আমেরিকা

আইসিইর হাতে আসছে ‘ইলেকট্রিক গ্লাভস’, স্পর্শেই দেওয়া যাবে যন্ত্রণাদায়ক শক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ১:১
আইসিইর হাতে আসছে ‘ইলেকট্রিক গ্লাভস’
আইসিইর হাতে আসছে ‘ইলেকট্রিক গ্লাভস’

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন অভিযানে নতুন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে আইসিই। প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম বিশেষ গ্লাভস কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী, হাজার হাজার গ্লাভস কিনতে ১০ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। আগামী মার্চের মধ্যে এগুলো আইসিই অফিসার ও এজেন্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ এই ডিভাইসটির নাম জি.এল.ও.ভি.ই বা গ্লাভ। কেনটাকির লেক্সিংটনভিত্তিক কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসি এটি তৈরি করে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু জেল ও পুলিশ ডিপার্টমেন্টে ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

 

দেখতে অনেকটা সাধারণ প্যাট্রোল গ্লাভসের মতো হলেও এর ভেতরে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, অফিসার একটি সুইচ চাপলে গ্লাভসটির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা সক্রিয় হয়। এরপর এটি সরাসরি কারও ত্বকের সংস্পর্শে এলে তীব্র ব্যথার অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

 

প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এটিকে প্রাণঘাতী অস্ত্রের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরে বলছে, এর উদ্দেশ্য হলো শারীরিকভাবে প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা এবং দীর্ঘ সময় ধরে ধস্তাধস্তির প্রয়োজন কমানো। সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে ব্যবহার করলে সাধারণত কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একজন ব্যক্তিকে নির্দেশ মানতে বাধ্য করার মতো ব্যথার অনুভূতি তৈরি করতে পারে বলে কোম্পানিটির দাবি।

 

তবে আইসিইর হাতে এমন ডিভাইস দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগরিক অধিকারকর্মীরা। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর জেন রলনিক বোরচেটা প্রশ্ন তুলেছেন, সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের ক্ষেত্রে এমন ডিভাইসের প্রয়োজন কেন। তার উদ্বেগের একটি বড় কারণ হলো, একটি ছোট সুইচ চাপার মাধ্যমে শক দেওয়া সম্ভব হওয়ায় আশপাশের মানুষের পক্ষে সেটি বোঝা কঠিন হতে পারে।

 

অন্যদিকে ইনস্টিটিউট ফর দ্য প্রিভেনশন অব ইন-কাস্টডি ডেথসের প্রেসিডেন্ট জন পিটার্স এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি এপিকে বলেছেন, শকটি তাৎক্ষণিক ও তীব্র ব্যথার অনুভূতি তৈরি করে এবং প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে বিভ্রান্ত করে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করতে পারে।

 

পিটার্সের মতে, আইসিইর পরিকল্পিত ক্রয়টি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটির এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অর্ডার হতে পারে। গাড়ি বা বাড়ি থেকে বের হতে অস্বীকৃতি জানানো ব্যক্তি এবং ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে প্রতিরোধের পরিস্থিতিতে এ ধরনের গ্লাভস ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

তবে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নিজেই এর ব্যবহারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছে। কাউকে শাস্তি দেওয়ার জন্য কিংবা শুধু মৌখিকভাবে নির্দেশ অমান্য বা তর্ক করার কারণে বৈদ্যুতিক শক ব্যবহার করা উচিত নয়। শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধীসহ উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার না করার সতর্কতা রয়েছে।

 

গ্লাভসটি ব্যবহারের আগে অফিসারদের নির্ধারিত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে। প্রস্তুতকারকের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের প্রতি দুই বছর পর আবারও সার্টিফিকেশন নিতে হবে।

 

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির নোটিশ অনুযায়ী, পরিকল্পিত চুক্তির মূল্য ১০ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। এটি নো-বিড কন্ট্রাক্ট হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, অর্থাৎ সাধারণ প্রতিযোগিতামূলক বিডিং ছাড়াই নির্দিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে ডিভাইসগুলো কেনা হতে পারে।

