আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের অনেকের জন্যই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ একটি নিয়মিত ঘটনা। তবে একটি বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা কিংবা ইএসটিএ (ESTA) থাকলেই যে দেশটিতে প্রবেশের শতভাগ নিশ্চয়তা মিলবে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) কর্মকর্তারা বন্দর বা বিমানবন্দরে প্রবেশের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। অনেক সময় গুরুতর কোনো অপরাধ বা ইমিগ্রেশন আইনের বড় কোনো লঙ্ঘন না থাকা সত্ত্বেও সাধারণ কিছু ভুলের কারণে যাত্রীদের অপ্রত্যাশিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হয়। এর মধ্যে এমন কিছু কাজ রয়েছে, যেগুলোকে ভ্রমণকারীরা সম্পূর্ণ নির্দোষ মনে করলেও মার্কিন ইমিগ্রেশন আইনে তা বড় ধরনের অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা পাওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো 'হোমস্টে' বা বিনামূল্যে থাকার বিনিময়ে গৃহস্থালির কাজে সহায়তা করা। ভ্রমণ খরচ কমাতে অনেকেই স্থানীয় পরিবারের সঙ্গে থাকেন এবং বিনিময়ে তাদের রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা পোষা প্রাণী দেখভালের মতো কাজ করে দেন। নগদ অর্থ লেনদেন না হলেও মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা একে ক্ষতিপূরণ বা 'অননুমোদিত কাজ' হিসেবে বিবেচনা করেন। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালে ব্রিটিশ গ্রাফিক আর্টিস্ট রেবেকা বার্ক 'ওয়ার্কঅ্যাওয়ে' নামের একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এমন একটি সাংস্কৃতিক বিনিময়ে অংশ নিয়ে বিপাকে পড়েন। তাকে কাজের ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে হাতকড়া পরিয়ে ১৯ দিন ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রাখার পর যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়। অতীতের গাঁজা বা মারিজুয়ানা সেবনের কথা স্বীকার করাও ভ্রমণকারীদের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে। কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ২৪টি অঙ্গরাজ্যে বিনোদনের উদ্দেশ্যে গাঁজা সেবন বৈধ হলেও, মার্কিন ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইনে এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। ভ্রমণকালীন সময়ে গাঁজা বহন না করলেও, অতীতে তা সেবনের কথা স্বীকার করলে 'ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট'-এর ২১২ ধারার অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। ২০২৪ সালে এক কানাডীয় পর্যটককে ২০১০ সালের একটি জিজ্ঞাসাবাদে গাঁজা সেবনের কথা স্বীকার করার জেরে সম্প্রতি সীমান্ত থেকে ফেরত পাঠানো হয় এবং তার 'নেক্সাস' কার্ডটি বাতিল করে দেওয়া হয়। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে আইনি কোনো সমস্যা না হওয়ার কথা থাকলেও, ঘন ঘন এবং দীর্ঘ সময় দেশটিতে অবস্থান করা সিবিপি কর্মকর্তাদের সন্দেহের কারণ হতে পারে। এক কানাডীয় নারী কয়েক মাসের ব্যবধানে বারবার দীর্ঘ সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করায় তাকে পুনরায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। মূলত, পর্যটকদের নিজেদের দেশে শক্তিশালী শিকড় বা 'স্ট্রং টাইজ' প্রমাণ করতে হয়; অন্যথায় কর্মকর্তারা ধারণা করতে পারেন যে পর্যটক ভিসার আড়ালে ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের চেষ্টা করছেন। এছাড়া পূর্বের কোনো ভিসার আবেদন অমীমাংসিত বা প্রত্যাখ্যাত হয়ে থাকলে সিবিপি কর্মকর্তারা পর্যটক ভিসায় প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি চালিয়ে থাকেন। শুধু তাই নয়, বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় সন্দেহ হলে কর্মকর্তারা ভ্রমণকারীর মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস তল্লাশি করার আইনি ক্ষমতা রাখেন। ডিজিটাল মাধ্যমে যদি এমন কোনো চ্যাট, ইমেইল বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট পাওয়া যায় যা দিয়ে চাকরি খোঁজা, দীর্ঘমেয়াদী বাড়িভাড়া, রিমোট জব করা বা স্থায়ী হওয়ার কোনো ইঙ্গিত মেলে, তবে পর্যটককে সাথে সাথেই ফেরত পাঠানো হবে। পর্যটক ভিসায় গিয়ে স্থায়ী হওয়ার এই 'ইমিগ্রেন্ট ইনটেন্ট' বা অভিবাসন অভিপ্রায় ডিজিটাল প্রমাণের মাধ্যমে ধরা পড়লে ভবিষ্যতে দেশটিতে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা নেমে আসতে পারে।
