যুক্তরাষ্ট্রে সাগরে ভাসমান নৌকায় বিড়ালের রাজত্ব, নেই কোনো মানুষ, রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তে পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের তকোমা এলাকার সমুদ্র উপকূলে ভেসে থাকা একটি পরিত্যক্ত নৌকা থেকে ৩০টিরও বেশি বিড়াল ও বিড়ালছানা উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ সময় ধরে নৌকায় অযত্নে আটকে থাকা এই প্রাণীদের খাবারের অভাব ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ থেকে মুক্ত করতে বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান চালায় স্থানীয় একাধিক সংস্থা। তবে নৌকাটি কে বা কারা সেখানে ফেলে গেছে এবং বিড়ালগুলো কীভাবে এলো, তা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।.
তকোমা পুলিশ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে ওয়েন বিচ সংলগ্ন পানিতে একটি পরিত্যক্ত নৌকা ভাসতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ বিভাগের বিশেষ ‘মেরিন সার্ভিসেস ইউনিট’ ঘটনাস্থলে গিয়ে নৌকাটি পরিদর্শন করে। নৌকার ভেতর প্রবেশ করে পুলিশ সদস্যরা প্রায় ৩০টির বেশি বিড়াল ও বিড়ালছানাকে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখেন।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তকোমা পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা জন করিয়া স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউজ ট্রাইবউন’-কে বলেন, পুরো দৃশ্যটি দেখে মনে হচ্ছিল জাপানি অ্যানিমেশন সিনেমা ‘স্টুডিও জিবলি’-র কোনো কাল্পনিক দৃশ্যপট। ভাসমান পুরো নৌকাটি যেন ছিল বিড়ালগুলোর নিজস্ব রাজ্য। তবে নৌকার ভেতরের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ। অনেক দিন ধরে কোনো মানুষের দেখা না মেলায় এবং ঠিকমতো খাবার না পাওয়ায় বিড়ালগুলো মারাত্মক অপুষ্টি ও আতঙ্কে ভুগছিল।
নৌকাটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন হওয়ায় উদ্ধার অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে কিছু আইনি জটিলতা তৈরি হয়। তকোমা অ্যানিমেল কন্ট্রোল কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে একটি বিশেষ তল্লাশি পরোয়ানা বা সার্চ ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করে। আইনি অনুমোদন পাওয়ার পর গত শুক্রবার সকালে মেরিন সার্ভিসেস ইউনিট, প্রাণী নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল নৌকায় উঠে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে নৌকায় থাকা প্রতিটি বিড়াল ও বিড়ালছানাকে নিরাপদে বের করে আনা হয়। পরে তাদের সার্বিক চিকিৎসা, পরিচর্যা ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করতে ‘তকোমা-পিয়ার্স কাউন্টি হিউম্যান সোসাইটি’-র আশ্রয়ে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, তারা তদন্ত চালিয়ে নৌকাটির প্রকৃত মালিকের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হলেও এখনো তাঁর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। কীভাবে এই প্রাণীরা পরিত্যক্ত নৌকায় এসে পৌঁছাল এবং মূল নাবিকদের পরিণতি কী হয়েছে, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পানিতে অস্বাভাবিক এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের নজর কাড়লে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনার অগ্রগতি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের প্রথম বাড়ি কেনার স্বপ্ন এখন আগের তুলনায় আরও দেরিতে পূরণ হচ্ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, অঙ্গরাজ্যটিতে অর্ধেক মানুষ প্রথমবারের মতো বাড়ির মালিক হতে পৌঁছে যাচ্ছেন ৪৭ বছর বয়সে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের বাকি অংশে একই মাইলফলক গড়ে অর্জিত হচ্ছে ৩৭ বছর বয়সে। অর্থাৎ, জাতীয় গড়ের তুলনায় ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের প্রায় এক দশক বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউট অব ক্যালিফোর্নিয়া (পিপিআইসি) প্রকাশিত সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন