সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তিতে টাম্পায় ২৫০ টি গাছ লাগাল ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ২১:৫৭
আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে টাম্পার রওলেট পার্কে ২৫০টি গাছ লাগানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে টাম্পার রওলেট পার্কে ২৫০টি গাছ লাগানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে আতশবাজি কিংবা শোভাযাত্রার বদলে পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়েছে ফ্লোরিডার টাম্পার ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়। শহরের রওলেট পার্কে ২৫০টি গাছ লাগিয়ে ‘আমেরিকা ২৫০ স্মারক বৃক্ষবাগান’ প্রতিষ্ঠা করেছে তারা।

 

শনিবার সকালে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে টাম্পার মেয়র জেন ক্যাস্টরও অংশ নেন। প্রায় ৫০ জন কমিউনিটি সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন। টাম্পা শহরের তথ্য ও ইসমাইলি কাউন্সিল ফর ফ্লোরিডার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩ নিউজ এ খবর জানিয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে ৪ জুলাই বিভিন্ন অনুষ্ঠান, আতশবাজি ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে টাম্পার ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায় সেই উদযাপনকে একটু ভিন্নভাবে স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি উদ্যোগ নেওয়া, যার সুফল শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যতের টাম্পাবাসীরাও ভোগ করতে পারবেন।

রওলেট পার্কে নতুন করে লাগানো ২৫০টি গাছকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে এই স্মারক বৃক্ষবাগান। পার্কটি বুশ গার্ডেনসের ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত।

 

ইসমাইলি কাউন্সিল ফর ফ্লোরিডার যোগাযোগ ও জনসম্পৃক্ততা বিভাগের প্রতিনিধি ফাহিম হেমানি বলেন, তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সেবা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ। একই সঙ্গে পরিবেশের যত্ন নেওয়াকেও তারা গুরুত্ব দেন। তাদের বিশ্বাস, মানুষ যে পৃথিবী পেয়েছে, তার চেয়ে আরও ভালো অবস্থায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেটি রেখে যাওয়া উচিত।

 

তিনি বলেন, টাম্পায় এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি স্থানীয় সম্প্রদায়ের ভবিষ্যতের প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রতীক।

অনুষ্ঠানে স্মারক ফলক উন্মোচন করা হয়। সেখানে উপস্থিত কমিউনিটির সদস্যরা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তিই উদযাপন করেননি, বরং স্থানীয় পরিবেশ ও নগর জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজেদের অঙ্গীকার তুলে ধরেন।

আয়োজকদের মতে, এখন গাছগুলোর অনেকগুলোই ছোট। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের পরিবর্তন চোখে পড়বে না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে গাছগুলো বড় হলে পার্কের পরিবেশে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

হেমানি বলেন, ভবিষ্যতে এসব গাছ স্থানীয় বাসিন্দাদের ছায়া দেবে, পরিবেশকে আরও পরিচ্ছন্ন রাখতে সহায়তা করবে এবং পানির মান উন্নত রাখতেও ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিশুদের জন্য খেলাধুলা ও সময় কাটানোর আরও সুন্দর পরিবেশ তৈরি হবে।

ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়ের এই উদ্যোগে জাতীয় দিবস উদযাপনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক দায়িত্বের বিষয়টিও সামনে এসেছে। একটি জাতীয় মাইলফলককে কেন্দ্র করে এমন দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তারা টাম্পা শহরের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরেছে।

 

টাম্পা শহরে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের বসবাস রয়েছে। শহরটির সরকারি নথিতেও মুসলিম সম্প্রদায়ের অবদান ও বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার নজির রয়েছে। ২০২৫ সালে টাম্পা সিটি কাউন্সিল মুসলিম হেরিটেজ মাস পালনের বিষয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল, যেখানে শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে মুসলিম-আমেরিকানদের অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়।

 

‘আমেরিকা ২৫০ স্মারক বৃক্ষবাগান’ সেই বৃহত্তর স্থানীয় অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় নতুন একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আতশবাজি বা একদিনের আয়োজনের পরিবর্তে এমন একটি সম্পদ তৈরি করা হয়েছে, যা বছরের পর বছর ধরে টাম্পার বাসিন্দাদের কাজে আসবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ক্যালিফোর্নিয়ার জাকুম্বা পর্বতমালার দুর্গম এলাকায় দুই দিন পর ২৫ বছরের এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ক্যালিফোর্নিয়ার মরুভূমিতে পথ হারিয়ে ২ দিন নিখোঁজ, উদ্ধার যুবক

মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ক্যালিফোর্নিয়ার দুর্গম মরুভূমি এলাকায় হারিয়ে যাওয়া ২৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে দুই দিন পর উদ্ধার করেছে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের বর্ডার প্যাট্রোলের এল সেন্ট্রো সেক্টর জানিয়েছে, দুর্গম পাথুরে এলাকায় আটকে পড়ার পর ওই ব্যক্তি বিপদসংকেত পাঠালে তাকে উদ্ধারে জরুরি অভিযান শুরু করা হয়।   বর্ডার প্যাট্রোলের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে সান দিয়েগো কাউন্টির কাছাকাছি জাকুম্বা পর্বতমালার পাথুরে এলাকায়। মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ওই ব্যক্তি মরুভূমির দুর্গম অংশে পথ হারিয়ে ফেলেন। এরপর প্রায় দুই দিন সেখানে আটকে ছিলেন। উদ্ধারের ছবি প্রকাশ করেছে বর্ডার প্যাট্রোল। ছবিতে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বড় একটি পাথরের আংশিক ছায়ায় বসে বা শুয়ে ছিলেন ওই ব্যক্তি। উদ্ধারকারীরা তার কাছে পৌঁছানোর পর শরীর ঠান্ডা রাখতে বরফ ব্যবহার করেন।   বর্ডার প্যাট্রোল জানায়, বিপদসংকেত পাওয়ার পর কর্মকর্তারা দ্রুত তার অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। জিপিএস প্রযুক্তির সাহায্যে তার অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। এরপর একাধিক সরকারি সংস্থার সহযোগিতায় আকাশপথে তল্লাশি চালানো হয়। তবে জাকুম্বা পর্বতমালার দুর্গম ও পাথুরে ভূখণ্ডের কারণে আকাশপথে সরাসরি সেখানে পৌঁছানোও সহজ ছিল না। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, কঠিন ভূপ্রকৃতি উদ্ধার অভিযানে বড় বাধা তৈরি করলেও তাকে খুঁজে বের করতে সব ধরনের উপলব্ধ সম্পদ কাজে লাগানো হয়।   অবশেষে কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তির সন্ধান পান। ঘটনাস্থলেই চিকিৎসাকর্মীরা তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে কি না, তা দেখেন। প্রচণ্ড গরম ও দীর্ঘ সময় মরুভূমিতে অবস্থানের কারণে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বর্ডার প্যাট্রোল এক বিবৃতিতে জানায়, এ ধরনের প্রতিটি উদ্ধার অভিযানে দ্রুত সিদ্ধান্ত, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় এবং নিরলস প্রচেষ্টা প্রয়োজন হয়। এই ঘটনাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।   মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তাকে উদ্ধারের পর কোথায় নেওয়া হয়েছে বা তার বিরুদ্ধে পরবর্তী কী ধরনের অভিবাসন-সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। জাকুম্বা এলাকার সীমান্ত অঞ্চলটি অত্যন্ত দুর্গম ও পাথুরে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছাকাছি এই অঞ্চলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ঘটনাও আগে দেখা গেছে। ২০২৪ সালে জাকুম্বা হট স্প্রিংসের আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় মেক্সিকো, চীনসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সীমান্ত পেরিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে আশ্রয় চাওয়ার ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল।   তবে সীমান্ত পেরিয়ে দুর্গম মরুভূমিতে প্রবেশ করলে পথ হারানো, অতিরিক্ত গরম ও পানিশূন্যতার মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পাথুরে পাহাড়ি এলাকায় যানবাহন বা উদ্ধারকারী দলের সরাসরি পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় সামান্য বিপদও দ্রুত গুরুতর পরিস্থিতিতে পরিণত হতে পারে। এ ঘটনায় শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় যাতায়াতের ঝুঁকি আবারও সামনে এসেছে। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষী ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্ধার কার্যক্রমের গুরুত্বও স্পষ্ট হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ২২:৪৬
আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে টাম্পার রওলেট পার্কে ২৫০টি গাছ লাগানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তিতে টাম্পায় ২৫০ টি গাছ লাগাল ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়

২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে জন্মের চেয়ে মৃত্যুর হার বেশি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস। ছবি: সংগৃহীত

২০৩০ সালেই যুক্তরাষ্ট্রে জন্মের চেয়ে মৃত্যু বেশি হবে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির ভরসা হবে অভিবাসন

