সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

রাসায়নিক গ্যাসে আতঙ্কিত ওহাইওর শত শত পরিবার, অবশেষে তুলে নেওয়া হলো বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১২:৩৫
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওর টলিডো শহরে শিল্পকারখানার রাসায়নিক ট্যাংক থেকে বিপজ্জনক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন হ্যাজম্যাট রেসপন্স টিমের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওর টলিডো শহরে শিল্পকারখানার রাসায়নিক ট্যাংক থেকে বিপজ্জনক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন হ্যাজম্যাট রেসপন্স টিমের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টলিডো শহরে একটি শিল্পকারখানার রাসায়নিক ট্যাংক থেকে বিপজ্জনক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক শ মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে হয়। তবে শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে কর্তৃপক্ষ অবশিষ্ট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও তুলে নেয়। এখন ঘটনাস্থলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণের কাজ চলছে।


অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন এবং টলিডো শহর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে শহরের প্রগ্রেস অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত এমসি ট্যাংক টার্মিনালে রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। ট্যাংকে থাকা রাসায়নিকটির নাম গ্লাইসিডিল মেথাক্রাইলেট। এটি প্লাস্টিক, রং ও বিভিন্ন আবরণ তৈরির শিল্পে ব্যবহৃত হয়। পদার্থটি চোখ, নাক, গলা ও ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে।

 

ঘটনার পর প্রথমে কারখানার এক মাইলের মধ্যে থাকা মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সম্ভাব্য রাসায়নিক ধোঁয়ার বিস্তার বিবেচনায় তিন মাইল এলাকার বাসিন্দাদের ঘরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা এলাকা ছোট করা হয়। ট্যাংকের ভেতরে রাসায়নিক বিক্রিয়া চলতে থাকায় কর্তৃপক্ষ সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে বিক্রিয়াটি শেষ হতে দেয়। তাদের আশঙ্কা ছিল, ওই অবস্থায় ট্যাংকের কাছে গেলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।


টলিডোর মেয়র ওয়েড ক্যাপসুকেভিচ জানান, রাসায়নিক স্থানান্তরের সময় একজন কর্মীর ভুলের কারণে ট্যাংকের ভেতরে তাপমাত্রা-সম্পর্কিত একটি পরিবর্তন ঘটে, যা রাসায়নিক বিক্রিয়া সৃষ্টি করে। কোম্পানি ঘটনার দায় স্বীকার করেছে বলে মেয়র জানান। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনো চলছে।

 

স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ জন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তাঁদের বেশির ভাগের উপসর্গ ছিল তুলনামূলকভাবে মৃদু। কয়েকজনের আগে থেকেই স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসা নেওয়া সবাই সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


শুক্রবার দুপুরে টলিডো ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগ রাসায়নিক নির্গমন বন্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ তুলে নেয়। পরে অনুমোদিত নিরাপত্তা পরিকল্পনার অধীনে কারখানার মালিকদের কাছে ঘটনাস্থলের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা—ইপিএ—পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বাতাসের মান পর্যবেক্ষণে সহায়তা করছে।

 

তবে নির্দেশ তুলে নেওয়া মানেই সব পর্যবেক্ষণ শেষ হয়ে গেছে, এমন নয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলাকায় বাতাসের নমুনা পরীক্ষা অব্যাহত থাকবে। রাসায়নিক ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসার আশঙ্কা থাকলে বাসিন্দাদের ঘরের খোলা খাবার ও বাইরে রাখা ফলমূল-সবজি ব্যবহারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আক্রান্ত এলাকার খেলার মাঠ পরিষ্কারের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।


