জালাপেনো মরিচে সালমোনেলা, যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ অঙ্গরাজ্যে ৪৩১ জন আক্রান্ত
যুক্তরাষ্ট্রে জালাপেনো মরিচের সঙ্গে সম্পর্কিত সালমোনেলা সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব আরও ছড়িয়ে পড়েছে। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩২ অঙ্গরাজ্যে অন্তত ৪৩১ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৫৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
তদন্তে মেক্সিকোর সিনালোয়া অঞ্চলে উৎপাদিত জালাপেনো মরিচকে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব মরিচ যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি ও বিতরণ করেছে কোস্ট সিট্রাস ডিস্ট্রিবিউটরস। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তদন্ত এখনো চলছে।
এরই মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় জালাপেনো মরিচ এবং এসব মরিচ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবার বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে সালসা, গুয়াকামোলে, পিকো দে গায়ো, স্যুপ মিশ্রণ, স্টাফড মাশরুমসহ বিভিন্ন প্রস্তুত খাবার রয়েছে। টেক্সাস ও লুইজিয়ানায় ৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে বিক্রি হওয়া কিছু পণ্যও প্রত্যাহারের আওতায় এসেছে।
দেশটির বড় কয়েকটি খুচরা বিক্রেতা ও খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পণ্যেও প্রত্যাহারের ঘোষণা এসেছে। হোল ফুডস, টেলর ফ্রেশ ফুডসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জালাপেনোযুক্ত পণ্য এর আওতায় রয়েছে।
রেস্তোরাঁ খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। তদন্তে আক্রান্তদের বড় একটি অংশ অসুস্থ হওয়ার আগে মেক্সিকান ধাঁচের রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার কথা জানিয়েছে। চিপোটলে ও কিউডোবার মতো বড় রেস্তোরাঁ শৃঙ্খলও আক্রান্ত উৎসের জালাপেনো ব্যবহার বন্ধ করেছে।
সালমোনেলা সংক্রমণে সাধারণত জ্বর, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, বমি বমি ভাব ও বমির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ গুরুতর হতে পারে।
কর্তৃপক্ষ ভোক্তা ও খাদ্য ব্যবসাগুলোকে প্রত্যাহার করা জালাপেনো বা এসব মরিচ দিয়ে তৈরি পণ্য খাওয়া, বিক্রি বা পরিবেশন না করার নির্দেশ দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট পণ্য ঘরে থাকলে তা ফেলে দেওয়া বা নির্ধারিত নিয়মে ফেরত দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।তদন্ত ও পণ্য প্রত্যাহার কার্যক্রম এখনো চলমান থাকায় আক্রান্তের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষের আপডেট থেকে বোঝা যাচ্ছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার ডারহামের ৪১ বছর বয়সী অ্যান্ড্রিয়া ফস্টের বিরুদ্ধে ৩ বছরের ছেলেকে হত্যার এবং ২ বছরের আরেক ছেলেকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মামলায় ফস্টের আইনজীবীরা এখন মানসিক অসুস্থতার কারণে দায়ী নন - এমন আবেদন করার উদ্যোগ নিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে ১২ ফেব্রুয়ারি। ডারহামের চার্টওয়েল কোর্টের বাড়িতে দুই শিশুকে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার পর পুলিশ তাদের হাসপাতালে নেয়। সেখানে এক শিশুর মৃত্যু হয়, অন্যজন বেঁচে যায়। ফস্টকে পরদিন প্রথম-ডিগ্রি হত্যা ও প্রথম-ডিগ্রি হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর আদালতে ফস্টের স্বামী এরিক ফস্ট জানান, তার স্ত্রী গুরুতর মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি স্ত্রীকে নিজের ক্ষতি না করার অনুরোধ করেন এবং তাকে একজন যত্নশীল মা হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে পুলিশ এখনো ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য প্রকাশ করেনি। মামলার পর ফস্ট নিজেও একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে আদালতের নথি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কারাগারে থাকা অবস্থায় একটি আত্মহত্যার চেষ্টায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। পরে তাকে মানসিক চিকিৎসার জন্য নর্থ ক্যারোলাইনার একটি রাষ্ট্রীয় মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। মার্চে একজন বিচারক রায় দেন, ফস্ট তখন বিচারের মুখোমুখি হওয়ার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলেন না। তাকে নিবিড় মানসিক চিকিৎসা ও মূল্যায়নের জন্য হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে ২০ আগস্ট তার আইনজীবীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক অসুস্থতার কারণে দায়ী নন - এমন আবেদন করার উদ্যোগের কথা জানান। এর ফলে মামলাটি আবারও মানসিক স্বাস্থ্য, অপরাধমূলক দায় এবং বিচারিক সক্ষমতা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। ঘটনাটিকে ম্যাসাচুসেটসের লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধেও সন্তান হত্যার অভিযোগ রয়েছে এবং তার মামলায় মানসিক অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াই চলছে। তবে দুই ঘটনার পরিস্থিতি এক নয় এবং একইভাবে বিচার করা উচিত নয়। ফস্টের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় তার মানসিক অবস্থা ও অপরাধের জন্য আইনি দায়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নিউইয়র্কের ক্যাপিটলে বোমা হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার
জালাপেনো মরিচে সালমোনেলা, যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ অঙ্গরাজ্যে ৪৩১ জন আক্রান্ত
১০ মাসের নাতনিকে গাড়িতে রেখেই কাজে চিকিৎসক দাদি, ৮ ঘণ্টা পর মিলল শিশুর মরদেহ
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে ফুটবল খেলতে যাওয়ার পথে বাবার সঙ্গে ৫ বছরের এক শিশুকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির নাম লিয়াম তাদেও। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য এবং স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঘটনাটি সামনে এসেছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৭ আগস্ট রোববার অস্টিনে গাড়ি থামানোর পর লিয়াম ও তার বাবাকে আটক করা হয়। পরে তাদের দক্ষিণ টেক্সাসের ডিলি এলাকার একটি পারিবারিক অভিবাসন আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়। অস্টিনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমও কংগ্রেসম্যান গ্রেগ কাসারের বক্তব্যের ভিত্তিতে লিয়ামকে ডিলি কেন্দ্রে আটকের তথ্য প্রকাশ করেছে। পরিবার জানিয়েছে, আটকের সময় লিয়াম তার বাবার সঙ্গে ফুটবল খেলায় যাচ্ছিল। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে শিশুটিকে কাঁদতে দেখা যাচ্ছে বলে স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আটককেন্দ্র থেকে লিয়াম তার মাকে ফোন করে তাকে ভালোবাসে ও মিস করছে বলেও জানানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই লিয়ামের কিন্ডারগার্টেনে যাওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়টিকে সামনে এনে টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান গ্রেগ কাসার শিশুটিকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, লিয়ামের এই সময়ে কিন্ডারগার্টেনে থাকার কথা, আটককেন্দ্রে নয়। কাসার আরও দাবি করেন, শিশুটিকে ফুটবল খেলতে যাওয়ার পথেই আটক করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাকে ডিলি আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তিনি শুধু লিয়াম নয়, আটক থাকা অন্যান্য শিশুদেরও মুক্তি এবং ডিলির পারিবারিক আটককেন্দ্র বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। অস্টিনের স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিয়ামকে কখন এবং শহরের ঠিক কোন এলাকায় আটক করা হয়, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কাছেও এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল; প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত বিভাগটি কোনো জবাব দেয়নি। ঘটনাটি নিয়ে অভিবাসন আইনজীবী রেনাটা কাস্ত্রোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, শিশুদের স্বাভাবিক জীবন স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড থেকে সরিয়ে আটক করা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তবে এটি তার ব্যক্তিগত মতামত, সরকারি তদন্তের ফল নয়। ডিলি আটককেন্দ্রটি দক্ষিণ টেক্সাসে অবস্থিত এবং সেখানে অভিবাসন-সংক্রান্ত মামলায় পরিবার ও শিশুদের আটক রাখা হয়। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে লিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটিও এখনো অনিশ্চিত। এদিকে ঘটনাটি নিয়ে আরেক ৫ বছরের শিশু লিয়াম রামোসের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। মিনেসোটায় আটক হওয়ার পর তাকেও ডিলি কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল। অস্টিনের কংগ্রেসম্যান কাসারও দুই ঘটনার নাম ও বয়সের মিলের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে দুটি ঘটনা আলাদা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লিয়াম ও তার বাবাকে ঠিক কোন আইনি কারণে আটক করা হয়েছে, আটকের সময় কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং তাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি অবস্থান কী এসব বিষয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। তাই পরিবারের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও কংগ্রেসম্যানের দাবির বাইরে কোনো তথ্যকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।
