সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

‘ক্যানসার ধরা পড়ার পর বন্ধু হারিয়েছি, মানুষ আমার কাছ থেকে দূরে সরে গেছে’

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১০:৬
ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার কঠিন সময়ে প্রিয়জনদের কাছে ‘ক্যানসার ঘোস্টিং’-এর শিকার হচ্ছেন রোগীরা। ছবি: সংগৃহীত
ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার কঠিন সময়ে প্রিয়জনদের কাছে ‘ক্যানসার ঘোস্টিং’-এর শিকার হচ্ছেন রোগীরা। ছবি: সংগৃহীত

ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার কঠিন সময়েই বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ হারাচ্ছেন কিছু রোগী। যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থা ম্যাকমিলান ক্যানসার সাপোর্ট সতর্ক করেছে, কাছের মানুষের এভাবে দূরে সরে যাওয়া রোগীদের একা রোগ মোকাবিলা করার অনুভূতি তৈরি করছে। সংস্থাটি এই অভিজ্ঞতাকে ‘ক্যানসার ঘোস্টিং’ হিসেবে উল্লেখ করে রোগীদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

 

ম্যাকমিলানের উদ্যোগে ইউগভ পরিচালিত যুক্তরাজ্যের ২ হাজার ১০০ প্রাপ্তবয়স্কের জরিপে ২৬ শতাংশ জানিয়েছেন, পরিচিত ক্যানসার রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে তাঁদের অসুবিধা হয়েছে। এর মধ্যে কী বলবেন বুঝতে না পারা, রোগের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া, দেখা বা কথা বলা কমিয়ে দেওয়া এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরোপুরি যোগাযোগ হারানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে এই ফলাফলের অর্থ এই নয় যে ২৬ শতাংশ মানুষ ক্যানসার রোগীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। 

 

ক্যানসারের কথা জানানোর পর পরিবার বা বন্ধুদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত যোগাযোগ ও সহায়তা না পাওয়ার অভিজ্ঞতা বোঝাতে ‘ক্যানসার ঘোস্টিং’ কথাটি ব্যবহার করা হয়। ম্যাকমিলানের অনলাইন কমিউনিটিতেও রোগীরা এ নিয়ে কথা বলেছেন। কেউ জানিয়েছেন, পরিচিতদের বার্তা আসা বন্ধ হয়ে গেছে; কেউ দৈনন্দিন আড্ডা ও বন্ধুর সঙ্গ হারানোর কষ্ট তুলে ধরেছেন। এটি সামাজিক অভিজ্ঞতা বোঝানোর একটি শব্দ। 

 

এডিনবরার অবসরপ্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মী লিসা ওয়াকার এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ৬১ বছর বয়সী এই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যানসার ধরা পড়ার পর কয়েক দশকের পরিচিত কিছু বন্ধু তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। যাঁদের সঙ্গে নিয়মিত কথা হতো, তাঁদের দূরে সরে যাওয়া তাঁকে নিজের বন্ধুত্বগুলো নিয়েও প্রশ্ন করতে বাধ্য করেছিল।

 

হ্যাম্পশায়ারের ৩৮ বছর বয়সী মানবসম্পদ পেশাজীবী মেভ গাজানফারও জানিয়েছেন, রোগ শনাক্ত হওয়ার পর ঘনিষ্ঠ কিছু বন্ধুত্ব হারিয়েছেন তিনি। শুরুতে বিষয়টি তাঁকে কষ্ট দিয়েছে এবং বিভ্রান্ত করেছে। পরে তিনি নিজের চিকিৎসা ও বেঁচে থাকার লড়াইয়ে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ম্যাকমিলান বলছে, রোগীর পাশে থাকতে সব সময় নিখুঁত কোনো কথা বলার প্রয়োজন নেই। 

 

সংস্থাটির পরামর্শ, ছোট একটি বার্তা পাঠানো, নিয়মিত খোঁজ নেওয়া কিংবা রোগীর ইচ্ছা অনুযায়ী চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্টে সঙ্গে যাওয়াও সহায়তার উপায় হতে পারে। ম্যাকমিলানের অনলাইন কমিউনিটির আলোচনায় খাবার পৌঁছে দেওয়া, একসঙ্গে চা খাওয়া এবং ক্যানসারের বাইরেও দৈনন্দিন জীবন নিয়ে কথা বলার মতো সহায়তার উদাহরণ উঠে এসেছে। 