টলিডোর এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় কমিউনিটির জন্য শিল্পকারখানার নিরাপত্তা ও জরুরি প্রস্তুতির গুরুত্ব আবার সামনে এনেছে। বিশেষ করে কারখানা বা রাসায়নিক সংরক্ষণাগারের আশপাশে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য স্থানীয় জরুরি সতর্কতা অনুসরণ করা, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলা এবং স্বাস্থ্যগত উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
আটক অভিবাসীদের জামিনের অধিকার নিয়ে নতুন আইনি বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের জামিন শুনানির অধিকার নেই, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দিল আপিল আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে আটক অভিবাসীদের জামিনে মুক্তির আবেদন করার জন্য সাংবিধানিকভাবে শুনানি পাওয়ার অধিকার নেই বলে রায় দিয়েছেন একটি ফেডারেল আপিল আদালত। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দেওয়া ১০-৭ ভোটের এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসননীতির পক্ষে বড় আইনি সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। রায়টি কার্যকর থাকলে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে আটক অভিবাসীদের মুক্তির জন্য আদালতের মাধ্যমে জামিন চাওয়ার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হতে পারে। নিউ অরলিন্সভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা বলেছেন, সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর অধীনে থাকা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া বা ‘ডিউ প্রসেস’-এর সুরক্ষা আটক অভিবাসীদের জামিন শুনানির নিশ্চয়তা দেয় না। আদালতের এই সিদ্ধান্তে ট্রাম্প প্রশাসনের সেই অবস্থানই সমর্থন পেয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট শ্রেণির অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলাকালে জামিন ছাড়াই আটক রাখার পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছে।   রায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ট্রাম্প মনোনীত বিচারক কোরি উইলসন তাঁর লিখিত পর্যবেক্ষণে বলেন, আটক ব্যক্তিরা যদি শারীরিকভাবে বন্দি না থাকার স্বাধীনতা চান, তাহলে তাঁদের যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাঁর এই বক্তব্য আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   তবে এই রায়কে সব ধরনের অভিবাসীর ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। মামলাটি মূলত এমন তিন অভিবাসীকে ঘিরে, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন, কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে বৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশের অনুমোদন না থাকার বিষয়টি বিবেচনায় আসে। আদালত বলেছে, এ ধরনের ব্যক্তিরা কংগ্রেসের প্রণীত অভিবাসন আইনে যে প্রক্রিয়াগত অধিকার পেয়েছেন, তার বাইরে অতিরিক্ত শুনানির সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দাবি করতে পারবেন না।   মামলার সঙ্গে জড়িত তিন ব্যক্তি মেক্সিকো ও হন্ডুরাসের নাগরিক। তাঁদের মধ্যে দুজন মেক্সিকোর এবং একজন হন্ডুরাসের নাগরিক। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে টেক্সাসে নিয়মিত ট্রাফিক তল্লাশির সময় তাঁদের আটক করা হয়। পরে তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর (আইসিই) হেফাজতে পাঠানো হয়। তাঁদের আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনজনই অন্তত ১৪ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন, কাজ করতেন এবং তাঁদের সন্তানদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকও রয়েছে।   