বিমানবন্দরে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও ভাইরাল হয়েছে একটি পুরোনো ‘প্রাইভেসি হ্যাক’। অনেকেই দাবি করছেন, পাসপোর্ট অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মুড়ে রাখলে এর ভেতরের ইলেকট্রনিক চিপ থেকে তথ্য চুরি বা অননুমোদিতভাবে স্ক্যান করা যায় না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, এই দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। ভ্রমণবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রাভেল এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের (সিবিপি) কাছে জানতে চাইলে সংস্থাটি জানায়, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মোড়ানো পাসপোর্টের কোনো বিশেষ নিরাপত্তাগত সুবিধা সম্পর্কে তারা কোনো সুপারিশ বা নির্দেশনা দেয় না। বরং ভ্রমণকারীদের প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করে পাসপোর্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। বর্তমানে অধিকাংশ দেশের ই-পাসপোর্টে একটি আরএফআইডি (RFID) চিপ থাকে। এতে পাসপোর্টধারীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ও ডিজিটাল ছবি সংরক্ষিত থাকে। তবে এসব তথ্য আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এনক্রিপ্টেড থাকে এবং অননুমোদিতভাবে পড়ে নেওয়া ঠেকাতে একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরও জানিয়েছে, আধুনিক ই-পাসপোর্টে একটি বিশেষ ধাতব সুরক্ষা স্তর সংযুক্ত থাকে, যা পাসপোর্ট বন্ধ অবস্থায় আরএফআইডি চিপে অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। সংস্থাটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, চিপে থাকা তথ্য পড়তে হলে সাধারণত পাসপোর্টটি খুলতে হয়। ফলে শুধু অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে পাসপোর্ট মুড়ে রাখলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক ও লেখক ব্রায়ান ক্রেবসও আরএফআইডি নিরাপত্তা নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, পরিচয় চুরির অধিকাংশ ঘটনা অন্য উপায়ে ঘটে; শুধুমাত্র পাসপোর্টের আরএফআইডি চিপ স্ক্যান করে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি বাস্তবে খুবই সীমিত। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে সীমান্তে মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ তল্লাশি নিয়ে অনেক ভ্রমণকারীর উদ্বেগ থাকলেও সিবিপির তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের খুবই অল্প একটি অংশের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিরাপত্তাজনিত কারণে তল্লাশি করা হয়। সব মিলিয়ে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই ‘প্রাইভেসি হ্যাক’ সাধারণ ভ্রমণকারীদের জন্য কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়। সরকারি সংস্থাগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী, পাসপোর্ট নিরাপদে সংরক্ষণ, শক্তিশালী পাসকোড ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করাই ভ্রমণের সময় সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় বাংলাদেশ তিন ধাপ এগিয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের প্রকাশিত ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সংস্করণের হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯৭তম। তবে র্যাংকিংয়ে উন্নতি হলেও বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে আগাম ভিসা ছাড়াই বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধায় মাত্র ৩৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন, যা বৈশ্বিক মানদণ্ডে এখনও তুলনামূলকভাবে সীমিত। হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স মঙ্গলবার সর্বশেষ এই সূচক প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) টিম্যাটিক ডেটাবেসের তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বের ১৯৯টি পাসপোর্ট এবং ২২৭টি গন্তব্য বিশ্লেষণ করে এ র্যাংকিং তৈরি করে। সর্বশেষ সূচকে বাংলাদেশ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ৯৭তম অবস্থানে রয়েছে। গত বছরের তুলনায় তিন ধাপ এগোলেও ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধার গন্তব্য কমে ৩৫টিতে নেমে এসেছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩৭। র্যাংকিংয়ের পরিবর্তন মূলত অন্যান্য দেশের অবস্থানের পরিবর্তনের কারণেও হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালদ্বীপের পাসপোর্ট সবচেয়ে শক্তিশালী। দেশটির অবস্থান ৫২তম এবং তাদের নাগরিকরা ৯৩টি দেশে ভিসামুক্ত বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা পান। ভারতের অবস্থান ৮১তম, শ্রীলঙ্কা ৯৪তম, বাংলাদেশের পরেই রয়েছে নেপাল। পাকিস্তানের অবস্থান ১০১তম, আর তালিকার সর্বশেষে রয়েছে আফগানিস্তান। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের অবস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা ১৯২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স বিশ্বজুড়ে একটি স্বীকৃত সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। কোনো দেশের পাসপোর্ট দিয়ে আগাম ভিসা ছাড়াই কতটি দেশে প্রবেশ করা যায়, তার ভিত্তিতেই এই র্যাংকিং নির্ধারণ করা হয়।
