আমেরিকা

স্কুল খোলার মুখে যুক্তরাষ্ট্রে হামের রেকর্ড, ৩৫ বছরের সংক্রমণ সর্বোচ্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ১০:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময়ে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময়ে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময় হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ২ হাজার ৪৬৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে, যা গত ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি বছরের আট মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই আক্রান্তের সংখ্যা পুরো ২০২৫ সালের মোট সংক্রমণকেও ছাড়িয়ে গেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির ৬ আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে মোট ২ হাজার ২৮৯টি নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছিল। বিপরীতে চলতি বছর ৬ আগস্টের মধ্যেই সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৬৫ জনে।

 

সিডিসির হিসাবে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭টি জুরিসডিকশন থেকে হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি অঙ্গরাজ্যের পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটি ও ওয়াশিংটন ডিসিকে আলাদা জুরিসডিকশন হিসেবে গণনা করা হয়। ফলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আক্রান্ত অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্য দেখা গেলেও সিডিসির সর্বশেষ হিসাবে সংক্রমণের বিস্তার আগের তুলনায় অনেক বড়।

 

এ বছর এখন পর্যন্ত ৩৮টি পৃথক হাম প্রাদুর্ভাব শনাক্ত করেছে সিডিসি। মোট আক্রান্তের ৯৪ শতাংশই এসব প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন কয়েকটি রোগীর পরিবর্তে নির্দিষ্ট কমিউনিটিতে একসঙ্গে বহু মানুষের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে।

 

এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ শিশু স্কুলে ফিরছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, স্কুলে একই শ্রেণিকক্ষ ও অন্যান্য ইনডোর জায়গায় দীর্ঘ সময় কাছাকাছি থাকার কারণে টিকা না নেওয়া শিশুদের মধ্যে অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

 

সিডিসির তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের এমএমআর টিকা গ্রহণের হার কয়েক বছর ধরে কমছে। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে এই হার ছিল ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে তা নেমে এসেছে ৯২ দশমিক ৫ শতাংশে। ওই শিক্ষাবর্ষেই আনুমানিক ২ লাখ ৮৬ হাজার কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থী হাম থেকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়াই ছিল।

 

হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগের বিস্তার ঠেকাতে একটি কমিউনিটিতে সাধারণত ৯৫ শতাংশের বেশি মানুষের টিকার সুরক্ষা থাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সিডিসি। জাতীয় গড় এর নিচে নেমে যাওয়ার পাশাপাশি কিছু এলাকায় টিকা নেওয়ার হার আরও কম। ফলে সেখানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।

 

বিশেষ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে উটাহর মতো অঙ্গরাজ্যে। উটাহর স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সরাসরি স্কুলে যাওয়া কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের প্রায় ১২ শতাংশের এমএমআর টিকার ক্ষেত্রে ছাড় ছিল অথবা তাদের টিকা নেওয়ার প্রয়োজনীয় নথি পাওয়া যায়নি। অঙ্গরাজ্যটিতে চিকিৎসাগত কারণের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতেও স্কুলের বাধ্যতামূলক টিকা থেকে ছাড় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

 

স্কুলভেদে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। কোনো কোনো কমিউনিটিতে টিকা গ্রহণের হার এতটাই কম যে, সেখানে একটি হাম আক্রান্ত শিশুর উপস্থিতিই দ্রুত বড় আকারের সংক্রমণ তৈরি করতে পারে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।

 

হাম বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক রোগগুলোর একটি। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তি চলে যাওয়ার পরও একটি ঘরে অবস্থান করলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে।

 

সিডিসির হিসাবে, এমএমআর টিকার দুই ডোজ হাম প্রতিরোধে প্রায় ৯৭ শতাংশ কার্যকর। এক ডোজের কার্যকারিতা প্রায় ৯৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে ২০০০ সালে হাম নির্মূল হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে বিদেশ থেকে সংক্রমণ নিয়ে আসা ব্যক্তির মাধ্যমে টিকা না নেওয়া কমিউনিটিতে ভাইরাস ঢুকে পড়লে আবারও বড় প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে।

