস্তুতি চলছে, তখন ভবিষ্যতের ৫০০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীকে লক্ষ্য করে এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৪ জুলাই, ২০২৬ তারিখে ফিলাডেলফিয়ার ইন্ডিপেনডেন্স ন্যাশনাল হিস্টোরিক্যাল পার্কে মাটির ১৫ ফুট গভীরে পুঁতে রাখা হবে একটি ঐতিহাসিক ‘টাইম ক্যাপসুল’। কংগ্রেসের ২০১৬ সালের আইনি ম্যান্ডেট অনুযায়ী, ঠিক ২৫০ বছর পর অর্থাৎ ২২৭৬ সালের ৪ জুলাই আমেরিকার ৫০০তম জন্মদিনে এটি আবার মাটি খুঁড়ে বের করা হবে। যার গায়ে স্পষ্ট লেখা থাকবে—‘৪ জুলাই, ২২৭৬ সালের আগে খোলা নিষেধ’। আমেরিকার সব কটি অঙ্গরাজ্য, অঞ্চল এবং ওয়াশিংটন ডিসি থেকে পাঠানো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বস্তু, বই, পান্ডুলিপি ও স্মারক দিয়ে সাজানো হচ্ছে এই টাইম ক্যাপসুল। ওয়ানডে বা টেস্টের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেমন দেশের ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়, ঠিক তেমনি আমেরিকার এই ক্যাপসুলেও স্থান পাচ্ছে তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির নানা প্রতীক। এর মধ্যে যেমন থাকছে একটি আধুনিক ‘আইফোন ১৭’ (iPhone 17), তেমনি থাকছে নেটিভ আমেরিকানদের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম, শিক্ষার্থীদের লেখা প্রবন্ধ, কয়েন ও পিন এবং একটি কোকা-কোলার বোতল। এমনকি আমেরিকার গৃহযুদ্ধে ইউনিয়ন সৈন্যদের সাথে থাকা একটি ঈগল পাখির পালকও সংরক্ষণ করা হচ্ছে এতে। তবে সবচেয়ে বড় চমক থাকছে লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের সৌজন্যে পাঠানো আমেরিকার মূল ঘোষণাপত্র বা ফাউন্ডিং ডকুমেন্টসগুলোতে। সম্পূর্ণ নতুন ও উচ্চ প্রযুক্তির ‘সিন্থেটিক ডিএনএ’ (Synthetic DNA) কোডের মাধ্যমে ডিজিটাল কপি হিসেবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে থমাস জেফারসনের লেখা স্বাধীনতার ঘোষণার মূল খসড়া, আব্রাহাম লিংকনের হাতের একটি প্রতিরূপ এবং আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত ‘দ্য স্টার-স্প্যানগেল্ড ব্যানার’-এর একটি বিশেষ রেকর্ডিং। একটি ছোট থিম্বলের (Thimble) আকারের পাত্রে এই বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ইতিহাস কোড করে রাখা হচ্ছে। বিগত ২৫০ বছরের ইতিহাসে এত দীর্ঘ সময় টিকে থাকার মতো টাইম ক্যাপসুল তৈরি করা হয়নি। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি (NIST)-এর গবেষকেরা জানিয়েছেন, মাটির নিচে পানি ঢুকে পড়ার কারণে সাধারণত বেশিরভাগ টাইম ক্যাপসুল নষ্ট হয়ে যায়। তাই এই ক্যাপসুলটিকে সুরক্ষিত রাখতে এক টন ওজনের স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি একটি সিলিন্ডার আকৃতির নকশা বেছে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের গবেষকেরা এমন সব বস্তু বাতিল করে দিয়েছেন যা পচে যেতে পারে বা ক্ষতিকর গ্যাস তৈরি করতে পারে। ফলে কোনো চামড়ার জিনিস বা খাবার আইটেম এতে স্থান পায়নি। আমেরিকার প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব স্মারকের মধ্যে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া পাঠিয়েছে কয়লা দিয়ে খোদাই করা তাদের রাজ্যের একটি মানচিত্র এবং ওহাইও পাঠিয়েছে রাইট ভাইদের ঐতিহাসিক বিমানের একটি কাপড়ের টুকরো, যার সাথে রয়েছে অরভিল রাইটের আসল বিবৃতি। এই প্রজেক্টের ব্যবস্থাপক টম মেডেমা জানান, এই টাইম ক্যাপসুলটি মূলত ভবিষ্যতের মানুষের সাথে যোগাযোগের একটি মাধ্যম এবং এর মাধ্যমে আমেরিকার স্বাধীনতার অবিনশ্বর আদর্শগুলো আগামী প্রজন্মের কাছে অক্ষুণ্ন থাকবে।