বয়সে বাড়ির মালিকানার প্রবণতা পর্যালোচনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১৫ বছর আগেও ক্যালিফোর্নিয়ায় অর্ধেক মানুষ ৩৯ বছর বয়সের মধ্যেই নিজেদের বাড়ির মালিক হয়ে যেতেন। এখন সেই গড় বয়স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ বছরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির মূল্য বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার, ডাউন পেমেন্টের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড়ের কঠিন বাস্তবতা এবং সীমিত আবাসন সরবরাহ এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩০ বছরের অধিকাংশ সময় এবং ৪০ বছরের বড় একটি অংশ পর্যন্ত ভাড়াটিয়ার সংখ্যা বাড়ির মালিকদের তুলনায় বেশি। ফলে অনেকেই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় ভাড়াবাসেই কাটাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বাড়ি কিনতে দেরি হওয়ার আরেকটি বড় প্রভাব পড়ছে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তায়। সাধারণত বাড়ির মূল্য বৃদ্ধি ও ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে যে সম্পদ বা ইকুইটি তৈরি হয়, তা গড়ে তুলতে মানুষের হাতে সময় কমে যাচ্ছে। এর ফলে অনেক ক্যালিফোর্নিয়াবাসী অবসর গ্রহণের বয়সেও গৃহঋণের কিস্তি পরিশোধ করে যাচ্ছেন। গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় সামগ্রিকভাবে বাড়ির মালিকানার হার ৫৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় হার ৬৬ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে শুধু নিউইয়র্কের হার আরও কম, যা ৫৪ শতাংশ। জাতিগত বৈষম্যের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শ্বেতাঙ্গ ও এশীয় বংশোদ্ভূত বাসিন্দারা তুলনামূলক কম বয়সে বাড়ির মালিক হতে পারলেও কৃষ্ণাঙ্গ এবং লাতিনো জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রথম বাড়ি কেনার গড় বয়স বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এশীয়দের মধ্যে বাড়ির মালিক হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে আগে দেখা যায়। শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গেও বাড়ির মালিকানার সম্পর্ক রয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। যাদের অন্তত স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে, তারা সাধারণত অন্যদের তুলনায় কম বয়সেই প্রথম বাড়ি কিনতে সক্ষম হন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্যালিফোর্নিয়ায় নীতিগত বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। চলতি শরতে ভোটারদের সামনে এমন একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে, যার লক্ষ্য প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতাদের ডাউন পেমেন্টে সহায়তা করা। পাশাপাশি নতুন আবাসন নির্মাণ বাড়ানো এবং যেসব পরিবার বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বড় বাধার মুখে পড়ছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তার বিষয়েও আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসন সংকট শুধু বাড়ি কেনার বিষয় নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদে পরিবারগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা, অবসর পরিকল্পনা এবং সম্পদ সৃষ্টির সক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। তাই ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসন সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের জন্য কার্যকর নীতিগত সহায়তা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিতর্কিত মন্তব্যে পরিবার থেকে বিতাড়িত মার্কিন তরুণ, এবার ৫জি টাওয়ারের বিরুদ্ধে মস্তিষ্ক বিকৃতির অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে সাগরে ভাসমান নৌকায় বিড়ালের রাজত্ব, নেই কোনো মানুষ, রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তে পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটায় নিজ সন্তানদের ওপর মায়ের হামলা: দুই শিশুর মৃত্যু ও একজন গুরুতর আহত
