মিশিগানের ডিট্রইটে আয়োজিত হচ্ছে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের কনভেনশন আয়োজন
অ্যামেরিকায় বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের পেশাগত অর্জন, অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনা তুলে ধরতে মিশিগানের ডিট্রইটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, অ্যামেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস—আবিয়ার ২০২৬ সালের দ্বিবার্ষিক কনভেনশন ও সেমিনার।
এ উপলক্ষে মিশিগানের স্টার্লিং হাইটসে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা জানান, আগামী ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ডিট্রইট ডাউনটাউনের রেনেসাঁ সেন্টার ও হান্টিংটন প্লেইসে অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনের এই আয়োজন।
মিশিগানের ডিট্রইটে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া- আবিয়ার ২০২৬ সালের দ্বিবার্ষিক কনভেনশন ও সেমিনারে নর্থ অ্যামেরিকা, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রকৌশলী, স্থপতি, শিক্ষার্থী, গবেষক ও পেশাজীবীরা সপরিবারে অংশ নেবেন।
অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকবে ক্যারিয়ার ও স্টেম ফেয়ার। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক শিক্ষা এবং পেশায় আগ্রহী শিক্ষার্থী- তরুণদের জন্য ক্যারিয়ার ও পেশাগত উন্নয়নমূলক বিভিন্ন সেশন থাকবে বলে জানান, আবিয়ার প্রেসিডেন্ট মনির জামান ও সেক্রেটারি সাদেক রহমান।
পাশাপাশি বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং এবং নতুন প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করতেও গুরুত্ব দিচ্ছেন আয়োজকরা। তিন দিনের আয়োজনে থাকবে মিট অ্যান্ড গ্রিট, গালা ডিনার ও সানসেট রিভার ক্রুয।
সংগঠনটির মিশিগান চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ফয়েজুল মোমেন জানান, এ সম্মেলনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন সামিনা চৌধুরী, দিলশাদ নাহার কণা, প্রতীক হাসান ও ইমরানসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পী।
আয়োজকদের আশা, এই সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশি-অ্যামেরিকান প্রকৌশলী ও স্থপতিদের পেশাগত সাফল্য, উদ্ভাবন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে প্রকৌশল, স্থাপত্য ও স্টেম পেশায় উৎসাহিত করতেও ভূমিকা রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে ইঞ্জিনিয়ার ড. নাজমুল হাসান শাহীন, জাকিরুল হক, গোলাম মর্তুজা, মাহমুদ সালাম, কাজী সোহেল আহমেদ ও মৌলি আহমেদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজের প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যার পর একটি হোটেলে পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস গোলাগুলিতে জড়িয়েছেন এক ব্যক্তি। টড ওয়েগরিখ (৫৩) নামের ওই ব্যক্তিকে ওয়েস্ট পাম বিচ এলাকার 'দ্য বেন হোটেল' থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ এনেছে পাম বিচ কাউন্টি শেরিফ অফিস (পিবিএসও)। পুলিশ জানিয়েছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার টড ওয়েগরিখ তার প্রেমিকাকে হত্যার পর বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের ফোন এবং টেক্সট মেসেজ করে খুনের বিষয়টি জানান। তবে তিনি কোথায় পালিয়ে গেছেন, সে বিষয়ে কাউকে কিছু বলেননি। ওই মেসেজ ও ফোন পেয়ে অন্তত চারজন ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবগত করেন। খবর পেয়ে শেরিফ অফিসের কর্মকর্তারা লক্সাহ্যাচি এলাকার ট্যাঙ্গেলড অরচার্ড ট্রেসের ১৪০০ ব্লকের ওই বাড়িতে পৌঁছান। সেখানে তারা মূল দরজার ঠিক ভেতরেই একাধিক গুলির আঘাতসহ এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। বাড়িটির আশপাশেও গোলাগুলির আলামত পাওয়া যায়। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে যে, ঘাতক টড ওয়েস্ট পাম বিচ শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দ্য বেন হোটেলে অবস্থান করছেন। পুলিশ তাকে ফোনে আত্মসমর্পণ করার জন্য দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি রাজি হননি। পরে সোয়াট (SWAT) টিমের সদস্যরা হোটেলের সপ্তম তলায় অবস্থিত তার রুমে ঢোকার চেষ্টা করলে তিনি পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং অবশেষে তাকে অক্ষত অবস্থায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এই গোলাগুলির ঘটনায় কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা ওই সন্দেহভাজন আহত হননি। গ্রেপ্তারের পর টড ওয়েগরিখ পুলিশের কাছে নিজের প্রেমিকাকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তাকে পাম বিচ কাউন্টির কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নিউইয়র্কে আফগান শরণার্থীদের জন্য চালু হলো বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি
মিশিগানের ডিট্রইটে আয়োজিত হচ্ছে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের কনভেনশন আয়োজন
মায়ামিতে অ্যামাজনের কার্গো বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৫ জনের পরিচয় প্রকাশ, তদন্তে ব্ল্যাক বক্স
বাহামাসের উপকূলে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামির একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে বাহামাসের আন্দ্রোস দ্বীপের উপকূল থেকে প্রায় ১৫ মাইল দূরে সাগরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর কোস্টগার্ড ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের যৌথ অভিযানে সমুদ্র থেকে ওই চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা হলেন ৮০ বছর বয়সী মারিও লামার সিনিয়র, তার ৭৯ বছর বয়সী স্ত্রী লিলি লামার এবং তাদের দুই নাতি-নাতনি ২৮ বছর বয়সী সোফি সোসা ও ২২ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ান সোসা। বিমানটি ফ্লোরিডার ওপা-লোকা এলাকায় অবস্থিত মিয়ামি এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। শোকাহত পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নিহত মারিও লামার নিজে বিমানটি চালাচ্ছিলেন। তিনি একজন অত্যন্ত দক্ষ পাইলট ছিলেন এবং বিমান চালনায় তার ৪০ বছরেরও বেশি সময়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা ছিল। রয়্যাল বাহামাস ডিফেন্স ফোর্স সোমবার দুপুর ২টার দিকে প্রথম এই দুর্ঘটনার খবর পায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজের জন্য মার্কিন কোস্টগার্ডের সহায়তা তলব করে। কোস্টগার্ডের দেওয়া তথ্যমতে, দুপুর আড়াইটার ঠিক আগেই ছোট বিমানটি সাগরে আছড়ে পড়ে। তবে একজন অভিজ্ঞ পাইলট থাকার পরও ঠিক কী কারণে এই আকস্মিক বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
চোখে সাধারণ চশমা, রেকর্ড হচ্ছে সবকিছু! মেটার স্মার্ট গ্লাস নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন পুলিশ
‘বদলে গেছে অবসরের বয়স!’ ২০২৬ সালে মার্কিন সোশ্যাল সিকিউরিটিতে বড় পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় নজিরবিহীন ফি বৃদ্ধির প্রস্তাব, খরচ ছাড়াতে পারে ২ লাখ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান পরিষ্কার পানির অধিকার নিশ্চিত করে না বলে রায় দিয়েছে দেশটির পঞ্চম সার্কিট আপিল আদালত। ৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া রায়ে আদালত মিসিসিপির জ্যাকসন শহরের বাসিন্দাদের করা একটি মামলা খারিজের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। মামলায় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছিলেন, শহর কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনার কারণে তাদের পানিতে সীসা দূষণ ছড়ায় এবং কর্মকর্তারা পানি নিরাপদ বলে ভুল তথ্য দেন। মামলাটি করেছিলেন প্রিসিলা স্টার্লিং, রেইন বেকার, শন মিলার ও জন বেনেট। তারা জ্যাকসন শহর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। বাদীদের অভিযোগ ছিল, শহরের পানি ব্যবস্থাপনায় নানা ত্রুটির কারণে পানিতে সীসা, ই-কোলাই ও অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। পাশাপাশি শহর কর্তৃপক্ষ দূষণের বিষয়টি জানার পরও বাসিন্দাদের পানি নিরাপদ বলে আশ্বস্ত করেছিল বলে তারা দাবি করেন। বাদীপক্ষ যুক্তি দিয়েছিল, সীসা দূষিত