বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছেন বাংলাদেশি শিল্পী সঞ্জয়
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে পারফর্ম করবেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও ডিজে সঞ্জয়। আগামী ১২ জুন কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিতব্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক তারকাদের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যাবে তাকে। শনিবার (৯ মে) ফিফার পক্ষ থেকে এই তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সঞ্জয়ের জন্ম ঢাকায় হলেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে উঠেছেন এবং বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে প্রযোজক ও ডিজে হিসেবে বেশ পরিচিত। টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সঞ্জয় ছাড়াও মঞ্চ মাতাবেন মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি, অ্যালানিস মরিসেট ও আলেসিয়া কারার মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা। আয়োজকরা জানিয়েছেন, সংগীত ও সংস্কৃতির মাধ্যমে কানাডার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় ফুটিয়ে তোলাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই আয়োজন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, টরন্টোর এই অনুষ্ঠানটি কানাডার স্বকীয়তা ও বিশ্বকাপের উন্মাদনার এক অনন্য প্রতিফলন হবে। এটি কেবল একটি কনসার্ট নয়, বরং ফুটবল ও সংস্কৃতির এক শক্তিশালী বন্ধন হিসেবে বিশ্ববাসীকে স্বাগত জানাবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপ ট্রফিকেও এক নতুন আঙ্গিকে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
আগামী ১১ জুন মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের পর্দা উঠলেও ১২ জুন নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে কানাডা। টরন্টোতে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে সেই ম্যাচটি শুরুর আগেই এই জমকালো অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। ফুটবল প্রেমীদের জন্য স্টেডিয়ামের গেট ম্যাচ শুরুর চার ঘণ্টা আগেই খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।50920266105
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির ইন্স্যুরেন্সের বার্ষিক গড় খরচ ৫ হাজার ডলারের বেশি। এর মধ্যে ফ্লোরিডায় খরচ সবচেয়ে বেশি - ৮ হাজার ৪৭১ ডলার। দেশটির গড় ২ হাজার ৮৭২ ডলারের তুলনায় যা প্রায় তিন গুণ। ইন্স্যুরেন্স ডটকমের জন্য সংগ্রহ করা ২০২৬ সালের মূল্যতথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। ফ্লোরিডার পর সবচেয়ে বেশি খরচ নেব্রাস্কায়, বছরে গড়ে ৫ হাজার ৫১৩ ডলার। কলোরাডোয় ৫ হাজার ৫১১, ওকলাহোমায় ৫ হাজার ৩৭৮, কানসাসে ৫ হাজার ২৮৯ এবং লুইজিয়ানায় ৫ হাজার ১৮৫ ডলার। এই ছয় অঙ্গরাজ্যের বাইরে টেক্সাসেও খরচ জাতীয় গড়ের অনেক ওপরে - বছরে ৪ হাজার ৫৮২ ডলার। ফ্লোরিডায় গত বছরের তুলনায় গড় প্রিমিয়াম ৫৪৩ ডলার বেড়েছে। আর নেব্রাস্কায় বেড়েছে ৯৬০ ডলার, যা এই হিসাব অনুযায়ী অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ডলার বৃদ্ধি। ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও হারিকেনের মতো দুর্যোগের ঝুঁকির পাশাপাশি বাড়ি মেরামত বা পুনর্নির্মাণের ব্যয় ইন্স্যুরেন্সের দাম বাড়াতে পারে। তবে কোনো একটি কারণ দিয়ে সব অঙ্গরাজ্যের মূল্যবৃদ্ধি ব্যাখ্যা করা যায় না। নিউইয়র্কে একই ধরনের পলিসির বার্ষিক গড় খরচ ১ হাজার ৮৪৪ ডলার। গত বছরের চেয়ে তা ১৩৯ ডলার বেশি। নিউ জার্সিতে গড় ১ হাজার ৪৪৯ ডলার, পেনসিলভানিয়ায় ১ হাজার ৪৩৪ এবং জর্জিয়ায় ২ হাজার ৩০১ ডলার। ফলে ৫ হাজার ডলারের তালিকায় না থাকলেও নিউইয়র্কের বাড়ির মালিকদের খরচ বেড়েছে। এই পরিসংখ্যান সব বাড়ির মালিকের প্রকৃত বিলের গড় হিসেবে পড়া ঠিক হবে না। কোয়াড্রান্ট ইনফরমেশন সার্ভিসেস ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের একটি একক পরিবারের বাড়ি এবং একই ধরনের কভারেজ ধরে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পলিসির মূল্য সংগ্রহ করেছে। হিসাবে বাড়ির কাঠামোর জন্য ৩ লাখ ডলারের কভারেজ ও সাধারণ ক্ষতির ক্ষেত্রে ১ হাজার ডলার ডিডাক্টিবল ধরা হয়েছে। বাড়ির ঠিকানা, নির্মাণের ধরন এবং বেছে নেওয়া কভারেজ অনুযায়ী কারও প্রিমিয়াম এই অঙ্কের চেয়ে কম বা বেশি হতে পারে। অধিকাংশ সাধারণ বাড়ির ইন্স্যুরেন্সে বন্যার ক্ষতি কভার করা হয় না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বন্যা ইন্স্যুরেন্স কর্মসূচি। তাই বন্যার ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় আলাদা কভারেজ প্রয়োজন হলে বাড়ি রক্ষার মোট খরচ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রিমিয়ামের চেয়ে বেশি হতে পারে।
