ফ্লোরিডায় এক নারীকে লক্ষ্য করে তিন ডেপুটির গুলি,সমালোচনার মুখে এক মাস পর প্রকাশ্যে বডিক্যাম ভিডিও
ফ্লোরিডার অরেঞ্জ কাউন্টির ড. ফিলিপস এলাকায় ছুরি হাতে এক নারীর সঙ্গে পুলিশের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনায় তিন ডেপুটির গুলিতে তার মৃত্যুর এক মাস পর বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ করেছে অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ডেপুটিদের একাধিক সতর্কবার্তার পরও ওই নারী ছুরি হাতে তাদের দিকে এগিয়ে গেলে গুলি চালানো হয়।
শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ জুন দুপুরে টিভোলি ড্রাইভ এলাকার একটি বাড়ি থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ডেপুটিরা। সেখানে তারা ৫৯ বছর বয়সী রোসালিয়া হজেসকে একটি বড় ছুরি হাতে বাড়ি থেকে বের হতে দেখেন।
প্রকাশিত বডিক্যাম ভিডিওতে দেখা যায়, ডেপুটিরা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বারবার তাকে ছুরি ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে তিনি সেই নির্দেশ অমান্য করেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য, একপর্যায়ে তিনি ডেপুটিদের উদ্দেশে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করেন। পরিস্থিতিকে তাৎক্ষণিক ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে তিনজন ডেপুটি একযোগে গুলি চালান।
গুলি লাগার পর ঘটনাস্থলেই ডেপুটিরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রাণঘাতী পুলিশি শক্তি ব্যবহারের ঘটনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে তাদের নীতিমালা অনুযায়ী বডিক্যাম ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট দেখতে পারেন।
ঘটনার পর গুলি চালানো তিন ডেপুটিকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে, যা এ ধরনের ঘটনার পর প্রচলিত প্রক্রিয়ার অংশ। একই সঙ্গে ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল এনফোর্সমেন্ট (FDLE) স্বাধীনভাবে ঘটনাটির তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হলে তা স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ে পাঠানো হবে এবং আইন অনুযায়ী ডেপুটিদের ব্যবহৃত প্রাণঘাতী শক্তি যৌক্তিক ছিল কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি গুলির ঘটনার ক্ষেত্রে বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জনস্বার্থ ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন গুরুত্ব পেয়ে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তের স্বার্থ বিবেচনায় নির্দিষ্ট সময় পর এসব ভিডিও প্রকাশের নীতি অনুসরণ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreরাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন আরও এক শিশুকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে সহায়তা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। নতুন এই পুনর্মিলনের মধ্য দিয়ে তার উদ্যোগে পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়া শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে। ১৭ আগস্ট হোয়াইট হাউস এ তথ্য জানিয়েছে। দীর্ঘদিন পর মা ও সন্তানের এই পুনর্মিলন নিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মেলানিয়া ট্রাম্প। তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকার পর একজন মায়ের সঙ্গে তার সন্তানকে পুনর্মিলিত করার চেয়ে শক্তিশালী আর কিছু নেই।” তবে নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে সর্বশেষ ফিরে আসা শিশুটির পরিচয়, বয়স কিংবা কী পরিস্থিতিতে সে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, সেই বিস্তারিত প্রকাশ করেনি হোয়াইট হাউস। মেলানিয়া ট্রাম্প জানিয়েছেন, এখানেই থামছে না তার উদ্যোগ। যুদ্ধের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া আরও শিশু ও পরিবারের পুনর্মিলন নিশ্চিত করতে তার প্রতিনিধি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই মানবিক উদ্যোগের শুরুটা হয়েছিল এক চিঠি দিয়ে। ২০২৫ সালের আগস্টে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি একটি চিঠি লিখেছিলেন মেলানিয়া ট্রাম্প। সেখানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিশুদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। আলাস্কায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের বৈঠকের সময় সেই চিঠি রুশ প্রেসিডেন্টের হাতে পৌঁছে দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরপর বিষয়টি শুধু চিঠিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইউক্রেন ও রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে ফার্স্ট লেডির কার্যালয়। ধারাবাহিক সেই প্রচেষ্টায় একের পর এক শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ৩০ জুলাইও ইউক্রেনীয় ও রুশ পাঁচ শিশুকে পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলিত করার কথা জানিয়েছিল হোয়াইট হাউস। আর সর্বশেষ আরও এক শিশুর ঘরে ফেরার মধ্য দিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগে এই সংখ্যা এখন ৩৪। তবে এই ৩৪ শিশুর গল্পের পেছনে রয়েছে আরও অনেক বড় এক মানবিক সংকট। ইউক্রেন সরকারের ‘চিলড্রেন অব ওয়ার’ তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ২০ হাজার ৬১০ ইউক্রেনীয় শিশুকে নির্বাসিত অথবা জোরপূর্বক স্থানান্তরিত হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৪৭০ শিশুকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের মার্চে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন জানায়, ইউক্রেনীয় শিশুদের রাশিয়ায় নির্বাসন ও জোরপূর্বক স্থানান্তরের ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এরও আগে ২০২৩ সালে ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চল থেকে শিশুদের বেআইনিভাবে নির্বাসন ও স্থানান্তরের অভিযোগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং রাশিয়ার শিশু অধিকারবিষয়ক কমিশনার মারিয়া লভোভা-বেলোভার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। রাশিয়া এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ইউক্রেন বলছে, দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া প্রতিটি শিশুকে ফিরিয়ে আনা তাদের অন্যতম প্রধান মানবিক দাবি। এজন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তাও চাইছে কিয়েভ। সেই বিশাল সংকটের তুলনায় ৩৪ সংখ্যাটি হয়তো খুবই ছোট। কিন্তু প্রতিটি সংখ্যার পেছনেই রয়েছে একটি শিশু, একটি পরিবার এবং দীর্ঘ অপেক্ষার একটি গল্প। আর সেই কারণেই মেলানিয়া ট্রাম্পের সর্বশেষ বার্তাটিও তাৎপর্যপূর্ণ - যুদ্ধের কূটনীতি যত কঠিনই হোক, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুদের ঘরে ফেরানোর প্রচেষ্টা থামছে না।
স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর মরদেহ পাশে বসিয়ে ৫ ঘণ্টা গাড়ি চালালেন স্বামী
কিম জং উনকে নিয়ে প্রশ্ন করতেই সিএনএন সাংবাদিককে ‘ফেক নিউজ’ বললেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
ক্যালিফোর্নিয়ার খরচে অতিষ্ঠ সিইও, কোম্পানির সদর দপ্তর সরালেন টেক্সাসে
একটি রেস্তোরাঁয় খাবার শেষে ওয়েট্রেসকে সাধারণ ক্যাশ টিপ না দিয়ে লটারির সম্ভাব্য পুরস্কারের অর্ধেক দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন নিউইয়র্কের এক পুলিশ কর্মকর্তা। তখন হয়তো কেউই ভাবেননি, সেই কথার মূল্য একদিন দাঁড়াবে ৩০ লাখ ডলার। লটারিতে ৬ মিলিয়ন ডলার জেতার পর নিজের দেওয়া কথা রেখেছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা রবার্ট কানিংহাম। ওয়েট্রেস ফিলিস পেনজোকে দিয়েছিলেন ঠিক অর্ধেক, ৩ মিলিয়ন ডলার। ঘটনাটি ১৯৮৪ সালের মার্চের। নিউইয়র্কের ইয়ঙ্কার্সে স্যালস পিজারিয়ায় কাজ করতেন ফিলিস পেনজো। রেস্তোরাঁটির নিয়মিত গ্রাহক ছিলেন কাছের ডবস ফেরি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা রবার্ট কানিংহাম। তাদের