ক্যালিফোর্নিয়ার কোন হাইস্কুল থেকে ইউসি বার্কলিতে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়! তালিকায় চমকপ্রদ তথ্য
ক্যালিফোর্নিয়ার হাইস্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বা ইউসি সিস্টেমে ভর্তির নতুন পরিসংখ্যানে চমকপ্রদ চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের ফল অনুযায়ী, সান ফ্রান্সিসকোর মিশন হাইস্কুল ইউসি বার্কলিতে ভর্তির হারে রাজ্যের সরকারি ও বেসরকারি সব হাইস্কুলকে ছাড়িয়ে গেছে।
ইউসি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মিশন হাইস্কুল থেকে ইউসি বার্কলিতে আবেদন করা ৭৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪ জন ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। অর্থাৎ স্কুলটির গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ৪৫ শতাংশ। একই সঙ্গে মিশন হাইস্কুলের আবেদনকারীদের গড় জিপিএ ছিল ৩.৯৩, আর যারা ভর্তির সুযোগ পেয়েছে তাদের গড় জিপিএ ছিল ৪.০৮।
মিশন হাইস্কুলের এই সাফল্য আরও উল্লেখযোগ্য, কারণ স্কুলটিতে আর্থসামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউসি বার্কলিতে ভর্তির ক্ষেত্রে স্কুলটি ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করছে।
তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফ্রেসনোর এডিসন হাইস্কুল। স্কুলটি থেকে ইউসি বার্কলিতে আবেদন করা ৬২ জনের মধ্যে ২১ জন ভর্তি হয়েছে, যা ৩৪ শতাংশ গ্রহণযোগ্যতার হার। এরপর রয়েছে ইউসিএলএর জেফেন একাডেমি, যেখানে ৬১ জন আবেদনকারীর মধ্যে ১৯ জন ভর্তি হয়েছে এবং গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ৩১ শতাংশ।
বে এরিয়ার আরও কয়েকটি হাইস্কুলও ইউসি বার্কলিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। রেডউড সিটির স্ট্যানফোর্ড অনলাইন হাইস্কুলের গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ২৭ শতাংশ। অকল্যান্ডের বেসরকারি বিশপ ও’ডাউড হাইস্কুলেও একই হার দেখা গেছে। বার্কলে হাইয়ের হার ছিল ২৩ শতাংশ, এল সেরিটো হাইয়ের ২৩ শতাংশ, হারকিউলিস হাইয়ের ২২ শতাংশ এবং ড্যানভিলের সান রামন ভ্যালি হাইয়ের ২২ শতাংশ।
অন্যদিকে, কিছু স্কুলের শিক্ষার্থীদের ইউসি বার্কলিতে ভর্তির হার ছিল তুলনামূলকভাবে কম। ক্যাম্পবেলের ওয়েস্টমন্ট হাইস্কুলে এই হার ছিল ৪ শতাংশ, এলক গ্রোভের প্লেজ্যান্ট গ্রোভ হাইস্কুলে ৪ শতাংশ এবং ওয়েস্ট স্যাক্রামেন্টোর রিভার সিটি হাইস্কুলে ৫ শতাংশ।
২০২৫ সালের সামগ্রিক ইউসি ভর্তি চিত্রেও কিছুটা স্বস্তির খবর ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য। রাজ্যের যেসব শিক্ষার্থী ইউসি ক্যাম্পাসে আবেদন করেছিল, তাদের ৭৭ শতাংশের বেশি অন্তত একটি ইউসি ক্যাম্পাসে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। প্রায় এক দশকের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতার হার।
তবে ইউসি সিস্টেমের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্যাম্পাসগুলোতে ভর্তি এখনও কঠিন। ২০২৫ সালের হিসাবে ইউসিএলের গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ৯.৪ শতাংশ এবং ইউসি বার্কলির ১১.৪ শতাংশ। এরপর ইউসি সান দিয়েগোর ২৮.৪ শতাংশ, ইউসি আরভাইনের ২৮.৭ শতাংশ এবং ইউসি সান্তা বারবারার ৩৮.৩ শতাংশ।
বিষয়ভেদেও ভর্তির প্রতিযোগিতায় বড় পার্থক্য রয়েছে। ইউসি বার্কলিতে পাবলিক হেলথ ছিল সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক বিষয়গুলোর একটি, যেখানে গ্রহণযোগ্যতার হার মাত্র ২ শতাংশ। অন্যদিকে আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজে এই হার ছিল ২৫ শতাংশ। ইউসিএলে নার্সিংয়ে ভর্তি সবচেয়ে কঠিন ছিল, গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল মাত্র ১ শতাংশ।
