সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ সারোগেট শিশুর ওপর নি র্যাতনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ধনকুবের দম্পতি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৭:১১
ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ সারোগেট শিশুর ওপর নি র্যাতনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ধনকুবের দম্পতি
ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ সারোগেট শিশুর ওপর নি র্যাতনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ধনকুবের দম্পতি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি ১০ মিলিয়ন ডলারের বিলাসবহুল প্রাসাদে সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া অন্তত ১৪ জন শিশুর ওপর পৈশাচিক নির্যাতনের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গুওজুন জুয়ান (৬৬) এবং সিলভিয়া ঝাং (৩৯) নামের এই দম্পতির বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন, তথ্য গোপন এবং সাক্ষীদের ভয় দেখানোর মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি নাথান হচম্যান এই ঘটনাকে 'নজিরবিহীন ও ঘৃণ্য' বলে আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন, যাদের ওপর শিশুদের সুরক্ষার দায়িত্ব ছিল, তাদের হাতেই অবুঝ শিশুরা এমন ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যদিও আদালতে অভিযুক্তরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

 

২০২৫ সালের মে মাসে সিলভিয়া ঝাং তার দুই মাস বয়সী এক শিশুকে মাথায় গুরুতর আঘাত এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করলে এই ভয়াবহ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসকরা জানান, শিশুটিকে প্রচণ্ড জোরে ঝাঁকানো ও আঘাত করা হয়েছিল।

 

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ওই দম্পতি শিশুটিকে হাসপাতালে নিতে দুই দিন দেরি করেছিলেন এবং খাট থেকে পড়ে যাওয়ার মিথ্যা গল্প ফেঁদেছিলেন। পরবর্তীতে পুলিশের উদ্ধার করা সিসিটিভি ফুটেজে দুই মাস থেকে ১৩ বছর বয়সী অন্তত ১৪ জন শিশুর ওপর ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়ে।

 

এছাড়া অন্য কয়েকটি বাড়ি থেকে তাদের সাথে সম্পৃক্ত আরও ছয়টি শিশু উদ্ধার করা হয়, ফলে ভুক্তভোগী শিশুর মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২১-এ।

 

বিলাসবহুল ওই প্রাসাদের ভেতরে তিনটি 'লার্নিং সেন্টার' তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে শিশুদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডেস্কে বসে থাকতে বাধ্য করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন না রেখেই শিশুদের মারধর করার জন্য আয়াদের নির্দেশ দিতেন ওই দম্পতি।

 

এমনকি জুয়ান নিজে এক শিশুকে নির্দয়ভাবে মারধর করতেন এবং শাস্তিস্বরূপ আরেক ছেলেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্কোয়াট বা 'হর্স স্ট্যান্স' পজিশনে দাঁড় করিয়ে রাখতেন।

 

জানা গেছে, এই দম্পতি নিজেদের বাড়ি থেকেই 'ফিউচার স্প্রিং সারোগেসি' নামের একটি প্রতিষ্ঠান চালাতেন এবং মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে সারোগেট মায়েদের বিপুল অর্থের বিনিময়ে সন্তান জন্মদানে যুক্ত করতেন।

 

তদন্তে ওই দম্পতির বিপুল সম্পদের সন্ধান মিলেছে। তাদের বাড়ি থেকে আয়াদের বেতন দেওয়ার নগদ অর্থ, মেক্সিকোসহ একাধিক দেশের পাসপোর্ট, ২০০টির বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং প্রায় ৮ থেকে ৯ মিলিয়ন ডলার মূল্যের মদ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

অভিযুক্ত আয়া চুনমেই লি-র বিরুদ্ধে মারাত্মক শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হলেও তিনি এরই মধ্যে চীনে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলি সার্ভিসেস উদ্ধারকৃত ২১টি শিশুর চিকিৎসা, মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন ও আইনি অভিভাবকত্বের বিষয়টি তদারকি করছে।

 

একই সাথে অভিযুক্ত জুয়ানের অতীতের অবৈধ ক্যাসিনো ও মাদক ব্যবসার সম্পৃক্ততার বিষয়গুলোও নতুন করে খতিয়ে দেখছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ইউরোপে যাওয়ার পরিকল্পনায় লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিচ্ছেন হাজারো আমেরিকান
যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ইউরোপে যাওয়ার পরিকল্পনায় লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিচ্ছেন হাজারো আমেরিকান

