সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

‘আমি শুধু মা হয়ে গিয়েছিলাম’- জ্বলন্ত আগুন থেকে ৮ সেকেন্ডে নবজাতককে বাঁচালেন নার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ৬:১৫
জ্বলন্ত আ/গু/ন থেকে ৮ সেকেন্ডে নবজাতককে বাঁচালেন নার্স
জ্বলন্ত আ/গু/ন থেকে ৮ সেকেন্ডে নবজাতককে বাঁচালেন নার্স

ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে তখন ভয়াবহ আগুন। চারদিকে ধোঁয়া আর আগুনের শিখা। সবাই যখন প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করছেন, তখন নিজের জীবনের কথা না ভেবেই আগুনের মধ্যে ঢুকে পড়লেন নার্স রাজিয়া নূরিন। মাত্র আট সেকেন্ড পর একটি নবজাতককে বুকে জড়িয়ে আগুন থেকে বেরিয়ে এলেন তিনি। শিশুটি বেঁচে গেল। কিন্তু বাঁচানো সম্ভব হয়নি বাকি ১৪ নবজাতককে।

 

গত ২৬ আগস্ট পাকিস্তানের ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (পিআইএমএস) নার্সারিতে এই ভয়াবহ আগুন লাগে। এরপর থেকেই রাজিয়া নূরিনকে সাহসিকতার জন্য প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন পাকিস্তানের মানুষ।

 

আগুন লাগার সময় নূরিন ও তাঁর সহকর্মীরা ১৫ নবজাতকের দেখাশোনা করছিলেন। পরে পাশের একটি কক্ষে কয়েকজন শিশুর জন্য ইনজেকশন প্রস্তুত করছিলেন তাঁরা। হঠাৎ নূরিন আগুনের শিখা দেখতে পান। হাতে থাকা সিরিঞ্জ ফেলে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান নার্সারির দিকে।

 

নার্সারিতে ঢুকেই একটি শিশুকে কোলে তুলে নেন তিনি। শিশুটিকে নিজের বুকের সঙ্গে শক্ত করে চেপে ধরে আগুন ও ধোঁয়া থেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। এরপর দ্রুত বেরিয়ে আসেন। হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে সেই মুহূর্তের দৃশ্য।

 

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মাত্র আট সেকেন্ডের মধ্যে শিশুটিকে নিয়ে আগুন থেকে বেরিয়ে আসেন নূরিন। বাইরে এসে শিশুটিকে এক চিকিৎসকের হাতে তুলে দেন। এরপর আবারও আগুনের দিকে ফিরে যেতে চান তিনি। তাঁর আশা ছিল, ভেতরে থাকা অন্য শিশুদেরও হয়তো বাঁচানো যাবে। কিন্তু ততক্ষণে আগুন ও ধোঁয়া এতটাই বেড়ে গেছে যে আর ভেতরে ঢোকা সম্ভব হয়নি।

 

“আমি অন্যদেরও বাঁচাতে চেয়েছিলাম। আমি আশা হারাইনি,” অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন নূরিন।

 

তারপরও চেষ্টা থামাননি তিনি। আরেক নার্সকে সঙ্গে নিয়ে মাটিতে নেমে ধোঁয়ার নিচ দিয়ে নার্সারিতে ঢোকার চেষ্টা করেন। কিন্তু ঘন ধোঁয়ায় সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। দম বন্ধ হয়ে আসছিল, প্রচণ্ড কাশি হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত আগুনের তীব্রতার কাছে তাঁকে ফিরে আসতে হয়।

 

এর কিছুক্ষণ পর নূরিন জানতে পারেন, ভেতরে থাকা বাকি ১৪ নবজাতক মারা গেছে। খবরটি শুনে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। যে শিশুটিকে তিনি আগুন থেকে বের করে এনেছিলেন, সে-ই ছিল ওই নার্সারির একমাত্র জীবিত শিশু।

 

সরকারি তদন্তে বলা হয়েছে, আগুন লাগার পর মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই নার্সারির পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেই সময়ের মধ্যেই নূরিন মাত্র আট সেকেন্ডের জন্য আগুনের মধ্যে ঢুকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন।

