- প্রচ্ছদ
- Topic
হাসপাতাল
রোগীর জীবন বাঁচাতে টানা ৩২ ঘণ্টা ধরে জটিল অস্ত্রোপচার করেছেন চীনের একদল চিকিৎসক। অস্ত্রোপচার শেষে ক্লান্তিতে অপারেশন কক্ষের মেঝেতে শুয়ে পড়েন তাঁদের কয়েকজন। তাঁদের একজন মেঝেতে শুয়েই ক্যামেরার দিকে বিজয়চিহ্ন দেখান। চিকিৎসকদের এই মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৪ সালের জুনে, চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের ফুঝৌ শহরের ফুজিয়ান মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ইউনিয়ন হাসপাতালে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোগীর মস্তিষ্কে দুটি গুরুতর সমস্যা ছিল। একটি হলো মস্তিষ্কের রক্তনালিতে অ্যানিউরিজম, অর্থাৎ রক্তনালির দেয়াল দুর্বল হয়ে অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠা। অন্যটি ছিল ব্রেনস্টেমে হেমানজিওব্লাস্টোমা নামের বিরল ধরনের টিউমার। মস্তিষ্কের এই অংশটি শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দনের মতো গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, একটি সমস্যার চিকিৎসা করতে গিয়ে অন্যটির জটিলতা বা রক্তক্ষরণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা করতে হয়। অস্ত্রোপচারে অংশ নেন তিনজন সার্জন, ছয়জন অ্যানেসথেশিওলজিস্ট এবং আটজন নার্স। প্রায় ৩২ ঘণ্টার এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় মোট ছয়টি ধাপে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকদের দীর্ঘ সময় ধরে নিবিড় মনোযোগ ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে হয়েছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা কেবল অল্প সময়ের জন্য বিরতি নিয়েছিলেন। রোগীর অবস্থা বিবেচনায় প্রতিটি ধাপে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হয়েছে তাঁদের। অস্ত্রোপচার শেষে তোলা ছবিতে চিকিৎসকদের শারীরিক ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কয়েকজন সার্জন অপারেশন কক্ষের মেঝেতে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তাঁদের একজন ক্লান্ত অবস্থাতেও ক্যামেরার দিকে দুই আঙুল তুলে বিজয়চিহ্ন দেখান। ছবিটি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মূলত দীর্ঘ সময় ধরে চলা জটিল অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকদের শারীরিক পরিশ্রম ও মানসিক চাপের বাস্তব চিত্র তুলে ধরায়। তবে ছবিটি ভাইরাল হওয়ার নির্দিষ্ট সময় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর প্রতিক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের পর রোগী বেঁচে যান। তবে তাঁর পরবর্তী শারীরিক অবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সহজলভ্য নয়। ঘটনাটি চিকিৎসকদের দক্ষতা, দলগত কাজ এবং জটিল চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে। একই সঙ্গে দীর্ঘ অস্ত্রোপচারে চিকিৎসাকর্মীদের শারীরিক সক্ষমতা ও বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও সামনে আনে। সূত্র: গ্লোবাল টাইমস ও সিএনটিভির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে হাসপাতালে মৃত ঘোষণার পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় পর মর্গে জীবিত অবস্থায় পাওয়া এক শিশুর মা মুখ খুলেছেন। প্রায় ১৮ মাস বয়সী ভিনসেন্ট ফিওরদিলিনোকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি একটি সুইমিং পুলে মুখ নিচের দিকে ভাসতে দেখে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলেও পরে মর্গ থেকে তার শ্বাস নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। পুলিশের প্রতিবেদনে শিশুটিকে ভুলবশত মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যারিজোনার গিলবার্ট শহরে পরিবারের বাড়িতে সুপার বোল উপলক্ষে আয়োজন চলাকালে পুলে ভাসমান অবস্থায় ভিনসেন্টকে পাওয়া যায়। তাকে দ্রুত ডিগনিটি হেলথ মার্সি গিলবার্ট মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক আরিয়ান তুসি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির মা অ্যালেক্সাস ফিওরদিলিনো বলেন, চিকিৎসকের কথা বিশ্বাস করে তাকে ছেলের কাছ থেকে শেষ বিদায় নিতে হয়েছিল। অ্যালেক্সাস জানান, চিকিৎসক তাকে বলেছিলেন, শিশুটির রক্তের অম্লতার মাত্রা এত বেশি যে তাকে ফিরিয়ে আনা গেলেও তার স্বাভাবিক জীবনযাপনের সম্ভাবনা খুব কম এবং সে কষ্ট পেতে পারে। তবে শিশুটিকে বিদায় জানানোর সময় পরিবারের সদস্যদের কারও কারও মনে হয়েছিল, সে তখনো শ্বাস নিচ্ছে। অ্যালেক্সাসের শাশুড়িও শিশুটিকে জড়িয়ে ধরে শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো শব্দ শুনতে পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতালের কর্মীরা সেটিকে অস্বাভাবিক নয় বলে ব্যাখ্যা করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতালে উপস্থিত শিশুটির মা-বাবা ছাড়াও দুই পুলিশ কর্মকর্তা তার মধ্যে শ্বাস নেওয়ার লক্ষণ আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পরে শিশুটিকে হাসপাতালের শীতল কক্ষে রাখা হয়, যেটি মর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় পর মারিকোপা কাউন্টির মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয়ের কর্মীরা শিশুটির মরদেহ নিতে এসে তাকে শ্বাস নিতে দেখেন। এরপর তাকে দ্রুত ফিনিক্স চিলড্রেনস হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর ভিনসেন্টের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবার। তাদের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে এপ্রিলে ছাড়পত্র পাওয়ার পরও শিশুটির গুরুতর ও স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতি এবং স্নায়বিক জটিলতা রয়েছে। সে এখনো নিজে নিজে হাঁটতে পারে না এবং তার কথা বলার সক্ষমতাও ফিরে আসেনি। পরিবারের দাবি, পুলে ডুবে যাওয়ার ঘটনা ছাড়াও মর্গে দীর্ঘ সময় পড়ে থাকার কারণে তার শারীরিক ক্ষতি আরও বেড়ে থাকতে পারে। শিশুটির চিকিৎসা ও মৃত্যুঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়ে চিকিৎসক তুসির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করছে পরিবার। তাদের আইনজীবী জানিয়েছেন, হাসপাতাল ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পরবর্তী সপ্তাহে মামলা করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, চিকিৎসকের আইনজীবী বলেছেন, তার মক্কেল শিশুটি ও তার পরিবারের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং ভিনসেন্টের সুস্থতা কামনা করছেন। চলমান আইনি প্রক্রিয়া ও রোগীর গোপনীয়তার কারণে চিকিৎসার বিস্তারিত বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। হাসপাতাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিগনিটি হেলথ এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছে। রোগীর গোপনীয়তার কথা জানিয়ে তারা চিকিৎসাসেবার বিস্তারিত নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, রোগীর নিরাপত্তা ও মানসম্মত চিকিৎসা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। গিলবার্ট পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তদন্তে চিকিৎসাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তাই হাসপাতালের কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ পাঠানো হয়নি। তবে বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এর আগে শিশুটিকে যথাযথভাবে নজরদারিতে না রাখার অভিযোগে তার মা-বাবার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনার সুপারিশ করেছিল পুলিশ। কিন্তু মারিকোপা কাউন্টির অ্যাটর্নি কার্যালয় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেনি। তদন্তে বাড়িতে শিশু-সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং একাধিক প্রাপ্তবয়স্কের উপস্থিতির বিষয়ও উঠে আসে। সূত্র: এবিসি নিউজ, এবিসি১৫ অ্যারিজোনা।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ফিনিক্সে বুধবার ভোরে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে গুলির ঘটনায় এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তার আঘাত গুরুতর হলেও তিনি বেঁচে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ঘটনাটি মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সাউথ ফিনিক্সের প্যারাডাইস পাল্মস অ্যাপার্টমেন্টে ঘটে। এলাকাটি ৭ম অ্যাভিনিউ ও সাউদার্ন অ্যাভিনিউয়ের কাছাকাছি। ঘটনাস্থলের পাশেই ফিনিক্স পুলিশের সাউথ মাউন্টেন প্রিসিন্ট থাকায় কর্মকর্তারা গুলির শব্দ শুনে দ্রুত সেখানে পৌঁছে যান। পুলিশ পৌঁছানোর পর একজন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে দেখতে পায়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর হলেও তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। হামলার আগে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ। গুলি কেন চালানো হয়েছে এবং আহত ব্যক্তি হামলাকারীকে চিনতেন কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত হয়নি। ঘটনার পর পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তির সন্ধানে অভিযান শুরু করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভিডিওতে পুলিশ কর্মকর্তাদের রাইফেল হাতে অ্যাপার্টমেন্ট এলাকায় তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে। তদন্ত চলাকালে আশপাশের এলাকা বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে তদন্তকারীরা নিরাপদে আলামত সংগ্রহ করতে পারেন। এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সেটিও পুলিশ জানায়নি।ফিনিক্স পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং প্রত্যক্ষদর্শী বা আশপাশের কোনো বাসিন্দার কাছে তথ্য থাকলে তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনার কারণ ও সন্দেহভাজন সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ করতে পারে।
