আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা উদযাপনের সময় স্পেনে ইসলামিক রিট্রিটে অংশ নিয়ে আলোচনায় রামা দুয়াজি

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ২১:৩০
স্পেনের মায়োর্কায় ইসলামিক আধ্যাত্মিক রিট্রিটে অংশ নিতে যান নিউইয়র্কের ফার্স্ট লেডি রামা দুয়াজি। ছবি: সংগৃহীত
স্পেনের মায়োর্কায় ইসলামিক আধ্যাত্মিক রিট্রিটে অংশ নিতে যান নিউইয়র্কের ফার্স্ট লেডি রামা দুয়াজি। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির স্ত্রী রামা দুয়াজি যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা উদযাপনের সময় স্পেনে একটি ইসলামিক আধ্যাত্মিক রিট্রিটে অংশ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী রাজনীতিক ও রক্ষণশীল মহলের সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

 

২৯ বছর বয়সী সিরীয়-আমেরিকান শিল্পী রামা দুয়াজিকে গত সোমবার নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্পেনের মায়োর্কা দ্বীপের উদ্দেশে রওনা হতে দেখা যায়। তিনি সেখানে দ্য উইমেনস স্যাংচুয়ারি আয়োজিত "প্ল্যান্টস অব দ্য কুরআন" শীর্ষক একটি ইসলামিক আধ্যাত্মিক ও সুস্থতা বিষয়ক রিট্রিটে অংশ নিচ্ছেন। এই কর্মসূচিতে তিনি শিল্পী-ইন-রেসিডেন্স এবং আয়োজকদের একজন হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।

 

আয়োজকদের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, কয়েক দিনের এই রিট্রিটে কুরআনে উল্লেখিত বিভিন্ন উদ্ভিদ, শিল্পচর্চা, উদ্ভিদবিষয়ক কর্মশালা এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য এর নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার। এরপর আগামী ৯ থেকে ১৪ জুলাই ফ্রান্সের কর্সিকায় "মেরি ইন দ্য কুরআন" শীর্ষক আরেকটি রিট্রিটেও সহ-আয়োজক হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে রামা দুয়াজির।

 

তার এই সফরের খবর প্রথম প্রকাশ করে নিউইয়র্ক পোস্ট। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রক্ষণশীল ভাষ্যকার অ্যারিন ওয়েক্সলার বিমানবন্দরে তোলা কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেন। তার দাবি, নিউইয়র্কবাসীকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়ার সময় মেয়রের স্ত্রী স্পেনে যাচ্ছিলেন।

 

ঘটনাটি নিয়ে নিউইয়র্কের কয়েকজন রিপাবলিকান সিটি কাউন্সিল সদস্যও সমালোচনা করেছেন। তাদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা উদযাপন দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ ছিল এবং সে সময় নিউইয়র্কের ফার্স্ট লেডির বিদেশ সফর হতাশাজনক।

তবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের কার্যালয় এ সমালোচনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। শুধু জানানো হয়েছে, সফরের সময় রামা দুয়াজির সঙ্গে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের করদাতাদের অর্থায়নে পরিচালিত নিরাপত্তা দল ছিল না।

 

এদিকে রামা দুয়াজির অতীতের কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট নিয়েও আবার আলোচনা শুরু হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে তার পুরোনো কিছু পোস্ট সামনে আসে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি, সামরিক ভূমিকা এবং ইসরায়েলকে সমর্থনের সমালোচনা করা হয়েছিল। এসব পোস্ট নিয়ে বিতর্কের পর তিনি সেগুলোর অনেকগুলোর জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন।

 

মেয়র জোহরান মামদানি এর আগে বলেছেন, তার স্ত্রী প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে নেই। তাই ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পুরোনো পোস্ট বা ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে রাজনৈতিকভাবে মূল্যায়ন করা উচিত নয়।

 

