আমেরিকা

চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের আগে বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে আটক ফ্লোরিডার আর্জেন্টাইন ফুটবলার

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৭:১৪
বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে আটক হওয়া মিয়ামি ইউনাইটেডের আর্জেন্টাইন ফুটবলার মাতিয়াস পোররাইন। ছবি:সংগৃহীত
বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে আটক হওয়া মিয়ামি ইউনাইটেডের আর্জেন্টাইন ফুটবলার মাতিয়াস পোররাইন। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল ম্যাচে দলের সঙ্গে যোগ দিতে যাওয়ার সময় অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) হাতে আটক হয়েছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার মাতিয়াস আলেহান্দ্রো পোররাইন। ফোর্ট লডারডেল বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়। তার দল মিয়ামি ইউনাইটেড এফসি তখন ক্যালিফোর্নিয়ায় জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছিল।

 

ঘটনাটি ঘটে ৬ আগস্ট। পোররাইন সতীর্থদের সঙ্গে ফোর্ট লডারডেল বিমানবন্দর থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্দেশে বিমানে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ও অভিবাসনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ করার পর আইসিই কর্মকর্তারা তাকে কয়েকটি প্রশ্ন করার কথা বলে আলাদা করে নেন। তাকে বলা হয়েছিল, অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ফিরে আসবেন। কিন্তু পরে সতীর্থরা জানতে পারেন, তাকে আর বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি এবং তিনি আইসিইর হেফাজতে রয়েছেন।

 

পোররাইনের পরিবার ও আইনজীবীর দাবি, তিনি সাত বছর আগে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তার বৈধ কাজের অনুমতি ছিল, ফ্লোরিডার পরিচয়পত্রও রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় ছিলেন। আইনজীবী রেজিনা বোর্হেস জানিয়েছেন, পোররাইন আটকের ঘটনায় ভীত হলেও শারীরিকভাবে ভালো আছেন। তার পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

 

তবে মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের একজন মুখপাত্র নিউজউইককে জানান, পোররাইন ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর আটলান্টা বিমানবন্দর দিয়ে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তাকে ছয় মাস থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সরকারের দাবি অনুযায়ী, তার অনুমোদিত থাকার সময় ২০২০ সালের ১১ মে শেষ হয়ে গেলেও তিনি দেশটিতে থেকে যান। এই অবস্থান থেকেই তাকে অভিবাসন আইনের আওতায় আটক করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

 

আইসিইর বক্তব্য অনুযায়ী, পোররাইনকে ৬ আগস্ট ফোর্ট লডারডেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়। তাকে অভিবাসন-সংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতে রাখা হবে এবং তিনি আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়ার সুযোগ পাবেন।

 

পোররাইন বর্তমানে মিয়ামি ইউনাইটেড এফসির মিডফিল্ডার। ক্লাবটির সরকারি তালিকাতেও তাকে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন ছিলেন এবং একাধিক ম্যাচে গোলও করেছেন।

 

মিয়ামি ইউনাইটেড চলতি মৌসুমে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছে। জুলাইয়ে দলটি পিনেলাস কাউন্টি ইউনাইটেডকে ৫-০ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফ্লোরিডা স্টেট চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর দলটি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যায়।

 

২০২৬ সালের ইউনাইটেড প্রিমিয়ার সকার লিগের বসন্ত মৌসুমের জাতীয় প্রতিযোগিতার সেমিফাইনাল ও ফাইনাল আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। মিয়ামি ইউনাইটেড জাতীয় পর্যায়ের শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিযোগিতায় ছিল।

 

পোররাইনের আটকের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক কঠোর অভিবাসন কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা না করেও অভ্যন্তরীণ একটি বিমানযাত্রার আগে একজন ক্রীড়াবিদকে আটক করার ঘটনা নিয়ে তার পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

 

