সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

জীবনের মূল্য শেখাতে সন্তানদের ‘কঠোর জীবনযাপনের ক্যাম্পে’ পাঠাচ্ছেন চীনা বাবা-মা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ২২:১৫
মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট থেকে দূরে রেখে গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করাচ্ছে চীনের বিশেষ গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট থেকে দূরে রেখে গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করাচ্ছে চীনের বিশেষ গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প। ছবি: সংগৃহীত

শহুরে জীবনের আরাম-আয়েশ থেকে সন্তানদের দূরে রেখে জীবনের কঠিন বাস্তবতা শেখাতে চীনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ব্যতিক্রমী ধরনের গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প। এসব ক্যাম্পে সন্তানদের মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে গ্রামের পরিবেশে কৃষিকাজ, কাঠ কাটা, পশুপাখির দেখাশোনা ও আলু খোঁড়ার মতো শারীরিক শ্রম করতে দেওয়া হচ্ছে।

 

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সিচুয়ান, গুইঝো ও ইউনান প্রদেশে এ ধরনের ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়ছে। শহরের শিশুদের গ্রামীণ জীবন ও কৃষিকাজের সঙ্গে পরিচিত করানো এবং পরিবার যে আরাম-সুবিধা দিয়ে তাদের বড় করছে, তার মূল্য বোঝানোই এসব কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য বলে আয়োজকেরা দাবি করছেন।

 

সাধারণ গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পের তুলনায় এসব কর্মসূচির ধরন বেশ কঠোর। শিশুদের ভোরে ঘুম থেকে উঠতে হয়। এরপর কৃষকদের দৈনন্দিন কাজের আদলে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে জমি থেকে আলু তোলা, সেই আলু বিক্রি করা, গাছের ছাল ছাড়ানো, কাঠ কাটা এবং গবাদিপশুকে খাবার দেওয়া।

 

কিছু ক্যাম্পে শিশুদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগও থাকে না। কাজের মাধ্যমে পয়েন্ট অর্জনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কিছু কর্মসূচিতে। এসব পয়েন্ট দিয়ে প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন সামগ্রী সংগ্রহ করা যায়। তবে নির্ধারিত কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে শাস্তি হিসেবে শুধু সেদ্ধ আলু খেতে দেওয়া হয় এমন নিয়মের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

 

এই অভিজ্ঞতার জন্য বাবা-মাকেই উল্টো অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। কিছু ক্যাম্পে ১০ দিনের কর্মসূচির জন্য ৪ হাজার ইউয়ানের বেশি নেওয়া হয়। এক মাস পর্যন্ত চলা দীর্ঘ কর্মসূচির খরচ ১০ হাজার ইউয়ান ছাড়িয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ সন্তানকে কৃষিকাজ ও কঠোর জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা দিতে পরিবারগুলোকে কয়েক হাজার থেকে ১০ হাজারেরও বেশি ইউয়ান খরচ করতে হচ্ছে।

 

আয়োজকদের বক্তব্য, শহরের অনেক শিশু অর্থ উপার্জন কতটা কঠিন এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসের পেছনে কতটা শ্রম রয়েছে, তা বাস্তবে উপলব্ধি করতে পারে না। তাই তাদের সাময়িকভাবে এমন পরিবেশে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে খাবার থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস পেতেও শ্রম দিতে হয়।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে অবশ্য এসব ক্যাম্প নিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। কিছু ভিডিওতে শিশুদের কান্না করতে এবং বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করতে দেখা যায়। কেউ কেউ কৃষিকাজের পরিবর্তে স্কুলের পড়াশোনায় ফিরে যেতে চাওয়ার কথাও বলেছে।

কিছু কর্মসূচিতে সন্তানদের বাবা-মায়ের উদ্দেশে চিঠি লিখতেও বলা হয়। ক্যাম্প পরিচালনাকারীদের দাবি, এসব চিঠি ও ভিডিও দেখে অনেক বাবা-মা আবেগাপ্লুত হন এবং অন্যদেরও সন্তানদের এমন অভিজ্ঞতার জন্য পাঠাতে উৎসাহিত করেন।