 

এপির প্রশ্নের জবাবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে জবাব প্রস্তুত করছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য দেয়নি সংস্থাটি। কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেফ নিকলাউসও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

 

আইসিইর গ্রেফতার অভিযান সম্প্রসারণের সময়েই নতুন এই প্রযুক্তি কেনার পরিকল্পনা সামনে এলো। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সংস্থাটির বিভিন্ন অভিযানে বলপ্রয়োগের ঘটনা নিয়ে সমালোচনা ও আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। গত মাসে মেইন ও টেক্সাসে গাড়ি থামানোর দুটি পৃথক অভিযানে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে দুই অভিবাসী নিহত হওয়ার ঘটনাও সংস্থাটির এনফোর্সমেন্ট কৌশলকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

 

এ অবস্থায় আইসিইর হাতে বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম গ্লাভস দেওয়ার পরিকল্পনাকে ঘিরে মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে এর ব্যবহারের সীমা, প্রশিক্ষণ এবং জবাবদিহি। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আগামী মার্চের মধ্যে হাজার হাজার আইসিই অফিসার ও এজেন্ট নতুন এই ডিভাইস হাতে পেতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
আমেরিকায় পুলিশ থামালে বাংলাদেশিরা ভুলেও যে ৪ কথা বলবেন না
আমেরিকায় পুলিশ থামালে বাংলাদেশিরা ভুলেও যে ৪ কথা বলবেন না

যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর সময় পুলিশ থামালে ভয় বা নার্ভাসনেস থেকে অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কথা বলে ফেলেন। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী বা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাফিক আইন ও পুলিশি প্রক্রিয়ার সঙ্গে কম পরিচিত চালকদের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কিন্তু ট্রাফিক স্টপে বলা কিছু কথা পরে টিকিট, তদন্ত বা আদালতের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন বা এসিএলইউর সর্বশেষ “নো ইয়োর রাইটস” নির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশ গাড়ি থামালে চালক ও যাত্রী উভয়েরই চুপ থাকার অধিকার রয়েছে। তবে চালককে পুলিশ চাইলে ড্রাইভার লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন এবং ইন্স্যুরেন্সের প্রমাণ দেখাতে হয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে শান্ত থাকা, হঠাৎ নড়াচড়া না করা এবং হাত দৃশ্যমান রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   প্রথমত, “আপনি আমার গাড়ি সার্চ করতে পারেন” এমন সম্মতি দেওয়ার আগে নিজের অধিকার জানা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে একজন চালক পুলিশের কাছে নিজের গাড়ি সার্চ করার সম্মতি দিতে বাধ্য নন। পুলিশ যদি সার্চের অনুমতি চায় এবং চালক সম্মতি দিতে না চান, তিনি শান্তভাবে বলতে পারেন, “অফিসার, আমি সার্চে সম্মতি দিচ্ছি না।”   তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। গাড়ি সার্চ করতে পুলিশের সব ক্ষেত্রেই ওয়ারেন্ট প্রয়োজন হয়, এমন দাবি সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে গাড়ির ক্ষেত্রে বেশ কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। বৈধ আইনি ভিত্তি থাকলে কোনো কোনো পরিস্থিতিতে চালকের সম্মতি বা আগে থেকে নেওয়া ওয়ারেন্ট ছাড়াও পুলিশ গাড়ি সার্চ করতে পারে। তাই সম্মতি না দেওয়া মানেই পুলিশ কোনো অবস্থাতেই সার্চ করতে পারবে না, বিষয়টি এমন নয়।   দ্বিতীয়ত, পুলিশ কেন থামিয়েছে জানতে চাইলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে নিজের ভুল স্বীকার করে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। “আমি জানতাম না এটা বেআইনি”, “আমি স্পিড লিমিট খেয়াল করিনি” বা “দুঃখিত, আমি নতুন” ধরনের বক্তব্য পরিস্থিতি অনুযায়ী অফিসারের নোট বা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে।   তবে শুধু “সরি” বললেই আইনগতভাবে কেউ দোষী হয়ে যান, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। একইভাবে এমন বক্তব্য দিলে ট্রাফিক টিকিট ডিসমিস হওয়ার সম্ভাবনা “৯০ শতাংশ কমে যায়” এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্যও নেই। দোষী বা নির্দোষ নির্ধারণের বিষয়টি নির্ভর করে অভিযোগ, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট আদালত বা ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।   এসিএলইউর পরামর্শ হলো, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা বা অজুহাত না দেওয়া। চুপ থাকার অধিকার ব্যবহার করতে চাইলে সেটি স্পষ্টভাবে জানানো যেতে পারে। তবে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা ভুয়া ডকুমেন্ট দেখানো উচিত নয়।   তৃতীয়ত, গাড়িতে অবৈধ কিছু থাকার কথা বা অ্যালকোহল গ্রহণের বিষয়ে স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত তথ্য দেওয়ার আগে আইনি পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। পুলিশ “আপনি জানেন কেন আপনাকে থামিয়েছি?” অথবা অ্যালকোহল গ্রহণ করেছেন কি না, এমন প্রশ্ন করতে পারে। সাধারণ পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে চালক ও যাত্রীর চুপ থাকার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে, যদিও পরিচয়, ড্রাইভিং ডকুমেন্ট, ডিইউআই তদন্ত এবং বিভিন্ন স্টেটের আইনের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।   