ফ্লোরিডার মায়ামি বিচের একটি ব্যস্ত মোড়ে মুখোমুখি হয়ে প্রায় এক মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে থাকে দুটি চালকবিহীন ওয়েমো গাড়ি। একই সময়ে মোড় নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে গাড়ি দুটি এমনভাবে আটকে যায় যে একটি গাড়ি রাস্তার একটি অংশ দখল করে ফেলে। এতে পেছনে তৈরি হয় যানজট, জমতে থাকে একের পর এক গাড়ি। শেষ পর্যন্ত একটি ওয়েমো এগিয়ে গিয়ে মোড় নেওয়ার পর অচলাবস্থার অবসান হয়। ঘটনাটির ভিডিওতে দেখা যায়, দুই চালকবিহীন গাড়ি মুখোমুখি অবস্থানে এসে থেমে আছে। দুটির কোনোটিই শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল না। সামনে থাকা গাড়িগুলোকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গাও ছিল না। ফলে কিছু সময়ের মধ্যেই ওই অবস্থানের পেছনে গাড়ির লাইন তৈরি হতে শুরু করে। মানুষ চালক হলে এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত একজন অন্যজনকে পথ ছেড়ে দিতে পারেন। কিন্তু চালকবিহীন গাড়ির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি নিতে হয় গাড়ির স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং সিস্টেমকে। নিরাপত্তার কারণে গাড়ি যদি অন্য যানবাহনের গতিপথ নিয়ে নিশ্চিত না হয়, তাহলে সেটি থেমে থাকতে পারে। মায়ামি বিচের এই ঘটনায়ও শেষ পর্যন্ত একটি গাড়ি আগে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ঘটনাটি দেখতে থাকা পথচারীদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়। একটি গাড়ি শেষ পর্যন্ত অচলাবস্থা ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত কয়েকজন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তবে ভিডিওতে দেখা এই নির্দিষ্ট পরিস্থিতির কারণ হিসেবে ওয়েমোর কোনো সফটওয়্যার ত্রুটি বা প্রযুক্তিগত সমস্যাকে দায়ী করার মতো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। মায়ামিতে ওয়েমোর চালকবিহীন গাড়ির যাত্রীসেবা শুরু হয় ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি। প্রথম দিকে সেবাটি সীমিতসংখ্যক যাত্রীর জন্য চালু ছিল এবং নির্দিষ্ট এলাকায় চলাচল করত। পরে ৫ মার্চ থেকে সেবার আওতা মায়ামি বিচ, সার্ফসাইড ও বাল হারবার পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়। তখন ওয়েমোর মায়ামি এলাকার সেবা প্রায় ১০০ বর্গমাইলজুড়ে বিস্তৃত হয়। এরপর ১৫ এপ্রিল থেকে মায়ামি ও অরল্যান্ডোতে ওয়েমোর সেবা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। একই সময় মায়ামিতে নির্বাচিত যাত্রীদের জন্য হাইওয়েতে চালকবিহীন গাড়ি চলাচলও শুরু হয়। মে মাসে মায়ামির সেবা এলাকায় আরও ৫০ বর্গমাইলের বেশি এলাকা যুক্ত করে ওয়েমো। অর্থাৎ, মায়ামিতে চালকবিহীন গাড়ির উপস্থিতি এখন আর ছোট পরিসরের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিদিনের যাতায়াতে এসব গাড়ির ব্যবহার বাড়ছে এবং ব্যস্ত শহরের রাস্তায় অন্যান্য গাড়ির সঙ্গে নিয়মিত চলাচল করছে। মায়ামি বিচের এই ঘটনা তাই শুধু দুটি গাড়ির কিছুক্ষণ আটকে থাকার দৃশ্য নয়। চালকবিহীন গাড়ি যখন একে অপরের মুখোমুখি হয় কিংবা একই সময়ে একই জায়গা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তখন তারা কীভাবে পরিস্থিতি সামলায় এবং সেই সিদ্ধান্তে আশপাশের যান চলাচলে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, সেটিও এখন স্বয়ংক্রিয় গাড়ি প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার অংশ হয়ে উঠছে। এ ঘটনায় কোনো সংঘর্ষ বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রায় এক মিনিটের এই অচলাবস্থায় পেছনে তৈরি হওয়া গাড়ির লাইন দেখিয়ে দিয়েছে, চালকবিহীন গাড়ির একটি ছোট সিদ্ধান্তহীনতাও ব্যস্ত শহরের রাস্তায় সাময়িকভাবে যান চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান জোরদার, জর্জিয়ায় ১,২০০-এর বেশি অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার
কলোরাডোর আকাশে রহস্যময় বস্তু, ট্রাম্পের আদেশের পরও প্রকাশ্যে আনছে না মার্কিন বিমানবাহিনী
