সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

স্ন্যাপচ্যাটে ১৪ বছরের ছাত্রকে নগ্ন ছবি পাঠিয়ে কারাদণ্ডিত ইন্ডিয়ানার সাবস্টিটিউট শিক্ষিকা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ১৭:১৭
সাউথ ডিয়ারবর্ন কমিউনিটি স্কুল কর্পোরেশন
সাউথ ডিয়ারবর্ন কমিউনিটি স্কুল কর্পোরেশন

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ডিয়ারবর্ন কাউন্টিতে ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রকে নগ্ন ছবি পাঠানো এবং অনৈতিক সম্পর্ক গড়ার দায়ে ক্যাসিডি কার্টার (২১) নামের এক সাবেক সাবস্টিটিউট শিক্ষিকাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে নেওয়ার পর বিচারক এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, সাউথ ডিয়ারবর্ন কমিউনিটি স্কুল কর্পোরেশনে সাবস্টিটিউট শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত অবস্থায় ওই মিডল স্কুলের ছাত্রের সঙ্গে স্ন্যাপচ্যাটে যুক্ত হন কার্টার। নভেম্বর মাসের শুরুর দিক থেকে তাদের মধ্যে এই অনলাইন সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, কার্টার প্রায়ই গোসলের পর গভীর রাতে নিজের নগ্ন ছবি ওই ছাত্রকে পাঠাতেন। এমনকি মেসেজে তিনি ছাত্রটিকে ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বলেও জানাতেন।

 

একপর্যায়ে ওই ছাত্র নিজেই বিষয়টি স্কুল রিসোর্স অফিসারকে জানালে প্রধান শিক্ষককে অবহিত করা হয় এবং পুলিশি তদন্ত শুরু হয়। তদন্তকারীরা কার্টারের ফোন থেকে সেই আপত্তিজনক ছবি ও মেসেজগুলো উদ্ধার করেন। ডিয়ারবর্ন কাউন্টির প্রসিকিউটর লিন ডেডেন্স জানান, প্রাথমিকভাবে কার্টারের বিরুদ্ধে শিশু সলিসিটেশনের (প্রলোভন) মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় এবং আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করায় অভিযোগের ধারা পরিবর্তন করে এই সাজা দেওয়া হয়।

 

এই ঘটনাটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্কের পেশাদারিত্বের সীমা ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এ ধরনের অপরাধ রোধে স্কুলগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নজরদারি ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের সাবেক সিনেটর এবং মার্কিন রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ ন্যান্সি কাসেবাম
যুক্তরাষ্ট্রে নারী নেতৃত্বের পথপ্রদর্শক, প্রভাবশালী সিনেটর ন্যান্সি কাসেবাম আর নেই

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের সাবেক সিনেটর এবং মার্কিন রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ ন্যান্সি কাসেবাম বেকার ৯৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। গত শুক্রবার তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বলে শনিবার সিবিএস নিউজকে নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে বিল কাসেবাম। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে স্বামীর উত্তরাধিকার বা কোনো রাজনৈতিক ছায়া ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজ যোগ্যতায় সরাসরি সিনেটে নির্বাচিত হওয়া প্রথম নারী ছিলেন তিনি।   ১৯৭৮ সালে প্রথমবারের মতো মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত হয়ে টানা তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন ন্যান্সি। তিনি ছিলেন কানসাসের সাবেক গভর্নর এবং ১৯৩৬ সালে রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী আলফ ল্যান্ডনের মেয়ে। বাবার মতোই তিনি ছিলেন একজন মডারেট বা মধ্যপন্থি রিপাবলিকান।   নিজ দলের কট্টরপন্থিদের মতের বাইরে গিয়েও তিনি কানসাস এবং পুরো দেশের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কখনোই পিছপা হননি। নব্বইয়ের দশকে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আমলে 'অ্যাসল্ট ওয়েপন' বা প্রাণঘাতী অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ভোট দিয়ে তিনি ব্যাপক সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, যদিও এর জন্য তাকে কট্টরপন্থিদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল।   এছাড়া ১৯৯৬ সালে ম্যাসাচুসেটসের উদারপন্থি ডেমোক্র্যাট সিনেটর টেড কেনেডির সঙ্গে যৌথভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবিমা আইনও প্রণয়ন করেছিলেন তিনি।   ১৯৯৬ সালে সিনেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি টেনেসি অঙ্গরাজ্যের সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর হাওয়ার্ড বেকারকে বিয়ে করেন। মার্কিন সিনেটের ইতিহাসে দুজন সাবেক সিনেটরের মধ্যে বিয়ের ঘটনা সেটাই ছিল প্রথম। ২০০১ সালে স্বামী হাওয়ার্ড বেকার জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেলে ন্যান্সিও তার সঙ্গে চার বছর টোকিওতে কাটান।   রাজনৈতিক জীবনের শেষ দিকে এসে রিপাবলিকান দল ধীরে ধীরে অতি-রক্ষণশীল হয়ে উঠলে তিনি দলের অনেক নীতির সঙ্গে প্রকাশ্যে দ্বিমত পোষণ করেন। নিজের নীতিতে অটল থেকে তিনি কানসাসের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন দেন।   এমনকি ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনার পর তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসন করারও জোর দাবি জানিয়েছিলেন। ক্ষমতা বা আড়ম্বরের পেছনে না ছুটে সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত ন্যান্সি কাসেবাম যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৮:২৩
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বয়ফ্রেন্ডের হাতে খু ন ১৮ বছরের নারী ফুটবলার