নিউ জার্সির একটি আবাসিক এলাকায় পুলিশের ধাওয়া শেষ হয়েছে গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনায়। দুর্ঘটনায় একটি শিশুসহ তিনজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঘটনাটি আজ, ৭ অক্টোবর নিউ জার্সিতে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের ধাওয়া চলার সময় একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনার পর জরুরি বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে একটি শিশু রয়েছে। আরও দুজন প্রাপ্তবয়স্কও আহত হয়েছেন। তাদের আঘাতের মাত্রা সম্পর্কে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর এলাকায় সাময়িকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে এবং ধাওয়ার কারণ ও দুর্ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। পুলিশের ধাওয়া কী কারণে শুরু হয়েছিল, অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে এবং দুর্ঘটনার আগে গাড়িটির গতিবিধি কী ছিল, সেসব বিষয় তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিউ জার্সিতে পুলিশের ধাওয়ার সময় দুর্ঘটনা নিয়ে নতুন করে জননিরাপত্তার প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় দ্রুতগতির ধাওয়া হলে পথচারী, শিশু এবং অন্যান্য গাড়িচালকদের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশে সতর্কতা অবলম্বন করছে। আহতদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত হতে পারে।
বয়স বেশি এমন দাতার হৃদপিণ্ড তরুণ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের পর জৈবিকভাবে তুলনামূলক তরুণ হওয়ার লক্ষণ দেখাতে পারে। আবার তরুণ হৃদপিণ্ড বয়স্ক শরীরে প্রতিস্থাপন করলে সেটিতে দ্রুত বয়স বাড়ার আণবিক চিহ্ন দেখা যেতে পারে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ও ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেন্স হাসপাতালের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত নতুন এক গবেষণায় এমনই চমকপ্রদ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গবেষণাটি সেপ্টেম্বর মাসে জীববিজ্ঞানের প্রিপ্রিন্ট প্ল্যাটফর্ম বায়োআরকাইভে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এটি এখনো পিয়ার রিভিউ সম্পন্ন করেনি। ফলে ফলাফলকে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হলেও এখনই চিকিৎসা নীতি পরিবর্তনের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করছেন না গবেষকেরা। জেসি আর. পোগানিক, তোমোহিসা মাতসুনাগা, আলেকজান্ডার টাইশকোভস্কি, স্টিভ হরভাথ, ভাদিম এন. গ্লাডিশেভসহ গবেষক দলটি মূলত জানতে চেয়েছিল, একটি অঙ্গের ‘জৈবিক বয়স’ শুধু তার দাতার বয়সের সঙ্গে স্থায়ীভাবে নির্ধারিত থাকে কি না, নাকি নতুন শরীরের পরিবেশ সেটিকে পরিবর্তন করতে পারে। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রথমে ইঁদুরের ওপর বয়সে অমিল হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপনের পরীক্ষা করা হয়। তরুণ ইঁদুরের হৃদপিণ্ড বয়স্ক ইঁদুরের শরীরে এবং বয়স্ক ইঁদুরের হৃদপিণ্ড তরুণ ইঁদুরের শরীরে প্রতিস্থাপন করে গবেষকেরা ডিএনএ মিথাইলেশন, জিন এক্সপ্রেশনসহ বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন আণবিক সূচক বিশ্লেষণ করেন। ফলাফলে দেখা যায়, প্রতিস্থাপিত হৃদপিণ্ডের জৈবিক বয়স অনেকাংশে নতুন শরীরের বয়সের দিকে সরে যাচ্ছে। বয়স্ক হৃদপিণ্ড তরুণ শরীরে যাওয়ার পর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু আণবিক চিহ্ন উল্টো দিকে পরিবর্তিত হয়েছে। অন্যদিকে তরুণ হৃদপিণ্ড বয়স্ক শরীরে প্রতিস্থাপনের পর সেটিতে তুলনামূলক দ্রুত বয়স বাড়ার সংকেত দেখা গেছে। গবেষকেরা ডিএনএ মিথাইলেশনভিত্তিক একাধিক ‘এজিং ক্লক’ ব্যবহার করে এই পরিবর্তন পরিমাপ করেন। ডিএনএর নির্দিষ্ট অংশে রাসায়নিক পরিবর্তনের ধরন দেখে জীববিজ্ঞানে কোনো টিস্যুর আনুমানিক জৈবিক বয়স নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিস্থাপিত হৃদপিণ্ডের এসব বয়সসংক্রান্ত মলিকিউলার প্যাটার্ন দাতার বয়সের চেয়ে গ্রহীতার বয়সের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত হয়ে পড়ছে। তবে পরিবর্তনটি পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়েনি। ইঁদুরের পরীক্ষায় প্রতিস্থাপিত হৃদপিণ্ডের বয়স পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা গেলেও গ্রহীতার নিজস্ব হৃদপিণ্ড, রক্ত বা লিভারের জৈবিক বয়সে একই ধরনের বড় পরিবর্তন পাওয়া যায়নি। এতে গবেষকদের ধারণা, নতুন শরীরের পরিবেশ বিশেষভাবে প্রতিস্থাপিত অঙ্গটির ওপর প্রভাব ফেলছে। ইঁদুরের ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রেও দেখা যায় কি না, সেটি যাচাই করতে গবেষকেরা ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেন্স হাসপাতালের পুরোনো হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট রেকর্ড ও সংরক্ষিত হৃদপিণ্ডের বায়োপসি নমুনা বিশ্লেষণ করেন। মানবদেহের আণবিক বিশ্লেষণের জন্য বয়সে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকা ১১ জন হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট রোগীর নমুনা নির্বাচন করা হয়। এই ছোট মানব নমুনাতেও একই ধরনের প্রবণতা পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বেশি বয়সী দাতার হৃদপিণ্ড তুলনামূলক কম বয়সী গ্রহীতার শরীরে প্রতিস্থাপনের পর সেটির ডিএনএ মিথাইলেশনভিত্তিক জৈবিক বয়স কমে যাওয়ার লক্ষণ পাওয়া যায়। বিপরীত পরিস্থিতিতেও হৃদপিণ্ডের জৈবিক বয়স গ্রহীতার বয়সের দিকে সরে যাওয়ার সম্পর্ক দেখা গেছে। গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হার্ট ট্রান্সপ্লান্টে দাতার বয়স অঙ্গ নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে হৃদপিণ্ডে কাঠামোগত ও কার্যগত পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ায় তুলনামূলক কম বয়সী দাতার হৃদপিণ্ডকে অনেক ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। নতুন গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, শুধুমাত্র দাতার ক্যালেন্ডার বয়স দিয়ে একটি হৃদপিণ্ডের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বিচার করা সব ক্ষেত্রে যথেষ্ট নাও হতে পারে। গবেষকদের মতে, যদি বড় পরিসরের গবেষণায় একই ফলাফল নিশ্চিত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তুলনামূলক বেশি বয়সী দাতার কিছু হৃদপিণ্ডও ট্রান্সপ্লান্টের জন্য বিবেচনার সুযোগ বাড়তে পারে। এতে সীমিত সংখ্যক দাতা হৃদপিণ্ডের ব্যবহার আরও কার্যকর করার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে পুরোনো হৃদপিণ্ড সম্পূর্ণভাবে নতুন হয়ে যায়। বয়সের কারণে টিস্যুতে তৈরি হওয়া সব ধরনের ক্ষতি উল্টে যায় এমন প্রমাণ গবেষণাটি দেয়নি। বরং গবেষকেরা দেখিয়েছেন, বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত নির্দিষ্ট মলিকিউলার ও এপিজেনেটিক বৈশিষ্ট্যের একটি অংশ নতুন শরীরের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে পরিবর্তিত হতে পারে। আরেকটি বিষয়ও গবেষণায় উঠে এসেছে। প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া নিজেই হৃদপিণ্ডের ওপর শারীরিক চাপ তৈরি করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে জৈবিক বয়স বৃদ্ধির সংকেতও দেখা গেছে। ফলে ‘তরুণ শরীরে গেলেই পুরোনো হৃদপিণ্ড পুরোপুরি তরুণ হয়ে যাবে’ এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। গবেষণাটির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো মানুষের ওপর আণবিক বিশ্লেষণের নমুনা সংখ্যা খুবই কম এবং গবেষণাটি এখনো পিয়ার রিভিউ হয়নি। হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের ক্ষেত্রে রোগের ধরন, ওষুধ, ইমিউনোসাপ্রেসিভ চিকিৎসা, দাতার স্বাস্থ্য এবং প্রতিস্থাপনের সময়কালসহ বহু বিষয় ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তারপরও গবেষণাটি অঙ্গের বয়স সম্পর্কে প্রচলিত ধারণায় নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এখন পর্যন্ত বয়সকে অঙ্গের প্রায় স্থায়ী বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা হলেও এই গবেষণা বলছে, অন্তত কিছু ক্ষেত্রে একটি অঙ্গের জৈবিক বয়স তার চারপাশের শরীরের পরিবেশের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। বড় ও দীর্ঘমেয়াদি মানব গবেষণায় ফলাফল নিশ্চিত হলে হার্ট ট্রান্সপ্লান্টে দাতা অঙ্গ নির্বাচনের ভবিষ্যৎ কৌশলে এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের হান্টসভিল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি রুমে তৈরি হলো এক বিরল ও হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৭৯ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ এবং তাঁর বাগদত্তা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলেন হাসপাতালের বেডে বসেই। চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অপ্রত্যাশিত এই বিপদের দিনটিই পরিণত হলো এই যুগলের জীবনের এক অন্যতম স্মরণীয় ও সোনালি মুহূর্তে। ঘটনার দিন গত ৫ সেপ্টেম্বর জন কোমো এবং তাঁর বাগদত্তা ডায়ান তাঁদের