টাইটানিক ডুবে যাওয়ার ১১৪ বছর পর সেই ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির এক বিরল এবং আবেগঘন স্মারক প্রকাশ্যে এসেছে। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার সময় এক বেঁচে যাওয়া যাত্রীর ব্যবহৃত একটি লাইফ জ্যাকেট প্রথমবারের মতো সর্বসাধারণের জন্য নিলামে তোলা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের নিলামকারী প্রতিষ্ঠান 'হেনরি অলড্রিজ অ্যান্ড সন' এই নিলামের আয়োজন করছে। নিলামকারীদের মতে, ক্যানভাস ও কর্ক দিয়ে তৈরি এই লাইফ জ্যাকেটটি ১৯১২ সালের সেই কালরাত্রিতে লরা মেবেল ফ্রাঙ্কাতেলি (Laura Mabel Francatelli) নামে এক প্রথম শ্রেণির যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছিল। জ্যাকেটটির বিশেষত্ব হলো, এতে লরা মেবেল এবং লাইফবোট নম্বর ১-এর আরও সাতজন বেঁচে যাওয়া যাত্রীর স্বাক্ষর রয়েছে। আগামী শনিবার ইংল্যান্ডের উইল্টশায়ারে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নিলামে জ্যাকেটটির দাম ৩ লাখ ১২ হাজার ডলার থেকে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ কোটির বেশি টাকা) পর্যন্ত উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যান্ড্রু অলড্রিজ বলেন, "টাইটানিক থেকে বেঁচে ফেরা কোনো যাত্রীর ব্যবহৃত লাইফ জ্যাকেট নিলামে ওঠার ঘটনা এটিই প্রথম। এটি টাইটানিক স্মারক সংগ্রাহকদের জন্য এক অনন্য সুযোগ।" লরা মেবেল ফ্রাঙ্কাতেলি টাইটানিকের সেই কুখ্যাত ১ নম্বর লাইফবোটে করে রক্ষা পেয়েছিলেন, যা মাত্র ১২ জন যাত্রী নিয়ে সমুদ্রে ভাসানো হয়েছিল, যদিও এর ধারণক্ষমতা ছিল অনেক বেশি। জ্যাকেটটি দীর্ঘ ৯৫ বছর ফ্রাঙ্কাতেলি পরিবারের কাছেই ছিল। পরে ২০০৭ সালে এটি প্রথমবারের মতো এক ব্যক্তিগত সংগ্রাহক কিনে নেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এটি ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিতে নিলামের মঞ্চে ফিরছে।
বিশ্বখ্যাত নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়র লন্ডনের ঠিক কোথায় বসে তার কালজয়ী নাটকগুলো লিখেছিলেন, তা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা রহস্যের অবশেষে সমাধান হয়েছে। নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে শেক্সপিয়রের তৎকালীন বাসস্থানের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। গবেষক জফ্রি মার্শ দীর্ঘ এক দশক ধরে লন্ডনের ঐতিহাসিক নথিপত্র এবং কর প্রদানের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। গবেষণায় দেখা যায়, ১৫৯০-এর দশকে শেক্সপিয়র লন্ডনের 'সেন্ট হেলেনস' বিশপের গির্জার নিকটবর্তী একটি বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। বর্তমানে এই স্থানটি লিভারপুল স্ট্রিট স্টেশনের খুব কাছে অবস্থিত। ঐতিহাসিকদের মতে, এই বাড়িতে অবস্থানকালেই শেক্সপিয়র তার অমর সৃষ্টি ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ এবং ‘আ মিডসামার নাইটস ড্রিম’-এর মতো নাটকগুলো রচনা করেছিলেন। গবেষক মার্শ জানান, তৎকালীন সময়ে ওই এলাকাটি ছিল অত্যন্ত অভিজাত এবং সেখানে সম্পদশালী ব্যবসায়ী ও গুণী ব্যক্তিদের বসবাস ছিল। এই পরিবেশই হয়তো শেক্সপিয়রকে তার নাটকগুলোতে উচ্চবিত্ত ও রাজকীয় জীবনের প্রতিফলন ঘটাতে অনুপ্রাণিত করেছিল। এর আগে কেবল জানা ছিল যে তিনি সেন্ট হেলেনস প্যারিশে থাকতেন, কিন্তু নির্দিষ্ট বাড়িটি চিহ্নিত ছিল না। এই নতুন আবিষ্কার শেক্সপিয়রের ব্যক্তিগত জীবন এবং তার কর্মজীবনের শুরুর দিনগুলো সম্পর্কে নতুন তথ্য উম্মোচন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যিশুর শেষ শয্যায় বাংলাদেশের ছোঁয়া? তুরিনের রহস্যময় চাদরে মিলল চমকপ্রদ তথ্য হযরত ঈসা (আঃ) বা যিশু খ্রিস্টের