১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বর—পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন। কিন্তু সেই ঈদ ছিল না উৎসবের, ছিল আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা আর অপেক্ষার। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদ এসেছিল এক ভিন্ন বাস্তবতা নিয়ে।
মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা, ধরপাকড় ও দখলদারিত্বের মধ্যে মানুষের জীবনে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে চলছিল প্রতিরোধ যুদ্ধ। এমন দমবন্ধ পরিস্থিতিতেই আসে ঈদ।
যেখানে রমজান এলেই চট্টগ্রাম নিউমার্কেট ও রেয়াজুদ্দিন বাজারে মানুষের ভিড় লেগে থাকত, সেখানে একাত্তরে ছিল নিস্তব্ধতা। নতুন কাপড় কেনা তো দূরের কথা, অনেকেই ন্যূনতম আয়োজনেই ঈদ পার করেছেন।
প্রবীণদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে—ঈদের দিনটিতে আনন্দের চেয়ে ভয়ই ছিল বেশি। শহরের বিভিন্ন এলাকায় গুলিবর্ষণ, লুটপাট ও গণহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ত প্রতিনিয়ত। তবুও মানুষের মনে ছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন।
কথাসাহিত্যিক আবুল ফজল–এর পরিবারও সেই বাস্তবতার বাইরে ছিল না। তাঁর ছেলে আবুল মোমেন স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ভয়, আশঙ্কা আর আশাবাদের মধ্যেই ঈদ এসেছিল। ঘরে ভালো খাবার হলেও কোনো উৎসব ছিল না।”
মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক মাহফুজুর রহমান জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ঈদ উদ্যাপনের কোনো পরিবেশই ছিল না। বরং নিরাপত্তার কারণে অনেককে বাড়ি না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি পরাধীন দেশে ঈদে উৎসব বর্জনের আহ্বান জানিয়ে প্রচারপত্রও বিতরণ করা হয়েছিল।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো গণহত্যা শহরটিকে পরিণত করেছিল মৃত্যুপুরীতে। বন্দর, হালিশহর, লালখান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হয় বড় বড় হত্যাকাণ্ড। অনেক জায়গায় নালা ও ম্যানহোল থেকেও উদ্ধার করা হয় লাশ।
ঈদের দিনও ছিল না নিরাপদ। পটিয়ার মনসা গ্রামে এক মায়ের কান্না আজও স্মৃতিতে জাগ্রত—যুদ্ধের কারণে মেয়েকে দেখতে না পারার বেদনা তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল। আবার কোথাও বাবাকে হারানো সন্তানের কান্না ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছিল।
ইতিহাস গবেষক মুহাম্মদ শামসুল হক তাঁর স্মৃতিচারণে লিখেছেন, “ঈদের দিন নতুন কাপড় ছিল না, ছিল শুধু দুধের সেমাই আর ভয়ের মধ্যে কাটানো কিছু সময়।”
সেদিনের ঈদ ছিল না কোলাকুলি বা আনন্দের—ছিল নীরবতা, আতঙ্ক আর বেঁচে থাকার সংগ্রাম। তবুও মানুষের অন্তরে ছিল একটিই বিশ্বাস—স্বাধীনতা আসবে, অন্ধকার কেটে যাবে। আজকের স্বাধীন দেশে আনন্দমুখর ঈদ উদ্যাপনের পেছনে তাই লুকিয়ে আছে সেই ত্যাগ, বেদনা আর সংগ্রামের ইতিহাস।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, আমেরিকা তার সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব ও আধিপত্য বজায় রাখতে গিয়ে বিভিন্ন দেশ ধ্বংস করেছে। আফগানিস্তান ও ফিলিস্তিনের ব্যাপারে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই দেশগুলোকে তারা তছনছ করেছে এবং মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর নির্বাচিত সরকারে হস্তক্ষেপ চালাচ্ছে। এ মন্তব্য তিনি করেছেন বুধবার (১ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজিত আলোচনা সভায়। সভার শিরোনাম ছিল “আল-আন্দালুস থেকে গ্রানাডা: ইতিহাসের শিক্ষা ও বর্তমান ভাবনা”। সাদ্দাম বলেন, “আমেরিকার অর্থনীতি ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। তারা বড় ধরনের যুদ্ধ সৃষ্টি করবে এবং তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি করছে। সাম্রাজ্যকে রক্তপাতহীনভাবে ধরে রাখা সম্ভব নয়। তারা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে