সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

জনমত জরিপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থ ও সরকারি দায়িত্ব নিয়ে নতুন জরিপে নাগরিকদের মতামত উঠে এসেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
দেশের চেয়ে নিজের সম্পদ বাড়ানোয় ট্রাম্পের বেশি মনোযোগ, মনে করেন অধিকাংশ মার্কিন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজের ব্যক্তিগত সম্পদ ও ব্যবসায়িক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে করেন দেশটির অধিকাংশ নাগরিক। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি অনৈতিক বা বেআইনিভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলেও মনে করেন অনেক মার্কিন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও নরক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের (এপি-নরক) নতুন এক জনমত জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। তবে জরিপে উঠে আসা এসব তথ্য নাগরিকদের মতামত তুলে ধরে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়।    ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ট্রাম্প হয় বেআইনিভাবে লাভবান হয়েছেন, নয়তো এমন কিছু করেছেন যা অনৈতিক হলেও আইনত অপরাধ নয়। তাঁদের মধ্যে ৪১ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্প বেআইনি কিছু করেছেন। আর ১৮ শতাংশের ধারণা, তাঁর আচরণ অনৈতিক, তবে বেআইনি নয়। বিপরীতে ১৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি। আরও ২১ শতাংশ এ বিষয়ে মত দেওয়ার মতো যথেষ্ট তথ্য জানেন না বলে জানিয়েছেন।    ট্রাম্প ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন, সে বিষয়েও প্রশ্ন করা হয় জরিপে অংশগ্রহণকারীদের। এতে ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ট্রাম্প তাঁর নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থকে ‘অনেক বেশি’ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের ব্যবসায়িক স্বার্থের ক্ষেত্রেও একই মূল্যায়ন করেছেন ৫৪ শতাংশ। অন্যদিকে, দেশের সামগ্রিক স্বার্থকে তিনি ‘অনেক বেশি’ গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মনে করেন ২৩ শতাংশ। আর নিজের মতো সাধারণ মানুষের স্বার্থকে তিনি একই মাত্রায় গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মনে করেন মাত্র ১১ শতাংশ উত্তরদাতা।   জরিপের ফলাফলে আরও দেখা যায়, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলভেদে মতের পার্থক্য রয়েছে। ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র ভোটারদের বড় অংশ মনে করেন, ট্রাম্প নিজের এবং ঘনিষ্ঠজনদের ব্যবসায়িক স্বার্থকে অন্তত কিছুটা হলেও অগ্রাধিকার দিয়েছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে এ বিষয়ে সমালোচনামূলক মনোভাব তুলনামূলক কম। তবে রিপাবলিকানদের মধ্যেও প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা মনে করেন, ট্রাম্প নিজের ও ঘনিষ্ঠদের ব্যবসায়িক স্বার্থকে ‘অনেক বেশি’ অথবা ‘কিছুটা’ গুরুত্ব দিয়েছেন।   ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বেআইনি কর্মকাণ্ডের ধারণার ক্ষেত্রেও দলীয় বিভাজন স্পষ্ট। জরিপে প্রায় ৮০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন, প্রেসিডেন্ট বেআইনি কিছু করেছেন। স্বতন্ত্র উত্তরদাতাদের মধ্যে এই ধারণা পোষণ করেন প্রায় ৩০ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ। অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের বড় অংশ মনে করেন ট্রাম্প কোনো অন্যায় করেননি, অথবা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো যথেষ্ট তথ্য তাঁদের কাছে নেই। ফলে জরিপের ফলাফলে শুধু ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ নিয়ে উদ্বেগই নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে মতামতের সম্পর্কও স্পষ্ট হয়েছে।   ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে বিতর্কের পেছনে তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক আর্থিক বিবরণীতে ট্রাম্প তাঁর নতুন ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের তথ্য জানিয়েছেন। এসব ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সময় ক্রিপ্টো খাতের নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত নীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। তবে ব্যবসায়িক আয় এবং প্রেসিডেন্টের সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে বেআইনি সুবিধা নেওয়া এক বিষয় নয়; জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মতামতকে এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না।   এপি আরও জানিয়েছে, ট্রাম্পের অন্যতম বড় ক্রিপ্টো উদ্যোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আসে। ওই উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রে আইনি জটিলতায় থাকা এক চীনা ধনকুবের প্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টোকারেন্সি সংগঠনের সহায়তাও পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের প্রথম বছরে তাঁর পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ট্রাম্প অর্গানাইজেশন আবাসন খাতে বিদেশে আটটি ব্যবসায়িক চুক্তি করেছে বলে এপির প্রতিবেদনে জানানো হয়। এসব ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও আর্থিক কার্যক্রম প্রেসিডেন্টের দায়িত্বের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থের সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।   প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত ব্যবসা ও সরকারি দায়িত্বের মধ্যে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর পরিবারের বিদেশি ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ প্রভাব ফেলছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি বা আয় নিজে থেকেই বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রমাণ নয়। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ, প্রযোজ্য আইন এবং প্রাসঙ্গিক প্রমাণ আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।   হোয়াইট হাউস ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের ব্যবসা সরকারি দায়িত্বের কারণে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে, এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে একদিকে নাগরিকদের মধ্যে ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ধারণা এবং অন্যদিকে প্রশাসনের অবস্থান, দুটিই এই বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের ধারণা জনমতের একটি চিত্র তুলে ধরলেও, তা দিয়ে কোনো অভিযোগের আইনি সত্যতা নির্ধারণ করা যায় না।   এপি-নরকের জরিপটি ২০২৬ সালের ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ১৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে পরিচালিত হয়। নরক সেন্টারের সম্ভাবনাভিত্তিক আমেরিস্পিক প্যানেল থেকে উত্তরদাতাদের নির্বাচন করা হয়েছিল। জরিপে অনলাইন ও টেলিফোনে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সামগ্রিক নমুনার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য নমুনাগত ত্রুটির সীমা ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। এই ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর মনোভাব সম্পর্কে ধারণা দিলেও, জরিপের পরিসংখ্যানকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), এপি-নরক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