মেয়েকে ড্রাইভিং শেখাতে গিয়ে বাংলাদেশি বাবার মৃত্যু, পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কমিউনিটির তহবিল সংগ্রহ
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে ১ অক্টোবর থেকে কনস্যুলার ফি পরিশোধে নতুন নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে ফেরত পাঠানোর পথ খুলল সুপ্রিম কোর্ট
জর্জিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনজীবী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জর্জিয়ার বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির পরিচিত মুখ নাহিদুল হক খান সাহেলের মেয়ে নাওয়ার খান। মেয়ের এই সাফল্যে আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন তার বাবা-মা। নাওয়ারের মায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আবেগঘন পোস্টের পর জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ তাকে ও তার পরিবারকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। নাওয়ারের মা তার পোস্টে জানান, গত সপ্তাহে মেয়ে তাদের জানায় যে সে জর্জিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এরপর এই সপ্তাহে পরিবারের সদস্যরা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিতে দেখেন। এর মধ্য দিয়ে আইনজীবী হিসেবে নাওয়ারের পেশাজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। মেয়ের এই অর্জনকে পরিবারের জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তার মা বলেন, আইনজীবী হওয়ার পথটি সহজ ছিল না। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে নাওয়ারকে নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। দীর্ঘ সেই পথ পেরিয়ে বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনজীবী হিসেবে শপথ নিতে দেখা বাবা-মায়ের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। পোস্টে তিনি আরও জানান, মেয়ের আইন পড়া এবং একদিন আইনজীবী হয়ে ওঠা ছিল বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন। তবে নাওয়ার সেই স্বপ্নকে নিজের স্বপ্নে পরিণত করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। মেয়ের সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি নাওয়ারের জীবনের আরও অনেক অর্জনের কেবল শুরু। নাওয়ারের বাবা নাহিদুল হক খান সাহেল জর্জিয়া তথা যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটিতে পরিচিত মুখ এবং তিনি জর্জিয়া স্টেট বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক। রাজনৈতিক ও কমিউনিটি কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত নাহিদুল হক খান সাহেল। উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি প্রবাসীদের অন্যতম পরিচিত সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা বা ফোবানার সঙ্গেও তার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ২০২৫ সালে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ফোবানার ৩৯তম সম্মেলনের কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নাহিদুল হক খান সাহেল। নাওয়ারের সাফল্যের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন। বিভিন্ন মন্তব্যে নাওয়ারের ভবিষ্যৎ পেশাজীবনের সাফল্য কামনা করার পাশাপাশি তার বাবা-মাকেও অভিনন্দন জানানো হচ্ছে। একজন বাংলাদেশি আমেরিকান তরুণীর আইন পেশায় প্রবেশের এই অর্জনকে অনেকেই নতুন প্রজন্মের জন্য আনন্দ ও গর্বের একটি মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন। জর্জিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নাওয়ার খান এখন আইন পেশায় তার নতুন যাত্রা শুরু করলেন। পরিবারের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের এই মুহূর্তে নাওয়ারের সাফল্যে আনন্দিত তার বাবা-মায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জর্জিয়ার বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির শুভকামনাও।
ডাকাতির নাটক সাজিয়ে ইউ ভিসার চেষ্টা, ক্যামেরায় ফাঁসের পর দোকানকর্মীকে ভারতে ফেরত
ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া টেক্সাসের পরিবারে ইমিগ্রেশন জটিলতায় বিচ্ছেদের শঙ্কা
