ট্রাম্পের স্বাক্ষরযুক্ত ১০০ ডলারের নোটের ছবি প্রকাশ, নতুন করে আলোচনায় মার্কিন মুদ্রা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ১০০ ডলারের একটি নোটের ছবি প্রকাশ করেছেন, যেখানে তার স্বাক্ষর দেখা যায়। শুক্রবার প্রকাশিত ওই ছবি অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। অনেকেই জানতে চান, এটি কি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কাগুজে মুদ্রা, নাকি কেবল পরিকল্পনার একটি নমুনা।
ট্রাম্পের প্রকাশিত ছবিতে প্রচলিত ১০০ ডলারের নোটের নকশা অপরিবর্তিত থাকলেও স্বাক্ষরের স্থানে তার নাম দেখা যায়। ছবিটি প্রকাশের পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের কাছে জানতে চায়, এই স্বাক্ষরযুক্ত নোটের মুদ্রণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে কি না। তবে এ বিষয়ে ট্রেজারি বিভাগ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নতুন ঘোষণা দেয়নি।
এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছিল, দেশটির স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে কাগুজে মুদ্রায় একটি বিশেষ পরিবর্তন আনা হবে। সেই সময় জানানো হয়, প্রথমবারের মতো দায়িত্বে থাকা একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর নতুনভাবে ছাপানো কাগুজে মুদ্রায় যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও জনপরিসরে আলোচনা শুরু হয়।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ঘোষণায় বলা হয়েছিল, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্মারকধর্মী বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে নতুন স্বাক্ষর ব্যবহার করা হবে। তবে সেই সময়ও কোন মূল্যমানের নোটে, কখন থেকে এবং কত পরিমাণে নতুন স্বাক্ষরযুক্ত মুদ্রা বাজারে আসবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।
শুক্রবার ট্রাম্প যে ছবি প্রকাশ করেছেন, সেটি সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতার অংশ কি না, নাকি কেবল একটি প্রতীকী উপস্থাপনা—এ বিষয়েও এখনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে ছবিটি প্রকাশের পর সাধারণ মানুষের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে কাগুজে মুদ্রা ছাপানোর দায়িত্ব পালন করে ব্যুরো অব এনগ্রেভিং অ্যান্ড প্রিন্টিং। তবে মুদ্রার নকশা, স্বাক্ষর এবং অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ট্রেজারি বিভাগ। নতুন কোনো নোট প্রচলনে আনার আগে একাধিক প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। তাই কোনো পরিকল্পনা ঘোষণা করা হলেও তা বাস্তবে কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগা স্বাভাবিক।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত কাগুজে মুদ্রায় সাধারণত ট্রেজারি সচিব এবং ট্রেজারারের স্বাক্ষর থাকে। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণার পর এই প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে পরিবর্তনের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করলেও এর সঙ্গে আলাদা কোনো ব্যাখ্যা বা সরকারি ঘোষণা যুক্ত করেননি। ফলে ছবিটি প্রতীকী বার্তা, নাকি আসন্ন নতুন নোটের নমুনা—সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীকে ঘিরে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সরকার জাতীয় পর্যায়ে স্মারক অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে। কাগুজে মুদ্রায় পরিবর্তনের পরিকল্পনাও সেই বৃহত্তর কর্মসূচির একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবহারকারী এটিকে ভবিষ্যতের নতুন নোট বলে দাবি করলেও, কেউ কেউ এটিকে কেবল প্রদর্শনমূলক ছবি হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এ ধরনের কোনো দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন নোটের মুদ্রণ, বাজারে ছাড়া বা প্রচলনের সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কেও এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
