ফোবানা ২০২৬ এর প্রস্তুতি জোরদার, বিজনেস নেটওয়ার্কিং লাঞ্চে থাকছেন মন্ত্রী ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তম সম্মেলন ফোবানা ২০২৬ কে ঘিরে প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের ৪ থেকে ৬ তারিখ ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটিতে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ।
খালেদ রউফ বলেন, চার দশকের ঐতিহ্য বহনকারী ফোবানার ৪০তম কনভেনশনকে স্মরণীয় ও ফলপ্রসূ করতে বিভিন্ন বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) দুপুর ১টায় ইউনিভার্সাল হিলটন হোটেলের বলরুমে একটি বিশেষ বিজনেস নেটওয়ার্কিং লাঞ্চ অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি জানান, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন ব্যাস।
ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ আরও বলেন, উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, কানাডা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টি করাই এই নেটওয়ার্কিং আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি জানান, সম্মেলনের সার্বিক প্রস্তুতি সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম, হোটেল বুকিং এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি কার্যক্রমের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
“উত্তরণের পথে আগামীর প্রত্যয়ে প্রবাস বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিতব্য ফোবানা ২০২৬ এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার, সাহিত্য আড্ডা, ইয়ুথ ফোরাম, স্কলারশিপ কার্যক্রম এবং কমিউনিটি সংযোগমূলক নানা আয়োজন থাকবে।
খালেদ রউফ আশা প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি এবারের কনভেনশনে অংশ নেবেন। ৪০তম ফোবানা কনভেনশন উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, সংস্কৃতি, নেতৃত্ব বিকাশ এবং বৈশ্বিক পরিচয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলায় পরিণত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানো এইচ-১বি ভিসাধারীদের নতুন চাকরি খোঁজার জন্য বর্তমানে যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সময়সীমা রয়েছে, তা বাতিলের প্রস্তাব বিবেচনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীদের চাকরি হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা এবং নতুন চাকরিতে যাওয়ার সুযোগ কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবটি বর্তমানে হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটের পর্যালোচনায় রয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি কর্মী চাকরি হারালে সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন চাকরি খোঁজার সুযোগ পান। এই সময়ের মধ্যে তারা নতুন নিয়োগকর্তার মাধ্যমে ভিসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি প্রয়োজনে অন্য বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে যাওয়ার উদ্যোগ নিতে পারেন। তবে অনুমোদিত ভিসার মেয়াদ ৬০ দিনের আগেই শেষ হলে, সেই সময়সীমাই প্রযোজ্য হয়। প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে চাকরি হারানোর পর এই গ্রেস পিরিয়ড আর নাও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন চাকরি বা অন্য কোনো বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের ব্যবস্থা না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে। এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু এইচ-১বি ভিসাধারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। বর্তমানে ই-১, ই-২, ই-৩, এইচ-১বি, এইচ-১বি১, এল-১, ও-১ এবং টি-এনসহ কয়েকটি কর্মভিত্তিক ভিসা শ্রেণির নির্দিষ্ট কর্মী ও তাদের নির্ভরশীলরা একই ধরনের গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধা পান। চাকরি হারানোর পর বিদেশি দক্ষ কর্মীদের নতুন চাকরি খোঁজার সুযোগ দিতে ২০১৭ সালে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড চালু করা হয়। এর ফলে কোনো কর্মী চাকরি হারালে সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে না হয়ে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজা বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস পরিবর্তনের জন্য কিছুটা সময় পান। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে চাকরি পরিবর্তন বা নতুন চাকরির ওপর নির্ভরশীল কর্মীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনই ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হয়ে গেছে এমনটি বলা যাবে না। প্রস্তাবটি এখনো পর্যালোচনাধীন এবং চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হতে আরও কয়েকটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নতুন নিয়ম চূড়ান্তভাবে কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নিয়মই বহাল থাকবে।