নতুন জরিপে ট্রাম্পের নীতি ও অগ্রাধিকার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ উত্তরদাতা। ছবি: সংগৃহীত
নিজের দলেই ধস: জনপ্রিয়তায় ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন নতুন করে নিম্নমুখী হয়েছে বলে উঠে এসেছে সিএনএন ও এসএসআরএস পরিচালিত এক জনমত জরিপে। জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদনের হার নেমে এসেছে ৩৪ শতাংশে, যা তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন পর্যায়ের সমান। একই সঙ্গে দেখা গেছে, তার প্রতি অসন্তোষ শুধু বিরোধী সমর্থকদের মধ্যেই নয়, রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে।   ২৩ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ২২৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের মধ্যে পরিচালিত এই জরিপ বুধবার প্রকাশ করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেছেন, আর ৬৬ শতাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সিএনএনের মতে, এই হার ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে হামলার পর তার যে সর্বনিম্ন জনপ্রিয়তা ছিল, তার সমান।   জরিপে আরও দেখা যায়, ট্রাম্পের প্রতি তীব্র সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ১৫ শতাংশ উত্তরদাতা, যা এ পর্যন্ত রেকর্ড সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ৫০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী তার কর্মকাণ্ডের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।   রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও সমর্থন কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জরিপে রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ৭৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদে সবচেয়ে কম। একই সঙ্গে মাত্র ১৯ শতাংশ রিপাবলিকান বলেছেন, ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময় নিয়ে তারা খুবই আশাবাদী। গত বসন্তে এই হার ছিল ৩৮ শতাংশ।   জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ আমেরিকান মনে করেন, ট্রাম্প দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছেন না। ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকার সঠিক নয়। বিপরীতে মাত্র ২৭ শতাংশ মনে করেন, তিনি দেশের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।   অর্থনীতি নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি নেতিবাচক মূল্যায়ন উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, ৬৫ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, ট্রাম্পের নীতির কারণে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। মাত্র ২২ শতাংশ বলেছেন, তার নীতির ফলে অর্থনীতির উন্নতি হয়েছে। বাকি ১৩ শতাংশের মতে, এর কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি।   ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কেও জনমত নেতিবাচক। জরিপে ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ইরান-সংক্রান্ত ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। ২১ শতাংশ মনে করেন, এতে দেশের উপকার হয়েছে এবং ১২ শতাংশ বলেছেন, এতে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।   এ ছাড়া ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্পের বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও রিপাবলিকানদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মাত্র ৪৩ শতাংশ রিপাবলিকান এসব প্রকল্পকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন, আর ৩৫ শতাংশ বলেছেন, বিষয়টি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।   বিশ্লেষকদের মতে, আগামী মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের জনমত জরিপ রিপাবলিকান পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। যদিও একটি জরিপই জনমতের চূড়ান্ত চিত্র নয়, তবু সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪০ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে, যা তার প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
নতুন জরিপে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের মতামতের চিত্র উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
প্রতি ৩ জন আমেরিকানের মধ্যে ২ জনই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিপক্ষে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সমর্থন কতটা, তা নিয়ে নতুন এক জরিপে চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, মাত্র এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পক্ষে মত দিয়েছেন।   ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের বড় একটি অংশ ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।   জরিপে অংশ নেওয়া অনেক নাগরিক জানিয়েছেন, ইরানের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সরাসরি যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়ে তারা সমর্থন দিচ্ছেন না। অন্যদিকে, কিছু মানুষ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো সামরিক অভিযানে যাওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনকে শুধু কৌশলগত বিষয় নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ জনমতও বিবেচনায় নিতে হয়। কারণ দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ক্ষেত্রে জনগণের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ইস্যুতে মার্কিন জনগণের মনোভাব বিভিন্ন ঘটনার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন এই জরিপ আবারও দেখাচ্ছে, বিদেশে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বড় ধরনের মতভেদ রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকিব খন্দকারের বিশেষ সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

আপনার সন্তানকে হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ডের মতো বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন?

অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০