আমেরিকা

অরল্যান্ডো বাসস্টপে বৃদ্ধাকে গুলি: নিউইয়র্কে ধরা পড়া অভিযুক্ত আদালতে নির্দোষ দাবি

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ৮:৩৫
সংগৃহীত
সংগৃহীত

ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো শহরের একটি বাসস্টপে ৭০ বছর বয়সী এক নারীকে গুলি করার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ২৭ বছর বয়সী কেভিন আর্জেনিস মিলারেস আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে নির্দোষ দাবি করেছেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন এবং এর পরবর্তী শুনানির প্রস্তুতি চলছে। 

 

তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুন অরল্যান্ডোর আজালিয়া পার্ক এলাকায় প্রতিদিনের মতো হাঁটতে বের হওয়া ওই বৃদ্ধা একটি বাসস্টপের কাছে পৌঁছালে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তার পেছন থেকে পরপর তিনটি গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। ভুক্তভোগী পুলিশকে জানান, তিনি হামলাকারীকে চিনতেন না এবং কেন তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে, সে সম্পর্কেও তার কোনো ধারণা নেই।

 

ঘটনার পর আশপাশের বাড়ির নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা কেভিন মিলারেসকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেন। পুলিশ তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থলে পাওয়া গুলির খোসার সঙ্গে মিল রয়েছে এমন গোলাবারুদ এবং সন্দেহভাজনের পরিহিত পোশাকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ কিছু সামগ্রী উদ্ধার করে বলে জানায়। 

 

এরপর অভিযুক্ত ফ্লোরিডা ছেড়ে নিউইয়র্কে পালিয়ে যান। পরে U.S. Marshals Service তাকে নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি ফ্লোরিডায় প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।

 

প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনেছে। তবে আদালতে হাজির হয়ে মিলারেস অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় আদালত দোষী সাব্যস্ত না করা পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
লটারির ভাগ দিয়ে ওয়েট্রেসকে বানালেন মিলিয়নিয়ার
টিপের টাকা ছিল না, লটারির ভাগ দিয়ে ওয়েট্রেসকে বানালেন মিলিয়নিয়ার

একটি রেস্তোরাঁয় খাবার শেষে ওয়েট্রেসকে সাধারণ ক্যাশ টিপ না দিয়ে লটারির সম্ভাব্য পুরস্কারের অর্ধেক দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন নিউইয়র্কের এক পুলিশ কর্মকর্তা। তখন হয়তো কেউই ভাবেননি, সেই কথার মূল্য একদিন দাঁড়াবে ৩০ লাখ ডলার। লটারিতে ৬ মিলিয়ন ডলার জেতার পর নিজের দেওয়া কথা রেখেছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা রবার্ট কানিংহাম। ওয়েট্রেস ফিলিস পেনজোকে দিয়েছিলেন ঠিক অর্ধেক, ৩ মিলিয়ন ডলার।   