অন্যদিকে, রামা দুয়াজি স্পেনে অবস্থান করলেও মেয়র জোহরান মামদানি নিউইয়র্কেই ছিলেন। তিনি স্বাধীনতার ২৫০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এর মধ্যে গভর্নরস আইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সেইল৪থ ২৫০ ইন্টারন্যাশনাল প্যারেড অব সেইল এবং এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের আলোকসজ্জা অনুষ্ঠানও ছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
জুনের শেষ পাঁচ দিনে আইসিই দেশজুড়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। ছবি: সংগৃহীত
৫ দিনে আইসিইর হাতে ১০ হাজার গ্রেপ্তার, যুক্তরাষ্ট্রে জোরালো হলো ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযান

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। জুনের শেষ পাঁচ দিনে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) প্রায় ১০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। এতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে মনে করা হচ্ছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, এই তথ্য এমন একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে পাওয়া গেছে, যিনি প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। আইসিই সাধারণত নিয়মিত গ্রেপ্তারের বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন বড় শহরে প্রচারমুখী অভিযান চালানোর পরিবর্তে তুলনামূলক নীরব কৌশলে দেশজুড়ে অভিবাসন অভিযান পরিচালনা করছে। তবে কৌশল বদলালেও গ্রেপ্তারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।   ২৬ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পাঁচ দিনে হওয়া এই ১০ হাজার গ্রেপ্তারের মধ্যে ঠিক কোন অঙ্গরাজ্য বা শহরে কতজনকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস প্রথম এ তথ্য প্রকাশ করে, পরে তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও নিশ্চিত করে।   যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবৈধভাবে অবস্থানকারী অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে। বিভাগটি বলেছে, হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, শিশু যৌন নির্যাতন, গ্যাং অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।   এদিকে জুন মাসে আইসিইর আটককেন্দ্রগুলোতে থাকা অভিবাসীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুনে আইসিইর হেফাজতে থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৯ হাজারে পৌঁছেছে। ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত এই সংখ্যা মাসে গড়ে প্রায় ৩০ হাজারের মধ্যে ছিল।   ইউসি বার্কলির ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্ট-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার গ্রেপ্তার সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে সর্বোচ্চ গড় ছিল প্রতিদিন ১ হাজার ২৮৩টি গ্রেপ্তার। জানুয়ারিতে দেশজুড়ে গড়ে ১ হাজার ২১২ জন এবং ফেব্রুয়ারিতে তা নেমে আসে ১ হাজার ৫৭ জনে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে মিনিয়াপোলিসে পরিচালিত উচ্চমাত্রার অভিবাসন অভিযানের সময় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসন সেই ধরনের বড় আকারের প্রকাশ্য অভিযান থেকে সরে এসে তুলনামূলক কম প্রচারমুখী কৌশল গ্রহণ করে। তবে নতুন নেতৃত্বের অধীনেও ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির মূল লক্ষ্য অপরিবর্তিত রয়েছে।   সাবেক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান ক্রিস্টি নোয়েমের বিদায়ের পর দায়িত্ব নেন মার্কওয়েন মুলিন। তিনি অভিবাসন অভিযানকে তুলনামূলক কম প্রচারমুখী করার ইঙ্গিত দিলেও ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিই বাস্তবায়ন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, জুনের শেষ দিকে গ্রেপ্তারের এই ঊর্ধ্বগতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন দেশজুড়ে আরও সমন্বিত ও ধারাবাহিকভাবে অভিবাসন আইন প্রয়োগে জোর দিচ্ছে। তবে আইসিই নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ না করায় আগের সময়ের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট তুলনা করা এখনও কঠিন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ২২:৯
মিসিসিপি উপকূলে মাছ ধরার পর ভিব্রিও ভালনিফিকাস ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হন স্টিভ উইলসন। ছবি: সংগৃহীত

মাছ ধরতে গিয়ে মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, হাঁটার ক্ষমতা হারালেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ব্যক্তি

ছবি: এফবিআই এর পরিচালক কাশ প্যাটেল (সংগ্রহীত)

যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরে ৬,৩০০ এর বেশি নিখোঁজ শিশু উদ্ধার, শিশুনির্যাতনবিরোধী অভিযানে শত শত অপরাধী গ্রেপ্তার - এফবিআই

স্পেনের মায়োর্কায় ইসলামিক আধ্যাত্মিক রিট্রিটে অংশ নিতে যান নিউইয়র্কের ফার্স্ট লেডি রামা দুয়াজি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা উদযাপনের সময় স্পেনে ইসলামিক রিট্রিটে অংশ নিয়ে আলোচনায় রামা দুয়াজি

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখার পর নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলে ব্যর্থ হয়ে এবার ‘বার্থ ট্যুরিজম’ দমনে কঠোর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (বার্থরাইট সিটিজেনশিপ) বাতিলের প্রচেষ্টা সুপ্রিম কোর্টে ব্যর্থ হওয়ার পর এবার তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাইয়ে দিতে বিদেশিদের দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে)। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ফেডারেল কৌঁসুলিদের।   সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ খারিজ করে দেয়। আদালতের রায় বহাল থাকার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিচার বিভাগ একটি স্মারক জারি করে দেশজুড়ে ফেডারেল কৌঁসুলিদের নির্দেশ দেয়, যাতে তারা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে বার্থ ট্যুরিজম-সংক্রান্ত জালিয়াতি ও প্রতারণার তদন্তকে অগ্রাধিকার দেন।   সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন ম্যাকডোনাল্ড স্মারকে বলেন, প্রতি বছর হাজারো বিদেশি ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং সেখানে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। বিচার বিভাগের ভাষ্য, এই ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা অপব্যবহার করা হচ্ছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে কোনো বিদেশি নাগরিকের দেশটিতে সন্তান জন্ম দেওয়া নিজেই অপরাধ নয়। অপরাধ তখনই ঘটে, যখন কেউ ভিসার আবেদন বা অভিবাসন সংক্রান্ত নথিতে ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করেন বা মিথ্যা তথ্য দেন। এ ধরনের ক্ষেত্রে ভিসা জালিয়াতি, অর্থপাচার, পরিচয় জালিয়াতি কিংবা আর্থিক প্রতারণার মতো আইনে মামলা করা যেতে পারে।   অন্তর্বর্তীকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, বিচার বিভাগের লক্ষ্য জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নয়, বরং আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে পরিচালিত বার্থ ট্যুরিজম নেটওয়ার্ক বন্ধ করা। তিনি জানান, এ কাজে বিচার বিভাগ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই) এবং এফবিআই যৌথভাবে কাজ করবে।   তবে এই উদ্যোগ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী অ্যান্ড্রু নিয়েটর মনে করেন, বিচার বিভাগের সীমিত জনবল ও সম্পদ রয়েছে। তার ভাষায়, যদি প্রসিকিউটরদের বড় অংশ অভিবাসন-সংক্রান্ত মামলায় ব্যস্ত রাখা হয়, তাহলে মাদক পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অপরাধের তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে।   এদিকে, গত মাসে প্রকাশিত পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মোট জন্মের ০ দশমিক ৩ শতাংশেরও কম বার্থ ট্যুরিজমের সঙ্গে সম্পর্কিত। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার শিশু এভাবে জন্ম নেয়। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রচলিত ধারণার বিপরীতে এসব জন্মের বড় অংশ হিস্পানিক, বিশেষ করে মেক্সিকান মায়েদের মাধ্যমে হয়েছে।   সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী মূলত দাসপ্রথা বিলুপ্তির পর মুক্তিপ্রাপ্ত দাসদের সন্তানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার জন্য ছিল, বিদেশি ধনীদের সন্তানদের জন্য নয়। তবে আদালত তার এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি এবং দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক নীতিই বহাল রেখেছে।   বিচার বিভাগের স্মারকে অতীতে বার্থ ট্যুরিজম পরিচালনাকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সফল বিচারের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিকদের অর্থের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছিল এবং কয়েকজন দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাদণ্ডও পেয়েছেন। তবে নতুন নির্দেশনার আওতায় মূল লক্ষ্য ব্যক্তি নাকি এ ধরনের ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, সে বিষয়ে বিচার বিভাগ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। শুধু বলা হয়েছে, যারা এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা বা এর প্রচার ও বাণিজ্যিক সুবিধা প্রদান করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ২০:৫৬
ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিরণ নেথা পাসুনুরি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ২ বছরের শিশুকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাবা গ্রেপ্তার

