সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

জুলাইয়ে আইসিইর রেকর্ড অভিযান, গ্রেফতার ৫১ হাজার অভিবাসী

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৮:২৫
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্মকর্তাদের দ্বারা এক ব্যক্তিকে আটক করার দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্মকর্তাদের দ্বারা এক ব্যক্তিকে আটক করার দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইমিগ্রেশন অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। জুলাই মাসে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই প্রায় ৫১ হাজার অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছে। এক মাসে আইসিইর গ্রেফতারের হিসাবে এটি নতুন রেকর্ড। জুনে প্রায় ৪৩ হাজার গ্রেফতারের আগের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে জুলাইয়ের সংখ্যা।

 

দ্য ইনডিপেনডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জুলাইয়ে প্রায় ৫১ হাজার গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একাধিক ফেডারেল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে গ্রেফতার করেছে আইসিই।

 

ট্রাম্প প্রশাসনের বড় পরিসরের ডিপোর্টেশন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট বাড়ানোর মধ্যেই এই রেকর্ড হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইসিইকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক গ্রেফতারের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি আগে বলেছে, আইসিইর কোনো আনুষ্ঠানিক গ্রেফতার কোটা নেই।

 

জুলাইয়ের অভিযান শুধু বাসাবাড়ি বা কর্মস্থলে সীমাবদ্ধ ছিল না। এয়ারপোর্ট, ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত বিভিন্ন অফিস এবং ট্রাফিক স্টপেও গ্রেফতার চালিয়েছে ফেডারেল এজেন্টরা। বিশেষ করে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে এয়ারপোর্টে নজরদারি বাড়ানোর তথ্য সামনে এসেছে।

 

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এয়ারপোর্টে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৪০ জন অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকো, মায়ামি ও মিসৌরির কানসাস সিটির এয়ারপোর্টে গেট ও টিকিট কাউন্টারের কাছেও ফেডারেল এজেন্টদের গ্রেফতার অভিযান চালানোর খবর পাওয়া গেছে।

 

তবে রেকর্ড গ্রেফতারের পাশাপাশি কাদের আটক করা হচ্ছে, তা নিয়েও বিতর্ক চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, তাদের অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য অপরাধের রেকর্ড থাকা অনথিভুক্ত অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়া। অন্যদিকে জুলাইয়ের শুরুর দিকের ডিটেনশন তথ্য বিশ্লেষণ করে স্টেটলাইন জানিয়েছিল, আইসিই হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের এক-তৃতীয়াংশেরও কমের ক্রিমিনাল কনভিকশন ছিল। দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, তারা ওই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

 

জুলাইয়ের অভিযানকে ঘিরে ট্রাফিক স্টপও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। হিউস্টনে ৫২ বছর বয়সী মেক্সিকান নাগরিক লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো এবং মেইনে ২৫ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক জোয়ান সেবাস্তিয়ান গেরেরো এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে নিহত হন। দুটি ঘটনাই ট্রাফিক স্টপের সময় ঘটে।

 

গেরেরোর ঘটনায় ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বলেছে, জননিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কারণে একজন আইসিই অফিসার গুলি চালান। সালগাদো আরাউহোর ঘটনায় সংস্থাটির দাবি, আত্মরক্ষায় গুলি চালানো হয়েছিল। এসব ঘটনার পর ট্রাফিক স্টপ ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন গ্রেফতার নিয়ে সমালোচনা ও প্রতিবাদ বাড়ে।

 

দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাণহানির পর ট্রাফিক স্টপ সাময়িকভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্রুত সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন। জুলাইয়ের মাঝামাঝি তিনি ট্রাফিক স্টপকে আইসিইর গুরুত্বপূর্ণ এনফোর্সমেন্ট টুল হিসেবে উল্লেখ করে এটি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন।

 

চলতি বছরের শুরুতে মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে আইসিইর অভিযান কিছুটা ধীর হয়েছিল। পরবর্তী মাসগুলোতে আবার গ্রেফতার বাড়তে শুরু করে। জুনে ৪৩ হাজারের বেশি মানুষকে আইসিই ডিটেনশনে নেওয়ার পর জুলাইয়ে সেই সংখ্যাও ছাড়িয়ে যায়।

 

রেকর্ড গ্রেফতারের পেছনে আইসিইর জনবল ও অর্থায়ন বৃদ্ধিকেও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফেডারেল সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নতুন হাজারো এজেন্ট নিয়োগ এবং ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের ফলে দেশজুড়ে অভিযান আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হয়েছে।

 