ঘটনাটি ১৯৮৪ সালের মার্চের। নিউইয়র্কের ইয়ঙ্কার্সে স্যালস পিজারিয়ায় কাজ করতেন ফিলিস পেনজো। রেস্তোরাঁটির নিয়মিত গ্রাহক ছিলেন কাছের ডবস ফেরি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা রবার্ট কানিংহাম। তাদের পরিচয়ও ছিল দীর্ঘদিনের।   সেদিন কানিংহাম একটি লটারির টিকিটের জন্য নম্বর বাছাই করছিলেন। কথার একপর্যায়ে তিনি পেনজোকে ছয়টি নম্বরের মধ্যে তিনটি বেছে নিতে বলেন। বাকি তিনটি বেছে নেন তিনি নিজে। দুজনের মধ্যে কথা হয়, টিকিটে পুরস্কার এলে অর্থ সমানভাবে ভাগ করে নেবেন। পেনজোর জন্য সেই ভাগই হবে তার টিপ।   তাদের বেছে নেওয়া ছয়টি নম্বর ছিল ৭, ৯, ২১, ২৮, ২৯ ও ৪৩। সেই টিকিটই শেষ পর্যন্ত ৬ মিলিয়ন ডলারের জ্যাকপট জিতে নেয়।   এরপরই আসে গল্পের সবচেয়ে আলোচিত অংশ। টিকিটটি ছিল কানিংহামের কাছে। দুজনের মধ্যে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে কোনো লিখিত চুক্তিও ছিল না। তারপরও তিনি আগের কথার ব্যতিক্রম করেননি। ৬ মিলিয়ন ডলারের অর্ধেক, অর্থাৎ ৩ মিলিয়ন ডলার পেনজোকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   ঘটনার সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে কানিংহাম বলেছিলেন, পেনজো জানতেন তার কথার মূল্য আছে। অন্যদিকে রাতারাতি মিলিয়নিয়ার হয়ে যাওয়া পেনজো কানিংহামের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত উদার বলে বর্ণনা করেছিলেন।   আরও অবাক করার বিষয় হলো, বিপুল অর্থ পাওয়ার পরও পেনজো তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি ছেড়ে দেননি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই রেস্তোরাঁয় কাজ করছিলেন এবং পরিচিত গ্রাহকদের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।   এক দশক পর এই বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৯৪ সালে নির্মিত হয় হলিউড সিনেমা ‘ইট কুড হ্যাপেন টু ইউ’। নিকোলাস কেজ ও ব্রিজেট ফন্ডা অভিনীত সিনেমাটির মূল ধারণা কানিংহাম ও পেনজোর ঘটনা থেকে নেওয়া হলেও পর্দার অধিকাংশ কাহিনি ছিল কাল্পনিক।   বাস্তবে তাদের মধ্যে কোনো প্রেমের সম্পর্কের গল্প ছিল না। লটারি জয়ের সময় কানিংহাম ও পেনজো দুজনেই নিজ নিজ দাম্পত্য জীবনে ছিলেন। তাদের বাস্তব গল্পের কেন্দ্রবিন্দু ছিল একটি মৌখিক প্রতিশ্রুতি এবং সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা।   চার দশকেরও বেশি সময় পর ঘটনাটি এখনও আলোচনায় আসে মূলত একটি কারণে। সাধারণ একটি রেস্তোরাঁর টিপের জায়গায় করা কথার চুক্তি শেষ পর্যন্ত ওয়েট্রেসের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিতে পরিণত হয়েছিল। আর চাইলে সহজেই অস্বীকার করতে পারতেন এমন একটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে কানিংহাম ভাগ করে দিয়েছিলেন ৬ মিলিয়ন ডলারের জ্যাকপট।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ০:২৪
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে মোতায়েন রয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। ছবি: সংগৃহীত