 

শিশুদের ক্ষেত্রে হাম বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব শিশু বয়সের কারণে এখনো নিয়মিত এমএমআর টিকা নেওয়ার পর্যায়ে পৌঁছায়নি অথবা চিকিৎসাগত কারণে টিকা নিতে পারে না, তাদের সুরক্ষা অনেকটাই নির্ভর করে আশপাশের মানুষের টিকা নেওয়ার ওপর।

 

স্কুলগুলোতে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ায় তাই জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নজর এখন টিকা গ্রহণের হার কম থাকা এলাকাগুলোর দিকে। সিডিসি বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে হাম থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এমএমআর টিকা এবং পরিবারগুলোকে নিজেদের ও শিশুদের টিকার অবস্থা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মুসলিম জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি মেস এবং মুসলিম প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। ছবি: সংগৃহীত
'মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদ নির্বাচিত হলে আমাদের নাতনিদের স্কুলে বোরকা পরে যেতে হবে'

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি পদে থাকা মুসলিমদের ‘ট্রোজান হর্স’ এবং দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি মেস। মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রাইমারিতে মুসলিম প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন মন্তব্য করেন সাউথ ক্যারোলাইনার এই কংগ্রেসওম্যান।   গত ৭ আগস্ট এক্সে দেওয়া পোস্টে মেস দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি পদে থাকা প্রত্যেক মুসলিমই ‘ট্রোজান হর্স’ এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রজাতন্ত্রের জন্য হুমকি। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সব মুসলিম জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে এমন মন্তব্যের পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।   এরপর সিএনএনের একটি লাইভ সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে মেসকে প্রশ্ন করেন অ্যাঙ্কর ওমর জিমেনেজ। তিনি জানতে চান, মেস কি তাহলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পদে থাকা প্রত্যেক মুসলিমই দেশের জন্য হুমকি। জবাবে মেস বলেন, তিনি সব মুসলিমকে হুমকি হিসেবে দেখছেন না এবং তার উদ্বেগ মূলত ‘র‌্যাডিক্যাল ইসলাম’ নিয়ে।   তবে জিমেনেজ মেসের আগের বক্তব্যের সঙ্গে এই ব্যাখ্যার অসঙ্গতি তুলে ধরেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে সংবিধানের ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধর্মীয় পরীক্ষা আরোপ করা যায় না।   সাক্ষাৎকারে মেস মুসলিম প্রার্থীদের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে আমেরিকানদের নাতনিদের স্কুলে বোরকা পরে যেতে হতে পারে। তার এ বক্তব্যেরও পাল্টা প্রশ্ন করেন জিমেনেজ। কোনো মুসলিম রাজনীতিক নির্বাচিত হলেই অন্য ধর্মের মানুষের ওপর ইসলামি পোশাক বা ধর্মীয় অনুশাসন চাপিয়ে দেওয়া হবে, এমন ধারণার সাংবিধানিক বা বাস্তব ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।   মেসের মন্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। মুসলিম পরিচয়ের এল-সায়েদের রাজনৈতিক উত্থানের পর তাকে ঘিরে ধর্মীয় পরিচয়কেন্দ্রিক আক্রমণও বেড়েছে। মেস নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকেও তার বক্তব্যে টেনে আনেন।   তবে সমালোচনার মুখে মেস দাবি করেছেন, তার আপত্তি মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং তিনি যাকে ‘র‌্যাডিক্যাল ইসলামিক আইডিওলজি’ বলছেন, তার বিরোধিতা করছেন। সমালোচকেরা অবশ্য বলছেন, তার মূল পোস্টে নির্দিষ্ট কোনো উগ্রপন্থী ব্যক্তি বা সংগঠনের পরিবর্তে সরকারি পদে থাকা ‘প্রত্যেক মুসলিমকে’ একসঙ্গে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।   মেসের মন্তব্যকে ইসলামবিদ্বেষী আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন মহলের মানুষ। বিতর্কটি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা, নির্বাচিত পদে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কোনো প্রার্থীর ধর্মীয় পরিচয়কে কতটা সামনে আনা উচিত, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এনেছে।

