চাঁদপুর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি, সংগ্রাম পেরিয়ে কানেকটিকাটের মূলধারার রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নেতা বাংলাদেশ থেকে কয়েকশ ডলার ও একটি ব্যাকপ্যাক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছিলেন এমডি মাসুদুর রহমান। দীর্ঘ সংগ্রাম, ব্যবসায়িক সাফল্য এবং সামাজিক সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে আজ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটর।
একজন অভিবাসীর স্বপ্নপূরণের এই গল্প এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হিসেবে আলোচিত। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে জন্ম নেওয়া এমডি মাসুদুর রহমান বর্তমানে কানেকটিকাট স্টেট সিনেটের ৪র্থ জেলার প্রতিনিধিত্ব করছেন। তার নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ম্যানচেস্টার, গ্ল্যাস্টনবারি, অ্যান্ডোভার ও বোল্টন।
২০২২ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হন তিনি। পরে বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে একই পদে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে এমডি রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তার পথচলা মোটেও সহজ ছিল না।
তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় এসেছিলাম মাত্র কয়েকশ ডলার ও একটি ব্যাকপ্যাক নিয়ে। শুরুতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছি, সংগ্রাম করেছি। কিন্তু লক্ষ্য ঠিক থাকলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।”
যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রথমে নিউইয়র্কে থাকলেও পরে কানেকটিকাটে স্থায়ী হন তিনি। জীবনের শুরুতে বিভিন্ন সাধারণ কাজ করার পাশাপাশি ধীরে ধীরে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন।
পরবর্তীতে স্বাস্থ্যসেবা, আমদানি-রপ্তানি, নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা গড়ে তোলেন। বর্তমানে তিনি একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিক ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। তার ভাষ্য, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কানেকটিকাটে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
ব্যবসায় সফল হওয়ার পর সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হন এমডি রহমান। বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত হন তিনি। রাজনীতিতে আসার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব খুবই সীমিত ছিল।
তার ভাষায়, “আমি দেখেছি আমাদের কমিউনিটি থেকে স্টেট সিনেট, কংগ্রেস কিংবা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদে প্রতিনিধিত্ব খুব কম। তখন মনে হয়েছে, আমাদের কাউকে এগিয়ে আসতে হবে।”
ডেমোক্রেটিক পার্টির বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে দলের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে যুক্ত হন। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগও পান। ২০২২ সালে স্টেট সিনেট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তাকে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এক রাজনীতিবিদের মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি বলেন, “অনেকে বলেছিলেন এটি বড় একটি পদ, ছোট জায়গা থেকে শুরু করা উচিত। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি নেতৃত্বের জন্য বড় লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন।”
নির্বাচিত হওয়ার পর কানেকটিকাট স্টেট সিনেটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন এমডি রহমান। বর্তমানে তিনি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান। এছাড়া বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, অর্থ এবং বিচারবিষয়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
তার নেতৃত্বে আবাসন সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কম আয়ের মানুষের জন্য আবাসনের সুযোগ বাড়াতে কাজ করছেন বলে জানান তিনি। এমডি রহমান বলেন, “জনগণের জীবন সহজ করা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করাই আমাদের দায়িত্ব। মানুষের জন্য কাজ করলে মানুষ তার মূল্যায়ন করে।”
বাংলাদেশি কমিউনিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, শুধু ব্যবসা বা চাকরির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাংলাদেশিদের মূলধারার রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হতে হবে।
তিনি বলেন, “আমাদের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী করতে হলে রাজনীতিতে অংশ নিতে হবে। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে স্টেট এবং ফেডারেল পর্যায় পর্যন্ত আমাদের প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন।” বাংলাদেশের তরুণদের উদ্দেশে তার বার্তা, সফলতার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাসের বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, “আপনি কতবার ব্যর্থ হয়েছেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, আপনি কতবার আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন।” চাঁদপুরের একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট সিনেটে জায়গা করে নেওয়া এমডি মাসুদুর রহমানের এই যাত্রা এখন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির কাছে অধ্যবসায় ও সাফল্যের অনুপ্রেরণার প্রতীক।