চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের আগে বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে আটক ফ্লোরিডার আর্জেন্টাইন ফুটবলার
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল ম্যাচে দলের সঙ্গে যোগ দিতে যাওয়ার সময় অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) হাতে আটক হয়েছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার মাতিয়াস আলেহান্দ্রো পোররাইন। ফোর্ট লডারডেল বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়। তার দল মিয়ামি ইউনাইটেড এফসি তখন ক্যালিফোর্নিয়ায় জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছিল।
ঘটনাটি ঘটে ৬ আগস্ট। পোররাইন সতীর্থদের সঙ্গে ফোর্ট লডারডেল বিমানবন্দর থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্দেশে বিমানে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ও অভিবাসনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ করার পর আইসিই কর্মকর্তারা তাকে কয়েকটি প্রশ্ন করার কথা বলে আলাদা করে নেন। তাকে বলা হয়েছিল, অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ফিরে আসবেন। কিন্তু পরে সতীর্থরা জানতে পারেন, তাকে আর বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি এবং তিনি আইসিইর হেফাজতে রয়েছেন।
পোররাইনের পরিবার ও আইনজীবীর দাবি, তিনি সাত বছর আগে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তার বৈধ কাজের অনুমতি ছিল, ফ্লোরিডার পরিচয়পত্রও রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় ছিলেন। আইনজীবী রেজিনা বোর্হেস জানিয়েছেন, পোররাইন আটকের ঘটনায় ভীত হলেও শারীরিকভাবে ভালো আছেন। তার পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তবে মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের একজন মুখপাত্র নিউজউইককে জানান, পোররাইন ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর আটলান্টা বিমানবন্দর দিয়ে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তাকে ছয় মাস থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সরকারের দাবি অনুযায়ী, তার অনুমোদিত থাকার সময় ২০২০ সালের ১১ মে শেষ হয়ে গেলেও তিনি দেশটিতে থেকে যান। এই অবস্থান থেকেই তাকে অভিবাসন আইনের আওতায় আটক করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
আইসিইর বক্তব্য অনুযায়ী, পোররাইনকে ৬ আগস্ট ফোর্ট লডারডেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়। তাকে অভিবাসন-সংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতে রাখা হবে এবং তিনি আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়ার সুযোগ পাবেন।
পোররাইন বর্তমানে মিয়ামি ইউনাইটেড এফসির মিডফিল্ডার। ক্লাবটির সরকারি তালিকাতেও তাকে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন ছিলেন এবং একাধিক ম্যাচে গোলও করেছেন।
মিয়ামি ইউনাইটেড চলতি মৌসুমে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছে। জুলাইয়ে দলটি পিনেলাস কাউন্টি ইউনাইটেডকে ৫-০ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফ্লোরিডা স্টেট চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর দলটি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যায়।
২০২৬ সালের ইউনাইটেড প্রিমিয়ার সকার লিগের বসন্ত মৌসুমের জাতীয় প্রতিযোগিতার সেমিফাইনাল ও ফাইনাল আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। মিয়ামি ইউনাইটেড জাতীয় পর্যায়ের শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিযোগিতায় ছিল।
পোররাইনের আটকের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক কঠোর অভিবাসন কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা না করেও অভ্যন্তরীণ একটি বিমানযাত্রার আগে একজন ক্রীড়াবিদকে আটক করার ঘটনা নিয়ে তার পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পোররাইনের পরিবার বিষয়টি নিয়ে আর্জেন্টিনার কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সহায়তা চেয়েছে। আইনজীবীও আদালতে তার মুক্তির আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তার অভিবাসন মামলার চূড়ান্ত পরিণতি এখনো নির্ধারিত হয়নি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে বিনা পরোয়ানায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) গ্রেপ্তার কমানো এবং নির্দোষ অভিবাসীদের অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখার ক্ষমতা খর্ব করার লক্ষ্যে মার্কিন সিনেটে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক দলের ইলিনয়ের সিনেটর ডিক ডারবিন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যালেক্স প্যাডিলা যৌথভাবে ‘ইমিগ্রেশন ওয়ারেন্ট রিফর্ম অ্যাক্ট’ নামের এই আইনটি প্রস্তাব করেছেন। আইসিই যাতে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া অথবা বর্ণবাদের ভিত্তিতে কাউকে আটকে রাখতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই বিলটি তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে বৈধ কাগজপত্র থাকা অনেক অভিবাসী ও মার্কিন নাগরিককেও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে, যা এই বিল প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। প্রস্তাবিত এই বিলে বলা হয়েছে, কাউকে আটক করার ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের অবশ্যই তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রশাসনিক পরোয়ানা বা ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করতে হবে এবং আটকের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। পরোয়ানার পাশাপাশি আটকের পর কবে ইমিগ্রেশন আদালতে হাজিরা দিতে হবে, তা-ও আটকদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারকৃতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিন শুনানির ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি, আটকে রাখা প্রতিটি অনাগরিকের হেফাজতের বিষয়টি প্রতি ৬০ দিন পরপর কোনো ইমিগ্রেশন বা মার্কিন জেলা বিচারককে পুনরায় পর্যালোচনা করতে হবে, যাতে বিনা বিচারে কেউ দীর্ঘদিন আইসিই হেফাজতে না থাকেন। সিনেটর প্যাডিলা বলেন, এই আইনটি পাস হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে এবং নির্বিচার গ্রেপ্তার বন্ধ হবে। তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিলটি সহজে আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এদিকে, অভিবাসন অধিকারকর্মী এবং আইনজীবীরা এই বিলের কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে, ‘জননিরাপত্তার জন্য আসন্ন বিপদ’ হিসেবে কাউকে চিহ্নিত করে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের যে সুযোগ আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে রাখা হয়েছে, তা অপব্যবহারের আশঙ্কা করছেন তারা। টেক্সাস-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা রাইসেস-এর সহ-প্রধান নির্বাহী ফয়সাল আল-জুবুরি প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ সিভিল বা দেওয়ানি অপরাধের জন্য কাউকে আটকে রাখা এবং তার ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ করা কতটা যৌক্তিক। তিনি মনে করেন, এই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা মৌলিক সাংবিধানিক সুরক্ষার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা করিয়ে দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আইনজীবী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআই সার্ভার হ্যাক, ৩৮ হাজার কর্মীর তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের
অ্যাপল, অ্যামাজন, গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট, মেটা, ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী জোট ‘টেকনেট’ সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত এইচ-১বি ভিসা ফি প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছে। নির্দিষ্ট এইচ-১বি ভিসার আবেদনের ওপর ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের নতুন এই ফি আরোপের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে গত ২৪ সেপ্টেম্বর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের (ডিএইচএস) কাছে নিজেদের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জমা দিয়েছে জোটটি। তাদের দাবি, প্রস্তাবিত এই ফি যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশাল এক আর্থিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। বিশেষ করে যখন ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি কর্মীদের দিয়ে বিশেষায়িত কাজ করানোর এই কর্মসূচিতে কড়াকড়ি আরোপের ধারা অব্যাহত রেখেছে, তখন এই পদক্ষেপ মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেবে বলে মনে করে টেকনেট। জোটটি জোর দিয়ে বলেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো উদীয়মান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিজেদের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর আন্তর্জাতিক মেধার সহজলভ্যতা একান্ত প্রয়োজন। গত আগস্ট মাসে ডিএইচএস এই ফি প্রস্তাবটি প্রকাশ করে। এতে বার্ষিক কোটার আওতাভুক্ত এইচ-১বি ভিসার আবেদনগুলোতে (এমনকি ২০ হাজার উচ্চতর ডিগ্রির ক্ষেত্রে ছাড়প্রাপ্ত আবেদনও এর অন্তর্ভুক্ত) ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের অতিরিক্ত ফি আরোপের কথা বলা হয়। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, বার্ষিক প্রায় ৮৫ হাজার আবেদনের ভিত্তিতে এই ফি থেকে বছরে প্রায় ৮.৮ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসতে পারে। তবে এই ফি সাধারণ এইচ-১বি ফাইলিং ফি এবং প্রশাসনের আগে থেকেই চালু থাকা আলাদা ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি পেমেন্ট শর্তের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন আইনি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে প্রস্তাব করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে মার্কিন কর্মীদের চাকরিচ্যুত করার মতো এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার রোধ করতেই এই কঠোর নীতিগুলো অপরিহার্য। এর অংশ হিসেবে গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যেখানে বলা হয়, এইচ-১বি আবেদনের পর্যালোচনার সময় স্পন্সর করা নিয়োগকর্তা সম্প্রতি সমমানের কোনো মার্কিন কর্মীকে ছাঁটাই করেছেন কি না বা করার পরিকল্পনা করছেন কি না, তা ফেডারেল সংস্থাগুলোকে কঠোরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। এদিকে, হোয়াইট হাউস তাদের কড়াকড়ির ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে এইচ-১বি ফাইলিংয়ের ধরন পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বরের প্রশাসনের একটি ফ্যাক্ট শিট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে শীর্ষ আইটি আউটসোর্সিং কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন প্রায় ৯২ শতাংশ কমে গেছে। তবে টেকনেট সতর্ক করে জানিয়েছে, নতুন এই প্রস্তাবিত ফি বিশেষ করে প্রযুক্তি স্টার্টআপ এবং ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চরম বিপাকে ফেলবে, যারা পুরোপুরি বিশেষায়িত কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল। প্রযুক্তি শিল্পে যখন এআই খাতের মতো জায়গায় বিশেষায়িত কর্মীর ব্যাপক চাহিদা চলছে, ঠিক তখন এই অতিরিক্ত ব্যয় মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য উদ্ভাবন অব্যাহত রাখার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াংও এর আগে এআই মেধা নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার বিষয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, কঠোর মার্কিন অভিবাসন নীতি যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক এবং প্রকৌশলীদের আকৃষ্ট করার ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ডিএইচএস-এর এই প্রস্তাবিত ফি নিয়ে মন্তব্য করার সময়সীমা গত ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। এখন জমা পড়া মন্তব্যগুলো পর্যালোচনা করে দপ্তরটি প্রস্তাব নিয়ে অগ্রসর হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিটেনশন সেন্টার সম্প্রসারণে পরিকল্পনাহীন ব্যয়, আইসিইর কোটি কোটি ডলার অপচয়
নিউইয়র্কে সোনা খুঁজতে ম্যানহোলে নেমেছিলেন দুই ভেনেজুয়েলান, ভাগ্যে জুটল পুলিশের হা তকড়া
যুক্তরাষ্ট্রে আইনি লড়াইয়ে ধাক্কা, পেন্টাগনের কালো তালিকা থেকে বেরোতে পারল না অ্যানথ্রপিক
ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসা ও সংসারের খরচ সামলাতে ৮১ বছর বয়সেও হারিয়ে যাওয়া ও বিলম্বিত লাগেজ মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছিলেন টেক্সাসের ডন জনসন। কখনো টানা ১৪ ঘণ্টা কাজ, কখনো শত শত মাইল গাড়ি চালানো—গত তিন বছর ধরে এভাবেই চলছিল তার জীবন। কিন্তু একটি হারানো স্যুটকেস পৌঁছে দিতে গিয়ে অপরিচিত এক নারীর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর বদলে গেছে তার জীবনের গল্প। এখন হাজারো মানুষ তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। ডন থাকেন টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওর্থ এলাকার দ্য কলোনিতে। তিনি স্বাধীন ঠিকাদার হিসেবে বিমানবন্দরে হারিয়ে যাওয়া বা দেরিতে পৌঁছানো লাগেজ যাত্রীদের বাড়িতে পৌঁছে দেন। ডন জানিয়েছেন, এই কাজটি করার অন্যতম কারণ হলো ৮১ বছর বয়সে অন্য কোথাও কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। তার ভাষায়, এটিই ছিল তাকে নিয়োগ দিতে রাজি হওয়া কাজ। ডনের স্ত্রী জোসেফিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছেন। তাদের দাম্পত্য জীবনের বয়স ৫৭ বছর। ডন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিমা চিকিৎসার কিছু ব্যয় বহন করলেও পুরো খরচ মেটে না। চিকিৎসা, ওষুধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সংসারের বাড়তি ব্যয় সামলাতেই এই বয়সেও কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছিল তাকে। কাজটিও ছিল শারীরিকভাবে কঠিন। ডন কখনো দিনে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতেন। লাগেজ পৌঁছে দিতে গাড়ি চালাতে হতো দীর্ঘ পথ। গোফান্ডমির তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে এই কাজ করতে গিয়ে নিজের গাড়িতে ২ লাখ মাইলের বেশি চালিয়েছেন তিনি। অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে গাড়িটিতেও বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই ডনের জীবনে আসেন দ্য কলোনির বাসিন্দা এরিন হাওয়েল। সম্প্রতি ভ্রমণের সময় হারিয়ে যাওয়া তার লাগেজ পৌঁছে দিতে ডন তার বাড়িতে যান। দরজার ক্যামেরায় এরিন দেখতে পান, ৮১ বছর বয়সী মানুষটি ভারী স্যুটকেস নিয়ে খাড়া সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে কষ্ট করছেন। দৃশ্যটি দেখে তিনি বাইরে এসে ডনকে সাহায্য করেন। কথা বলতে গিয়ে এরিন জানতে পারেন ডনের জীবনের পেছনের গল্প। স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে এই বয়সেও ভারী লাগেজ বহন করছেন তিনি। ডনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এত শারীরিক পরিশ্রমের কাজ কেন করছেন। তিনি জানান, অন্য কোথাও তাকে কাজ দেওয়া হচ্ছিল না। ডনের গল্প জানার পর তাকে কাজ থেকে অবসর নেওয়ার সুযোগ করে দিতে ‘হেল্প ডন রিটায়ার’ নামে একটি গোফান্ডমি তহবিল খোলেন এরিন। ২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া তহবিলটির উদ্দেশ্য ছিল জোসেফিনের চিকিৎসা ব্যয়, দম্পতির দৈনন্দিন খরচ এবং ডনকে আর ভারী কাজ করতে না হওয়ার মতো আর্থিক সহায়তা দেওয়া। এরপর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই অভাবনীয় সাড়া আসে। বুধবার সকালে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট যখন খবরটি প্রকাশ করে, তখন তহবিল ছিল মাত্র ৮৭ হাজার ডলার। বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্লোবাল নিউজ জানায়, অঙ্কটি বেড়ে ৩ লাখ ৭১ হাজার ডলারের বেশি হয়েছে। আর আজ, ২৫ সেপ্টেম্বর, গোফান্ডমির লাইভ পেজে দেখা যাচ্ছে—তহবিল ইতোমধ্যে ৭ লাখ ৪ হাজার ২১২ ডলারে পৌঁছেছে। অনুদান দিয়েছেন ১২ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষ। তহবিলের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ ডলার। অনুদান চলমান থাকায় অঙ্কটি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। মানুষের এমন সাড়া দেখে আবেগাপ্লুত ডন বলেছেন, এরিন যা করেছেন তা তার কাছে ‘অলৌকিক’ ঘটনার মতো। তারা কারও কাছে সাহায্য চাননি, কিন্তু মানুষের এই সহযোগিতা তাদের অনেক সাহায্য করছে। তিনি আরও বলেছেন, ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে যেভাবে মানুষ তাকে সাহায্য করেছে, তিনিও অন্যদের সেভাবে সাহায্য করতে চান। মানুষের এমন উদারতা তার মানুষের প্রতি বিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন ডন। জোসেফিনও মানুষের প্রতিক্রিয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ ৫৭ বছরের দাম্পত্য জীবনে স্বামীর পাশে থাকার গল্প এখন হাজারো অপরিচিত মানুষের কাছেও পৌঁছে গেছে। আর যে মানুষটি কয়েক দিন আগেও ভারী স্যুটকেস নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছিলেন, মানুষের সহায়তায় তার সামনে এখন কাজ কমিয়ে অসুস্থ স্ত্রীর পাশে আরও বেশি সময় থাকার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
২০২০ সাল থেকে নিখোঁজ! অবশেষে বাড়ির আঙিনায় মিলল দেহাবশেষ
চীনের প্রেসিডেন্টের সামনে নাস্তানাবুদ ট্রাম্প! ডিনারে নির্ধারিত বক্তব্যের বাইরে ‘বিশেষ আয়োজনের’ ঘোষণা