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ১১:৩৮
নিহত মেলিনা গ্যালানিস ফ্রাটোলিন এবং হত্যায় দোষী সাব্যস্ত বাবা লুসিয়ানো ফ্রাটোলিন। ছবি: সংগৃহীত

৯ বছরের মেয়েকে হত্যা করে, লাশ লুকিয়ে রেখে ‘অপহরণের’ গল্প সাজিয়েছিলেন বাবা!

অভিবাসীদের ওপর জরিমানা আরোপ করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

দেশ ছাড়ুন, না হলে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ডলার জরিমানা' মিশিগানের অভিবাসীর সামনে ট্রাম্পের কঠিন শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময়ে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি। ছবি: সংগৃহীত

স্কুল খোলার মুখে যুক্তরাষ্ট্রে হামের রেকর্ড, ৩৫ বছরের সংক্রমণ সর্বোচ্চ

দারুল উলূম মিশিগানের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন ও সম্মাননা প্রদান। ছবি: সংগৃহীত
দারুল উলূম মিশিগানের ১২তম বার্ষিক গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে দারুল উলূম মিশিগানের ১২তম বার্ষিক গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান আনন্দঘন ও দ্বীনি পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১ আগস্ট মাদরাসার ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, আলেম-উলামা ও মুসলিম কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন।   অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন মাওলানা জিল্লুর রহমান উদ্দিন ও মুফতি রবিউল ইসলাম। পরে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শিক্ষামূলক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্ব পরিচালনা করেন মাওলানা সাদিকুর রহমান ও মাওলানা মুহাম্মদ সালমান। শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত দ্বীনি জ্ঞান ও শিক্ষার বিভিন্ন দিক পরিবেশনার মাধ্যমে তুলে ধরে।   পরবর্তীতে দারুল উলূম মিশিগানের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ তাজ উদ্দীন বক্তব্য দেন। তিনি মাদরাসার অগ্রগতি, ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব এবং নতুন প্রজন্মকে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা, ইসলামী মূল্যবোধ, আদব-আখলাক ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।   অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন আরিফ বিল্লাহ হযরত মাওলানা শাহ হাকীম মুহাম্মদ আখতার (রহ.)-এর বিশিষ্ট খলিফা মাওলানা শায়খ আসগর হুসাইন হাফিযাহুল্লাহ। তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে নসিহত করেন। তাঁর বক্তব্যে দ্বীনি ইলম অর্জন, নেক আমল, উত্তম চরিত্র গঠন এবং মহান আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।   অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্বে মাওলানা বরকতুল্লাহ আশরাফ নাশিদ পরিবেশন করেন। পরে মাওলানা মুহাম্মদ সালমান বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের মাঝে যোহরের নামাজ আদায় করা হয়।   দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে উস্তাদদের পক্ষ থেকে উপহারসামগ্রী ও গিফট ব্যাগ বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও কমিউনিটির সদস্যদের ব্যাপক অংশগ্রহণে পুরো মাদরাসা প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।   বক্তারা প্রবাসে বেড়ে ওঠা মুসলিম শিশু-কিশোরদের মধ্যে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা, ইসলামী পরিচয়, আদব-আখলাক ও নৈতিক মূল্যবোধ ধরে রাখতে দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি একটি আদর্শ ও দ্বীনদার প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানানো হয়।   দারুল উলূম মিশিগানের ১২তম বার্ষিক গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের অর্জনের স্বীকৃতির পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রচেষ্টা ও ত্যাগেরও উদযাপনে পরিণত হয়।   অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, দারুল উলূম মিশিগানের উত্তরোত্তর উন্নতি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়।

