- প্রচ্ছদ
- Topic
বর্ণবাদ
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের একটি স্কুলে শিক্ষিকার ছদ্মবেশে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী ও অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৩ বছর বয়সী অ্যামি জোনস নামের ওই নারী মিলওয়াকির রুফাস কিং হাই স্কুলে বদলি শিক্ষিকার পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করেন এবং ক্লাসরুমে ঢুকে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। সেদিন স্কুলে কিছু নিয়মিত শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় বদলি শিক্ষকরা ক্লাস নিচ্ছিলেন, আর এই সুযোগটাই কাজে লাগান অ্যামি। তিনি পর পর তিনটি পিরিয়ডে ক্লাস নেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের লিঙ্গ ও বর্ণের ভিত্তিতে আলাদা করেন এবং আপত্তিকর আচরণ শুরু করেন। শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বর্ণবাদী মন্তব্য ও অশালীন গালিগালাজ করেন। এমনকি এক শিক্ষার্থীকে বডি-শেম করে 'মোটা ছেলে' বলে ডাকেন এবং ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করেন যে তারা ভবিষ্যতে 'স্ট্রিপার' বা 'পতিতা' হতে চায় কি না। এছাড়া তিনি নিজের অপরাধমূলক অতীত নিয়ে গর্ববোধ করে শিক্ষার্থীদের বলেন যে জেলে যাওয়া কোনো ব্যাপার নয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে দ্রুত ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। ঘটনার ছয় দিন পর পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কোনো অনুশোচনা না দেখিয়ে উল্টো নেচে-গেয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন এবং জানান যে, তিনি বাচ্চাদের অপছন্দ করেন এবং স্রেফ 'মজা করার জন্য' এই কাজ করেছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ এবং শিশুদের সামনে ক্ষতিকর বিষয় উপস্থাপনের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার ২১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এদিকে, আদালতে অ্যামির আইনজীবী মাইকেল চেরনিগলিয়া দাবি করেছেন, তার মক্কেল বাইপোলার ডিজঅর্ডারে ভুগছেন। ওষুধ সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় তিনি ওষুধ সেবন করতে পারেননি, যার ফলে তার এমন গুরুতর মানসিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। অন্যদিকে, স্কুলটির অধ্যক্ষ ডোরিন বাডিলো এই ঘটনাকে 'উদ্বেগজনক' আখ্যা দিয়ে স্বীকার করেছেন যে, বদলি শিক্ষক যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তাদের নির্ধারিত নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তারা স্কুলের নিরাপত্তা ও যাচাইকরণ ব্যবস্থা কঠোরভাবে পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন।
আজ থেকে ১২০ বছর আগে, ১৯০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানায় একজন কৃষ্ণাঙ্গ তরুণকে মানুষের মতো নয়, বরং প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে রাখা হয়েছিল। কঙ্গো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা মবুটি জনগোষ্ঠীর এই তরুণের নাম ছিল ওটা বেঙ্গা। তাকে চিড়িয়াখানার মাঙ্কি হাউসে ওরাংওটান ও শিম্পাঞ্জির সঙ্গে দর্শনার্থীদের সামনে প্রদর্শন করা হয়েছিল। ঘটনাটি পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদী ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে ওঠে। ওটা বেঙ্গার জন্ম আনুমানিক ১৮৮৩ সালের দিকে কঙ্গো অঞ্চলে। ১৯০৪ সালে মার্কিন অভিযাত্রী ও মিশনারি স্যামুয়েল ফিলিপস ভার্নার তাকে কঙ্গো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসেন। সেন্ট লুইস ওয়ার্ল্ডস ফেয়ারে তাকে আরও কয়েকজন আফ্রিকান মানুষের সঙ্গে একটি নৃতাত্ত্বিক প্রদর্শনীতে রাখা হয়। পরে তিনি আফ্রিকায় ফিরে গেলেও ১৯০৬ সালে ভার্নারের সঙ্গে আবার যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। নিউইয়র্কে ফিরে প্রথমে তাকে আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির সঙ্গে রাখা হয়েছিল। এরপর ১৯০৬ সালের আগস্টের শেষ দিকে বা সেপ্টেম্বরের শুরুতে তাকে ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয়। শুরুতে