টরন্টো

দূষিত বড় শহর টরন্টো
দাবানলের ধোঁয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বড় শহর কানাডার টরন্টো, পেছনে পড়ল নয়াদিল্লিও

 দাবানলের ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টো। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ার–এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ বায়ুমানের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে টরন্টো। এ সময় শহরটি ভারতের নয়াদিল্লি ও কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসাকেও ছাড়িয়ে যায়।   কানাডার এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডা টরন্টো ও দক্ষিণ অন্টারিওর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বায়ুমান সতর্কতা জারি করেছে। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়া, ভারী শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা এবং শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।   দাবানলের ধোঁয়ায় টরন্টোর আকাশ হলুদ-ধূসর রঙ ধারণ করেছে এবং অনেক এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে গেছে। শহরের বায়ুমান স্বাস্থ্য সূচক (AQHI) কিছু সময়ের জন্য ১০+, অর্থাৎ ‘অত্যন্ত উচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকি’ পর্যায়ে পৌঁছে যায়।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতির মূল কারণ উত্তর-পশ্চিম অন্টারিওতে চলমান শতাধিক বড় দাবানল। কানাডাজুড়ে বর্তমানে ৮০০টিরও বেশি দাবানল জ্বলছে, যার মধ্যে শতাধিক এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে।   দাবানলের ধোঁয়া শুধু কানাডায় সীমাবদ্ধ নেই। শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহের কারণে এটি যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। নিউইয়র্কসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে বায়ুমান সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।   চিকিৎসকদের মতে, দাবানলের ধোঁয়ায় থাকা পিএম ২.৫ নামে অতিক্ষুদ্র দূষিত কণা ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি এবং চোখ ও গলায় জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি সুস্থ মানুষকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।   জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ধোঁয়াজনিত বায়ুদূষণের ঘটনা আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
টরন্টোর আনন্দমুখর ‘সালসা’ উৎসবে গোলাগুলির পর সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাজমান চরম আতঙ্ক। ছবি: সংগৃহীত
দুই ব্যক্তির গুলিতে কানাডার উৎসবের আমেজ বদলে গেল আতঙ্কে, নিহত ২, আহত ৪

কানাডার টরন্টো শহরের একটি ব্যস্ত রাস্তার উৎসবের কাছে গুলির ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এটি কোনো একক হামলাকারীর আক্রমণ নয়; বরং দুই ব্যক্তি একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিলেন।   টরন্টো পুলিশের ডেপুটি চিফ ফ্র্যাঙ্ক বারেডো জানান, শনিবার রাত ৮টা ১২ মিনিটে সেন্ট ক্লেয়ার অ্যাভিনিউ ওয়েস্ট এবং আর্লিংটন অ্যাভিনিউ এলাকায় গুলির খবর পাওয়া যায়। ওই সময় সেখানে লাতিন আমেরিকান সংস্কৃতির বার্ষিক ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ উৎসব চলছিল।   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। তবে রাতের সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। নিহত দুজনই পুরুষ বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।   ঘটনার পরপরই এলাকায় সক্রিয় বন্দুকধারীর আশঙ্কায় সাধারণ মানুষকে সেখান থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এলাকাটি নিরাপদ।   ডেপুটি চিফ বারেডো বলেন, প্রাথমিকভাবে সক্রিয় হামলাকারীর আশঙ্কা তৈরি হলেও পরে তদন্তে জানা যায়, এটি দুই ব্যক্তির মধ্যে গুলির ঘটনা। তবে এ ধরনের ঘটনা উৎসবে থাকা অসংখ্য সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছে।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ গুলির শব্দের পর উৎসবে থাকা মানুষ আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াতে শুরু করেন। কাছের একটি রেস্টুরেন্টে থাকা ভ্যালেরি রদ্রিগেজ বলেন, মানুষ একে অপরকে মাটিতে শুয়ে পড়ার জন্য বলছিলেন, কারণ কেউ বুঝতে পারছিলেন না কী ঘটছে।   উৎসবের এক বিক্রেতা প্যাটসি গুতিয়েরেজ জানান, মুহূর্তের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে শুরু করেন। পরে আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়।   ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ টরন্টোর অন্যতম বড় সাংস্কৃতিক উৎসব, যেখানে প্রতিবছর হাজারো মানুষ লাইভ সংগীত, নাচ, খাবার ও লাতিন সংস্কৃতির বিভিন্ন আয়োজন উপভোগ করতে জড়ো হন।   ঘটনার পর টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাও এমন জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।   অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডও নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
টরন্টোর ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ স্ট্রিট ফেস্টিভ্যালে বন্দুক হামলার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই রক্তাক্ত, টরন্টোতে গুলিতে নিহত ২