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ইউরোপের ছোট দেশ লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নেওয়ার প্রতি আমেরিকানদের আগ্রহ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার পরিবর্তে ভবিষ্যতের বিকল্প হিসেবে ইউরোপের একটি দেশের পাসপোর্ট সংগ্রহ করছেন। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী লুক্সেমবার্গের নাগরিকের সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে।   শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ৩ হাজার ৫৭৪ জনের নাম নতুন করে লুক্সেমবার্গের নাগরিক হিসেবে সরকারি নিবন্ধনে যুক্ত হয়েছে। দেশটির নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ শুরুর পর এটি সর্বোচ্চ সংখ্যা। তবে এই হিসাবের সবাই নতুন আবেদন করে নাগরিকত্ব পাননি। তাঁদের অনেকেই পারিবারিক বংশসূত্রের কারণে আগে থেকেই দেশটির আইনে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন।   অন্যদিকে লুক্সেমবার্গের বিচার মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, একই বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ৬৫৭ জন আমেরিকান আনুষ্ঠানিক আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশটির নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। এই সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। দুই ধরনের হিসাবের পার্থক্যের কারণ হলো, একটি পরিসংখ্যানে আগে থেকেই আইনগতভাবে নাগরিকত্বের অধিকারী ব্যক্তিদের নিবন্ধনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যটিতে শুধু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় নতুন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের গণনা করা হয়েছে।   অক্টোবরের শুরুতে প্রকাশিত নতুন সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী লুক্সেমবার্গের নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৬৯০ জনে। তুলনায় প্রতিবেশী জার্মানিতে বসবাসকারী লুক্সেমবার্গের নাগরিকের সংখ্যা ২২ হাজার ৯২৫ জন। শুধু ৩০ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী লুক্সেমবার্গের নাগরিকের সংখ্যা আরও ৯৫২ জন বেড়েছে।   নাগরিকত্ব গ্রহণের এই প্রবণতার পেছনে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, জীবনযাত্রার মান এবং ইউরোপে বসবাসের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালা ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিভাজন নিয়ে উদ্বিগ্ন কিছু আমেরিকান ইউরোপীয় নাগরিকত্বকে ভবিষ্যতের জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করছেন।   কলোরাডোর ডেনভারে বসবাসকারী ৩৫ বছর বয়সী ক্যারিস ক্যাসিডি তাঁদের একজন। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর ইউরোপে বসবাসের ইচ্ছা ছিল। পরে পারিবারিক ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর পূর্বপুরুষদের একজন লুক্সেমবার্গ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। উনিশ শতকে তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রথমে শিকাগো এবং পরে মিনেসোটা, আইওয়া ও কানসাসে বসতি স্থাপন করেছিলেন।   বংশপরিচয়ের নথিপত্র সংগ্রহ করতে ক্যাসিডির প্রায় এক বছর সময় লাগে। শেষ পর্যন্ত চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব পান। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে সুইডেনে যান। নিউজউইককে তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদ নিয়ে উদ্বেগ তাঁর দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল। তবে পরে তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন এবং ইউরোপের কোন দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছেন।   লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির পূর্বপুরুষ থাকার বিষয়টি অনেক আমেরিকানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশটির নাগরিকত্ব আইনে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে বংশসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে কয়েক প্রজন্ম আগের পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতেও নাগরিকত্বের স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব। তবে শুধু পরিবারের কেউ একসময় লুক্সেমবার্গে বসবাস করেছেন, এমন তথ্য থাকলেই নাগরিকত্ব নিশ্চিত হয় না। সংশ্লিষ্ট আইনের শর্ত পূরণ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের মাধ্যমে পারিবারিক সম্পর্ক প্রমাণ করতে হয়।   লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিয়ে কাজ করা পরামর্শক ড্যানিয়েল অ্যাটজ নিউজউইককে জানান, ২০১৬ সালে ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরও আমেরিকানদের মধ্যে দেশটির নাগরিকত্ব নেওয়ার আগ্রহ বেড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই আগ্রহ আরও অনেক বেশি হয়েছে।   অ্যাটজ নিজেও পারিবারিক বংশসূত্রের মাধ্যমে ২০১৪ সালে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। তাঁর প্রপিতামহী মার্গারিট ক্রুখটেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর লুক্সেমবার্গ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে চলে আসেন। নাগরিকত্বের আবেদন করতে গিয়ে তিনি ইউরোপে বসবাসকারী দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্ন আত্মীয়দের সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপন করেন।   