বাংলাদেশের ই-পাসপোর্টের লেখা ও নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। নতুন সংস্করণে আবারও যুক্ত হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ। একই সঙ্গে পাসপোর্টের জলছাপে স্থান পাচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও ওয়াসিম আকরামের প্রতীকী ছবি। এ বিষয়ে রোববার সরকারি আদেশ জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে। আগে বাংলাদেশের পাসপোর্টে লেখা থাকত, ‘এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ, ইসরায়েল ব্যতীত।’ ই-পাসপোর্ট চালুর পর ২০২১ সালে নতুন পাসপোর্ট থেকে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ অংশটি বাদ দেওয়া হয়। তখন সরকার জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতেই ভাষাগত পরিবর্তনটি করা হয়েছে। তবে ইসরায়েল ভ্রমণের ওপর বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি পুনর্বহাল করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এখনো ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না এবং দেশটির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারের প্রতি বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন জানিয়ে আসছে। পাসপোর্টের জলছাপেও বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রতিফলন ঘটানো হচ্ছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতীক হিসেবে রংপুরে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদ, উত্তরার আজমপুরে পানি হাতে মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং জাতীয় পতাকার নকশার পোশাক পরা ওয়াসিম আকরামের ছবি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আবু সাঈদ ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। আন্দোলনের মধ্যে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকার তাঁর ছবি দেশজুড়ে প্রতিবাদের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে। মুগ্ধ আন্দোলনকারীদের মধ্যে পানি বিতরণ করার সময় ঢাকার উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। আর চট্টগ্রামে আন্দোলনের সময় নিহত হন শিক্ষার্থী ওয়াসিম আকরাম। নতুন জলছাপে তাঁদের তিনজনের প্রতীকী চিত্র একসঙ্গে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’ নামে স্থান পাবে। পরিবর্তিত নকশায় জাতীয় ফুল শাপলা, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, দোয়েল, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন, সুপ্রিম কোর্ট, লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর, ইলিশ, পাট ও চা-বাগানের মতো জাতীয় ও ঐতিহাসিক নিদর্শনও রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া কান্তজিউ মন্দির, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, ষাটগম্বুজ মসজিদ এবং হলি রোজারি চার্চসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনার ছবি থাকবে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ‘সংগ্রাম’ চিত্রকর্মও নতুন জলছাপের নকশায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমানে যাঁদের বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে, তাঁদের এখনই পাসপোর্ট পরিবর্তন করতে হবে না। বিদ্যমান পাসপোর্ট মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। মেয়াদ শেষে নবায়ন কিংবা নতুন পাসপোর্টের আবেদন করলে পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত নকশার ই-পাসপোর্ট দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন নকশার একটি স্মারক মার্কিন পাসপোর্ট উন্মোচন করেছেন। সীমিত সংস্করণের এই পাসপোর্টে ট্রাম্পের একটি গম্ভীর মুখাবয়বের ছবি সংযোজন করা হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শুক্রবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পাসপোর্টটির নমুনা ছবি প্রকাশ করেন ট্রাম্প। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পাসপোর্ট।’ প্রকাশিত নকশায় আরও লেখা রয়েছে, ‘স্বাগত, তবে ভদ্রভাবে থাকুন।’ নতুন পাসপোর্টটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপনের প্রতীক হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এতে ট্রাম্পের স্বাক্ষরসংবলিত একটি প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিতে তাকে একটি ডেস্কের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পেছনের নকশায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল পাঠ সংযোজন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ছবিটি হোয়াইট হাউসের আলোকচিত্রী ড্যানিয়েল টোরোকের তোলা একটি আলোকচিত্রের ভিত্তিতে তৈরি। পাসপোর্টের আরেকটি পাতায় ১৭৭৬ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক চিত্রকর্ম ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা ২৫০’ লেখা রয়েছে, যা স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীকে নির্দেশ করে। হোয়াইট হাউসও একই নকশার পাসপোর্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে একে ‘প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট’ নামে উল্লেখ করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, আগামী ৬ জুলাই থেকে বিশেষ নকশার এই স্মারক পাসপোর্ট সীমিত পরিসরে বিতরণ করা হবে। গত এপ্রিল মাসে পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প-থিমযুক্ত এসব পাসপোর্ট ওয়াশিংটনে সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা যাবে এবং মজুত থাকা পর্যন্তই বিতরণ করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম ও প্রতীকী উদ্যোগে নিজের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান করার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন এই স্মারক পাসপোর্টও সেই প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পাসপোর্টটি নিয়মিত ভ্রমণ নথির বিকল্প নাকি শুধুই স্মারক সংস্করণ সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা পররাষ্ট্র দপ্তর বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
বর্তমান বিশ্বে পাসপোর্টের শক্তিমত্তার বিচারে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হলো উত্তর আমেরিকা। দীর্ঘ কয়েক দশকের আধিপত্য ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নীল পাসপোর্টকে পেছনে ফেলে দিয়েছে কানাডিয়ান পাসপোর্ট। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের সর্বশেষ ‘হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স’ (Henley Passport Index) অনুযায়ী, বৈশ্বিক ভ্রমণের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে কানাডা এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে। র্যাঙ্কিংয়ের চিত্র: সর্বশেষ তথ্যমতে, কানাডিয়ান পাসপোর্ট বর্তমানে বিশ্বের সপ্তম শক্তিশালী পাসপোর্ট হিসেবে অবস্থান করছে। এই পাসপোর্টের অধিকারীরা বিশ্বের ১৮২টি গন্তব্যে কোনো পূর্ব ভিসা ছাড়াই (ভিসা-মুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসা) ভ্রমণ করতে পারছেন। অন্যদিকে, এক সময়ের শীর্ষস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট এখন দশম স্থানে নেমে এসেছে, যার মাধ্যমে ১৭৯টি গন্তব্যে ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার মিলছে। কেন এই পরিবর্তন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কানাডার সফল কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বিভিন্ন দেশের সাথে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি এই উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে চীনের পক্ষ থেকে কানাডিয়ানদের জন্য ৩০ দিনের ভিসা-মুক্ত সুবিধা প্রদান কানাডাকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে, যা এখনো অনেক মার্কিন নাগরিকের জন্য অধরা। আমেরিকানদের জন্য সুখবর: এই র্যাঙ্কিং পরিবর্তনের পাশাপাশি একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বর্তমানে লাখ লাখ আমেরিকান নাগরিক চাইলেই শক্তিশালী কানাডিয়ান পাসপোর্টের মালিক হতে পারেন। কানাডার নতুন নাগরিকত্ব আইন (Bill C-3) অনুযায়ী, বংশসূত্রে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে পূর্বের ‘প্রথম প্রজন্ম’ বা ফার্স্ট জেনারেশন সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যেসব আমেরিকান নাগরিকের বাবা-মা, দাদা-দাদি বা পূর্বপুরুষ কানাডিয়ান ছিলেন, তারা খুব সহজেই কানাডার নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ার জন্য কোনো পরীক্ষা বা কানাডায় বসবাসের বাধ্যবাধকতা নেই। শুধুমাত্র বংশগত প্রমাণপত্রের মাধ্যমেই তারা এই শক্তিশালী পাসপোর্টটি পেতে পারেন। অতিরিক্ত সুবিধা: কানাডিয়ান পাসপোর্টধারী হলে কেবল ভ্রমণ সুবিধাই নয়, বরং 'ইন্টারন্যাশনাল এক্সপেরিয়েন্স কানাডা' (IEC) প্রোগ্রামের আওতায় তরুণরা বিশ্বের ৩৬টি দেশে কাজ করার সুযোগ পাবেন। যেখানে মার্কিন পাসপোর্টধারীরা মাত্র ৬টি দেশে এই ধরণের সুবিধা পান।বিশ্বজুড়ে সীমান্ত নীতি যখন কঠোর হচ্ছে, তখন কানাডার এই অগ্রগতি দেশটির বৈশ্বিক মর্যাদা ও এর নাগরিকদের অবাধ চলাচলের সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করল।