টানা ৩৮ সপ্তাহ সাগরে ভাসমান মার্কিন রণতরী, খাবার ও মানসিক সংকটে ধুঁকছেন নৌসেনারা

৪০টি বৃত্তি নিয়ে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাচ্ছেন ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী আদেওলা আদেয়েমো। ছবি: সংগৃহীত

২০০টির বেশি স্কলারশিপে আবেদন করে ৪০টি পেলেন তরুণী, পড়বেন আইভি লিগের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে প্যাডলবোর্ডিং করার সময় পানিতে ডুবে মারা যান কৌশিক শর্মা। ছবি: সংগৃহীত

নিউ জার্সিতে পরিবারের সঙ্গে পিকনিকে গিয়ে লেকে ডুবে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির মৃত্যু

হ্যাম্পটনের মেডো লেনে একাধিক সম্পত্তি রয়েছে জুলিয়া কোচের। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারে জমি কিনে সন্তানদের জন্য বাড়ি বানাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী নারী জুলিয়া কোচ

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী নারী জুলিয়া কোচ নিউইয়র্কের হ্যাম্পটনে সন্তানদের জন্য একটি বড় পারিবারিক আবাসন গড়ে তুলছেন। এ উদ্দেশ্যে সাউদাম্পটনের অভিজাত মেডো লেনে ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারে নতুন একটি জমি কিনেছেন তিনি। পাশাপাশি আগে কেনা বাড়িগুলোতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের সংস্কারকাজও চলছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্স।   জুলিয়া কোচ প্রয়াত শিল্পপতি ডেভিড কোচের স্ত্রী। ২০১৯ সালের আগস্টে ৭৯ বছর বয়সে ডেভিড কোচ মারা যাওয়ার পর তাদের তিন সন্তানকে নিয়ে জুলিয়া কোচ পরিবারের বিপুল সম্পদের অন্যতম উত্তরাধিকারী হন। ফোর্বসের হিসাবে, ১৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত জুলিয়া কোচ ও তার পরিবারের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮১.২ বিলিয়ন ডলার।   হ্যাম্পটনের মেডো লেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। সাউদাম্পটনের সমুদ্রতীরবর্তী এই সড়কটি বিপুল সম্পদের মালিকদের আবাসস্থল হওয়ায় অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘বিলিয়নিয়ার লেন’ নামেও পরিচিত। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের হিসাবে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এই সড়কে প্রায় এক ডজন সম্পত্তি হাতবদল হয়েছে, যার সম্মিলিত মূল্য ২২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।   জুলিয়া কোচের এই এলাকায় আগে থেকেই একাধিক সম্পত্তি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কেনা ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারের জমিটি তার বিদ্যমান সম্পত্তিগুলোর সঙ্গে যুক্ত করে সন্তানদের জন্য একটি পারিবারিক কম্পাউন্ড তৈরির পরিকল্পনার অংশ বলে পেজ সিক্স জানিয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে মেডো লেনে একটি বড় বাড়ি কিনেছিলেন জুলিয়া কোচ। বাড়িটির তালিকাভুক্ত মূল্য ছিল ৭৫ মিলিয়ন ডলার। প্রায় ২২ হাজার বর্গফুটের এই টিউডর-ধাঁচের বাড়িতে ১৫টি শয়নকক্ষ রয়েছে। সম্পত্তিটির সঙ্গে প্রায় ৫০০ ফুট দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতও রয়েছে।   বাড়িটি কেনার সময় সেটি বেশ কিছুটা জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। এখন বাড়িটিকে আরও আধুনিক করে তোলার জন্য বড় ধরনের সংস্কারকাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে পেজ সিক্স জানিয়েছে, এই সংস্কারে কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। মেডো লেনে জুলিয়া কোচের আরেকটি বাড়িও রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১৮ মিলিয়ন ডলার। এই সড়কে আরও বেশ কয়েকজন ধনী ও পরিচিত ব্যক্তির সম্পত্তি রয়েছে। ফলে নতুন জমি কেনার মাধ্যমে ওই এলাকায় কোচ পরিবারের সম্পত্তির পরিমাণ আরও বাড়ল।   বিলাসবহুল সম্পত্তি সংস্কারের ক্ষেত্রে জুলিয়া কোচের আগ্রহ নতুন নয়। এর আগে নিউইয়র্কের আপার ইস্ট সাইডে তার ৪০ মিলিয়ন ডলারের টাউনহাউস সংস্কারের কাজে খ্যাতিমান নকশাবিদ পিটার মারিনোকে নিয়োগ করেছিলেন তিনি। পাম বিচের একটি ঐতিহাসিক সম্পত্তি সংরক্ষণ ও সংস্কারের কাজের জন্য ২০০৮ সালে তিনি ব্যালিঞ্জার অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছিলেন।   ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণত বেশ গোপনীয় জুলিয়া কোচ। সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাকে খুব বেশি দেখা যায় না। পেজ সিক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তাকে হ্যাম্পটনে ওয়াশিংটন পোস্টের উত্তরাধিকারী ল্যালি ওয়েমাউথের চতুর্থ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে দেখা যায়। পরদিন নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটের একটি অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। তার আগে ২০১৯ সালে স্বামী ডেভিড কোচের মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় তাকে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায়নি।   ডেভিড কোচের মৃত্যুর পর জুলিয়া কোচ ও তাদের তিন সন্তান কোচ পরিবারের ব্যবসায় বড় অংশীদারিত্বের মালিক হন। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, তারা কোচ ইনকরপোরেটেডের ৪২ শতাংশ অংশীদারিত্ব উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। কোচ পরিবারের এই ব্যবসায়িক সম্পদই জুলিয়া কোচের বিপুল সম্পদের মূল উৎস।   হ্যাম্পটনে সাম্প্রতিক এই বিনিয়োগ তাই শুধু একটি নতুন জমি কেনার ঘটনা নয়। একাধিক বাড়ি ও জমি একত্র করে সন্তানদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পারিবারিক আবাসন গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে পেজ সিক্স। একই সঙ্গে পুরোনো সম্পত্তিতে বড় অঙ্কের সংস্কারকাজ চালিয়ে সেগুলোকে আরও আধুনিক করে তোলা হচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২২:১৮
ডাকযোগে ভোট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ডাকযোগে ভোটকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বললেও ফ্লোরিডায় নিজেই সেই পদ্ধতিতে ভোট দিলেন ট্রাম্প

মেক্সিকোর নাগরিক মার্সেলো ভাসকেজ রেইনাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করেছে আইসিই। ছবি: সংগৃহীত

