আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে সবার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যবিমা চালুর প্রস্তাব থেকে সরে এলেন হাকিম জেফ্রিস

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ২২:৩৮
ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী অংশের মতপার্থক্যের মধ্যে নিজের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেছেন হাকিম জেফরিস। ছবি: সংগৃহীত
ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী অংশের মতপার্থক্যের মধ্যে নিজের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেছেন হাকিম জেফরিস। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সবার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যবিমা চালুর প্রস্তাব ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ এখন আর সমর্থন করেন না বলে জানিয়েছেন হাউসের ডেমোক্রেটিক নেতা হাকিম জেফরিস। একই সঙ্গে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা বা ডিএসএর ঘোষিত কর্মসূচির প্রতিও সমর্থন নেই বলে স্পষ্ট করেছেন নিউইয়র্কের এই ডেমোক্র্যাট নেতা।

 

রোববার এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান জানান জেফরিস। একসময় ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ বিলের সহ-উদ্যোক্তা থাকলেও বর্তমানে তিনি এই প্রস্তাবের পক্ষে নেই বলে জানান।

 

জেফরিস বলেন, বর্তমানে তিনি ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ সংক্রান্ত কোনো আইনের সহ-উদ্যোক্তা নন এবং এটি সমর্থনও করেন না। ওয়েলকার তাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই প্রস্তাব সমর্থন করেন কি না। জবাবে জেফরিস তার বর্তমান অবস্থান অপরিবর্তিত রেখে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কংগ্রেসে উত্থাপিত ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ আইনগুলোতে তিনি সহ-উদ্যোক্তা হননি এবং বর্তমানে এগুলো সমর্থন করছেন না।

 

‘মেডিকেয়ার ফর অল’ মূলত যুক্তরাষ্ট্রে একক সরকারি স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা চালুর একটি প্রস্তাব। এর আওতায় অধিকাংশ বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমার পরিবর্তে সরকার পরিচালিত একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে সব নাগরিককে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবটির সমর্থকেরা মনে করেন, এতে সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যক্তির নিজস্ব চিকিৎসা ব্যয় ও বেসরকারি বিমা ব্যবস্থার প্রশাসনিক খরচ কমতে পারে। সমালোচকেরা অবশ্য এর সম্ভাব্য বিপুল সরকারি ব্যয়, কর বাড়ার ঝুঁকি এবং বর্তমান চাকরিভিত্তিক স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থায় পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

 

জেফরিসের অবস্থান পরিবর্তন ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরের মতপার্থক্যকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। দলের প্রগতিশীল অংশের কাছে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। অন্যদিকে জেফরিসসহ দলের মধ্যপন্থী নেতারা স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমানো এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

 

জেফরিস ডিএসএর কর্মসূচি থেকেও নিজেকে দূরে রেখেছেন। ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল রাজনীতিতে প্রভাব বাড়িয়েছে। বিভিন্ন প্রাথমিক নির্বাচনে সংগঠনটির সমর্থিত বা সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের সাফল্যও দলের মধ্যপন্থী ও প্রগতিশীল অংশের মধ্যে বিতর্ক বাড়িয়েছে।

 

জেফরিস বলেন, ডেমোক্রেটিক ককাসে প্রগতিশীল, মধ্যপন্থী ও ব্লু ডগ ডেমোক্র্যাটদের মতো বিভিন্ন মতের মানুষ রয়েছেন। তবে ডিএসএ নিজে যে কর্মসূচি তুলে ধরেছে, তিনি সেটি সমর্থন করেন না।

তার মতে, ডেমোক্র্যাটদের এখন মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার বাড়তি খরচকে তিনি সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে জেফরিস ‘মেডিকেয়ার ফর অল’-এর পরিবর্তে বিদ্যমান ব্যবস্থায় খরচ কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মেডিকেইডে রিপাবলিকানদের করা কাটছাঁট ফিরিয়ে নেওয়া এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যবিমা আইন বা অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের করছাড় বাড়ানোর পক্ষে কথা বলেছেন।