 

তাঁর এই সাহসিকতার জন্য পাকিস্তানজুড়ে প্রশংসা শুরু হয়। সরকার তাঁকে দেশটির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বেসামরিক সম্মাননা ‘সিতারা-ই-খিদমত’ বা ‘স্টার অব সার্ভিস’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাঁকে আর্থিক পুরস্কারও দেওয়া হবে।

 

কিন্তু নূরিন নিজেকে কোনো বীর মনে করেন না। তাঁর কাছে তিনি শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

“কোনো মা কি তার সন্তানকে আগুনে পুড়তে দেখতে পারে?” বলেন নূরিন। এরপর নিজেই উত্তর দেন, “না। মায়েরা তাঁদের সন্তানদের জন্য কোনো উপকার করেন না। এটা তাঁদের দায়িত্ব।”

 

নূরিন একজন খ্রিস্টান। পাকিস্তানের ছোট একটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্য তিনি। কিন্তু তাঁর সাহসিকতার প্রশংসায় ধর্মের কোনো ভেদাভেদ দেখা যায়নি। বিভিন্ন ধর্মের মানুষই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাঁর সাহসের প্রশংসা করেছেন।

 

তবে এত প্রশংসার পরও নূরিনের মনে শান্তি নেই। কারণ তিনি বারবার ফিরে যাচ্ছেন সেই ১৪ শিশুর কথায়, যাদের তিনি বাঁচাতে পারেননি।

 

অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না তিনি। নার্সারির কাছে গেলেই আগুনের সেই ভয়াবহ দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কখনো কখনো তাঁর মনে হয়, এখনো যেন শিশুদের কান্না শুনতে পাচ্ছেন। তখন নিজেকে আর সামলাতে পারেন না।

 

“ওই শিশুদের মৃত্যু আমাকে ভীষণভাবে কষ্ট দিয়েছে। স্বাভাবিক হতে আমার হয়তো কয়েক বছর লেগে যাবে,” বলেন তিনি।

 

আগুনের ঘটনায় শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন নূরিন। তিনি জানান, তাঁর জ্বর ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত উঠেছিল। তারপরও তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, কারণ ওই শিশুদের কথা মানুষকে জানাতে চেয়েছেন।

 

“ওই শিশুরা আমাকে ঘুমাতে দেয় না,” বলেন তিনি।

 

নূরিনের ভাষায়, নবজাতকরা যখন হাসপাতালে আসে, তখন তাদের মায়েরা কিছু সময়ের জন্য সন্তানদের নার্সদের হাতে তুলে দেন। সেই সময় নার্সরাই শিশুদের খাওয়ান, ওষুধ দেন এবং সারাক্ষণ তাদের দেখাশোনা করেন। তাই ধীরে ধীরে একজন নার্সের কাছেও শিশুরা নিজের সন্তানের মতো হয়ে যায়।

 

সেই কারণেই আগুন লাগার মুহূর্তে নিজের জীবনের কথা ভাবার সময় পাননি নূরিন।

 

“আমি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমাকে আমার কাজ করতে হবে। মায়েরা তাঁদের সন্তানদের আমাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন,” বলেন তিনি।

 

“আমি একজন মায়ের মতো আচরণ করেছি। নিজের জীবনের কথা আমি ভাবিনি।”

 

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও পাকিস্তানের মানুষ তাঁকে সম্মান জানানোয় কৃতজ্ঞ নূরিন। কিন্তু তাঁর কাছে এই কাজ কোনো পুরস্কার পাওয়ার জন্য ছিল না।

 

“আমি কোনো পুরস্কার বা অর্থের জন্য এটা করিনি,” বলেন তিনি।

 

জ্বলন্ত নার্সারিতে ঢোকার সময় তিনি জানতেন না, সেখান থেকে জীবিত বের হতে পারবেন কি না। তবুও তিনি ঢুকেছিলেন। কারণ তখন তাঁর কাছে একটাই বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল—শিশুদের বাঁচানো।