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বয়ফ্রেন্ডের হাতে খু ন ১৮ বছরের নারী ফুটবলার, লা শ গুমে মায়ের সহায়তা

শিকাগোতে ওয়েন্ডিসের বার্গার খেয়ে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, ৯৩ হাজার ডলারের চিকিৎসা বিল নিয়ে মামলা

শিকাগোতে ওয়েন্ডিসের বার্গার খেয়ে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, ৯৩ হাজার ডলারের চিকিৎসা বিল নিয়ে মামলা

নিউইয়র্কে কর্মক্ষেত্রে ওজুর জায়গা না পেয়ে কিচেন সিঙ্কেই ওজু মুসলিম কর্মীর

নিউইয়র্কে কর্মক্ষেত্রে ওজুর জায়গা না পেয়ে কিচেন সিঙ্কেই ওজু মুসলিম কর্মীর, ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

নিউইয়র্কে ফ্রি বাসের প্রতিশ্রুতি অধরা, আপাতত ২০ শতাংশ গতি বাড়িয়ে যাত্রীদের সময় বাঁচাতে মামদানির উদ্যোগ
নিউইয়র্কে ফ্রি বাসের প্রতিশ্রুতি অধরা, আপাতত ২০ শতাংশ গতি বাড়িয়ে যাত্রীদের সময় বাঁচাতে মামদানির উদ্যোগ

নিউইয়র্ক সিটিতে বাসে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাত্রীদের আর কোনো ভাড়া গুনতে হবে না—নির্বাচনী প্রচারণায় মেয়র জোহরান মামদানির দেওয়া অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল এটি। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তার সেই বহুল আলোচিত 'ফ্রি বাস' বা বিনামূল্যের বাস পরিষেবা চালুর পরিকল্পনাটি এখনো বাস্তবায়নের পথে আটকে আছে।   তবে বাসের ভাড়া মওকুফ করার বিষয়টি বিলম্বিত হলেও, যাত্রীদের মূল্যবান সময় বাঁচাতে এবং বাস পরিষেবা উন্নত করতে বিশাল এক কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে বর্তমান সিটি প্রশাসন। সিটি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাস সম্পূর্ণ ফ্রি করার বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (এমটিএ) এবং অ্যালবানির স্টেট প্রশাসনের সঙ্গে তাদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।   এরই মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির অপারেশনস বিষয়ক ডেপুটি মেয়র জুলিয়া কারসন জানিয়েছেন, মামদানি প্রশাসনের মূল প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দ্রুতগতির বাস পরিষেবা নিশ্চিত করার কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এই লক্ষ্য পূরণে 'নেক্সট স্টপ: ফাস্ট বাসেস, বেটার সার্ভিস' শীর্ষক একটি নতুন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।   এই মেগা পরিকল্পনার আওতায় সিটির পাঁচ বরোর অন্তত ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ বাস করিডরে ব্যাপক কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হবে। প্রশাসন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে যে, এর মাধ্যমে বাসের গতি প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হবে, যা একজন যাত্রীর প্রতিটি যাত্রায় গড়ে অন্তত ছয় মিনিট সময় সাশ্রয় করবে।   এর পাশাপাশি সিটির ১৭০টিরও বেশি বাস রুটের সার্বিক উন্নয়ন, নতুন বাস লেন তৈরি, বাস স্টপগুলোর আধুনিকায়ন এবং যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এসব অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ শুরুও হয়ে গেছে।   তবে নিউইয়র্ক সিটির সব বাসের ভাড়া পুরোপুরি তুলে দেওয়ার বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে বেশ জটিল। কারণ বাস পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এমটিএ মূলত স্টেট নিয়ন্ত্রিত একটি সংস্থা। ফলে বাসের ভাড়া মওকুফ করতে হলে অ্যালবানির চূড়ান্ত অনুমোদন, বিপুল পরিমাণ প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং এমটিএ-এর পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা অপরিহার্য।   মামদানি প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে যে, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের আলোচনা চলমান রয়েছে। তবে ঠিক কবে নাগাদ নগরবাসী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাসে যাতায়াতের সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি বা দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি। তাই নিউইয়র্কবাসীর জন্য আপাতত বাস্তবতা হলো, সম্পূর্ণ ফ্রি বাসের জন্য তাদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে; তবে দ্রুতগতির বাসের যে প্রতিশ্রুতি প্রশাসন দিয়েছিল, সেটি ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে বেশ কিছুটা এগিয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৫:৩৬
মার্কিন সেনাবাহিনীতে যৌ ন নিপীড়নের শিকার ২০ হাজারের বেশি সদস্য, পেন্টাগনের রিপোর্টে উদ্বেগ I ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন সেনাবাহিনীতে যৌ ন নিপীড়নের শিকার ২০ হাজারের বেশি সদস্য, পেন্টাগনের রিপোর্টে উদ্বেগ