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে পাঁচ সন্তানের এক মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই বোনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত ক্যারোলিন "ক্যারো" পেনা (৩২) হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েক মিনিট আগে তার দীর্ঘদিনের এক বান্ধবীকে ফোন করেছিলেন বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় ১টা ৩৫ মিনিটে ক্যারোলিন পেনা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ক্রিস্টিনা সালিনাসকে ফোন করেন। তবে ফোনটি রিসিভ করা হয়নি। এর কয়েক মিনিট পরই ডেল রিও এলাকায় তার ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় কিটি মিয়া ডিয়াজ (২১), আমায়া "কুকি" ডিয়াজ (১৯) এবং কিয়ান্দ্রা রেনে ফাজ (২১) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টিনা সালিনাস বলেন, তিনি যদি ফোনটি ধরতে পারতেন, তাহলে হয়তো ঘটনাটি এভাবে ঘটত না। তিনি বলেন, "আমার মনে হয় আমি যদি ফোনটি ধরতাম, তাহলে আমি তার সঙ্গে থাকতাম। হয়তো এমন কিছু ঘটত না।" সালিনাস জানান, হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ক্যারোলিন পেনাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে বিমানযোগে সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও সেখানে তার মৃত্যু হয়। তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি রক্তাক্ত ছবি দেখে চুল বাঁধার ধরন ও পোশাক দেখে তিনি বুঝতে পারেন সেটি তারই বন্ধু। বন্ধুকে স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় সালিনাস লেখেন, "তুমি একা চলে যেতে, আমি কখনও তা হতে দিতাম না। তুমি নেই, কিন্তু কখনও ভুলে যাওয়ার নও।" তিনি তাদের একসঙ্গে তোলা সর্বশেষ একটি ছবিও প্রকাশ করেন। পাশাপাশি নিজের বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, "তোমার আমার বাড়িতে আসা, একসঙ্গে খাওয়া, গল্প করা আর হাসির মুহূর্তগুলোই সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে।" এদিকে গ্রেপ্তারের সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে অভিযুক্ত কিটি ডিয়াজকে হাসিমুখে পুলিশি গাড়ির দিকে যেতে দেখা যায়। অন্যদিকে তার বোন আমায়া ডিয়াজকে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে "রেকর্ড করা বন্ধ করো" বলতে শোনা যায়। স্বাধীন সাংবাদিক মাইকেল এলিজোন্ডোর দাবি, গ্রেপ্তারের পর আমায়া ডিয়াজকে বেশ হাসিখুশি দেখা গেছে। পুলিশের গাড়ির জানালা দিয়ে মুখ বের করে জিভ দেখানোসহ বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিও করেন তিনি। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় ১৩ বছর আগে ঘটে যাওয়া এক সাহসিকতার ঘটনা সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে আবারও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১৩ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সী টেমার বগসের বীরত্বপূর্ণ উদ্যোগে অপহৃত ৫ বছরের এক শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। পুরোনো এই ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসায় অনেকেই কিশোরটির সাহস ও মানবিকতার প্রশংসা করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও ল্যাঙ্কাস্টার কাউন্টি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের জুলাই মাসে পেনসিলভানিয়ার ল্যাঙ্কাস্টারে নিজের বাড়ির কাছাকাছি খেলছিল ৫ বছর বয়সী জসলিন রোজাস। এ সময় এক ব্যক্তি তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করেন। এ সময় টেমার বগস এবং তার এক বন্ধু সাইকেল নিয়ে স্বেচ্ছায় অনুসন্ধানে অংশ নেন। একপর্যায়ে তারা একটি সন্দেহজনক গাড়ির ভেতরে জসলিনকে দেখতে পান। এরপর তারা নিজেদের সাইকেলেই প্রায় ১৫ মিনিট ধরে গাড়িটির পিছু নেন। দুই কিশোরের ধাওয়া এবং চারপাশের পরিস্থিতির চাপে অপহরণকারী শেষ পর্যন্ত গাড়ি থামিয়ে শিশুটিকে রাস্তার পাশে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। জসলিন নিরাপদে উদ্ধার হয় এবং পরে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে অপহরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ঘটনার পর টেমার বগসের সাহসিকতা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রশংসিত হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম তাকে স্থানীয় নায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করে। তবে টেমার সে সময় বলেছিলেন, তিনি শুধু একজন অসহায় শিশুকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি আবার ভাইরাল হওয়ায় নতুন প্রজন্মের অনেকেই টেমার বগসের এই সাহসিকতার গল্প নতুন করে জানতে পারছেন। নাগরিক দায়িত্ববোধ, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং মানবিক উদ্যোগের অনন্য উদাহরণ হিসেবে ঘটনাটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রে স্মরণ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের লেডভিল শহরের পশ্চিমাঞ্চলে একটি ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। 'উইলো ফায়ার' নামের এই দাবানলটি দ্রুত লোকালয়ের দিকে ধেয়ে আসায় আশেপাশের বেশ কয়েকটি সড়ক, ক্যাম্পগ্রাউন্ড এবং পর্যটন এলাকা থেকে বাসিন্দাদের জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লেক কাউন্টির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, রোববার বিকেলে মাউন্ট ম্যাসিভ এলাকার টুইন মাউন্ডসের কাছে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। তীব্র বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং ইতিমধ্যে তা ১ হাজার ৬৬ একরেরও বেশি বনভূমি গ্রাস করেছে। পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। জননিরাপত্তার স্বার্থে রোববার বিকেল ৫টা থেকে কাউন্টি রোড ৪, ৯, ৯ডি, ৫এ, ৪৮ এবং ৯৯ সহ আশেপাশের সব সড়ক ও ট্রেইল থেকে সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র টারকোয়েজ লেকের চারপাশের সব ক্যাম্পগ্রাউন্ড এবং বনের ভেতরের পায়ে হাঁটার পথগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় পরবর্তী সময়ে হেগারম্যান পাস এবং কলোরাডো ট্রেইল এলাকাতেও অতিরিক্ত সতর্কতা ও উচ্ছেদ এলাকা ঘোষণা করা হয়। বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য কলোরাডো মাউন্টেন কলেজ জিমনেশিয়ামে একটি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। গৃহহীন বাসিন্দারা যাতে পরবর্তীতে নিজেদের এলাকায় নিরাপদে ফিরতে পারেন, সেজন্য তাদের পরিচয়পত্র নিবন্ধনের কাজ শুরু হয়েছে। জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষদের নিজেদের ঠিকানার প্রমাণপত্র সাথে রাখার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন। এছাড়া খামারের বড় পশুদের সুরক্ষার জন্য বুয়েনা ভিস্তার রোডিও গ্রাউন্ডে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছোট ছোট গৃহপালিত প্রাণীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সাহায্য করছে স্থানীয় লেডভিল অ্যানিমেল শেল্টার। এদিকে গ্র্যান্ড ওয়েস্ট এলাকা, মাউন্টেন ভিউ ইস্ট ও ওয়েস্ট এবং সিলভার হিলস সাবডিভিশনের বাসিন্দাদের আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। যেকোনো সময় এলাকা ছাড়ার জন্য তাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি দল কাজ করলেও শুষ্ক আবহাওয়া ও বাতাসের কারণে আগুন নেভাতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।