 

“আমার সামনে তখন একটাই লক্ষ্য ছিল—এখন জীবন বাঁচানোর সময়। আমি সব শিশুকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম। এক সেকেন্ডের জন্যও নিজের নিরাপত্তার কথা ভাবিনি।”

 

মাত্র আট সেকেন্ডের সেই সাহসী সিদ্ধান্তে একটি নবজাতকের জীবন বেঁচে গেছে। আর সেই শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে রাজিয়া নূরিন নিজের জীবনও বাজি রেখেছিলেন। আজ পাকিস্তান তাঁকে হিরো বলছে। কিন্তু তাঁর কাছে তিনি শুধু একজন নার্স—যিনি সেই মুহূর্তে নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন মায়ের মতো হয়ে উঠেছিলেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
পাকিস্তানে শতবর্ষী হিন্দু মন্দির ধসে বিতর্ক, ভাঙার অভিযোগ সংখ্যালঘুদের।
শতবর্ষী হিন্দু মন্দির ভেঙে মাদ্রাসা নির্মাণ, পাকিস্তানে ক্ষোভ

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের নারোওয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে শত বছরেরও বেশি পুরোনো একটি হিন্দু মন্দির ভেঙে পড়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২১ আগস্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মন্দিরটি ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে পাশের একটি মাদ্রাসার জমির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংখ্যালঘু অধিকারকর্মীরা। তবে পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, অতিবৃষ্টির কারণে মন্দিরটির কাঠামো ধসে পড়েছে। প্রায় ১০০ থেকে ১২৫ বছরের পুরোনো মন্দিরটি প্রায় এক হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে ছিল। পাকিস্তান মাসিহা মিল্লাত পার্টির চেয়ারম্যান আসলাম পারভেজ সাহোত্রা অভিযোগ করেছেন, মন্দিরের ইট, গম্বুজের ধাতব অংশসহ বিভিন্ন সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি ২৮ আগস্ট পাঞ্জাবের অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে লিখিত আবেদন করে ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।  সংখ্যালঘু সংগঠনগুলো মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ এবং ধর্মীয় স্থাপনাটির জমিতে কথিত দখল সরানোরও দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, মন্দিরসংলগ্ন জমি আগে একটি মাদ্রাসার কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছিল।  তবে সংখ্যালঘুদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় পাকিস্তানের সরকারি কর্তৃপক্ষ। দেশটির সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্পত্তি দেখভালের দায়িত্বে থাকা ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টির কারণে মন্দিরের কাঠামোর একটি অংশ ধসে পড়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে এখনো স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। ঘটনাটি পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্থাপনা সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৮:১৪
মোদি-পেজেশকিয়ানের বৈঠকের পর ভারতকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি

মোদি-পেজেশকিয়ানের বৈঠকের পর ভারতকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি

ব্রাজিল ভ্রমণে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতা

ব্রাজিল ভ্রমণে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতা, দিন-রাতই সহিংস অপরাধের ঝুঁকি

অবসর নেওয়ার পর বেসরকারি বিমান সংস্থায় যোগ দিলেন অভিনন্দন বর্তমান। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে আটক ভারতের সেই পাইলট এবার যুদ্ধবিমান ছেড়ে চালাবেন যাত্রীবাহী বিমান

বন্যায় ধ্বংস হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে নেপাল সীমান্তে সড়ক পুনর্নির্মাণ করেছে চীন। ছবি: সংগৃহীত
বন্যায় ধ্বংস হওয়া নেপাল সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মাত্র এক সপ্তাহে পুনর্নির্মাণ করল চীন