 

ম্যাকমিলানের সাপোর্ট লাইনের বিশেষজ্ঞ সিয়ান রবিনসন ব্রাউনের বক্তব্য, ক্যানসার নিয়ে কথা বলার উপযুক্ত ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। তবু সহানুভূতির সঙ্গে শোনা, রোগীর চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ‘ফেয়ার ক্যানসার কেয়ার’ প্রচারণার অংশ হিসেবে সংস্থাটি তাই কাছের কারও ক্যানসার ধরা পড়লে নীরব হয়ে যোগাযোগ বন্ধ না করার আহ্বান জানিয়েছে। 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ইরাকে জ্বলন্ত গাড়ি থেকে ৭ জনকে বাঁচিয়ে প্রাণ দিলেন মার্কিন সেনা আলউইন ক্যাশ
ইরাকে জ্বলন্ত গাড়ি থেকে ৭ জনকে বাঁচিয়ে প্রাণ দিলেন মার্কিন সেনা আলউইন ক্যাশ

ইরাক যুদ্ধের ইতিহাসে ২০০৫ সালের ১৭ অক্টোবরের দিনটি এক চরম আত্মত্যাগের সাক্ষী হয়ে আছে। সালাহ আদ-দিন প্রদেশে রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা আইইডি (IED) বিস্ফোরণে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি ব্র্যাডলি ফাইটিং ভেহিকল সেদিন ভয়াবহভাবে আগুনে জ্বলে ওঠে।   গাড়ির ভেতরে থাকা সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস আলউইন ক্যাশের শরীরেও মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে গিয়েছিল। কিন্তু নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে তিনি বারবার সেই জ্বলন্ত গাড়ির ভেতরে ফিরে যান এবং ছয়জন মার্কিন সৈন্য ও একজন ইরাকি দোভাষীসহ মোট সাতজনকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে নিরাপদে বের করে আনেন। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, ক্যাশের শরীরের প্রায় ৭২ শতাংশ দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাত্রায় পুড়ে গেছে।   ভয়াবহ এই শারীরিক অবস্থা সত্ত্বেও নিজের চিকিৎসা নেওয়ার আগে সহযোদ্ধাদের চিকিৎসা শুরু হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন তিনি। এমনকি মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও তার প্রথম প্রশ্ন ছিল, "আমার ছেলেরা কেমন আছে?" মর্মান্তিক ওই ঘটনার ঠিক তিন সপ্তাহ পর, ২০০৫ সালের ৮ নভেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। শুরুতে তাকে ‘সিলভার স্টার’ পদক দেওয়া হলেও, তার এই অসামান্য আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি পেতে সময় লাগে দীর্ঘ ১৬ বছর।   অবশেষে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাকে মরণোত্তরভাবে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘মেডেল অব অনার’ প্রদান করেন। নিজের জীবনের বিনিময়ে সহযোদ্ধাদের জীবন বাঁচিয়ে সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস আলউইন ক্যাশ সাহস, আত্মত্যাগ এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, তা সামরিক ইতিহাসে চিরকাল এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১০:৪৬
ফুটবল মাঠে আহত পাখিকে সিপিআর দিয়ে বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন অধিনায়ক গানি

ফুটবল মাঠে আহত পাখিকে সিপিআর দিয়ে বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন অধিনায়ক গানি

ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার কঠিন সময়ে প্রিয়জনদের কাছে ‘ক্যানসার ঘোস্টিং’-এর শিকার হচ্ছেন রোগীরা। ছবি: সংগৃহীত

‘ক্যানসার ধরা পড়ার পর বন্ধু হারিয়েছি, মানুষ আমার কাছ থেকে দূরে সরে গেছে’

‘পতনের দ্বারপ্রান্তে নরেন্দ্র মোদি’, নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভারত

‘পতনের দ্বারপ্রান্তে নরেন্দ্র মোদি’, নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভারত

বাংলাদেশ থেকে প্রথম আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির ফেলো অধ্যাপক অরুণ
বাংলাদেশ থেকে প্রথম আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির ফেলো অধ্যাপক অরুণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির ২০২৬  সালের ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন। নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানে গবেষণার পাশাপাশি বাংলাদেশে বিজ্ঞানশিক্ষা ও কম্পিউটার ব্যবহারের সচেতনতা প্রসারে অবদানের জন্য তাঁকে এই স্বীকৃতি দিয়েছে সংস্থাটি।   এপিএসের ফোরাম অন ইন্টারন্যাশনাল ফিজিকসের ঘোষণায় ২০২৬ সালের ফেলো হিসেবে অধ্যাপক বসাকের নাম রয়েছে। নির্বাচনের কারণ হিসেবে সংস্থাটি জানিয়েছে, নিউক্লিয়াসগুলোর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া বোঝার বিভব ব্যবহার করে নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের দীর্ঘদিনের জটিল সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি। একই সঙ্গে নিবেদিতপ্রাণ গবেষক ও শিক্ষক হিসেবে বাংলাদেশে বিজ্ঞানশিক্ষা এবং গবেষণার সক্ষমতা গড়ে তোলার কাজও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।    অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে কর্মরত থেকে গবেষণা করে এপিএস ফেলো নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে অধ্যাপক বসাকই প্রথম। এই দাবিটি তাঁর বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এপিএসের প্রকাশিত ঘোষণায় বসাককে বাংলাদেশের প্রথম ফেলো হিসেবে বর্ণনা করা হয়নি।   পদার্থবিজ্ঞানে মৌলিক গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পদার্থবিজ্ঞানের উদ্ভাবনী প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এপিএস ফেলোশিপ দেওয়া হয়। সংস্থাটির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিবছর শিক্ষার্থী সদস্যদের বাদ দিয়ে মোট সদস্যের সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ এই সম্মানের জন্য নির্বাচিত হতে পারেন। ফলে ফেলো নির্বাচন একটি সীমিত ও প্রতিযোগিতামূলক স্বীকৃতি।    অধ্যাপক বসাকের দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রধান কেন্দ্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৬৩ সালের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়টির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির জীবনী অনুযায়ী, ২০০৮ সালে তাঁকে আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক করা হয়।   দেশে শিক্ষকতা ও গবেষণার পাশাপাশি বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও কাজ করেছেন এই বিজ্ঞানী। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ফেলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পোস্টডক্টরাল ফেলো ছিলেন তিনি। কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং অধ্যাপক এবং সাউদার্ন ইলিনয়েস ইউনিভার্সিটির কার্বনডেল ক্যাম্পাসে ভিজিটিং গবেষণা অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।   বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে তাঁর ১০০টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। নিউক্লীয় ও পরমাণু পদার্থবিজ্ঞান তাঁর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত একটি যৌথ গবেষণা প্রকল্পেও বাংলাদেশের প্রধান গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।   গবেষণার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিশিক্ষার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন অধ্যাপক বসাক। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে তিনি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা বিভাগীয় প্রধান, ভৌতবিজ্ঞান অনুষদের প্রথম ডিন এবং কম্পিউটার সেন্টারের প্রথম পরিচালক ছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি।    এই অর্জন নিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে গবেষণার মূল্যায়ন প্রসঙ্গও তুলেছেন অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন। তাঁর বক্তব্য, শুধু সাইটেশন বা গবেষণাপত্রের সংখ্যা দিয়ে একজন গবেষকের অবদান বিচার করা যথেষ্ট নয়। কাজের মৌলিকত্ব, মান এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার প্রভাবকেও গুরুত্ব দিতে হবে।   অধ্যাপক বসাককে জাতীয় পর্যায়ে আরও বড় স্বীকৃতি দেওয়ার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন কামরুল হাসান মামুন। এপিএসের এবারের স্বীকৃতিতে বসাকের গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষকতা, বিজ্ঞানশিক্ষা এবং গবেষণার সক্ষমতা গড়ে তোলার অবদান স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা এই বিজ্ঞানীর কর্মজীবনের একাধিক দিককে আন্তর্জাতিক পদার্থবিজ্ঞান সমাজের সামনে তুলে ধরেছে এই ফেলোশিপ।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৯:৩০
জাপানে ভূমিকম্পের জরুরি খবর দিতে ছুটির দিনেও মেকআপ ছাড়াই লাইভে নারী সাংবাদিক