পোররাইনের পরিবার বিষয়টি নিয়ে আর্জেন্টিনার কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সহায়তা চেয়েছে। আইনজীবীও আদালতে তার মুক্তির আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তার অভিবাসন মামলার চূড়ান্ত পরিণতি এখনো নির্ধারিত হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কের ৩১ লাখ অভিবাসী শহরের অর্থনীতি, শ্রমবাজার, ব্যবসা ও সেবাখাতে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান, গড়ে তুলছেন বহুজাতিক নগর সমাজ।
নিউইয়র্কের অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে ৩১ লাখ অভিবাসী

নিউইয়র্ক শহরের জনসংখ্যা, শ্রমবাজার ও অর্থনীতিতে অভিবাসীদের ভূমিকা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নগর কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে বিদেশে জন্মগ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩১ লাখে পৌঁছেছে। শহরের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৮ শতাংশ এবং কর্মশক্তির ৪৩ শতাংশই এই জনগোষ্ঠীর।   জুন ২০২৬ সালে প্রকাশিত ‘দ্য নিউয়েস্ট নিউইয়র্কার্স’ প্রতিবেদনে নিউইয়র্কের অভিবাসী জনগোষ্ঠীর আকার, বৈচিত্র্য এবং অর্থনৈতিক অবদানের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অভিবাসীরা কেবল শহরের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ নন; ব্যবসা-বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্যসেবা, আবাসন, পর্যটন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতেও তাদের ব্যাপক অংশগ্রহণ রয়েছে।   প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিউইয়র্কে বসবাসকারী বিদেশে জন্মগ্রহণকারীর সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় শহরের সম্মিলিত সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস, হিউস্টন, শিকাগো ও সান হোসে—এই চার শহরে থাকা বিদেশে জন্মগ্রহণকারী মানুষের মোট সংখ্যার তুলনায় নিউইয়র্কের সংখ্যা বেশি।   শহরের পাঁচ বরোর প্রায় সব এলাকাতেই অভিবাসী জনগোষ্ঠীর শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে কুইন্স ও ব্রুকলিনে বিদেশে জন্মগ্রহণকারী বাসিন্দার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ফ্লাশিং-মারে হিল, এলমহার্স্ট, করোনা, ইস্ট ফ্ল্যাটবুশ, গ্রেভসেন্ড ও ওয়াশিংটন হাইটসের মতো এলাকাগুলোতে বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের ঘনবসতি রয়েছে।   নিউইয়র্কের অভিবাসী সমাজের বৈচিত্র্যও প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উঠে এসেছে। চীন ও ডোমিনিকান রিপাবলিক শহরের বিদেশে জন্মগ্রহণকারী জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে। এরপর রয়েছে জ্যামাইকা ও মেক্সিকো। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। বিদেশে জন্মগ্রহণকারী সবচেয়ে বড় ১০টি জনগোষ্ঠীর তালিকায় বাংলাদেশ সপ্তম অবস্থানে রয়েছে।   অভিবাসীদের অর্থনৈতিক গুরুত্ব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায় কর্মক্ষেত্রে। নগর কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, নিউইয়র্কের মোট কর্মশক্তির ৪৩ শতাংশ বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। অর্থাৎ শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা ও সেবাখাতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক মানুষ অভিবাসী জনগোষ্ঠীর অংশ।   স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে তাদের উপস্থিতি বিশেষভাবে দৃশ্যমান। এ খাতে কর্মরত প্রায় ৫ লাখ ১৯ হাজার মানুষের মধ্যে ৪৪ শতাংশ বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। বিশেষ করে বাড়িভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে অভিবাসী কর্মীদের ওপর উল্লেখযোগ্য নির্ভরতা রয়েছে।   খাদ্য ও পানীয়, আবাসন এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট কাজেও অভিবাসীদের অংশগ্রহণ অনেক বেশি। এসব খাতে কর্মরতদের প্রায় প্রতি পাঁচজনের মধ্যে তিনজন বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। ফলে রেস্তোরাঁ, হোটেল, পর্যটনসেবা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নগরজীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে অভিবাসী শ্রমিকদের অবদান সরাসরি প্রতিফলিত হচ্ছে।   অভিবাসনের প্রভাব শুধু কর্মসংস্থান বা অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। নিউইয়র্কের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যেও এর বড় প্রভাব রয়েছে। শহরের প্রায় অর্ধেক বাসিন্দা নিজেদের বাড়িতে ইংরেজির পাশাপাশি অন্য কোনো ভাষা ব্যবহার করেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্কের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বাসিন্দা হয় নিজেরাই বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন, নয়তো অন্তত একজন অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তান। অর্থাৎ অভিবাসনের প্রভাব শহরের একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম নিউইয়র্কের সমাজ ও সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করছে।   নগর কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনটি নিউইয়র্কের অর্থনৈতিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে। বিপুলসংখ্যক অভিবাসী কর্মী বিভিন্ন খাতে কাজ করার পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা, ভোক্তা হিসেবে বাজারকে সক্রিয় রাখা এবং শহরের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করতেও ভূমিকা রাখছেন।   বিশ্লেষকদের কাছে এ পরিসংখ্যানের তাৎপর্য হলো নিউইয়র্কের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারকে অভিবাসী জনগোষ্ঠী থেকে আলাদা করে দেখা বাস্তবসম্মত নয়। শহরের জনসংখ্যা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা এবং সেবাব্যবস্থার সঙ্গে অভিবাসীদের অংশগ্রহণ গভীরভাবে যুক্ত। তাই নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ নগর অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামো বোঝার ক্ষেত্রেও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৮:১১
বিমান চালানোর প্রশিক্ষণের সময় ককপিটে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি; ছেলের অনুপ্রেরণায় পাইলট হওয়ার গল্পটি নতুন করে আলোচনায়। ছবি:সংগৃহীত