ভয়াবহ বন্যায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়া নেপাল ও চীন সীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই পুনর্নির্মাণ করেছে চীন। নেপাল ও চীনের মধ্যকার অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম জিরং বা গিরং সীমান্ত ক্রসিংয়ের এই সড়কটি বুধবার পুরোপুরি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, সড়কটি দ্রুত মেরামত করার ফলে এখন দুর্গত এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো অনেক সহজ হবে।   গত সপ্তাহে হিমবাহ ধসে বরফ, পাথর ও কাদার প্রবল স্রোতে গিরং সীমান্ত ক্রসিং এবং এর সঙ্গে যুক্ত এই বিস্তীর্ণ সড়কটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ওই অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তবে চীনের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতায় নতুন গতি এসেছে।   এদিকে নেপালে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর উদ্ধার অভিযান পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈরী আবহাওয়া ও দুর্গম পথের বাধা পেরিয়ে হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন আকাশযানের সহায়তায় নতুন করে আরও ১১৮ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ভূগর্ভস্থ টানেলে এখনো ৬০০ জনের বেশি শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, দুর্যোগের পর থেকে এসব জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ২৭৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে নেপাল, ভারত ও চীনের যৌথ উদ্ধারকারী দল একযোগে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।   নেপালে সাম্প্রতিক এই বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্মরণকালের ভয়াবহতাকে ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে এক হাজার দুইশ ছাড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, উদ্ধারকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।   দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। প্রতিবেশী দেশ চীন ইতোমধ্যে নিখোঁজদের শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার বিশেষজ্ঞ দল, দুর্গম এলাকায় অনুসন্ধানের জন্য অত্যাধুনিক ড্রোন এবং দুর্গত মানুষের জন্য পানি পরিশোধন সরঞ্জামসহ অতিরিক্ত সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪২ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি আর্থিক সহায়তা পৌঁছেছে।   হিমালয় অঞ্চলে এমন ভয়াবহ দুর্যোগের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, এই দুর্যোগ হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ও ভয়াবহ ঝুঁকিকে আরও একবার স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমবাহগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে, যার ফলেই এমন আকস্মিক ও ধ্বংসাত্মক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ২৩:৫৬
ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে লন্ডনে সরানো হয়েছে নেদারল্যান্ডসের ৮৬ টন সোনা। ছবি: সংগৃহীত

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ৮৬ টন সোনা সরিয়ে যুক্তরাজ্যে নিল নেদারল্যান্ডস

বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ

সন্তান জন্মের পর ক্যাটরিনার মোটা শরীর নিয়ে কটাক্ষ, বিব্রত নায়িকা

জ্বলন্ত আ/গু/ন থেকে ৮ সেকেন্ডে নবজাতককে বাঁচালেন নার্স

‘আমি শুধু মা হয়ে গিয়েছিলাম’- জ্বলন্ত আগুন থেকে ৮ সেকেন্ডে নবজাতককে বাঁচালেন নার্স

হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের তেলবাহী দুই ট্যাংকারে হামলা
হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের তেলবাহী দুই ট্যাংকারে হামলা

হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলবাহী দুটি বিশাল ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে সোমবার রাতে ট্যাংকার দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে শিপিং ট্র্যাকিং সংস্থা।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের খাসাব উপকূলের কাছে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার দুটি হামলার শিকার হয়। হামলার পর জাহাজ দুটির সব ক্রু নিরাপদে রয়েছেন বলে জানা গেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি ট্যাংকারে সৌদি আরবের জুয়াইমাহ টার্মিনাল থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হচ্ছিল।   ব্রিটিশ মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, একই এলাকায় একটি ট্যাংকারে তিনটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। তবে হামলার জন্য কারা দায়ী, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ ও জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং নৌ অবরোধের কারণে এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ৪:৪৭
প্যারিসে ভারতীয় হিন্দুদের গণেশ উৎসবের ভিডিও ভাইরাল

প্যারিসে ভারতীয় হিন্দুদের গণেশ উৎসবের ভিডিও ভাইরাল, অভিবাসন নিয়ে নতুন বিতর্ক

৬০০ বছর পর নরওয়ের সিংহাসনে নারী

৬০০ বছর পর নরওয়ের সিংহাসনে নারী, ইতিহাস গড়ছেন ২২ বছরের ইনগ্রিড

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, শিশুসহ নিহত ৫

0 Comments