ম্যারেজ সার্টিফিকেট নোটারাইজ করার জন্য যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যেই জনের চিকিৎসকের কাছ থেকে একটি উদ্বেগজনক ফোন আসে। চিকিৎসক জানান, জনের রক্ত পরীক্ষার প্রতিবেদনে অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া গেছে এবং তাঁকে দ্রুত হান্টসভিল হাসপাতালে যেতে বলা হয়। মন খারাপ করে এই যুগল হাসপাতালে গেলে ইমার্জেন্সি রুমের নার্স প্র্যাকটিশনার বেথ গেটস জানতে পারেন যে, জনের আকস্মিক অসুস্থতায় তাঁদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিয়ের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। নিজেদের চোখের সামনে এমন হতাশার দৃশ্য দেখে চুপ থাকতে পারেননি নার্স বেথ। তিনি তখনই হাসপাতালের নিরাপত্তা কার্যালয়ে কর্মরত লাইসেন্সপ্রাপ্ত নোটারি শয়না আলেকজান্ডারকে খুঁজে বের করেন। সব কাজ ফেলে শয়না ছুটে আসেন ইমার্জেন্সি রুমের সি-২৯ নম্বর কক্ষে, যা মুহূর্তের মধ্যেই পরিণত হয় বিয়ের আসরে। হাসপাতালের গাউন পরিহিত জন এবং সাদা প্যান্টস্যুট পরা ডায়ান সেখানে তাঁদের ম্যারেজ সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর করেন। পাশেই থাকা আরেক রোগী সামান্থা রিংয়ের বানিয়ে দেওয়া কাগজের তৈরি হলুদ আংটি বদল করে একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে মেনে নেন তাঁরা। এরপর হাসপাতালের বেড থেকে সামান্য ঝুঁকে স্ত্রীকে চুম্বন করেন জন, যা সেখানকার ভয়ার্ত ও অস্বাভাবিক পরিবেশকে এক নিমিষেই আনন্দে ভরিয়ে তোলে। হাসপাতাল কর্মীদের আয়োজন শুধু এখানেই থেমে থাকেনি। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও স্যালাইনের নল যাতে আনন্দের মাঝে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকেও খেয়াল রাখেন তাঁরা। লাইসেন্সড নার্স কেরিয়া লাইটফুট এই শেষ মুহূর্তের আয়োজনের জন্য ফুল, কাপকেক, প্লাস্টিকের শ্যাম্পেন গ্লাস এবং স্পার্কলিং গ্রেপ জুসের ব্যবস্থা করেন। ইমার্জেন্সি রুমের অ্যাটেনডেন্ট নোলান বেয়ার্ডেন তৈরি করে আনেন ‘জাস্ট ম্যারিড’ লেখা একটি সুন্দর প্ল্যাকার্ড। এই প্রসঙ্গে জন আপ্লুত কণ্ঠে জানান, এই চরম বিপর্যয়ের দিনেও হাসপাতাল কর্মীদের এমন আন্তরিকতা তাঁদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। পরবর্তীতে এই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্নেলকে হাসপাতালের অনকোলজি (ক্যানসার) ইউনিটে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসা শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি বাড়ি ফেরেন। প্রায় এক বছর আগে ৪০ বছরের বিবাহিত জীবনের প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ডায়ানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের পরিচিত ডায়ানকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে এবং হাসপাতালের ওই অনন্য মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরে এখন দারুণ উচ্ছ্বসিত জন কোমো।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত এক নারীর অস্ত্রোপচারে ভুল পা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল, চিকিৎসক ও অস্ত্রোপচার দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে মা ম লা করেছেন ওই নারী ও তার স্বামী। শ্যারন জ্যাকস নামের ৭৪ বছর বয়সী ওই নারী ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মারিয়েটার সেলবি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ কেটে ফেলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফেরার সময় তিনি দেখতে পান, তার বাঁ পা কেটে ফেলা হয়েছে বলে মা ম লায় অভিযোগ করা হয়েছে। মা ম লার নথি অনুযায়ী, জ্যাকসের ডান পায়ে ক্যানসারজনিত সমস্যার কারণে ওই পা কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসকরা ভুল করে বাঁ পায়ে অস্ত্রোপচার করেন। পরে ক্যানসারে আক্রান্ত ডান পাটিও অন্য একটি হাসপাতালে কেটে ফেলতে হয়। ফলে জ্যাকস এখন দুই পা হারিয়েছেন। জ্যাকসের আইনজীবী ব্র্যাড লেইনের দাবি, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসক সঠিক পা চিহ্নিত করেছিলেন। এমনকি ভুল পা কেটে ফেলার পরও সঠিক পায়ে অস্ত্রোপচারের চিহ্নটি ছিল বলে চিকিৎসা নথিতে দেখা গেছে। মা ম লায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসা দল দুবার ‘টাইম-আউট’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল। এই প্রক্রিয়ায় রোগীর পরিচয়, কোন অস্ত্রোপচার হবে এবং শরীরের কোন অংশে অস্ত্রোপচার করা হবে—এসব নিশ্চিত করার কথা। এরপরও কীভাবে ভুল পায়ে অস্ত্রোপচার হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্যাকসের আইনজীবী। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারে থাকা চিকিৎসক, নার্স, অ্যানেস্থেসিওলজিস্টসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব ছিল অস্ত্রোপচারের স্থান সঠিকভাবে নিশ্চিত করা। কিন্তু মা ম লায় অভিযোগ করা হয়েছে, একাধিকবার যাচাইয়ের সুযোগ থাকার পরও ভুলটি শনাক্ত করা হয়নি। এ ধরনের ভুল অস্ত্রোপচার চিকিৎসাক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুতর ও প্রতিরোধযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। মা ম লায় ঘটনাটিকে এমন একটি গুরুতর নিরাপত্তা ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে এড়ানো সম্ভব ছিল। মা ম লায় জ্যাকসের শারীরিক ও মানসিক কষ্ট, স্থায়ী অক্ষমতা, আগের ও ভবিষ্যতের চিকিৎসা ব্যয় এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ হারানোর জন্য ক্ষতিপূরণ ও শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে সেলবি জেনারেল হাসপাতালও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সেখানে একটি গুরুতর অস্ত্রোপচারজনিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। নিজেদের পর্যালোচনায় তারা নিশ্চিত হয়েছে যে ঘটনাটি এড়ানো সম্ভব ছিল এবং নির্ধারিত অপারেশন থিয়েটার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। হাসপাতাল জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে এবং তারা আর ওই পদে কর্মরত নেই। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে অস্ত্রোপচার দলের কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সংশোধনমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল আরও জানিয়েছে, তারা ওহাইও ডিপার্টমেন্ট অব হেলথের পর্যালোচনায় পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। একই সঙ্গে রোগী ও তার পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। মা ম লাটি এখন আদালতে চলমান। অভিযোগগুলো মা ম লায় উত্থাপিত দাবি হিসেবে রয়েছে এবং এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
ফ্লোরিডায় ৬ মাসের এক শিশুর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ০.৩৮৩ শতাংশ পাওয়ার পর তার বাবা-মাকে শিশু অবহেলার অভিযোগে গ্রে প্তার করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুটিকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, আরও কিছুটা দেরি হলে শিশুটির মৃ ত্যু হতে পারত। ঘটনাটি ঘটে ৮ সেপ্টেম্বর। পুলিশ জানায়, শিশুটির ৭ বছর বয়সী ভাই স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে বাবা-মাকে বসার ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে সে তার ছোট বোনকে দেখতে গিয়ে তাকে প্লে-পেনের ভেতর অ চেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এরপর দ্রুত ৯১১ নম্বরে ফোন করা হয়। প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, শিশুটি শ্বাস নিচ্ছিল, কিন্তু কোনো সাড়া দিচ্ছিল না। পরে তাকে হেলিকপ্টারে করে শিশুদের একটি ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষার পর শিশুটির রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ০.৩৮৩ শতাংশ পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের মতে, রক্তে ০.৩ শতাংশের বেশি অ্যালকোহল থাকলে অ্যালকোহল পয়জনিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা প্রাণ ঘা তী হতে পারে। হাসপাতালে করা আরও কিছু পরীক্ষায় শিশুটির পেটে, মাথায় ও উরুতে কালশিটের দাগ পাওয়া যায়। পুলিশের প্রতিবেদনে এসব আঘাতকে ‘অত্যন্ত সন্দেহজনক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসাকর্মীরা পুলিশকে জানান, শিশুটির অবস্থা ছিল ‘গুরুতর কিন্তু স্থিতিশীল’। তাদের ধারণা, আরও দেরিতে চিকিৎসা শুরু হলে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব নাও হতে পারত। এ ঘটনায় শিশুটির ৭ বছর বয়সী ভাইয়ের দ্রুত বিষয়টি বুঝতে পারা এবং সাহায্য চাওয়া তার জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে কর্মকর্তারা জানান। জনস হপকিন্স অল চিলড্রেনস হাসপাতালের চিকিৎসক মেঘান মার্টিন জানান, অল্প বয়সী শিশুদের শরীরে অ্যালকোহল গেলে শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম কমে যেতে পারে। পাশাপাশি চেতনার পরিবর্তন, বমি এবং বমি শ্বাসনালিতে চলে যাওয়ার মতো গুরুতর সমস্যাও দেখা দিতে পারে। শিশুটির বাবা ৩৬ বছর বয়সী জেসি ওয়ালড্রপ এবং মা ২৭ বছর বয়সী দেশিরে উজুনবয়লুকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। দুজনই দাবি করেন, কীভাবে শিশুটির শরীরে অ্যালকোহল গেল সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। তারা নিজেদের মাদক বা অ্যালকোহল ব্যবহারের কথাও অস্বীকার করেন। মা পুলিশকে জানান, ঘটনার আগের দিন তারা পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে গিয়েছিলেন। তার দাবি, পরিবারের কেউ হয়তো একটি পানির বোতলে ভদকা ভরে দিয়েছিল। পরে সেই বোতল থেকেই বাবা শিশুটির জন্য দুধ তৈরি করে থাকতে পারেন। জিজ্ঞাসাবাদে বাবাও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তদন্তে পরিবারের এক সদস্য জানান, তিনি একটি পানির বোতলে ভদকা ভরে সেটি বন্ধ ব্যাকপ্যাকে রেখেছিলেন। পরে তিনি দেখতে পান বোতলটি ব্যাকপ্যাকের বাইরে চলে এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের এক প্রাপ্তবয়স্ক ভাই ওই বোতল থেকে কিছু ভদকা পান করেছিলেন। ওয়ালড্রপ ও উজুনবয়লুকে ১৭ সেপ্টেম্বর গ্রে প্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির কারণ হওয়া শিশু অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে তারা জা মিনে মুক্তি পেলেও আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুটির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন আইনজীবী ব্রায়ান্ট কামারেনো জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরিস্থিতি ও আঘাতের মাত্রার ওপর নির্ভর করে অভিযুক্তদের কয়েক বছর থেকে সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সাজা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের এক ৩৩ বছর বয়সী নারীর পাকস্থলী থেকে ১৪টি কলম, পাঁচটি কাঠের চামচ ও একটি মোমবাতিসহ মোট ২০টি অস্বাভাবিক বস্তু বের করেছেন চিকিৎসকরা। ৫ সেপ্টেম্বর পালানাডু জেলার নারসারাওপেটের মাতাশ্রী প্রাইভেট হাসপাতালে তীব্র বুকব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি নিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষায় পাকস্থলীতে এসব বস্তু শনাক্ত হওয়ার পর প্রায় এক ঘণ্টার ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচারে সেগুলো বের করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীকে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর পাকস্থলীর ভেতরে একাধিক অস্বাভাবিক বস্তু দেখতে পান চিকিৎসকরা। এরপর ডা. পি. রামচন্দ্র রেড্ডির নেতৃত্বে অস্ত্রোপচারকারী দল ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে একে একে বস্তুগুলো বের করে আনে। উদ্ধার হওয়া জিনিসগুলোর মধ্যে ছিল ১৪টি বলপয়েন্ট কলম, পাঁচটি ছোট কাঠের চামচ এবং একটি মোমবাতি। সবচেয়ে বড় কলমটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার। একটি কলমের ঢাকনাও পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, সেটি পাকস্থলীর ভেতরে আঘাত বা ক্ষতির কারণ হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব বস্তু কীভাবে ওই নারীর পাকস্থলীতে গেল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রধান সার্জন ডা. রামচন্দ্র রেড্ডিও জানিয়েছেন, এতগুলো বস্তু তিনি কীভাবে গিলে ফেলেছেন, তা চিকিৎসকদের কাছে পরিষ্কার হয়নি। এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত কারণও চিকিৎসকরা প্রকাশ করেননি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারীর বাবা দাবি করেছেন, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে তার নির্দিষ্ট কোনো রোগ নির্ণয়ের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তার স্বামী দুই মাস আগে তাকে তালাক দিয়েছেন। এসব তথ্য পরিবারের বক্তব্য হিসেবে এসেছে এবং চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে এর সঙ্গে পাকস্থলীতে বস্তু থাকার সরাসরি কারণ নিশ্চিত করা হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর ওই নারীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে খাবার নয় এমন বস্তু খাওয়ার প্রবণতার একটি পরিচিত নাম পিকা। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনায় ওই নারীর ক্ষেত্রে পিকা রয়েছে কি না, তা চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেননি। non-food objects গিলে ফেলা গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে ধারালো বা লম্বা বস্তু হলে অভ্যন্তরীণ আঘাতের ঝুঁকি থাকে। সূত্র : রয়টার্স
রাজবাড়ীতে স্ত্রীর অপারেশন চলার সময় হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের বাইরে দুশ্চিন্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন এক স্বামী। স্ত্রীর অস্ত্রোপচার নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ থেকেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকের নজরে এসেছে। তবে ঘটনাটির নির্দিষ্ট হাসপাতাল, দম্পতির পরিচয় ও ঠিক কখন এটি ঘটেছে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অপারেশন চলাকালে রোগীর স্বজনদের উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষা করা নতুন কোনো ঘটনা নয়। বিশেষ করে কাছের মানুষ অস্ত্রোপচারের মধ্যে থাকলে উৎকণ্ঠা ও মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে সেই চাপ শারীরিক অসুস্থতার কারণও হতে পারে। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও স্ত্রীর অস্ত্রোপচার নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বামী অপারেশন থিয়েটারের বাইরে অপেক্ষা করতে গিয়ে জ্ঞান হারিয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে দাবি করা হয়েছে। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা বা পরে কী হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে স্বামীর উদ্বেগকে দাম্পত্য ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন। তবে এমন পরিস্থিতিতে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: জনবাণী নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাসের এক ফায়ারকর্মীর চার মাস বয়সী ছেলে কেনজি কামারার দীর্ঘ চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে। জন্মের পর স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠছিল শিশুটি। তবে মাত্র পাঁচ সপ্তাহ বয়সে পরীক্ষায় ধরা পড়ে অন্ত্রের একটি জন্মগত জটিলতা, যা দ্রুত গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি করে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে কেনজিকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এ সময় তাকে বিদায় জানাতে ডালাসের ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মেডিকেল সিটি চিলড্রেনস হাসপাতালে জড়ো হন। কয়েক মাস ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফেরার মুহূর্তটি পরিবার ও চিকিৎসকদের জন্যও বিশেষ হয়ে ওঠে। কেনজির বাবা ইয়ান কামারার ডালাসের একজন ফায়ারকর্মী। মা লিন্ডসে কামারারের সঙ্গে গত কয়েক মাস তাঁদের বেশির ভাগ সময় কেটেছে হাসপাতালেই। চিকিৎসকেরা জানান, পাঁচ সপ্তাহ বয়সে শিশুটির অন্ত্রে ‘ইনটেস্টাইনাল ম্যালরোটেশন’ বা অন্ত্রের স্বাভাবিক অবস্থানগত ত্রুটি শনাক্ত হয়। জন্মের পর এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়নি বলেও পরিবার জানিয়েছে। এই সমস্যার কারণে কেনজি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গে জটিলতা দেখা দেয়। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাকে চারবার অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তার চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় হাসপাতালের ৭৫ জনের বেশি কর্মী বিভিন্নভাবে যুক্ত ছিলেন। কেনজির মা লিন্ডসে চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে পুরো চিকিৎসক ও হাসপাতালকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর ভাষায়, এই সময় তাঁদের পাশে থাকা মানুষদের নিয়ে তাঁদের একটি বড় সহায়তার পরিসর তৈরি হয়েছে। কেনজির বাবা ইয়ান জানান, জীবনের বেশির ভাগ সময়ই তাঁর সন্তান হাসপাতালের বাইরে নয়, বরং হাসপাতালেই কাটিয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি নিয়ে যেতে পারায় পরিবারটির মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। শিশুটির চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন চিকিৎসক ক্রিস বিসানি। কেনজি হাসপাতালে আসার সময় তার অবস্থা কতটা গুরুতর ছিল, সে কথাও স্মরণ করেছেন তিনি। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন শিশুটির অবস্থা দেখে তার মা জানতে চেয়েছিলেন, ছেলে বাঁচবে কি না। চিকিৎসক তাঁকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছিলেন, চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুটিকে সামলানোর চেষ্টা করা হবে এবং সবাই মিলে কাজ করবেন। কেনজির চিকিৎসায় যুক্ত আরেক চিকিৎসক শ্বেতা মুর্থি অন্ত্রের এই সমস্যার জটিলতা ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, অন্ত্রের স্বাভাবিক অবস্থান ঠিকভাবে তৈরি না হলে তা পাক খেয়ে যেতে পারে। এতে অন্ত্রে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এর অন্যতম লক্ষণ বমি হতে পারে। তবে সব শিশুর বমির পেছনে এমন গুরুতর সমস্যা থাকে না। জনস হপকিন্স মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, ইনটেস্টাইনাল ম্যালরোটেশন একটি জন্মগত সমস্যা। ভ্রূণের বিকাশের সময় অন্ত্র স্বাভাবিক অবস্থানে না বসলে এই জটিলতা তৈরি হয়। এর ফলে অন্ত্র আটকে যেতে বা পেঁচিয়ে যেতে পারে। অন্ত্র পেঁচিয়ে গেলে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে অন্ত্র পেঁচিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিশুদের হঠাৎ বমি, পেট ফুলে যাওয়া, পেটে অস্বস্তি বা রক্তমিশ্রিত পায়খানার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। জনস হপকিন্স মেডিসিন বলছে, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি, কারণ দীর্ঘ সময় রক্ত সরবরাহ বন্ধ থাকলে অন্ত্রের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে কেনজির ক্ষেত্রে শুরুতে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় বিষয়টি আরও অপ্রত্যাশিত ছিল বলে পরিবার ও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। পরে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ধারাবাহিক চিকিৎসা ও একাধিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা হয়। বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে কেনজিকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর ডালাসের ফায়ারকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিবারটির সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন। কয়েক মাসের উদ্বেগ ও দীর্ঘ চিকিৎসার পর ছোট্ট শিশুটির বাড়ি ফেরার মুহূর্তটি হাসপাতালকর্মীদের কাছেও আবেগঘন হয়ে ওঠে। কেনজির চিকিৎসায় যুক্ত চিকিৎসকেরা জানান, এত জটিল পরিস্থিতি কাটিয়ে শিশুটির সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারা তাঁদের জন্যও বিশেষ তৃপ্তির বিষয়। পরিবারটির জন্য এখন দীর্ঘ হাসপাতালজীবনের পরিবর্তে স্বাভাবিক পারিবারিক জীবনে ফেরার নতুন অধ্যায় শুরু হলো। সূত্র: ফক্স ৪ ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ ও জনস হপকিন্স মেডিসিন।