বিশেষ করে ডিইউআই বা অ্যালকোহল ও মাদকসংক্রান্ত ড্রাইভিংয়ের ঘটনায় বিষয়টি শুধু ট্রাফিক টিকিটে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। গ্রেফতার, ক্রিমিনাল চার্জ, ড্রাইভার লাইসেন্স সাসপেনশন এবং কিছু ননইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারীর ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন বা ভিসাসংক্রান্ত জটিলতাও তৈরি হতে পারে। তবে “ডিইউআই বর্তমানে ভিসা বাতিলের এক নম্বর কারণ” এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সরকারি র‌্যাঙ্কিং পাওয়া যায় না।   চতুর্থত, পুলিশ অফিসারের সঙ্গে তর্ক, শারীরিক প্রতিরোধ, পালানোর চেষ্টা বা হঠাৎ পকেট কিংবা গ্লাভ বক্সে হাত দেওয়া পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। এসিএলইউর নির্দেশনা হলো, শান্ত থাকতে হবে, দৌড়ানো বা বাধা দেওয়া যাবে না এবং হাত এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে অফিসার দেখতে পারেন।   লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন গ্লাভ বক্সে থাকলে সেটি বের করার আগে অফিসারকে জানানো নিরাপদ অভ্যাস। যেমন বলা যেতে পারে, “আমার লাইসেন্স গ্লাভ বক্সে আছে, আমি কি সেটি বের করব?”   কোনো সার্চে সম্মতি না থাকলে শান্তভাবে সেটিও জানানো যায়। তবে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়া উচিত নয়। নিজের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মনে হলে ঘটনার সময়, স্থান, অফিসারের নাম বা ব্যাজ নম্বর, প্যাট্রোল কার নম্বর এবং অন্যান্য তথ্য পরে লিখে রাখা যেতে পারে।   পুলিশের কার্যক্রম রেকর্ড করার ক্ষেত্রেও সাংবিধানিক সুরক্ষা রয়েছে। এসিএলইউর ২০২৬ সালের হালনাগাদ নির্দেশনা অনুযায়ী, জনসমক্ষে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তার ছবি বা ভিডিও ধারণ সাধারণভাবে ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্টের সুরক্ষার আওতায় পড়ে। নিউইয়র্কেও আইনসম্মতভাবে উপস্থিত কোনো ব্যক্তি পুলিশের কার্যক্রম রেকর্ড করতে পারেন। তবে রেকর্ড করার সময় পুলিশি কাজে শারীরিক বাধা সৃষ্টি করা বা বৈধ নির্দেশ অমান্য করা উচিত নয়।   পুলিশ গাড়ি থামালে নিরাপদ জায়গায় দ্রুত গাড়ি থামানো, ইঞ্জিন বন্ধ করা, জানালা আংশিক নামানো এবং হাত স্টিয়ারিং হুইলে রাখার পরামর্শ দিয়েছে এসিএলইউ। পুলিশ চাইলে ড্রাইভার লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ও ইন্স্যুরেন্সের প্রমাণ দেখাতে হবে। হঠাৎ কোনো নড়াচড়া না করে ডকুমেন্ট কোথায় রয়েছে তা আগে জানানো নিরাপদ।   ট্রাফিক টিকিট পাওয়ার পরও সেটির নির্দেশনা ভালোভাবে পড়া জরুরি। বিশেষ করে নিউইয়র্কে টিকিটের ধরন ও কোথায় সেটি ইস্যু হয়েছে তার ওপর পরবর্তী প্রক্রিয়া নির্ভর করে। নিউইয়র্ক সিটির নন-ক্রিমিনাল ট্রাফিক টিকিট সাধারণত ডিএমভির ট্রাফিক ভায়োলেশনস ব্যুরো পরিচালনা করে এবং সেখানে চালককে অভিযোগে গিল্টি অথবা নট গিল্টি প্লি করার সুযোগ দেওয়া হয়। নিউইয়র্ক সিটির বাইরের টিকিট সাধারণত স্থানীয় কোর্টে নিষ্পত্তি হয়।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাফিক স্টপের আইন ও প্রক্রিয়া স্টেটভেদে আলাদা হতে পারে। তাই “সব পরিস্থিতিতে এই একটি বাক্য বললেই নিরাপদ” এমন কোনো নিয়ম নেই। শান্ত থাকা, মিথ্যা তথ্য না দেওয়া, প্রয়োজনীয় ড্রাইভিং ডকুমেন্ট দেখানো এবং নিজের সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।   এই প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্যের জন্য। এটি ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শ নয়। কোনো ট্রাফিক স্টপ, ডিইউআই, গ্রেফতার বা ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট স্টেটের যোগ্য অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ১:২৯
আইসিইর হাতে আসছে ‘ইলেকট্রিক গ্লাভস’

