ন্যাচারালাইজড আমেরিকানদের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিল ট্রাম্প প্রশাসন, ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। নাগরিকত্ব অর্জনের সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন, মিথ্যা বক্তব্য এবং বেআইনিভাবে ইমিগ্রেশন সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এসব মামলা করা হয়েছে। তবে মামলা দায়েরের অর্থ তাঁদের নাগরিকত্ব ইতিমধ্যে বাতিল হয়েছে, এমন নয়।
সোমবার, ৫ অক্টোবর প্রকাশিত ঘোষণায় বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ২১ আগস্ট থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। সংস্থাটি একে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে একটি নির্দিষ্ট সময়পর্বে সর্বাধিক নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দায়েরের উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
মামলাগুলোর মধ্যে বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করা, হত্যাকাণ্ড, যৌন অপরাধ, আর্থিক প্রতারণা এবং পরিচয় ও বিয়েসংক্রান্ত ইমিগ্রেশন জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। সরকারের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন অথবা মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।
বিচার বিভাগের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব অর্জন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন কিংবা ইচ্ছাকৃত মিথ্যা উপস্থাপনার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া প্রমাণিত হলে তা বাতিল করা যেতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে ডিন্যাচারালাইজেশন বলা হয়।
ঘোষণায় বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে, নাগরিকত্ব বাতিলের মামলায় উত্থাপিত দাবিগুলো অভিযোগমাত্র। এসব দাবির বিষয়ে এখনো দায় নির্ধারণ হয়নি। ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারের বক্তব্য এবং আদালতে প্রমাণিত সিদ্ধান্তকে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।
এবারের উদ্যোগের আগেও একই ধরনের মামলা দায়েরের ঘোষণা দিয়েছে বিচার বিভাগ। গত ২০ জুলাই ১০ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করার কথা জানায় সংস্থাটি। এরপর ৩ আগস্ট আরও ২৫টি মামলার ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই সময় বিচার বিভাগ জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে মোট ১২৩টি দেওয়ানি ডিন্যাচারালাইজেশন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সর্বশেষ ঘোষণাটি নির্দিষ্ট ৪০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদনসংক্রান্ত। তাঁদের নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া বৈধ ছিল কি না এবং সরকারের অভিযোগ প্রমাণিত হয় কি না, সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি হবে আদালতে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে মাত্র ২০ ডলার বকশিশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের সঙ্গে ভয়াবহ মারামারিতে জড়িয়েছেন দুই ‘নকল’ শোগার্ল। ছবি তোলার পর জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা দাবি করে এক পর্যটককে পায়ের হাই-হিল জুতো দিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছেন এক নারী। গত ৩০ সেপ্টেম্বর স্ট্রিপ এলাকার প্ল্যানেট হলিউড রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনোর বাইরে ঘটা এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জেনিফার অরটিজ এবং ম্যাগদালেনা রোমেরো নামের ওই দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই অতর্কিত হামলায় নর্থ ক্যারোলিনা থেকে আসা এক পুরুষ ও এক নারী পর্যটক মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই পর্যটকরা পালকযুক্ত শোগার্লের পোশাক পরা তিন নারীর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ২০ ডলার বকশিশ দিয়েছিলেন। কিন্তু জেনিফার অরটিজ তাদের পিছু নেন এবং ৬০ থেকে ১৮০ ডলার পর্যন্ত বাড়তি টাকা দাবি করতে থাকেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি মুহূর্তেই সহিংস রূপ নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, লাস ভেগাস বুলেভার্ডে উপস্থিত শত শত হতবাক মানুষের সামনেই পর্যটকদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন ওই নারীরা। অরটিজ তার পায়ের হাই-হিল জুতো খুলে এক পুরুষ পর্যটককে ২২ বারেরও বেশি আঘাত করেন, যার ফলে তার কপালে প্রায় দুই ইঞ্চি গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, রোমেরো নারী পর্যটককে মাটিতে ফেলে তার চুল ধরে টানেন এবং মুখে ও মাথায় এলোপাতাড়ি ঘুষি মারতে থাকেন। মারামারির পর আহত পর্যটকদের ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তারা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অরটিজ এবং রোমেরোকে গ্রেপ্তার করে ক্লার্ক কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। তবে গ্রেপ্তারকৃত নারীদের দাবি, পর্যটকরাই আগে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। এদিকে, অরটিজের বিরুদ্ধে এর আগেও একই স্থানে অন্য এক পর্যটকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং ২০২৬ সালের মার্চ মাসে অনুরূপ একটি সংঘর্ষে জড়ানোর রেকর্ড রয়েছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর আদালতে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার মধ্যে পোপ বললেন ‘মৃত্যুদণ্ড অগ্রহণযোগ্য’
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে দুই শিশুসহ ৯ জন নিহত
নিউইয়র্কে অবৈধ বেজমেন্ট ভাড়ায় বড় জরিমানা, বৈধ করার সুযোগ রয়েছে শর্তসাপেক্ষে