ঘুম থেকে উঠে দেখেন ছেলে পাশে নেই, পুকুরে ভেসে উঠলো ছেলের মরদেহ
যুক্তরাষ্ট্রে যে ১০ ভুলে জন্য বাংলাদেশীদের বড় অঙ্কের জরিমানা হতে পারে
ওপেনএআই, গুগল ও মেটাসহ প্রযুক্তিবিদরাই বলছেন, এআইয়ের গতি কমাতে হবে: ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপ চাইলেন কর্মীরা
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনে জনপ্রিয় রাজনৈতিক স্ট্রিমার হাসান পিকারের একটি নির্ধারিত বক্তৃতা বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ স্পিকার সিরিজের অংশ হিসেবে তার এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, অনুষ্ঠানটি আয়োজনের প্রক্রিয়া প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানটি আয়োজনের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করার পর দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজিত স্পিকার সিরিজের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যায়ের যথাযথ পরিকল্পনা ও পর্যালোচনা এতে ছিল না। এ কারণে অনুষ্ঠানটি আর অনুষ্ঠিত হবে না। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের নিয়ম ও প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়ার সময়ে বিতর্কিত ও বিভাজনমূলক বিষয় নিয়ে আরও কার্যকর আলোচনা নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নাগরিক স্বাধীনতা ও ফ্রি স্পিচ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন প্রশ্ন তুলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তটি সত্যিই অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রক্রিয়াগত সমস্যার কারণে নেওয়া হয়েছে, নাকি পিকারের রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার প্রভাব ছিল। সংগঠনটির বক্তব্য, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তার আয়োজিত অনুষ্ঠানের জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করতে পারে। তবে কোনো বক্তার রাজনৈতিক মতাদর্শ বা বক্তব্যের কারণে তাকে বাদ দিতে গিয়ে সেই মানদণ্ডকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি কোন মানদণ্ড পূরণ হয়নি এবং তা কীভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা দেখানো উচিত বলেও সংগঠনটি মন্তব্য করেছে। হাসান পিকার বামপন্থী ও সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক মতাদর্শের জন্য পরিচিত। অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক দর্শক তৈরি করেছেন। একই সঙ্গে তার বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে অতীতেও বিতর্ক হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত একটি মন্তব্য ছিল ৯/১১ হামলা নিয়ে। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের ওই সন্ত্রাসী হামলা প্রসঙ্গে পিকারকে বিতর্কিত মন্তব্য করতে দেখা যায়। পরে তিনি ওই মন্তব্যকে অনুপযুক্ত বলে স্বীকার করেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়েও যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে পিকারের মন্তব্য বিতর্ক তৈরি করেছে। মিশিগানে ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের প্রচারণায়ও তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। এল-সায়েদ ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে জয় পাওয়ার পর দলের অভ্যন্তরে ভিন্নমত পোষণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে পিকারের মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা হয়। ডেমোক্রেটিক দলের অভিজ্ঞ কৌশলবিদ জেমস কারভিলও পিকারের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছেন। কারভিলের মতে, ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে পিকারের মতো ব্যক্তিদের প্রভাব বাড়লে দলের দিকনির্দেশনা নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন নিজস্ব নীতিতে জানিয়েছে, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তারা আইনসম্মত মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে সময়, স্থান ও পদ্ধতি সংক্রান্ত নিয়ম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। ফলে পিকারকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাটি শুধু একজন বিতর্কিত বক্তার অনুষ্ঠান বাতিলের বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বক্তব্যের সুযোগ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয়োজনের মানদণ্ড কতটা কঠোর হওয়া উচিত, সেই পুরোনো বিতর্কই আবার সামনে এসেছে।
প্রেসিডেন্ট হয়েও রেহাই নেই! টেইলর সুইফটের গান ব্যবহার করে কপিরাইটের খপ্পরে ট্রাম্পের টিম
জো বাইডেনের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে যন্ত্রণাদায়ক ক্যানসার
যুক্তরাষ্ট্রে ১০ হাউজিং মার্কেটে বাড়ি কেনার সুযোগ! চাওয়া দামের নিচেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ বাড়ি
ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের প্রথম বাড়ি কেনার স্বপ্ন এখন আগের তুলনায় আরও দেরিতে পূরণ হচ্ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, অঙ্গরাজ্যটিতে অর্ধেক মানুষ প্রথমবারের মতো বাড়ির মালিক হতে পৌঁছে যাচ্ছেন ৪৭ বছর বয়সে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের বাকি অংশে একই মাইলফলক গড়ে অর্জিত হচ্ছে ৩৭ বছর বয়সে। অর্থাৎ, জাতীয় গড়ের তুলনায় ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের প্রায় এক দশক বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউট অব ক্যালিফোর্নিয়া (পিপিআইসি) প্রকাশিত সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন বয়সে বাড়ির মালিকানার প্রবণতা পর্যালোচনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১৫ বছর আগেও ক্যালিফোর্নিয়ায় অর্ধেক মানুষ ৩৯ বছর বয়সের মধ্যেই নিজেদের বাড়ির মালিক হয়ে যেতেন। এখন সেই গড় বয়স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ বছরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির মূল্য বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার, ডাউন পেমেন্টের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড়ের কঠিন বাস্তবতা এবং সীমিত আবাসন সরবরাহ এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩০ বছরের অধিকাংশ সময় এবং ৪০ বছরের বড় একটি অংশ পর্যন্ত ভাড়াটিয়ার সংখ্যা বাড়ির মালিকদের তুলনায় বেশি। ফলে অনেকেই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় ভাড়াবাসেই কাটাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বাড়ি কিনতে দেরি হওয়ার আরেকটি বড় প্রভাব পড়ছে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তায়। সাধারণত বাড়ির মূল্য বৃদ্ধি ও ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে যে সম্পদ বা ইকুইটি তৈরি হয়, তা গড়ে তুলতে মানুষের হাতে সময় কমে যাচ্ছে। এর ফলে অনেক ক্যালিফোর্নিয়াবাসী অবসর গ্রহণের বয়সেও গৃহঋণের কিস্তি পরিশোধ করে যাচ্ছেন। গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় সামগ্রিকভাবে বাড়ির মালিকানার হার ৫৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় হার ৬৬ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে শুধু নিউইয়র্কের হার আরও কম, যা ৫৪ শতাংশ। জাতিগত বৈষম্যের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শ্বেতাঙ্গ ও এশীয় বংশোদ্ভূত বাসিন্দারা তুলনামূলক কম বয়সে বাড়ির মালিক হতে পারলেও কৃষ্ণাঙ্গ এবং লাতিনো জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রথম বাড়ি কেনার গড় বয়স বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এশীয়দের মধ্যে বাড়ির মালিক হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে আগে দেখা যায়। শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গেও বাড়ির মালিকানার সম্পর্ক রয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। যাদের অন্তত স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে, তারা সাধারণত অন্যদের তুলনায় কম বয়সেই প্রথম বাড়ি কিনতে সক্ষম হন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্যালিফোর্নিয়ায় নীতিগত বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। চলতি শরতে ভোটারদের সামনে এমন একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে, যার লক্ষ্য প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতাদের ডাউন পেমেন্টে সহায়তা করা। পাশাপাশি নতুন আবাসন নির্মাণ বাড়ানো এবং যেসব পরিবার বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বড় বাধার মুখে পড়ছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তার বিষয়েও আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসন সংকট শুধু বাড়ি কেনার বিষয় নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদে পরিবারগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা, অবসর পরিকল্পনা এবং সম্পদ সৃষ্টির সক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। তাই ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসন সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের জন্য কার্যকর নীতিগত সহায়তা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিতর্কিত মন্তব্যে পরিবার থেকে বিতাড়িত মার্কিন তরুণ, এবার ৫জি টাওয়ারের বিরুদ্ধে মস্তিষ্ক বিকৃতির অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে সাগরে ভাসমান নৌকায় বিড়ালের রাজত্ব, নেই কোনো মানুষ, রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তে পুলিশ