নিজের মেয়েকে যৌন নির্যাতনের দায়ে মেক্সিকান নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন সাবেক সেনাদের সহায়তায় খাবার, আবাসন ও যাতায়াত সুবিধা দেওয়া হবে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন সাবেক সেনাদের জন্য ২৯ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা, বিনা মূল্যে পাবেন খাবার, ফোন ও যাতায়াত সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ঝড় ও তীব্র গরমের পূর্বাভাস রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে ঝড়, আকস্মিক বন্যা ও তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস, ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় চলতি সপ্তাহে একসঙ্গে কয়েক ধরনের বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশটির মধ্যাঞ্চল থেকে পূর্ব উপকূল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় তীব্র বজ্রঝড়, ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা এবং বিপজ্জনক মাত্রার গরমের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।   যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহের মাঝামাঝি পর্যন্ত কয়েকটি অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চলের বড় একটি অংশে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি থাকতে পারে। ফলে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একদিকে ঝড় ও বন্যার ঝুঁকি, অন্যদিকে তাপজনিত অসুস্থতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলীয় সমতল এলাকা থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত একটি শীতল বায়ুপ্রবাহের সীমারেখার কারণে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ও বজ্রঝড় হতে পারে। কিছু এলাকায় ঝড়ের সঙ্গে শক্তিশালী বাতাস, ভারী বৃষ্টি এবং স্থানীয়ভাবে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ওহাইও উপত্যকা ও মধ্য অ্যাপালাচিয়ান অঞ্চলের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। টেনেসি উপত্যকা, ভার্জিনিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনার কিছু অংশেও শক্তিশালী বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব ঝড়ে ক্ষতিকর গতির বাতাসসহ বিভিন্ন ধরনের বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।   এদিকে উত্তরাঞ্চলের সমতল এলাকাগুলোতেও ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। নেব্রাস্কা, সাউথ ডাকোটা ও মিনেসোটার কিছু এলাকায় দফায় দফায় বজ্রঝড় হতে পারে। বায়ুমণ্ডলের অনুকূল পরিস্থিতির কারণে এসব ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি, শক্তিশালী বাতাস ও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবার আবহাওয়ার পরিস্থিতির প্রভাব মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে আরও বাড়তে পারে। দক্ষিণমুখী একটি শীতল বায়ুপ্রবাহ এবং মধ্যাঞ্চলে শক্তিশালী হওয়া আরেকটি আবহাওয়া ব্যবস্থা একে অপরের সঙ্গে মিলে নেব্রাস্কা ও কানসাস থেকে মিসিসিপি নদীর আশপাশ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় একাধিক দফায় বজ্রঝড় তৈরি করতে পারে। এতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।   গ্রেট লেকস অঞ্চলেও মঙ্গলবার নতুন করে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে রকি পর্বতমালা ও হাই প্লেইন্সের কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন বজ্রঝড় হতে পারে। বুধবারের দিকে ঝড়ের প্রবণতা আরও পূর্ব দিকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্য রকি অঞ্চল থেকে ওহাইও উপত্যকার কিছু অংশ পর্যন্ত অস্থিতিশীল আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। তবে শুধু ঝড়-বৃষ্টিই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে তীব্র গরমও বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকতে পারে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় মঙ্গলবার পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রার চাপ অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   কিছু এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙার পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের কিছু স্থানে রাতের তাপমাত্রা ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের আশপাশে বা তার ওপরে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দিনের গরম থেকে শরীরের স্বাভাবিকভাবে স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ কমে যায় এবং তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ে। তাপপ্রবাহের প্রভাব পশ্চিম দিকেও বিস্তৃত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয় তৈরি হলে ওই এলাকার পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলীয় সমতল এলাকাতেও অত্যন্ত গরম আবহাওয়া দেখা দিতে পারে। কিছু এলাকায় তাপমাত্রা স্থানীয় রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন।   সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও প্রবল ঝড়, ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইন্ডিয়ানা, ওহাইও, ইলিনয়, কেনটাকি ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ঝড় ও বন্যার ঘটনায় হতাহত এবং ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর স্থানীয় পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তার ওপর নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে বজ্রঝড়ের সময় বাইরে থাকা এড়িয়ে চলা, আকস্মিক বন্যার পানিতে প্রবেশ না করা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   তীব্র গরমের সময় অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের খোঁজ রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসকারীদের নিয়মিত স্থানীয় আবহাওয়ার খবর দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২১:১
অ্যামাজনের ডেলিভারি গাড়ির প্রতীকী ছবি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজনের ডেলিভারি ভ্যানে মৃত নারী চালকের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ

এআইয়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের চাপ বাড়ছে। ছবি:সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে বাড়ছে চাকরি ছাঁটাই

নিউইয়র্কের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ছবি:সংগৃহীত।

নিউইয়র্কের উৎপাদন খাতে বড় সুখবর, চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি

0 Comments