বর্তমানে অ্যাটজ একটি নাগরিকত্ব পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে আমেরিকানদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে থাকে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রবণতা আরও তীব্র হয়। ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামাল দিতে গত বছর তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মীসংখ্যা ২ জন থেকে বাড়িয়ে ১৫ জন করতে হয়েছে।   তবে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নেওয়া মানেই যে আমেরিকানরা দলে দলে দেশ ছাড়ছেন, এমন নয়। অ্যাটজের মতে, তাঁর কাছে সহায়তা নেওয়া ব্যক্তিদের খুব অল্প অংশেরই লুক্সেমবার্গে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা রয়েছে। অনেকেই দেশটির পাসপোর্টকে ইউরোপে ভবিষ্যতে বসবাস ও কাজের সুযোগ তৈরির মাধ্যম হিসেবে দেখছেন।   এর একটি বড় কারণ হলো, লুক্সেমবার্গ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য। দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে অন্যান্য সদস্যদেশে বসবাস ও কাজ করার অধিকার পান, যদিও নির্দিষ্ট প্রশাসনিক নিয়ম ও শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে শুধু লুক্সেমবার্গ নয়, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশেও বসবাসের সুযোগ তৈরি হয়।   অন্যদিকে লুক্সেমবার্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় বেশি। দেশটিতে পণ্য ও সেবার ভোক্তামূল্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড়ের তুলনায় প্রায় ৫১ শতাংশ বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও তুলনামূলক সীমিত। এসব কারণে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর অনেকে লুক্সেমবার্গের পরিবর্তে ইউরোপের অন্য দেশে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন।   এদিকে লুক্সেমবার্গ সরকারের সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা স্টেটেকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ৮ হাজার ২২৩ জন বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ায় দেশটির নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৪১৫। অর্থাৎ এক বছরে নাগরিকত্ব অর্জনের সংখ্যা বেড়েছে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। নতুন নাগরিকত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে ৬ হাজার ৫৪৪ জন বিশেষ যোগ্যতাভিত্তিক প্রক্রিয়ায়, ১ হাজার ২৯৮ জন সাধারণ ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ায় এবং ৩৮১ জন নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়েছেন।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে লুক্সেমবার্গের বাইরে বসবাসকারী নাগরিকত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫৯৬ জন ছিলেন আমেরিকান। ফলে সরকারি পরিসংখ্যানেও দেশটির নাগরিকত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের উল্লেখযোগ্য আগ্রহের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।   তবে নাগরিকত্বের নিয়ম নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন রয়েছে। লুক্সেমবার্গের ২০১৭ সালের নাগরিকত্ব আইনের ৮৯ অনুচ্ছেদের অধীনে ১৯০০ সালের ১ জানুয়ারিতে লুক্সেমবার্গের নাগরিক ছিলেন, এমন পূর্বপুরুষের বংশধরদের জন্য বিশেষ নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার সময়সীমা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ওই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় নতুন আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না।   তবে এর অর্থ এই নয় যে, বংশসূত্রে বা অন্য কোনো বৈধ প্রক্রিয়ায় লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব পাওয়ার সব সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। দেশটির প্রচলিত আইনে যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য নাগরিকত্বের অন্যান্য পথ এখনো চালু রয়েছে। আবেদনকারীর পারিবারিক ইতিহাস, জন্মসংক্রান্ত তথ্য ও আইনি যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে কোন প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হবে, তা নির্ধারিত হয়।   বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আমেরিকানদের মধ্যে দ্বিতীয় নাগরিকত্বের এই আগ্রহ শুধু রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া নয়। ইউরোপে বসবাসের সুযোগ, পরিবারের ভবিষ্যৎ, কর্মসংস্থান এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়গুলোও তাঁদের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখছে।   নিউজউইকের প্রতিবেদনে উঠে আসা অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, অনেক আমেরিকান এখনই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে প্রস্তুত নন। বরং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলালে অন্য দেশে বসবাসের আইনি সুযোগ নিশ্চিত রাখতে চাইছেন। লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্বের প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ সেই প্রবণতারই একটি উদাহরণ।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৮:১৯
টেক্সাসে দুই স্টপ সাইন অমান্যের অভিযোগ, হাতকড়া পরা চালকের গলা চেপে ধরলেন পুলিশ প্রধান

