৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবস ঘিরে নিউইয়র্কে নজিরবিহীন নিরাপত্তা, প্রস্তুত পুলিশ-কোস্ট গার্ড-নৌবাহিনী
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটিজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। আগামী শনিবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কয়েক লাখ মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ ও বিমান প্রদর্শনী, ‘প্যারেড অব সেইলস’ এবং ঐতিহ্যবাহী ম্যাসির আতশবাজির অনুষ্ঠানকে ঘিরে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সপ্তাহান্তে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে একটি বড় আয়োজন এবং মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এর একটি ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, প্রতিটি অনুষ্ঠানের জন্য পৃথক ও সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে সবাই নিরাপদে উৎসব উপভোগ করতে পারেন। তিনি জানান, শহরের পাঁচটি বরোতেই অতিরিক্ত ইউনিফর্মধারী পুলিশ মোতায়েন করা হবে। কয়েক মাস ধরে নগর কর্তৃপক্ষ, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রপথে আয়োজন থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে।
নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, বুধবার থেকেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক ও মার্কিন নৌবহরের জাহাজ ইতোমধ্যে শহরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে এ বছরের উদযাপনকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট বা বিশ্বাসযোগ্য হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দা বিভাগ, যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্স এবং কাউন্টার টেররিজম ইউনিট দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সব ধরনের তথ্য সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তায় ভারী অস্ত্রধারী বিশেষ ইউনিট, কে-৯ কুকুরদল, বিমান ও নৌ ইউনিট, ড্রোন প্রতিরোধ দল এবং হাজারো পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের ১২ ঘণ্টার শিফটে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। প্যারেড দেখতে টিকিটধারী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের নির্ধারিত প্রবেশপথ দিয়ে নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে হবে।
এদিকে শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ম্যানহাটনের ৫৯তম স্ট্রিটের দক্ষিণে ওয়েস্ট সাইড হাইওয়ে যান চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে। দিনভর ওই এলাকায় বাণিজ্যিক যানবাহন চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। বিকেল ৩টা থেকে এফডিআর ড্রাইভ ও ব্রুকলিন ব্রিজ বন্ধ করে দেওয়া হবে, যাতে ইস্ট রিভার ও হাডসন নদীতে ম্যাসির স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজির প্রস্তুতি নেওয়া যায়। ২০০০ সালের পর এবার প্রথমবারের মতো দুই নদী থেকেই একযোগে আতশবাজি প্রদর্শন করা হবে।
এছাড়া ব্রুকলিন ব্রিজ পার্কের পিয়ার-১ থেকে পিয়ার-৬ এবং ম্যানহাটনের সাউথ স্ট্রিট সিপোর্ট এলাকায় শুধুমাত্র টিকিটধারী দর্শনার্থীদের প্রবেশের অনুমতি থাকবে। তাদেরও নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ব্রুকলিনের ক্লার্ক স্ট্রিট সাবওয়ে স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তবে অতিরিক্ত যাত্রী সামাল দিতে অতিরিক্ত ট্রেন পরিচালনা করবে এমটিএ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সপ্তাহান্তজুড়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে নতুন H-1B ভিসার আবেদনের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ১ লাখ ডলারের ফি আটকে দিয়েছেন আরেক ফেডারেল বিচারক। বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক হেওয়ার্ড গিলিয়াম এই নির্দেশ দেন। তার মতে, ফি কার্যকর করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা এবং পররাষ্ট্র দপ্তর প্রয়োজনীয় নিয়ম প্রণয়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। ফলে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে এই ফি কার্যকর করা থেকে বিরত থাকতে হবে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমিক ইউনিয়ন, নিয়োগকর্তা ও বিভিন্ন অলাভজনক সংগঠনের একটি জোট এই মামলা করে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারক গিলিয়াম ফি আটকে দেওয়ার নির্দেশ দেন। মামলাটি গত অক্টোবরে দায়ের করা হয়েছিল। বিচারক গিলিয়ামকে ২০১০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ফেডারেল বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এটি H-1B ফি নিয়ে দ্বিতীয় বড় ধরনের আদালতের বাধা। এর আগে জুনে বোস্টনের একজন ফেডারেল বিচারক ২০টি অঙ্গরাজ্যের করা পৃথক মামলায় একই ১ লাখ ডলারের ফি সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছিলেন। জুলাইয়ে বোস্টনভিত্তিক একটি আপিল আদালত সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের অনুরোধ নাকচ করে দেয়। ফলে ফি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক আইনি লড়াই একই সঙ্গে চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন নতুন H-1B ভিসার ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের এই ফি আরোপ করেছিল। এর আগে নতুন H-1B আবেদনের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ফি মিলিয়ে সাধারণত প্রায় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারত, যদিও আবেদন ও নিয়োগকর্তার ধরন অনুযায়ী অঙ্ক ভিন্ন হতে পারে। নতুন ফি সেই ব্যয়কে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। এই ফি নিয়ে আইনি বিতর্কের একটি বড় বিষয় হলো, প্রেসিডেন্ট এককভাবে এমন ফি নির্ধারণ করতে পারেন কি না। ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আইনের অধীনে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে এই ব্যবস্থা নিয়েছিল। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, H-1B কর্মসূচির অপব্যবহার হয়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের জায়গা নিয়েছে। অন্যদিকে মামলাকারী সংগঠনগুলোর বক্তব্য, এত বড় অঙ্কের ফি আরোপের আগে প্রশাসনকে নির্ধারিত নিয়ম প্রণয়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতো। বুধবারের রায়ে বিচারক গিলিয়াম মূলত এই প্রক্রিয়াগত বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। অর্থাৎ আদালতের বর্তমান নির্দেশটি H-1B কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা বা বিদেশি কর্মী নিয়োগের নীতিগত প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। এদিকে ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে মামলা চলার মধ্যেই মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আগস্টে প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের একটি স্থায়ী ফি চালুর উদ্যোগ নেয়। সেটি চূড়ান্ত হলে নতুন করে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে ওই প্রস্তাবিত ফি নিয়ে সম্ভাব্য মামলা বর্তমান ১ লাখ ডলারের ফি সংক্রান্ত মামলাগুলোর তুলনায় ভিন্ন আইনি প্রশ্ন তৈরি করবে। ১ লাখ ডলারের ফি প্রথমে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল। পরে ট্রাম্প প্রশাসন সেটির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে নতুন H-1B আবেদনকারীদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বুধবারের আদালতের আদেশ সেই বর্ধিত সময়ের মধ্যে ফি বাস্তবায়নে নতুন বাধা তৈরি করল। H-1B হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী কর্মভিত্তিক ভিসা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মার্কিন নিয়োগকর্তারা বিশেষায়িত দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন এমন কাজে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারেন। প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষভাবে এই কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর সাধারণভাবে ৬৫ হাজার H-1B ভিসার মূল কোটা রয়েছে। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নত ডিগ্রি অর্জনকারী কর্মীদের জন্য আরও ২০ হাজার ভিসার সুযোগ থাকে। H-1B ভিসার মেয়াদ সাধারণত তিন বছর পর্যন্ত দেওয়া হয় এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তা আরও তিন বছর বাড়ানো যেতে পারে। ফলে এই কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা ও অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। H-1B ভিসায় বড় অঙ্কের ফি আরোপের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন আবেদনকারীদের যাচাই প্রক্রিয়াও আরও কঠোর করেছে। একই সঙ্গে উচ্চ দক্ষতা ও বেশি বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যে ভিসা বাছাইয়ের নতুন পদ্ধতির প্রস্তাবও করা হয়েছে। এদিকে মামলাটির বাদীপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ড আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির আইনজীবী স্টিভ ব্রেসলার বলেছেন, আদালতের সিদ্ধান্ত এমন একটি ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দিচ্ছে যা হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছিল। দেশটির বৃহত্তম ব্যবসায়ী সংগঠন ইউএস চেম্বার অব কমার্সও ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে আলাদা মামলা করেছে। ওই মামলায় নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংগঠনটি আপিল করছে। ফলে H-1B ফি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালতে একাধিক আইনি লড়াই চলমান রয়েছে। তবে বুধবারের রায়কে এই ফি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মামলার পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সংস্থাগুলোকে ১ লাখ ডলারের ফি বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের স্থায়ী ফি আলাদা আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজের জন্য H-1B কর্মসূচি ব্যবহার করে থাকেন। ফলে ভিসা ফি, আবেদন প্রক্রিয়া এবং আদালতের সিদ্ধান্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজা বিদেশি পেশাজীবী ও তাদের সম্ভাব্য নিয়োগকর্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রে খাবার না দিয়ে দুই কন্যাশিশুকে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার মা