 

তবে অভিজ্ঞতা নিয়ে অভিভাবকদের মত এক নয়। সিচুয়ানের গাও পদবির এক বাবা তার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভর্তি হওয়া মেয়েকে এমন একটি ক্যাম্পে পাঠিয়েছিলেন। তিনি জানান, মেয়ে কৃষিকাজ নিয়ে বারবার অভিযোগ করলেও শেষ পর্যন্ত কাজটি উপভোগ করতে শুরু করে বলে তিনি অবাক হয়েছেন।

 

অন্যদিকে, সাংহাইয়ের এক মা তার সাত বছর বয়সী মেয়েকে ১০ দিনের কর্মসূচিতে পাঠিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, ক্যাম্প শেষে মেয়ের অলসতা ও খাবার নিয়ে বাছবিচারের মতো পুরোনো অভ্যাস পুরোপুরি বদলায়নি। তবে মেয়েটি নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের গণ্ডির বাইরে গিয়ে ভিন্ন ধরনের জীবন দেখার সুযোগ পেয়েছে এ বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন তিনি।

 

অন্য কিছু অভিভাবক দাবি করেছেন, আগে যারা সারাক্ষণ মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকত, ক্যাম্প থেকে ফিরে তাদের আচরণে পরিবর্তন দেখা গেছে। আবার কেউ বলেছেন, ঘুম ও খাবারের পুরোনো অনিয়ম খুব দ্রুতই ফিরে এসেছে। ফলে এসব কর্মসূচি শিশুদের আচরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

 

এ নিয়েই এখন চীনে শিক্ষা ও অভিভাবকত্ব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, শিশুদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কঠোর শারীরিক শ্রম করানো আসলেই কি তাদের দায়িত্বশীল ও আত্মনির্ভর করে তুলতে পারে?

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, অল্প সময়ের জন্য কঠোর পরিবেশে রেখে শিশুদের আচরণে পরিবর্তন দেখা গেলেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। চাপের মধ্যে শিশুরা সাময়িকভাবে অনুগত বা অনুতপ্ত আচরণ করতে পারে, কিন্তু সেই পরিবর্তনকে স্থায়ী মানসিক পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

 

বিশেষজ্ঞদের আরও আশঙ্কা, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে অতিরিক্ত শ্রমে যুক্ত করলে উল্টো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একটি শিশুকে জীবনের বাস্তবতা শেখানোর জন্য শ্রমের সঙ্গে পরিচয় করানো যেতে পারে, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার মাত্রা, নিরাপত্তা এবং শিশুর সম্মতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

 

এই প্রবণতার পেছনে চীনের প্রজন্মগত পরিবর্তনও আলোচনায় এসেছে। কয়েক দশক আগে চীনের অনেক পরিবার দারিদ্র্য ও কঠিন জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে। তাদের একটি অংশ মনে করে, সেই কঠিন অভিজ্ঞতাই তাদের পরিশ্রমী ও দৃঢ় করে তুলেছিল। এখন তাদের সন্তানরা তুলনামূলক স্বচ্ছল পরিবেশে বড় হওয়ায় একই ধরনের দৃঢ়তা তাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে না—এমন উদ্বেগ থেকেই অনেক বাবা-মা সন্তানদের ‘কষ্টের অভিজ্ঞতা’ দিতে চাইছেন।

তবে সমালোচকেরা বলছেন, সন্তানকে কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত করার দায়িত্ব শুধু অর্থের বিনিময়ে কোনো ক্যাম্পের হাতে তুলে দিলেই শেষ হয় না। পরিবারের দৈনন্দিন জীবন, দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া, পরিশ্রমের মূল্য বোঝানো এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও শিশুর মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