বে এরিয়ার আরও কিছু হাইস্কুল ইউসি মার্সেড ও ইউসি রিভারসাইডে প্রায় শতভাগ ভর্তি সাফল্য দেখিয়েছে। ইউসি মার্সেডে সান ফ্রান্সিসকোর ১৩টি হাইস্কুলের আবেদনকারীদের গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ১০০ শতাংশ। পুরো ইউসি মার্সেড ক্যাম্পাসের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ৯৫.১ শতাংশ। ইউসি রিভারসাইডের সামগ্রিক হার ছিল ৮৭.১ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, ক্যালিফোর্নিয়ার হাইস্কুল থেকে ইউসি ক্যাম্পাসে ভর্তির ক্ষেত্রে স্কুলভেদে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে ইউসি বার্কলির মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ক্যাম্পাসে মিশন হাইস্কুলের ৪৫ শতাংশ গ্রহণযোগ্যতার হার স্কুলটির শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক সাফল্যকে আরও নজরকাড়া করে তুলেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreহাসপাতালের বিছানায় বসে ল্যাপটপে শিক্ষার্থীদের গ্রেডের কাজ করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের শিক্ষক আলেহান্দ্রো নাভারো। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়ও শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি প্রতিবেদনের নম্বর প্রস্তুত করার চিন্তা ছিল তাঁর। মেয়ে সান্দ্রা ভেনেগাসের ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিটি তোলার পরদিনই মারা যান তিনি। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ছবিটি তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ডেল রিও শহরের এই গণিত শিক্ষকের বয়স ছিল ৬৬ বছর। সান্দ্রা জানান, হাসপাতালে যেতে হবে জেনেই তাঁর বাবা ল্যাপটপ ও চার্জার সঙ্গে নিয়েছিলেন। অসুস্থতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের গ্রেডের অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন তিনি। সান্দ্রার বর্ণনা অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা নাভারোর পরীক্ষা করছিলেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার গুরুতর ঝুঁকি নিয়ে কথা বলছিলেন। তিনি তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আবার গ্রেডের কাজে ফিরে যাচ্ছিলেন। হাসপাতালের বিছানায় বাবার সেই মুহূর্তের ছবিটি সান্দ্রা ফেসবুকে প্রকাশ করেন ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর। ছবির সঙ্গে দেওয়া লেখায় সান্দ্রা শুধু বাবার দায়িত্ববোধের কথাই বলেননি, শিক্ষকতার বাইরে পরিবারকে সময় দেওয়ার প্রয়োজনও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাবার বাড়িতে শেষবার দেখা করতে গিয়ে যে দুই ঘণ্টা কাটিয়েছিলেন, তখনও তাঁর বাবা কাজ করছিলেন। এখন তাঁর মনে হয়, ল্যাপটপ বন্ধ করে সেই সময়টা একসঙ্গে কাটাতে পারলে ভালো হতো। শিক্ষকদের কাজের মূল্য দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের কর্মঘণ্টার সীমা বজায় রাখতে পরিবারের সদস্যদের সহায়তা করার আহ্বান জানান সান্দ্রা। শিক্ষকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল, কর্মক্ষেত্রে কাউকে দিয়ে আপনার জায়গা পূরণ করা গেলেও পরিবারে তা সম্ভব নয়। বাবার শেষ সময়ের ছবির সঙ্গে তিনি রেখে যান কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নিয়ে এই কথাটিও। সূত্র: ইউনিভিশন, এল ইউনিভার্সো
ক্যালিফোর্নিয়ার নিউয়ার্কে বিপজ্জনক চালনা ঠেকাতে নতুন কর্মসূচি নিচ্ছে পুলিশ
ফ্লোরিডায় বাড়ির করের চেয়ে হোম ইন্স্যুরেন্স নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন মালিকেরা
নিউ জার্সিতে ভিডিও কলে সাজানো এফবিআই অফিস দেখিয়ে প্রতারণার নতুন কৌশল নিয়ে সতর্কতা
স্বামীর সঙ্গে তর্কের পর তাঁর কাছ থেকে একটি চ্যাটজিপিটি কথোপকথন পান লিজা ভিলনিটস। স্বামী নিজের রাগ ও কথার সুর সামলাতে সেখানে পরামর্শ চেয়েছিলেন। বিষয়টি প্রথমে লিজাকে বিরক্ত করলেও পুরো কথোপকথন পড়ার পর তিনি স্বামীর উদ্যোগটিকে ভিন্নভাবে দেখতে শুরু করেন। মঙ্গলবার বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার লেখায় তিনি এ কথা জানিয়েছেন। লিজার বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর স্বামী চ্যাটজিপিটিকে জানান, কিছু পরিস্থিতিতে তিনি দ্রুত মেজাজ হারান এবং এমন কথা বলে ফেলেন, যা