টেক্সাসে দুই স্টপ সাইন অমান্যের অভিযোগ, হাতকড়া পরা চালকের গলা চেপে ধরলেন পুলিশ প্রধান

যুক্তরাষ্ট্রে নদী-হ্রদের দূষণ শনাক্তে রোবট তৈরি, প্রায় ২ লাখ ডলার অনুদান পেলেন তৌহিদুল আলম

যুক্তরাষ্ট্রে নদী-হ্রদের দূষণ শনাক্তে রোবট তৈরি, প্রায় ২ লাখ ডলার অনুদান পেলেন তৌহিদুল আলম

ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ সারোগেট শিশুর ওপর নি র্যাতনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ধনকুবের দম্পতি

ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ সারোগেট শিশুর ওপর নি র্যাতনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ধনকুবের দম্পতি

law-concept-with-statue-of-justice-and-attorney
অন্যের সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় অন্য একজনের সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধার অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে ৭০ বছর বয়সী ড্যানিয়েল এম. ওয়ালারের বিরুদ্ধে দুটি ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। নর্থ ব্র্যাডকের এই বাসিন্দাকে গ্রেপ্তারের পর গত ২ অক্টোবর অভিযোগপত্র প্রকাশ করা হয়। পিটসবার্গের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে বলে জানিয়েছে পশ্চিম পেনসিলভানিয়ার ইউএস অ্যাটর্নির কার্যালয়।    অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ওয়ালার অন্য একজনের সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধার অর্থ গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য নিযুক্ত প্রতিনিধি ছিলেন। ২০১৯ সালের ৩ জুন থেকে ২০২৫ সালের ৩০ মে পর্যন্ত তিনি ওই ব্যক্তির কল্যাণে ব্যয় করার পরিবর্তে অন্য উদ্দেশ্যে অর্থ ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ প্রসিকিউশনের। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ চুরি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি হিসেবে সুবিধার অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।    সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নিয়ম অনুযায়ী, যাঁরা নিজের সুবিধার অর্থ পরিচালনা করতে সক্ষম নন, তাঁদের জন্য একজন ‘রিপ্রেজেন্টেটিভ পেই’ নিয়োগ করা হয়। এই প্রতিনিধি সুবিধাভোগীর পক্ষে অর্থ গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনা করেন। সাধারণত পরিবারের সদস্য বা বন্ধুকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়; প্রয়োজন হলে যোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠানকেও নিয়োগ করা হয়।    এ ধরনের প্রতিনিধিকে অর্থ কীভাবে ব্যয় বা সঞ্চয় করা হয়েছে, তার রেকর্ড রাখতে হয়। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন চাইলে সেই রেকর্ড পর্যালোচনার জন্য দিতে হয়। ওয়ালারের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েও সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীর স্বার্থে অর্থ ব্যবহার করেননি।    সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অফিস অব দ্য ইন্সপেক্টর জেনারেল মামলাটির তদন্ত করেছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে অপব্যবহারের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অর্থের মোট পরিমাণ বা সুবিধাভোগীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি অর্থ চুরির অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং প্রতিনিধি হিসেবে অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ ডলার জরিমানাও হতে পারে।    ওয়ালারের বিরুদ্ধে এখনো অভিযোগের বিচার নিষ্পত্তি হয়নি। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে ইউএস অ্যাটর্নির কার্যালয়।    সূত্র: পশ্চিম পেনসিলভানিয়ার ইউএস অ্যাটর্নির কার্যালয় ও সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৬:৩৪
ট্রাম্পের নেভি ব্লু স্যুট তৈরি নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে, নিশ্চিত করলেন কারখানার এমডি