পানি পান করতে বাধ্য হওয়া তাদের শারীরিক অখণ্ডতার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সংক্রান্ত ধারার অধীনে এই দাবি তুলে মামলা করে। তবে আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা এই যুক্তি গ্রহণ করেননি। আদালত বলেছে, দূষিত পানির সংস্পর্শকে শারীরিক অখণ্ডতার সাংবিধানিক অধিকারের আওতায় নেওয়ার মতো দেশের ইতিহাস বা সুপ্রিম কোর্টের কোনো নজির নেই। বিচারপতি কার্ট এঙ্গেলহার্ডটের নেতৃত্বে দেওয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে বলা হয়, সংবিধান সরকারের প্রতিটি ভুলের প্রতিকার নিশ্চিত করে না। আদালতের মতে, পৌরসভা পানি সরবরাহ করলেও সংবিধান সেই সেবা নির্দিষ্ট মানে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না। সীসা দূষিত পানির কারণে যে ক্ষতির অভিযোগ করা হয়েছে, সেটিকে জোরপূর্বক অস্ত্রোপচার, অনিচ্ছাকৃত ওষুধ প্রয়োগ বা শারীরিক হামলার মতো শারীরিক অখণ্ডতার সরাসরি লঙ্ঘনের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। আদালত একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জনস্বাস্থ্য সংকটের সময় সত্য তথ্য পাওয়ার দাবিকেও সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। মামলার বাদীরা অভিযোগ করেছিলেন, পানি দূষিত হওয়ার বিষয়টি জানার পরও কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের পানি নিরাপদ বলে জানিয়েছিলেন। আদালত বলেছে, সরকারি কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্যের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার মতো কোনো সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জ্যাকসনের পানি সংকট নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত বহু বছরের সমস্যাকে ঘিরে। আদালতের নথি অনুযায়ী, শহরের পানি ব্যবস্থায় সীসা ও ব্যাকটেরিয়া থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বাসিন্দাদের পানি ফুটিয়ে পান করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল। বাদীরা দাবি করেন, শহরের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে পানিতে সীসা মিশেছে এবং পরে কর্মকর্তারা পানি নিরাপদ বলে ভুল আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আদালত বলেছে, পানি দূষণের সমস্যা মোকাবিলায় অন্যান্য সরকারি ও আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। মিসিসিপি অঙ্গরাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার জ্যাকসনের পানি ব্যবস্থার মান উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি, তদন্ত ও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। আদালতের মতে, এসব ব্যবস্থা এবং অন্যান্য আইনি পথের মাধ্যমে পানির দূষণ মোকাবিলা করা সম্ভব হলেও এই নির্দিষ্ট অভিযোগকে সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রায়ে আরও বলা হয়, এই মামলায় বাদীরা এমন কোনো সুপ্রিম কোর্টের নজির বা শক্তিশালী আইনি ভিত্তি দেখাতে পারেননি, যা সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে সীসা দূষিত পানির সংস্পর্শে আসাকে প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ফলে পঞ্চম সার্কিটের পূর্ণ বেঞ্চ নিম্ন আদালতের মামলা খারিজের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যে নিরাপদ পানির অধিকার বাতিল করে না। রায়টি নির্দিষ্টভাবে মিসিসিপির জ্যাকসন শহরের পানি দূষণ নিয়ে করা মামলায় সংবিধানের অধীনে অধিকার দাবির বিষয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পানি নিরাপত্তা নিয়ে আলাদা আইন ও সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। এই রায়ের মূল বিষয় হলো, জ্যাকসনের ওই মামলায় পরিষ্কার বা সীসামুক্ত পানিকে ফেডারেল সংবিধানের অধীনে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। সূত্র: ইউএসএ টুডে
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়েও মেক্সিকোয় ডিপোর্ট! ৪ মাসের লড়াই শেষে দেশে ফিরলেন টেক্সাসের তরুণ
‘বাড়ি খালি, তবু গৃহহীন!’ যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে দরিদ্রদের আবাসনে ভয়াবহ বৈষম্য