কারাবন্দি নারীর অর্থ দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে ৬৫ হাজার ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সরকারি কর্মী
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গুণগান গেয়ে তৈরি প্রচারমূলক বিজ্ঞাপনে করদাতাদের তহবিলের দুই কোটি (২০ মিলিয়ন) ডলার ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) বিরুদ্ধে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগমুহূর্তে জাতীয় স্তরের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও আমেরিকান ফুটবল লীগের সম্প্রচারের সময় প্রচারিত এই বিজ্ঞাপনগুলোকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক ও তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের শীর্ষ নেতারাও একে জনগণের অর্থের নজিরবিহীন অপব্যবহার এবং প্রোপাগান্ডা-বিরোধী আইনের চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে তীব্র সমালোচনার মুখেও হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, বিজ্ঞাপনগুলো মূলত জনসচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ। মঙ্গলবার ডিএইচএস সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিনকে পাঠানো এক চিঠিতে সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্যাটি মারে এবং ক্রিস মারফি অভিযোগ করেন যে, ট্রাম্পের 'ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল'-এর আওতায় মূলত সীমান্ত সুরক্ষায় ব্যবহারের জন্য রাখা অর্থ অনৈতিকভাবে এই বিজ্ঞাপনী প্রচারণায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সিনেটররা একে 'চুরির সমতুল্য' উল্লেখ করে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। বিজ্ঞাপন বিশ্লেষক সংস্থা 'অ্যাডইমপ্যাক্ট'-এর তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহেই তিনটি বিজ্ঞাপনের পেছনে আড়াই মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি নথি অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর বাজেট দপ্তর থেকে এই অর্থ ছাড় করার পরদিন মেরিল্যান্ডভিত্তিক 'এলএমডি এজেন্সি'কে ২০ মিলিয়ন ডলারের একটি জাতীয় প্রচারণার চুক্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞাপনগুলোর ধরন ও উপস্থাপন রীতি নিয়েও তীব্র সমালোচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সাধারণ জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনে সরকারি সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া তুলে ধরা হলেও ট্রাম্পের এসব বিজ্ঞাপনে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক স্লোগান, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ফুটেজ এবং পটভূমিতে 'লাভ মি, লাভ মি' গানের ব্যবহার দেখা গেছে। এমনকি একটি বিজ্ঞাপনে ট্রাম্পকে যুদ্ধবাজদের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত লড়াই’-এর বার্তা দিতে দেখা যায়, যার নিচে লেখা থাকে ‘পেইড ফর বাই দ্য ইউএস গভর্নমেন্ট’। এমন বিজ্ঞাপনের সমালোচনা করে রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস একে হাঙ্গেরির কর্তৃত্ববাদী প্রচারণার সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং সিনেট মেজরিটি লিডার জন থুন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এ ধরনের রাজনৈতিক কাজের ব্যয় জনগণের করের টাকা থেকে আসা উচিত নয়। সামনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাউস ও সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ইরান যুদ্ধের মতো সংকট নিয়ে সাধারণ ভোটারদের ক্ষোভ যখন বাড়ছে, তখন ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি 'মাগা আইএনসি'-তে শত শত মিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় তহবিলের কোটি কোটি ডলার এভাবে অপচয় করায় ক্ষোভে ফুঁসছেন সচেতন নাগরিকরা। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় ফিরলে তারা ক্ষমতার এই নির্লজ্জ অপব্যবহার ও অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত পরিচালনা করবেন এবং জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনবেন।
নিউইয়র্কের বাফেলোতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভ্রাম্যমাণ সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা
ভাইকে বিয়ের অভিযোগ, ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব কি বাতিল করতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন?