সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্ক আর একমাত্র গন্তব্য নয়, বাংলাদেশিদের নতুন পছন্দের ১০ অঙ্গরাজ্য

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ১০:২৪
ছবি: স্বপ্নের আমেরিকা এখন শুধু নিউইয়র্কেই সীমাবদ্ধ নয়
ছবি: স্বপ্নের আমেরিকা এখন শুধু নিউইয়র্কেই সীমাবদ্ধ নয়

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় আবাস এখনো নিউইয়র্ক। তবে গত কয়েক বছরে বাড়িভাড়া, বাড়ির মূল্য, সম্পত্তি কর, গাড়ির বীমা, ডে-কেয়ার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় অনেক বাংলাদেশি পরিবার নিউইয়র্ক ছেড়ে অন্য অঙ্গরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করছেন। বিশেষ করে যারা প্রথম বাড়ি কিনতে চান, সন্তানদের ভালো স্কুলে পড়াতে চান কিংবা অবসরের পর তুলনামূলক শান্ত ও সাশ্রয়ী জীবন কাটাতে চান, তাদের মধ্যে এই প্রবণতা স্পষ্ট।

 

যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরো, আবাসন বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের তুলনায় দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কম। একই সঙ্গে এসব এলাকায় কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মুসলিম কমিউনিটি এবং বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বসতির মানচিত্রে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

 

আমেরিকা বাংলার বিশ্লেষণে আবাসন ব্যয়, মধ্যম পারিবারিক আয়, চাকরির সুযোগ, বাংলাদেশি কমিউনিটি, মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, হালাল ব্যবসা, সন্তানের শিক্ষার পরিবেশ এবং নিউইয়র্কের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধা বিবেচনা করে বাংলাদেশি পরিবারের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ১০টি অঙ্গরাজ্যের চিত্র তুলে ধরা হলো।

 

জর্জিয়া: দক্ষিণের নিউইয়র্ক

বাংলাদেশি পরিবারের কাছে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর একটি জর্জিয়া। আটলান্টা মেট্রো এলাকার ডুলুথ, লিলবার্ন, ডোরাভিল, চ্যাম্বলি, টাকার, নরক্রস, আলফারেটা, কামিং ও ডিকেটর গত এক দশকে বাংলাদেশি কমিউনিটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

 

অঙ্গরাজ্যটিতে মধ্যম পারিবারিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার এবং একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৩৯০ থেকে ৪১০ হাজার ডলারের মধ্যে। নিউইয়র্কে যে দামে একটি ছোট কনডো কেনা যায় না, সেই অর্থে জর্জিয়ায় অনেক ক্ষেত্রে চার বা পাঁচ বেডরুমের বাড়ি কেনা সম্ভব।

 

বাংলাদেশি ব্যবসার ক্ষেত্রেও জর্জিয়া এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আটলান্টা মেট্রো এলাকায় অসংখ্য বাংলাদেশি গ্রোসারি, হালাল সুপারমার্কেট, মাছ-মাংসের দোকান, রেস্টুরেন্ট, ট্রাভেল এজেন্সি, চিকিৎসক, আইনজীবী এবং অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অনেক বাংলাদেশি মার্কেট সপ্তাহের সাত দিন গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকে, এমনকি কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টা সেবাও দেওয়া হয়।

 

ধর্মীয় পরিবেশও সমৃদ্ধ। আটলান্টা অঞ্চলে ডজনখানেক বড় মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, ফুল-টাইম ইসলামিক স্কুল, হিফজ প্রোগ্রাম এবং সানডে মাদ্রাসা রয়েছে। ঈদ জামাত, রমজানের ইফতার, ইসলামিক কনফারেন্স এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক অনুষ্ঠান নিয়মিত আয়োজন করা হয়।

 

এ কারণেই অনেক বাংলাদেশি এখন আটলান্টাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে “দক্ষিণের নিউইয়র্ক” বলে উল্লেখ করেন।

 

ফ্লোরিডা: বাংলাদেশের আবহাওয়ার কাছাকাছি, অবসরজীবনের নতুন গন্তব্য

নিউইয়র্ক থেকে স্থানান্তরিত হওয়া বাংলাদেশিদের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য এখন ফ্লোরিডা। ট্যাম্পা, অরল্যান্ডো, কিসিমি, জ্যাকসনভিল ও মায়ামিতে বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।

 

ফ্লোরিডায় ব্যক্তিগত আয়ের ওপর কোনো অঙ্গরাজ্য কর নেই। মধ্যম পারিবারিক আয় প্রায় ৭৫ হাজার ডলার এবং একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৪২০ হাজার ডলার ।

 

বাংলাদেশি পরিবারের কাছে ফ্লোরিডার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর আবহাওয়া। বছরের অধিকাংশ সময় উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু বিরাজ করায় অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেন। এখানকার প্রকৃতি, সবুজ পরিবেশ এবং দীর্ঘ গ্রীষ্মকাল নতুন অভিবাসীদের সহজে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।

 

ফ্লোরিডায় আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, পেয়ারা, নারিকেল, লিচুসহ বিভিন্ন উষ্ণমণ্ডলীয় ফলের চাষ হয় এবং স্থানীয় বাজারে সহজেই পাওয়া যায় এমনকি অনেক বাংলাদেশি পরিবারের ব্যাকয়ার্ডে এসব ফলমূলের বাগান রয়েছে। যারা এই অঙ্গরাজ্যে থাকেন তারা মনে করেন, খাবার ও আবহাওয়ার দিক থেকে ফ্লোরিডা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অনেক অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বাংলাদেশের কাছাকাছি অনুভূতি দেয়।

 

অবসরপ্রাপ্তদের কাছেও ফ্লোরিডা অত্যন্ত জনপ্রিয়। রাজ্য আয়কর না থাকা, উষ্ণ আবহাওয়া এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কারণে অনেক বাংলাদেশি সিনিয়র নাগরিক অবসরের পর এখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন।

 

ট্যাম্পা, অরল্যান্ডো ও জ্যাকসনভিলে বর্তমানে একাধিক মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, ফুল-টাইম ইসলামিক স্কুল, উইকএন্ড মাদ্রাসা, হালাল মার্কেট এবং বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

 

টেক্সাস: চাকরি ও কর সুবিধার বড় কেন্দ্র

ডালাস, হিউস্টন, প্লানো, আরভিং, অস্টিন ও সুগার ল্যান্ডে বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।

 

মধ্যম পারিবারিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার। একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৩৪০ থেকে ৩৬০ হাজার ডলার। ব্যক্তিগত আয়ের ওপর কোনো অঙ্গরাজ্য কর না থাকায় অনেক পরিবার টেক্সাসকে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য বেছে নিচ্ছেন।

 

প্রযুক্তি, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ এবং ব্যবসায়িক খাতে প্রচুর কর্মসংস্থান রয়েছে। পাশাপাশি ইসলামিক সেন্টার, ইসলামিক একাডেমি, মসজিদ, হালাল সুপারমার্কেট এবং বাংলাদেশি ব্যবসা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

নিউ জার্সি: নিউইয়র্কের সবচেয়ে কাছের বিকল্প

যারা নিউইয়র্কে চাকরি বা ব্যবসা বজায় রাখতে চান কিন্তু বসবাসের জন্য তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পরিবেশ খুঁজছেন, তাদের জন্য নিউ জার্সি অন্যতম সেরা বিকল্প।

 

জার্সি সিটি, প্যাটারসন, এডিসন, উডব্রিজ ও নর্থ ব্রান্সউইকে শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ নিউইয়র্কে যাতায়াত করেন। অসংখ্য মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, বাংলাদেশি গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট এবং কমিউনিটি সংগঠনের কারণে নতুন অভিবাসীদের জন্য এখানকার পরিবেশ বেশ পরিচিত।

 

মেরিল্যান্ড: নিউইয়র্কের কাছাকাছি, চাকরির বড় বাজার

বাল্টিমোর, সিলভার স্প্রিং, এলিকট সিটি ও ডিসি মেট্রো এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্রুত বাড়ছে।

 

মধ্যম পারিবারিক আয় এক লাখ ডলারের বেশি, যা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চগুলোর মধ্যে অন্যতম। স্বাস্থ্যসেবা, বায়োটেক, শিক্ষা, সরকারি সংস্থা এবং ফেডারেল কন্ট্রাক্টিং খাতে প্রচুর কর্মসংস্থান রয়েছে। বাল্টিমোর থেকে কয়েক ঘণ্টার ড্রাইভেই নিউইয়র্কে পৌঁছানো যায়।

 

এখানেও বাংলাদেশি গ্রোসারি, হালাল ব্যবসা, ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদের সংখ্যা বাড়ছে।

 

নর্থ ক্যারোলাইনা: প্রযুক্তি খাতের নতুন গন্তব্য

র্যালি, ক্যারি, মরিসভিল ও শার্লটে তথ্যপ্রযুক্তি, গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের চাকরির কারণে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের সংখ্যা বাড়ছে। ভালো পাবলিক স্কুল, তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ক্রমবর্ধমান মুসলিম কমিউনিটি এই অঙ্গরাজ্যকে পরিবারগুলোর কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

 

মিশিগান: পুরোনো বাংলাদেশি কমিউনিটির শক্ত ঘাঁটি

হ্যামট্রাম্যাক, ট্রয়, ক্যান্টন ও ওয়ারেনে বহু বছর ধরেই বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। মধ্যম বাড়ির মূল্য প্রায় ২৬০ হাজার ডলার, যা তালিকার অনেক অঙ্গরাজ্যের তুলনায় কম। মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, হিফজ মাদ্রাসা, হালাল মার্কেট এবং বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট সহজেই পাওয়া যায়।

 

পেনসিলভানিয়া: কম খরচে নিউইয়র্কের কাছাকাছি

ফিলাডেলফিয়া, হ্যারিসবার্গ ও পিটসবার্গে বাংলাদেশি কমিউনিটি ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে। মধ্যম বাড়ির মূল্য প্রায় ৩০০ হাজার ডলারের কাছাকাছি। নিউইয়র্কের তুলনায় আবাসন ব্যয় অনেক কম হওয়ায় অনেক পরিবার এই অঙ্গরাজ্য বেছে নিচ্ছেন।

 

ভার্জিনিয়া: উচ্চ আয় ও উন্নত শিক্ষা

ফেয়ারফ্যাক্স, অ্যাশবার্ন, আলেকজান্দ্রিয়া ও উডব্রিজ এলাকায় তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং ফেডারেল সরকারের চাকরির বড় বাজার রয়েছে। মধ্যম পারিবারিক আয় ১ লাখ ডলারের কাছাকাছি। উন্নত পাবলিক স্কুল, ইসলামিক স্কুল এবং শক্তিশালী মুসলিম কমিউনিটির কারণে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের কাছে এটি একটি আকর্ষণীয় অঙ্গরাজ্য।

 

মিনেসোটা: নিরাপদ পরিবেশ ও ইসলামিক কমিউনিটি

মিনিয়াপোলিস, ব্লুমিংটন ও ইডেন প্রেইরিতে শক্তিশালী মুসলিম কমিউনিটি, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং নিরাপদ পরিবেশের কারণে বাংলাদেশি পরিবারের আগ্রহ বাড়ছে। সোমালি, দক্ষিণ এশীয় ও অন্যান্য মুসলিম কমিউনিটির উপস্থিতির কারণে অসংখ্য মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, হালাল ব্যবসা এবং ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন অঙ্গরাজ্যে যাওয়ার আগে শুধু বাড়ির দাম বা ভাড়া নয়, চাকরির সুযোগ, সন্তানের স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা, সম্পত্তি কর, গাড়ি ও বাড়ির বীমা, নিকটস্থ মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, বাংলাদেশি গ্রোসারি এবং কমিউনিটি সাপোর্ট—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

 

এক সময় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের স্বপ্নের ঠিকানা ছিল শুধু নিউইয়র্ক। কিন্তু সময় বদলেছে। আজ জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, নিউ জার্সি, মেরিল্যান্ড, নর্থ ক্যারোলাইনা, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া, ভার্জিনিয়া ও মিনেসোটায় দ্রুত গড়ে উঠছে নতুন বাংলাদেশি জনপদ। ফলে অনেক প্রবাসী এখন মনে করছেন, আমেরিকায় ভালো জীবন মানেই শুধু নিউইয়র্ক নয়; বরং যেখানে কম খরচে নিজের বাড়ি, সন্তানের জন্য ভালো স্কুল, শক্তিশালী বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটি এবং উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ রয়েছে, সেখানেই তৈরি হচ্ছে আগামী দিনের নতুন প্রবাসী বাংলাদেশ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ব্রঙ্কসে সাশ্রয়ী ভাড়ার বাসার লটারি, ভাড়া মাসে ৭৩২ ডলার থেকে শুরু। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কসে মাসে ৭৩২ ডলারে বাসা ভাড়ার সুযোগ, চলছে আবাসন লটারি

