সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

ভোটের আগে বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচনে আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক, ৯.৪৫ লাখ ডলারের অডিট দাবি

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৬ ১১:২৬
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কভিত্তিক প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমিউনিটিতে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংগঠনের সদস্যপদ সংগ্রহ কার্যক্রমের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ জুন। একই সঙ্গে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ১৮ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেনি, তবে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে জোরদার হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে সদস্যপদ সংগ্রহ ও ভোটার তালিকা প্রণয়ন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ২১ জুন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার আজীবন সদস্য এবং ৮০০ জন নতুন ও নবায়ন সদস্য যুক্ত হয়েছেন। তবে এখনো অনেক আবেদন জমা পড়ার বাকি রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, শেষ সময়ে সদস্যসংখ্যা আরও বাড়বে এবং মোট ভোটার সংখ্যা ২০ থেকে ২৫ হাজারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে।

 

বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আজীবন সদস্যের জন্য ৫০০ ডলার এবং সাধারণ সদস্যের জন্য ২০ ডলার। স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে আজীবন সদস্য হলে একজনের ৫০০ ডলার ফি দিলেই দুজন সদস্যপদ লাভ করতে পারবেন।

 

নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে দুটি প্রধান প্যানেল মাঠে সক্রিয় রয়েছে। বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে একটি প্যানেল কাজ করছে। অন্যদিকে আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আলমের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেল। দুই পক্ষই বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে।

 

যদিও আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়নি, সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে সদস্য সংগ্রহ, মতবিনিময় এবং নির্বাচনী সমর্থন আদায়ে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। কমিউনিটিতে নির্বাচন ঘিরে আলোচনা, সমীকরণ ও প্যানেলভিত্তিক কৌশল এখন অন্যতম আলোচ্য বিষয়।

 

নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে আবু নাসেরের নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা হয়েছে। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করবে ১ জানুয়ারি।

 

বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর প্যানেল দাবি করছে, তাদের মেয়াদে কমিউনিটির উন্নয়নে বেশ কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি সেন্টারের উন্নয়ন, বিভিন্ন এলাকায় স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং নিয়মিত চাকরি বিষয়ক সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ। তাদের দাবি, স্টেট থেকে প্রাপ্ত ৬৫ হাজার ডলারের একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।

 

অন্যদিকে কুনু-ফিরোজ প্যানেল নতুন নেতৃত্ব, জবাবদিহিতা ও কমিউনিটির অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করার অঙ্গীকার করছে।

 

কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের মতে, এবারের নির্বাচনে সদস্যপদই সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। কারণ বৈধ সদস্যরাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এ কারণে ৩০ জুনের মধ্যে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

 

এদিকে বাংলাদেশ সোসাইটি এবার প্রথমবারের মতো অনলাইন সদস্যপদ গ্রহণ ও নবায়ন প্রক্রিয়া চালু করেছে। ফলে প্রবাসীরা ঘরে বসেই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন ও ফি পরিশোধ করতে পারছেন।


নির্বাচনী তৎপরতার পাশাপাশি বাংলাদেশ সোসাইটির আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংগঠনের লাইফ মেম্বার ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির আলী খান পল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টে ৯ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ অডিটের দাবি জানিয়েছেন।

 

নাসির আলী খান পলের অভিযোগ, একসময় সোসাইটির ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৯ লাখ ৪৫ হাজার ডলার ছিল। বর্তমানে সেই অর্থের অবস্থান ও ব্যয়ের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। তার দাবি, নির্বাচন আয়োজনের আগে একটি স্বাধীন অভ্যন্তরীণ অডিটের মাধ্যমে সব হিসাব সদস্যদের সামনে তুলে ধরা উচিত।

 

তিনি আরও বলেন, বর্তমান কমিটির আর্থিক অবস্থান সম্পর্কেও ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মনে করেন সোসাইটির আর্থিক হিসাব নিয়ে সদস্যদের মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বিগত তিন কমিটির আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ অডিট দাবি করেন।