পবিত্র দেহ যে চাদর দিয়ে ঢাকা ছিল, সেই ঐতিহাসিক ‘শবাচ্ছাদন বস্ত্র’ বা ‘শ্রাউড অব তুরিন’ নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্যে যুক্ত হলো নতুন এক মাত্রা। সাম্প্রতিক এক ডিএনএ গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এই পবিত্র কাপড়ের সঙ্গে প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের গভীর সংযোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশও এই উপমহাদেশের অংশ। ইতালির পাডোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিয়ান্নি বারকাচ্চিয়ার নেতৃত্বে একদল গবেষক এই চাদর থেকে পাওয়া ধূলিকণা এবং ফাইবারের জেনেটিক বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কাপড়টিতে থাকা ডিএনএ-র প্রায় ৩৮.৭ শতাংশই উপমহাদেশীয় বংশোদ্ভূত। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই কাপড়টি প্রাচীন সিন্ধু উপত্যকা অঞ্চল থেকে আমদানিকৃত লিনেন বা সুতো দিয়ে তৈরি হয়ে থাকতে পারে, যা প্রাচীন রেশম পথ বা সমুদ্রপথে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছিল। বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, গুড ফ্রাইডে-তে যিশুর দেহ ক্রুশ থেকে নামানোর পর একটি মসীনার কাপড়ে জড়িয়ে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। ইতালির তুরিন শহরের ‘ক্যাথিড্রাল অব সেন্ট জন দ্য ব্যাপ্টিস্ট’-এ সংরক্ষিত এই ৪.৩৬ মিটার লম্বা কাপড়ে আজও এক দীর্ঘকায় পুরুষের আবয়ব এবং রক্তের ছাপ দৃশ্যমান। নতুন এই গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যিশুর সেই অন্তিম বিদায়ের চাদরটি হয়তো তৎকালীন উপমহাদেশের দক্ষ কারিগরদের বোনা কাপড় ছিল। যদিও এই চাদরটির সত্যতা নিয়ে বিজ্ঞান মহলে বিতর্ক রয়েছে, তবে উপমহাদেশের সাথে এর বাণিজ্যিক ও ঐতিহাসিক যোগসূত্র স্থাপনের এই দাবি বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
মেসোপটেমিয়া কিংবা প্রাচীন মিশরের মতো সমসাময়িক সব বড় সভ্যতা যখন কালের গর্ভে হারিয়ে গিয়েছে, তখনও স্বমহিমায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ইরান। গ্রিক সম্রাট আলেকজান্ডার থেকে শুরু করে মঙ্গোল বীর চেঙ্গিস খান—ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে বিধ্বংসী সব হামলা ধেয়ে এসেছে এই ভূখণ্ডের দিকে। এমনকি বর্তমান সময়ের পরাশক্তি আমেরিকার পক্ষ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো নেতারা যখন গোটা ইরানি সভ্যতাকে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার হুমকি দেন, তখনও বিন্দুমাত্র বিচলিত হয়নি তেহরান। ঐতিহাসিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য সভ্যতার টিকে থাকার মূলে রয়েছে তাদের সুগভীর সাংস্কৃতিক শিকড় এবং জাতীয় ঐক্য। আক্রমণকারীরা বারেবারে তাদের মাটি দখল করলেও, পারস্যের সংস্কৃতিকে কখনো গ্রাস করতে পারেনি; বরং উল্টো আক্রমণকারীরাই একসময় ইরানি ঐতিহ্যে মিশে যেতে বাধ্য হয়েছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এলেও, ইরান আবারও প্রমাণ করেছে যে সাত হাজার বছরের এই সুপ্রাচীন ইতিহাস কোনো সাময়িক সামরিক শক্তির কাছে মাথা নত করার নয়। আধুনিক সমরাস্ত্র আর ভূ-রাজনৈতিক চাপের মুখেও নিজেদের স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখার এই অবিশ্বাস্য ক্ষমতা আজ সারা বিশ্বের কাছে এক পরম বিস্ময়।