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে সাশ্রয়ী ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট পেতে নতুন আবাসন লটারির আবেদন নেওয়া হচ্ছে। এতে মাসে সর্বনিম্ন ৭৩২ ডলারে এক শোবার ঘরের একটি বাসা ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এই ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে মাত্র দুটি। এসব বাসায় আবেদন করতে পারবে এক থেকে তিন সদস্যের পরিবার, যাদের বার্ষিক আয় ২৯ হাজার ৪১৮ থেকে ৪৫ হাজার ৮১০ ডলারের মধ্যে। আবাসনগুলোর তথ্য নিউইয়র্ক সিটির ‘হাউজিং কানেক্ট’ ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।   মরিস হাইটস, ইউনিভার্সিটি হাইটস ও হান্টস পয়েন্ট এলাকায় চারটি ভবনে মোট ৩০টি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য এই লটারি চলছে। ঠিকানাগুলো হলো ১৬৪৭ পফাম অ্যাভিনিউ, ৮৪৪ ফেইল স্ট্রিট, ২২৭৫ লরিং প্লেস নর্থ এবং ৩০ ওয়েস্ট ১৮২তম স্ট্রিট। বাসার ধরন ও পরিবারের আয়ের ভিত্তিতে মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৩২ থেকে ২ হাজার ৩৯০ ডলার পর্যন্ত। এর মধ্যে এক শোবার ঘরের বাসার ভাড়া ৭৩২, ১ হাজার ৩৬৯ ও ২ হাজার ৫ ডলার; দুই শোবার ঘরের বাসার ভাড়া ১ হাজার ৬২৭ ও ২ হাজার ৩৯০ ডলার। তিন শোবার ঘরের একটি অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া মাসে ১ হাজার ৮৬৩ ডলার।   আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও বার্ষিক আয়ের পাশাপাশি সম্পদের সীমাও বিবেচনায় নেওয়া হবে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপার্টমেন্টভেদে সম্পদের সর্বোচ্চ সীমা ৫০ হাজার ৮৮০ থেকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭২০ ডলার। এক শোবার ঘরের বাসায় এক থেকে তিনজন, দুই শোবার ঘরের বাসায় দুই থেকে পাঁচজন এবং তিন শোবার ঘরের বাসায় তিন থেকে সাতজন থাকতে পারবেন। ফলে শুধু কম ভাড়া দেখেই আবেদন না করে নিজের পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আয় ও সম্পদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাসার শর্ত মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।   ভাড়ার সঙ্গে ঘর গরম রাখার কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে বিদ্যুতের বিল ভাড়াটিয়াকেই পরিশোধ করতে হবে। ৮৪৪ ফেইল স্ট্রিটের ভবনে অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে কাপড় ধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে, ১৬৪৭ পফাম অ্যাভিনিউ ও ৩০ ওয়েস্ট ১৮২তম স্ট্রিটের ভবনে লিফট রয়েছে।   আগ্রহীরা নিউইয়র্ক সিটির সরকারি NYC Housing Connect ওয়েবসাইটে গিয়ে আবাসনটির শর্ত, আয়ের যোগ্যতা ও আবেদনের শেষ তারিখ দেখে আবেদন করতে পারবেন। শহরটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি আবাসন লটারিতে পরিবারের আকার ও আয়ের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারিত হয়। আবেদন করার জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। তৃতীয় পক্ষের কাউকে টাকা দিয়ে আবেদন করানোর প্রয়োজন নেই।   সূত্র: পিক্স১১, নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং কানেক্ট।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ২২:১
যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের মধ্যে কয়েক ধরনের ক্যানসার শনাক্তের হার বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান করছেন বিজ্ঞানীরা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ বছরের কম বয়সীদের কয়েক ধরনের ক্যানসার বাড়ছে, কারণ অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীরা

চার সন্তানকে বাড়িতে একা রেখে যাওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ফ্লোরিডার বাসিন্দা আইরিন মিলার। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

কাজের জন্য লাস ভেগাসে ছয় দিনের সফর, চার সন্তানকে বাসায় একা রেখে যাওয়ায় গ্রেপ্তার মা

সৌন্দর্যচর্চা ও বিভিন্ন অস্ত্রোপচারে বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন নিউইয়র্কের উদ্যোক্তা ড্যানিয়েল ফিউইংস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

চেহারায় সৌন্দর্য বাড়াতে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি খরচ, এতে অনুতপ্ত নন নিউ ইয়র্কের উদ্যোক্তা

৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার কর্মসূচি চালু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
নার্সিং হোমে চাকরি করেন? ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মসূচিতে পেতে পারেন ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা

যুক্তরাষ্ট্রের নার্সিং হোমে কর্মরত যোগ্য নার্সদের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার কর্মসূচি চালু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। গত ২৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্র (সিএমএস) এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর যৌথ উদ্যোগে ২৭৫ মিলিয়ন ডলারের এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর লক্ষ্য নার্সিং হোমগুলোতে কর্মীসংকট কমানো, নার্স নিয়োগ বাড়ানো এবং অভিজ্ঞ নার্সদের পেশায় ধরে রাখা।    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ৪ হাজারের বেশি নার্স ও নার্সিং শিক্ষার্থীকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পাওয়ার সুযোগটি নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও শর্ত পূরণকারী নার্সদের জন্য, নার্সিং হোমের সব কর্মীর জন্য নয়।   নার্সেস ফর নার্সিং হোমস’ নামের এই কর্মসূচিতে যোগ্য নিবন্ধিত নার্স (আরএন) এবং লাইসেন্সধারী প্র্যাকটিক্যাল বা ভোকেশনাল নার্স (এলপিএন/এলভিএন) সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত শিক্ষাঋণ পরিশোধের সহায়তা এবং ১০ হাজার ডলার ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে প্রত্যেক আবেদনকারী পুরো ৫০ হাজার ডলার পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই।   সহায়তার পরিমাণ নির্ভর করবে আবেদনকারীর যোগ্যতা, শিক্ষাঋণ এবং কর্মসূচির নির্ধারিত শর্তের ওপর। অর্থ একবারে দেওয়া হবে না; যোগ্যতা বজায় রেখে নির্ধারিত কর্মস্থলে কাজ করার সময় তিন বছর ধরে প্রতি তিন মাস অন্তর কিস্তিতে অর্থ প্রদান করা হবে।   এই সহায়তা পেতে হলে যোগ্য নার্সিং হোমে চাকরি করতে হবে এবং সেখানে তিন বছর কাজ করার অঙ্গীকার করতে হবে। সপ্তাহে গড়ে অন্তত ৩০ ঘণ্টা কাজ করার শর্তও রয়েছে। কর্মসূচির আওতায় অঙ্গরাজ্যের নির্দিষ্ট কিছু নার্সিং হোম পরিদর্শকের পদও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষাঋণ পরিশোধের সহায়তা পেতে হলে যোগ্য শিক্ষাঋণ থাকতে হবে। যাঁদের যোগ্য শিক্ষাঋণ নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক স্নাতক হওয়ার মতো বিকল্প শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।   নার্সিং হোমে সার্টিফায়েড নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট (সিএনএ) বা অন্যান্য সহায়ক পদে কাজ করেন, এমন ব্যক্তিরা শুধু ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার কারণে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলারের এই আর্থিক প্রণোদনার যোগ্য হবেন না। তবে সিএমএসের বৃহত্তর নার্সিং হোম কর্মীসংকট মোকাবিলার উদ্যোগে নার্সিং সহকারীদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে নার্সিং পেশায় প্রবেশ করতে আগ্রহীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের পৃথক সুযোগ তৈরি হতে পারে।   এই কর্মসূচির জন্য মোট ২৭৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিএমএস দিচ্ছে ১০০ মিলিয়ন ডলার এবং অঙ্গরাজ্যগুলো দিচ্ছে আরও ১৭৫ মিলিয়ন ডলার। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকা এবং যেখানে নার্সের ঘাটতি বেশি, সেসব নার্সিং হোমে কর্মী নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক মানুষের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যায় নার্সিং হোমগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পর্যাপ্ত নার্স না থাকলে বাসিন্দাদের নিয়মিত পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হতে পারে। এ কারণে আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে নার্স নিয়োগ ও ধরে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   আগ্রহী নার্সরা সিএমএসের ‘নার্সেস ফর নার্সিং হোমস’ কর্মসূচির সরকারি আবেদন পোর্টালে নিজেদের যোগ্যতা যাচাই করে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর লাইসেন্স, চাকরির স্থান, কর্মঘণ্টা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষাঋণের তথ্য যাচাই করা হবে। আবেদন শুরু করার আগে নির্ধারিত যোগ্যতা ও তিন বছরের কর্ম-অঙ্গীকারের শর্ত ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ২০:৪
ভিসার অপেক্ষায় আর্জেন্টিনায় স্ত্রী-সন্তান

ভিসার অপেক্ষায় আর্জেন্টিনায় স্ত্রী-সন্তান, প্রতিদিন পরিবার থেকে দূরে মার্কিন বাবা

বাবাকে ছাড়া রেস্তোরাঁ চালাচ্ছেন ছয় সন্তান

বাবাকে ছাড়া রেস্তোরাঁ চালাচ্ছেন ছয় সন্তান, অভিবাসন জটিলতায় অনিশ্চিত পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ভোট জালিয়াতির তথ্য দিলেই ১০ লাখ ডলার! মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ঘোষণা

নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের জন্য শুধু নবায়নের আবেদন জমা
ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের নতুন নিয়মে চাকরি হারানোর শঙ্কায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা

যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতিপত্র নবায়নের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের জন্য শুধু নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার ভিত্তিতে আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা আর থাকছে না। আবেদন নিষ্পত্তিতে দেরি হলে কারও কারও কাজের অনুমতিতে সাময়িক বিরতি তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর এই পরিবর্তন কার্যকর করে। ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত চূড়ান্ত বিধিতেও পরিবর্তনটি বহাল রাখা হয়েছে।   এই নিয়মের প্রভাব পড়তে পারে এমন অভিবাসীদের ওপর, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদের কর্ম-অনুমতিপত্র বা এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট—ইএডি ব্যবহার করেন। আগে যোগ্য আবেদনকারীরা সময়মতো নবায়নের আবেদন করলে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৫৪০ দিন পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা পেতে পারতেন। নতুন বিধি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর বা তার পরে জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট নবায়ন আবেদনের ক্ষেত্রে শুধু আবেদন জমা দেওয়ার কারণে এই সুবিধা আর পাওয়া যাবে না।   নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাঁদের জন্য, যাঁদের বর্তমান কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি, অথচ নবায়নের সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। কোনো কর্মীর ইএডির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এবং তাঁর ক্ষেত্রে অন্য কোনো বৈধ ব্যতিক্রম প্রযোজ্য না হলে, নতুন অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত তাঁকে কাজ বন্ধ রাখতে হতে পারে। তবে সবার পরিস্থিতি এক নয়। কারও কাজের অনুমতি তাঁর অভিবাসন-অবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, আবার কারও আলাদা ইএডি প্রয়োজন হয়। তাই এই পরিবর্তন প্রত্যেক অভিবাসী বা প্রত্যেক ভিসাধারীর ওপর একইভাবে প্রযোজ্য নয়।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও খবরটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যাঁরা ইএডির মাধ্যমে কাজের অনুমতি পেয়েছেন, তাঁদের বর্তমান কার্ডের মেয়াদ, নবায়নের আবেদনের তারিখ এবং আবেদন কোন শ্রেণির অধীনে করা হয়েছে, তা যাচাই করা দরকার। বিশেষ করে যাঁরা রেস্তোরাঁ, হোটেল, দোকান, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে অনুমতির ধারাবাহিকতা চাকরি ও নিয়মিত আয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে পারে। তবে পেশা বা নাগরিকত্বের কারণে নয়, মূলত ব্যক্তির অনুমতিপত্রের শ্রেণি ও প্রযোজ্য বিধানের ভিত্তিতেই নিয়মটি নির্ধারিত হবে।   কাজের অনুমতিতে বিরতি তৈরি হলে তার প্রভাব কর্মীর বাইরেও পড়তে পারে। অনেক পরিবার মাসিক বেতন দিয়ে বাড়িভাড়া, গাড়ির কিস্তি, স্বাস্থ্যবিমা, সন্তানের শিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বহন করে। কাজ বন্ধ রাখতে হলে সঞ্চয় কমে যাওয়া বা জরুরি ব্যয় মেটাতে সমস্যার আশঙ্কা থাকে। তবে এটি সম্ভাব্য প্রভাব; প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি ঘটবেই, এমন নয়। আবেদন দ্রুত অনুমোদিত হলে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে অন্য কোনো বৈধ অনুমতি কার্যকর থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো নতুন মেয়াদের কাজের অনুমতি দেওয়ার আগে আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই ও নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ নিশ্চিত করা। বিভাগটির মতে, নবায়নের সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে যোগ্যতা পুনরায় যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হলে কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের জন্য কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৮:১৭
অবৈধ ভোট দেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

লস অ্যাঞ্জেলেসে নির্বাচনে অবৈধ ভোট দেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্র থেকে তৃতীয় দেশে অভিবাসী বহিষ্কার, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি যাচাইয়ে সুপ্রিম কোর্ট

আট মাস পর মায়ের সঙ্গে পুনর্মিলনের পথে যাত্রা করেছে দুই শিশু।

মায়ের অপেক্ষায় কাঁদছে দুই শিশু, আট মাস পর গুয়াতেমালায় পুনর্মিলনের পথে পরিবার

0 Comments