- প্রচ্ছদ
- Topic
গ্রেফতার
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইমিগ্রেশন অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। জুলাই মাসে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই প্রায় ৫১ হাজার অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছে। এক মাসে আইসিইর গ্রেফতারের হিসাবে এটি নতুন রেকর্ড। জুনে প্রায় ৪৩ হাজার গ্রেফতারের আগের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে জুলাইয়ের সংখ্যা। দ্য ইনডিপেনডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জুলাইয়ে প্রায় ৫১ হাজার গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একাধিক ফেডারেল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে গ্রেফতার করেছে আইসিই। ট্রাম্প প্রশাসনের বড় পরিসরের ডিপোর্টেশন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট বাড়ানোর মধ্যেই এই রেকর্ড হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইসিইকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক গ্রেফতারের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি আগে বলেছে, আইসিইর কোনো আনুষ্ঠানিক গ্রেফতার কোটা নেই। জুলাইয়ের অভিযান শুধু বাসাবাড়ি বা কর্মস্থলে সীমাবদ্ধ ছিল না। এয়ারপোর্ট, ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত বিভিন্ন অফিস এবং ট্রাফিক স্টপেও গ্রেফতার চালিয়েছে ফেডারেল এজেন্টরা। বিশেষ করে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে এয়ারপোর্টে নজরদারি বাড়ানোর তথ্য সামনে এসেছে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এয়ারপোর্টে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৪০ জন অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকো, মায়ামি ও মিসৌরির কানসাস সিটির এয়ারপোর্টে গেট ও টিকিট কাউন্টারের কাছেও ফেডারেল এজেন্টদের গ্রেফতার অভিযান চালানোর খবর পাওয়া গেছে। তবে রেকর্ড গ্রেফতারের পাশাপাশি কাদের আটক করা হচ্ছে, তা নিয়েও বিতর্ক চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, তাদের অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য অপরাধের রেকর্ড থাকা অনথিভুক্ত অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়া। অন্যদিকে জুলাইয়ের শুরুর দিকের ডিটেনশন তথ্য বিশ্লেষণ করে স্টেটলাইন জানিয়েছিল, আইসিই হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের এক-তৃতীয়াংশেরও কমের ক্রিমিনাল কনভিকশন ছিল। দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, তারা ওই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। জুলাইয়ের অভিযানকে ঘিরে ট্রাফিক স্টপও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। হিউস্টনে ৫২ বছর বয়সী মেক্সিকান নাগরিক লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো এবং মেইনে ২৫ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক জোয়ান সেবাস্তিয়ান গেরেরো এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে নিহত হন। দুটি ঘটনাই ট্রাফিক স্টপের সময় ঘটে। গেরেরোর ঘটনায় ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বলেছে, জননিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কারণে একজন আইসিই অফিসার গুলি চালান। সালগাদো আরাউহোর ঘটনায় সংস্থাটির দাবি, আত্মরক্ষায় গুলি চালানো হয়েছিল। এসব ঘটনার পর ট্রাফিক স্টপ ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন গ্রেফতার নিয়ে সমালোচনা ও প্রতিবাদ বাড়ে। দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাণহানির পর ট্রাফিক স্টপ সাময়িকভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্রুত সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন। জুলাইয়ের মাঝামাঝি তিনি ট্রাফিক স্টপকে আইসিইর গুরুত্বপূর্ণ এনফোর্সমেন্ট টুল হিসেবে উল্লেখ করে এটি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। চলতি বছরের শুরুতে মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে আইসিইর অভিযান কিছুটা ধীর হয়েছিল। পরবর্তী মাসগুলোতে আবার গ্রেফতার বাড়তে শুরু করে। জুনে ৪৩ হাজারের বেশি মানুষকে আইসিই ডিটেনশনে নেওয়ার পর জুলাইয়ে সেই সংখ্যাও ছাড়িয়ে যায়। রেকর্ড গ্রেফতারের পেছনে আইসিইর জনবল ও অর্থায়ন বৃদ্ধিকেও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফেডারেল সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নতুন হাজারো এজেন্ট নিয়োগ এবং ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের ফলে দেশজুড়ে অভিযান আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হয়েছে। জুলাইয়ের ৫১ হাজার গ্রেফতার দেখাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট এখন আরও বড় পরিসরে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে এয়ারপোর্ট ও ট্রাফিক স্টপের মতো জায়গায় অভিযান বিস্তৃত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য আইসিইর এনফোর্সমেন্টের পরিধিও আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে স্কুলের প্রথম দিনের ছবি তুলতে রাজি না হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির ছেলেকে অভিনব কায়দায় শিক্ষা দিলেন এক মা। স্থানীয় এক পুলিশ অফিসারের সহায়তায় ছেলেকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ‘গ্রেফতারের’ অভিনয় করানো হয়। তবে এটি কোনো সত্যিকারের গ্রেফতার ছিল না, পুরো ঘটনাটিই ছিল মা, ছেলে ও পুলিশ অফিসারের মজার আয়োজন। ঘটনাটি ঘটেছে কলোরাডোর কীনসবার্গে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী কোল্টন সোমবার সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে মায়ের সঙ্গে প্রথম দিনের প্রচলিত ‘ব্যাক টু স্কুল’ ছবি তুলতে রাজি হচ্ছিল না। মা আমান্ডা স্টলজ তখন স্থানীয় পুলিশ অফিসার জ্যাকের সহায়তা নেন। অফিসার জ্যাকও বিষয়টিকে মজার ছলে নেন। তিনি কোল্টনের হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে বোঝানোর অভিনয় করেন যে, স্কুলের প্রথম দিনে মায়ের সঙ্গে ছবি তুলতে অস্বীকৃতি জানানো নাকি ‘আইনবিরোধী’। পরে ছেলেটিকে পুলিশ গাড়ির পেছনের সিটে বসিয়েও ছবি তোলা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, পুরো ঘটনাটি উপভোগ করছে কোল্টন। হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায়ও তাকে হাসতে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে পুলিশ গাড়ির পেছনে বসে হাসছে সে, সামনে দাঁড়িয়ে আছেন অফিসার জ্যাক। অবশ্য কোল্টনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি এবং তাকে প্রকৃত অর্থে আটকও করা হয়নি। ঘটনাটি ছিল স্কুলের প্রথম দিনের স্মৃতি ধরে রাখতে মা ও স্থানীয় পুলিশ অফিসারের পরিকল্পিত কৌতুক। অমান্ডা পরে মজা করে লেখেন, তার ছেলে স্কুলে যাওয়ার আগে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় পড়েছিল। অফিসার জ্যাক তাকে বুঝিয়েছেন, স্কুলের প্রথম দিনের ছবি তুলতে মাকে অস্বীকার করা নাকি সত্যিই ‘আইনের বিরুদ্ধে’। ঘটনার পর অমান্ডা স্থানীয় পুলিশ অফিসারদের প্রশংসাও করেন। তার মতে, শিশুদের সঙ্গে এ ধরনের আনন্দঘন মুহূর্ত তৈরি করা তাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকে এবং কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে পুলিশ অফিসারদের সম্পর্ক তৈরিতেও ভূমিকা রাখে। অমান্ডা বলেন, শেষ পর্যন্ত তারা কোল্টনের স্কুলে ফেরার দিনের ছবিও পেয়ে গেছেন। ফলে যে ছবি তুলতে রাজি না হওয়া থেকে পুরো ঘটনার শুরু, পুলিশের মজার ‘গ্রেফতারের’ সুবাদে সেই ছবিই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে পরিবারের জন্য ব্যতিক্রমী এক স্মৃতি।
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে আইসিইর মাঠপর্যায়ের অফিসারদের ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতারের সুযোগ বাড়িয়েছে সংস্থাটির নতুন ব্যাখ্যা, অন্যদিকে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। একই সময়ে ম্যাসাচুসেটস আইসিইর সিভিল ইমিগ্রেশন কার্যক্রমে রাজ্য ও স্থানীয় সংস্থার সহযোগিতা সীমিত করে নতুন আইন কার্যকর করেছে। ১২ আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই তিনটি পরিবর্তনের মধ্যে আইসিইর ওয়ারেন্টবিহীন গ্রেফতারের নীতিটি একেবারে নতুন নয়। ভারপ্রাপ্ত আইসিই পরিচালক টড লায়ন্স গত ২৮ জানুয়ারি একটি অভ্যন্তরীণ মেমোর মাধ্যমে এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দেন। পরে আদালতে জমা দেওয়া নথির মাধ্যমে ওই নির্দেশনার বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইসিই অফিসারদের ওয়ারেন্ট ছাড়াই কাউকে গ্রেফতারের ক্ষমতা আগে থেকেই রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে অফিসারের কাছে ওই ব্যক্তি ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ থাকতে হবে এবং ওয়ারেন্ট সংগ্রহের আগেই তিনি সরে যেতে পারেন বা তাকে আর খুঁজে পাওয়া নাও যেতে পারে, এমন সম্ভাবনাও থাকতে হবে। নতুন নির্দেশনায় মূল পরিবর্তন এসেছে আইনের “likely to escape” বা ওয়ারেন্ট পাওয়ার আগেই সরে যাওয়ার সম্ভাবনা সংক্রান্ত অংশের ব্যাখ্যায়। আগে আইসিই এই বিষয়টিকে অনেকটা ভবিষ্যতে কোর্ট হিয়ারিং বা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় হাজির না হওয়ার ঝুঁকি বা “ফ্লাইট রিস্কের” সঙ্গে মিলিয়ে দেখত। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দুটি বিষয় এক নয়। এখন অফিসারকে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, প্রশাসনিক অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করতে যে সময় লাগবে, সেই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে একই জায়গা বা অন্য কোনো স্পষ্টভাবে শনাক্তযোগ্য স্থানে পাওয়া যাবে কি না। অর্থাৎ ভবিষ্যতে তিনি কোর্টে হাজির হবেন কি না, তার বদলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে আইসিই যেকোনো ব্যক্তিকে কোনো কারণ ছাড়াই ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করতে পারবে। নির্দেশনা অনুযায়ী, ওয়ারেন্টবিহীন সিভিল ইমিগ্রেশন গ্রেফতারের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণযোগ্য এবং ওয়ারেন্ট পাওয়ার আগেই সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এই দুই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ভিত্তি থাকতে হবে। গ্রেফতারের পর সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে বিবেচিত কারণ নথিভুক্ত করার নির্দেশনাও রয়েছে। টার্গেটেড অপারেশনে আইসিই অফিসারদের সম্ভব হলে আগেই প্রশাসনিক অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। তবে অভিযান চলাকালে মূল টার্গেটের বাইরে অন্য কোনো সম্ভাব্য অপসারণযোগ্য অভিবাসীর মুখোমুখি হলে এবং সময়মতো ওয়ারেন্ট পাওয়া সম্ভব না হলে নতুন ব্যাখ্যার অধীনে ওয়ারেন্টবিহীন গ্রেফতারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ধরনের গ্রেফতারকে সাধারণভাবে “কোল্যাটারাল অ্যারেস্ট” বলা হয়। এই নীতির বৈধতা নিয়েও আদালতে বিরোধ চলছে। কলোরাডোতে একটি ফেডারেল আদালত এর আগে আইসিইকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানের সন্দেহই ওয়ারেন্টবিহীন গ্রেফতারের জন্য যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ওয়ারেন্ট পাওয়ার আগেই সরে যেতে পারেন, এমন সিদ্ধান্তেরও ব্যক্তি ও পরিস্থিতিভিত্তিক আইনি ভিত্তি থাকতে হবে। এদিকে আইসিইর বডি ক্যামেরা কর্মসূচিতে আগস্টে বড় পরিবর্তন এসেছে। জুলাইয়ে টেক্সাস ও মেইনে আইসিই কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক ঘটনায় দুই অভিবাসী নিহত হওয়ার পর বডি ক্যামেরা নিয়ে কংগ্রেস ও জনপরিসরে চাপ বাড়ে। ওই দুটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ বডি ক্যামেরা রেকর্ডিং না থাকায় স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। প্রাথমিকভাবে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ দেশজুড়ে বডি ক্যামেরা চালুর কথা সামনে এলেও ৮ আগস্ট আইসিইর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডেভিড ভেনচুরেলা জানান, আগস্টের শেষ নাগাদ সব অফিসার ও এজেন্টের কাছে বডি ক্যামেরা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। ফলে আগের সেপ্টেম্বরের সময়সীমার তুলনায় সর্বশেষ ঘোষণায় কর্মসূচি দ্রুত সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। জুলাইয়ে বডি ক্যামেরা কেনার জন্য প্রায় ৩০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তথ্যও সামনে এসেছে। গাড়ি থামিয়ে পরিচালিত এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে অন্তত একটি বডি ক্যামেরায় ঘটনা রেকর্ড করার নির্দেশনার কথাও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি ভিডিও প্রকাশের নীতি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। আইসিইর নীতিমালায় মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ফুটেজ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংস্থাটির উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা এবং পরিচালকের সিদ্ধান্তের সুযোগ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভিডিও প্রকাশ বিলম্বিত বা আটকে রাখা যেতে পারে। প্রকাশিত ফুটেজে অফিসারদের পরিচয় এবং সংবেদনশীল তথ্যও ঝাপসা বা গোপন করা হতে পারে। অন্যদিকে ফেডারেল পর্যায়ে আইসিইর তৎপরতা বাড়ার মধ্যেই ম্যাসাচুসেটস ভিন্ন পথে এগিয়েছে। গভর্নর মরা হিলি ৫ আগস্ট একটি বিস্তৃত ইমিগ্রেশন সুরক্ষা আইনে স্বাক্ষর করেন। প্রোটেক্ট অ্যাক্ট নামে পরিচিত আইনটি স্কুল, চাইল্ড কেয়ার সেন্টার, কোর্টহাউস এবং হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল স্থানে সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। আইনটির গুরুত্বপূর্ণ অংশের মধ্যে রয়েছে রাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থার নতুন ২৮৭(জি) চুক্তিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত করা। এ ধরনের চুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তারা ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের কিছু দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা পান। নতুন আইনে রাজ্য ও স্থানীয় সম্পদ সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা আনা হয়েছে। তবে ম্যাসাচুসেটসের আইনকে সরাসরি “আইসিই নিষিদ্ধ” করার আইন হিসেবে বর্ণনা করা সঠিক হবে না। ফেডারেল সংস্থা হিসেবে আইসিই ম্যাসাচুসেটসেও ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগ করতে পারে। নতুন আইনটির মূল লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট সংবেদনশীল স্থানে সিভিল ইমিগ্রেশন গ্রেফতার সীমিত করা এবং ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে রাজ্য ও স্থানীয় সংস্থার অংশগ্রহণ ও সম্পদ ব্যবহারে বাধা তৈরি করা। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট নিয়ে এখন দুই বিপরীতমুখী প্রবণতা স্পষ্ট। ফেডারেল পর্যায়ে আইসিই মাঠপর্যায়ে ওয়ারেন্টবিহীন গ্রেফতারের বিদ্যমান ক্ষমতাকে আরও বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করছে এবং দেশজুড়ে বডি ক্যামেরা চালু করছে। অন্যদিকে ম্যাসাচুসেটসের মতো রাজ্যগুলো নিজেদের আইন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে সহযোগিতার সীমা আরও সংকুচিত করছে।
একাধিক মামলায় গ্রেফতার হওয়া পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান খান (মনির খান) মারা গেছেন। বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মনির খান পটুয়াখালী সদর উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ফেডারেশনের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৯ জুন কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৪ জুন আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয় এবং দুই দিন পর লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার তার মৃত্যু হয়। এর আগে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হাতে হাতকড়া পরানো একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে তার বিরুদ্ধে থাকা সব মামলায় জামিন মঞ্জুর হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তিনি হাসপাতাল থেকে আর সুস্থ হয়ে ফিরতে পারেননি। তার স্ত্রী সালমা জাহান জানান, সর্বশেষ ৩০ জুলাই তার বিরুদ্ধে থাকা শেষ মামলাতেও তিনি জামিন পান। এর আগে বাকি সাতটি মামলায়ও আদালত তাকে জামিন দেন। হাতকড়া পরা ছবি প্রকাশের পর সমালোচনার মুখে পুলিশ তার হাত থেকে হাতকড়া খুলে দেয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মনির খান আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিন্টো রোড এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে ঢাকায় ছয়টি এবং পটুয়াখালী সদর থানায় দুটি, মোট আটটি মামলা ছিল। পরিবার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী সদর উপজেলা মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
রাজশাহীর পবা উপজেলায় এক শিশুকন্যাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় এক নেতা এবং গ্রাম্য চিকিৎসক ওমর ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার পাকারমাথা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলা রজু হওয়ার পর নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ওমর ফারুক নিজ বাড়িতে শিশুদের প্রাইভেট পড়াতেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ২২ দিন আগে তিনি ওই শিশুকন্যাকে একা পেয়ে যৌন নির্যাতন করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি বাড়ি ফিরে মাকে বিষয়টি জানায়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় তারা থানায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অভিযোগ অস্বীকার করে ওমর ফারুক দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক। তার বাবা মজিবুর রহমানও একই সুরে অভিযোগকে ‘কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছী ইউনিয়নের আমির আব্দুর রহমান মিলন জানিয়েছেন, আসামি ওমর ফারুক তাদের ইউনিটের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকন পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্তে তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’ উল্লেখ্য, যৌন হয়রানির শিকার ওই শিশুটির বয়স মাত্র ৯ বছর। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হলে তা দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিউইয়র্ক বাফলোর ইউনিভার্সিটি ডিস্ট্রিক্টে এক বাংলাদেশিকে মারধরের অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বাফলো প্রতিদিন এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় সেকেন্ড-ডিগ্রি অ্যাসল্ট ও গ্যাং অ্যাসল্ট অভিযোগে মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত আরও দুজনকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাফলো পুলিশের আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি এখনো প্রকাশিত হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে বাফলোর ইউনিভার্সিটি ডিস্ট্রিক্টের রোজ সুপার মার্কেটের পার্কিং লটে এ ঘটনা ঘটে। আহত আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি দুই বন্ধুকে নিয়ে নায়াগ্রা ফলসে যাওয়ার জন্য ১০০ ডলারে একটি রাইডের ব্যবস্থা করেছিলেন। গাড়িতে ওঠার পর রাইড নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। আরিফুল ইসলামের অভিযোগ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষই পুলিশে ফোন করে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। তার দাবি, এ সময় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়, চশমা ভেঙে ফেলা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার সকালে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাফলো প্রতিদিন-এর তথ্যমতে, গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন আব্দুল মান্নান তাজু ও জাহাঙ্গীর সম্রাট। এছাড়া গিয়াস উদ্দিন ও মাসুক নামে আরও দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাদের ভূমিকা তদন্ত করছে। আহত আরিফুল ইসলাম আরও দাবি করেন, তিনি সম্প্রতি কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন এবং একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। মারধরের ঘটনায় তিনি বুকে, মাথায়, হাতে ও কোমরে আঘাত পেয়েছেন বলে জানান। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় তাকে বিশ্রাম ও থেরাপি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তিকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা জামিন পেয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে, অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে বাফলো প্রতিদিন জানিয়েছে।
মাদক মামলায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে অভিনব কৌশল নিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানা পুলিশ। পুলিশের ইউনিফর্ম ছেড়ে লুঙ্গি পরে খালি গায়ে কৃষকের ছদ্মবেশে ফসলের মাঠে প্রবেশ করে শেষ পর্যন্ত ওই আসামিকে আটক করেন এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। শনিবার, ২৫ জুলাই সন্ধ্যায় নাচোল উপজেলার বাইরে নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার রাওতা গ্রামের একটি ফসলি মাঠে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নাচোল থানার এএসআই ফরহাদ হোসেন। গ্রেফতার ব্যক্তি সুশীল (পুলিশের নথি অনুযায়ী পূর্ণ নাম), যিনি নাচোল উপজেলার রাজবাড়ী হাট টাওয়ারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় প্রায় তিন মাস আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুগ্ম দায়রা জজ আদালত-২ সুশীলকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতারের জন্য একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও তিনি প্রতিবারই কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, সুশীল নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার একটি ফসলি মাঠে কৃষিকাজ করছেন। সন্দেহ এড়াতে এএসআই ফরহাদ হোসেন নিজের সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যদের পাশের একটি বাজারে অবস্থান নিতে নির্দেশ দেন। এরপর তিনি নিজেই কৃষকের বেশ ধারণ করে মাঠে প্রবেশ করেন। এএসআই ফরহাদ হোসেন জানান, কাছে পৌঁছাতেই সুশীল তাকে চিনতে পেরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সুশীলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আদালতের রায় কার্যকর করতে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে নাচোল থানা পুলিশ।
রাশিয়ায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিক মুসলিম ধর্মীয় নেতা, মুফতি এবং মুসলিম কমিউনিটির প্রতিনিধিদের গ্রেফতার ও আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির মুসলিম সমাজে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী, বিশ্লেষক এবং কিছু স্বাধীন গণমাধ্যমের মতে, এসব ঘটনা শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়; বরং এর সঙ্গে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রের পরিচয়গত অবস্থানের প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে। বিবিসি মনিটরিংয়ের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মে মাসে রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী অন্তত আটজন মুসলিম আলেম ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিকে আটক করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ, প্রশাসনিক অবাধ্যতা থেকে শুরু করে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মতো বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, এসব অভিযোগের পেছনে রাজনৈতিক ও আদর্শিক কারণও থাকতে পারে। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন কারেলিয়ার সাবেক মুফতি উইসাম বার্দভিল। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের তথ্য অনুযায়ী, মস্কোর শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরে পুলিশের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া মর্দোভিয়া প্রজাতন্ত্রের মুফতি রয়াল আসেনভকেও ঘুষ দাবির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়। রুশ গণমাধ্যম কোমেরসান্তের প্রতিবেদনে আরও কয়েকজন মুসলিম ধর্মীয় নেতার নাম উঠে এসেছে, যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। কিছু মামলায় অভিযুক্তদের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্ক থাকার অভিযোগও আনা হয়েছে। রাশিয়া ২০০৩ সালে মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তবে গ্রেফতারগুলোর পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট সামনে এসেছে। মে মাসের শুরুতে রাশিয়ার স্পিরিচুয়াল বোর্ড অব মুসলিমস (ডিইউএম)-এর প্রধান রাভিল গাইনুতদিন প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin-এর কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠান। সেখানে তিনি আবাসিক ভবনে ধর্মীয় সমাবেশ ও জামাতবদ্ধ নামাজ কার্যত নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবিত আইনের বিরোধিতা করেন। চিঠিতে তিনি সতর্ক করে বলেন, আইনটি কার্যকর হলে মুসলমানদের সাংবিধানিক ধর্মীয় অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনকি আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের বাড়িতে একসঙ্গে নামাজ আদায় করাও আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশে পর্যাপ্ত মসজিদ ও উপাসনালয় না থাকা সত্ত্বেও নতুন স্থাপনা নির্মাণে কর্তৃপক্ষ অনীহা দেখাচ্ছে। এর কিছুদিন পরই মুসলিম আলেমদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান শুরু হওয়ায় অনেক পর্যবেক্ষক দুই ঘটনার মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে রাশিয়ার সরকার বা নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে রাশিয়ার কট্টর জাতীয়তাবাদী ও উগ্র-ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলো এসব গ্রেফতারকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন চ্যানেলে তারা মুসলিম নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছে। কিছু চ্যানেল এমনকি ডিইউএমকে ‘চরমপন্থি’ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বানও জানিয়েছে। বিতর্ক আরও তীব্র হয় ডিইউএম-এর উপপ্রধান দামির মুখেতদিনভকে ঘিরে। তার কার্যালয়ে ১২২৩ সালের কালকা যুদ্ধের একটি চিত্রকর্ম প্রদর্শন নিয়ে রুশ জাতীয়তাবাদীদের একটি অংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে। সমালোচকদের দাবি ছিল, ওই চিত্রকর্ম রাশিয়ার ঐতিহাসিক বর্ণনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পরে মুখেতদিনভ চিত্রকর্মটি সরিয়ে ফেলেন এবং এর জায়গায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি চিত্রকর্ম স্থাপনের ঘোষণা দেন। ডিইউএম শুরুতে এসব গ্রেফতার নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি প্রতিক্রিয়া না জানালেও পরে সংগঠনটির প্রধান রাভিল গাইনুতদিন একটি বিবৃতিতে বলেন, ডিইউএমকে চরমপন্থা, বিদেশি প্রভাব বা উগ্রবাদের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা ভিত্তিহীন। তিনি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এ ধরনের প্রচারণা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ায় বর্তমানে দুই ধরনের প্রবণতা একসঙ্গে কাজ করছে। একদিকে সরকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। অন্যদিকে যুদ্ধকালীন জাতীয়তাবাদী আবহে ইসলামবিদ্বেষী ও অভিবাসীবিরোধী বক্তব্যও আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। রাশিয়ায় বর্তমানে দুই কোটিরও বেশি মুসলিম বসবাস করে, যা ইউরোপের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যাগুলোর একটি। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রের নীতির প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক গ্রেফতার অভিযান নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে, সেই আনুগত্য এখনো কি রাজনৈতিক সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট? পর্যবেক্ষকদের মতে, মুসলিম নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান এই অভিযান শুধু কয়েকজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের ভবিষ্যৎ নয়, বরং রাশিয়ায় ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সামাজিক নীতির দিকনির্দেশনা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে।
বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী মার্কিন গায়ক ও টিকটক সেনসেশন 'D4vd' (ডেভিড বার্ক)-কে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী হত্যার দায়ে গ্রেফতার করেছে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ। দীর্ঘ সাত মাস তদন্তের পর বৃহস্পতিবার ২১ বছর বয়সী এই অল্টারনেটিভ-পপ তারকাকে নিজেদের হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড হিলস এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি 'টেসলা মডেল ওয়াই' গাড়ি জব্দ করা হয়, যা গায়ক D4vd-এর নামে নিবন্ধিত ছিল। গাড়িটি ডাম্পিং ইয়ার্ডে নেওয়ার পর সেখান থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়ালে পুলিশ তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে গাড়ির সামনের স্টোরেজ (Frunk) থেকে দুটি কালো ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। একটি ব্যাগে ১৪ বছর বয়সী সেলেস্তে রিভাস হার্নান্দেজের মাথা ও ধড় এবং অন্য একটি ব্যাগে তার বিচ্ছিন্ন হাত-পা পাওয়া যায়। নিহত সেলেস্তে ২০২৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার লেক এলসিনোর থেকে নিখোঁজ হয়েছিল। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার আগে ডিভিডির (D4vd) সাথে তার সম্পর্ক ছিল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের একসাথে ছবিও দেখা গিয়েছিল। নিখোঁজের প্রায় এক বছর পর তার পচন ধরা খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই মামলার তদন্ত চললেও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কারো নাম প্রকাশ করেনি। তবে সম্প্রতি ডিভিডির পরিবারের সদস্যদের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালতের সমন পাঠানো হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে ডেভিড বার্ককে বিনা জামিনে জেলহাজতে রাখা হয়েছে। আগামী সোমবার তাকে আদালতে পেশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হতে পারে। এদিকে ডিভিডির আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে গায়কের নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, "ডেভিড বার্ক সেলেস্তে রিভাসকে হত্যা করেননি এবং তার মৃত্যুর পেছনেও তিনি দায়ী নন। আমরা আদালতে ডেভিডের নির্দোষিতা প্রমাণ করব।" D4vd মূলত ২০২২ সালে টিকটকে তার 'রোমান্টিক হোমিসাইড' (Romantic Homicide) গানটির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান। তার এই আকস্মিক গ্রেফতার সংগীত জগতে এবং তার লক্ষ লক্ষ ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি পিকআপ ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি মদসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১)। গত ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখ দুপুরে চন্দ্রা এলাকায় চেকপোস্ট পরিচালনা করে এই অভিযান চালানো হয়। উদ্ধারকৃত মদের বাজারমূল্য প্রায় ৪ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে র্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার চরশিহারী গ্রামের আশরাফুল আলম (২২) এবং একই থানার পাইকুড়া গ্রামের মো. শামীম মিয়া (২৪)। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ১০৭ বোতল (৮০.২৫ লিটার) বিদেশি মদ, মাদক বহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ (ঢাকা-মেট্টো-ন-১৯-৯৩১৬) এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। র্যাব-১, সিপিএসসি, গাজীপুর ক্যাম্পের আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, নেত্রকোণা থেকে একটি পিকআপে করে বিদেশি মদের বড় একটি চালান গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকার দিকে আসছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে চন্দ্রা টু ডাইনকিনি রোডের মাথায় শাহা প্লাজার সামনে চেকপোস্ট বসায় র্যাব। দুপুর আনুমানিক ১২.৩০ ঘটিকায় সন্দেহভাজন পিকআপটি থামিয়ে তল্লাশি চালালে মদের বোতলগুলো উদ্ধার করা হয়। র্যাব-১-এর ভারপ্রাপ্ত মিডিয়া অফিসার ক্যাপ্টেন ইফতেখার আহমেদ জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অবৈধ মাদক সংগ্রহ করে গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। উদ্ধারকৃত আলামতসহ আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কালিয়াকৈর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে র্যাবের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।