ফলে চীনের এই নতুন ধরনের ‘কষ্টের ক্যাম্প’ একদিকে যেমন সন্তানদের বাস্তব জীবনের সঙ্গে পরিচিত করানোর একটি অভিনব উদ্যোগ হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, অন্যদিকে শিশুদের ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং এর দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাগত ও মানসিক প্রভাব নিয়েও বিতর্ক বাড়ছে। আপাতত এ নিয়ে অভিভাবক, আয়োজক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
১৯২৪ সালে জর্জ ম্যালরির সঙ্গে এভারেস্টের চূড়ার দিকে যাত্রা করেছিলেন স্যান্ডি আরভাইন। ছবি: সংগৃহীত
১০০ বছর পর এভারেস্টে মিলল নিখোঁজ পর্বতারোহীর দেহাবশেষ, বদলে যেতে পারে প্রথম এভারেস্ট জয়ীর ইতিহাস

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের অন্যতম বড় পর্বতারোহণ রহস্য হয়ে থাকা স্যান্ডি আরভাইনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন সূত্র মিলেছে। ১৯২৪ সালে জর্জ ম্যালরির সঙ্গে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ব্রিটিশ পর্বতারোহী অ্যান্ড্রু কমিন ‘স্যান্ডি’ আরভাইনের বলে ধারণা করা হচ্ছে এমন একটি জুতা ও পায়ের অংশ ২০২৪ সালে এভারেস্টে পাওয়া যায়। জুতার ভেতরের মোজায় লাল অক্ষরে ‘A.C. IRVINE’ লেখা নামের ফিতা ছিল।   ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে লেখক জুলি সামার্স ও পর্বতারোহণ ইতিহাসবিদ ইয়োখেন হেমলেবের নতুন বই ‘দ্য এভারেস্ট মিস্ট্রি: স্যান্ডি আরভাইন, জর্জ ম্যালরি অ্যান্ড দ্য ট্রুথ স্টিল বারিড অন এভারেস্ট’ প্রকাশের আগে। বইটিতে আরভাইনের জীবন, ১৯২৪ সালের সেই অভিযানের শেষ মুহূর্ত এবং ম্যালরি-আরভাইন আদৌ এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছিলেন কি না এসব প্রশ্ন নতুন করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বইটি ২৫ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশের কথা রয়েছে।   স্যান্ডি আরভাইন ছিলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী। অভিজ্ঞ পর্বতারোহী হিসেবে ম্যালরির তুলনায় তিনি অনেকটাই নবীন ছিলেন। কিন্তু শারীরিক সক্ষমতা ও যন্ত্রপাতি নিয়ে দক্ষতার কারণে ম্যালরি তাকে শেষ অভিযানের সঙ্গী হিসেবে বেছে নেন বলে গবেষকেরা মনে করেন। আরভাইন অক্সফোর্ডের নৌকাবাইচ দলেরও দক্ষ খেলোয়াড় ছিলেন। একই সঙ্গে ১৯২৪ সালের অভিযানে ব্যবহৃত অক্সিজেন সরঞ্জামকে হালকা ও কার্যকর করার কাজেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।   ১৯২৪ সালের ৮ জুন ম্যালরি ও আরভাইন এভারেস্টের চূড়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। অভিযানের আরেক সদস্য নোয়েল ওডেল দূর থেকে দুজনকে শেষবারের মতো দেখতে পান। কুয়াশা নেমে আসার আগে তারা পাহাড়ের ওপরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। এরপর তারা আর ফিরে আসেননি।   তখন থেকেই প্রশ্ন ছিল ঠিক কী ঘটেছিল তাদের সঙ্গে? ১৯৯৯ সালে ম্যালরির দেহ এভারেস্টের প্রায় ২৭ হাজার ফুট উচ্চতায় খুঁজে পাওয়া যায়। তার দেহে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন এবং দড়ির দাগ ছিল। এসব আলামত থেকে গবেষকদের ধারণা, ম্যালরি ও আরভাইন সম্ভবত দড়ি দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে বাঁধা ছিলেন এবং কোনো এক সময় দুর্ঘটনায় পড়ে যান। তবে আরভাইনের কোনো চিহ্ন তখনও পাওয়া যায়নি।   আরভাইনকে খুঁজে পাওয়ার গুরুত্ব শুধু তার নিখোঁজ হওয়ার রহস্য সমাধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার কাছে একটি ছোট কোডাক ভেস্ট পকেট ক্যামেরা থাকার কথা ছিল। যদি সেই ক্যামেরাটি উদ্ধার করা যায় এবং তাতে কোনো ছবি বা ফিল্ম পাওয়া যায়, তাহলে ১৯২৪ সালের ওই অভিযানের সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ম্যালরি ও আরভাইন কি এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছিলেন? কারণ ১৯৫৩ সালে এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে প্রথমবারের মতো এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছানোর স্বীকৃতি পাওয়ার প্রায় তিন দশক আগে ম্যালরি ও আরভাইন সেখানে পৌঁছে থাকলে পর্বতারোহণের ইতিহাসই বদলে যাবে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের একটি দল এভারেস্টের উত্তর দিকের সেন্ট্রাল রংবুক হিমবাহ এলাকায় অনুসন্ধান চালানোর সময় পুরোনো একটি জুতা দেখতে পায়। জুতাটি বরফ থেকে বেরিয়ে ছিল। পরে সেটির ভেতরে মানুষের পায়ের অংশ এবং নাম লেখা মোজা পাওয়া যায়। নামটি ছিল ‘A.C. IRVINE’।   