সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

অন্যের সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মামলা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৬:৩৪
law-concept-with-statue-of-justice-and-attorney
law-concept-with-statue-of-justice-and-attorney

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় অন্য একজনের সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধার অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে ৭০ বছর বয়সী ড্যানিয়েল এম. ওয়ালারের বিরুদ্ধে দুটি ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। নর্থ ব্র্যাডকের এই বাসিন্দাকে গ্রেপ্তারের পর গত ২ অক্টোবর অভিযোগপত্র প্রকাশ করা হয়। পিটসবার্গের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে বলে জানিয়েছে পশ্চিম পেনসিলভানিয়ার ইউএস অ্যাটর্নির কার্যালয়। 

 

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ওয়ালার অন্য একজনের সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধার অর্থ গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য নিযুক্ত প্রতিনিধি ছিলেন। ২০১৯ সালের ৩ জুন থেকে ২০২৫ সালের ৩০ মে পর্যন্ত তিনি ওই ব্যক্তির কল্যাণে ব্যয় করার পরিবর্তে অন্য উদ্দেশ্যে অর্থ ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ প্রসিকিউশনের। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ চুরি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি হিসেবে সুবিধার অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। 

 

সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নিয়ম অনুযায়ী, যাঁরা নিজের সুবিধার অর্থ পরিচালনা করতে সক্ষম নন, তাঁদের জন্য একজন ‘রিপ্রেজেন্টেটিভ পেই’ নিয়োগ করা হয়। এই প্রতিনিধি সুবিধাভোগীর পক্ষে অর্থ গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনা করেন। সাধারণত পরিবারের সদস্য বা বন্ধুকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়; প্রয়োজন হলে যোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠানকেও নিয়োগ করা হয়। 

 

এ ধরনের প্রতিনিধিকে অর্থ কীভাবে ব্যয় বা সঞ্চয় করা হয়েছে, তার রেকর্ড রাখতে হয়। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন চাইলে সেই রেকর্ড পর্যালোচনার জন্য দিতে হয়। ওয়ালারের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েও সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীর স্বার্থে অর্থ ব্যবহার করেননি। 

 

সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অফিস অব দ্য ইন্সপেক্টর জেনারেল মামলাটির তদন্ত করেছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে অপব্যবহারের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অর্থের মোট পরিমাণ বা সুবিধাভোগীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি অর্থ চুরির অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং প্রতিনিধি হিসেবে অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ ডলার জরিমানাও হতে পারে। 

 

ওয়ালারের বিরুদ্ধে এখনো অভিযোগের বিচার নিষ্পত্তি হয়নি। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে ইউএস অ্যাটর্নির কার্যালয়। 

 

সূত্র: পশ্চিম পেনসিলভানিয়ার ইউএস অ্যাটর্নির কার্যালয় ও সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
টেক্সাসে দুই স্টপ সাইন অমান্যের অভিযোগ, হাতকড়া পরা চালকের গলা চেপে ধরলেন পুলিশ প্রধান
টেক্সাসে দুই স্টপ সাইন অমান্যের অভিযোগ, হাতকড়া পরা চালকের গলা চেপে ধরলেন পুলিশ প্রধান

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সাওয়ার লেক শহরে এক চালককে নিজ বাড়ির আঙিনায় আটকে হেনস্তা এবং গলা চেপে ধরার অভিযোগ উঠেছে স্বয়ং পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ প্রধান অ্যারন বার্লেসন এবং অন্য এক কর্মকর্তা সাদা পোশাকে কেন্ড্রিক বেটস নামের ওই চালককে হাতকড়া পরিয়ে তার পিকআপ ট্রাকের সাথে চেপে ধরে রেখেছেন।   একপর্যায়ে পুলিশ প্রধান তার ক্ষমতা জাহির করে বলেন, "আমি পুলিশ প্রধান, তাই আমার সঙ্গেই বোঝাপড়া করো।" সামান্য ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে পুলিশের এমন মারমুখী আচরণ নেটদুনিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।   কেন্ড্রিক বেটসের স্ত্রী হেইলি শেলবার্নের ধারণ করা ভিডিওতে পুরো ঘটনার চিত্র উঠে এসেছে। হেইলির দাবি, তার স্বামী দুটি স্টপ সাইন অমান্য করেছেন—এমন অভিযোগে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই বেটস তার গাড়ি পার্ক করে ফেলেছিলেন।   তাছাড়া সাদা পোশাকে থাকা ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা কোনো ধরনের ইমার্জেন্সি লাইট ছাড়াই সাধারণ গাড়িতে করে সেখানে আসেন এবং নিজেদের পরিচয় না দিয়েই বেটসকে হাতকড়া পরিয়ে ফেলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ প্রধান জোরপূর্বক বেটসের পকেটে হাত দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স বের করার চেষ্টা করছেন, যার তীব্র প্রতিবাদ জানান বেটস। একপর্যায়ে পুলিশ প্রধান বেটসের গলা চেপে ধরলে তার স্ত্রী চিৎকার করে বাধা দেন এবং আরও পুলিশ ডাকার কথা বলেন।   এই ঘটনার পর বেটসকে গ্রেপ্তার করা না হলেও তাকে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের দুটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বেটস এরই মধ্যে সাওয়ার লেক পুলিশ বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং আইনি লড়াইয়ের জন্য ‘গোফান্ডমি’-এর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছেন।   বিতর্কের মুখে সাওয়ার লেক নগর কর্তৃপক্ষ এক ঘোষণায় জানিয়েছে, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের টহল থেকে সরিয়ে আপাতত দাপ্তরিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং পুরো ঘটনার একটি স্বাধীন তদন্তের জন্য টেক্সাস রেঞ্জার্স ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।   টেক্সাসের আইন অনুযায়ী পুলিশ লাইসেন্স দেখতে চাইতে পারে, তবে চালকের অনুমতি ছাড়া জোর করে পকেটে হাত দেওয়া বা হাতকড়া পরানো অবস্থায় এমন শারীরিক বলপ্রয়োগ কতটা আইনসম্মত, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন উঠেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৮:৯
যুক্তরাষ্ট্রে নদী-হ্রদের দূষণ শনাক্তে রোবট তৈরি, প্রায় ২ লাখ ডলার অনুদান পেলেন তৌহিদুল আলম