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পেন্টাগনের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে সম্প্রচার হলে তিনি তা দেখবেন না। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বৃহস্পতিবার হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য জনসাধারণকে দেখানোর ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ভ্যান্সের বক্তব্যে সম্প্রচার নিয়ে সংশয় উঠে এলেও তিনি হাসানের অপরাধের গুরুত্ব মনে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নিরপরাধ মানুষকে হত্যার ঘটনা যেন আড়ালে না পড়ে। হাসান মার্কিন সেনাবাহিনীর মেজর ও মনোরোগ চিকিৎসক ছিলেন। ২০০৯ সালে ফোর্ট হুডের একটি চিকিৎসাসংক্রান্ত ভবনে তাঁর গুলিতে ১৩ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হন। আগামী ৩ ডিসেম্বর ওই ঘাঁটিতেই ফায়ারিং স্কোয়াডে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি অ্যাডাম টেলে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন। তবে সরাসরি সম্প্রচার নিয়ে শুক্রবার তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেও সম্প্রচারের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট সমর্থন জানাননি। সম্প্রচারের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতারা। রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেখানোর বিরোধিতা করেছেন। একই দলের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য অস্টিন স্কটও বলেছেন, তিনি হাসানের মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করেন, কিন্তু তা সরাসরি সম্প্রচারের পক্ষে নন। রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাউস্কি পেন্টাগনকে পরিকল্পনাটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। সিনেটর জন কার্টিস প্রাচীন রোমের রক্তাক্ত প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তুলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের সম্প্রচার সহিংস দৃশ্যকে বিনোদন হিসেবে দেখার প্রবণতা বাড়াতে পারে। এই মন্তব্য কার্টিসের, ভ্যান্সের নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশপদের সম্মেলনের সভাপতি আর্চবিশপ পল এস. কোকলিও সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬১ সালের পর মার্কিন সামরিক বাহিনী আর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেনি। ফলে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে তা ছয় দশকের বেশি সময় পর প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড হবে। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ হওয়া এবং তা সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়া দুটি পৃথক বিষয়। এ ছাড়া বেসামরিক ফেডারেল আদালতে আইনি আবেদন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে পারে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। সম্প্রচারের ঘোষণা থাকলেও ভ্যান্স ও ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে এর বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ন্যাচারালাইজড আমেরিকানদের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিল ট্রাম্প প্রশাসন, ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে হার্ট স্ক্যান করতে গিয়ে ক্যানসার শনাক্ত, এক বছরের লড়াই শেষে সুস্থ ৭২ বছরের ভিকি
আমেরিকায় ঠিকানা বদলালে ইউএসসিআইএসে জানানোর সময়সীমা ১০ দিন, জেনে নিন নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনোতে ৭২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ও তাঁর মেয়েকে মারধরের অভিযোগ ওঠার পর ওই ব্যক্তির গুলিতে আহত হয়েছেন এক আইসিই এজেন্ট। ডেভিড গঞ্জালেজ নামের ৩২ বছর বয়সী ওই ফেডারেল এজেন্টকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হামলার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ভোরে ইস্ট ডাডলি অ্যাভিনিউ ও নর্থ ব্রডওয়ে স্ট্রিটের কাছে একটি বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। ফ্রেসনো পুলিশ ডিপার্টমেন্টের বক্তব্যের ভিত্তিতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি৩০ জানিয়েছে, গঞ্জালেজ টেক্সাসের বাসিন্দা এবং ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইতে কর্মরত। ঘটনার সময় তিনি ডিউটিতে ছিলেন না। পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই বাড়ির এক নারী বাসায় ফিরে সামনের লনে গঞ্জালেজকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেন। তিনি বিষয়টি তাঁর ৭২ বছর বয়সী বাবাকে জানান। এরপর বাবা বাইরে গিয়ে গঞ্জালেজকে বাড়ির জায়গা ছেড়ে চলে যেতে বলেন। ঘুম থেকে ওঠার পর গঞ্জালেজকে মদ্যপ ও উত্তেজিত বলে মনে হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ওই বৃদ্ধকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে মাটিতে ফেলে দেন। বাবাকে রক্ষা করতে মেয়ে এগিয়ে গেলে তাঁকেও আক্রমণ করেন গঞ্জালেজ। পুলিশ জানিয়েছে, নিজের ও মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় ওই ব্যক্তি একটি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গঞ্জালেজকে লক্ষ্য করে একবার গুলি করেন। গুলিটি তাঁর পেটের অংশে লাগে। এর কিছুক্ষণ পর ওই নারীর প্রেমিক ঘটনাস্থলে এসে গঞ্জালেজকে হাতকড়া পরান। তিনি একজন পুলিশ অফিসার এবং তখন ডিউটির বাইরে ছিলেন। ভোর ৩টা ১৯ মিনিটের দিকে ওই এলাকায় গুলির শব্দ শোনার বিষয়ে একাধিক নাইন ওয়ান ওয়ান কল পায় ফ্রেসনো পুলিশ। অফিসাররা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গঞ্জালেজকে হাতকড়া পরানো ও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পান। পরে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। এবিসি৩০-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতালে গঞ্জালেজের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের পর্যায়ের হামলা বা ফেলনি অ্যাসল্টের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। অন্যদিকে, গুলি চালানো ৭২ বছর বয়সী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর কাছে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধভাবে ছিল। টেক্সাসের ওই এজেন্ট কেন ফ্রেসনোর এই আবাসিক এলাকায় ছিলেন, তা তদন্ত করছে পুলিশ। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি কোনো আনুষ্ঠানিক অভিবাসন অভিযানের অংশ ছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানায়নি। সংঘর্ষের বিস্তারিত পরিস্থিতি জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
অ্যারিজোনার মরুভূমিতে বিশাল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, উৎপাদনের ৯০ শতাংশ কিনবে টেসলা
যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ইউরোপে যাওয়ার পরিকল্পনায় লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিচ্ছেন হাজারো আমেরিকান