জুলাইয়ের ৫১ হাজার গ্রেফতার দেখাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট এখন আরও বড় পরিসরে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে এয়ারপোর্ট ও ট্রাফিক স্টপের মতো জায়গায় অভিযান বিস্তৃত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য আইসিইর এনফোর্সমেন্টের পরিধিও আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিসহ ছয় রাজ্যে ঝড়, শত শত ফ্লাইট বাতিল
নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিসহ ছয় রাজ্যে ঝড়, শত শত ফ্লাইট বাতিল, বিদ্যুৎহীন লক্ষাধিক মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড ও পেনসিলভানিয়ায় শক্তিশালী উপকূলীয় ঝড়ে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়। ঝড়ের একপর্যায়ে এক লাখের বেশি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার রাত পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট ৪৪৫টি ফ্লাইট বাতিল এবং ৩ হাজার ১৬টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। বোস্টনের লোগান বিমানবন্দরেও বহু ফ্লাইট বাতিল হয়।    শনিবার রাতের পরের হিসাবে ওই ছয় রাজ্যে ৭৩ হাজারের বেশি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ছিল না। এর আগে দিনের একপর্যায়ে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন গ্রাহকের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছিল।   ভারী বৃষ্টি ও দমকা বাতাসে নিউ জার্সির কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় পানি ঢুকেছে। আবহাওয়া বিভাগ উপকূলীয় বন্যা ও প্রবল স্রোতের বিষয়ে সতর্ক করেছে। ঝড়ের আগেই নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির গভর্নররা বেশি ক্ষতির আশঙ্কায় থাকা কয়েকটি এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ০:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালমার্টের দোকানগুলোতে কাগজের মূল্যতালিকার পরিবর্তে ডিজিটাল লেবেল ব্যবহার বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

সুপারমার্কেটে ডিজিটাল মূল্য তালিকা নিয়ে উদ্বেগ, ক্রেতাদের আশ্বস্ত করল ওয়ালমার্ট

নিউইয়র্কের CUNY ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্নাতক সম্পন্নের হার নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে কমছে গ্র্যাজুয়েশনের হার, উঠছে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন

প্রতীকী ছবি

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে নির্মাণ হবে ৮ মিলিয়ন ডলারের মসজিদ

নিউইয়র্কের গ্রিনউইচ ভিলেজের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের লবিতে ডেলিভারি কর্মীর কর্মকাণ্ড নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ডেলিভারি দিতে গিয়ে অ্যাপার্টমেন্টের লবিতে প্রস্রাব, ক্যামেরায় ধরা পড়লেন কর্মী

নিউইয়র্কের গ্রিনউইচ ভিলেজের একটি অভিজাত অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের লবিতে প্রস্রাব করার অভিযোগ উঠেছে এক অ্যামাজন ডেলিভারি কর্মীর বিরুদ্ধে। ভবনের বাসিন্দার রিং ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে ঘটনাটি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় ওই বাসিন্দার বেশ কিছু ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি গত ২৬ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে ব্লিকার স্ট্রিট ও কারমাইন অ্যাভিনিউয়ের কাছাকাছি একটি চারতলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ঘটে। ডনি নামে ৩০ বছর বয়সী এক বাসিন্দা ঘটনার শিকার হয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে তার পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যামাজনের হালকা নীল ও ধূসর রঙের পোশাক পরা এক ডেলিভারি কর্মী ভবনের প্রবেশপথে এসে ইলেকট্রনিক দরজার ঘণ্টা বাজান। ডনি তাকে ভবনের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেন। তখন ওই কর্মীর আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা তিনি লক্ষ্য করেননি।   পরে রিং ক্যামেরার ভিডিও দেখার সময় তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ডেলিভারি কর্মী লবিতে ঢোকার পর চারপাশে তাকান। এরপর তিনি প্যান্ট খুলে ভবনের করিডোর ও সেখানে থাকা কয়েকটি আসবাবের ওপর প্রস্রাব করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   ডনি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ওই ব্যক্তি এমনভাবে ভবনের ভেতরের দিকে চলে যান, যেন তিনি এর আগেও সেখানে বহুবার এসেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, করিডোরে রাখা জুতা, একটি চেয়ার ও একটি টেবিল ওই তরলের সংস্পর্শে আসে।   ঘটনার পর ডনি অ্যামাজনের কাছে বিষয়টি জানান। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ঘটনাটিকে অত্যন্ত খারাপ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করে এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাকে ৫০ ডলারের একটি উপহার কার্ড দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে ডনি সেটি গ্রহণ করেননি।   ডনির দাবি, প্রস্রাবে ভিজে যাওয়ার কারণে জুতা, চেয়ার ও টেবিলসহ কয়েকটি জিনিস তিনি আর ব্যবহার করতে পারেননি এবং শেষ পর্যন্ত সেগুলো ফেলে দিতে হয়েছে। ঘটনাটির পর ভবনে কোনো ডেলিভারি কর্মী প্রবেশ করলে তিনি এখন ক্যামেরায় নজর রাখেন বলেও জানিয়েছেন।   তিনি বলেন, ভবনে তার পাঁচ বছর বয়সী ভাগনেও নিয়মিত আসে। ডনির আশঙ্কা, ওই সময় তার পরিবারের কেউ বা অতিথি বাইরে বের হলে তাদের সামনে এমন ঘটনা ঘটতে পারত।   ঘটনাটি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। আইনজীবী ক্যারি লন্ডন জানিয়েছেন, অ্যামাজনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের বিভিন্ন পথ তারা খতিয়ে দেখছেন। তবে শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে অ্যামাজনের নীতিতেও পরিবর্তন চান তারা।   অ্যামাজন অবশ্য ওই কর্মীর কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র লেই অ্যান গুলেট এক বিবৃতিতে বলেন, ঘটনাটি অ্যামাজনের ডেলিভারি সার্ভিস পার্টনারদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ওই ব্যক্তি অ্যামাজনের সরাসরি কর্মী ছিলেন না। তিনি অ্যামাজনের একটি স্বাধীন ডেলিভারি সার্ভিস পার্টনার প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করতেন।   অ্যামাজন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর অ্যামাজনের প্যাকেজ সরবরাহ করছেন না। তবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। অ্যামাজনের ডেলিভারি ব্যবস্থায় চালকদের জন্য বিশ্রাম ও শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ থাকার কথাও প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে চালকদের কাছাকাছি শৌচাগারের অবস্থান দেখানো হয়। পাশাপাশি তাদের সময়সূচিতে ৩০ মিনিটের মধ্যাহ্নভোজের বিরতি এবং দুটি ১৫ মিনিটের বিরতির ব্যবস্থা রয়েছে।   ঘটনার বিষয়ে কোনো গ্রেপ্তার, পুলিশি তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ভিডিওতে দেখা ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগতভাবে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্যও প্রকাশ্যে নেই।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ২১:১৮
যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড ও বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, সিনেটে নতুন বিল উত্থাপন

