হোয়াইট হাউস ঘিরে গণমাধ্যমে তোলপাড়, পাঁচ টিভি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্তে বিচার বিভাগ
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ দেশটির পাঁচটি প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক—এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, এনবিসি ও ফক্স নিউজের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহ কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নেটওয়ার্কগুলো প্রতিযোগিতাবিরোধী আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রয়টার্সের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের অ্যান্টিট্রাস্ট বিভাগ তদন্ত করছে, সংবাদমাধ্যমগুলোর সম্মিলিতভাবে সংবাদ কাভারেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের শেরম্যান আইনের আওতায় অবৈধ গোষ্ঠীগত বর্জন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কি না।
বিতর্কের সূত্রপাত গত ১৯ সেপ্টেম্বর। ওই দিন ট্রাম্প প্রশাসন সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউয়ের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতিপত্র বাতিল করে। প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, এসব সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদন নিয়ে সমস্যা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো এ সিদ্ধান্তকে সংবাদ সংগ্রহে বাধা এবং সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে আদালতের শরণাপন্ন হয়।
এরপর হোয়াইট হাউসের নিয়মিত টেলিভিশন সংবাদ সংগ্রহ ব্যবস্থায় অংশ নেওয়া পাঁচটি নেটওয়ার্ক প্রতিবাদ জানিয়ে সম্মিলিতভাবে কাভারেজ স্থগিত করে। এই ব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমগুলো পালাক্রমে প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠান কাভার করে এবং ভিডিও ফুটেজ পরস্পরের সঙ্গে ভাগাভাগি করে। ফলে একটি নেটওয়ার্কের সংগ্রহ করা দৃশ্য অন্য সংবাদমাধ্যমও ব্যবহার করতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর ফেডারেল বিচারক টিমোথি কেলি সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশের পর সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর অনুমতিপত্র ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ নিয়ে প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমের বিরোধ অব্যাহত থাকে।
বিচার বিভাগের বক্তব্য, প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত বর্জন কোনো কোনো পরিস্থিতিতে শেরম্যান আইন লঙ্ঘন করতে পারে। তবে তদন্ত শুরু হওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলো আইন ভঙ্গ করেছে, এমন নয়। তদন্তে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায় কি না এবং পরবর্তী সময়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয় কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
এ ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে দুটি পৃথক বিষয়। প্রথমত, প্রতিযোগী সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে সমন্বিত সিদ্ধান্ত বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার আইন লঙ্ঘন করেছে কি না। দ্বিতীয়ত, সরকার সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করার সময় সাংবাদিকদের সাংবিধানিক অধিকার যথাযথভাবে রক্ষা করছে কি না। আইনি দৃষ্টিতে বিষয় দুটি সম্পর্কিত হলেও এক নয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নতুন করে বেকার ভাতার আবেদন কম থাকলেও চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ১১ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহে বেকার ভাতার নতুন আবেদন কমে এমন পর্যায়ে রয়েছে, যা প্রায় ৫৭ বছরের সর্বনিম্ন মাত্রার কাছাকাছি। তবে একই সময়ে নিয়োগদাতারা নতুন কর্মী নিয়োগে সতর্ক থাকায় চাকরি হারানো ব্যক্তিদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। বেকার ভাতার আবেদন শ্রমবাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সাধারণত কোনো কর্মী চাকরি হারানোর পর যোগ্য হলে সরকারি বেকার ভাতার জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদন কম থাকা থেকে বোঝা যেতে পারে, নিয়োগদাতারা ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই করছেন না। কিন্তু এই পরিসংখ্যান একা দিয়ে বোঝা যায় না, নতুন চাকরি কত দ্রুত তৈরি হচ্ছে বা চাকরিপ্রার্থীরা কত সহজে কর্মসংস্থান পাচ্ছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে অর্থনীতিবিদদের বক্তব্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারকে ‘কম নিয়োগ, কম ছাঁটাই’ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ অনেক প্রতিষ্ঠান বর্তমান কর্মীদের ধরে রাখলেও নতুন পদ তৈরিতে আগ্রহী নয়। ফলে চাকরিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল মনে হলেও চাকরি হারানো বা নতুন কাজ খুঁজছেন—এমন মানুষের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। শ্রমবাজারের এই পরিস্থিতির পেছনে কয়েকটি বিষয় কাজ করছে। শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা, উৎপাদন ব্যয় এবং ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দামের