যুক্তরাষ্ট্রে নদী-হ্রদের দূষণ শনাক্তে রোবট তৈরি, প্রায় ২ লাখ ডলার অনুদান পেলেন তৌহিদুল আলম

ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ সারোগেট শিশুর ওপর নি র্যাতনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ধনকুবের দম্পতি

ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ সারোগেট শিশুর ওপর নি র্যাতনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ধনকুবের দম্পতি

law-concept-with-statue-of-justice-and-attorney

অন্যের সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মামলা

ট্রাম্পের নেভি ব্লু স্যুট তৈরি নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে, নিশ্চিত করলেন কারখানার এমডি
ট্রাম্পের নেভি ব্লু স্যুট তৈরি নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে, নিশ্চিত করলেন কারখানার এমডি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরা আলোচিত নেভি ব্লু স্যুটটি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে। জেলার আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে অবস্থিত ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার লিমিটেডের কারখানায় স্যুটটি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহির। ট্রাম্পের পোশাক নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে আলোচনা শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের এই সংযোগ সামনে আসে।   গত ৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড আইল্যান্ডে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে নেভি ব্লু রঙের স্যুট পরেছিলেন ট্রাম্প। ওই অনুষ্ঠানে তাঁর পোশাকের ধরন এবং স্যুটের ব্র্যান্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে মার্কিন পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান জস এ ব্যাংকের স্যুট পরার বিষয়টি সামনে আসার পর সেটির উৎপাদনকারী দেশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।   গত ৮ অক্টোবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের স্যুটের উৎপাদনস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেখানে বলা হয়, স্যুটটি সম্ভবত চীন অথবা বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো কারখানার নাম নিশ্চিত করা হয়নি।   এরপর শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহির জানান, ট্রাম্পের পরা নেভি ব্লু স্যুটটি তাঁদের কারখানাতেই তৈরি হয়েছে।   শরীফ জহিরের মতে, বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য পরিচিত একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশে তৈরি সাশ্রয়ী দামের স্যুট পরা দেশের পোশাকশিল্পের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের দক্ষ শ্রমিকদের জন্য গর্বের মুহূর্ত এবং আন্তর্জাতিক মানের পোশাক তৈরিতে দেশের সক্ষমতার প্রতিফলন।   নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে অবস্থিত ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার লিমিটেড দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় স্যুট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ও রোমানিয়ার যৌথ বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এই কারখানায় আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য পুরুষদের স্যুট, ব্লেজার, ফরমাল ট্রাউজার, ওয়েস্টকোট ও জ্যাকেট তৈরি করা হয়।   প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর প্রায় ৫০ লাখ পিস পুরুষদের পোশাক উৎপাদন করে। কারখানাটিতে অত্যাধুনিক কাটিং মেশিন, বিশেষায়িত সেলাই ও প্রেসিং যন্ত্রপাতি এবং স্বয়ংক্রিয় পণ্য পরিবহনব্যবস্থা রয়েছে। এসব প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ শ্রমিকদের হাতে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাক।   প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আদমজীর কারখানাটির আয়তন প্রায় পাঁচ লাখ বর্গফুট। এখানে কাপড় কাটা থেকে শুরু করে সেলাই, প্রেসিং, ফিনিশিং এবং প্যাকেজিংয়ের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত মান অনুসরণ করে পোশাক উৎপাদনের জন্য বিশেষায়িত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।   বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার লিমিটেডের কারখানায় প্রায় ৪ কোটি ৫৯ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৮৮ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ হাজার কোটি টাকার বেশি।   প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা শুধু ট্রাম্পের স্যুট তৈরির দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্র্যান্ড ও পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের জন্য ফরমাল পোশাক তৈরি করছে কারখানাটি। বিশেষ করে স্যুটের মতো তুলনামূলক জটিল ও উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ার একটি উদাহরণ এই প্রতিষ্ঠান।   বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে মূলত টি-শার্ট, শার্ট, প্যান্ট ও অন্যান্য সাধারণ পোশাক রপ্তানির জন্য পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্যুট, ব্লেজার এবং বিশেষায়িত ফরমাল পোশাকের মতো উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরিতেও বিনিয়োগ বাড়ছে। আদমজীর ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার সেই পরিবর্তনের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।   এদিকে ট্রাম্পের স্যুট বাংলাদেশে তৈরি হওয়ার বিষয়টি তাঁর প্রশাসনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যনীতির প্রেক্ষাপটেও আলোচনায় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানো, বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ এবং আমেরিকান পণ্য ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।   নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর পরা স্যুট বাংলাদেশে তৈরি হওয়ার দাবি সামনে আসায় আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় বিদেশি উৎপাদনকারীদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   তবে ট্রাম্প নিজে স্যুটটির উৎপাদনস্থান সম্পর্কে জানতেন কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে তাঁর দপ্তর থেকেও স্যুটটির উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়নি।   মার্কিন বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পোশাক বিশ্বের একাধিক দেশে উৎপাদিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ডিজাইন ও ব্র্যান্ডিং ব্যবহার করা হলেও উৎপাদনের কাজ সম্পন্ন হয় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কারখানায়। এ ধরনের আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের পোশাকবাজারে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত।   ট্রাম্পের স্যুট নিয়ে আলোচনার ফলে নতুন করে সামনে এসেছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে কর্মরত দক্ষ শ্রমিকদের অবদান। বিশেষ করে স্যুটের মতো পোশাক তৈরিতে নিখুঁত কাটিং, সেলাই, ফিটিং ও ফিনিশিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজগুলোতে প্রশিক্ষিত শ্রমিক ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় প্রয়োজন হয়।   আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। একসময় এখানে ছিল ঐতিহাসিক আদমজী পাটকল। পরবর্তী সময়ে অঞ্চলটি রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। বর্তমানে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পের প্রতিষ্ঠান সেখানে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য পণ্য উৎপাদন করছে।   নারায়ণগঞ্জের একটি কারখানায় তৈরি স্যুট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পোশাক হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার দাবি বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের আন্তর্জাতিক সংযোগকে নতুন করে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে এই ঘটনা দেখিয়েছে, বিশ্বের বড় ব্র্যান্ডগুলোর পণ্য উৎপাদনের নেপথ্যে বাংলাদেশের শ্রমিক ও কারখানাগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।   কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের আলোচিত নেভি ব্লু স্যুটের নেপথ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের আদমজীর দক্ষ কারিগরদের শ্রম। আর সেই সূত্রেই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত একটি পোশাকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৩:৫৬
১০৮ বছর বয়সেও গাড়ি চালান মার্কিন নারী, ড্রাইভার লাইসেন্স নবায়ন করলেন ২০৩৩ সাল পর্যন্ত

১০৮ বছর বয়সেও গাড়ি চালান মার্কিন নারী, ড্রাইভার লাইসেন্স নবায়ন করলেন ২০৩৩ সাল পর্যন্ত

একসময় চাকরি দেয়নি প্রিন্সটন ও ম্যাকগিল, নোবেলজয়ীকে ঘিরে এখন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্ছ্বাস

একসময় চাকরি দেয়নি প্রিন্সটন ও ম্যাকগিল, নোবেলজয়ীকে ঘিরে এখন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্ছ্বাস

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের গড়া মসজিদের লাউডস্পিকারে আজান, সুরে মনের প্রশান্তি

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের গড়া মসজিদের লাউডস্পিকারে আজান, সুরে মনের প্রশান্তি

মিশিগানের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি তরুণ মাহবুব রহমান নিহত
মিশিগানের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি তরুণ মাহবুব রহমান নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়ারেন শহরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাহবুব রহমান নামে এক বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে শহরের ১২ মাইল রোড ও হুভার রোডের সংযোগস্থলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর মাহবুব রহমানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।   কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে ওয়ারেন পুলিশ।   তবে দুর্ঘটনার সময় অন্য কোনো যানবাহন জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মাহবুব রহমানের বয়স, মিশিগানে তাঁর বসবাসের সময়কাল কিংবা পারিবারিক পরিচয় সম্পর্কেও বিস্তারিত জানা যায়নি।   এ ঘটনায় পুলিশের তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্তের পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ০:৪১
টেক্সাসের মহাসড়ক থেকে উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশের গাড়ির সামনের সিটে বসে থাকা সেই আহত পেঁচা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

টহল দিতে গিয়ে আহত পেঁচার দেখা, উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন পুলিশ কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের দিনেই আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

সাবেক বিচারকের নোবেল জয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

দূষিত খাবার ও অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ানো এই ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার রোধে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ানো ডায়রিয়া প্রকট হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে, অ্যান্টিবায়োটিকেও মিলছে না ফল

0 Comments