যুক্তরাষ্ট্রের EB-1A ভিসায় গ্রিন কার্ড, যে ৫ ক্ষেত্রে যোগ্যতা থাকলে আবেদন করা যায়
যুক্তরাষ্ট্রে তিন বছরের কম সময়ে পিএইচডি, বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান নিভার সাফল্য
প্রেমের সম্পর্কের খোঁজে একটি এশিয়ান ডেটিং সাইট ব্যবহার করতে গিয়ে চীনা গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগে জড়িয়ে পড়েন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জন হ্যারল্ড রজার্স। পরে তার ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের হুমকিও দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত চীনের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ এবং ফেডারেল রিজার্ভের সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে তদন্তের মুখে পড়েন এই অর্থনীতিবিদ। চলতি বছরের জুলাইয়ে তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার দায়ে তাকে ৩৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রজার্সের বিরুদ্ধে প্রথমে অর্থনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তির ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে আদালতের বিচারে তিনি অর্থনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ থেকে খালাস পান। একই মামলায় ফেডারেল তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই তাকে ৩৮ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিচারক ড্যাবনি ফ্রিডরিখ তাকে আরও ১২ মাসের তত্ত্বাবধানে মুক্তির সাজা দিয়েছেন। মামলার নথি অনুযায়ী, রজার্স ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ফেডারেল রিজার্ভের আন্তর্জাতিক অর্থবিষয়ক বিভাগে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। এই পদে থাকার সময় তিনি মুদ্রানীতি, ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির আলোচনা এবং অন্যান্য অপ্রকাশ্য অর্থনৈতিক তথ্যের মতো সংবেদনশীল নথিতে প্রবেশাধিকার পেতেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বলেছে, এসব তথ্যের কিছু অংশ চীনা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছেছিল। রজার্সের চীনের সঙ্গে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র শুরু হয় ২০১৩ সালে। সাংহাইয়ে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব ডালাসের আয়োজিত একটি সম্মেলনে তার সঙ্গে হুমিন লি নামে এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। পরে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানায়, হুমিন লি আসলে চীনা গোয়েন্দা কর্মকর্তা জিন চুয়ানের ছদ্মনাম। ২০১৭ সালের দিকে তাদের যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয় এবং পরবর্তী সময়ে চীনে বিভিন্ন সাক্ষাৎ ও বৈঠকের মাধ্যমে রজার্সের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি রজার্সের ব্যক্তিগত জীবনও এই ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। সিএনবিসির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, নিজের সন্তানরা আলাদা হয়ে যাওয়ার পর একাকিত্বের সময়ে রজার্স এশিয়ান ডেটিং সাইটে যোগাযোগ শুরু করেন। সেখানে পরিচিত কয়েকজনের কাছে তিনি ব্যক্তিগত ছবি পাঠিয়েছিলেন। পরে ওই অনলাইন যোগাযোগের একটি অংশ ব্ল্যাকমেইলের দিকে গড়ায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই সময়ই হুমিন লি রজার্সের ব্যক্তিগত জীবনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। তিনি রজার্সের সঙ্গে পরিচিত চীনা নারী ইউ লিউ, যিনি ইউ ইউ নামেও পরিচিত, তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে সহায়তা করেন বলে তদন্তে উঠে আসে। ২০১৬ সালের দিকে একটি ডেটিং সাইটে রজার্সের সঙ্গে ইউ লিউর পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে লি তাদের চীনে দেখা করার ব্যবস্থা, ভ্রমণ এবং বিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে সহায়তা করেন বলে আদালতের নথি ও সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রজার্স ও ইউ লিউ ২০১৮ সালের মার্চে হংকংয়ে বিয়ে করেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রজার্স পরবর্তী সময়ে তদন্তকারীদের কাছে হুমিন লির প্রতি তার গভীর ব্যক্তিগত নির্ভরতার কথা জানিয়েছিলেন। বিচার বিভাগের নথিতে বলা হয়েছে, লির মাধ্যমে রজার্স তার নতুন স্ত্রী, চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার সুযোগ এবং আর্থিক সুবিধা পেয়েছিলেন। অন্যদিকে, রজার্সের পেশাগত অবস্থানও লির সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছিল বলে মার্কিন তদন্তকারীরা দাবি করেন। বিচার বিভাগের নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের পর রজার্স চীনে হুমিন লি ও তার সহযোগীদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠক করেন। এসব বৈঠক কখনো কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বা