১১ হাজার বছর আগের এক বিষাদময় উপাখ্যান! শেষ তুষারযুগের বরফ যখন গলতে শুরু করেছে, ঠিক সেই সময়ে উত্তর ব্রিটেনের এক অন্ধকার গুহায় সমাহিত করা হয়েছিল তিন বছরের এক ছোট্ট শিশুকে। দীর্ঘ গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা উন্মোচন করেছেন মানব ইতিহাসের এক বিস্ময়কর অধ্যায়। কামব্রিয়ার ‘হিনিং উড বোন কেভ’ থেকে উদ্ধার হওয়া এই দেহাবশেষটি বর্তমানে উত্তর ব্রিটেনের ইতিহাসে আবিষ্কৃত প্রাচীনতম মানুষের নিদর্শন। বিজ্ঞানীদের তথ্যানুযায়ী, শিশুটি খ্রিস্টপূর্ব ৯২৯০ থেকে ৮৯২৫ অব্দের মাঝামাঝি সময়ে মারা গিয়েছিল। আধুনিক ডিএনএ বিশ্লেষণ এবং রেডিওকার্বন ডেটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, শিশুটির বয়স ছিল মাত্র আড়াই থেকে সাড়ে তিন বছর। স্থানীয়ভাবে তাকে ‘অসিক ল্যাস’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। গবেষণায় উঠে এসেছে এক আবেগঘন সত্য। আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগেকার সেই আদিম মানুষগুলোও যে তাদের প্রিয়জনদের প্রতি কতটা যত্নশীল ছিল, তার প্রমাণ মেলে এই সমাধিতে। শিশুটিকে গুহার ভেতর অত্যন্ত সম্মানের সাথে সমাহিত করা হয়েছিল। তার দেহের সাথে পাওয়া গেছে পাঁচটি ছিদ্রযুক্ত ঝিনুকের পুঁতি, যা তৎকালীন সময়ের গয়না বা বিশেষ উপহার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এটি প্রমাণ করে, প্রাচীনকালেও মৃতদেহ সৎকারে শোক এবং ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হতো। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এই গুহায় খননকাজ চালিয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিক মার্টিন স্টেবেলস। তার মতে, গুহাটি সম্ভবত তৎকালীন মানুষের কাছে কোনো পবিত্র বা আধ্যাত্মিক স্থান ছিল। ল্যাঙ্কাশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গবেষক ডক্টর রিক পিটারসন এই আবিষ্কারকে বিজ্ঞানের এক অভাবনীয় জয় হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, এত প্রাচীন দেহাবশেষ থেকে লিঙ্গ ও বয়স নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা ব্রিটেনের আদিম জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা বুঝতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।
আজকের দিনে যে জিনিসটি বিদেশ ভ্রমণের জন্য অপরিহার্য, তা হলো পাসপোর্ট। ছোট এক নোটবুকের আকারের এই পরিচয়পত্র নাগরিকত্বের গুরুত্বপূর্ণ সনদ হিসেবে কাজ করে। তবে আধুনিক পাসপোর্টের পেছনে রয়েছে শতাব্দী-দীর্ঘ বিবর্তনের ইতিহাস—যেখানে কখনো নিরাপত্তা, কখনো বাণিজ্য, আবার কখনো রাজনৈতিক প্রয়োজনে এর রূপ বদলেছে। পাসপোর্টের ধারণা প্রাচীন। প্রাচীন চীন ও রোমান সাম্রাজ্যে ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের বিশেষ সনদ দেওয়া হতো। লাতিন শব্দ ‘passer’ (পাস করা) এবং ‘portus’ (বন্দর) থেকে ‘পাসপোর্ট’ শব্দের উৎপত্তি। প্রাচীন চীনে খ্রিস্টপূর্ব ৪৭৫–২২১ সালে ‘গোওসৌ’ নামে পরিচয়পত্র ব্যবস্থার উদাহরণ পাওয়া যায়। রোমান সাম্রাজ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের ‘ট্র্যাক্টোরিয়াম’ বা সম্রাটের বিশেষ চিঠি প্রদান করা হতো। মধ্যযুগে আধুনিক পাসপোর্টের পূর্বসূরি হিসেবে পরিচিতি পায় ‘সেফ কন্ডাক্ট’ বা বিশেষ সুরক্ষা সনদ। ১৪১৪ সালে ইংল্যান্ডে রাজা পঞ্চম হেনরির আমলে এর উল্লেখ পাওয়া গেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে পাসপোর্ট প্রদান শুরু হয় ১৫৪০ সালে, রাজা অষ্টম হেনরির শাসনামলে। বর্তমানে টিকে থাকা সবচেয়ে পুরনো পাসপোর্ট নিদর্শনটি ১৬৪১ সালের, যা রাজা চার্লস প্রথমের আমলে ইস্যু করা হয়েছিল। ১৭৯৪ সালে ব্রিটেনে পাসপোর্ট প্রদানের ক্ষমতা সরাসরি ‘সেক্রেটারি অব স্টেট’-এর অধীনে চলে আসে। আধুনিক পাসপোর্ট ব্যবস্থার সূচনা ঘটে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর। ১৯২০ সালে ‘লিগ অব নেশনস’-এর দেশগুলো পাসপোর্টের কাঠামো ও মান