মার্কিন সামরিক ঘাঁটি

সৌদি আরবে মার্কিন সামরিকঘাঁটিতে বিস্ফোরণ, ইরানের ড্রোন হা/মলার দাবি

সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)-ঘনিষ্ঠ এ সংস্থার দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের সুলতান আমির ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান ১৩টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পোর্ট শুয়াইবা, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বুয়েরিং সামরিকঘাঁটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব দাবিকে বারবার ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।   এ ছাড়া কাতার, বাহরাইন ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সেনা ও বিমানঘাঁটিগুলোতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও এ বিষয়ে এখনো মার্কিন সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান, যা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আঞ্চলিক সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফ্থ ফ্লিট সদর দপ্তর এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতেও হামলার কথা বলা হয়েছে।  

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের শক্তিশালী হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা সৌদি আরবের আল-খারজ অঞ্চলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি-র 'খাতাম আল-আনবিয়া' সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের চলমান 'ট্রু প্রমিজ ৪' (True Promise 4) অভিযানের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এই ঘাঁটিটি মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি প্রধান কেন্দ্র এবং এখান থেকেই এই অঞ্চলে মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।   ইরানি গণমাধ্যম ও কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, উন্নত মানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তারা আরও দাবি করেছে যে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোঁড়া বেশ কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই সফলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও কিছু অসমর্থিত সূত্র ও সোশ্যাল মিডিয়া ফুটেজে ঘাঁটির ভেতরে আগুনের ধোঁয়া দেখা যাওয়ার দাবি করা হয়েছে।   একই সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত অ্যারোস্পেস সেন্টারে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। এই বহুমুখী ও সমন্বিত হামলা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি উপস্থিতির ওপর ইরানের ক্রমবর্ধমান পাল্টা আঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউস থেকে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে এই ঘটনা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
তিন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একযোগে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। শনিবার (১৪ মার্চ) ইরানের নৌবাহিনী জানিয়েছে যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের এই হামলা ছিল সুপরিকল্পিত ও ধাপে ধাপে পরিচালিত। এই অভিযানে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং বিমানের জ্বালানি সংরক্ষণাগারগুলোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়।   হামলার শিকার হওয়া ঘাঁটিগুলোর মধ্যে রয়েছে আবুধাবির আল ধাফ্রা বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আল আদিরি এবং বাহরাইনের শেখ ইসা বিমান ঘাঁটি। অন্যদিকে, ইরানের ইলাম প্রদেশের আইভান শহরে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় একই পরিবারের ছয়জন নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ৬ মাস বয়সী এক শিশুও প্রাণ হারিয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।   উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাত মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো ২৫০০ মার্কিন মেরিন সেনার একটি চৌকস দল মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাপানের ওকিনাওয়ায় অবস্থিত ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের এই সদস্যরা তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ নিয়ে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে। এই মোতায়েন ওই অঞ্চলে যুদ্ধের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের

কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে Iran। শুক্রবার (৬ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানি সেনাবাহিনীর ড্রোন ইউনিট কুয়েতের বিভিন্ন এলাকায় থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই অভিযান কেবল শুরু। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আরও বড় পরিসরে হামলা চালানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ইরানের দাবি, United States ও Israel-এর পক্ষ থেকে ইরানের মূল ভূখণ্ড ও নৌবাহিনীর ওপর চালানো হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই ড্রোন অভিযান শুরু করা হয়েছে।   গত কয়েকদিন ধরেই Tehran সতর্ক করে আসছিল, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যেসব প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হচ্ছে, সেসব দেশও পাল্টা আক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, কুয়েতের ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে বিপুল সংখ্যক ‘কামিকাজে’ বা আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার পর Kuwaitসহ আশপাশের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।   এর আগে কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক শিশুসহ চারজন নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি United States Department of Defense (পেন্টাগন)।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা

১৭ কোটি টাকার বৃত্তি নিয়ে হার্ভার্ডে অনন্যা, মিশিগানে বাঙালি কমিউনিটিতে উচ্ছ্বাস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১১, ২০২৬ 0