শিক্ষামূলক কার্যক্রমের আড়ালে হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এসব সাক্ষাতে ফেডারেল রিজার্ভের নির্দিষ্ট তথ্য সরবরাহ করা হয়েছিল। ২০১৮ সাল থেকে রজার্স ফেডারেল রিজার্ভের অর্থনৈতিক তথ্য, চীনের ওপর সম্ভাব্য শুল্কনীতি, গভর্নরদের জন্য তৈরি ব্রিফিং নথি এবং ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির বৈঠক ও সম্ভাব্য সিদ্ধান্তসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে নিজের ব্যক্তিগত ইমেইলে পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়। কিছু নথি চীনে যাওয়ার আগে তিনি প্রিন্ট করে নিয়েছিলেন বলেও মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব তথ্যের অর্থনৈতিক মূল্য ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বা মুদ্রানীতির সিদ্ধান্ত আগে থেকে জানা গেলে আর্থিক বাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় সুবিধা পাওয়া সম্ভব হতে পারে। বিচার বিভাগের নথিতে বলা হয়েছে, চীনের কাছে বিপুল পরিমাণ মার্কিন সরকারি ঋণ থাকায় এ ধরনের তথ্য দেশটির আর্থিক স্বার্থে ব্যবহারযোগ্য হতে পারে। এদিকে ব্যক্তিগত জীবনেও রজার্সের পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্ত্রী ইউ লিউর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর রজার্স আবার অনলাইনে পরিচিতি খুঁজতে শুরু করেন। ইনস্টাগ্রামে আকর্ষণীয় নারীদের ছবি ব্যবহার করা কিছু অ্যাকাউন্টের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন এবং নিজের ব্যক্তিগত ছবি পাঠান। পরে ওই অ্যাকাউন্টগুলোর পেছনে থাকা ব্যক্তিরা ছবিগুলো প্রকাশ করার এবং তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা শেষ পর্যন্ত ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তাদের নজরে আসে। ২০২০ সালে রজার্স নিজেই ফেড কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান। এরপর তার চীনা যোগাযোগ এবং ফেডের তথ্য বাইরে যাওয়ার বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তকারীরা তাকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, তিনি কখনো ফেডের নিয়ন্ত্রিত তথ্য প্রতিষ্ঠানের বাইরে কাউকে দিয়েছেন কি না। রজার্স তখন তা অস্বীকার করে বলেন, কখনো দেননি। পরবর্তী তদন্তে এই বক্তব্যকে মিথ্যা বলে দাবি করে প্রসিকিউশন। ২০২১ সালে রজার্স ফেডারেল রিজার্ভ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তিনি চীনের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে তিনি প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করে এফবিআই। বিচার বিভাগের সে সময়ের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, রজার্স চীনের সুবিধার্থে ফেডারেল রিজার্ভের বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান গোপন তথ্য সরবরাহের ষড়যন্ত্র করেছিলেন এবং তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। তবে অভিযোগপত্রের তথ্য সে সময় অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত ছিল। পরবর্তী বিচারে অর্থনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রজার্স খালাস পান। তবে তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। ২০২৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ফেডারেল জুরি তাকে ওই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করার পর জুলাইয়ে ৩৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রসিকিউটররা পাঁচ বছরের সাজা চেয়েছিলেন। মামলার শুনানিতে রজার্সকে হুমিন লিকে এখন কী হিসেবে দেখেন, তা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তাকে ‘গোয়েন্দা’ হিসেবে উল্লেখ করেন বলে সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। লির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তার বর্তমান মূল্যায়ন জানতে চাইলে তিনি নিজেকে প্রতারিত বা বিভ্রান্ত হয়েছেন বলে বর্ণনা করেন। তার আইনজীবী জোনাথন গিটলেন অবশ্য মামলায় আনা অভিযোগগুলো রজার্স অস্বীকার করছেন বলে জানিয়েছেন। মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, রজার্সের মামলাটি এফবিআইয়ের ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিস এবং ফেডারেল রিজার্ভের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় যৌথভাবে তদন্ত করেছে। বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মামলায় ফেডের অপ্রকাশ্য অর্থনৈতিক তথ্যের নিরাপত্তা এবং বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতার সম্ভাব্য ঝুঁকি সামনে এসেছে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, সিএনবিসি ও নিউইয়র্ক পোস্ট।
ওবামাকেয়ারের প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলার ফেরত, কারা পাবেন এই টাকা?
ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলায় উইসকনসিনের মসজিদ নেতাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের রায়
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের কলেজের জন্য টাকা জমিয়ে ট্যাক্স সুবিধা, ৫২৯ প্ল্যান কীভাবে কাজে আসবে?