 

নাসির আলী খান পল অভিযোগ করেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সদস্য ফি এবং অন্যান্য খাত থেকে সংগৃহীত অর্থের বিস্তারিত হিসাব সদস্যদের সামনে প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, বড় অঙ্কের ব্যয়ের ক্ষেত্রে ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

 

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, প্রতিবছর সিপিএ (সার্টিফায়েড পাবলিক অ্যাকাউন্ট্যান্ট) দ্বারা হিসাব প্রস্তুত করা হয় এবং সাধারণ সভায় তা উপস্থাপন করা হয়। সংগঠনের সংবিধানে বাধ্যতামূলক অডিটের বিধান নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

মোহাম্মদ আলীর দাবি, সোসাইটির ইতিহাসে কখনো ৯ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের তহবিল ছিল না। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন হিসাব মিলিয়ে সংগঠনের প্রায় আড়াই লাখ ডলার রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা অর্থ, ফেরত পাওয়া অর্থ এবং অন্যান্য তহবিল অন্তর্ভুক্ত।

 

তিনি আরও দাবি করেন, পূর্ববর্তী সময়ে কবর কেনার জন্য ব্যয় করা অর্থের একটি অংশ তারা ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছেন এবং কোনো অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়ম হয়নি।

 

বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিমও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাদের দায়িত্বকালে প্রতিবছর হিসাব প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সাধারণ সভায় তা উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সদস্যদের সামনে পূর্ণাঙ্গ হিসাব তুলে ধরারও আশ্বাস দেন তিনি।

 

ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার বলেন, বর্তমান কমিটির সময়ে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে তার জানা নেই। তবে যেকোনো অভিযোগ সাধারণ সভায় উত্থাপন করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বলে তিনি মত দেন।

 

অন্যদিকে সাবেক কোষাধ্যক্ষ নওশেদ হোসেন দাবি করেন, দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় বর্তমান কমিটির কাছে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ডলারের বেশি অর্থ ছিল। তবে এ বিষয়ে বর্তমান নেতৃত্বের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, তারা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার বুঝে পেয়েছিলেন।

 

এদিকে নাসির আলী খান পল সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি পোস্টে দাবি করেছেন, অভ্যন্তরীণ অডিটের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এক অনুষ্ঠানে সোসাইটির সভাপতি অডিটের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।

 

তবে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেছেন, বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী সিপিএ-নির্ভর হিসাব ব্যবস্থাই অনুসরণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সদস্যরা চাইলে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে অডিট বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

 

বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সদস্যপদ সংগ্রহ, ভোটের প্রস্তুতি এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা জোরদার হচ্ছে। কমিউনিটির অনেকের মতে, নির্বাচনের আগে এসব প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে সংগঠনের প্রতি সদস্যদের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
মাঝ আকাশে ত্রুটি! কানাডার কুইবেকে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সব আরোহী নিহত
মাঝ আকাশে ত্রুটি! কানাডার কুইবেকে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সব আরোহী নিহত

কানাডার কুইবেক প্রদেশে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে তাতে থাকা চারজনই নিহত হয়েছেন। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার পর মন্ট্রিয়ল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে সাঁত-ব্রিজিদ-দিবেরভিল এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাদেশিক পুলিশ জানিয়েছে।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১০ নম্বর মহাসড়কের কাছে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর এতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। চার আরোহীকেই সেখানে মৃত ঘোষণা করা হয়।    কুইবেক পুলিশের মুখপাত্র অড্রে-অ্যান বিলোদো জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত হওয়ার আগে হেলিকপ্টারটি সমস্যায় পড়েছিল বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। কী ধরনের সমস্যা হয়েছিল এবং সেটিই দুর্ঘটনার কারণ কি না, তা এখনও নিশ্চিত হয়নি।    নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। কানাডার পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডকেও ঘটনা জানানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ০:৫৯
মাত্র ৬ বছর বয়সে রুবিকস কিউব সমাধানে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে লিয়ান ইউনঝি