কানাডার টরন্টো শহরের জনপ্রিয় ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ (Salsa on St. Clair) স্ট্রিট ফেস্টিভ্যালে বন্দুক হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং আরও অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শুরুতে পুলিশ ‘অ্যাকটিভ শুটার’ সতর্কতা জারি করলেও পরে জানায়, ঘটনাস্থল নিরাপদ করা হয়েছে। তবে হামলাকারী বা হামলাকারীদের এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি।    টরন্টো পুলিশ জানায়, শহরের মিডটাউনের সেন্ট ক্লেয়ার অ্যাভিনিউ ও আর্লিংটন অ্যাভিনিউ এলাকায় বার্ষিক লাতিন সাংস্কৃতিক উৎসব চলাকালে গুলির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ ছয়জনকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তবে তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।    ঘটনার পরপরই পুলিশ সাধারণ মানুষকে এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেয় এবং তদন্ত শুরু করে। পরে জানানো হয়, ঘটনাস্থল নিরাপদ করা হলেও সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। হামলার উদ্দেশ্য বা এটি লক্ষ্য করে চালানো হামলা ছিল কি না, সে বিষয়েও এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।    ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ টরন্টোর অন্যতম বৃহৎ লাতিন সাংস্কৃতিক উৎসব। প্রতিবছর হাজারো মানুষ এই দুই দিনের আয়োজন উপভোগ করতে সেখানে জড়ো হন। সঙ্গীত, নৃত্য, খাবার ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার জন্য পরিচিত এই উৎসবে এমন প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় পুরো শহরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।  এদিকে অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।    টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে। 

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংগীতশিল্পী ডিজে সঞ্জয় | ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছেন বাংলাদেশি শিল্পী সঞ্জয়

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে পারফর্ম করবেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও ডিজে সঞ্জয়। আগামী ১২ জুন কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিতব্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক তারকাদের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যাবে তাকে। শনিবার (৯ মে) ফিফার পক্ষ থেকে এই তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।   সঞ্জয়ের জন্ম ঢাকায় হলেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে উঠেছেন এবং বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে প্রযোজক ও ডিজে হিসেবে বেশ পরিচিত। টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সঞ্জয় ছাড়াও মঞ্চ মাতাবেন মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি, অ্যালানিস মরিসেট ও আলেসিয়া কারার মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা। আয়োজকরা জানিয়েছেন, সংগীত ও সংস্কৃতির মাধ্যমে কানাডার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় ফুটিয়ে তোলাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।   ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই আয়োজন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, টরন্টোর এই অনুষ্ঠানটি কানাডার স্বকীয়তা ও বিশ্বকাপের উন্মাদনার এক অনন্য প্রতিফলন হবে। এটি কেবল একটি কনসার্ট নয়, বরং ফুটবল ও সংস্কৃতির এক শক্তিশালী বন্ধন হিসেবে বিশ্ববাসীকে স্বাগত জানাবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপ ট্রফিকেও এক নতুন আঙ্গিকে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।   আগামী ১১ জুন মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের পর্দা উঠলেও ১২ জুন নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে কানাডা। টরন্টোতে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে সেই ম্যাচটি শুরুর আগেই এই জমকালো অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। ফুটবল প্রেমীদের জন্য স্টেডিয়ামের গেট ম্যাচ শুরুর চার ঘণ্টা আগেই খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।50920266105

তাবাস্সুম মে ৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০