এর আগে নিম্ন আদালতের বিচারকরা তাঁদের জামিন শুনানির সুযোগ না দিয়ে আটক রাখাকে সাংবিধানিক যথাযথ প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলে বিবেচনা করেছিলেন। ওই সিদ্ধান্তের পর তিনজনই আইসিইর হেফাজত থেকে মুক্তি পান। ট্রাম্প প্রশাসন সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, সংশ্লিষ্ট অভিবাসন আইন অনুযায়ী বহিষ্কারের অপেক্ষায় থাকা নির্দিষ্ট শ্রেণির অনথিভুক্ত অভিবাসীদের জামিন শুনানি ছাড়াই আটক রাখা যায়। চলতি বছরের জুলাইয়ে পঞ্চম সার্কিটের তিন বিচারকের একটি প্যানেল রায় দিয়েছিল, আইসিই ৯০ দিনের বেশি কাউকে আটক রাখলে তাঁকে জামিনে মুক্তির আবেদন জানানোর জন্য শুনানির সুযোগ দিতে হবে। তবে পুরো আদালত মামলাটি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেয়। শুক্রবারের নতুন রায়ে আগের ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা প্রশাসনের অবস্থানকে সমর্থন করেন।   এই রায়ের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি টেক্সাস ও লুইজিয়ানায়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বেশি অভিবাসী আটক রয়েছেন। পঞ্চম সার্কিটের এখতিয়ারের মধ্যে থাকা মিসিসিপিও এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে। ফলে এসব অঙ্গরাজ্যে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আবেদন এবং তাঁদের মামলার আইনি লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের (ডিএইচএস) সাধারণ পরামর্শক জেমস পার্সিভাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রায়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি এটিকে পঞ্চম সার্কিটে বাধ্যতামূলক আটকের নীতির পক্ষে বড় জয় বলে অভিহিত করেন। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং বহিষ্কারের কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, রায়ের বিরোধিতা করেছেন কয়েকজন বিচারক। তাঁদের একজন বিচারক ডানা ডগলাস সতর্ক করে লিখেছেন, নির্বাহী বিভাগের হাতে কাউকে গ্রেপ্তার করে অনির্দিষ্টকাল আটক রাখার নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতা ইতিহাসের উদ্বেগজনক অধ্যায়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। তাঁর মতে, এমন ক্ষমতার সীমা দুর্বল হয়ে পড়লে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও আইনি সুরক্ষার প্রশ্নে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। মামলায় অভিবাসীদের পক্ষে থাকা ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন প্রজেক্টের আইনজীবী এলি নর্টনও রায়ের সমালোচনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, এই সিদ্ধান্তের ফলে কোনো যথাযথ কারণ ছাড়াই আরও বেশি মানুষকে আটক রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর পরিণতি শুধু আটক ব্যক্তিদের ওপর নয়, তাঁদের পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টও অভিবাসীদের জামিন শুনানি নিয়ে সংশ্লিষ্ট একটি মামলা বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সেখানে মূল প্রশ্ন হলো, ফেডারেল অভিবাসন আইনে জামিন শুনানির সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক কি না। পঞ্চম সার্কিটের শুক্রবারের রায়ে বিবেচনা করা হয়েছে আলাদা একটি প্রশ্ন—সংবিধান নিজেই এমন শুনানির অধিকার নিশ্চিত করে কি না। ফলে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এই মামলার আইনি পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যদিও দুটি মামলার প্রশ্ন এক নয়।   আপাতত পঞ্চম সার্কিটের রায় টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপিতে আটক অভিবাসীদের জামিন শুনানি পাওয়ার সাংবিধানিক দাবিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তবে বৃহত্তর আইনি বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং অন্যান্য আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের আইনি সুরক্ষার ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৩:২৪
হগ মিডল স্কুলে অস্ত্রসহ আটক শিক্ষার্থীকে হেফাজতে নিচ্ছে পুলিশ। ছবি সংগৃহীত