দলটির নেতৃত্বে ছিলেন পর্বতারোহী, আলোকচিত্রী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জিমি চিন। পরে চীনের তিব্বত পর্বতারোহণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি জুতা ও পায়ের অংশটি এভারেস্ট থেকে সরিয়ে নেন। আরও শনাক্তকরণের জন্য ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয় এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সেটি নিয়ে কাজ করা হয়। আরভাইনের নাম লেখা মোজাটি আবিষ্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্রগুলোর একটি। গবেষকদের মতে, এটি শত বছর পর তার দেহাবশেষ যে এখনো এভারেস্টে রয়েছে, সে বিষয়ে শক্ত প্রমাণ দেয়। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা শেষ মুহূর্তে তিনি ও ম্যালরি কোথায় ছিলেন—তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।   আরভাইনের পায়ের অংশ যেখানে পাওয়া গেছে, সেটি ম্যালরির দেহ পাওয়ার স্থান থেকে অনেক নিচে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে তার দেহাবশেষ এতটা নিচে চলে গেল। এর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, দুর্ঘটনার সময় ম্যালরি ও আরভাইনকে যুক্ত করা দড়ি ছিঁড়ে গেলে আরভাইন পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে গিয়ে হিমবাহে পৌঁছাতে পারেন। এরপর শত বছর ধরে বরফের ধীর গতির প্রবাহ তার দেহাবশেষ আরও নিচের দিকে সরিয়ে নিতে পারে।   তবে বিষয়টি নিয়ে আরও কিছু পুরোনো রহস্যও রয়েছে। ১৯৬০ ও ১৯৭৫ সালের চীনা এভারেস্ট অভিযানে পুরোনো পোশাক পরা একজন ইউরোপীয় ব্যক্তির দেহ দেখতে পাওয়ার দাবি উঠেছিল। এসব বিবরণ নিয়ে পরবর্তীতে নানা জল্পনা তৈরি হয়। তবে সেগুলোর কোনোটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। ১৯৩৩ সালের একটি ব্রিটিশ অভিযানে আরভাইনের ব্যবহৃত বরফকুঠারও এভারেস্টের উত্তর-পূর্ব শৈলশিরায় পাওয়া গিয়েছিল। ফলে তার দেহ কোথায় থাকতে পারে, সে বিষয়ে পরবর্তী অনুসন্ধানকারীদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে।   নতুন আবিষ্কার সেই অনুসন্ধানের পরিধিও সংকুচিত করেছে। গবেষকদের ধারণা, আরভাইনের অন্যান্য সরঞ্জাম বিশেষ করে সেই হারিয়ে যাওয়া ক্যামেরা এখনো আশপাশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্যামেরাটি উদ্ধার হয়নি। ফলে ম্যালরি ও আরভাইন ১৯২৪ সালেই বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পৌঁছেছিলেন কি না, সেই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো অমীমাংসিত। এক শতাব্দী পর আরভাইনের জুতা ও পায়ের অংশের সন্ধান তাই শুধু একজন নিখোঁজ পর্বতারোহীর পরিচয় নিশ্চিত করার ঘটনা নয়; এটি এভারেস্টের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী রহস্যের নতুন একটি অধ্যায় খুলে দিয়েছে।   তবে আরভাইনের নাতনি জুলি সামার্সের কাছে গল্পটির গুরুত্ব শুধু মৃত্যুর রহস্যে নয়। তার মতে, ১৯২৪ সালের প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ম্যালরি ও আরভাইন এভারেস্টে যে উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন, সেটিই ছিল অসাধারণ অর্জন। এক শতাব্দী পরও তাদের সেই সাহসিকতা ও অভিযানের গল্পই মানুষের আগ্রহ ধরে রেখেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ২২:৩২
মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট থেকে দূরে রেখে গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করাচ্ছে চীনের বিশেষ গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প। ছবি: সংগৃহীত