পরে বলা উচিত হয়নি বলে মনে হয়। এমন ছয়টি পরিস্থিতি চিহ্নিত করে প্রতিক্রিয়া বদলানোর উপায় জানতে চান তিনি। জবাবে চ্যাটজিপিটি তাঁকে কথার সুর নিয়ন্ত্রণের জন্য ৩০ দিনের একটি পরিকল্পনা দেয়। প্রথমে লিজার মনে হয়েছিল, স্বামী নিজের আচরণ নিয়ে গভীরভাবে ভাবার পরিবর্তে তৈরি করা উত্তর খুঁজছেন। কিন্তু কথোপকথনটি পড়তে গিয়ে তিনি দেখেন, স্বামী কোন পরিস্থিতিতে কেন উত্তেজিত হন, তা বোঝার চেষ্টাও সেখানে রয়েছে। চ্যাটজিপিটির দেওয়া ব্যাখ্যাগুলো তাঁকে নিজেদের কথাবার্তার কিছু পুরোনো ধরন নিয়েও ভাবিয়েছে বলে লেখেন তিনি। পরিকল্পনায় উত্তেজনা তৈরি করা পরিস্থিতি চেনা, সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে প্রশ্ন করা এবং শান্তভাবে কথা বলার মতো পরামর্শ ছিল। পরে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বসে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। লিজার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে স্বামীর নিজের আচরণে সমস্যা স্বীকার করা এবং তা বদলাতে সাহায্য চাওয়ার উদ্যোগটি। এটি একটি দম্পতির ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। লিজা তাঁর লেখায় দাবি করেননি যে চ্যাটজিপিটি দাম্পত্য সমস্যার নিশ্চিত সমাধান দিয়েছে। তবে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কথোপকথন তাঁদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে সাহায্য করেছে। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার
মেডিকেয়ারের ৯০ ডলার ব্যাংকে বা চেকে পাচ্ছেন ২ কোটির বেশি, বাদ পড়ছেন প্রায় ৪ কোটি
আইসিইবিরোধী বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতারে ট্রাম্পের চাপের অভিযোগ সাবেক এফবিআই কর্মকর্তার
যুক্তরাষ্ট্রে তথ্য গোপনের দায়ে ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিল চেয়ে বিচার বিভাগের মামলা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় খেলার মাঠের স্লাইডে জামা আটকে শ্বাসরোধে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহতের মা এস্তেফানিয়া ভালাদারেস স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘লোকাল ১০’-কে জানান, গত ২৫ সেপ্টেম্বর মিয়ামির শেনানডোহ পার্কে খেলতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হয় তাঁর ছেলে ওলভিন ড্যানিয়েল ক্যাব্রেরা ভালাদারেস। ঘটনার দিন ওলভিনের স্কুলে যাওয়ার কথা থাকলেও সে ক্লাসে না গিয়ে স্কুটার চালিয়ে পার্কে ঘুরতে চলে যায়। এস্তেফানিয়া জানান, ওই দিনই সন্তানদের নিয়ে পার্কে ঘুরতে আসা এক ব্যক্তি স্লাইডের একটি স্ক্রুর সাথে ওলভিনকে আটকে থাকা অবস্থায় দেখতে পান। উদ্ধারের সময় দেখা যায়, স্লাইডের একটি আলগা স্ক্রুর সাথে ওলভিনের জামা পেঁচিয়ে গেছে এবং কলারটি গলায় শক্তভাবে চেপে বসে তার শ্বাসরোধ হয়ে পড়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। টানা এক সপ্তাহ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করার পর গত ১ অক্টোবর চিকিৎসকরা তাকে ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষণা করেন। নগর প্রশাসনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘটনাটি বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। কিশোরের মৃত্যুর পরদিন অ-ফৌজদারি তদন্তের স্বার্থে পার্কটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও পরদিনই স্লাইডটি পুনরায় জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। শোকাহত মা এস্তেফানিয়া অন্যান্য অভিভাবকদের সতর্ক করে বলেন, শিশুদের খেলার মাঠে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবার আরও বেশি সচেতন ও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন, যেন কোনো পরিবারকে এমন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়।
ইরান যুদ্ধে নিহত সেনাদের পরিবারকে নিয়ে ট্রাম্পের আয়োজন, যোগ দেননি অধিকাংশ স্বজন
নিউইয়র্কে তিন দিন ধরে নিখোঁজ কাজী আজিজুল হক খোকন, উদ্বেগে পরিবার ও কমিউনিটি