ড্রাইভিংয়ের জন্য বাংলায় নলেজ টেস্ট দিতে চান? নিউইয়র্কের পাশাপাশি মিশিগানেও আছে এ সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে অবস্থিত সাফোক কাউন্টি প্রশাসন একটি ঐতিহাসিক আইনি মীমাংসার অংশ হিসেবে চালকদের প্রায় ৬০ মিলিয়ন বা ৬ কোটি ডলার ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি 'ক্লাস-অ্যাকশন' বা গণমামলার নিষ্পত্তিতে সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মূলত, লাল বাতি অমান্য করার কারণে করা মূল জরিমানার সাথে ৩০ ডলারের একটি 'অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ফি' বা প্রশাসনিক ফি যুক্ত করার অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আদালতের রায়ে অবৈধ বলে প্রমাণিত হয়। এই মীমাংসার ফলে ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ওই অবৈধ ফি প্রদানকারী চালকরা সর্বমোট ৫৭.৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন। সাবেক কাউন্টি এক্সিকিউটিভ স্টিভ বেলোনের প্রশাসনের সময় প্রতিটি রেড-লাইট টিকেটের সাথে এই অতিরিক্ত ফি চাপানো হয়েছিল। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিটি টিকেটের বিপরীতে চালকদের সর্বোচ্চ ৩৬ ডলার করে ফেরত দেওয়া হবে—যার মধ্যে ৩০ ডলার মূল প্রশাসনিক ফি এবং ৬ ডলার সুদ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। তবে মোট কতজন চালক এই অর্থ ফেরতের জন্য আবেদন করবেন, তার ওপর ভিত্তি করে জনপ্রতি প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ কিছুটা কমতেও পারে। বাদীপক্ষের আইনজীবী ক্রিস্টোফার ক্লেটন এই রায়কে একটি দীর্ঘ ও জটিল আইনি প্রক্রিয়ার 'দায়িত্বশীল ও ন্যায্য উপসংহার' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। চুক্তি অনুসারে, কাউন্টি প্রশাসন চালকদের ক্ষতিপূরণ বাবদ সর্বোচ্চ ৪৫ মিলিয়ন ডলার প্রদান করবে। এর বাইরে আনুষঙ্গিক প্রশাসনিক খরচ এবং আইনজীবীদের ফি বাবদ আরও ১২.৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে। যোগ্য চালকদের কাছে খুব শিগগিরই ডাকযোগে চিঠি বা ফ্লায়ার পাঠানো হবে, যেখানে উল্লেখ থাকবে কীভাবে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং ঠিক কী প্রক্রিয়ায় অর্থ ফেরতের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ২০২৪ সালে একটি আপিল আদালত এই ধরনের প্রশাসনিক ফি-কে অবৈধ ঘোষণা করে। এরপর বর্তমান কাউন্টি এক্সিকিউটিভ এড রোমেইন ওই বছরের ডিসেম্বরেই তার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম বছরের শেষে সাফোকের রেড-লাইট-ক্যামেরা প্রোগ্রামটি চিরতরে বন্ধ করে দেন। অন্যদিকে, পার্শ্ববর্তী নাসাউ কাউন্টিতেও ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি টিকেটের সাথে অবৈধভাবে ১০০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত ফি আদায় করা হতো। এর ফলে সেখানেও ৪০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের একটি মামলা চলছে, যা এড়াতে কাউন্টি প্রশাসন এখনও আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। গত অক্টোবরে এক বিতর্কিত রায়ে সেখানকার সুপ্রিম কোর্টের বিচারক টমাস রেডেমেক বলেছিলেন যে, নাসাউকে চালকদের টাকা ফেরত দিতে হবে না। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে চালকরা স্বেচ্ছায় জরিমানা দিয়েছেন, যদিও বাস্তবে জরিমানা না দিলে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি ছিল। বর্তমানে ওই রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল করা হয়েছে। তবে আপিল আদালতে সাফোকের পাশাপাশি হেরে যাওয়ার পর নাসাউ কাউন্টি বর্তমানে টিকেটে অতিরিক্ত ৪৫ ডলারের 'পাবলিক সেফটি ফি' এবং ৫৫ ডলারের 'ড্রাইভার রেসপন্সিবিলিটি ফি' আদায় বন্ধ করে কেবল মূল ৫০ ডলার জরিমানা ধার্য করছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার মহাসড়কে ৮,৬০০ গ্যালন জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, অল্পের জন্য বাঁচলেন চালকরা
নিউইয়র্কের সাবওয়ে লাইনে পড়ে বাবার শেষ বিদায়টুকুও জানাতে পারলেন না মার্কিন সেনাসদস্য