চাপ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যৎ ব্যয় ও চাহিদা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে না পারলে নতুন কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারে। তবে এসব কারণের প্রভাব সব শিল্পে সমান নয়। সাধারণ কর্মীদের জন্য এর অর্থ হলো, বেকার ভাতার আবেদন কম থাকলেও চাকরি পাওয়ার সুযোগ যে সহজ হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। যাঁরা চাকরি খুঁজছেন, তাঁদের জীবনবৃত্তান্ত হালনাগাদ রাখা, একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান দপ্তরের সহায়তা নেওয়া কাজে আসতে পারে। বেকার ভাতার যোগ্যতা ও আবেদনের নিয়ম অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে, তাই সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের সরকারি শ্রম দপ্তরের নির্দেশনা যাচাই করা উচিত।শ্রমবাজারের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে শুধু বেকার ভাতার আবেদন নয়, নতুন চাকরি সৃষ্টি, বেকারত্বের হার, মজুরি বৃদ্ধি এবং নিয়োগের গতিও দেখতে হবে। পরবর্তী মাসগুলোর সরকারি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন থেকে বোঝা যাবে, বর্তমান স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, নাকি নিয়োগ আরও ধীর হয়ে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রে অতর্কিত হা মলায় পুলিশ কর্মকর্তা নি হত, ১২ গুলি খেয়েও বেঁচে গেলেন সহকর্মী
ভোটার তালিকা যাচাইয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পদ্ধতি বেআইনি ঘোষণা করলেন মার্কিন ফেডারেল বিচারক
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর হা মলায় সন্তান জন্মের চার দিন আগে প্রাণ গেল অন্তঃসত্ত্বা নারীর
যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিপত্র পাওয়ার পথ সীমিত করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি এবং আরও পাঁচটি বড় প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ভিসা ব্যবস্থার সম্ভাব্য অপব্যবহার তদন্তে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। রয়টার্সের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস, উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস ও ক্যাপজেমিনির ক্ষেত্রে স্থায়ী শ্রম সনদ বা পিইআরএম প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। প্রশাসনের দাবি, কিছু প্রতিষ্ঠান মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করার পরও বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ ও ভিসা সুবিধা ব্যবহার করছে। এতে দেশীয় কর্মীদের মজুরি ও চাকরির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে কম বেতনের বিদেশি কর্মী দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছে—এমন অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে উপস্থাপিত প্রমাণের পরিমাণ সীমিত। অভিযোগের তদন্ত চলমান এবং কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তা প্রমাণিত অপরাধ হয়ে যায় না। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, গত অর্থবছরে তাদের জমা দেওয়া প্রায় ছয় হাজার এইচ-১বি আবেদনপত্রের ৮০ শতাংশই ছিল বিদ্যমান কর্মীদের অবস্থার মেয়াদ বাড়ানো বা পরিবর্তনের জন্য, নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য নয়। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, একই ধরনের কাজ করা কর্মীদের তুলনীয় বেতন দেওয়া হয় এবং তারা প্রশাসনকে অতিরিক্ত তথ্য দিতে প্রস্তুত। গ্রিন কার্ডের পথে কী বাধা তৈরি হলো? পিইআরএম হলো যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্র পাওয়ার জন্য অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শ্রম সনদ প্রক্রিয়া। কোনো নিয়োগকর্তা বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে নিয়োগের জন্য আবেদন করলে সাধারণত দেখাতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পদে উপযুক্ত ও আগ্রহী মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বিদেশি কর্মীদের আবেদন বিলম্বিত হতে পারে। যাঁরা এইচ-১বি ভিসায় কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতে নিয়োগকর্তার সহায়তায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে চান, তাঁদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি: এই সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের বিদেশি কর্মীদের এইচ-১বি ভিসা বাতিল করা হয়নি। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সব কর্মীর গ্রিন কার্ডও বাতিল করা হয়নি। স্থগিতাদেশটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন ও বিচারাধীন পিইআরএম শ্রম সনদ আবেদনের ওপর প্রযোজ্য। এর ফলে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ আটকে যেতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারল্যান্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ৩০ লাখ বিদেশি কর্মীর জন্য আবেদন করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য দুই লাখ ৩০ হাজারের বেশি এইচ-১বি ভিসা অনুমোদন এবং এক লাখের বেশি স্থায়ী শ্রম সনদ অনুমোদনের তথ্যও তিনি উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সফটওয়্যার উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শ, ক্লাউড কম্পিউটিং ও সাইবার নিরাপত্তার মতো খাতে আন্তর্জাতিক কর্মীদের নিয়োগ দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থা। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনিশ্চিত হতে পারে। কেউ কেউ অন্য নিয়োগকর্তার কাছে যাওয়া, বিকল্প অভিবাসনপথ খোঁজা অথবা যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। তবে প্রত্যেক কর্মীর পরিস্থিতি তাঁর বর্তমান ভিসা, আবেদন পর্যায় এবং ব্যক্তিগত যোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে। যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিপত্র পাওয়ার পথ সীমিত করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি এবং আরও পাঁচটি বড় প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ভিসা ব্যবস্থার সম্ভাব্য অপব্যবহার তদন্তে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। রয়টার্সের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস, উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস ও ক্যাপজেমিনির ক্ষেত্রে স্থায়ী শ্রম সনদ বা পিইআরএম (PERM) প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। প্রশাসনের দাবি, কিছু প্রতিষ্ঠান মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করার পরও বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ ও ভিসা সুবিধা ব্যবহার করছে। এতে দেশীয় কর্মীদের মজুরি ও চাকরির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে কম বেতনের বিদেশি কর্মী দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছে—এমন অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে উপস্থাপিত প্রমাণের পরিমাণ সীমিত। অভিযোগের তদন্ত চলমান এবং কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তা প্রমাণিত অপরাধ হয়ে যায় না। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, গত অর্থবছরে তাদের জমা দেওয়া প্রায় ছয় হাজার এইচ-১বি আবেদনপত্রের ৮০ শতাংশই ছিল বিদ্যমান কর্মীদের অবস্থার মেয়াদ বাড়ানো বা পরিবর্তনের জন্য, নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য নয়। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, একই ধরনের কাজ করা কর্মীদের তুলনীয় বেতন দেওয়া হয় এবং তারা প্রশাসনকে অতিরিক্ত তথ্য দিতে প্রস্তুত। গ্রিন কার্ডের পথে কী বাধা তৈরি হলো? পিইআরএম হলো যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্র পাওয়ার জন্য অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শ্রম সনদ প্রক্রিয়া। কোনো নিয়োগকর্তা বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে নিয়োগের জন্য আবেদন করলে সাধারণত দেখাতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পদে উপযুক্ত ও আগ্রহী মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বিদেশি কর্মীদের আবেদন বিলম্বিত হতে পারে। যাঁরা এইচ-১বি ভিসায় কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতে নিয়োগকর্তার সহায়তায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে চান, তাঁদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি: এই সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের বিদেশি কর্মীদের এইচ-১বি ভিসা বাতিল করা হয়নি। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সব কর্মীর গ্রিন কার্ডও বাতিল করা হয়নি। স্থগিতাদেশটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন ও বিচারাধীন পিইআরএম শ্রম সনদ আবেদনের ওপর প্রযোজ্য। এর ফলে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ আটকে যেতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারল্যান্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ৩০ লাখ বিদেশি কর্মীর জন্য আবেদন করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য দুই লাখ ৩০ হাজারের বেশি এইচ-১বি ভিসা অনুমোদন এবং এক লাখের বেশি স্থায়ী শ্রম সনদ অনুমোদনের তথ্যও তিনি উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সফটওয়্যার উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শ, ক্লাউড কম্পিউটিং ও সাইবার নিরাপত্তার মতো খাতে আন্তর্জাতিক কর্মীদের নিয়োগ দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থা। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনিশ্চিত হতে পারে। কেউ কেউ অন্য নিয়োগকর্তার কাছে যাওয়া, বিকল্প অভিবাসনপথ খোঁজা অথবা যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। তবে প্রত্যেক কর্মীর পরিস্থিতি তাঁর বর্তমান ভিসা, আবেদন পর্যায় এবং ব্যক্তিগত যোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে। নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ও তদন্তের আওতায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রশাসন হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড, ব্রাউন, পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস ক্যাম্পাস, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির বিরুদ্ধে তদন্তের কথা জানিয়েছে। প্রশাসনের অভিযোগ, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ব্যবহৃত জে-১ বিনিময় কর্মসূচির অপব্যবহার করে থাকতে পারে। তদন্তকারীরা বিদেশি প্রভাব, আর্থিক সম্পর্ক, ভিসার নিয়ম মানা এবং সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণার স্বচ্ছতার মতো বিষয় খতিয়ে দেখবেন। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তারা সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করবে।