ছেলেকে মুগ্ধ করতে বিমান চালানো শিখেছিলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, দুই দশক পর পাইলট ম্যাডক্সও

বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে আটক হওয়া মিয়ামি ইউনাইটেডের আর্জেন্টাইন ফুটবলার মাতিয়াস পোররাইন। ছবি:সংগৃহীত

চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের আগে বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে আটক ফ্লোরিডার আর্জেন্টাইন ফুটবলার

পুলিশ কর্মকর্তা হাকিম ফারথিং।

মাতাল চালকের গাড়িচাপায় মৃত্যু, ২৪ বছর পরও হাকিমকে স্মরণ করে পুরস্কার দেয় মার্কিন পুলিশ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ছবি: সংগৃহীত
ক্ষতির আশঙ্কার কথা বলে হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা আলাদা দেওয়ার পরামর্শ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকা দেওয়ার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১০ আগস্ট তিনি একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, যেখানে একসঙ্গে একাধিক টিকা না দিয়ে আলাদা সময়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে হাম, মাম্পস ও রুবেলার সমন্বিত এমএমআর টিকা তিনটি পৃথক টিকায় ভাগ করে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের একটি বড় অংশ বলছেন, এই পরিবর্তনের পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই এবং এতে শিশুদের টিকাপ্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।   নতুন নির্দেশনায় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় শিশুদের বেশি টিকা দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিশুরা ৭২টি পর্যন্ত টিকার ডোজ পায় এবং একসঙ্গে একাধিক টিকা দেওয়া শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে “৭২টি জ্যাব” কথাটি মূলত পুরো শৈশব ও কৈশোরজুড়ে সুপারিশকৃত ডোজগুলো যোগ করে তৈরি একটি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত সংখ্যা; এটিকে একই সময়ে দেওয়া ৭২টি ইনজেকশন হিসেবে দেখা ঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকা সূচি বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী কয়েক বছর ধরে ধাপে ধাপে ভাগ করা থাকে।    ট্রাম্প একই বক্তব্যে নবজাতকদের হেপাটাইটিস বি টিকা দেওয়ারও বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, এই টিকা ১৪ বা ১৫ বছর বয়সে দেওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমান মার্কিন স্বাস্থ্য নির্দেশনায় বিষয়টি এত সরল নয়। ২০২৫ সালের শেষ দিকে নীতি পরিবর্তনের পর হেপাটাইটিস বি নেগেটিভ মায়ের সন্তানের ক্ষেত্রে জন্মের সময় টিকা দেওয়া হবে কি না, তা বাবা-মা ও চিকিৎসকের যৌথ সিদ্ধান্তের আওতায় আনা হয়েছে। তবে যেসব মায়ের হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ রয়েছে বা সংক্রমণের অবস্থা জানা নেই, তাদের নবজাতককে জন্মের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই হেপাটাইটিস বি টিকা দেওয়ার সুপারিশ বহাল রয়েছে।    এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন শিশুদের জন্য সর্বজনীনভাবে সুপারিশকৃত টিকার তালিকাও ছোট করেছে। আগে ১৭টি রোগের বিরুদ্ধে টিকা সবার জন্য সুপারিশ করা হলেও নতুন কাঠামোয় সেটি ১১টি মূল রোগে সীমিত করা হয়। ফ্লু, রোটাভাইরাস, হেপাটাইটিস এ ও বি এবং কিছু মেনিনজাইটিস টিকাকে ঝুঁকি বা চিকিৎসকের সঙ্গে যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দেওয়ার শ্রেণিতে নেওয়া হয়। এই পরিবর্তন নিয়ে আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসসহ একাধিক চিকিৎসক সংগঠন আপত্তি জানিয়েছে।    সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে এমএমআর টিকা নিয়ে। ট্রাম্প বলেছেন, হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা একসঙ্গে না দিয়ে তিনটি আলাদা টিকা হিসেবে পৃথক সময়ে দেওয়া উচিত। তিনি আরও দাবি করেন, একসঙ্গে দিলে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকতে পারে। কিন্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে হাম, মাম্পস ও রুবেলার পৃথক একক টিকা বাজারে সহজলভ্য নয়। নতুন নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে হলে নির্মাতাদের নতুন করে পৃথক টিকা উৎপাদনের প্রয়োজন হতে পারে।    ট্রাম্পের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো, তিনি একসঙ্গে দেওয়া টিকাকে “লেথাল” বা প্রাণঘাতী হওয়ার সম্ভাবনার সঙ্গে তুলনা করেছেন। এই দাবির পক্ষে প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এমএমআর টিকা ও অটিজমের মধ্যে সম্পর্ক থাকার পুরোনো দাবিটিও বহু গবেষণায় খণ্ডিত হয়েছে। যে গবেষণা থেকে প্রথম এই বিতর্ক ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছিল, সেটি পরে প্রত্যাহার করা হয় এবং গবেষণাটির তথ্য জালিয়াতির অভিযোগও প্রমাণিত হয়।    শিশুকে একই ভিজিটে একাধিক টিকা দেওয়ার বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় টিকাগুলো অযথা আলাদা আলাদা সময়ে দেওয়া হলে শিশুর পূর্ণ টিকা গ্রহণ শেষ হতে বেশি সময় লাগবে। সেই সময়ের ব্যবধানে তারা হাম, হুপিং কাশি বা অন্য টিকাপ্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকতে পারে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৬:২১
ঘরে বসেই দেখছেন সোশ্যাল সিকিউরিটির টেক্সট প্রতিটি। ছবি: সংগৃহীত

চাকরি করছেন যুক্তরাষ্ট্রে? যেভাবে দেখবেন আপনার নামে কত সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স জমা হয়েছে

বাংলাদেশি অধ্যাপক জাহিদ হাসান

কোয়ান্টাম ফিজিক্সে ইতিহাস গড়ে যুক্তরাষ্ট্রে নোবেলের আলোচনায় বাংলাদেশি অধ্যাপক জাহিদ হাসান

যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতার অর্থ সব উপকারভোগী একই দিনে পান না। জন্মতারিখ ও ভাতার ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত দিনে ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি টাকা সবার ব্যাংকে একই দিনে আসে না

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে শপথ নেওয়ার পর টড ব্লঁশ; ১০ আগস্ট ২০২৬, ওয়াশিংটন।
ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী টড ব্লঁশ যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে শপথ নিলেন আজ