ট্রাম্পের প্রকাশিত ছবির পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের কাগুজে মুদ্রায় এ ধরনের পরিবর্তন দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বাস্তবে নতুন নোট বাজারে না আসা পর্যন্ত ছবিটিকে আনুষ্ঠানিক প্রচলিত মুদ্রা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গ্রেটার ক্লিভল্যান্ড এলাকায় একটি হিন্দু মন্দিরে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে রিচমন্ড হাইটসের শ্রী স্বামীনারায়ণ ভাদতাল ধাম হিন্দু মন্দিরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। মাত্র কয়েক মুহূর্ত স্থায়ী এই হামলায় মন্দিরের জানালার কাচ চুরমার হয়ে যায়। হামলার সময় মন্দিরের ভেতরে পুরোহিত ও বেশ কয়েকজন পুণ্যার্থী উপস্থিত থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে উপাসনালয়ে এমন অপ্রত্যাশিত হামলায় স্থানীয় হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে চরম নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন (এইচএএফ) এবং কোয়ালিশন অব হিন্দুস অব নর্থ আমেরিকা (কোহনা) এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এইচএএফ ইতোমধ্যে বিষয়টি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং নাগরিক অধিকার সংস্থাগুলোকে অবহিত করে মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। এইচএএফ-এর নির্বাহী পরিচালক সুহাগ শুক্লা এই হামলাকে সম্ভাব্য 'বিদ্বেষমূলক অপরাধ' বা হেট ক্রাইম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, অনলাইনে হিন্দু আমেরিকানদের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিদ্বেষ কীভাবে বাস্তবে সহিংসতার রূপ নিতে পারে, এই হামলাই তার প্রমাণ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে স্থানীয় পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত হামলার পেছনের উদ্দেশ্য বা এটি ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবর মাসটি 'হিন্দু হেরিটেজ মান্থ' হিসেবে পালিত হয় এবং আর দুই সপ্তাহ পরেই শুরু হতে যাচ্ছে নবরাত্রি উৎসব। ঠিক এমন সময়ে হামলার এই ঘটনা স্থানীয় হিন্দু কমিউনিটির মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। কোহনা অবিলম্বে রিচমন্ড হাইটসের মেয়র এবং স্থানীয় পুলিশকে এই হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু মন্দিরগুলোতে হামলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২২ সালে কুইন্সের শ্রী তুলসী মন্দিরে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি ভাঙচুর, ২০২৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার নেওয়ার্কে এসএমভিএস শ্রী স্বামীনারায়ণ মন্দিরে বিদ্বেষমূলক গ্রাফিতি এবং ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ায় বাপস (BAPS) মন্দিরেও ভাঙচুর ও অবমাননাকর বার্তা লেখার ঘটনা ঘটেছিল। ধারাবাহিক এসব ঘটনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বুকে হিন্দু ধর্মীয় সাইটগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে জোরালো দাবি তুলেছে অধিকার সংগঠনগুলো।
হলিউডে কর্মীর মন খারাপ ভেবে কাছে গেলেন টম ক্রুজ, নেটদুনিয়ায় প্রশংসা
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এক বছরে ৮ হাজারের বেশি ধ র্ষণের অভিযোগ, শীর্ষে ইউনিভার্সিটি অব উটাহ
হ্যালোউইনে নিউইয়র্কের ১৬০ সড়ক গাড়িমুক্ত, শিশুদের জন্য থাকছে মিষ্টি, খেলাধুলা ও নানা বিনোদন
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সাম্প্রতিক এক প্রচারণামূলক বক্তৃতায় এলজিবিটিকিউ (LGBTQ) সম্প্রদায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে, ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সমকামীদের দেওয়া ‘গেইজ ফর প্যালেস্টাইন’ (Gays for Palestine) স্লোগানটিকে রীতিমতো উপহাসের ছলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমকামীদের সমর্থনের কোনো যৌক্তিকতা তিনি খুঁজে পান না। বিশ্বের ওই অংশে সমকামীদের প্রতি কেমন আচরণ করা হয়, সেদিকে ইঙ্গিত করে তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে প্রস্তাব দেন, সমকামীদের সেখানে আলোচনার জন্য পাঠানো উচিত। তিনি মন্তব্য করেন, "আমি আজ এটা দেখলাম এবং বললাম, একটু দাঁড়ান। গেইজ ফর প্যালেস্টাইন। আপনারা কি জানেন পৃথিবীর ওই অংশে সমকামীদের সঙ্গে তারা কী করে?! চলুন তাদের কোনো একদিন আলোচনার জন্য সেখানে পাঠাই। দেখবেন, তাদের আর কখনোই ফিরে পাওয়া যাবে না!" ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির আধিপত্য ধরে রাখতে তিনি বেশ কিছু আর্থিক প্রণোদনারও ঘোষণা দিয়েছেন। এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, মেডিকেয়ারের আওতাভুক্ত দুই কোটিরও বেশি আমেরিকানকে মাসিক প্রিমিয়ামের খরচ মেটাতে এককালীন ৯০ ডলার প্রদান। আগামী অক্টোবরের শুরুতেই এই অর্থ সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা চেকের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এর জন্য ‘মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড’ থেকে প্রায় ২০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’ (ACA)-এর আওতায় স্বাস্থ্য বীমা কেনা প্রায় দশ লাখ আমেরিকানকে অতিরিক্ত ফি ফেরত হিসেবে ৫০০ ডলার করে দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর বাইরে, রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ৫,০০০ ডলার করে দেওয়ার যে প্রস্তাব তিনি গত মাসে দিয়েছিলেন, তারও পুনরাবৃত্তি করেন এই বক্তৃতায়। তবে, অর্থনীতিবিদ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাঁর এই ৫,০০০ ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
বাতাসের তথ্য না জেনেই অবতরণ, মিয়ামিতে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত
ট্রাকে বহনযোগ্য ঘরেই মিলবে বিছানা-বাথরুম-রান্নাঘর, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন উদ্যোগ
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্যাং রেইপের অভিযোগ সামনে আনতে ভূমিকা রাখলেন মুসলিম শিক্ষার্থী সোফিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়ায় চতুর্থ পর্যায়ের কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আক্রান্ত চার সন্তানের বাবা কাইলার হেসের জন্য নিজের লিভারের অংশ দান করেছেন অ্যাবি কনলি নামের এক নারী। তাঁদের আগে ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাইলারের অসুস্থতার কথা জেনে ডোনার হওয়ার পরীক্ষা করান অ্যাবি। প্রতিস্থাপনের পর দুজনই সেরে উঠছেন বলে ৩০ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে পিপল। আইওয়ার পোল্ক সিটির বাসিন্দা কাইলারের ক্যানসার লিভারে ছড়িয়ে পড়েছিল। সিটি স্ক্যানে সেখানে ১৫টির বেশি টিউমার ধরা পড়ে। পরে মিনেসোটার রচেস্টারে চিকিৎসা নিতে যান তিনি। কয়েক মাসের চিকিৎসায় টিউমারগুলো ছোট হতে শুরু করলে লিভার প্রতিস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়। অ্যাবির সন্তান ও কাইলারের সন্তানরা একই স্কুলে পড়ে। অনলাইনে এই পরিবারের পরিস্থিতি অনুসরণ করছিলেন অ্যাবি। সাহায্য করার ইচ্ছা থেকে তিনি মায়ো ক্লিনিকে পরীক্ষা করান এবং ডোনার হিসেবে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হন। অ্যাবির নিজের পরিবারেও প্রতিস্থাপনের অপেক্ষার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর বাবা লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন এবং ২০২১ সালে মারা যান। বাবার সেই অভিজ্ঞতা কাইলারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে। ডোনার পাওয়া গেছে জানলেও শুরুতে তাঁর পরিচয় জানতেন না কাইলার ও তাঁর স্ত্রী এমিলি। এমিলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অজ্ঞাত দাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পরে অ্যাবি চিঠি দিয়ে নিজের পরিচয় প্রকাশ করেন। অস্ত্রোপচারের আগেই দুই পরিবারের মধ্যে যোগাযোগ হয়। পিপলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিস্থাপনের পর কাইলার ও অ্যাবি দুজনই সুস্থ হওয়ার পথে রয়েছেন। চিকিৎসার সময় থাকার খরচ মেটাতে হেস পরিবার তহবিল সংগ্রহও শুরু করেছে। মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, লিভার পুনরায় বেড়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে বলে সুস্থ জীবিত ব্যক্তি এর একটি অংশ দান করতে পারেন। তবে ডোনার ও গ্রহীতার উপযুক্ততা নির্ধারণে বিস্তারিত পরীক্ষা প্রয়োজন। কোলোরেক্টাল ক্যানসার লিভারে ছড়িয়ে পড়া কিছু নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপন বিবেচনা করা হয়। মায়ো ক্লিনিক জানিয়েছে, ক্যানসার শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়েছে কি না এবং প্রচলিত অস্ত্রোপচারে তা সরানো সম্ভব কি না, এসব বিষয় সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ। তাই কাইলারের প্রতিস্থাপনকে সম্পূর্ণ ক্যানসারমুক্ত হওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় গুলির আঘাতে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু, কিশোর সহ ৫ গ্রেফতার
বস্টনগামী বিমান ছয় আরোহীসহ নিখোঁজ, সমুদ্রে কোস্ট গার্ডের তল্লাশি