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে মর্টগেজের সুদ বাড়ার গতিতে বড় পার্থক্য দেখা গেছে

বাড়ি কিনতে খরচ বাড়ছে কোথায়, কমছে কোন রাজ্যে- দেখুন তালিকা

গাড়ির দাম কমাতে জ্বালানি সাশ্রয়ের নিয়ম শিথিল করছে ট্রাম্প প্রশাসন

গাড়ির দাম কমাতে জ্বালানি সাশ্রয়ের নিয়ম শিথিল করছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে ভিজিটর ভিসা নয়, ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিয়ে সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিজিটর ভিসায় ভ্রমণ অনুমোদিত নয় বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। বি-১ ও বি-২ ভিসা মূলত ব্যবসায়িক কাজ, পর্যটন, ছুটি কাটানো, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং নির্দিষ্ট চিকিৎসার মতো অস্থায়ী ভ্রমণের জন্য দেওয়া হয়।   যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণকে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বলা হয়। এই উদ্দেশ্যকে ভ্রমণের প্রধান কারণ হিসেবে নিয়ে ভিজিটর ভিসা ব্যবহার করা যাবে না।   বি-১ ভিসা সাধারণত অস্থায়ী ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে বি-২ ভিসা পর্যটন, অবকাশযাপন, আত্মীয় বা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা এবং নির্দিষ্ট চিকিৎসার মতো উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়।   ভিসার আবেদন যাচাইয়ের সময় মার্কিন কনস্যুলার কর্মকর্তারা আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, নিজ দেশের সঙ্গে তার সম্পর্ক, সফর শেষে দেশে ফেরার অভিপ্রায় এবং ভ্রমণের খরচ বহনের সক্ষমতা বিবেচনা করেন। এ ক্ষেত্রে চাকরি, পরিবার বা নিজ দেশে ফেরার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য প্রমাণ চাওয়া হতে পারে।   তবে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে বি-২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা এবং চিকিৎসা ও ভ্রমণের খরচ বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়ার পরও দেশটিতে প্রবেশের নিশ্চয়তা থাকে না। বিমানবন্দর বা সীমান্তে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের কর্মকর্তারা ভ্রমণকারীর কাগজপত্র ও ভ্রমণের উদ্দেশ্য যাচাই করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।   এ ছাড়া অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে ভিসা বাতিল হয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই ভিসার আবেদন করার সময় ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য সঠিকভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৯:১০
আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের কাছে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে সন্দেহজনক যানবাহন পরীক্ষা করছে ব্রিটিশ বাহিনী

বি স্ফো র ক-সংক্রান্ত আইনের আওতায় মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছে পাঁচজন আ টক

রিচমন্ডের হাসপাতালে জরুরি বিভাগের নেতৃত্বে যমজ চিকিৎসক ট্রাভান ও ট্রাভিস জ্যাসপার

একসময় পানি আনতে হতো পার্ক থেকে, আজ সেই শহরেই চিকিৎসক দুই ভাই

ক্যালিফোর্নিয়ায় পরপর দুই ভূ ক ম্পনে বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়

ক্যালিফোর্নিয়ায় পরপর দুই ভূ ক ম্পন, কেঁপে উঠল বিস্তীর্ণ এলাকা

0 Comments