স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে জেফরিসের বর্তমান অবস্থান তার আগের ভূমিকার তুলনায় ভিন্ন। তিনি ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ বিলের সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন। তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বে আসার পর সাম্প্রতিক সংস্করণগুলোর সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেননি।

 

জেফরিসের সঙ্গে স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে প্রকাশ্য মতপার্থক্যও দেখিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্না। পৃথক এক সাক্ষাৎকারে খান্না বলেন, তিনি ‘মেডিকেয়ার ফর অল’কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রাধিকার হিসেবে দেখেন। তার দাবি, এই ব্যবস্থা স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।

 

ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ বিতর্ক শুধু স্বাস্থ্যসেবা নিয়েই সীমাবদ্ধ নয়। অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থা আইস বা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বিলুপ্ত করার দাবিতেও দলের প্রগতিশীল অংশের সঙ্গে জেফরিসের মতপার্থক্য রয়েছে।

জেফরিস আইস পুরোপুরি বিলুপ্ত করার পক্ষে নন। তবে তিনি সংস্থাটির ব্যাপক সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত, মানবিক ও যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বর্তমানে আইসের কার্যক্রম ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে গেছে।

 

এর আগে জেফরিস ও সিনেটের ডেমোক্রেটিক নেতা চাক শুমার আইসের কার্যক্রমে বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এর মধ্যে অভিবাসন কর্মকর্তাদের মুখ ঢেকে কাজ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা, দৃশ্যমান পরিচয়পত্র বহনের বাধ্যবাধকতা, স্কুল ও গির্জার কাছে অভিযান সীমিত করা, কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পরিধি বাড়ানো এবং বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়ম আরোপের প্রস্তাব ছিল।

 

জেফরিসের এই বক্তব্যের ঠিক এক দিন আগে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির সদস্যরা আইস বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। একই সময়ে আইস সংস্কারের পক্ষে আরেকটি প্রস্তাবও বেশি ব্যবধানে অনুমোদিত হয়। ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির চেয়ার কেন মার্টিন অবশ্য মনে করিয়ে দিয়েছেন, দলের আনুষ্ঠানিক নীতিমালা প্রতি চার বছর পর জাতীয় সম্মেলনে নির্ধারিত হয়।

 

জেফরিসের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ডেমোক্রেটিক পার্টি আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলের ভেতরের মতপার্থক্য সামলে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা আবারও হাউসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাবে। এজন্য অন্তত ২১৮টি আসন জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দল কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

 

তার বক্তব্যে মূল বার্তা ছিল, ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়টি রাখা উচিত। স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলোর কাছে দলকে বাস্তবসম্মত সমাধান তুলে ধরতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে, ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশ মনে করে, বিদ্যমান ব্যবস্থার ছোটখাটো সংস্কারের বদলে স্বাস্থ্যসেবা ও অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার। ফলে জেফরিসের বর্তমান অবস্থান দলের মধ্যপন্থী নেতৃত্ব ও প্রগতিশীল ঘরানার মধ্যে নীতিগত দূরত্বের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

 

