ফোবানার ২০২৬–২০২৭ কমিটির যাত্রা শুরু, আগামী বছরের হিউস্টন সম্মেলন ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ
উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর মধ্যে ঐক্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রবাসী কমিউনিটির উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকার (ফোবানা) ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের নতুন নির্বাহী কমিটির যাত্রা শুরু হয়েছে। নতুন কমিটির শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির পরবর্তী মেয়াদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২০২৭ সালে হিউস্টনে ফোবানার ৪১তম সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনাকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। সম্মেলনটি ২০২৭ সালের ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর হিউস্টনের উইন্ডহাম হোটেলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বলে আয়োজকসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।
ফোবানার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন নির্বাহী কমিটিতে পাঁচজন কর্মকর্তা, নয়জন আউটস্ট্যান্ডিং সদস্য এবং ১৭টি সদস্য সংগঠনের প্রতিনিধি রয়েছেন। কমিটির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ এম. রহমান (জহির)। ভাইস চেয়ারপারসন আবির আলমগীর, নির্বাহী সচিব ড. প্রিয়লাল কর্মকার, যুগ্ম নির্বাহী সচিব অ্যান্থনি পিউস গোমেজ এবং কোষাধ্যক্ষ নাহিদা নাসের ইয়াসমিন। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এই কমিটির সামনে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, সদস্য সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং আগামী সম্মেলনকে সফল করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নতুন নির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় বলে ৬ অক্টোবর প্রকাশিত ফোবানার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শপথ পরিচালনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাহবুবুর রহিম রেজা। এতে সংগঠনটির বর্তমান ও সাবেক নেতৃত্ব, সাবেক চেয়ারপারসন, সদস্য সংগঠনের প্রতিনিধি, উপদেষ্টা, নির্বাচন কমিশনের সদস্য এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। নতুন নেতৃত্বের ঘোষিত অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে সাংগঠনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং সদস্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা।
ফোবানার নতুন কমিটির নয়জন আউটস্ট্যান্ডিং সদস্য হলেন রাবিউল করিম বেলাল, ড. জয়নুল আবেদিন, মোহাম্মদ ইকবাল, শাম সুদ্ধুহা সাগর, ড. মুহাম্মদ আলী মানিক, মাহবুবুর ভূঁইয়া, মকবুল এম. আলী এবং বাবুল হাই। পাশাপাশি ১৭টি সদস্য সংগঠনের প্রতিনিধিদের তালিকায় টেক্সাস, মিশিগান, জর্জিয়া, কানসাস, ভার্জিনিয়া, ফ্লোরিডা, মেরিল্যান্ড ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সংগঠনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
আগামী বছরের সম্মেলন ফোবানার নতুন কমিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন হতে যাচ্ছে। হিউস্টনে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলে টেক্সাসের বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি, সাংস্কৃতিক কর্মী, সংগঠক ও বিভিন্ন পেশার মানুষ এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ফোবানার বার্ষিক সম্মেলন সাধারণত বাংলাদেশি সংস্কৃতি, সংগীত, সাহিত্য, সামাজিক যোগাযোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগ তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে পরিচিত।
নতুন কমিটির সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে বিভিন্ন অঞ্চলের সদস্য সংগঠনগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখা এবং সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতিকে এগিয়ে নেওয়া। এর পাশাপাশি যুবসমাজ ও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক জোরদার করা এবং কমিউনিটির সেবামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের অঙ্গীকারও রয়েছে। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে সদস্য সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নিয়মিত যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ফোবানার ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের নতুন কমিটির যাত্রা এবং আগামী বছরের হিউস্টন সম্মেলনকে ঘিরে এখন সংগঠনটির পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে নজর থাকবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের। নতুন নেতৃত্বের ঘোষিত অঙ্গীকার কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং ২০২৭ সালের সম্মেলনের প্রস্তুতি কীভাবে এগোয়, তা আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি ব্যাপকভাবে ওষুধ প্রতিরোধী শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে যা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বা সিডিসি সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। এই ব্যাকটেরিয়াটি অত্যন্ত সংক্রামক যা মূলত অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক, দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো বর্তমানে প্রচলিত সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধগুলো এই ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে সাধারণত তীব্র ডায়রিয়া, জ্বর এবং প্রচণ্ড পেটব্যথা দেখা দেয়। এটি অত্যন্ত দ্রুত ছড়াতে সক্ষম এবং মাত্র দশটি ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এলেই একজন সুস্থ মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারেন। সিডিসি জানিয়েছে যে ২০১১ সাল থেকে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত প্রায় সতেরো হাজার শিগেলা ভাইরাসের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিন শতাংশ বা ৫১০টি নমুনাকে ব্যাপকভাবে ওষুধ প্রতিরোধী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো পাঁচটি বহুল ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরোধী হিসেবে গড়ে তুলেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এই ধরনের ওষুধ প্রতিরোধী শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ছিল শূন্য শতাংশ। কিন্তু ২০২৩ সালে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে আট দশমিক পাঁচ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ২০২২ এবং ২০২৩ সালে। এই দুই বছরেই মোট শনাক্ত হওয়া রোগীর প্রায় ৮৪ শতাংশ বা ৪১৫ জন রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদিত এমন কোনো মুখের ওষুধ নেই যা সরাসরি এই প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে। ফলে চিকিৎসকদের ল্যাব টেস্টের ওপর নির্ভর করে বিকল্প ওষুধের সন্ধান করতে হচ্ছে। সিডিসির প্রতিবেদনে আক্রান্তদের বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক একটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ৯৬ শতাংশেরই বয়স আঠারো বছরের বেশি এবং এদের মধ্যে ৮৬ শতাংশেরও বেশি পুরুষ। আক্রান্তদের গড় বয়স ৪১ বছর। যদিও সিডিসি সরাসরি যৌন সংস্পর্শের তথ্য বিশ্লেষণ করেনি, তবে পূর্ববর্তী গবেষণায় দেখা গেছে যে পুরুষদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে এটি বেশি ছড়ায়। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল বিশেষ করে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিরা এই ব্যাকটেরিয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর কোনো খবর পাওয়া না গেলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। যাদের তথ্য পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে প্রায় ৩৮ শতাংশ রোগীকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাইরে বা দেশের ভেতরে তেমন ভ্রমণ করেননি, যা প্রমাণ করে যে সংক্রমণগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই ছড়িয়েছে। সিডিসি আশঙ্কা করছে যে বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। তাই এই ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার রোধে দেশজুড়ে নজরদারি বাড়ানো এবং দ্রুত শনাক্তকরণের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। উৎস: সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এবং লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রাপ্ত রিপোর্ট
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার বিকল্প খুঁজছেন আমেরিকানরা, পূর্বপুরুষের সূত্রে নিচ্ছেন লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব
বাড়ির সামনে থেকে সরে যেতে বলায় বৃদ্ধকে মারধর, ক্যালিফোর্নিয়ায় গুলিবিদ্ধ আইসিই কর্মকর্তা
ফোবানার ২০২৬–২০২৭ কমিটির যাত্রা শুরু, আগামী বছরের হিউস্টন সম্মেলন ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে নাজিম উদ্দিন (৭২) নামে এক বাংলাদেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাটি পুলিশের ১০২ নম্বর প্রিসিঙ্কটের আওতাধীন এলাকায় ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন এবং শিশুর জন্য ক্ষতিকর আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। কুইন্স চাইল্ড অ্যাবিউজ স্কোয়াডের সদস্যরা ১১২ নম্বর প্রিসিঙ্কটের আওতাধীন এলাকায় তাকে গ্রেপ্তার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ, অভিযুক্তের সঙ্গে শিশুটির সম্পর্ক এবং মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় অন্য কোনো ভুক্তভোগী থাকলে তাঁদের সামনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে এনওয়াইপিডি। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভয় বা সংকোচের কারণে কেউ অভিযোগ জানাতে দ্বিধা করলে সহায়তা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। ভুক্তভোগীদের একা এই পদক্ষেপ নিতে হবে না বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে। এনওয়াইপিডির সেক্স ক্রাইমস হটলাইনে ২১২-২৬৭-৭২৭৩ নম্বরে যোগাযোগ করে এ-সংক্রান্ত তথ্য জানানো যাবে। এ ছাড়া ক্রাইম স্টপার্সের ১-৮০০-৫৭৭-টিআইপিএস (৮৪৭৭) নম্বরে তথ্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। স্প্যানিশ ভাষায় সহায়তার জন্য ১-৮৮৮-৫৭-৭৪৭৮২ নম্বরেও যোগাযোগ করা যাবে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রায় ১৯৪ মিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ, কারাদণ্ডের মুখে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা
জর্জিয়ার দিকে ধেয়ে আসছে হারিকেন ইসাইয়াস, আটলান্টায় ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের সতর্কতা
নিউইয়র্কে আইসের অভিযানে গ্রেপ্তার শিশু নির্যাতনকারী, খুনের আসামিসহ একাধিক অপরাধী
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের একটি টার্গেট স্টোরে চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে অদ্ভুত এক যুক্তি দিয়েছেন এক নারী। পুলিশের কাছে তার দাবি ছিল, যেহেতু তার কাঁধে তিন হাজার ডলার মূল্যের একটি দামি পার্স রয়েছে, তাই তার পক্ষে সাধারণ পোশাক চুরি করা একেবারেই অসম্ভব। ওক লন পুলিশের বডি-ক্যামেরায় ধারণকৃত ২০২৫ সালের ৯ মার্চের এই গ্রেপ্তারের ভিডিওটি সম্প্রতি ইউটিউবে নতুন করে ভাইরাল হয় এবং রাতারাতি লাখ লাখ দর্শকের মনোযোগ কাড়তে সক্ষম হয়। ঘটনার দিন ওই নারী দাবি করেন, তিনি কোনো কিছু চুরি করার চেষ্টা করেননি। মূলত তার ফোন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং কেনাকাটার বিল মেটানোর জন্য ‘অ্যাপল পে’ সুবিধা থাকা তার এক কাজিনকে খুঁজছিলেন। তিনি বারবার পুলিশকে বলছিলেন, "আপনারা কি দেখতে পাচ্ছেন না? আমার কাছে তিন হাজার ডলারের পার্স আছে। আমি চুরি করি না, টার্গেট আমার প্রিয় দোকান।" প্রথমদিকে একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে না, কেবল সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু টার্গেটের লস-প্রিভেনশন বা চুরি প্রতিরোধ বিভাগের কর্মীরা ভিন্ন বিবরণ দিলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। স্টোর কর্মীদের অভিযোগ, ওই নারী অন্য এক ক্রেতার ফেলে রাখা একটি ব্যাগে পোশাক ভরেন এবং মূল্য পরিশোধ ছাড়াই দোকান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ইলিনয় রাজ্যের আইন অনুযায়ী, মূল্য পরিশোধ না করে কোনো পণ্য লুকিয়ে রাখা এবং শেষ পেমেন্ট স্টেশন অতিক্রম করাকে চুরির উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। এক্ষেত্রে মূল দরজা দিয়ে বের হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। যদিও ওই নারী বারবার দাবি করছিলেন যে তিনি দোকান থেকে বের হননি এবং কর্মীদের ডাকে সাড়া দিয়ে ফিরে এসেছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাকে খুচরা চুরির (রিটেইল থেফট) অভিযোগে গ্রেপ্তার হতে হয়। গ্রেপ্তারের সময় তিনি হতাশ হয়ে পড়েন এবং পোশাকগুলোর বিল পরিশোধের প্রস্তাবও দেন। এ সময় তার সঙ্গীকে ছেড়ে দেওয়া হলেও তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। দামি পার্স থাকার কারণে চুরির প্রয়োজন নেই—নারীর এই যুক্তির বিষয়ে অপরাধ বিজ্ঞানীদের ভিন্ন মত রয়েছে। ২০০১ ও ২০০২ সালের এক জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, আর্থিকভাবে সচ্ছল ও উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের মধ্যেও চুরির প্রবণতা রয়েছে। এর সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ হলেন হলিউড অভিনেত্রী উইনোনা রাইডার। ২০০১ সালে বেভারলি হিলসের একটি দোকান থেকে তিন হাজার ডলারের কেনাকাটা করার পাশাপাশি তিনি প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ডলারের পণ্য চুরি করেছিলেন, যার দায়ে পরবর্তীতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। এই ঘটনাটি স্পষ্ট করে দেয় যে, দামি পণ্য ব্যবহারের সক্ষমতা থাকলেই কেউ চুরির উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত—এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ফলে নিজের দামি পার্সের যুক্তি আদালতে ওই নারীকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রে আগেও দুই শিশুকে ছু রিকাঘাত করেছিলেন, এবার হা মলায় সংকটাপন্ন ২ বছরের শিশু
নিউইয়র্কে শিশুদের নিরাপত্তায় দমকল বিভাগের উদ্যোগ, শেখানো হচ্ছে আগুন থেকে বাঁচার উপায়