হিউস্টনের স্কুলে বন্দুক উদ্ধারের ঘটনায় তৎপর পুলিশ, আটক এক শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় ফুটবল দলের বাস উল্টে আ হত ২২ শিক্ষার্থী, হেলিকপ্টারে হাসপাতালে একজন

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় ফুটবল দলের বাস উল্টে আ হত ২২ শিক্ষার্থী, হেলিকপ্টারে হাসপাতালে একজন

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওর টলিডো শহরে শিল্পকারখানার রাসায়নিক ট্যাংক থেকে বিপজ্জনক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন হ্যাজম্যাট রেসপন্স টিমের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

রাসায়নিক গ্যাসে আতঙ্কিত ওহাইওর শত শত পরিবার, অবশেষে তুলে নেওয়া হলো বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ২৩ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদনের হার ৭২ শতাংশ কমে যাওয়ায় অভিবাসীদের দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের অপেক্ষায় লাখো অভিবাসী, অনুমোদন কমে যাওয়ায় বাড়ছে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অভিবাসীদের জন্য নতুন করে উদ্বেগের খবর সামনে এসেছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদনের হার ৭২ শতাংশ কমে যাওয়ায় বহু আবেদনকারী দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে পড়েছেন। এর ফলে নাগরিকত্বের যোগ্যতা পূরণ করেও আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা মানুষের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব অনুমোদনের এই বড় ধরনের পতনের কারণে কয়েক লাখ আবেদনকারী অপেক্ষায় রয়েছেন। নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত যোগ্য আবেদনকারীরাও নাগরিক হিসেবে ভোট দিতে পারেন না। ফলে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নাগরিকত্বের অপেক্ষা রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।    যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার পরিকল্পনা থাকলে যোগ্যতার শর্ত, প্রয়োজনীয় নথি ও আবেদনপ্রক্রিয়া আগেই যাচাই করা উচিত। আবেদন জমা দেওয়া থাকলে ইউএসসিআইএসের সরকারি ওয়েবসাইটে নিজের আবেদন নম্বর দিয়ে সর্বশেষ অবস্থা দেখা যায়। দীর্ঘ বিলম্ব বা আইনি জটিলতা দেখা দিলে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। তবে নাগরিকত্ব অনুমোদন কমে যাওয়ার খবর মানেই সব আবেদনকারীর আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে—এমন নয়। আবেদন অনুমোদন, আবেদন নিষ্পত্তি এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা আলাদা বিষয়। নিজের আবেদনের অবস্থা জানতে সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১২:২৩
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযানে বাবা-মা আটক হওয়ার পর ১৮ বছর বয়সেই ছোট ভাইবোনদের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন ওয়েন্ডি ডোমিঙ্গো। ছবি: সংগৃহীত

বাবা-মা আটক, ভেঙে গেল এক পরিবারের স্বপ্ন! ছোট ভাইবোনদের দায়িত্ব ১৮ বছরের তরুণীর কাঁধে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার উডল্যান্ড শহরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের (আইসিই) তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

আইসিই আতঙ্কে স্কুলে সন্তান পাঠাতেও ভয়, যুক্তরাষ্ট্রের এক শহরে উদ্বেগে অভিবাসী পরিবার