নির্ধারণ করে। আশ্চর্য হলেও সত্যি, আধুনিক পাসপোর্ট মূলত মানুষের বিশ্বভ্রমণ সহজ করার জন্য নয়, বরং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও গতিবিধি সীমিত করার জন্য তৈরি হয়েছিল। ১৯৬৩ সালে জাতিসংঘে পাসপোর্ট প্রথা বাতিলের প্রস্তাব তোলা হয়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ শক্তিশালী দেশগুলো বিরোধিতা করায় তা সম্ভব হয়নি। তাই আজ পাসপোর্ট সীমান্ত অতিক্রমের অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে থাকলেও, এটি একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমও বটে।
১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বর—পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন। কিন্তু সেই ঈদ ছিল না উৎসবের, ছিল আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা আর অপেক্ষার। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদ এসেছিল এক ভিন্ন বাস্তবতা নিয়ে। মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা, ধরপাকড় ও দখলদারিত্বের মধ্যে মানুষের জীবনে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে চলছিল প্রতিরোধ যুদ্ধ। এমন দমবন্ধ পরিস্থিতিতেই আসে ঈদ। যেখানে রমজান এলেই চট্টগ্রাম নিউমার্কেট ও রেয়াজুদ্দিন বাজারে মানুষের ভিড় লেগে থাকত, সেখানে একাত্তরে ছিল নিস্তব্ধতা। নতুন কাপড় কেনা তো দূরের কথা, অনেকেই ন্যূনতম আয়োজনেই ঈদ পার করেছেন। প্রবীণদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে—ঈদের দিনটিতে আনন্দের চেয়ে ভয়ই ছিল বেশি। শহরের বিভিন্ন এলাকায় গুলিবর্ষণ, লুটপাট ও গণহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ত প্রতিনিয়ত। তবুও মানুষের মনে ছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন। কথাসাহিত্যিক আবুল ফজল–এর পরিবারও সেই বাস্তবতার বাইরে ছিল না। তাঁর ছেলে আবুল মোমেন স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ভয়, আশঙ্কা আর আশাবাদের মধ্যেই ঈদ এসেছিল। ঘরে ভালো খাবার হলেও কোনো উৎসব ছিল না।” মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক মাহফুজুর রহমান জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ঈদ উদ্যাপনের কোনো পরিবেশই ছিল না। বরং নিরাপত্তার কারণে অনেককে বাড়ি না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি পরাধীন দেশে ঈদে উৎসব বর্জনের আহ্বান জানিয়ে প্রচারপত্রও বিতরণ করা হয়েছিল। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো গণহত্যা শহরটিকে পরিণত করেছিল মৃত্যুপুরীতে। বন্দর, হালিশহর, লালখান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হয় বড় বড় হত্যাকাণ্ড। অনেক জায়গায় নালা ও ম্যানহোল থেকেও উদ্ধার করা হয় লাশ। ঈদের দিনও ছিল না নিরাপদ। পটিয়ার মনসা গ্রামে এক মায়ের কান্না আজও স্মৃতিতে জাগ্রত—যুদ্ধের কারণে মেয়েকে দেখতে না পারার বেদনা তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল। আবার কোথাও বাবাকে হারানো সন্তানের কান্না ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছিল। ইতিহাস গবেষক মুহাম্মদ শামসুল হক তাঁর স্মৃতিচারণে লিখেছেন, “ঈদের দিন নতুন কাপড় ছিল না, ছিল শুধু দুধের সেমাই আর ভয়ের মধ্যে কাটানো কিছু সময়।” সেদিনের ঈদ ছিল না কোলাকুলি বা আনন্দের—ছিল নীরবতা, আতঙ্ক আর বেঁচে থাকার সংগ্রাম। তবুও মানুষের অন্তরে ছিল একটিই বিশ্বাস—স্বাধীনতা আসবে, অন্ধকার কেটে যাবে। আজকের স্বাধীন দেশে আনন্দমুখর ঈদ উদ্যাপনের পেছনে তাই লুকিয়ে আছে সেই ত্যাগ, বেদনা আর সংগ্রামের ইতিহাস।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।