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ১০:২৭
মার্থা ম্যাককে ও তাকে হত্যাকারী ট্রাভিস লুইস। ছবি: সংগৃহীত

মায়ের হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন চাকরি, ২৩ বছর পর তার হাতেই প্রাণ গেল মেয়ের

ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে বড় ব্যবধানে জয়ী কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর। ছবি: সংগৃহীত

আবারো মিনেসোটায় ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে ভূমিধস জয় ইলহান ওমরের

ফেডারেল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্ট। ছবি : সংগৃহীত।

মার্কিন নাগরিকের দিকে বন্দুক তাক করলেন আইসিই এজেন্ট, ভিডিওতে ধরা পড়ল ভয়ংকর মুহূর্ত

জোহরান কোয়ামে মামদানি। ছবি:সংগৃহীত
ধনীদের বাড়িতে কর বসাতে বাধা , মামদানির পরিকল্পনা আটকাল আদালতে

নিউইয়র্ক সিটির বিলাসবহুল সেকেন্ড হোমের ওপর নতুন পিয়েদ-আ-তের ট্যাক্স কার্যকরের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছেন স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের এক বিচারক। নিজেদের প্রাইমারি রেসিডেন্সকেও ভুলভাবে এই ট্যাক্সের আওতাভুক্ত করা হয়েছে অভিযোগ করে কয়েকজন বাড়ির মালিক মামলা করার পর আদালত এ আদেশ দেন।   রিচমন্ড কাউন্টি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ওয়েন ওজি সোমবার একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদালতের নির্দেশে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সকে প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার আবাসিক প্রপার্টির একটি প্রকাশিত তালিকা সরিয়ে নিতে বলা হয়। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে পাঠানো নোটিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতেও সাময়িকভাবে বাধা দেওয়া হয়।   তবে এই আদেশের পর নিউইয়র্ক সিটি আপিল করেছে। আপিলের কারণে বিচারকের অস্থায়ী আদেশের কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত হয়েছে। মামলার পরবর্তী হিয়ারিং নির্ধারিত রয়েছে ৩১ আগস্ট। ফলে নতুন ট্যাক্সের বাস্তবায়ন নিয়ে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি।   মূল বিরোধ ট্যাক্সটি বৈধ কি না, তা নিয়ে নয়। মামলাকারীদের আপত্তির কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ট্যাক্স কার্যকরের পদ্ধতি। তাদের অভিযোগ, কোন বাড়ি প্রকৃতপক্ষে সেকেন্ড হোম তা আগে নিশ্চিত করার বদলে সিটি কর্তৃপক্ষ বিপুলসংখ্যক প্রপার্টিকে সম্ভাব্য তালিকায় রেখেছে এবং অনেক মালিকের ওপর নিজেদের বাড়ি প্রাইমারি রেসিডেন্স প্রমাণ করার দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটির নতুন পিয়েদ-আ-তের ট্যাক্স মূলত এমন উচ্চমূল্যের আবাসিক প্রপার্টির জন্য, যেগুলো মালিকের প্রধান বাসস্থান নয়। চলতি বছরের শুরুতে মেয়র জোহরান মামদানি ও গভর্নর ক্যাথি হোকুল এই উদ্যোগ সামনে আনেন। তাদের লক্ষ্য ছিল বিলাসবহুল সেকেন্ড হোম থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করে নিউইয়র্ক সিটির বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়তা করা।   