জীবনের মূল্য শেখাতে সন্তানদের ‘কঠোর জীবনযাপনের ক্যাম্পে’ পাঠাচ্ছেন চীনা বাবা-মা

প্রতীকী ছবি:সংগৃহীত

চাঁদে শুধু নভোচারী নয়, সাধারণ মানুষও যেতে পারবে, ইলন মাস্কের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

'চাকি’ মুখোশধারী সন্দেহভাজনকে ঘিরে রহস্য, লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকার আশঙ্কা

'চাকি’ মুখোশধারী সন্দেহভাজনকে ঘিরে রহস্য, লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকার আশঙ্কা

নিউ গিনির দুর্গম বনাঞ্চলে আবিষ্কৃত নতুন প্রজাতির সাপের নাম ‘স্ল্যাশ’
নিউ গিনির দুর্গম বনাঞ্চলে আবিষ্কৃত নতুন প্রজাতির সাপের নাম ‘স্ল্যাশ’

নিউ গিনির বনাঞ্চলে নতুন একটি সাপের প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। জনপ্রিয় রক ব্যান্ড গানস এন’ রোজেসের গিটারিস্ট স্ল্যাশের প্রতি সম্মান জানিয়ে নতুন এই সাপের বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয়েছে Lielaphis slashi।   লালচে-বাদামি রঙের এই মাটির সাপটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭১ সেন্টিমিটার বা ২৮ ইঞ্চি। গবেষকদের মতে, সাপটি মূলত রাতে সক্রিয় থাকে এবং সূর্য ডোবার পর বড় গাছের গোড়ার কাছে খাবারের সন্ধানে দেখা যায়।   নতুন প্রজাতিটির নামকরণের কারণও বেশ ব্যতিক্রমী। সরীসৃপের প্রতি স্ল্যাশের দীর্ঘদিনের আগ্রহ এবং প্রাণী সংরক্ষণ, চিড়িয়াখানা, জাদুঘর ও প্রাকৃতিক ইতিহাসবিষয়ক শিক্ষার প্রতি তার সমর্থনের কথা উল্লেখ করেছেন গবেষকরা।   নতুন এই নামকরণে নিজের প্রতিক্রিয়ায় স্ল্যাশ বলেন, একজন দীর্ঘদিনের সরীসৃপপ্রেমী হিসেবে নিউ গিনি থেকে আবিষ্কৃত একটি সাপের নাম তার নামে রাখা অত্যন্ত সম্মানের এবং একই সঙ্গে বিস্ময়ের বিষয়।   নতুন প্রজাতিটি শনাক্ত করার পেছনে কাজ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়ামের গবেষক সারা রুয়ানেসহ একদল বিজ্ঞানী। রুয়ানে জানান, ছোটবেলা থেকেই সাপের প্রতি তার আগ্রহ ছিল এবং গানস এন’ রোজেসও ছিল তার পছন্দের ব্যান্ডগুলোর একটি। ছোট বয়সে স্ল্যাশকে একটি পোষা অজগরসহ দেখে তার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়।   গবেষকদের সঙ্গে স্থানীয় বিজ্ঞানীরাও নিউ গিনির দুর্গম বনাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। ২০০৬ সালে মাঠপর্যায়ের গবেষণার সময় বিজ্ঞানীরা প্রথম অপরিচিত এই সাপটির সন্ধান পান। পরে আরও বিস্তারিত গবেষণার মাধ্যমে এর বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হয়।   