দেশগুলো ধ্বংস করছে, মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে হস্তক্ষেপ করছে এবং নির্বাচিত সরকারকে প্রতিস্থাপন করছে।” তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বের প্রাচীন ইতিহাস যেমন করডোবার নগরীর শাসনকাল প্রমাণ করে, মুসলিমরা যুগে যুগে বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল। “যখন মুসলমানেরা বিদ্যুতের বাতি আবিষ্কার করেছিল, ইউরোপ তা ব্যবহার করতে শতাব্দী পরে সক্ষম হয়। সেই সময় মুসলমানরা জ্ঞান ও ধর্মকে সমন্বিত করতে পারতেন,” তিনি উল্লেখ করেন। আলোচনা সভার সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক নাজিব ওয়াদুদ, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা, শাখা সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল, প্রচার সম্পাদক মেহেদী সজীব এবং বিভিন্ন হল ও অনুষদের নেতৃবৃন্দ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের শেষ তিন মাসে আরও ৩০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও সচল হবে। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী। এটি তার প্রথম সংসদীয় প্রশ্নোত্তর, যেখানে তিনি সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি গত ১০ মার্চ থেকে দেশের ১৩টি জেলা এবং ৩টি সিটি করপোরেশন/ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই কার্ডের মাধ্যমে ভাতা প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী চার বছরের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারকে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, কার্ডটি নারীপ্রধানের নামে প্রদত্ত হওয়ায় পরিবারের সম্পদের ওপর নারীর নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে পরিবারের খাদ্য, পুষ্টি, জরুরি চিকিৎসা এবং শিক্ষার খাতে সহায়তা সরাসরি পৌঁছাবে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারী ক্ষমতায়ন এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যও ধরা হয়েছে।
কৃষিযন্ত্র চালানোর জন্য তেলপাম্পে গিয়ে চাহিদা মাফিক তেল পাচ্ছেন না পাবনার কৃষকরা। ফলে ডিজেল সংকটে বেশ বিপাকে পড়েছেন তারা। ফসল উৎপাদন, কাটাই, মাড়াই কাজে ভোগান্তি ও ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা তাদের। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার এমনই ভুক্তভোগী কয়েকজন কৃষক উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে সমস্যার সমাধান না পেয়ে কৃষিমন্ত্রীকে ফোন দেন। মন্ত্রীও তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানে কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। কিন্তু আজ মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি বলে দাবি কৃষকদের। ঈশ্বরদী উপজেলার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক ময়েজ উদ্দিন ওরফে কুল ময়েজ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, প্রতিটি ফসল আবাদে বর্তমানে আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে। মাড়াই কাজে হারভেস্টার, জমি চাষ দিতে পাওয়ার ট্রিলার, সেচের জন্য শ্যালো মেশিন, এমনকি ওষুধ ছিটাতেও যন্ত্র চালিত স্প্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিটি যন্ত্র চালাতেই প্রয়োজন ডিজেল। কিন্তু এই যন্ত্রগুলো তো বহন করে তেল পাম্পে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। যেকারণে কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যানে (ঢোপ) তেল নিয়ে যেতেন। বর্তমানে ক্যানে তেল দেয়ার নিষেধাজ্ঞা জারির কারণে পাম্প কর্তৃপক্ষ তাঁদের তেল দিচ্ছেন না। এতে উপজেলার শত শত কৃষক মহাবিপাকে পড়েছেন। ময়েজ উদ্দিন বলেন, ‘তেল সমস্যা সমাধানে কিছুদিন হলো উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের চিরকুট (স্লিপ) দিচ্ছিলেন। কিন্তু তাতেও পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল দিচ্ছেন না। ফলে গত রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে তাঁরা ৪০ থেকে ৪৫ জন কৃষক ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দপ্তরে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে সমস্যা সমাধান না পেয়ে আমি বিকেল ৫টা ৪১ মিনিটে সরাসরি কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিকে ফোন দিয়ে কথা বলি। পরে মন্ত্রীর সঙ্গে কৃষি কর্মকর্তাকে কথা বলিয়ে দেই। মন্ত্রী তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানে কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। পরে সেখান থেকে ইউএনও সাহেবের কাছে গিয়েও বিষয়টি অবগত করি। তিনি বলেছিলেন কৃষি অফিসার তাকে চিঠি দিলে তিনি দেখবেন।’ তিনি বলেন. ‘আজ মঙ্গলবার আবার কৃষি অফিসে গিয়েছিলাম খোঁজ নিতে। কৃষি অফিসার বলেছেন, তিনি ইউএনও সাহেবকে চিঠি দিয়েছেন। ইউএনও সাহেব সেই চিঠি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠাবেন। জেলা প্রশাসক অনুমতি দেওয়ার পর নাকি তেল দেবে। কিন্তু ইউএনও সাহেব কবে জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠাবেন, আর কবে সমস্যার সমাধান হবে বুঝতে পারছি না। আজ মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সমাধান হয়নি। কৃষক তেল পাচ্ছে না। ইতিমধ্যে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’ কৃষক ময়েজ উদ্দিন বলেন, ‘দেশে কতরকম কার্ড আছে। কিন্তু আমাদের কৃষকদের কোন তালিকা নেই, কার্ড নেই। যার কারণে আমাদের পদে পদে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তেলের ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। একটা কৃষি কার্ড থাকলে সবক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কৃষকদের সমস্যার সমাধান হতো। দ্রুত তেল সংকট সমস্যার সমাধান না হলে ফসল ও কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হবে।’ ভুক্তভোগী কৃষক ঈশ্বরদী পৌর সদরের ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের ইস্তা মহল্লার বাসিন্দা আদম আলী বলেন, ‘আমার একটি হার্ভেস্টর, একটি ট্রাক্টর, ৩টি পাওয়ার টিলার, দুটি পাওয়ার স্প্রে ও একটি জমি চাষের আলাদা মেশিন আছে। এই ৮টি যন্ত্র ব্যবহার করতে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ লিটার তেল লাগে। কিন্তু এখন একদিন পর দুইদিন পর পর ৫০-৬০ লিটার তেল দেয়। সেটা দিয়ে একদিন চালানোই কঠিন। খুব সমস্যার মধ্যে আছি।' আরেক কৃষক জাহিদুল ইসলাম ওরফে গাজর জাহিদ বলেন, 'তেল নিয়ে যেন তেলেসমাতি চলছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা তেল মজুত করে মুনাফা লুট করছে। আর সাধারণ কৃষক আমরা আবাদের জন্য তেল পাচ্ছি না। আমাদের কৃষিযন্ত্র গুলো বসে থাকছে। আবাদ বা ফসল কাটা মাড়াই বন্ধ হয়ে আছে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কিন্তু এভাবে চললে তো কৃষক বাঁচতে পারবে না। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত বলে জানান তিনি।' এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন বলেন, ‘তিনি (ময়েজ উদ্দিন) কৃষিমন্ত্রীর কথা বলে একজনকে ফোন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। ফোনের ওপার থেকে সমস্যা সমাধান করতে বলেছেন। আমরা সমস্য সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছি। তেল পাম্পগুলোর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কিছু কৃষক তেল পেয়েছেন। আশা করছি আগামীকাল বুধবার থেকে সবাই তেল পাবেন।’ ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, ‘মূলত ঢোপে তেল নিতে গেলে মোটরসাইকেল চালকরা বঁধা দেন। এতে ভুল বোঝাবুঝি ও বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। তবে সমস্যা সমাধানে আমরা ইতোমধ্যে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছি। কৃষি বিভাগকে বিষয়টি তদারকির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাম্পমালিকদের সঙ্গেও কয়েকদফা বৈঠক করা হয়েছে। আশা করছি আর সমস্যা থাকবে না। পাবনা প্রতিনিধি।