মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ৫ মিনিটের কলে ৮০ কর্মী ছাঁটাই! ভারতীয় পুরো টিমকে চাকরিচ্যুত
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি আর্থিক প্রযুক্তি কোম্পানির ভারতে থাকা প্রায় ৮০ কর্মীকে মাত্র পাঁচ মিনিটের একটি অনলাইন বৈঠকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভারতের এক কর্মীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের বরাত দিয়ে এ ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই একই বৈঠকে পুরো ভারতীয় গ্রাহকসেবা দলের কর্মীদের ছাঁটাইয়ের কথা জানানো হয়। তবে ঘটনার সব তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ওই কর্মীর বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন ভারতীয় কর্মীদের অফিসে না গিয়ে বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছিল। এর কারণ হিসেবে কর্মীদের জানানো হয়, বিষয়টি কোম্পানির কার্যক্রমসংক্রান্ত। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কাজ শুরু করার প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ করে পুরো দলের সদস্যদের একটি গুগল মিটে যোগ দিতে বলা হয়।
বৈঠক শুরু হওয়ার পর কর্মীদের জানানো হয়, ভারতের পুরো গ্রাহকসেবা দলের চাকরি শেষ করা হয়েছে। কর্মীর দাবি, মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই প্রায় ৮০ জনকে ছাঁটাইয়ের বিষয়টি জানানো হয়। এত অল্প সময়ের মধ্যে একসঙ্গে এত কর্মী চাকরি হারানোর ঘটনায় তারা হতবাক হয়ে পড়েন। চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থান খুঁজে পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা ওই কর্মী জানিয়েছেন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা এবং বহুজাতিক কোম্পানির ছাঁটাই প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে প্রায় ৮০ জন কর্মীকে একসঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত অনলাইন বৈঠকের মাধ্যমে চাকরি হারানোর কথা জানানোর অভিযোগটি ব্যবহারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মী আরও দাবি করেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে ভারতীয় দলের কাজের ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে কর্মীটির দাবি, ভারতীয় দলের সদস্যরা চাকরি ধরে রাখার জন্য নিয়মিত অতিরিক্ত পরিশ্রম করতেন। এ বিষয়ে কোম্পানির বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা কর্মীদের কাজের মূল্যায়নের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওই কর্মীর বক্তব্যের ভিত্তিতে কোম্পানিটির নাম যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্লুভাইন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ছোট ব্যবসার জন্য অনলাইন ব্যাংকিং এবং বিভিন্ন আর্থিক সেবা দিয়ে থাকে। তবে ছাঁটাইয়ের ঘটনায় কোম্পানির পক্ষ থেকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বা এর সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
ছাঁটাইয়ের পর কর্মীরা ক্ষতিপূরণ বা চাকরি হারানোর সুবিধা হিসেবে কী পাবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই কর্মীর বক্তব্য অনুযায়ী, সব কর্মীর জন্য একই ধরনের সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। তবে এ দাবিরও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রযুক্তি ও আর্থিক প্রযুক্তি খাতে বিশ্বজুড়ে কর্মী কমানোর প্রবণতা নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার কারণে বিভিন্ন ধরনের কাজের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ভারতের ওই দলের ছাঁটাইয়ের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে পুরো ঘটনাটির মূল ভিত্তি একজন কথিত সাবেক কর্মীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বর্ণনা। তাই প্রায় ৮০ কর্মীকে ছাঁটাই, ছাঁটাইয়ের কারণ, পাঁচ মিনিটের বৈঠক এবং চাকরি হারানোর পর কর্মীদের প্রাপ্য সুবিধা নিয়ে ওঠা দাবিগুলোকে নিশ্চিত তথ্যের বদলে অভিযোগ ও কর্মীর ব্যক্তিগত বর্ণনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু
ডিভি লটারি পুনরায় চালুর দাবিতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নতুন মামলা
ওয়ালমার্টে প্রতিদিন কেনাকাটা করেন লাখো মানুষ, সেই সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী বিশ্বের শীর্ষ ধনী যে নারী
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে ১৩ শিশুসহ একটি পরিবারকে উদ্ধারে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন আলাবামার এক ব্যক্তি ও তাঁর ১৩ বছর বয়সী ছেলে। আগুনে পরিবারের বাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেলেও সৌভাগ্যক্রমে কেউ শারীরিকভাবে আহত হয়নি। ঘটনাটি ঘটে জর্জিয়ার লায়ারলি এলাকায়। গত ২৬ অক্টোবরের দিকে সফটবল টুর্নামেন্ট থেকে ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আলাবামার বাসিন্দা কেইসি স্পার্কস। পথে তাঁর গাড়ির জিপিএস বারবার তাঁকে লায়ারলির দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। সেই পথেই হঠাৎ একটি বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখতে পান তিনি। বাড়িটির অবস্থা দেখে এক মুহূর্তও দেরি করেননি স্পার্কস। নিজের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে গাড়ি থামিয়ে আগুনের মধ্যে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে এগিয়ে যান। আরেকজন পথচারীও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন।বাড়ির একটি পাশের দরজা খোলা থাকায় তাঁরা ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। এরপর ঘুমিয়ে থাকা জেমস বার্ককে জাগিয়ে তোলেন এবং তাঁর স্ত্রী লারিটা বার্ক, তাঁদের ১২ দত্তক নেওয়া সন্তান ও ১০ বছর বয়সী এক নাতনিকে নিরাপদে বের করে আনতে সহায়তা করেন।পরিবারটির কয়েকজন শিশুর বিশেষ চাহিদা ও প্রতিবন্ধিতা ছিল। ফলে আগুনের মধ্যে সবাইকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন কাজ। স্পার্কস শুধু পরিবারটিকে বের করে আনতেই সাহায্য করেননি, দমকলকর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেও সহযোগিতা করেন। কিছুক্ষণ পর বাড়িটি ধসে পড়ে। আগুনে পরিবারের বাড়ির পাশাপাশি তিনটি গাড়িও ধ্বংস হয়ে যায়। দীর্ঘদিনের সংসার, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ব্যক্তিগত স্মৃতির অনেক কিছুই হারিয়ে যায় তাঁদের।পরিবারের সদস্য লারিটা বার্ক জানান, উদ্ধারকারীরা কয়েক মিনিট দেরিতে পৌঁছালে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারত। তাঁদের জীবন বাঁচাতে অপরিচিত মানুষদের এগিয়ে আসার ঘটনা পরিবারের কাছে অবিশ্বাস্য হয়ে উঠেছে। স্পার্কস মনে করেন, ওই পথে তাঁদের উপস্থিত হওয়া নিছক কাকতালীয় নয়। তাঁর বিশ্বাস, সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছাতেই তাঁরা সেদিন ওই বাড়ির সামনে পৌঁছেছিলেন।বার্ক পরিবার গত ১৫ বছরে ৫০০-র বেশি শিশুকে লালন-পালনে সহায়তা করেছে। নিজেদের সন্তানদের পাশাপাশি অন্য শিশুদেরও আশ্রয় ও যত্ন দেওয়ার ইতিহাস রয়েছে তাঁদের। অথচ এবার নিজেরাই হারিয়েছেন মাথা গোঁজার ঠাঁই। আগুনে সব হারানোর পর এখন তাঁদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এত বড় পরিবারের জন্য উপযুক্ত ভাড়া বাসা খুঁজে পাওয়া। পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে রাখার পাশাপাশি নতুন করে জীবন গুছিয়ে নিতে তাঁরা স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা চাইছেন।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে শুরু করেন। বার্ক পরিবারের এক আত্মীয়ের উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহও শুরু হয়। সোমবারের মধ্যে সেই তহবিলে ১১ হাজার ডলারের বেশি জমা পড়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।একটি ভুল জিপিএস নির্দেশনা শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছিল এক পরিবারের জীবন বাঁচানোর পথ। নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অপরিচিত মানুষের জন্য এগিয়ে আসা কেইসি স্পার্কস, তাঁর ছেলে এবং আরেক পথচারীর এই ভূমিকা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—বিপদের সময়ে মানবিকতা ও সাহসই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি।