ইমিগ্রেশনে জালিয়াতি ঠেকাতে ১০০ মিলিয়ন ডলারের নতুন প্রযুক্তি আনছে ইউএসসিআইএস

ইমিগ্রেশনে জালিয়াতি ঠেকাতে ১০০ মিলিয়ন ডলারের নতুন প্রযুক্তি আনছে ইউএসসিআইএস

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে যোগ দিতে ভার্জিনিয়ার পথে নকীব খান ও প্রতীক হাসান। ছবি: সংগৃহীত

ভার্জিনিয়ার মেজবানে যোগ দিতে পথে নকীব খান ও প্রতীক হাসান, এয়ারপোর্টে অপেক্ষার ছবি ফেসবুকে

মার্কিন তালিকা থেকে বাদ পড়ার ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে পুনঃএকীভূত হওয়ার পথ সুগম হবে সিরিয়ার। ছবি: সংগৃহীত
সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

সিরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শনিবার সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটির ওপর থাকা বিস্তৃত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে সিরিয়ার পুনঃএকীভূত হওয়ার পথে থাকা বড় একটি আইনি বাধা দূর হতে পারে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র দ্য নিউ আরবকে জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর জুলাইয়ের সুপারিশের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রুবিওর মূল্যায়ন ছিল, তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও রাজনৈতিক শর্ত সিরিয়া পূরণ করেছে।   ১৯৭৯ সাল থেকে সিরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকায় রয়েছে। এই তালিকাভুক্তির কারণে দেশটির ওপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।    তালিকা থেকে বাদ পড়লে সিরিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবসা, বিনিয়োগ ও আর্থিক লেনদেন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। দেশটির দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কমিয়ে পুনর্গঠন ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফেরার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   তবে তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম বাদ গেলেই যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা একসঙ্গে উঠে যাবে না। বিভিন্ন আইন ও নির্বাহী আদেশের আওতায় থাকা পৃথক নিষেধাজ্ঞা এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা আলাদাভাবে বহাল থাকতে পারে।   সিরিয়াকে এখনো নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ ট্রাভেল অ্যাডভাইজরিতে সিরিয়ায় ভ্রমণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দেশটিতে সন্ত্রাসবাদ, সংঘাত, অপহরণ ও অন্যান্য নিরাপত্তাঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।    ফলে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সিরিয়ার জন্য বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও, দেশটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের পথে আরও কিছু বিধিনিষেধ ও চ্যালেঞ্জ রয়ে যাবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১২:১৪
যুক্তরাষ্ট্রে বাবার মৃত্যুর পর সেখানেই কম খরচে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছিলেন এক ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত

টাকা বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রেই বাবার শেষকৃত্য, চার বছর পর আফসোস ‘কেন তাকে দেশে নিয়ে যেতে পারলাম না’

যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রিই একমাত্র পথ নয়। ছবি: সংগৃহীত

৬ মাসে শেখা যায় এমন ১০ দক্ষতা, যা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে কাজে লাগতে পারে

নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা স্থগিত নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প প্রশাসন আপিল না করলে শিগগিরই শুরু হতে পারে ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেওয়া

0 Comments