শুধু বাহ্যিক চেহারা দেখে সাপটিকে নতুন প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। গবেষকরা একাধিক আধুনিক জেনেটিক বিশ্লেষণ চালিয়ে দেখতে পান, Lielaphis slashi একই গণের অন্যান্য সাপের তুলনায় জেনেটিকভাবে স্বতন্ত্র।   এর পাশাপাশি শরীরের আঁশের সংখ্যা ও অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্যেও পার্থক্য পাওয়া যায়। সাপটির বাসস্থান এবং খাবার সংগ্রহের ধরনও কাছাকাছি প্রজাতিগুলোর তুলনায় আলাদা বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।   এই সাপের মুখের পেছনের দিকে তুলনামূলক বড় দাঁত রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, এসব দাঁত ব্যবহার করে এটি ছোট আকারের টিকটিকি ও অন্যান্য সরীসৃপের ডিম শিকার করতে পারে। তবে এটি অজগরের মতো শিকারকে পেঁচিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে না।   নতুন প্রজাতিটির আবিষ্কার নিয়ে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Zootaxa জার্নালে।   গবেষকরা বলছেন, নিউ গিনির ঘন বনাঞ্চলে এখনো বিপুল জীববৈচিত্র্য সম্পূর্ণভাবে গবেষণার আওতায় আসেনি। ফলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আরও নতুন প্রজাতির সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   আর সেই বৈচিত্র্যময় প্রাণিজগতের নতুন এক সদস্যের বৈজ্ঞানিক নাম এখন রক সংগীতের জনপ্রিয় তারকা স্ল্যাশের নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ৪:১
কানাডার জাদুঘরে সংরক্ষিত চিনাবাদামে শ্বাসবন্ধ হয়ে মারা যাওয়া ২ বছরের শিশুর শ্বাসনালি

কানাডার জাদুঘরে সংরক্ষিত চিনাবাদামে শ্বাসবন্ধ হয়ে মারা যাওয়া ২ বছরের শিশুর শ্বাসনালি

গাজায় নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ

গাজায় নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ ,পণ্য পৌঁছাতে প্রতিটি ধাপেই অর্থ দিতে হয় ইসরায়েলি সেনাদের

শিশু হিন্দ রাজাব নিহতের ঘটনায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিজস্ব তদন্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন তার মা উইসাম হামাদা। ছবি: সংগৃহীত

হিন্দ রাজাব হত্যার তদন্ত করবে ইসরায়েল, ‘ইসরায়েলের কোনো বিচারব্যবস্থার ওপর আমার আস্থা নেই’: শিশু হিন্দের মা