আগুনে বাড়ি হারিয়ে থেমে গিয়েছিল উৎসব, প্রতিবেশীদের ভালোবাসায় আবার হাসলেন নারী
মেয়েকে বছরের পর বছর নির্যাতন, ৯ বছরের শিশুর মাকে ৪০ বছরের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পেতে নতুন বাধা, কর বকেয়া থাকলে বাড়তে পারে আবেদন বাতিলের ঝুঁকি
যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বড় আকারের কৃত্রিম স্তন, নারীদের পোশাক ও প্রসাধনী ব্যবহার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে আলোচনা। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন ম্যাট র্যাটলি। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট হিল্ডা’স কলেজে জীবরসায়নের খণ্ডকালীন অবৈতনিক শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কলেজটির শিক্ষক পরিচিতিতে তাঁর নাম রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি বড় আকারের কৃত্রিম স্তন, নিচু গলার পোশাক, লিপস্টিক ও নখে রং ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় কর্মস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। গত ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ‘আনক্যাপচার্ড’ জানায়, এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি পৃথক অভিযোগ জমা পড়েছিল। অভিযোগকারীদের মধ্যে একজন বর্তমান শিক্ষার্থীর অভিভাবক, তিনজন সাবেক শিক্ষার্থী এবং একজন সাধারণ নাগরিক রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সাবেক তিন শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে শিক্ষকের পোশাক ও আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তাঁদের বক্তব্য, শ্রেণিকক্ষের মতো পেশাগত পরিবেশে এ ধরনের উপস্থিতি নারী শিক্ষার্থীদের অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। তাঁরা কলেজের আচরণবিধি এবং যৌন হয়রানি-সংক্রান্ত নীতিমালার বিষয়টিও সামনে আনেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলেজের অধ্যক্ষ ডেম সারাহ স্প্রিংম্যান ২ জুন সাবেক শিক্ষার্থীদের চিঠির জবাব দেন। সেখানে তিনি আইনের মধ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং বৈষম্য, হয়রানি ও প্রতিশোধমূলক আচরণমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে কলেজের অঙ্গীকারের কথা জানান। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁদের উত্থাপিত নির্দিষ্ট প্রশ্নগুলোর সরাসরি উত্তর ওই জবাবে পাওয়া যায়নি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক মাইকেল বিগস বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং শিক্ষকতার পেশাগত মান বজায় রাখা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। তবে তাঁর বক্তব্য ব্যক্তিগত মতামত; এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের সিদ্ধান্ত নয়। এদিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, শিক্ষাদানের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের কাছ থেকে যথাযথ পেশাগত আচরণ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মান প্রত্যাশা করা হয়। কোনো শিক্ষার্থীর অভিযোগ থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় বা সংশ্লিষ্ট কলেজের নির্ধারিত অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি অনুসরণ করার সুযোগ রয়েছে। ব্যক্তিগত কর্মসংস্থানসংক্রান্ত বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সেন্ট হিল্ডা’স কলেজ ১৮৯৩ সালে নারীদের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ২০০৮ সাল থেকে কলেজটি পুরুষ শিক্ষার্থীদেরও ভর্তি করতে শুরু করে। ফলে নারী শিক্ষার ঐতিহাসিক পরিচয়ের সঙ্গে বর্তমান বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত তদন্তের ফলাফল বা আদালতের সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ম্যাট র্যাটলির বক্তব্যও এসব প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
ম্যানচেস্টার শহরের ৭৮ বছরের খাবার সরবরাহকারী বৃদ্ধের ভিডিও দেখে লাখ ডলার দিলেন অপরিচিত মানুষ
টেক্সাসে স্বেচ্ছাশ্রমে চাষাবাদ, সেই ফসলের আয়েই প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর কলেজের স্বপ্নপূরণ