ব্রুকলিনের ইস্ট নিউইয়র্কে ‘ইনোভেটিভ আরবান ভিলেজ’ প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৩৮৬টি স্থায়ী সাশ্রয়ী বাসা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় নতুন সাশ্রয়ী বাসস্থান, নিউইয়র্কের শত শত পরিবারের জন্য বড় সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কার ওমাহায় ভয়াবহ বন্যায় ৯৪ বছর বয়সী বৃদ্ধার প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বন্যায় ধ্বংস ৯৪ বছরের বৃদ্ধার ৫০ বছরের বাড়ি, শেষ সম্বল বাঁচাতে লড়ছে পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের ওমাহা শহরে ৯৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার প্রায় ৫০ বছরের বাড়ি ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়িটি মেরামত করে ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতে এখন লড়াই করছেন তাঁর স্বজনেরা। কিন্তু বাড়ির বড় ধরনের ক্ষতি, বিপুল মেরামত ব্যয় এবং বন্যার ক্ষতি বিমার আওতায় না থাকায় পরিবারটি কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। বৃদ্ধার নাম সেলিয়ান লা রোসা। পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনেরা তাঁকে স্নেহ করে ‘আন্ট সিসি’ নামে ডাকেন। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ওমাহায় আকস্মিক বন্যার পানি তাঁদের এলমউড গার্ডেনস এলাকার বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এতে বাড়ির নিচতলা ও ভিত্তির ব্যাপক ক্ষতি হয়। পানি নেমে যাওয়ার পরও বাড়িটির কাঠামোগত সমস্যা, বৈদ্যুতিক সংযোগ, পানির লাইন এবং যন্ত্রপাতি ব্যবস্থার ক্ষতি রয়ে যায়।    প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে এই বাড়িতেই বসবাস করেছেন লা রোসা। স্বামীকে হারানোর পরও বাড়িটি ছিল তাঁর জীবনের দীর্ঘদিনের স্মৃতি, পারিবারিক সম্পর্ক এবং নিরাপদ আশ্রয়ের প্রতীক। কিন্তু বন্যার পানি সেই পরিচিত পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পরিবারের পরিকল্পনা ছিল, বাড়িটি বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে লা রোসার জন্য সহায়তাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। বয়সজনিত ও স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতির কারণে তাঁর জন্য এমন আবাসনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। কিন্তু বন্যায় বাড়ির ক্ষতি হওয়ায় সেই পরিকল্পনা এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। বাড়িটি বিক্রি করার আগে বড় অঙ্কের মেরামত করাও জরুরি হয়ে উঠেছে।   লা রোসার ভাগনি পলা জাবাওয়া এবং তাঁর স্বামী মাইক জাবাওয়া বাড়িটি রক্ষার চেষ্টা করছেন। তাঁরা ইতিমধ্যে বাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ থেকে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়েছেন এবং কাঠামোটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকাতে প্রাথমিক কাজ করেছেন। তবে বাড়ির ভিত্তি পুনর্নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাগুলো সচল করতে আরও অর্থ ও পেশাদার সহায়তা প্রয়োজন। পরিবারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বাড়িটি মেরামত করতে ৫০ হাজার ডলারেরও বেশি খরচ হতে পারে। কিন্তু বাড়ির বিমায় বন্যার ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এই ব্যয়ের বড় অংশ নিজেরাই বহন করতে হবে। নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল একজন প্রবীণ মানুষের পক্ষে এত বড় আর্থিক ক্ষতি সামাল দেওয়া কঠিন।    এ পরিস্থিতিতে পরিবারটি অনলাইনে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি তারা স্বেচ্ছাসেবক, নির্মাণকাজে অভিজ্ঞ ব্যক্তি এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা চাইছে। তাঁদের লক্ষ্য শুধু একটি বাড়ি মেরামত করা নয়; বরং এমন একটি সম্পদ রক্ষা করা, যা লা রোসার ভবিষ্যৎ আবাসনের খরচ মেটানোর পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত। এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণ নাগরিকদের আবাসন নিরাপত্তা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর আর্থিক ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছে। অনেক পরিবারের কাছে বাড়ি শুধু বসবাসের জায়গা নয়, দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি। সেই বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে মেরামতের খরচের পাশাপাশি চিকিৎসা, দৈনন্দিন জীবনযাপন এবং বিকল্প আবাসনের ব্যয়ও বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়াতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও ঘটনাটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে—বাড়ির সাধারণ বিমা সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কভার করে না। বিশেষ করে বন্যার ঝুঁকি রয়েছে এমন এলাকায় বসবাস করলে বিমার শর্ত, বন্যা-সংক্রান্ত সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প আবাসনের পরিকল্পনা আগে থেকেই বুঝে রাখা জরুরি। তবে কোন সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করে নির্দিষ্ট পলিসি ও পরিস্থিতির ওপর। লা রোসার পরিবার এখন বাড়িটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি আবার ব্যবহারযোগ্য করা সম্ভব হবে কি না, তা নির্ভর করছে মেরামতের কাজ, অর্থের সংস্থান এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ওপর।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১১:৫৮
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন গড়ার গল্প, পরিচয় ও গ্রহণযোগ্যতার আকাঙ্ক্ষা রঙ-তুলির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন কলম্বিয়ার অভিবাসী শিল্পী লরা বারিওস। ছবি: সংগৃহীত

নতুন দেশে ঘর খোঁজার গল্প, অভিবাসীদের জীবন তুলে ধরে শিল্পী লরা বারিওসের দেয়ালচিত্র

নিউইয়র্কের মাউন্ট মরিস শহরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক রেস্তোরাঁ মালিকের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: সংগৃহীত

আইসিইর হাতে আটক রেস্তোরাঁ মালিকের মুক্তির দাবিতে এক হলো পুরো শহর

ক্যালিফোর্নিয়ায় হাইওয়ের ডিভাইডারে আটকে ট্রাক, জানালা দিয়ে বেরিয়ে প্রাণ বাঁচালেন যাত্রী

ক্যালিফোর্নিয়ায় হাইওয়ের ডিভাইডারে আটকে ট্রাক, জানালা দিয়ে বেরিয়ে প্রাণ বাঁচালেন যাত্রী

0 Comments