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সঙ্গে পরিবেশবাদী রাজনীতিক মারিনা সিলভা। ছবি: সংগৃহীত
রাবার শ্রমিকের মেয়ে থেকে ব্রাজিলের মন্ত্রী: যিনি ১৬ বছর বয়সেও পড়তে জানতেন না তিনি বাঁচালেন আমাজন বন

১৬ বছর বয়সেও পড়তে ও লিখতে জানতেন না তিনি। ছোটবেলায় ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলে রাবার গাছ থেকে কষ সংগ্রহ করে পরিবারের জীবিকা চালাতে সাহায্য করতেন। সেই মেয়েটিই পরবর্তী সময়ে ব্রাজিলের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন এবং আমাজন বন রক্ষার আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত নেতা হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। তিনি মারিনা সিলভা।   ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য আকরের একটি রাবার সংগ্রহকারী পরিবারে জন্ম মারিনার। ১১ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। শৈশব কেটেছে আমাজনের বনাঞ্চলের কাছাকাছি অত্যন্ত সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তিনিও রাবার গাছ থেকে কষ সংগ্রহের কাজে যুক্ত ছিলেন।   শৈশবেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। ১৫ বছর বয়সে মাকে হারান মারিনা। এর আগেও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য মারা গিয়েছিলেন। শৈশবে নিজেও একাধিকবার ম্যালেরিয়া ও হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেছেন। ১৬ বছর বয়সে হেপাটাইটিসের চিকিৎসার জন্য আকরের রাজধানী রিও ব্রাঙ্কোয় যান তিনি। সেখানেই জীবনের বড় একটি পরিবর্তন আসে।   চিকিৎসার পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পরিচালিত একটি সাক্ষরতা কর্মসূচিতে ভর্তি হয়ে প্রথমবারের মতো পড়তে ও লিখতে শেখেন মারিনা। অর্থাৎ যে বয়সে অধিকাংশ শিশু-কিশোর বিদ্যালয়ের পড়াশোনা অনেকটা এগিয়ে নেয়, সেই বয়সেই তার আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়। রিও ব্রাঙ্কোয় গিয়ে জীবিকার জন্য গৃহকর্মীর কাজও করেন তিনি। পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যান। পরে ফেডারেল ইউনিভার্সিটি অব আকরে ইতিহাস বিষয়ে পড়াশোনা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনের এই যাত্রাই তাকে ধীরে ধীরে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিকে নিয়ে যায়।   আমাজনের বন রক্ষার আন্দোলনে মারিনার যুক্ত হওয়া ছিল তার জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। রাবার সংগ্রহকারী নেতা ও পরিবেশকর্মী চিকো মেন্ডেসের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বন উজাড়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৮০-এর দশকে আকরে বন উজাড় ও বনভূমি থেকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মারিনা ও মেন্ডেস।   রাজনীতিতে তার উত্থানও ছিল দ্রুত। রিও ব্রাঙ্কোর স্থানীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে অঙ্গরাজ্যের আইনসভা এবং পরে জাতীয় রাজনীতিতে জায়গা করে নেন তিনি। ১৯৯৫ সালে আকরের সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরবর্তী সময়ে ব্রাজিলের পরিবেশমন্ত্রীও হন। ২০০৩ সালে প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার প্রথম মেয়াদে পরিবেশমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন মারিনা। তার দায়িত্বকালে আমাজনে বন উজাড় কমানোর জন্য নজরদারি, আইন প্রয়োগ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা হয়। বিশেষ করে উপগ্রহের মাধ্যমে বন উজাড় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা পরিবেশ সুরক্ষার নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।   