৬ বছরের মেয়ের অবিশ্বাস্য কাণ্ড, রুবিকস কিউব মেলালেন ৪ সেকেন্ডের একটু বেশি সময়ে

শ্রমিকসংকটের জরুরীভিত্তিতে কৃষি ভিসা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

শ্রমিকসংকটের জরুরীভিত্তিতে কৃষি ভিসা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

এয়ারপোর্টে ব্যাগেজ ফর্ম নিয়ে বিভ্রান্তি!

এয়ারপোর্টে ব্যাগেজ ফর্ম নিয়ে বিভ্রান্তি! প্রবাসীদের জন্য নতুন বাধ্যতামূলক নিয়ম

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে লংমার্চের নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে পিটিআই। ছবি: সংগৃহীত
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে উত্তাল পাকিস্তান, ইসলামাবাদে লকডাউনের মুখে লংমার্চ পেছাল পিটিআই

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদমুখী লংমার্চের তারিখ পিছিয়ে দিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। ২৭ সেপ্টেম্বর এই কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছে দলটি।   শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা সোহেল আফ্রিদি পেশোয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন, দলের রাজনৈতিক কমিটি বৈঠক করে সর্বসম্মতভাবে লংমার্চ ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, ওই দিন পেশোয়ার থেকে ইসলামাবাদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হবে।   এর আগে পিটিআই ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছিল। দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে মুক্তি দেওয়া, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দাবিতে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।   লংমার্চের প্রস্তুতির মধ্যেই ইসলামাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর প্রশাসন ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে দুই মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এর আওতায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, সমাবেশ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   ইসলামাবাদে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। ইসলামাবাদ-পেশোয়ার মোটরওয়ে, ইসলামাবাদ-ডেরা ইসমাইল খান মোটরওয়ে এবং গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের কয়েকটি অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পিটিআইয়ের কর্মসূচি ঠেকাতে রাজধানী ও পাঞ্জাবের কয়েকটি এলাকায় পাকিস্তান রেঞ্জার্সও মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারি অনুমোদন অনুযায়ী, এই মোতায়েন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল রাখার কথা রয়েছে।   পিটিআইয়ের এক জ্যেষ্ঠ নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানী ও এর আশপাশের সড়ক আগে থেকেই বন্ধ করে দেওয়ায় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন থাকায় দলটি কর্মসূচির সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। ডনের প্রতিবেদনে ওই নেতাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীকে দীর্ঘ সময় রাজধানীতে মোতায়েন রাখার বিষয়টিও দলটির বিবেচনায় ছিল। তবে এটি পিটিআইয়ের নিজস্ব ব্যাখ্যা।   পিটিআইয়ের কর্মসূচিকে ঘিরে এর আগেও দলটির নেতাকর্মীদের আটক করার ঘটনা ঘটেছে। ২০ সেপ্টেম্বর লাহোরে ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৩০ দিনের জন্য আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে এই গ্রেপ্তারের সমালোচনা করা হয়েছে।   ইমরান খানের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদিয়ালা কারাগারে বন্দি ইমরানের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ নিয়ে তার পরিবার ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষের টানাপোড়েন চলছে। ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এর আগে ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী বন্দিত্বে না রাখার এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছিল।   ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় সাজা হয়েছে এবং এসব মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আদালতে আইনি প্রক্রিয়াও চলছে।   পিটিআইয়ের নতুন সূচি অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর পেশোয়ার থেকে লংমার্চ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে রাজধানীতে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা কর্মসূচির নতুন তারিখ পর্যন্ত কতটা বহাল থাকে এবং পিটিআই কীভাবে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।   সূত্র: ডন, রয়টার্স, আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ২৩:৩৫
ফসল কাটার মৌসুম সামনে রেখে বিদেশি কৃষিশ্রমিকের ভিসা প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। ছবি: সংগৃহীত