বারাক ওবামা ও তার মেয়ে I ছবি: সংগৃহীত

কন্যা মালিয়ার জন্মদিনে বারাক ওবামার আবেগঘন শুভেচ্ছা, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল বাবা-মেয়ের ছবি

চিকিৎসক I ছবি: সংগৃহীত

১৩ বছরের কিশোরীর হার্টের ভালভ উল্টো বসানোর অভিযোগ, ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের মামলা

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
স্বামীর মৃত্যুর শোক কাটার আগেই প্রাণ গেল দুই সন্তানের মায়ের, অপহরণের পর হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনায় দায়িত্ব পালনকালে ব্র্যান্ডি রেনল্ডস নামের এক নারী ডাককর্মীকে অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মাত্র কয়েক মাস আগেই এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি তার স্বামীকে হারিয়েছিলেন।   নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন জানিয়েছে, শুক্রবার ইউনাইটেড স্টেটস পোস্টাল সার্ভিসের (ইউএসপিএস) এই কর্মী নিজের নির্ধারিত রুটে চিঠি বিলি করার সময় অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। শার্লট অবজার্ভারের হাতে আসা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুযায়ী, হত্যার আগে দুই সন্তানের এই জননীকে বেঁধে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে উইলকস কাউন্টি শেরিফ অফিসের ডেপুটিরা হেইস এলাকার ৩০৪ মন্টিথ একরস থেকে তার প্রাণহীন মৃতদেহ উদ্ধার করেন।   এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উইলিয়াম ক্রেইগ ডারহাম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরোয়ানা অনুযায়ী, ভুক্তভোগীর সম্মতি ছাড়াই তাকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জামিন অযোগ্য অবস্থায় আটকে রাখার নির্দেশ দেন। তবে অভিযুক্ত ডারহামের সঙ্গে নিহত ব্র্যান্ডির কোনো পূর্বপরিচয় ছিল কি না বা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে ঠিক কী উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি তদন্তকারী কর্মকর্তারা।   পারিবারিক জীবনে ব্র্যান্ডি ছিলেন দুই কন্যাসন্তানের মমতাময়ী মা। গত ফেব্রুয়ারিতে ফেসবুকে সন্তানদের সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছিলেন, তার সন্তানেরাই তার বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো, এর মাত্র কয়েক মাস আগে ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর ব্র্যান্ডির স্বামী ব্রেন্ট এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।   উইলকস কাউন্টিতে ট্রাক চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছে ধাক্কা লাগলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। স্বামী হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ব্র্যান্ডির এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইউএসপিএস কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১৯:৮
ক্যালিফোর্নিয়ার চিকিৎসক ডা. ভায়োলেটা মাইলিয়ান I ছবি: সংগৃহীত

রোগী না দেখিয়েই বিল, ৪৫ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতিতে ক্যালিফোর্নিয়ার চিকিৎসক দোষী সাব্যস্ত

১৮তম বারের মতো চ্যাম্পিয়ন জোয়ি চেস্টনাট I ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ১০ মিনিটে ৬৬টি হট ডগ, ১৮তম বারের মতো চ্যাম্পিয়ন জোয়ি চেস্টনাট

৩৫ মিলিয়ন ডলারের রাজপ্রাসাদ কিনলেন মাত্র ১০ ডলারে I ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

৩৫ মিলিয়ন ডলারের রাজপ্রাসাদ কিনলেন মাত্র ১০ ডলারে, তোলপাড় নিউ জার্সি

0 Comments