মারিনার মন্ত্রীত্বের সময় ব্রাজিলের আমাজনে বন উজাড় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক হিসাব অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে বন উজাড়ের হার প্রায় ৫৯ শতাংশ কমেছিল। এই সময়কার নীতির মধ্যে বন উজাড় প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সমন্বিত সরকারি কর্মপরিকল্পনা, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।   আমাজনের বন রক্ষায় উপগ্রহভিত্তিক নজরদারি ছিল এই নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। কোথায় বন উজাড় হচ্ছে, কোন এলাকায় তা ঘটছে এবং কোথায় দ্রুত আইন প্রয়োগ প্রয়োজন, এসব শনাক্ত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইনপে বর্তমানে ডিইটিইআর ও প্রোদেসের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাজনের বন উজাড় পর্যবেক্ষণ করে।   তবে মারিনা সিলভার পরিবেশনীতি শুধু বন রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তার বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা, টেকসই অর্থনীতি এবং বন সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির প্রয়োজনীয়তা। ব্রাজিলের সরকারও পরবর্তী সময়ে ২০৩০ সালের মধ্যে আমাজনে বন উজাড় শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।   লুলার সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদেও মারিনা আবার পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০২৩ সাল থেকে দায়িত্ব পালনকালে আমাজনে বন উজাড় কমানোর প্রবণতা আবারও দেখা গেছে। ব্রাজিলের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে আমাজনে বন উজাড় আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ কমেছিল। পরবর্তী সময়েও এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল।   মারিনার জীবনের গল্প তাই শুধু একজন রাজনীতিকের উত্থানের গল্প নয়। এটি ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের প্রান্তিক একটি পরিবারের মেয়ের শিক্ষা অর্জন, সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত হওয়া এবং পরে জাতীয় পর্যায়ের পরিবেশনীতি প্রভাবিত করার দীর্ঘ যাত্রার গল্প। একসময় যে মেয়েকে ১৬ বছর বয়সে নতুন করে পড়তে ও লিখতে শিখতে হয়েছিল, তিনিই পরে ব্রাজিলের সবচেয়ে পরিচিত পরিবেশবাদী রাজনীতিকদের একজন হয়ে ওঠেন। আমাজনের বন রক্ষার আন্দোলনে তার দীর্ঘ ভূমিকার জন্য ১৯৯৬ সালে তিনি গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজও পান।   ২০২৬ সালে মারিনা আবারও নির্বাচনী রাজনীতির দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। মে মাসের এক সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম বান্দনিউজ জানিয়েছিল, তিনি সাও পাওলো থেকে সিনেট নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সে সময় তিনি অর্থনীতি ও পরিবেশকে আলাদা করে দেখার পরিবর্তে দুটিকে একসঙ্গে বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।   মারিনার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই। শুরুটা যেখানে ছিল দারিদ্র্য, অসুস্থতা ও শিক্ষার সুযোগের অভাব দিয়ে, সেখান থেকে তিনি ধীরে ধীরে উঠে এসে ব্রাজিলের পরিবেশনীতি ও আমাজন সংরক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখে পরিণত হয়েছেন। তার জীবনের পথ দেখায়, দেরিতে শুরু করলেও সঠিক সময়ে নিজের জায়গা তৈরি করা সম্ভব।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ২২:২৮
কিমের সঙ্গে কথা বলতে চান ট্রাম্প, কিন্তু সাড়া মিলছে না পিয়ংইয়ং থেকে। ছবি: সংগৃহীত

কিম জং উনের সঙ্গে কথা বলতে মরিয়া ট্রাম্প, তবে ট্রাম্পের ফোন ধরছেন না কিম

প্যাকেজ দিতে এসে সোজা সুইমিং পুলে! অ্যামাজনের ড্রোনের কাণ্ডে ভাইরাল ভিডিও

প্যাকেজ দিতে এসে সোজা সুইমিং পুলে! অ্যামাজনের ড্রোনের কাণ্ডে ভাইরাল ভিডিও

হাইড্রলিক নষ্ট হওয়ার পরও উড়িয়ে নিরাপদে ফিরলেন নারী পাইলট

বাগদাদের আকাশে ক্ষতবিক্ষত যুদ্ধবিমান, হাইড্রলিক নষ্ট হওয়ার পরও উড়িয়ে নিরাপদে ফিরলেন নারী পাইলট

0 Comments