চিড়িয়াখানার বিভিন্ন জায়গায় তাকে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে দেওয়া হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে মাঙ্কি হাউসে দর্শনার্থীদের সামনে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। ওটা বেঙ্গাকে একটি খাঁচায় ওরাংওটান ও শিম্পাঞ্জির সঙ্গে রাখা হয়েছিল। খাঁচার ভেতরে তার জন্য ধনুক ও তীরও রাখা হয়। বাইরে একটি সাইনবোর্ডে তার বয়স, উচ্চতা ও ওজনের তথ্য দেওয়া হয়েছিল। সেখানে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে প্রতিদিন বিকেলে তাকে দর্শনার্থীদের সামনে প্রদর্শনের কথা জানানো হয়। ঘটনাটি দ্রুতই বিপুল দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ১৯০৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরের নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের দিন ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানায় প্রায় ৪০ হাজার দর্শনার্থী এসেছিলেন। তাদের বড় একটি অংশ মাঙ্কি হাউসে ওটা বেঙ্গাকে দেখতে ভিড় করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দর্শনার্থীদের কেউ তাকে অনুসরণ করছিলেন, কেউ উপহাস করছিলেন এবং কেউ তাকে উত্যক্তও করছিলেন। তবে এই প্রদর্শনী নিয়ে দ্রুতই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। আফ্রিকান আমেরিকান ধর্মীয় নেতা ও বিভিন্ন সংগঠন একজন মানুষকে প্রাণীর সঙ্গে প্রদর্শন করার প্রতিবাদ জানান। তাদের আপত্তি ছিল, একজন মানুষকে প্রাণীর পাশে রেখে প্রদর্শন করা শুধু অপমানজনকই নয়, বরং তৎকালীন বর্ণবাদী চিন্তাধারা ও মানুষের তথাকথিত জাতিগত শ্রেণিবিন্যাসেরও প্রতিফলন। সমালোচনা বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত ১৯০৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানা থেকে ওটা বেঙ্গাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তিনি একটি অনাথ আশ্রমে এবং পরে ভার্জিনিয়ার লিঞ্চবার্গের একটি সেমিনারিতে থাকেন। তার ইচ্ছা ছিল আফ্রিকায় ফিরে যাওয়ার, কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ায় সেই সুযোগ আর হয়নি। ১৯১৬ সালে ভার্জিনিয়ায় ওটা বেঙ্গার মৃত্যু হয়। তার বয়স তখন আনুমানিক ৩২ থেকে ৩৩ বছর। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি আফ্রিকায় ফিরে যাওয়ার আশা করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক নথিতে উল্লেখ পাওয়া যায়। ওটা বেঙ্গার ঘটনা এক শতাব্দীরও বেশি সময় পরও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বর্ণবাদ, ঔপনিবেশিকতা এবং মানুষের মর্যাদা অস্বীকারের এক বেদনাদায়ক উদাহরণ হিসেবে আলোচিত। ২০২০ সালে ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি, যার সঙ্গে ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানা যুক্ত, ওটা বেঙ্গাকে প্রদর্শনীতে রাখার ঘটনা এবং তার প্রতি অমানবিক আচরণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ফোরসাইথ কাউন্টির এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী অভিযোগ করেছেন, সড়কে একটি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তি তাকে এবং তার ১২ বছর বয়সী মেয়েকে ধাওয়া করেন এবং বর্ণবাদী মন্তব্য করেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক পুলিশ প্রতিবেদন দায়ের হয়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও সম্ভব হয়নি। এনআরআই পালসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩১ জুলাই বিকেলে জনস ক্রিক ও আলফারেটা এলাকার স্টেট ব্রিজ রোডে ঘটনাটি ঘটে। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নারী জানান, তিনি গাড়ি চালানোর সময় একটি সাদা রঙের নিসান সেন্ট্রা গাড়িকে ডান দিকে মোড় নেওয়ার লেনে ঢোকার সুযোগ করে দেন। তার দাবি, এর কিছুক্ষণ পরই ওই গাড়ির চালক জানালার কাচ নামিয়ে এমন একটি হাতের ইশারা করেন, যাতে তার মনে হয় লোকটির কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। পরিস্থিতি এড়াতে তিনি লেন পরিবর্তন করলেও অভিযুক্ত চালক বারবার তার গাড়ির সামনে আসার চেষ্টা করেন এবং এক পর্যায়ে রাস্তার চিহ্ন অতিক্রম করে তার পথ রোধ করারও চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওল্ড মিল্টন পার্কওয়ের কাছে একটি লাল বাতিতে গাড়ি থামলে ওই ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করতে থাকেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তি তাকে উদ্দেশ করে বলেন, "ভারতে ফিরে যাও। এটা তোমার জায়গা নয়।" পাশাপাশি আরও অবমাননাকর মন্তব্যও করেন। তিনি বলেন, আশপাশে অনেক মানুষ থাকলেও যানজটের কারণে তিনি সেখান থেকে সরে যেতে পারেননি। পরিস্থিতি আরও খারাপ না করতে তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। তার অভিযোগ, সিগন্যাল ছাড়ার পরও ওই ব্যক্তি তার গাড়িকে অনুসরণ করতে থাকেন। নিজের বাসার অবস্থান প্রকাশ হয়ে যেতে পারে, এই আশঙ্কায় তিনি নিজের আবাসিক এলাকায় না গিয়ে উড ব্রিজ অ্যাপার্টমেন্টস এলাকায় যান এবং সেখান থেকে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। তিনি বলেন, "আমার ১২ বছরের মেয়েও গাড়িতে ছিল। আমরা দুজনই খুব ভয় পেয়েছিলাম। আমি চাইনি সে জানতে পারুক আমরা কোথায় থাকি।" নারীর দাবি, ৯১১-এ কথা বলার সময় তিনি গাড়ির জানালা নামানোর পর অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে চলে যান। তিনি গাড়িটির কয়েকটি ছবি তুলতে সক্ষম হলেও নম্বরপ্লেট পুরোপুরি দেখতে পারেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নম্বরপ্লেটের শুরুতে ইংরেজি 'C' অক্ষর ছিল। তিনি চালককে ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী, পরিষ্কার মুখের, শ্বেতাঙ্গ পুরুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলের কাছের ট্রাফিক ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনার অনুরোধ করেছিলেন। পরে একজন পুলিশ কর্মকর্তা ফোনে তার সঙ্গে কথা বললেও ঘটনাস্থলে কেউ আসেননি। সন্দেহভাজন ব্যক্তি চলে যাওয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক পুলিশ প্রতিবেদনও করা হয়নি। গত ১২ বছর ধরে আটলান্টা মহানগর এলাকায় বসবাসকারী ওই নারী একটি আইন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি বলেন, তিনি সবসময় সতর্কভাবে গাড়ি চালান এবং অন্য নারীদেরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গাড়ি চালাতে উৎসাহিত করেন। বর্তমানে তিনি আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন, যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এ ঘটনার বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে জনস ক্রিক পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফুটবল মাঠে বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে বড় পদক্ষেপ নিল ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিউস জুনিয়রকে মৌখিকভাবে লাঞ্ছিত করার দায়ে বেনফিকার আর্জেন্টাইন তরুণ ফরোয়ার্ড জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানিকে ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে উয়েফা এই শাস্তির ঘোষণা দেয়। সংস্থাটি জানায়, প্রেস্তিয়ানির আচরণ ছিল বৈষম্যমূলক (হোমোফোবিক)। গত ফেব্রুয়ারিতে লিসবনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের একটি ম্যাচ চলাকালীন এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ম্যাচ চলাকালীন ভিনিসিউস গোল করে কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে উদযাপন করতে গেলে স্থানীয় সমর্থক ও বেনফিকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এক পর্যায়ে প্রেস্তিয়ানি ভিনিসিউসের মুখ বরাবর জার্সি টেনে ধরে কিছু একটা বলেন। ভিনিসিউস অভিযোগ করেন যে তাকে বর্ণবাদী গালি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার জেরে প্রায় ১০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে এবং ভিনিসিউস মাঠ ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিলেন। উয়েফার নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা কমিটির তদন্তে উঠে আসে যে প্রেস্তিয়ানির মন্তব্যটি বর্ণবাদী না হলেও তা চরম অবমাননাকর ও বৈষম্যমূলক ছিল। ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তিনটি ম্যাচ স্থগিত (probation) রাখা হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে এক ম্যাচের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা কাটিয়েছেন, তাই আপাতত তাকে আরও দুটি ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তবে উয়েফা ফিফাকে অনুরোধ করেছে এই নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক ম্যাচেও কার্যকর করতে। যদি ফিফা তাতে সাড়া দেয়, তবে আগামী জুনে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ অভিযানে প্রথম দুই ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন না এই ২০ বছর বয়সী ফুটবলার। ফুটবল বিশ্বে এই রায়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি বলেছেন, মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষকে গালি দেওয়া বা বাজে মন্তব্য করার বিষয়টি ফুটবলের আইনের পরিবর্তন ঘটিয়ে লাল কার্ডের আওতায় আনা উচিত।
ইংল্যান্ডের ফুটবলে আবারও বর্ণবাদের অভিযোগ উঠেছে। গ্যালারি থেকে বর্ণবাদী মন্তব্যের শিকার হয়েছেন লেস্টার সিটির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার হামজা চৌধুরী। তবে এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় উল্টো তাঁকেই হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছে। শনিবার ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে পোর্টসমাউথের বিপক্ষে ম্যাচে লেস্টার সিটির হয়ে শুরুর একাদশে খেলেন ২৮ বছর বয়সী এই মধ্যমাঠের খেলোয়াড়। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে তিনি এদিন দলে ফিরেছিলেন। ম্যাচের ৭১ মিনিটে তাঁকে তুলে নেওয়া হয় এবং তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় জর্ডান জেমসকে। মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারি থেকে হামজার উদ্দেশে বর্ণবাদী গালাগাল দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হামজা দর্শকদের সঙ্গে বাক্যবিনিময়ে জড়ান। পরে তিনি রেফারির কাছে বিষয়টি তুলে ধরতে গেলে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাঁকেই হলুদ কার্ড দেখানো হয়। ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফুটবলে বর্ণবাদবিরোধী অবস্থান নিয়ে বারবার কথা বলা হলেও, মাঠে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
কনফারেন্স লিগের সেমিফাইনালের পথে এক পা বাড়িয়ে রেখেছে রায়ো ভায়েকানো। এই জয়ের অন্যতম নায়ক মরক্কান তারকা ইলিয়াস আখোমাচ মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এখন আলোচনার তুঙ্গে তার অদম্য মানসিকতার জন্য। সম্প্রতি স্পেন বনাম মিশর ম্যাচে তার উদ্দেশ্যে ধেয়ে আসা ইসলামোফোবিক স্লোগান নিয়ে মুখ খুলেছেন এই তরুণ তুর্কি। ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম 'এল লারগুয়েরো'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আখোমাচ জানান, গ্যালারি থেকে ভেসে আসা "মুসলিম হলে লাফাও" শীর্ষক বিদ্বেষমূলক স্লোগানগুলো তার কানেও পৌঁছেছে। তবে এসব তাকে বিন্দুমাত্র বিচলিত করতে পারেনি। বরং বিষয়টিকে বেশ হাস্যরসের সাথেই উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। আখোমাচ বলেন, "আমার এক আত্মীয় আমাকে গ্যালারির কিছু ভিডিও পাঠিয়েছে। সত্যি বলতে, এর আগে আমি কখনো এমন কিছু শুনিনি। মানুষ কেন এমন করে আমি জানি না, তবে আমি এসবে একদমই পরোয়া করি না। কেউ যদি সরাসরি আমার সামনে এসে এই কথা বলত, আমি স্রেফ হাসতাম আর বলতাম— আপনি দেখতে তো বেশ সুন্দর!" সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত অবস্থানের পাশাপাশি ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজের মত জানান বার্সেলোনা ও ভিয়ারিয়ালের সাবেক এই উইঙ্গার। তার মতে, ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল মরক্কোতেই হওয়া উচিত। এছাড়া সেনেগাল ও মরক্কোর মধ্যকার সাম্প্রতিক বিতর্কিত ইস্যুগুলো নিয়ে ড্রেসিংরুমের ভেতরেই সতীর্থদের সাথে মিটিয়ে নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি। মাঠের লড়াই আর বাইরের বিতর্ক— সব জায়গাতেই নিজের ব্যক্তিত্বের ছাপ রাখছেন এই উদীয়মান তারকা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।