২০০৯ সালের ঘটনা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঁচ দিন পড়ে ছিল খোরশেদ আলমের মরদেহ। লিভারের জটিলতায় চিকিৎসাধীন খোরশেদকে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়। স্বজনেরা শোকাহত হয়ে দাফনের প্রস্তুতি নিলেও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কারণে মরদেহ কয়েক দিন মর্গে রাখা হয়। পঞ্চম দিন মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার সময় ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, মরদেহ বহনের সময় হঠাৎ নড়েচড়ে ওঠেন খোরশেদ। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্বজনেরা দ্রুত তাকে আবার হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে জানা যায়। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং খোরশেদ পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘মৃত খোরশেদ’ নামে। ঘটনাটি ২০০৯ সালের হলেও এত বছর পরও চট্টগ্রামের স্থানীয় মানুষের মধ্যে গল্পটি প্রচলিত রয়েছে। তবে ঘটনার চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা সে সময়ের হাসপাতাল-সংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে তাকে কীভাবে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল বা পরে তার নড়াচড়ার সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক কারণ কী ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সম্প্রতি সেই খোরশেদ আলমের সঙ্গে দেখা করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসাইন। এ সময় খোরশেদের বর্তমান জীবনযাপন ও আর্থিক পরিস্থিতির কথা জানতে পারেন তিনি। খোরশেদের জন্য নিজের অর্থায়নে একটি দোকানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মেয়রের এই উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন খোরশেদ। একপর্যায়ে তিনি মেয়রকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। দীর্ঘদিন পরও যে পুরোনো ঘটনাটি মানুষের মনে রয়ে গেছে, সেই খোরশেদের জীবনে নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করতেই দোকানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। চট্টগ্রামের মানুষের কাছে খোরশেদের গল্প শুধু অস্বাভাবিক একটি ঘটনার স্মৃতি নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে বেঁচে থাকা একটি স্থানীয় কাহিনি। ২০০৯ সালের সেই ঘটনার পর কেটে গেছে বহু বছর। আর এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছেন খোরশেদ, তার সেই পুরোনো পরিচয়ের কারণে নয়, বরং জীবিকা গড়ার একটি নতুন সুযোগ পাওয়ার কারণে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের টুইন সিটিজ এলাকায় অলিনা হেলথের দুটি হাসপাতালে প্রায় ১৫০ জন ইউনিয়নভুক্ত চিকিৎসক সোমবার চার দিনের ধর্মঘট শুরু করেছেন। কুন র্যাপিডসের মার্সি হাসপাতাল এবং ফ্রিডলির ইউনিটি ক্যাম্পাসে কর্মরত এসব চিকিৎসকের এই কর্মবিরতিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের হাসপাতাল চিকিৎসকদের প্রথম ধর্মঘট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের ইউনিয়ন ডক্টরস কাউন্সিল-এসইআইইউ বলছে, দীর্ঘদিনের চুক্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কর্মপরিবেশ, রোগীসেবায় চিকিৎসকদের ভূমিকা এবং কর্মীদের অধিকার নিয়ে এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ছুটির সুযোগের অভাব চিকিৎসকদের বার্নআউট বাড়াচ্ছে। তাদের দাবি, চিকিৎসকদের কাজের পরিবেশ সরাসরি রোগীসেবার মানের সঙ্গে যুক্ত। এ কারণে তারা শুধু বেতন ও বেনিফিট নয়, রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে চিকিৎসকদের আরও বেশি মতামতের সুযোগ, পেইড সিক ডে এবং ছুটির মতো বিষয়েও চুক্তিতে সুরক্ষা চান। মার্সি হাসপাতালের কুন র্যাপিডস ও ফ্রিডলির ইউনিটি ক্যাম্পাসের চিকিৎসকদের প্রতিনিধিত্ব করছে ডক্টরস কাউন্সিল-এসইআইইউ। ইউনিয়নটি ২০২৪ সালের শুরুতে স্বীকৃতি পেলেও চিকিৎসকদের প্রথম চুক্তি নিয়ে অলিনা হেলথের সঙ্গে প্রায় তিন বছর ধরে আলোচনা চলছে। জুনে ইউনিয়নের সদস্যদের ৯১ শতাংশ ধর্মঘটের পক্ষে ভোট দেন। এরপর ৪ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ ১০ দিনের নোটিশ দিয়ে জানায়, ১৪ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মবিরতি হবে। এই ইউনিটে হাসপাতালিস্ট, অবসটেট্রিকস ও গাইনোকলজি বিশেষজ্ঞ, সাইকিয়াট্রিস্ট এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার চিকিৎসক রয়েছেন। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় রোগীসেবার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় চিকিৎসকদের মতামত যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকদের আরও বেশি সম্পৃক্ততা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। অলিনা হেলথ অবশ্য চিকিৎসকদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ইউনিয়নটি দুই হাসপাতালের চিকিৎসকদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে এবং তাদের সবাই ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছেন না। ধর্মঘটের সময় রোগীসেবা চালু রাখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। অলিনার ভাষ্য অনুযায়ী, কুন র্যাপিডসের মার্সি হাসপাতাল ও ফ্রিডলির ইউনিটি ক্যাম্পাস স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং রোগীদের সেবায় কোনো বিঘ্ন ঘটার কথা নয়। অলিনা হেলথ আরও বলেছে, চিকিৎসকদের সঙ্গে ন্যায্য চুক্তিতে পৌঁছাতে তারা আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়। তবে বেতন ও বেনিফিট নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতের বাড়তে থাকা ব্যয়, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ক্লেইম প্রত্যাখ্যানের চাপ এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, নতুন চুক্তির প্রভাব রোগীসেবার খরচ ও ভবিষ্যতে সেবার প্রাপ্যতার ওপরও পড়তে পারে। ধর্মঘটটি এমন সময়ে শুরু হয়েছে, যখন অলিনা হেলথের প্রায় ৬০ জন হসপিস নার্সও আলাদা শ্রম বিরোধে কর্মসূচিতে রয়েছেন। তবে চিকিৎসকদের ধর্মঘট হাসপাতালের নার্সদের ওই কর্মসূচি থেকে আলাদা। চিকিৎসকদের চার দিনের কর্মবিরতি শেষ হওয়ার কথা ১৭ সেপ্টেম্বর। এদিকে অলিনা হেলথ ও ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সাটার হেলথের মধ্যে সম্ভাব্য অধিগ্রহণ চুক্তির বিষয়টিও প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় রয়েছে। মিনেসোটার এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাতে চিকিৎসকদের ইউনিয়নভিত্তিক শ্রম অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। একদিকে চিকিৎসকেরা বলছেন, পর্যাপ্ত ছুটি, কাজের পরিবেশ এবং রোগীসেবার সিদ্ধান্তে চিকিৎসকদের ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতের বাড়তি ব্যয় ও আর্থিক চাপের মধ্যেই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। ধর্মঘট চলাকালে রোগীসেবায় বাস্তবে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, সেটিও এখন দুই পক্ষের দাবির গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর পর চিকিৎসা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজন। রোববার গভীর রাতে ফেসবুক লাইভে এসে আসিফ হাসান নামের এক যুবক দাবি করেন, হাসপাতালের পিআইসিইউতে চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি, অথচ শিশুটির চিকিৎসার জন্য ২ লাখ টাকার বেশি বিল করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। কালবেলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটিকে রাজধানীর বীর উত্তম সি আর দত্ত রোডের পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে গত ১ সেপ্টেম্বর ভর্তি করা হয়। আসিফ হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন শিশুটির রক্তে সুগারের মাত্রা কমে গেছে। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কথা জানানো হয় এবং কয়েক দিন এভাবেই চিকিৎসা চলতে থাকে। আসিফের দাবি, ঘটনার দিন হাসপাতাল থেকে তাদের জানানো হয়, পরদিন শিশুটিকে রিলিজ দেওয়া হতে পারে। কিন্তু পরে বিকেলে পরিবারের সদস্যদের বলা হয়, শিশুটির লাইফ সাপোর্ট প্রয়োজন। এরপর তারা শিশুটিকে দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে দেখতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে জোর করে ভেতরে গিয়ে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন আসিফ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন চিকিৎসককে খুঁজেও পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার রাত ১২টার দিকে ফেসবুক লাইভে আসেন আসিফ। লাইভে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, শিশুটির চিকিৎসার নামে ২ লাখ টাকার বেশি বিল করা হয়েছে। তবে বিলের বিস্তারিত খাত, শিশুটির চিকিৎসার পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল রেকর্ড এবং মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আসিফ আরও অভিযোগ করেন, তার ফেসবুক লাইভের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে আসেন এবং তাকে শাসাতে থাকেন। পরে পুলিশও ঘটনাস্থলে আসে বলে জানান তিনি। তবে তার দাবি, পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট পুলিশের বক্তব্য কালবেলার প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য প্রয়োজন। কালবেলার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শিশুটির চিকিৎসা ডা. আতিকুর রহমানের অধীনে চলছিল বলে আসিফ জানিয়েছেন। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ওই চিকিৎসকের বিস্তারিত পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি। একইভাবে শিশুটির চিকিৎসার নথি, হাসপাতালের বিল এবং মৃত্যুর মেডিকেল কারণ সম্পর্কেও কোনো পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ্যে আসেনি। ঘটনাটি সামনে আসার পর মূল প্রশ্ন উঠেছে, শিশুটির চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না এবং হাসপাতালের বিলের সঙ্গে দেওয়া চিকিৎসাসেবার যথাযথ সামঞ্জস্য ছিল কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে চিকিৎসার নথি, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে চিকিৎসায় অবহেলা হিসেবে চূড়ান্তভাবে দেখার সুযোগ নেই। বর্তমানে বিষয়টি মূলত স্বজনের অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছে।
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কনুইয়ের জয়েন্টসহ সম্পূর্ণ বাহু প্রতিস্থাপনের জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা। ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার আলোক হেলথ কেয়ার অ্যান্ড হাসপাতালে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, নিটোরের অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুস সালেহীনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিৎসক দল প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচারটি পরিচালনা করে। অস্ত্রোপচারটির বিশেষত্ব হলো, ক্যানসারে আক্রান্ত অংশ অপসারণ করেও রোগীর পুরো বাহু ও কনুইয়ের কার্যকারিতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের অঙ্গ সংরক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাকে লিম্ব স্যালভেজ বলা হয়। এতে ক্যানসারের কারণে অঙ্গচ্ছেদ না করে আক্রান্ত অংশ অপসারণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম ইমপ্লান্ট বা প্রস্থেসিস ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ক্যানসার আক্রান্ত অংশ সম্পূর্ণভাবে অপসারণের পাশাপাশি আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও স্নায়ু নিরাপদ রাখা। অস্ত্রোপচারে ভাস্কুলার সার্জন ডা. এস এম পারভেজ আহমেদ সোহেল সংবেদনশীল রক্তনালি ও স্নায়ুগুলো সংরক্ষণে কাজ করেন। আক্রান্ত অংশ অপসারণের পর রোগীর শারীরিক গঠনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি বিশেষ প্রস্থেসিস সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়। এই চিকিৎসা পদ্ধতির লক্ষ্য শুধু ক্যানসার আক্রান্ত টিস্যু অপসারণ নয়, সম্ভব হলে রোগীর আক্রান্ত অঙ্গের কার্যক্ষমতাও ধরে রাখা। হাড় ও নরম টিস্যুর ক্যানসারের ক্ষেত্রে লিম্ব স্যালভেজ সার্জারি বর্তমানে অঙ্গচ্ছেদ এড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুস সালেহীনের পেশাগত প্রোফাইলেও অর্থো অনকোলজি এবং লিম্ব স্যালভেজ সার্জারির বিশেষায়িত কাজের উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দলের দাবি অনুযায়ী, এর আগে ২০১৯ সালে একই বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ উরুর হাড় প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারও করেছিল। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামের রয়্যাল অর্থোপেডিক হসপিটাল থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের এই অভিজ্ঞতা জটিল অর্থোপেডিক অনকোলজি চিকিৎসায় দেশে সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। চিকিৎসকদের এই সাফল্য দেশে জটিল হাড়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় অঙ্গচ্ছেদ এড়িয়ে আধুনিক লিম্ব স্যালভেজ সার্জারির সুযোগ আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বিদেশে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হওয়া রোগীদের জন্য দেশে তুলনামূলক কম খরচে এ ধরনের জটিল চিকিৎসা দেওয়ার পথও আরও শক্তিশালী হতে পারে। সূত্র: সাইন্স বী
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বর কাপ্রি ডিরামাস। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী বিয়ের আয়োজন আর করা সম্ভব না হলেও শেষ পর্যন্ত হাসপাতালেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন তিনি ও তাঁর বাগদত্তা তায়াসিয়া থমাস। গত সপ্তাহের শেষ দিকে ফ্লোরিডার অল্টামন্টে স্প্রিংস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিয়ের পোশাকে প্রস্তুত হয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তায়াসিয়া। ঠিক সেই সময় খবর আসে, বিয়ের পথে গাড়ি চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন কাপ্রি। হারমিটস ট্রেইল ও স্টেট রোড ৪৩৬ এলাকার কাছে গাড়ি চালানোর সময় কাপ্রির গাড়ির সঙ্গে একটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর তায়াসিয়া বিয়ের পোশাক পরেই গাড়িতে করে অ্যাম্বুলেন্সের পিছু নিয়ে হাসপাতালে যান। সেখানে পৌঁছে তিনি কাপ্রিকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্য দেখেন। সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তায়াসিয়া বলেন, তাঁকে ওই অবস্থায় দেখে বিষয়টি খুবই ভীতিকর ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক ছিল। গাড়িতে বসে তাঁর সবচেয়ে বড় ভয় ছিল, তিনি যেন কাপ্রিকে হারিয়ে না ফেলেন। অন্যদিকে দুর্ঘটনার পর কাপ্রি কিছু সময় অচেতন ও বিভ্রান্ত অবস্থায় ছিলেন। জ্ঞান ফেরার পরও তাঁর কাছে বিয়েটি সম্পন্ন করার ইচ্ছাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। হাসপাতালেই বিয়ে করার বিষয়ে দুজন সম্মত হন। পরে হাসপাতালেই তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। নির্ধারিত বিয়ের মঞ্চের পরিবর্তে হাসপাতালের পরিবেশেই জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেন তাঁরা। তায়াসিয়া বলেন, সেই সময় কাপ্রির পাশে থাকতে পারাটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিয়ের ওই মুহূর্তে কিছুক্ষণের জন্য তাঁদের চারপাশের সব উদ্বেগ ও অস্থিরতা যেন থেমে গিয়েছিল। দুর্ঘটনায় কাপ্রির দুই হাত, পাঁজর ও চোয়ালে গুরুতর আঘাত লাগে। এসব আঘাতের চিকিৎসায় তাঁকে তিনটি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। শারীরিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্যেও কাপ্রি বিয়ের আংটিটিকে তাঁদের সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষায়, ছয় বছর ধরে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে তিনি এখন সারাজীবনের বন্ধনে নিয়ে যেতে চান। দুর্ঘটনার কারণে তাঁদের বিয়ের পরিকল্পনা বদলে গেলেও দুজনের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসেনি। নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থলে বিয়ে না হলেও হাসপাতালেই তাঁরা একে অপরের সঙ্গে জীবনের নতুন যাত্রা শুরু করেন। এদিকে দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি দম্পতি। তাঁদের আইনজীবীরা দুর্ঘটনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সূত্র: ডব্লিউইএসএইচ, সিএনএন নিউজসোর্স