জাপানে ভূমিকম্পের জরুরি খবর দিতে ছুটির দিনেও মেকআপ ছাড়াই লাইভে নারী সাংবাদিক

তাইওয়ানে চীনকে মোকাবিলায় সামরিক প্রতিরক্ষা জোরদারের ঘোষণা প্রেসিডেন্টের

তাইওয়ানে চীনকে মোকাবিলায় সামরিক প্রতিরক্ষা জোরদারের ঘোষণা প্রেসিডেন্টের

কানাডায় পাসপোর্ট ও আইডির  ছবিতে হিজাব পরার অনুমতি, মানতে হবে যেসব নিয়ম

কানাডায় পাসপোর্ট ও আইডির ছবিতে হিজাব পরার অনুমতি, মানতে হবে যেসব নিয়ম

‘এখনই দিল্লিকে বাংলাদেশ-নেপালের মতো করে তোলার সময়’, মোদি সরকারকে হুঁশিয়ারি
‘এখনই দিল্লিকে বাংলাদেশ-নেপালের মতো করে তোলার সময়’, মোদি সরকারকে হুঁশিয়ারি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আন্দোলনরত তরুণদের ওপর পুলিশি দমনপীড়ন ও নির্বিচার ধরপাকড়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কনট্যুর প্লেস এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতার কাজ করা ২৯ বছর বয়সী তরুণ সন্তোষ কুমার রাজপথে এমন পুলিশি বাধার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।   বর্তমান সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক আচরণের কঠোর সমালোচনা করে তিনি মন্তব্য করেছেন, সাধারণ মানুষের ওপর মোদি সরকারের বর্তমান ভূমিকা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।   তরুণদের ওপর সরকারের এই দমনপীড়নের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সন্তোষ জানান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জোরপূর্বক কখনোই আন্দোলন থামিয়ে রাখতে পারবে না। পুলিশ রাস্তা থেকে ১০ জনকে আটক করলে সেখানে মুহূর্তের মধ্যেই আরও ৫০ জন তরুণ এসে যোগ দিচ্ছেন। জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধকে তিনি স্বৈরাচারী মানসিকতার বিরুদ্ধে এক স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।   তার মতে, বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব সাধারণ জনগণের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে বলেই এমন দমননীতির আশ্রয় নিচ্ছে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও নেপালে জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ভারতীয়দেরও একইভাবে রাজপথে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সন্তোষ দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বৈরাচারী শাসনের সময় শেষ হয়ে এসেছে এবং এই সরকার আগামী ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত কোনোভাবেই টিকবে না।   তিনি বলেন, এখনই সময় দিল্লিকে নেপাল ও বাংলাদেশের মতো করে তোলার। ওই দুই দেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতীয়দের নিজেদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৭:৫২
চীন থেকে ব্যবসা গুটিয়ে বিকল্প উৎপাদন ঘাঁটি খুঁজছে জাপানি কোম্পানিগুলো

চীন থেকে ব্যবসা গুটিয়ে বিকল্প উৎপাদন ঘাঁটি খুঁজছে জাপানি কোম্পানিগুলো

জাপানি বুলেট ট্রেন

জাপানি ট্রেনের অপেক্ষা এড়িয়ে নিজস্ব বুলেট ট্রেন চালাতে চায় ভারত

পানামায় প্রথমে ৭.৭, পরে ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্প, ক্ষতিগ্রস্ত গির্জা ও হোটেল

পানামায় প্রথমে ৭.৭, পরে ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্প, ক্ষতিগ্রস্ত গির্জা ও হোটেল

0 Comments