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভের পথ বন্ধ করতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে মার্কিন সরকার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টা, প্রায় ৯০০ ভিসা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন

লস অ্যাঞ্জেলেসের ইস্ট হলিউড এলাকায় বসবাস করছেন টিম রোলার। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিষ্ঠিত ৪ সন্তান থাকা সত্ত্বেও ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় বসবাস, গুগল ম্যাপে উঠে এল গণিত শিক্ষক বাবার জীবন

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রায় দুই দশক ধরে একই জায়গায় বসবাস করছেন সাবেক গণিত শিক্ষক টিম রোলার। প্রচলিত অর্থে কোনো বাড়ি না থাকলেও বছরের পর বছর একই জায়গায় থাকার কারণে গুগল স্ট্রিট ভিউয়ের ক্যামেরায় বারবার ধরা পড়েছে তার জীবনের বিভিন্ন সময়ের ছবি।   ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোলার প্রায় ১৯ বছর ধরে হলিউড ফ্রিওয়ের কাছে ইস্ট হলিউডের একটি সড়কের শেষ প্রান্তের এলাকায় অবস্থান করছেন। কয়েক বছর পরপর গুগলের স্ট্রিট ভিউ গাড়ি ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় তার অস্থায়ী আশ্রয়স্থল ও সেখানে থাকা অবস্থার ছবি ধারণ করেছে। ২০০৯, ২০১১, ২০১৫ এবং ২০২৫ সালের স্ট্রিট ভিউ ছবিতেও তাকে একই এলাকার আশপাশে দেখা যায়।   রোলারের ভাষ্য, রাস্তায় বসবাসের অভিজ্ঞতা অনেকটা ‘রোলার-কোস্টার’ যাত্রার মতো। দীর্ঘ সময়ে ওই এলাকায় মাদকাসক্তি, সহিংসতা এবং নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা তিনি দেখেছেন। একসময় তার আশপাশে বড় একটি গৃহহীন মানুষের অস্থায়ী বসতি গড়ে উঠেছিল। সেখানে রাতের বেলায় কিছু মানুষ মাটিতে গর্ত করত। বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত হয়ে রোলার তাদের রাতে গর্ত না করার নিয়ম করেছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই গর্তগুলোতে মাদক লুকিয়ে রাখা হতো বলে মানুষজন সেগুলো খুঁড়ত।   রোলার জানান, তিনি নিজে মাদক বা অ্যালকোহল ব্যবহার করেন না। তবে তার নিজের জীবনেও এমন কিছু অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা তাকে রাস্তায় এসে থাকতে বাধ্য করেছে। একসময় তিনি গণিত পড়াতেন এবং তার চারজন প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান রয়েছে। তার দাবি, সন্তানরা সবাই কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত এবং নিয়মিত তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। রোলারের মতে, তার জীবনে জুয়ার প্রতি আসক্তিও বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, উত্তেজনা ও নতুন অভিজ্ঞতার প্রতি তার প্রবল আকর্ষণ ছিল। সহজেই একঘেয়ে হয়ে পড়তেন এবং জুয়া তাকে সেই উত্তেজনা দিত।   এখন তার কাছে থাকা মোবাইল ফোনটি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং দৈনন্দিন জীবন টিকিয়ে রাখার অন্যতম হাতিয়ার। প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি অনলাইনে দাবা খেলছিলেন। মজা করে জানান, প্রতিবেদক আসার ঠিক আগেই তিনি একটি খেলায় হেরে গেছেন। সস্তায় খাবার কেনা কিংবা বিভিন্ন ধরনের ছাড় খুঁজে বের করতেও ফোনের বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করেন রোলার। তিনি জানান, ইউসিএলএর কাছ থেকে নিয়মিত প্রশ্নপত্রের উত্তর দেওয়ার বিনিময়ে উপহার কার্ডও পান।   