আইসিইর হাতে আসছে ‘ইলেকট্রিক গ্লাভস’, স্পর্শেই দেওয়া যাবে যন্ত্রণাদায়ক শক

স্লট মেশিনে জিতলেন ৪ কোটি ২৯ লাখ ডলার

স্লট মেশিনে জিতলেন ৪ কোটি ২৯ লাখ ডলার, ক্যাসিনো দিল মাত্র ২.২৫ ডলার আর স্টেক ডিনার

ওয়ারেন্ট ছাড়াই তুলে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ল আইসিইর

বৈধ কাগজপত্র পেন্ডিং থাকলেও গ্রেফতার, ওয়ারেন্ট ছাড়াই তুলে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ল আইসিইর

ক্যালিফোর্নিয়ার জনপ্রিয় কয়েকটি পর্যটনস্থলে প্রতিবছরই ঘটে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার যে ৫টি পর্যটনস্থলে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারান দর্শনার্থীরা, সেখানে ভুল করলেই বিপদ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। মরুভূমি, পাহাড়, সমুদ্রসৈকত ও জাতীয় উদ্যানের বৈচিত্র্যে প্রতিবছর লাখো মানুষ সেখানে ভ্রমণ করেন। তবে মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে কিছু মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, যেখানে অসতর্কতা বা প্রতিকূল পরিবেশের কারণে বহু পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন।   সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী লিন্ডসি মারিনো অঙ্গরাজ্যের এমন পাঁচটি পর্যটনস্থানের কথা তুলে ধরেন, যেগুলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর ঘটনাতেও পরিচিত। তালিকায় রয়েছে ইয়োসেমিটি ন্যাশনাল পার্কের দুটি বিখ্যাত স্থানও। মার্কিন ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য, গবেষণা প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে মারিনোর উল্লেখ করা ঘটনাগুলোর মিল পাওয়া যায়।   প্রথমেই রয়েছে ডেথ ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক। প্রায় ৩৪ লাখ একরজুড়ে বিস্তৃত এই মরুভূমি পৃথিবীর অন্যতম উষ্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত। মারিনোর ভাষায়, এখানে সবচেয়ে বড় বিপদ শুধু প্রচণ্ড গরম নয়, বরং অল্প সময়ের মধ্যেই একটি ছোট সমস্যা জীবন-মরণ পরিস্থিতিতে পরিণত হতে পারে। গাড়ির টায়ার পাংচার হওয়া বা ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও তীব্র গরমে মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। এতে পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্রুত বেড়ে যায়।   ২০২৪ সালে ডেথ ভ্যালি দিয়ে যাওয়ার সময় তীব্র গরমে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। একটি গবেষণা অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই পার্কে অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, অর্থাৎ গড়ে বছরে প্রায় চারজন। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্যে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে সড়ক দুর্ঘটনায়। এছাড়া অতিরিক্ত গরমজনিত অসুস্থতাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মৃত্যুর কারণ।   তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইয়োসেমিটি ন্যাশনাল পার্কের বিখ্যাত হাফ ডোম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮ হাজার ৮০০ ফুট উঁচু এই গ্রানাইট শৃঙ্গ ট্রেকারদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। শীর্ষে পৌঁছাতে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ মাইল পথ হাঁটতে হয় এবং শেষ অংশে ইস্পাতের তার ধরে খাড়া ঢাল বেয়ে উঠতে হয়।   