প্রাথমিক প্রস্তাবে ৫০ লাখ ডলার বা তার বেশি মূল্যের বিলাসবহুল সেকেন্ড হোমকে লক্ষ্য করার কথা বলা হলেও পরে অনুমোদিত কাঠামোয় প্রপার্টির ধরন অনুযায়ী মূল্যসীমা নির্ধারণ করা হয়। এক থেকে তিন পরিবারের বাড়ির ক্ষেত্রে ৫০ লাখ ডলার বা তার বেশি মূল্য এবং কন্ডো ও কো-অপের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ১০ লাখ ডলার থেকে ট্যাক্সের আওতায় আসার সুযোগ রাখা হয়েছে।   কিন্তু বাস্তবায়নের শুরুতেই বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়। প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার প্রপার্টির তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি প্রায় ১৭ হাজার বাড়ির মালিককে নোটিশ পাঠানো হয়। এর মধ্যে এমন অনেক মালিক রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, যারা সংশ্লিষ্ট বাড়িতেই নিয়মিত বসবাস করেন এবং সেটিই তাদের প্রাইমারি রেসিডেন্স।   মামলাটি করেছেন র‍্যাচেল ও’ব্রায়েন, কারমাইন মোরানো ও সাইমন হেডলি। তাদের দাবি, সিটির পদ্ধতির কারণে প্রকৃত নিউইয়র্কবাসীকেও অপ্রয়োজনীয়ভাবে নিজেদের বসবাসের প্রমাণ দিতে হচ্ছে। মামলায় তারা ট্যাক্সের মূল উদ্দেশ্যের পরিবর্তে এটি বাস্তবায়নে ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের ব্যবহৃত প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।   মামদানি প্রশাসনের যুক্তি, নিউইয়র্কে উচ্চমূল্যের সেকেন্ড হোম থাকা ধনী ও শহরের বাইরে বসবাসকারী মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করা হলে সাধারণ নিউইয়র্কবাসীর ওপর নতুন চাপ না দিয়েই গুরুত্বপূর্ণ সিটি সার্ভিসে অর্থায়ন সম্ভব হবে। মেয়র ও গভর্নর উদ্যোগটি ঘোষণার সময় বছরে প্রায় ৫০ কোটি ডলার রাজস্ব আসতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিলেন।   তবে নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রোলারের অফিসের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ট্যাক্সটির নকশা ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রকৃত রাজস্ব নির্ভর করবে। তাদের হিসাবে বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ৫১ কোটি ডলার সংগ্রহ সম্ভব হলেও বিভিন্ন অনিশ্চয়তার কারণে তা ৩৪ কোটি থেকে ৩৮ কোটি ডলারের মধ্যেও নেমে আসতে পারে।   এখন আদালতের সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, সিটি কর্তৃপক্ষ ট্যাক্সের আওতাভুক্ত প্রপার্টি চিহ্নিত করতে আইনসম্মত ও যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করেছে কি না। ৩১ আগস্টের পরবর্তী কোর্ট হিয়ারিংয়ে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা আসতে পারে। তার আগে মামদানি প্রশাসনের বহুল আলোচিত এই নতুন ট্যাক্সের বাস্তবায়ন ঘিরে আইনি অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ৮:২৪
ড্রাইভিং এ ফেল হওয়ার প্রতীকী।ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ড্রাইভিং টেস্টে ফেল হওয়ার বড় ৩ কারণ, শুরুতেই যা যাচাই করেন ইন্সপেক্টর

আফগানিস্তানে তালেবান শাসন এবং সেখানে নারী শিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতি ও সংকটের চিত্র। ছবি:সংগৃহীত

তালেবান শাসনে স্কুলে ফিরতে পারছে না ২৪ লাখ আফগান মেয়ে, মুছে যাচ্ছে দুই দশকের অগ্রগতি

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার ৬ বছর বয়সী একটি অটিস্টিক শিশু জন মেদিনা এবং তার পরিবার। ছবি:সংগৃহীত

স্যান্ডউইচে বন্দুকের আকৃতি বানিয়ে সহপাঠীকে তাক করায় ৬ বছরের অটিজম শিশু বরখাস্ত

0 Comments