হোয়াইট হাউস ঘিরে গণমাধ্যমে তোলপাড়, পাঁচ টিভি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্তে বিচার বিভাগ
মার্কিন হু মকির মুখেও দমছে না ইরান, গোপনে ক্ষে পণাস্ত্র দিচ্ছে রাশিয়া
ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে অসন্তোষ, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে চাপ
‘পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী স্থান’ হিসেবে পরিচিত ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ডে ভ্রমণের খরচ একলাফে অনেকটা বেড়ে গেছে। চলতি সপ্তাহে নীরবেই টিকিটের দাম বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ, যার ফলে জনপ্রিয় একদিনের ‘পার্ক হপার’ পাসের (সবগুলো পার্কে প্রবেশের টিকিট) দাম পিক উইকএন্ড বা ছুটির দিনগুলোতে ৩০০ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। এই মাল্টি-পার্ক পাসের মূল দাম ২৮০ ডলার বিজ্ঞাপিত হলেও, বাধ্যতামূলক ফি এবং ১৮ দশমিক ৪০ ডলার কর যোগ হয়ে চূড়ান্ত মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩০১ দশমিক ৪০ ডলারে। সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো, এত চড়া দামে টিকিট কেটেও পার্কে প্রবেশের শতভাগ নিশ্চয়তা নেই, কারণ ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে গেলে প্রবেশাধিকার সীমিত থাকে। কেবল মাল্টি-পার্ক পাসই নয়, সাধারণ একদিনের সিঙ্গেল-পার্ক টিকিটের দামও ২০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। মঙ্গলবারের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সর্বোচ্চ স্তরের একদিনের সাধারণ টিকিটের দাম ১০ ডলার বেড়ে ২২৯ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া লাইন এড়িয়ে রাইডে ওঠার ভিআইপি ‘লাইটনিং লেন’ পাসের দাম একলাফে ৫০ ডলার বেড়ে ৪৯৯ ডলারে ঠেকেছে। অ্যানিমেল কিংডমের মতো পার্কে অফ-পিক সময়ে টিকিটের দাম এখনও ১২০ ডলারের আশেপাশে শুরু হলেও, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তা করসহ ১৯০ ডলার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বার্ষিক পাসগুলোর ক্ষেত্রেও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। ফ্লোরিডার বাইরের বাসিন্দাদের জন্য প্রযোজ্য একমাত্র বার্ষিক পাস ‘ইনক্রেডি-পাস’-এর দাম একলাফে ১২০ ডলার বাড়িয়ে ১ হাজার ৭৪৯ ডলার করা হয়েছে। এই পাসের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা একসাথে সর্বোচ্চ ৫টি থিম পার্ক রিজার্ভেশন ধরে রাখার সুযোগ পান। পাশাপাশি ফ্লোরিডার স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ‘পিক্সি ডাস্ট পাস’ ১০ ডলার, ‘পাইরেট পাস’ ৪০ ডলার এবং ‘সরসারার পাস’ ৪০ ডলার বাড়ানো হয়েছে। নতুন প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০২৭ সাল পর্যন্ত মাল্টি-পার্ক পিক টিকিটের দাম ৩০০ ডলারের ওপরেই থাকবে। ২০২৭ সালের বড়দিন এবং ইংরেজি নববর্ষের প্রাক্কালে ম্যাজিক কিংডমের একদিনের টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২২৯ ডলার, যা চলতি বছর ২০৯ ডলার এবং ২০২৭ সালের পূর্বে ঘোষিত তারিখগুলোর জন্য ২১৯ ডলার ছিল। অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার ডিজনিল্যান্ডেও মাঝারি স্তরের এবং পার্ক-হপার টিকিটের দাম ৫ থেকে ১০ ডলার বাড়ানো হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সেখানকার সবচেয়ে সস্তা একদিনের টিকিটের দাম ২০১৯ সালের মতোই ১০৪ ডলারে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। টিকিটের এই ঊর্ধ্বমুখী দামের ধাক্কা সামলাতে এবং সাশ্রয়ী মূল্যের দিনগুলো খুঁজে পেতে দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে ওয়েবসাইটে একটি এআই (AI) বট চালু করেছে ডিজনি। ইউএসএ টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বটের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা কোন তারিখে টিকিটের দাম সবচেয়ে কম, তা সহজেই খুঁজে নিতে পারবেন। তবে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। রেডিটে একজন ব্যবহারকারী আক্ষেপ করে লিখেছেন যে, এই কোম্পানিগুলোর এখন আর নিম্ন বা মধ্যবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের প্রয়োজন নেই; বরং কেবল ধনীদের কথা মাথায় রেখেই এখন এসব বিনোদন কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। উত্তর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসা আরেক দর্শনার্থী জানান, বিমান ভাড়া, মাঝারি মানের হোটেলে দুই রাত থাকা এবং লাইটনিং লেনসহ পার্ক হপার টিকিট মিলিয়ে মাত্র একদিনের ভ্রমণের জন্য দুইজনের খরচ পড়ছে প্রায় ২ হাজার ডলার—যার মধ্যে খাবার, যাতায়াত কিংবা কেনাকাটার হিসাবই ধরা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তাণ্ডবে নি হত ৪, বিদ্যুৎহীন প্রায় ৪ লাখ গ্রাহক
জুয়ার টাকা জোগাতে একের পর এক বিয়ে, প্রতারণার দায়ে লাস ভেগাসে নারীর সাজা