চমৎকার দৃশ্যের জন্য পরিচিত হলেও এই পথ অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৮ সালের পর থেকে হাফ ডোমের কেবল অংশ ও শীর্ষ এলাকায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পার্ক কর্তৃপক্ষের পরামর্শ, বৃষ্টি, ভেজা পাথর বা বজ্রঝড়ের সময় কখনোই কেবল বেয়ে ওঠা উচিত নয়। কারণ ভেজা পাথর ও বজ্রপাত মুহূর্তেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।   ইয়োসেমিটির আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান নেভাডা ফলস। প্রায় ৫৯৪ ফুট উঁচু এই জলপ্রপাত গত দুই দশকে একাধিক প্রাণহানির সাক্ষী হয়েছে। চলতি বছরের জুনে ২২ বছর বয়সী এক পর্যটক জলপ্রপাতের কাছে পড়ে গিয়ে মারা যান। এর আগে ২০১৮ সালে এক ইসরায়েলি পর্যটক ছবি তুলতে গিয়ে খাদের কিনারা থেকে পড়ে প্রাণ হারান। ২০১৩ সালে স্যাক্রামেন্টোর ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ জলপ্রপাতের ওপরে স্রোতে ভেসে নিচে পড়ে মারা যান।   এ কারণে সেখানে বড় সতর্কবার্তাও টানানো রয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, জলপ্রপাতের ওপরে পানিতে নামা বা পিচ্ছিল পাথরের ধারে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ প্রবল স্রোত মুহূর্তের মধ্যে কাউকে জলপ্রপাতের কিনারায় নিয়ে যেতে পারে এবং নিচে পড়ে গেলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।   ইয়োসেমিটিতে শুধু জলপ্রপাতই নয়, গাছও কখনো কখনো প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। গত মাসে পার্কের টুয়োলামনি গ্রোভ এলাকায় হাঁটার সময় একটি বিশাল সিকোইয়া গাছের ডাল ভেঙে পড়ে এক গুগল প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়।   তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে সান ফ্রান্সিসকোর ওশান বিচ। বাহ্যিকভাবে এটি শান্ত ও সুন্দর সৈকত মনে হলেও স্থানীয়দের কাছে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শক্তিশালী রিপ কারেন্ট, বরফশীতল পানি এবং হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া বিশাল ঢেউয়ের কারণে বহু মানুষ এখানে প্রাণ হারিয়েছেন।   শুধু ১৯৯৮ সালেই এই সৈকতে সাতজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আরও অন্তত আটজনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। চলতি বছরের জুনেও অস্বাভাবিক বড় ঢেউয়ের আঘাতে এক সার্ফারের মৃত্যু হয়।   সবশেষে রয়েছে মাউন্ট হুইটনি। ১৪ হাজার ৫০৫ ফুট উচ্চতার এই পর্বত যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। প্রতিবছর হাজারো পর্বতারোহী এখানে ওঠেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শীর্ষে পৌঁছানোর চেয়ে নিচে নেমে আসার পথই বেশি বিপজ্জনক।   উচ্চতাজনিত অসুস্থতা, বিকেলের আকস্মিক ঝড়, হিমশীতল আবহাওয়া এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি অনেক সময় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গড়ে প্রতি বছর এক থেকে দুইজন এখানে প্রাণ হারান। ২০২২ সালে চারজন পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছিল। আর চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক পর্বতারোহী সঙ্গী ফিরে গেলেও একাই আরোহণ চালিয়ে যান এবং পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার এসব স্থান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত হলেও নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এড়িয়ে চলাই নিরাপদ ভ্রমণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ২৩:৪১
ফল সেমিস্টারে ইউনিভার্সিটি অব মিয়ামিতে পড়াশোনা শুরু করতে যাচ্ছেন কাই ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