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী টড ব্লঁশ সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে শপথ নিয়েছেন। একই সময়ে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের স্টাফ সেক্রেটারি উইল শার্ফকে নতুন হোয়াইট হাউস কাউন্সেল হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন।   টড ব্লঁশের নিয়োগ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি আগে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন এবং এপ্রিল থেকে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত শনিবার মার্কিন সিনেট ৫০-৪৯ ভোটে তাঁর নিয়োগ অনুমোদন করে। রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স ও লিসা মুরকোভস্কি তাঁর বিপক্ষে ভোট দেন।   ব্লঁশের নিয়োগকে ঘিরে প্রধান বিতর্কের বিষয় হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। সমালোচকদের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্টের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী হিসেবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিচার বিভাগের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার বিভাগের কর্মকাণ্ড নিয়ে ইতোমধ্যে যে বিতর্ক চলছে, তার মধ্যে ব্লঁশের স্থায়ীভাবে অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়া নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   নিয়োগ প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে ব্লঁশকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চাপের মুখেও পড়তে হয়। তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বিতর্কিত ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল বাতিলের বিষয়টি সিনেটের কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যের সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সমালোচকেরা ওই তহবিলকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্রদের সুবিধা দেওয়ার সম্ভাব্য হাতিয়ার হিসেবে দেখেছিলেন।   এদিকে হোয়াইট হাউসেও গুরুত্বপূর্ণ আইনগত পরিবর্তন আসছে। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, বর্তমানে হোয়াইট হাউসের স্টাফ সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা উইল শার্ফ ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন হোয়াইট হাউস কাউন্সেল হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। তিনি বর্তমান কাউন্সেল ডেভিড ওয়ারিংটনের স্থলাভিষিক্ত হবেন।   সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর শার্ফ ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয়ে কাজ করেছেন। প্রেসিডেন্টের দায়মুক্তি সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপ্রিম কোর্ট মামলাতেও তিনি ট্রাম্পের পক্ষে কাজ করেছিলেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে বিচারক ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন।   হোয়াইট হাউস কাউন্সেল হিসেবে শার্ফ প্রেসিডেন্টের ক্ষমা প্রদানের বিষয়, আইন পর্যালোচনা এবং প্রেসিডেন্টকে ঘিরে বিভিন্ন মামলার আইনি দিকসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনগত বিষয়ে পরামর্শ দেবেন। তাঁর নিয়োগ এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কংগ্রেসীয় তদন্ত নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।   টড ব্লঁশ ও উইল শার্ফ দুজনেরই ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আইনি ও রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকায় তাঁদের নতুন দায়িত্বকে শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না সমালোচকেরা। তাঁদের মতে, বিচার বিভাগ ও হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ আইনগত পদে প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়োগ প্রশাসনের আইনগত নীতি ও স্বাধীনতা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বিতর্ক তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্পের সমর্থকেরা বলছেন, দুজনের আইনি অভিজ্ঞতা প্রশাসনকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনায় সহায়তা করবে।   এদিকে ব্লঁশ এখন আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর সামনে একদিকে বিচার বিভাগের নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব, অন্যদিকে রাজনৈতিক চাপ ও স্বাধীনতা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন মোকাবিলার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৩:২১
ছয়টি আইনি সংগঠনকে ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি সরকারি অনুদান দেওয়া নিয়ে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের বিরুদ্ধে রিপাবলিকান প্রার্থী সারিথা কোমাতিরেড্ডির (ইনসেটে) অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত

৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার অনুদান নিয়ে প্রশ্নের মুখে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল

ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিলের কঠোর পদক্ষেপের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ, বাতিল ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে রেকর্ড ২০৪ কোটি ডলারের পাওয়ারবল লটারি জ্যাকপট জেতা একমাত্র বিজয়ী এডউইন কাস্ত্রো (ইনসেটে)। ছবি: সংগৃহীত

২০৪ কোটি ডলারের লটারি জিতে ট্যাক্সের পর হাতে ৬২ কোটি ৮০ লাখ

0 Comments