ট্রাম্পের নেভি ব্লু স্যুট তৈরি নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে, নিশ্চিত করলেন কারখানার এমডি

১০৮ বছর বয়সেও গাড়ি চালান মার্কিন নারী, ড্রাইভার লাইসেন্স নবায়ন করলেন ২০৩৩ সাল পর্যন্ত

১০৮ বছর বয়সেও গাড়ি চালান মার্কিন নারী, ড্রাইভার লাইসেন্স নবায়ন করলেন ২০৩৩ সাল পর্যন্ত

একসময় চাকরি দেয়নি প্রিন্সটন ও ম্যাকগিল, নোবেলজয়ীকে ঘিরে এখন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্ছ্বাস

একসময় চাকরি দেয়নি প্রিন্সটন ও ম্যাকগিল, নোবেলজয়ীকে ঘিরে এখন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্ছ্বাস

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের গড়া মসজিদের লাউডস্পিকারে আজান, সুরে মনের প্রশান্তি
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের গড়া মসজিদের লাউডস্পিকারে আজান, সুরে মনের প্রশান্তি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে একটি মসজিদ ও একটি চার্চ। একদিকে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রার্থনা, অন্যদিকে মসজিদ থেকে ভেসে আসা আজানের সুর। ইস্ট নিউইয়র্কের পিটকিন অ্যাভিনিউতে ধর্মীয় সহাবস্থানের এই দৃশ্য সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একটি মসজিদকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের সমাগম স্থানীয় বহুজাতিক সমাজের একটি পরিচিত চিত্র তুলে ধরেছে।   ব্রুকলিনের ২১৩৫ পিটকিন অ্যাভিনিউতে অবস্থিত মসজিদটির নাম মসজিদ আন নামিরাহ। এর ঠিক কাছেই ২১৪৫ পিটকিন অ্যাভিনিউতে রয়েছে ফেইথ ওয়ারশিপ সেন্টার নামে একটি চার্চ। পেন্টেকোস্টাল খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের এই উপাসনালয় এবং মসজিদটি একই সড়কে খুব অল্প দূরত্বে অবস্থিত। ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও দুটি প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ সম্প্রদায়ের মানুষের প্রার্থনা ও ধর্মীয় কার্যক্রমের স্থান হিসেবে পরিচিত।   সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মসজিদ ও চার্চের কাছাকাছি অবস্থান এবং আজানের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিওটি ব্রুকলিনের ইস্ট নিউইয়র্ক এলাকায় ধারণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। নিউইয়র্কের মতো বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় শহরে এমন দৃশ্য অস্বাভাবিক নয়। তবে একই সড়কে দুটি ভিন্ন ধর্মের উপাসনালয়ের অবস্থান স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে নতুন করে সামনে এনেছে।   স্থানীয় কমিউনিটির তথ্য অনুযায়ী, মসজিদ আন নামিরাহ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশিদের উদ্যোগে গড়ে উঠলেও মসজিদটি কেবল একটি দেশের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এখানে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি আফ্রিকান, আরব এবং বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা নামাজ আদায় করতে আসেন। ফলে ধর্মীয় উপাসনার পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মিলনস্থল হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে মসজিদটি।   নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘদিনের বসবাসের সঙ্গে মসজিদ প্রতিষ্ঠার ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে ব্রুকলিনের কেনসিংটন, বে রিজ এবং ইস্ট নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশি অভিবাসীরা ধীরে ধীরে নিজেদের সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি কমিউনিটির মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   ইস্ট নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মসজিদ আল আমান। ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদটি এলাকায় বাংলাদেশিদের ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। মসজিদ আন নামিরাহও স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।   এদিকে নিউইয়র্ক সিটিতে লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের নিয়ম নিয়েও অনেকের আগ্রহ রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট তৎকালীন মেয়র এরিক অ্যাডামস এবং নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট নতুন নির্দেশনা ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মসজিদগুলোকে আলাদা পারমিট ছাড়াই বাইরে লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের সুযোগ দেওয়া হয়।   সিটির ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টার মধ্যে জুমার আজান প্রচার করা যায়। একইভাবে রমজান মাসে প্রতিদিন সূর্যাস্তের সময় আজান প্রচারের সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে মসজিদ কর্তৃপক্ষকে আলাদা পারমিট নিতে হয় না। তবে শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ সিটির প্রযোজ্য নিয়ম মেনে চলতে হয়।   নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো মসজিদ ও স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে সমন্বয় করে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করে। সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, আজানের শব্দ আশপাশের স্বাভাবিক পরিবেশের তুলনায় সর্বোচ্চ ১০ ডেসিবেল বেশি হতে পারে। এর উদ্দেশ্য ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা।   নিউইয়র্ক সিটির এই সিদ্ধান্ত মুসলিম কমিউনিটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হয়। এর আগে লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের ক্ষেত্রে পারমিটসংক্রান্ত নিয়ম নিয়ে অনেক মসজিদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ছিল। নতুন নির্দেশনার ফলে শুক্রবার ও রমজানের নির্ধারিত সময়ে আজান প্রচারের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়।   তবে মসজিদ আন নামিরাহ কেবল নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। স্থানীয় অসচ্ছল পরিবারগুলোর খাদ্যসহায়তার ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এখানে মুনা সোশ্যাল সার্ভিসেসের উদ্যোগে বিনামূল্যে গ্রোসারি বিতরণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।   এই কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় পরিবারগুলোকে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী, তাজা শাকসবজি এবং হালাল ও সাংস্কৃতিক চাহিদার উপযোগী খাবার দেওয়া হয়। খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসের প্রথম ও তৃতীয় সোমবার দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত মসজিদ আন নামিরাহ কেন্দ্রে গ্রোসারি বিতরণের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কার্যক্রমের সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে।   খাদ্যসহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে মসজিদটি এলাকার মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন পূরণেও ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের নিয়মিত গ্রোসারি কেনার ক্ষেত্রে আর্থিক চাপ রয়েছে, তাদের জন্য এ ধরনের কর্মসূচি সহায়ক। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জায়গা ব্যবহার করে স্থানীয় বাসিন্দাদের খাদ্যসহায়তা দেওয়ার এই উদ্যোগ কমিউনিটিভিত্তিক সেবার একটি উদাহরণ।   অন্যদিকে কাছেই অবস্থিত ফেইথ ওয়ারশিপ সেন্টার স্থানীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে। দুটি প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপাসনার পদ্ধতি আলাদা হলেও একই এলাকায় তাদের অবস্থান ব্রুকলিনের বৈচিত্র্যময় সামাজিক পরিবেশকে তুলে ধরে।   নিউইয়র্কের মতো শহরে বাংলাদেশি, আফ্রিকান, আরব, লাতিন আমেরিকানসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস। ভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ একই এলাকায় বসবাস করলেও প্রত্যেকে নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখার সুযোগ পান। ইস্ট নিউইয়র্কের পিটকিন অ্যাভিনিউতে পাশাপাশি মসজিদ ও চার্চের অবস্থান সেই বাস্তবতারই একটি চিত্র।   বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত মসজিদ আন নামিরাহ এখন শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের নামাজের স্থান নয়, বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের ধর্মীয় কার্যক্রম এবং স্থানীয় মানুষের খাদ্যসহায়তার একটি কেন্দ্র হিসেবেও ভূমিকা পালন করছে।   ব্রুকলিনের ব্যস্ত পিটকিন অ্যাভিনিউতে একদিকে মসজিদ থেকে আজানের সুর, অন্যদিকে চার্চের প্রার্থনা। পাশাপাশি দুটি ভিন্ন ধর্মের উপাসনালয় মনে করিয়ে দেয়, নিউইয়র্কের বহুজাতিক সমাজে নিজ নিজ ধর্মীয় ঐতিহ্য বজায় রেখেও একই এলাকায় বসবাস ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ২:৩৭
মিশিগানের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি তরুণ মাহবুব রহমান নিহত

মিশিগানের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি তরুণ মাহবুব রহমান নিহত

টেক্সাসের মহাসড়ক থেকে উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশের গাড়ির সামনের সিটে বসে থাকা সেই আহত পেঁচা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

টহল দিতে গিয়ে আহত পেঁচার দেখা, উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন পুলিশ কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের দিনেই আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

সাবেক বিচারকের নোবেল জয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

0 Comments