চীন থেকে নকল ওজন কমানোর ওষুধ এনে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি, ৭১ বছরের জেলের মুখে দুই ভারতীয়
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নকল ওষুধ পাচার এবং বিক্রির অভিযোগে দুই ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ইন্ডিক্টমেন্ট) গঠন করেছে একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, অভিযুক্ত স্বপনদীপ রায় এবং ভিকি রামানচা চীন থেকে জনপ্রিয় ওজন কমানোর ওষুধ 'ওজেম্পিক'-এর নকল সংস্করণ পাচার করে মার্কিন ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে বিক্রি করতেন।
গত মঙ্গলবার ইতালি থেকে প্রত্যর্পণের পর ফ্লোরিডার আদালতে হাজির করা হলে স্বপনদীপ রায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত এই জালিয়াতি চক্রটি সক্রিয় ছিল। তারা নকল প্যাকেজিং, লেবেল ও নির্দেশিকা ব্যবহার করে ক্রেতাদের বোঝাতেন যে এগুলো আসল ওজেম্পিক ওষুধ।
মূলত রোগীদের প্রতি মাসে এই ওষুধের জন্য শত শত ডলার খরচ করতে হয়, আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্তরা বিশাল ডিসকাউন্টে নকল ওষুধগুলো বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে বিক্রি করতেন।
এমনকি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) কিছু নকল ওজেম্পিক বাজেয়াপ্ত করে জনসতর্কতা জারি করার পরও এই চক্রটি তাদের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে গিয়েছিল।
অভিযুক্ত স্বপনদীপ রায় এবং ভিকি রামানচার বিরুদ্ধে নকল ওষুধ পাচার, প্রতারণার ষড়যন্ত্র এবং অবৈধভাবে বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। যদি তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়, তবে প্রত্যেককে সর্বোচ্চ ৭১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।
মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, আমেরিকার ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থায় যারা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে, তাদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের বাফেলো ও পশ্চিম নিউইয়র্ক এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অপ্রত্যাশিত এক দুঃসংবাদ এসেছে। বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল নিউইয়র্কের পক্ষ থেকে বাফেলোতে তাদের ভ্রাম্যমাণ কনসুলার সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার রাতে কনস্যুলেটের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অনিবার্য কারণবশত’ বাফেলোতে এই সেবা স্থগিত করা হলো। তবে বিজ্ঞপ্তিতে সেবা বন্ধের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি, যা স্থানীয় কমিউনিটিতে নানা জল্পনা-কল্পনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি থেকে প্রায় ৩৭০ মাইল দূরে অবস্থিত বাফেলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পাসপোর্ট ও অন্যান্য জরুরি সেবা নেওয়ার ভোগান্তি কমাতে কনস্যুলেট নিয়মিতভাবে সেখানে ভ্রাম্যমাণ সেবা প্রদান করে আসছিল। আগামী ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর বাফেলোতে এই সেবার সময়সূচি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং এবারই প্রথম সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা দেওয়ার কথাও ছিল। কিন্তু আকস্মিক এই ঘোষণায় প্রবাসীদের সেই প্রত্যাশা সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কনস্যুলেটের বর্তমান সরকারি ওয়েবসাইটে বাফেলোর সেবা বন্ধের কারণ বা পুনরায় চালুর নতুন কোনো সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সেবা বন্ধের প্রকৃত কারণ নিয়ে বাফেলোর বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র মতে, কনসুলার সেবা আয়োজন ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের মধ্যে নেতৃত্ব, ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৬ সালেও সংগঠনগত বিরোধ এবং স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন নিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয়েছিল। অনেকেই ধারণা করছেন, প্রবাসী সংগঠনগুলোর এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়হীনতার কারণেই কনস্যুলেট সেবা স্থগিতের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। যদিও কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ স্পষ্ট করা হয়নি। সাধারণ প্রবাসীরা এই পরিস্থিতিতে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সংগঠনের নেতৃত্ব বা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। কিন্তু অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বলি হয়ে সাধারণ প্রবাসীদের কনসুলার সেবার মতো মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের অনেকেই প্রস্তাব করেছেন, রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে থাকা কোনো নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম বা গ্রহণযোগ্য সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে এই সেবা পুনরায় চালু করা হোক। বাফেলোর প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যাশা, কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দ্রুত পুনর্বিবেচনা করবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে একটি নিরপেক্ষ ব্যবস্থায় বাফেলোতে ভ্রাম্যমাণ কনসুলার সেবা পুনরায় চালু করবে।
ভাইকে বিয়ের অভিযোগ, ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব কি বাতিল করতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন?