তবে প্রায় ২০ বছর ধরে রাস্তায় থাকার পরও গৃহহীন মানুষদের জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন—এ প্রশ্নে রোলারের ভাবনা প্রচলিত আশ্রয়কেন্দ্রের ধারণার চেয়ে কিছুটা আলাদা। তার মতে, গৃহহীন মানুষদের জন্য আলাদা বড় ঘর, ব্যক্তিগত রান্নাঘর কিংবা ব্যক্তিগত গোসলখানা থাকা জরুরি নয়। বরং একটি ভবনের মধ্যে ছোট ছোট ব্যক্তিগত কক্ষ তৈরি করে সেখানে প্রত্যেকের জন্য একটি দরজা ও একটি বিছানা থাকলেই অনেক মানুষ রাস্তায় না থেকে ঘরের ভেতর থাকতে পারবেন।   রোলারের ভাষায়, প্রত্যেকের নিজের একটি ছোট কক্ষ থাকলেই যথেষ্ট। সেখানে আলাদা রান্নাঘর, টেলিভিশন কিংবা গোসলখানা না থাকলেও চলবে। তার কাছে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস হলো একটি বিছানা। তার অভিজ্ঞতায়, রাস্তায় থাকার সবচেয়ে কঠিন দিকগুলোর একটি হলো আবহাওয়া। বিশেষ করে মাঝে মাঝে বৃষ্টি ও ঠান্ডা তার জন্য বড় সমস্যা তৈরি করে। তবে অন্যান্য পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব বলেই মনে করেন তিনি।   রাস্তায় দীর্ঘদিন থাকার অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রোলার বলেন, গৃহহীন জীবন তার কাছে অনেকটা প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো। এ ক্ষেত্রে কাঠবিড়ালি, র‍্যাকুন ও স্কাঙ্কের মতো প্রাণীদের কাছ থেকেও তিনি শেখার কথা বলেন। দীর্ঘ সময়ে গৃহহীনদের জন্য স্থানীয় নিয়মকানুনেও পরিবর্তন দেখেছেন রোলার। তার দাবি, রাস্তায় থাকার শুরুর দিকে তাদের ভোরের আগেই উঠে পড়তে হতো এবং রাত ৯টার পর ঘুমাতে যেতে হতো। বছরের পর বছর তিনি এসব নিয়ম মেনে চলেছেন।   তবে কোভিড-১৯ মহামারির সময় পরিস্থিতি বদলে যায়। রোলারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় গৃহহীনদের জন্য অনেক বিধিনিষেধ শিথিল হয়ে যায় এবং বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী বসতি বড় হতে থাকে। পরে কিছু নিয়ম আবার কার্যকর করার চেষ্টা হলেও আগের মতো পরিস্থিতি আর ফিরে আসেনি বলে তিনি মনে করেন।   ইস্ট হলিউডের ওই এলাকাটিও গত প্রায় দুই দশকে অনেক বদলে গেছে। রোলার যেখানে থাকেন, তার ওপরে এখন একটি বড় বেড়া রয়েছে। তার দাবি, আগে সেখানে বড় একটি গৃহহীন মানুষের অস্থায়ী বসতি ছিল। বেড়া দেওয়ার পর পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত হয়েছে এবং এখন সেখানে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু মানুষ থাকেন।   এলাকাটিতে এ সময়ে নতুন নতুন ভবন তৈরি হয়েছে, অস্থায়ী বসতি গড়ে উঠেছে এবং আবার সেগুলো সরেও গেছে। পুলিশকে লোকজনকে ধাওয়া করতে দেখেছেন রোলার; কখনো কখনো ওপর দিয়ে হেলিকপ্টারও উড়তে দেখেছেন। কিন্তু এসব পরিবর্তনের মধ্যেও তিনি একই এলাকায় থেকে গেছেন। প্রায় ১৯ বছর ধরে রাস্তায় থাকার পরও নিজের জীবন সম্পর্কে রোলারের দৃষ্টিভঙ্গি প্রচলিত ধারণার চেয়ে ভিন্ন। তিনি মনে করেন, এ জীবন তার পছন্দের একটি জীবনধারা হয়ে উঠেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ২০:৪৬
যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ, গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য বড় আপডেট

যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ, গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য বড় আপডেট

ক্যালিফোর্নিয়ায় সৈকতে হাঁটতে গিয়ে দানবীয় ঢেউয়ের কবলে নারী, প্রাণে বাঁচালেন লাইফগার্ডরা

ক্যালিফোর্নিয়ায় সৈকতে হাঁটতে গিয়ে দানবীয় ঢেউয়ের কবলে নারী, প্রাণে বাঁচালেন লাইফগার্ডরা

নিউইয়র্কে ভিড় জমিয়ে বিশাল নিষিদ্ধ অজগর প্রদর্শন, মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

নিউইয়র্কে ভিড় জমিয়ে বিশাল নিষিদ্ধ অজগর প্রদর্শন, মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

নিউ জার্সির অ্যালায়না দুবার ক্যানসারকে হারিয়ে এবার ক্যানসার রোগীদের সেবায় নার্স হচ্ছেন
নিউ জার্সির অ্যালায়না দুবার ক্যানসারকে হারিয়ে এবার ক্যানসার রোগীদের সেবায় নার্স হচ্ছেন

হাইস্কুলের শেষ বছরটি সাধারণত পড়ালেখা, আড্ডা আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে কাটে। কিন্তু নিউজার্সির ১৭ বছর বয়সী কিশোরী অ্যালায়না রিওজি-বোডিনের গল্পটি ছিল একেবারেই ভিন্ন।   ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে তার শরীরে স্টেজ টু 'হজকিনস লিম্ফোমা' বা এক ধরনের ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে। সাঁতার ও ট্রায়াথলনের মতো কঠোর অ্যাথলেটিক অনুশীলনে থাকা একজন প্রাণবন্ত কিশোরীর জন্য এই খবরটি ছিল চরম হতাশাজনক।   রোগ নির্ণয়ের পর জীবন বাঁচবে কি না, আর কেমোথেরাপির কারণে নিজের প্রিয় চুলগুলো ঝরে যাবে কি না—এই দুই ভয় তাকে সবচেয়ে বেশি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। তবে ভেঙে না পড়ে চিকিৎসকদের পরামর্শে চুল পড়া রোধে 'কোল্ড ক্যাপ' ব্যবহার এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণের মতো সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন তিনি।   টানা আটটি কেমোথেরাপি সেশন শেষে অ্যালায়না প্রথমবার ক্যানসারমুক্ত হওয়ার সুখবর পান। কিন্তু এই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ক্যানসার আবারও ফিরে আসে, এবং এবার তা ছিল আরও আক্রমণাত্মক।   দ্বিতীয়বারের এই লড়াইয়ে কোল্ড ক্যাপ ব্যবহার সম্ভব না হওয়ায় বাধ্য হয়েই তাকে মাথার চুল ফেলে দিতে হয়। নতুন করে ইমিউনোথেরাপি ও কেমোথেরাপির পাশাপাশি তাকে একটি জটিল 'স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট' প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।   কঠিন এই সময়ে হাসপাতালের নার্সরা তার চিকিৎসা কক্ষটিকে টেলর সুইফটের থিমে সাজিয়ে ট্রান্সপ্লান্টের দিনটিকে রীতিমতো উৎসবমুখর করে তুলেছিলেন। নার্সদের এই অভাবনীয় মানসিক সমর্থন অ্যালায়নার যন্ত্রণাদায়ক সময়কে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছিল।   কঠিন এই লড়াই শেষে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অ্যালায়না চূড়ান্তভাবে তার চিকিৎসা সম্পন্ন করেন এবং বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ ক্যানসারমুক্ত। নিজের অসুস্থতা ও হাসপাতালে কাটানো দিনগুলো তার জীবনের লক্ষ্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।   গত মে মাসে নার্সিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এখন পেডিয়াট্রিক অনকোলজি নার্স (শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় নিয়োজিত নার্স) হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি চান যে নার্সরা তাকে কঠিন সময়ে ভালোবেসে সুস্থ করে তুলেছেন, ঠিক সেভাবেই তিনি অন্যান্য ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়াবেন।   পাশাপাশি, বয়ঃসন্ধিকালীন ক্যানসার রোগীদের সহায়তা ও অনুপ্রেরণা জোগাতে তিনি 'অ্যালায়না জেইন ফাউন্ডেশন' নামে একটি সংস্থাও পরিচালনা করছেন। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে অ্যালায়না এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন এবং তার ভাষায়—তিনি এখন জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত দারুণভাবে উপভোগ করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৮:৪৮
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের সাবেক সিনেটর এবং মার্কিন রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ ন্যান্সি কাসেবাম

যুক্তরাষ্ট্রে নারী নেতৃত্বের পথপ্রদর্শক, প্রভাবশালী সিনেটর ন্যান্সি কাসেবাম আর নেই

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বয়ফ্রেন্ডের হাতে খু ন ১৮ বছরের নারী ফুটবলার

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বয়ফ্রেন্ডের হাতে খু ন ১৮ বছরের নারী ফুটবলার, লা শ গুমে মায়ের সহায়তা

শিকাগোতে ওয়েন্ডিসের বার্গার খেয়ে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, ৯৩ হাজার ডলারের চিকিৎসা বিল নিয়ে মামলা

শিকাগোতে ওয়েন্ডিসের বার্গার খেয়ে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, ৯৩ হাজার ডলারের চিকিৎসা বিল নিয়ে মামলা

0 Comments