আজকের দিনে যে জিনিসটি বিদেশ ভ্রমণের জন্য অপরিহার্য, তা হলো পাসপোর্ট। ছোট এক নোটবুকের আকারের এই পরিচয়পত্র নাগরিকত্বের গুরুত্বপূর্ণ সনদ হিসেবে কাজ করে। তবে আধুনিক পাসপোর্টের পেছনে রয়েছে শতাব্দী-দীর্ঘ বিবর্তনের ইতিহাস—যেখানে কখনো নিরাপত্তা, কখনো বাণিজ্য, আবার কখনো রাজনৈতিক প্রয়োজনে এর রূপ বদলেছে। পাসপোর্টের ধারণা প্রাচীন। প্রাচীন চীন ও রোমান সাম্রাজ্যে ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের বিশেষ সনদ দেওয়া হতো। লাতিন শব্দ ‘passer’ (পাস করা) এবং ‘portus’ (বন্দর) থেকে ‘পাসপোর্ট’ শব্দের উৎপত্তি। প্রাচীন চীনে খ্রিস্টপূর্ব ৪৭৫–২২১ সালে ‘গোওসৌ’ নামে পরিচয়পত্র ব্যবস্থার উদাহরণ পাওয়া যায়। রোমান সাম্রাজ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের ‘ট্র্যাক্টোরিয়াম’ বা সম্রাটের বিশেষ চিঠি প্রদান করা হতো। মধ্যযুগে আধুনিক পাসপোর্টের পূর্বসূরি হিসেবে পরিচিতি পায় ‘সেফ কন্ডাক্ট’ বা বিশেষ সুরক্ষা সনদ। ১৪১৪ সালে ইংল্যান্ডে রাজা পঞ্চম হেনরির আমলে এর উল্লেখ পাওয়া গেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে পাসপোর্ট প্রদান শুরু হয় ১৫৪০ সালে, রাজা অষ্টম হেনরির শাসনামলে। বর্তমানে টিকে থাকা সবচেয়ে পুরনো পাসপোর্ট নিদর্শনটি ১৬৪১ সালের, যা রাজা চার্লস প্রথমের আমলে ইস্যু করা হয়েছিল। ১৭৯৪ সালে ব্রিটেনে পাসপোর্ট প্রদানের ক্ষমতা সরাসরি ‘সেক্রেটারি অব স্টেট’-এর অধীনে চলে আসে। আধুনিক পাসপোর্ট ব্যবস্থার সূচনা ঘটে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর। ১৯২০ সালে ‘লিগ অব নেশনস’-এর দেশগুলো পাসপোর্টের কাঠামো ও মান নির্ধারণ করে। আশ্চর্য হলেও সত্যি, আধুনিক পাসপোর্ট মূলত মানুষের বিশ্বভ্রমণ সহজ করার জন্য নয়, বরং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও গতিবিধি সীমিত করার জন্য তৈরি হয়েছিল। ১৯৬৩ সালে জাতিসংঘে পাসপোর্ট প্রথা বাতিলের প্রস্তাব তোলা হয়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ শক্তিশালী দেশগুলো বিরোধিতা করায় তা সম্ভব হয়নি। তাই আজ পাসপোর্ট সীমান্ত অতিক্রমের অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে থাকলেও, এটি একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমও বটে।
মালয়েশিয়ায় প্রবেশ বা ট্রানজিটের সময় ইসরাইলি পাসপোর্টধারীরা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। সম্প্রতি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত আটজন ইসরাইলি আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ সরাসরি মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন, কেউ আবার অন্য এশিয়ার দেশে ট্রানজিটে ছিলেন। একটি ঘটনায় ফিলিপাইনগামী ফ্লাইটের ট্রানজিটে চারজন ইসরাইলি তরুণ-তরুণী আটক হন। তাদের মধ্যে দুজন জানান, থাইল্যান্ড থেকে ফিলিপাইনে যাওয়ার আগে তারা চ্যাটবটের মাধ্যমে কুয়ালালামপুরে ট্রানজিট নিরাপদ কিনা জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং ইতিবাচক উত্তর পেয়েছিলেন। পরে তারা ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অন্য ঘটনায় কম্বোডিয়া থেকে ফিলিপাইনে যাওয়ার পথে দুই ইসরাইলি পুরুষকে মালয়েশিয়ায় আটক করা হয়, দুই দিন পর তাদের আবার কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। সাধারণত আটককালে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে, তবে কখনও কখনও পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হয়। বিশেষ করে যখন অন্যান্য দেশ বহিষ্কৃত ইসরাইলিদের প্রবেশ অনুমোদন দেয় না, তখন ভ্রমণকারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সিঙ্গাপুরে অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাসের সহায়তায় কয়েকজনকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। রাষ্ট্রদূত এলিয়াহু ভেরেড হাজান নাগরিকদের মালয়েশিয়া ভ্রমণ বা ট্রানজিট এড়াতে পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে, যা ভ্রমণকারীদের জন্য ভোগান্তি, যাত্রাপথে দেরি এবং অতিরিক্ত খরচের কারণ হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।