কংগ্রেসে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে নির্বাচিত আয়েশা ওয়াহাব
আলাস্কায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা, চার্টার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৮ আরোহী
৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ, বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ
টেলর সুইফটের সাবেক প্রেমিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের ছেলে কনর কেনেডিকে আন্তর্জাতিক মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় তুলেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ৩২ বছর বয়সী এই মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে রাশিয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। রাশিয়ার অভিযোগ, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় কনর ইউক্রেনের ইন্টারন্যাশনাল লিজিয়নে যোগ দিয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে রুশ ফৌজদারি আইনের ৩৫৩ ধারার তৃতীয় অংশে ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে সশস্ত্র সংঘাতে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সাত থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে কনর নিজেই ২০২২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইউক্রেনে যাওয়ার কথা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ইউক্রেনের পরিস্থিতি দেখে তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং দেশটির হয়ে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর ইউক্রেনের দূতাবাসে গিয়ে ইন্টারন্যাশনাল লিজিয়নে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করেন। কনরের দাবি অনুযায়ী, তিনি নিজের পরিবার ও বন্ধুদের বিষয়টি জানাননি। এমনকি ইউক্রেনে যাওয়ার সময় বাবাকেও জানাননি যে তিনি কোথায় যাচ্ছেন। তার বাবা রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র পরে জানিয়েছিলেন, ছেলে তাকে শুধু জানিয়েছিল যে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আইন প্রতিষ্ঠানে গ্রীষ্মকালীন চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছে। ইউক্রেনে কনরের প্রথম দায়িত্ব ছিল ড্রোন পরিচালনা করা। পরে তিনি মেশিনগান অপারেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন বলে তার বাবা জানিয়েছেন। কনর প্রায় আড়াই মাস ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ফ্রন্টে ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধে যাওয়ার আগে কনরের কোনো সামরিক অভিজ্ঞতা ছিল না। নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি জানিয়েছিলেন, সময়টা ভয়ংকর হলেও সৈনিক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি অর্থবহ ছিল। কনর কেনেডি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী কেনেডি পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচিত। তবে ২০১২ সালে পপ তারকা টেলর সুইফটের সঙ্গে তার স্বল্পস্থায়ী সম্পর্কের কারণে তিনি আন্তর্জাতিক বিনোদনমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। ওই বছরের গ্রীষ্মে তাদের সম্পর্ক শুরু হলেও অক্টোবরে বিচ্ছেদ হয়। বর্তমানে কনর বিনোদনজগতের সঙ্গে নয়, বরং তার ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধে অংশগ্রহণের কারণে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। রাশিয়ার আদালত তার অনুপস্থিতিতে গ্রেপ্তারের অনুমোদন দিয়েছে এবং এরপরই তাকে আন্তর্জাতিকভাবে খোঁজা হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। কনর বর্তমানে ব্রাজিলিয়ান শিল্পী জিউলিয়া বের সঙ্গে বিবাহিত। টেলর সুইফটের সাবেক প্রেমিক হিসেবে একসময় যে ব্যক্তি বিনোদন সংবাদে পরিচিত ছিলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে তার গোপন অংশগ্রহণের কারণে এখন সেই কনর কেনেডিই রাশিয়ার আন্তর্জাতিক ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা নিয়ে নতুন করে শিরোনামে এসেছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার কোন হাইস্কুল থেকে ইউসি বার্কলিতে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়! তালিকায় চমকপ্রদ তথ্য
মিশিগানে সরকারি চাকরির সুযোগ! ঘণ্টায় প্রায় ২২ থেকে ৩০ ডলার আয়