চীন থেকে নকল ওজন কমানোর ওষুধ এনে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি, ৭১ বছরের জেলের মুখে দুই ভারতীয়
ছোট্ট বয়সে বড় অর্জন, যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ৩০০ তরুণ উদ্ভাবকের তালিকায় আইজা হাসান
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) সেক্রেটারি এবং সাউথ ডাকোটার সাবেক গভর্নর ক্রিস্টি নোয়েম তাঁর স্বামী ব্রায়নের বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছেন। দীর্ঘ ৩৪ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জানা গেছে, 'বিম্বোফিকেশন' নামে পরিচিত এক অদ্ভুত নারীসাজের স্ক্যান্ডালে স্বামীর সম্পৃক্ততার খবর প্রকাশ্যে আসার কয়েক মাস পরই তিনি এই আইনি পদক্ষেপ নিলেন। নিজ অঙ্গরাজ্য সাউথ ডাকোটার হ্যামলিন কাউন্টি আদালতে 'মীমাংসার অযোগ্য মতপার্থক্য'-এর কারণ দেখিয়ে এই বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জমা দিয়েছেন তিনি। ১৯৯২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতির কাসিডি, কেনেডি এবং বুকার নামে প্রাপ্তবয়স্ক তিন সন্তান রয়েছে। গত মার্চের শেষের দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে ডিএইচএস প্রধানের পদ হারানোর কয়েক দিন পরই ব্রায়নের এই কেলেঙ্কারির খবর প্রকাশ্যে আসে। সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ব্রায়ন নিয়মিত এমন নারীদের সঙ্গে অনলাইনে চ্যাট করতেন যারা 'বিম্বোফিকেশন' ট্রেন্ডের অংশ। এই প্রক্রিয়ায় প্রাপ্তবয়স্ক মডেলরা বার্বি ডলের মতো কৃত্রিম লুক পাওয়ার জন্য নিজেদের শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন আনেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ব্রায়ন মডেলদের কাছে পাঠানো শত শত বার্তায় নিজের অদ্ভুত আকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি গোলাপি রঙের হট প্যান্ট এবং নকল বক্ষযুক্ত মেয়েলি পোশাক পরা নিজের ছবিও শেয়ার করেছিলেন তিনি। এই কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর ক্রিস্টি নোয়েমের একজন প্রতিনিধি জানিয়েছিলেন যে, এমন খবরে তিনি এবং তাঁর পরিবার অত্যন্ত 'বিপর্যস্ত' ও হতবাক হয়েছেন। তবে ৫৪ বছর বয়সী ক্রিস্টি নোয়েম নিজেও ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি থেকে মুক্ত নন। ট্রাম্পের সাবেক প্রচারাভিযান উপদেষ্টা কোরি লেওয়ানডস্কির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের গুঞ্জন রয়েছে। লেওয়ানডস্কি বিবাহিত এবং চার সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও গত মাসে এই জুটিকে মিনেসোটার লেক মিননেটঙ্কার তীরে একসঙ্গে সাইকেল চালাতে ও অন্তরঙ্গ সময় কাটাতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রিস্টি নোয়েমের বেশ উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে এবং সম্প্রতি তাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বহুজাতিক নিরাপত্তা উদ্যোগ ‘শিল্ড অফ দ্য আমেরিকাস’-এর বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই পদে ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ইনস্টিটিউট অফ পিসে তিনি একটি কার্যালয়ও পেয়েছেন। অন্যদিকে, লেওয়ানডস্কি তাঁর সরকারি ও জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানে ফিরে গেছেন। অনেকেই ধারণা করছেন, ২০১৬ সালের প্রাইমারিতে ট্রাম্পের জয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা লেওয়ানডস্কি খুব শিগগিরই ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কোনো পদে পুনরায় ফিরে আসবেন।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের নিজ দেশের বদলে অন্য দেশে বিতাড়নে ট্রাম্প প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি
পেনসিলভেনিয়ায় ডেটা সেন্টার বানাতে পরিবারপ্রতি ১০ হাজার ডলারের প্রস্তাব, তবু রাজি নন স্থানীয়রা
২০ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনা, তার আগেই কেনিয়ায় বিতাড়িত নার্স
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার হওয়া এক শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাতে শহরের সেন্ট্রাল আলামেডা এলাকার একটি ডাস্টবিনের ভেতর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে মঙ্গলবার সকালে এক তরুণীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইস্ট ৫২ নম্বর স্ট্রিটের ১৮০০ ব্লকে, হোমস অ্যাভিনিউ এলিমেন্টারি স্কুলের সামনের একটি ডাস্টবিনে ৪ থেকে ৬ মাস বয়সী ওই শিশুটিকে পাওয়া যায়। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এলএপিডি) জুভেনাইল ডিভিশনের লেফটেন্যান্ট ডেভ হসকিন্স জানান, এক ব্যক্তি সেখানে ময়লা ফেলতে গিয়ে কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় শিশুটিকে দেখতে পান এবং জরুরি সেবা ৯১১-এ কল করেন। প্রত্যক্ষদর্শী ওই ব্যক্তি শুরুতে শিশুটিকে একটি পুতুল ভেবেছিলেন। শিশুটির পরনে শর্টস ও হাতে গ্লাভস ছিল। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার সকালে এক নারীকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। তবে তিনি শিশুটির মা কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। এদিকে, হারমান জনসন ও লরা লেসি নামের এক দম্পতি সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, আটক হওয়া নারী তাদের পালিত কন্যা এবং মৃত শিশুটি তারই সন্তান। নখ দিয়ে যাতে আঁচড় কাটতে না পারে, সেজন্য শিশুটির হাতে গ্লাভস পরানো ছিল বলে জানান তারা। জনসন জানান, তার পালিত কন্যার আচরণ বেশ কিছুদিন ধরেই অস্বাভাবিক ছিল এবং মঙ্গলবার সকালে সে একেকবার একেক রকম কথা বলছিল। শিশুটিকে সামলাতে না পারায়, মাত্র দুই সপ্তাহ বয়স থেকেই জনসন ও লরা নিজেরাই শিশুটির দেখাশোনা করছিলেন। পালিত কন্যার এমন নিষ্ঠুর আচরণে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন লরা লেসি। তিনি বলেন, “তার প্রতি আমার কোনো ভালোবাসা নেই, কারণ ওই নিষ্পাপ শিশুটির প্রতি তার কোনো মমতা ছিল না।” তবে ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “কেন তুমি এমন করলে? আমি তো তোমার সন্তানের দেখাশোনা করছিলাম, আমিই তো তার দাদি ছিলাম।” তদন্তে সহায়তা করার জন্য ওই দম্পতি পরে পুলিশ স্টেশন এবং মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয়ে যান। আটককৃত নারীর পরিচয় বা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসন ধরপাকড় রুখতে নতুন আইনে সই গভর্নর নিউসমের
যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বাড়ছে মুসলিমদের সংখ্যা, ২০৪০ সালে ইহুদিদের ছাড়িয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম হতে পারে ইসলাম