ফসল কাটার মৌসুম সামনে রেখে জরুরি ভিত্তিতে কৃষি ভিসায় শ্রমিক নেবে অস্ট্রেলিয়া

জাপানে স্থায়ী বসবাসের নিয়ম কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ছবি: সংগৃহীত

অক্টোবর থেকে জাপানে স্থায়ী বসবাসের নতুন আইন কার্যকর, বিপাকে বাংলাদেশিসহ লাখো বিদেশি কর্মী

প্রায় ৪ দশমিক ৫ কেজি ওজনের রৌপ্যভাণ্ডারে রয়েছে কয়েক হাজার প্রাচীন মুদ্রা ও অন্যান্য সামগ্রী। ছবি: সংগৃহীত

শখের বশে মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে ঘুরতেই মিলল ভাইকিং যুগের কয়েক হাজার রৌপ্যমুদ্রা

ইরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী

ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও বিমান হামলা শুরু হতে পারে বলে ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান সাত দিনের জন্য সংঘাত বন্ধ রাখার বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে অবস্থিত এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে দীর্ঘ সময় এটি বন্ধ বা সীমিত থাকলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ববাজারেও জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।   ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবে রাজি হননি। তবে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। কাতারসহ কয়েকটি দেশ সংঘাত কমাতে আলোচনার উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে।   ইরানের প্রস্তাবটি এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও যুদ্ধের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। তেহরান দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতার পথ খুঁজছে।   সিবিএস নিউজও জানিয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সাত দিনের একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু ও বৃহত্তর শান্তি আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে।   তবে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনও কঠোর। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্প মনে করছেন ইরান তাঁর দাবিগুলো মেনে নেওয়ার ব্যাপারে অনিচ্ছুক। তাঁর প্রশাসন অর্থনৈতিক চাপ ও নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে তেহরানকে আরও অনুকূল শর্তে আলোচনায় আনতে চায়।   ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর ইরানে আবার বিমান হামলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কী ধরনের বা কতটা মাত্রার হামলার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।   এটি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বক্তব্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত। ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর সামনে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   তবে ট্রাম্প জাতিসংঘে দাবি করেছেন, তাঁর ইরান নীতি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে না। তিনি বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে তাঁর সিদ্ধান্তের সম্পর্ক নেই এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বা সংঘাতের অবসান নিয়ে তাঁর অবস্থান একই রয়েছে।   অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও আলোচনার বিষয়ে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আগের সমঝোতার কাঠামোর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। তেহরানের অবস্থানের মধ্যে তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, আটকে থাকা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ এবং হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ইরানের ভূমিকার মতো বিষয় রয়েছে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এই অবস্থায় সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ না করায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। একই সময়ে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।   সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা দেখা গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি করছে।   এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। একই সঙ্গে নির্বাচনের পর নতুন করে হামলা হবে কি না, সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ, মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনা এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন নজরে রয়েছে।   সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সিবিএস নিউজ, রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ২১:৫৩
যমুনা নদী থেকে একাই ৫৮৫ কেজি বর্জ্য সরালেন বিট্টু

যমুনা নদী থেকে একাই ৫৮৫ কেজি বর্জ্য সরালেন বিট্টু, প্রশাসনকে কটাক্ষ জনতার

আম্বানির ছেলেকে অধ্যাপকের মর্যাদা!

আম্বানির ছেলেকে অধ্যাপকের মর্যাদা! নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড়

ক্রস রিভার অঙ্গরাজ্যে তেল-গ্যাস খাতের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তরুণরা। ছবি: সংগৃহীত

তেলকূপ ফিরে পাওয়ার প্রস্তুতিতে নাইজেরিয়ায় ২ হাজার তরুণকে তেল-গ্যাস প্রশিক্ষণ

0 Comments