বাড়ি ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিদায়ের মুহূর্তে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ট্রাম্পের নাতনি ও তার মা

বড় শহরের কোলাহল ছেড়ে তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও শান্ত শহরগুলোতে বসবাসের আগ্রহ বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় এলাকা কোনগুলো? জানাল নতুন সমীক্ষা

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি ওয়াহেদ আলী মন্ডল

বাসায় যাওয়ার পথে নিউইয়র্কে বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলা

স্ত্রীকে আইসের হেফাজত থেকে মুক্ত করতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন সেনাসদস্য অ্যালেক্সিস হারামিলো। ছবি: সংগৃহীত
মায়ের অপেক্ষায় ৫ বছরের ছেলে, স্ত্রীকে আইসের হেফাজত থেকে ফেরাতে আইনি লড়াইয়ে মার্কিন সেনাসদস্য

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়েছে। অন্য শিশুদের মতো স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পাঁচ বছরের নোয়াও। তবে এবার তার সবচেয়ে বড় অপেক্ষা নতুন বই বা স্কুলব্যাগের জন্য নয়, মায়ের জন্য। কারণ নিয়মিত একটি অভিবাসন সাক্ষাৎকারে যাওয়ার পর থেকে তার মা মাইসা লোপেস এলিয়াসের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস)-এর হেফাজতে রয়েছেন। আর স্ত্রীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনতে এখন আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্য অ্যালেক্সিস হারামিলো।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএএলবি (KALB) জানায়, স্টাফ সার্জেন্ট অ্যালেক্সিস হারামিলো গত ১১ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে কর্মরত। পুয়ের্তো রিকোতে জন্ম নেওয়া এই বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ বলেন, দেশের সেবায় গর্বিত হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে 'প্রতারিত' মনে করছেন।   হারামিলোর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই তিনি, তার স্ত্রী এবং পাঁচ বছরের ছেলে নোয়া আলাবামার মন্টগোমারিতে একটি নির্ধারিত অভিবাসন সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে আট ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে যান। সাক্ষাৎকার চলাকালে আইস কর্মকর্তারা তার স্ত্রীকে আলাদা কক্ষে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তাদের জানানো হয়, মাইসা লোপেস এলিয়াসেরকে আটক করা হয়েছে।   তিনি বলেন, "আমার ছেলের সামনেই জানানো হয় তার মাকে আটক করা হয়েছে। সেই মুহূর্তের কথা মনে করাও খুব কষ্টের।" ২০১৯ সালে ব্রাজিলের সাও পাওলো থেকে বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন মাইসা। পরে হারামিলোর সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে অভিবাসন মর্যাদা পরিবর্তনের আবেদনও করা হয়।   তবে অভিবাসন আইনজীবী মাইকেল গাহাগান জানান, মাইসা নির্ধারিত একটি বায়োমেট্রিকস (আঙুলের ছাপ ও পরিচয় যাচাই) সাক্ষাতে উপস্থিত হননি। এর ফলে তার আশ্রয় আবেদন বাতিল হয় এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ জারি করা হয়।   হারামিলো বলেন, তারা মনে করেছিলেন বিয়ের পর নতুন করে জমা দেওয়া কাগজপত্রের কারণে আগের বায়োমেট্রিকস সাক্ষাতে আর যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আইন অনুযায়ী একটি আবেদন অন্য প্রক্রিয়াকে বাতিল করে না।   বর্তমানে হারামিলোর আইনজীবী মামলাটি পুনরায় চালুর আবেদন করেছেন। আইনজীবীদের আশা, আদালত আবেদন গ্রহণ করলে আপাতত বহিষ্কারের প্রক্রিয়া স্থগিত হতে পারে। তবে এরই মধ্যে আইস ব্রাজিলের কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।   স্ত্রীকে মুক্ত করতে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে গিয়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন হারামিলো। তিনি বলেন, মামলার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই চাপ তার ব্যক্তিগত জীবন তো বটেই, সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের ওপরও প্রভাব ফেলছে। তার ভাষায়, "আমার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা আমার ছেলে। স্কুল শুরু হয়েছে, কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো তার মা তাকে স্কুলের প্রথম দিনে নিয়ে যেতে পারছে না।"   বর্তমানে মাইসা লুইজিয়ানার ব্যাসিলে অবস্থিত আইস প্রসেসিং সেন্টারে আটক আছেন। তার স্বামীর দাবি, তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। যদি শেষ পর্যন্ত তার স্ত্রীকে ব্রাজিলে ফেরত পাঠানো হয়, সেটিই হবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন বলে মন্তব্য করেন হারামিলো। তিনি বলেন, "আমরা আইন ভাঙার চেষ্টা করছি না। বরং আইন মেনেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চেয়েছি।"   হারামিলো যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের প্রতি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের ব্যয় মেটাতে একটি গোফান্ডমি তহবিলও চালু করেছেন।   এদিকে, এ ঘটনায় মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও আইসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্র: কেএএলবি (KALB), গ্রে নিউজ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ২২:২
আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৩ বছর বয়সী কাইলি হুগেনডর্ন ও তার পরিবারের ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

সড়ক দুর্ঘটনায় মায়ের মৃত্যুর দুই দিন পর প্রাণ হারাল ৪ বছরের মেয়ে, বেঁচে আছে শুধু এক বছরের মা-হারা ছেলে

মার্কিন ইমিগ্রেশন পুলিশ আইসিই কর্মকর্তাদের জন্য কেনা হচ্ছে বিশেষ 'ইলেকট্রিক শক গ্লাভস'। ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসীদের আটক অভিযানে বিদ্যুৎ শক দেওয়া বিশেষ গ্লাভস কিনতে ২ কোটি ডলার ব্যয় করবে আইস

আর্কানসাসের মমেল হাই স্কুলে এক ফুটবল খেলোয়াড়ের হেলমেটের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় বিষধর কটনমাউথ সাপ। ছবি: সংগৃহীত

অনুশীলনের সময় খেলোয়াড়ের হেলমেটে বিষধর সাপ, একটুর জন্য রক্ষা পেলেন স্কুলছাত্র

0 Comments