ভারতের দিল্লির রাজৌরি গার্ডেনের আরজি হাসপাতালে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা নিতে গিয়ে ২৬ বছর বয়সী এক যুবকের শরীরের ভেতরে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো গঠন পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় তার দুটো অণ্ডকোষও স্বাভাবিক অবস্থানে না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে জটিল এই শারীরিক অবস্থাকে Persistent Müllerian Duct Syndrome বা PMDS হিসেবে শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসকদের কাছে ওই যুবক প্রাথমিক বন্ধ্যাত্বের সমস্যা নিয়ে যান। পরীক্ষায় তার বীর্যে কোনো শুক্রাণু পাওয়া যায়নি, যাকে অ্যাজুস্পার্মিয়া বলা হয়। একই সঙ্গে দেখা যায়, তার দুটো অণ্ডকোষই শরীরের ভেতরে রয়ে গেছে এবং অণ্ডথলিতে নামেনি। এসব অস্বাভাবিকতার কারণ জানতে আরও পরীক্ষা করা হয়। এমআরআই পরীক্ষায় পেলভিসের ভেতরে জরায়ুর মতো একটি গঠন এবং ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো নালির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। জেনেটিক পরীক্ষায় তার ক্রোমোজোম প্যাটার্ন ৪৬,XY বলে নিশ্চিত হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে চিকিৎসকেরা PMDS শনাক্ত করেন। PMDS একটি অত্যন্ত বিরল জন্মগত শারীরিক অবস্থা। এতে সাধারণত ৪৬,XY ক্রোমোজোম ও পুরুষ শারীরিক বৈশিষ্ট্য থাকা ব্যক্তির শরীরে ভ্রূণ অবস্থায় তৈরি হওয়া মুলেরিয়ান ডাক্ট পুরোপুরি বিলীন হয় না। ফলে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো অভ্যন্তরীণ গঠন থেকে যেতে পারে। এ অবস্থার সঙ্গে অণ্ডকোষ না নামা এবং বন্ধ্যাত্বের সম্পর্কও রয়েছে। চিকিৎসাবিষয়ক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এ রোগের কয়েকশরও কম ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সাধারণত শৈশবেই অণ্ডকোষ না নামা বা অন্য সমস্যার চিকিৎসার সময় এটি ধরা পড়ে। তবে কখনো কখনো বন্ধ্যাত্বের পরীক্ষা করতে গিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক বয়সেও রোগটি শনাক্ত হয়। আরজি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ওই যুবকের দুটো অণ্ডকোষই দীর্ঘদিন ধরে শরীরের ভেতরে থাকায় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মুলেরিয়ান গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত দুটো অণ্ডকোষ অপসারণ করা হয়। পরে টিস্যু পরীক্ষায় বাম অণ্ডকোষে Germ Cell Neoplasia In Situ বা GCNIS নামের ক্যানসারের পূর্ববর্তী পরিবর্তন পাওয়া যায়। চিকিৎসকেরা জানান, দীর্ঘদিন অণ্ডকোষ শরীরের ভেতরে থাকা অবস্থায় ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এ কারণেই বন্ধ্যাত্বের পাশাপাশি অণ্ডকোষের অস্বাভাবিক অবস্থানও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৯৫ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের একটি হাসপাতালে সংকটাপন্ন এক প্রিম্যাচিউর শিশুকে তার যমজ বোনের সঙ্গে একই ইনকিউবেটরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নার্স গেইল কাসপারিয়ান। এরপর দুই বোনের একটি মুহূর্তের ছবি ‘দ্য রেসকিউইং হাগ’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠে এবং প্রিম্যাচিউর যমজ শিশুদের কো-বেন্ডিং নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়। ব্রিয়েল ও কাইরি জ্যাকসন ১৯৯৫ সালের ১৭ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১২ সপ্তাহ আগে ম্যাসাচুসেটসের ওরচেস্টারের দ্য মেডিকেল সেন্টার অব সেন্ট্রাল ম্যাসাচুসেটসে জন্ম নেয়। জন্মের পর দুজনকেই আলাদা ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছিল। সে সময় সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে প্রিম্যাচিউর যমজদের আলাদা রাখাই প্রচলিত ছিল। কাইরি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেও ব্রিয়েলের অবস্থা ছিল উদ্বেগজনক। তার শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছিল এবং হৃদস্পন্দনও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছিল। ১২ নভেম্বর তার অবস্থা আরও খারাপ হলে চিকিৎসাকর্মীরা প্রচলিত বিভিন্ন পদ্ধতিতে তাকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে নার্স গেইল কাসপারিয়ান ইউরোপের কিছু হাসপাতালে ব্যবহৃত একটি পদ্ধতির কথা মনে করেন। সেটি হলো কো-বেন্ডিং, অর্থাৎ যমজ শিশুদের একই ইনকিউবেটরে রাখা। যুক্তরাষ্ট্রে তখন এটি প্রচলিত পদ্ধতি ছিল না। বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে কাসপারিয়ান ব্রিয়েলকে তার যমজ বোন কাইরির ইনকিউবেটরে রাখেন। ইনকিউবেটরের দরজা বন্ধ করার পরপরই ব্রিয়েল তার বোনের কাছে সরে যায় এবং শান্ত হতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যে তার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়তে থাকে। এরপর কাইরি তার ছোট্ট হাত দিয়ে ব্রিয়েলকে জড়িয়ে ধরে। তখন ব্রিয়েলের হৃদস্পন্দন স্থিতিশীল হয় এবং শরীরের তাপমাত্রাও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে। সেই মুহূর্তের ছবিতে দেখা যায়, ছোট্ট কাইরির একটি হাত ব্রিয়েলের শরীরের ওপর রাখা। ছবিটি পরে ‘দ্য রেসকিউইং হাগ’ নামে পরিচিত হয়। ১৯৯৬ সালে এটি লাইফ ম্যাগাজিন ও রিডার্স ডাইজেস্টে প্রকাশিত হলে ঘটনাটি ব্যাপক পরিচিতি পায় এবং প্রিম্যাচিউর যমজ, এমনকি একাধিক শিশুর ক্ষেত্রে কো-বেন্ডিং নিয়ে হাসপাতালগুলোতে আগ্রহ বাড়ে। পরবর্তীতে ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস মেমোরিয়ালে অন্তত ১০০ সেট প্রিম্যাচিউর যমজ বা একাধিক শিশুকে কো-বেন্ডিং করার অভিজ্ঞতার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ঘটনাটিকে এককভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিবর্তনের কারণ বা একটি শিশুর জীবন বাঁচানোর নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং এটি প্রিম্যাচিউর যমজদের একসঙ্গে রাখার সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা ও চিকিৎসা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে পরিচিত হয়ে আছে। শেষ পর্যন্ত ব্রিয়েল ও কাইরি দুজনই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরে। কয়েক বছর পরও তাদের একসঙ্গে ঘুমানোর কথা পরিবার জানিয়েছিল। দুই বোনের সেই ছোট্ট আলিঙ্গন আজও চিকিৎসা ইতিহাসের আলোচিত এক মানবিক মুহূর্ত হিসেবে স্মরণ করা হয়।
যুক্তরাজ্যে অসুস্থ এক তরুণীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থাকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২৪ বছর বয়সী ক্ল্যারিসা স্ট্রিটকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে এমন একটি অক্সিজেন মাস্ক দেওয়া হয়েছিল, যা কোনো অক্সিজেন সরবরাহের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। পরে এক ঘণ্টারও বেশি সময় হাসপাতালের করিডরে থাকার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ২০২৪ সালের আগস্টে ইংল্যান্ডের রয়্যাল ওল্ডহ্যাম হাসপাতালে ঘটে। চলতি বছরের মে মাসে রোচডেল কোরোনার আদালতে অনুষ্ঠিত তদন্তে তাঁর চিকিৎসার শেষ সময়ের বিভিন্ন ঘটনা উঠে আসে। ক্ল্যারিসা ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। তাঁর গবেষণার জন্য তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সৃজনশীল, প্রাণবন্ত এবং মানুষের সঙ্গে মিশুক তরুণী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাতে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ক্ল্যারিসার প্রেমিক অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেন। আদালতে বলা হয়, এর আগের দুই দিন ধরেই তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। মাথা ঘোরা, বমি এবং বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তাঁকে রয়্যাল ওল্ডহ্যাম হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর অ্যাম্বুলেন্সকর্মীদের একজন তাঁকে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন এবং আতঙ্কজনিত সমস্যায় ভুগছেন বলে মনে করেছিলেন বলে তদন্তে জানানো হয়। এরপর দায়িত্বে থাকা নার্স মিশেল নিল ক্ল্যারিসাকে একটি অক্সিজেন মাস্ক দেন। কিন্তু সেটি কোনো অক্সিজেনের উৎসের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। নিল আদালতে স্বীকার করেন, কেন তিনি এমন একটি মাস্ক দিয়েছিলেন তা তিনি জানেন না এবং এমনটি করা উচিত হয়নি। তিনি অবশ্য দাবি করেন, মাস্কটি ক্ল্যারিসার শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছিল এবং তখন তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছিলেন। তদন্তে আরও জানা যায়, ক্ল্যারিসার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কম ছিল এবং তাঁর হৃদস্পন্দনও দ্রুত ছিল। এরপরও তাঁকে চিকিৎসাকক্ষের পরিবর্তে হাসপাতালের করিডরে রাখা হয়। সেখানে তিনি প্রায় এক ঘণ্টা ছিলেন বলে আদালতে তথ্য উঠে আসে। নিল জানান, তিনি ক্ল্যারিসার জন্য ইসিজি, রক্ত পরীক্ষা এবং শিরার রক্তের গ্যাস পরীক্ষা করার অনুরোধ করেছিলেন। পরে তাঁর বিষয়টি একজন জ্যেষ্ঠ নার্সের কাছে তোলা হয়। নিলের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ নার্স ক্ল্যারিসা বয়সে তরুণ হওয়ায় তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁকে তরল দেওয়া হয় এবং পরে আবার পরীক্ষা করার কথা ছিল। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্ল্যারিসার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তাঁকে আরও উচ্চপর্যায়ের চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় এবং চিকিৎসক তাঁকে দেখেন। তবে ১৪ আগস্ট ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত ও তদন্তে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে পালমোনারি এমবোলিজম বা ফুসফুসের রক্তনালিতে রক্ত জমাটের কথা বলা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে ফ্যাটি লিভার রোগের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ক্ল্যারিসার এর আগেও ২০১৭ সালে পালমোনারি এমবোলিজম ও গভীর শিরায় রক্ত জমাটের সমস্যা হয়েছিল। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে রক্ত পাতলা রাখার ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতে বলা হয়, ২০১৭ সালের ঘটনাটি সে সময়ের চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচিত হয়েছিল। তাই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা বা রক্তরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা তখন ছিল না। তদন্তে অবশ্য এটিও স্বীকার করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত পরীক্ষা বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হলে তাঁর শরীরে কোনো অন্তর্নিহিত কারণ শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে ২০১৭ সালের ঘটনা এবং ২০২৪ সালের পালমোনারি এমবোলিজম সরাসরি সম্পর্কিত ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি। ঘটনাটি যুক্তরাজ্যে জরুরি বিভাগে রোগী মূল্যায়ন, রোগীর উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়া এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে বয়স বা প্রাথমিক ধারণার প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তে বিশেষভাবে উঠে এসেছে, ক্ল্যারিসার শারীরিক অবস্থার কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসাকক্ষে নেওয়া হয়নি। তবে ক্ল্যারিসার মৃত্যুর জন্য সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দায়ী করা হয়েছে এমনটি বলা ঠিক হবে না। কোরোনারের তদন্তের উদ্দেশ্য হলো মৃত্যুর পরিস্থিতি ও চিকিৎসার ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখা। অক্সিজেনের সঙ্গে সংযোগহীন মাস্ক দেওয়ার বিষয়টি নার্স নিজেই ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হাসপাতালগুলোর জন্য বিলিয়ন ডলারের মেডিকেইড তহবিল আটকে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে সোমবার থেকে হাসপাতালগুলো প্রতিদিন আনুমানিক ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার করে অর্থ হারাচ্ছে। তহবিল আটকে দেওয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে টেক্সাসের হাসপাতালগুলোর ওপর আরোপিত একটি করব্যবস্থা। এই করের মাধ্যমে রাজ্য ফেডারেল সরকারের কাছ থেকে মেডিকেইডের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিজস্ব অংশ সংগ্রহ করে। তবে এই অর্থায়ন পদ্ধতি নিয়ে কেন্দ্র ও টেক্সাসের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। টেক্সাসের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা কমিশনার বিষয়টি সমাধানে মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছেন। এখনও এই অর্থ আটকে যাওয়ার কারণে মেডিকেইড রোগীদের চিকিৎসাসেবায় তাৎক্ষণিক কোনো বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে রোগী, হাসপাতালের কর্মী এবং চিকিৎসাসেবায় এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ হাসপাতাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিফেন লাভ বলেন, নিরাপত্তাবেষ্টিত হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের দপ্তর জানিয়েছে, রাজ্যের হাসপাতালগুলোর অর্থায়ন ব্যবস্থা ফেডারেল আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাপ্য অর্থ পাওয়া উচিত। কতদিন এই তহবিল আটকে থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে তখন ভয়াবহ আগুন। চারদিকে ধোঁয়া আর আগুনের শিখা। সবাই যখন প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করছেন, তখন নিজের জীবনের কথা না ভেবেই আগুনের মধ্যে ঢুকে পড়লেন নার্স রাজিয়া নূরিন। মাত্র আট সেকেন্ড পর একটি নবজাতককে বুকে জড়িয়ে আগুন থেকে বেরিয়ে এলেন তিনি। শিশুটি বেঁচে গেল। কিন্তু বাঁচানো সম্ভব হয়নি বাকি ১৪ নবজাতককে। গত ২৬ আগস্ট পাকিস্তানের ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (পিআইএমএস) নার্সারিতে এই ভয়াবহ আগুন লাগে। এরপর থেকেই রাজিয়া নূরিনকে সাহসিকতার জন্য প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন পাকিস্তানের মানুষ। আগুন লাগার সময় নূরিন ও তাঁর সহকর্মীরা ১৫ নবজাতকের দেখাশোনা করছিলেন। পরে পাশের একটি কক্ষে কয়েকজন শিশুর জন্য ইনজেকশন প্রস্তুত করছিলেন তাঁরা। হঠাৎ নূরিন আগুনের শিখা দেখতে পান। হাতে থাকা সিরিঞ্জ ফেলে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান নার্সারির দিকে। নার্সারিতে ঢুকেই একটি শিশুকে কোলে তুলে নেন তিনি। শিশুটিকে নিজের বুকের সঙ্গে শক্ত করে চেপে ধরে আগুন ও ধোঁয়া থেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। এরপর দ্রুত বেরিয়ে আসেন। হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে সেই মুহূর্তের দৃশ্য। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মাত্র আট সেকেন্ডের মধ্যে শিশুটিকে নিয়ে আগুন থেকে বেরিয়ে আসেন নূরিন। বাইরে এসে শিশুটিকে এক চিকিৎসকের হাতে তুলে দেন। এরপর আবারও আগুনের দিকে ফিরে যেতে চান তিনি। তাঁর আশা ছিল, ভেতরে থাকা অন্য শিশুদেরও হয়তো বাঁচানো যাবে। কিন্তু ততক্ষণে আগুন ও ধোঁয়া এতটাই বেড়ে গেছে যে আর ভেতরে ঢোকা সম্ভব হয়নি। “আমি অন্যদেরও বাঁচাতে চেয়েছিলাম। আমি আশা হারাইনি,” অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন নূরিন। তারপরও চেষ্টা থামাননি তিনি। আরেক নার্সকে সঙ্গে নিয়ে মাটিতে নেমে ধোঁয়ার নিচ দিয়ে নার্সারিতে ঢোকার চেষ্টা করেন। কিন্তু ঘন ধোঁয়ায় সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। দম বন্ধ হয়ে আসছিল, প্রচণ্ড কাশি হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত আগুনের তীব্রতার কাছে তাঁকে ফিরে আসতে হয়। এর কিছুক্ষণ পর নূরিন জানতে পারেন, ভেতরে থাকা বাকি ১৪ নবজাতক মারা গেছে। খবরটি শুনে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। যে শিশুটিকে তিনি আগুন থেকে বের করে এনেছিলেন, সে-ই ছিল ওই নার্সারির একমাত্র জীবিত শিশু। সরকারি তদন্তে বলা হয়েছে, আগুন লাগার পর মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই নার্সারির পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেই সময়ের মধ্যেই নূরিন মাত্র আট সেকেন্ডের জন্য আগুনের মধ্যে ঢুকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। তাঁর এই সাহসিকতার জন্য পাকিস্তানজুড়ে প্রশংসা শুরু হয়। সরকার তাঁকে দেশটির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বেসামরিক সম্মাননা ‘সিতারা-ই-খিদমত’ বা ‘স্টার অব সার্ভিস’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাঁকে আর্থিক পুরস্কারও দেওয়া হবে। কিন্তু নূরিন নিজেকে কোনো বীর মনে করেন না। তাঁর কাছে তিনি শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। “কোনো মা কি তার সন্তানকে আগুনে পুড়তে দেখতে পারে?” বলেন নূরিন। এরপর নিজেই উত্তর দেন, “না। মায়েরা তাঁদের সন্তানদের জন্য কোনো উপকার করেন না। এটা তাঁদের দায়িত্ব।” নূরিন একজন খ্রিস্টান। পাকিস্তানের ছোট একটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্য তিনি। কিন্তু তাঁর সাহসিকতার প্রশংসায় ধর্মের কোনো ভেদাভেদ দেখা যায়নি। বিভিন্ন ধর্মের মানুষই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাঁর সাহসের প্রশংসা করেছেন। তবে এত প্রশংসার পরও নূরিনের মনে শান্তি নেই। কারণ তিনি বারবার ফিরে যাচ্ছেন সেই ১৪ শিশুর কথায়, যাদের তিনি বাঁচাতে পারেননি। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না তিনি। নার্সারির কাছে গেলেই আগুনের সেই ভয়াবহ দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কখনো কখনো তাঁর মনে হয়, এখনো যেন শিশুদের কান্না শুনতে পাচ্ছেন। তখন নিজেকে আর সামলাতে পারেন না। “ওই শিশুদের মৃত্যু আমাকে ভীষণভাবে কষ্ট দিয়েছে। স্বাভাবিক হতে আমার হয়তো কয়েক বছর লেগে যাবে,” বলেন তিনি। আগুনের ঘটনায় শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন নূরিন। তিনি জানান, তাঁর জ্বর ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত উঠেছিল। তারপরও তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, কারণ ওই শিশুদের কথা মানুষকে জানাতে চেয়েছেন। “ওই শিশুরা আমাকে ঘুমাতে দেয় না,” বলেন তিনি। নূরিনের ভাষায়, নবজাতকরা যখন হাসপাতালে আসে, তখন তাদের মায়েরা কিছু সময়ের জন্য সন্তানদের নার্সদের হাতে তুলে দেন। সেই সময় নার্সরাই শিশুদের খাওয়ান, ওষুধ দেন এবং সারাক্ষণ তাদের দেখাশোনা করেন। তাই ধীরে ধীরে একজন নার্সের কাছেও শিশুরা নিজের সন্তানের মতো হয়ে যায়। সেই কারণেই আগুন লাগার মুহূর্তে নিজের জীবনের কথা ভাবার সময় পাননি নূরিন। “আমি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমাকে আমার কাজ করতে হবে। মায়েরা তাঁদের সন্তানদের আমাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন,” বলেন তিনি। “আমি একজন মায়ের মতো আচরণ করেছি। নিজের জীবনের কথা আমি ভাবিনি।” প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও পাকিস্তানের মানুষ তাঁকে সম্মান জানানোয় কৃতজ্ঞ নূরিন। কিন্তু তাঁর কাছে এই কাজ কোনো পুরস্কার পাওয়ার জন্য ছিল না। “আমি কোনো পুরস্কার বা অর্থের জন্য এটা করিনি,” বলেন তিনি। জ্বলন্ত নার্সারিতে ঢোকার সময় তিনি জানতেন না, সেখান থেকে জীবিত বের হতে পারবেন কি না। তবুও তিনি ঢুকেছিলেন। কারণ তখন তাঁর কাছে একটাই বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল—শিশুদের বাঁচানো। “আমার সামনে তখন একটাই লক্ষ্য ছিল—এখন জীবন বাঁচানোর সময়। আমি সব শিশুকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম। এক সেকেন্ডের জন্যও নিজের নিরাপত্তার কথা ভাবিনি।” মাত্র আট সেকেন্ডের সেই সাহসী সিদ্ধান্তে একটি নবজাতকের জীবন বেঁচে গেছে। আর সেই শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে রাজিয়া নূরিন নিজের জীবনও বাজি রেখেছিলেন। আজ পাকিস্তান তাঁকে হিরো বলছে। কিন্তু তাঁর কাছে তিনি শুধু একজন নার্স—যিনি সেই মুহূর্তে নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন মায়ের মতো হয়ে উঠেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।