ওয়াশিংটন ডিসিতে আক্রমণাত্মক মশা ও টিকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের অভিযান শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর করা এক নির্বাহী আদেশে ২০২৮ সালের মধ্যে নির্দিষ্ট প্রজাতির আক্রমণাত্মক মশার সংখ্যা ৯০ শতাংশ এবং টিকের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোগবাহী এসব কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিকের পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর ও অন্যান্য নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র, কৃষি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সাধারণ সেবা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ওয়াশিংটন ডিসির জন্য একটি সমন্বিত কর্মসূচি তৈরি ও বাস্তবায়ন করতে হবে। এই কর্মসূচির আওতায় এশিয়ান টাইগার মশা, মিশরীয় মশাসহ অন্যান্য আক্রমণাত্মক মশার সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি টিকের প্রজনন ও বিস্তারের জায়গাগুলোও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আদেশে মশা ও টিকের প্রজননস্থল কমাতে ঘাস ও আগাছা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশনের উন্নতি, বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাকৃতিক ও লক্ষ্যভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ইঁদুর ও হরিণের মতো কিছু প্রাণীর উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে, কারণ এগুলো টিকের বিস্তার এবং টিকবাহিত রোগের সংক্রমণে ভূমিকা রাখতে পারে। মশা নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী আদেশে স্টেরাইল ইনসেক্ট টেকনিক বা বন্ধ্যা পোকা প্রযুক্তির মতো পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের প্রযুক্তিতে নির্দিষ্ট কীটপতঙ্গের প্রজননক্ষমতা কমিয়ে ধীরে ধীরে তাদের সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করা হয়। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সহযোগিতামূলক চুক্তির মাধ্যমে এসব প্রযুক্তি কাজে লাগানোর কথাও বলা হয়েছে। টিক ও মশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এসব কীটপতঙ্গের মাধ্যমে ছড়ানো রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নতুন গবেষণা কর্মসূচি, পুরস্কারভিত্তিক উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে রোগবাহী কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রযুক্তি দ্রুত কাজে লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে। আলফা-গ্যাল সিনড্রোমের সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্যগুলোর লেবেলিং নিয়েও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বিকল্প ব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিনড্রোম সাধারণত টিকের কামড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুতর লাল মাংসে অ্যালার্জির সমস্যা। ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রাজ্যটির বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত ডেঙ্গুর ঘটনা বেড়েছে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে ছয়টি কাউন্টিতে স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত ১৯০টি ডেঙ্গু আক্রান্তের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে হিলসবোরো কাউন্টিতেই ১৭০টি। তিনটি কাউন্টি এ পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হিলসবোরো কাউন্টিতে পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছিল, কাউন্টিটিতে স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত ডেঙ্গুর ৫৯টি ঘটনা শনাক্ত হয়েছিল। আগস্টেও স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত ডেঙ্গুর নতুন ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর কাউন্টিতে মশাবাহিত রোগের সতর্কতা জারি ছিল। ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত সংক্রমিত এডিস প্রজাতির মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র, সিডিসি জানিয়েছে, দেশটির ৪৯টি মহাদেশীয় অঙ্গরাজ্যে শনাক্ত হওয়া অধিকাংশ ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তি বিদেশ ভ্রমণের সময় সংক্রমিত হন। তবে ফ্লোরিডাসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঘটনাও ঘটেছে। ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণের মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের একটি অংশ গুরুতর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন এবং এ অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে ডেঙ্গুর স্থানীয় সংক্রমণের ঝুঁকি সামগ্রিকভাবে সীমিত হলেও এডিস মশা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় পাওয়া যায়। সিডিসি জানিয়েছে, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াইয়ে অতীতে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু ছড়ানোর ঘটনা পাওয়া গেছে। ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশটি শুধু ওয়াশিংটন ডিসিতে মশা ও টিক কমানোর কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আদেশে ডিসিতে পরীক্ষিত নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিগুলো ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য এলাকায় আক্রমণাত্মক মশা ও টিক নিয়ন্ত্রণে মডেল হিসেবে ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। ফলে আগামী দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রে রোগবাহী কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তি ও পরিবেশভিত্তিক ব্যবস্থাপনার ব্যবহার আরও বাড়তে পারে। সূত্র: হোয়াইট হাউস, যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি), ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ ও নিউজউইক।
তরুণদের স্বপ্ন ও কমিউনিটির ঐক্যে আটলান্টায় ‘বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স’ এর যাত্রা শুরু
নভেম্বর ৩০ থেকেই ভিসার ফিতে বড় পরিবর্তন, দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ছে আবেদন খরচ