পরিচয়ও ছিল দীর্ঘদিনের। সেদিন কানিংহাম একটি লটারির টিকিটের জন্য নম্বর বাছাই করছিলেন। কথার একপর্যায়ে তিনি পেনজোকে ছয়টি নম্বরের মধ্যে তিনটি বেছে নিতে বলেন। বাকি তিনটি বেছে নেন তিনি নিজে। দুজনের মধ্যে কথা হয়, টিকিটে পুরস্কার এলে অর্থ সমানভাবে ভাগ করে নেবেন। পেনজোর জন্য সেই ভাগই হবে তার টিপ। তাদের বেছে নেওয়া ছয়টি নম্বর ছিল ৭, ৯, ২১, ২৮, ২৯ ও ৪৩। সেই টিকিটই শেষ পর্যন্ত ৬ মিলিয়ন ডলারের জ্যাকপট জিতে নেয়। এরপরই আসে গল্পের সবচেয়ে আলোচিত অংশ। টিকিটটি ছিল কানিংহামের কাছে। দুজনের মধ্যে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে কোনো লিখিত চুক্তিও ছিল না। তারপরও তিনি আগের কথার ব্যতিক্রম করেননি। ৬ মিলিয়ন ডলারের অর্ধেক, অর্থাৎ ৩ মিলিয়ন ডলার পেনজোকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ঘটনার সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে কানিংহাম বলেছিলেন, পেনজো জানতেন তার কথার মূল্য আছে। অন্যদিকে রাতারাতি মিলিয়নিয়ার হয়ে যাওয়া পেনজো কানিংহামের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত উদার বলে বর্ণনা করেছিলেন। আরও অবাক করার বিষয় হলো, বিপুল অর্থ পাওয়ার পরও পেনজো তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি ছেড়ে দেননি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই রেস্তোরাঁয় কাজ করছিলেন এবং পরিচিত গ্রাহকদের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। এক দশক পর এই বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৯৪ সালে নির্মিত হয় হলিউড সিনেমা ‘ইট কুড হ্যাপেন টু ইউ’। নিকোলাস কেজ ও ব্রিজেট ফন্ডা অভিনীত সিনেমাটির মূল ধারণা কানিংহাম ও পেনজোর ঘটনা থেকে নেওয়া হলেও পর্দার অধিকাংশ কাহিনি ছিল কাল্পনিক। বাস্তবে তাদের মধ্যে কোনো প্রেমের সম্পর্কের গল্প ছিল না। লটারি জয়ের সময় কানিংহাম ও পেনজো দুজনেই নিজ নিজ দাম্পত্য জীবনে ছিলেন। তাদের বাস্তব গল্পের কেন্দ্রবিন্দু ছিল একটি মৌখিক প্রতিশ্রুতি এবং সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা। চার দশকেরও বেশি সময় পর ঘটনাটি এখনও আলোচনায় আসে মূলত একটি কারণে। সাধারণ একটি রেস্তোরাঁর টিপের জায়গায় করা কথার চুক্তি শেষ পর্যন্ত ওয়েট্রেসের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিতে পরিণত হয়েছিল। আর চাইলে সহজেই অস্বীকার করতে পারতেন এমন একটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে কানিংহাম ভাগ করে দিয়েছিলেন ৬ মিলিয়ন ডলারের জ্যাকপট।
টানা ৩৮ সপ্তাহ সাগরে ভাসমান মার্কিন রণতরী, খাবার ও মানসিক সংকটে ধুঁকছেন নৌসেনারা
২০০টির বেশি স্কলারশিপে আবেদন করে ৪০টি পেলেন তরুণী, পড়বেন আইভি লিগের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে
নিউ জার্সিতে পরিবারের সঙ্গে পিকনিকে গিয়ে লেকে ডুবে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী নারী জুলিয়া কোচ নিউইয়র্কের হ্যাম্পটনে সন্তানদের জন্য একটি বড় পারিবারিক আবাসন গড়ে তুলছেন। এ উদ্দেশ্যে সাউদাম্পটনের অভিজাত মেডো লেনে ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারে নতুন একটি জমি কিনেছেন তিনি। পাশাপাশি আগে কেনা বাড়িগুলোতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের সংস্কারকাজও চলছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্স। জুলিয়া কোচ প্রয়াত শিল্পপতি ডেভিড কোচের স্ত্রী। ২০১৯ সালের আগস্টে ৭৯ বছর বয়সে ডেভিড কোচ মারা যাওয়ার পর তাদের তিন সন্তানকে নিয়ে জুলিয়া কোচ পরিবারের বিপুল সম্পদের অন্যতম উত্তরাধিকারী হন। ফোর্বসের হিসাবে, ১৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত জুলিয়া কোচ ও তার পরিবারের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮১.২ বিলিয়ন ডলার। হ্যাম্পটনের মেডো লেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। সাউদাম্পটনের সমুদ্রতীরবর্তী এই সড়কটি বিপুল সম্পদের মালিকদের আবাসস্থল হওয়ায় অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘বিলিয়নিয়ার লেন’ নামেও পরিচিত। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের হিসাবে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এই সড়কে প্রায় এক ডজন সম্পত্তি হাতবদল হয়েছে, যার সম্মিলিত মূল্য ২২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। জুলিয়া কোচের এই এলাকায় আগে থেকেই একাধিক সম্পত্তি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কেনা ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারের জমিটি তার বিদ্যমান সম্পত্তিগুলোর সঙ্গে যুক্ত করে সন্তানদের জন্য একটি পারিবারিক কম্পাউন্ড তৈরির পরিকল্পনার অংশ বলে পেজ সিক্স জানিয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে মেডো লেনে একটি বড় বাড়ি কিনেছিলেন জুলিয়া কোচ। বাড়িটির তালিকাভুক্ত মূল্য ছিল ৭৫ মিলিয়ন ডলার। প্রায় ২২ হাজার বর্গফুটের এই টিউডর-ধাঁচের বাড়িতে ১৫টি শয়নকক্ষ রয়েছে। সম্পত্তিটির সঙ্গে প্রায় ৫০০ ফুট দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতও রয়েছে। বাড়িটি কেনার সময় সেটি বেশ কিছুটা জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। এখন বাড়িটিকে আরও আধুনিক করে তোলার জন্য বড় ধরনের সংস্কারকাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে পেজ সিক্স জানিয়েছে, এই সংস্কারে কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। মেডো লেনে জুলিয়া কোচের আরেকটি বাড়িও রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১৮ মিলিয়ন ডলার। এই সড়কে আরও বেশ কয়েকজন ধনী ও পরিচিত ব্যক্তির সম্পত্তি রয়েছে। ফলে নতুন জমি কেনার মাধ্যমে ওই এলাকায় কোচ পরিবারের সম্পত্তির পরিমাণ আরও বাড়ল। বিলাসবহুল সম্পত্তি সংস্কারের ক্ষেত্রে জুলিয়া কোচের আগ্রহ নতুন নয়। এর আগে নিউইয়র্কের আপার ইস্ট সাইডে তার ৪০ মিলিয়ন ডলারের টাউনহাউস সংস্কারের কাজে খ্যাতিমান নকশাবিদ পিটার মারিনোকে নিয়োগ করেছিলেন তিনি। পাম বিচের একটি ঐতিহাসিক সম্পত্তি সংরক্ষণ ও সংস্কারের কাজের জন্য ২০০৮ সালে তিনি ব্যালিঞ্জার অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছিলেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণত বেশ গোপনীয় জুলিয়া কোচ। সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাকে খুব বেশি দেখা যায় না। পেজ সিক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তাকে হ্যাম্পটনে ওয়াশিংটন পোস্টের উত্তরাধিকারী ল্যালি ওয়েমাউথের চতুর্থ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে দেখা যায়। পরদিন নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটের একটি অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। তার আগে ২০১৯ সালে স্বামী ডেভিড কোচের মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় তাকে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায়নি। ডেভিড কোচের মৃত্যুর পর জুলিয়া কোচ ও তাদের তিন সন্তান কোচ পরিবারের ব্যবসায় বড় অংশীদারিত্বের মালিক হন। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, তারা কোচ ইনকরপোরেটেডের ৪২ শতাংশ অংশীদারিত্ব উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। কোচ পরিবারের এই ব্যবসায়িক সম্পদই জুলিয়া কোচের বিপুল সম্পদের মূল উৎস। হ্যাম্পটনে সাম্প্রতিক এই বিনিয়োগ তাই শুধু একটি নতুন জমি কেনার ঘটনা নয়। একাধিক বাড়ি ও জমি একত্র করে সন্তানদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পারিবারিক আবাসন গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে পেজ সিক্স। একই সঙ্গে পুরোনো সম্পত্তিতে বড় অঙ্কের সংস্কারকাজ চালিয়ে সেগুলোকে আরও আধুনিক করে তোলা হচ্ছে।
ডাকযোগে ভোটকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বললেও ফ্লোরিডায় নিজেই সেই পদ্ধতিতে ভোট দিলেন ট্রাম্প
নিজের মেয়েকে যৌন নির্যাতনের দায়ে মেক্সিকান নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র