এ অবস্থায় ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ থেকে সরে আসা এবং ডিএসএর কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করে জেফরিস কার্যত ডেমোক্রেটিক পার্টির একটি মধ্যপন্থী অবস্থানই সামনে এনেছেন। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অবস্থান দলকে বৃহত্তর ভোটারগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে কতটা সহায়তা করবে, সেটিই এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অন্যতম আগ্রহের বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউ জার্সির সি আইল সৈকতে উদ্ধার হওয়া ৩৬ লাখ বছরের পুরোনো মেগালোডনের বিশাল দাঁত। ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সির সৈকতে মিলল ৩৬ লাখ বছরের পুরোনো মেগালোডন হাঙরের বিশাল দাঁত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের একটি সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়ে অভাবনীয় এক আবিষ্কার করে বসেছেন এক বাবা ও ছেলে। সৈকতের পাথরের ফাঁক থেকে তারা উদ্ধার করেছেন পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বিশাল আকৃতির হাঙর 'মেগালোডন'-এর একটি জীবাশ্ম দাঁত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভয়ংকর এই প্রাগৈতিহাসিক হাঙরের দাঁতটি অন্তত ৩৬ লাখ বছরের পুরোনো। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনজে ডটকমের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।   পেনসিলভানিয়ার মননগাহেলা এলাকার বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী মাইকেল বোওয়ারস তার ১১ বছর বয়সী ছেলে বো-কে নিয়ে গত মঙ্গলবার নিউ জার্সির 'সি আইল সিটি' সৈকতে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। সৈকতের জেটি ধরে হাঁটার সময় হঠাৎ পাথরের একটি সরু খাঁজে বিশাল আকৃতির অদ্ভুত কিছু একটা দেখতে পান তারা। মাইকেল বোওয়ারস জানান, পাথরের ওই খাঁজটি এতোটাই সরু ছিল যে সেখানে তিনি হাত ঢোকাতে পারছিলেন না। তখন তার ছেলে বো খুব সহজেই সেখানে হাত ঢুকিয়ে সেই পুরোনো ও বিশাল দাঁতটি বের করে আনে।   গণমাধ্যমকে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মাইকেল বলেন, "আমি প্রায়ই পানিতে অদ্ভুত সব জিনিস খুঁজে পাই। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি যে এমন অসাধারণ কিছু একটা পেয়ে যাব। দাঁতটি হাতে পাওয়ার পর আমার ছেলে আনন্দে একেবারে নির্বাক হয়ে গিয়েছিল। আর আমার তো খুশিতে পা কাঁপছিল। জীবনে এমন কিছু খুঁজে পাওয়ার স্বপ্নই দেখতাম আমি।" উদ্ধার করা বিশাল এই দাঁতটি আসল কিনা তা যাচাই করার জন্য তারা 'কেপ মে হোয়েল ওয়াচ অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার'-এর শরণাপন্ন হন। সেখানকার গবেষকরা নিশ্চিত করেন যে, এটি সত্যিই একটি মেগালোডন হাঙরের জীবাশ্ম।   রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মেলিসা লরিনো জানান, এই বিশাল দাঁতটি একটি মেগালোডনের। ভয়ংকর এই হাঙরগুলো লম্বায় প্রায় ৬০ ফুট পর্যন্ত হতো এবং এদের একেকটি দাঁত মানুষের হাতের তালুর সমান বড় ছিল। আজ থেকে প্রায় ৩৬ লাখ বছর আগেই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে বিশাল এই সামুদ্রিক শিকারি প্রাণীটি, যা বর্তমানে বিভিন্ন হলিউড হরর সিনেমার কল্যাণে মানুষের কাছে বেশ পরিচিত। নিউ জার্সির সৈকতে মেগালোডনের জীবাশ্ম পাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। নিউ জার্সি স্টেট মিউজিয়ামের কিউরেটর ডানা এহার্টের মতে, এই অঙ্গরাজ্যে এখন পর্যন্ত পাঁচটিরও কম মেগালোডনের দাঁত আবিষ্কৃত হয়েছে।   কিন্তু এত লাখ বছর আগের দাঁত হঠাৎ সৈকতে কীভাবে এল? গবেষকরা ধারণা করছেন, গত জুলাই মাসে ইউএস আর্মি কর্পস অব ইঞ্জিনিয়ার্স-এর উদ্যোগে সি আইল সিটিতে সৈকত সংস্কারের যে কাজ হয়েছিল, তখনই এটি গভীর সমুদ্র থেকে বালুর সঙ্গে উঠে এসেছে। এ বিষয়ে মেলিসা লরিনো বলেন, "সৈকত সংস্কারের জন্য যদি কয়েক মাইল গভীর সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলন করা হয়ে থাকে, তবে সেই বালুর সঙ্গেই এই দাঁতটি সৈকতে চলে আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এটি এমন এক আবিষ্কার, যা বোওয়ারস পরিবার সারাজীবন অমূল্য সম্পদ হিসেবে আগলে রাখবে।"

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ২৩:১৪
ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী অংশের মতপার্থক্যের মধ্যে নিজের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেছেন হাকিম জেফরিস। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সবার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যবিমা চালুর প্রস্তাব থেকে সরে এলেন হাকিম জেফ্রিস

১৫ বছর বয়সী কিশোরীর ওপর হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার ওবেদ রেয়েস। ছবি: সংগৃহীত

জর্জিয়ায় বাড়ির দেয়াল ভেঙে প্রতিবেশীর ঘরে ঢুকে কিশোরীর ওপর হামলা ও ধর্ষণের হুমকি, গ্রেপ্তার যুবক

অবৈধ অভিবাসন নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আসছেন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র‌্যান্ডি ফাইন। ছবি: সংগৃহীত

‘অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়’: র‌্যান্ডি ফাইন

নিহত গ্রেগ আমেন এবং গ্রেস স্পিরিডন, যাদের মৃত্যুতে তাদের দুই যমজ কন্যা ৩৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা হারিয়ে এতিম দুই মেয়ে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে পেল ৩৩ মিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বেপরোয়া গতির এক স্ট্রিট রেসিং কেড়ে নিয়েছিল এক দম্পতির প্রাণ। বাবা-মাকে হারিয়ে রাতারাতি এতিম হয়ে যায় তাদের দুই যমজ কন্যাশিশু। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কিশোর চালক ও তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় এবার ৩৩ মিলিয়ন (৩ কোটি ৩০ লাখ) মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে ওই দুই শিশু। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান মাতেও কাউন্টির একটি জুরি বোর্ড এই রায় ঘোষণা করেছে। বে এরিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'বে সিটি নিউজ' এবং আদালতের নথির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।   ২০২২ সালের ৪ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড সিটিতে ঘটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নিহত দম্পতির নাম গ্রেগ আমেন এবং গ্রেস স্পিরিডন। তারা যখন নিজেদের শেভ্রোলেট ভোল্ট গাড়ি নিয়ে এল ক্যামিনো রিয়েল সড়কে বাঁ দিকে মোড় নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই দুটি দ্রুতগতির গাড়ি রেসিং করতে গিয়ে তাদের সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ওই দম্পতি, আর তাদের যমজ কন্যারা পরিণত হয় পিতৃ-মাতৃহীন এতিমে।   আদালতের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় সিজার মোরালেস নামের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর কাইল হ্যারিসন নামের অপর এক চালকের সঙ্গে স্ট্রিট রেসিংয়ে লিপ্ত ছিল। তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই বিচারের শুনানিতে জুরি বোর্ড জানতে পারে, দুর্ঘটনার রাতে মোরালেস ঘণ্টায় ১০৫ থেকে ১১০ মাইল বেগে গাড়ি চালাচ্ছিল। জুরি বোর্ড এই দুর্ঘটনার জন্য সিজার মোরালেসকে অবহেলা ও চরম গাফিলতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে।   শুধু তাই নয়, চাঞ্চল্যকর এই রায়ে মোরালেসের বাবা আর্নল্ড মোরালেস এবং মা সুজানা সালতো আলভারেজকেও দায়ী করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, তাদের সন্তানের বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর বিষয়ে পূর্ব সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও তারা সেটি পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন। এর আগে ঘণ্টায় ১০০ মাইলের বেশি বেগে গাড়ি চালানোর জন্য মোরালেসকে একবার জরিমানাও করা হয়েছিল। যদিও তার বাবা-মা আদালতে দাবি করেছিলেন যে তারা ওই জরিমানার বিষয়টি জানতেন না। তবে জুরি বোর্ড সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, মোরালেসের বাবা-মা তাদের সন্তানের অনিরাপদ ড্রাইভিং অভ্যাস সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত ছিলেন, কিন্তু তারা তাকে নিবৃত্ত করতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।   নিহত দম্পতির পরিবারের পক্ষে আইনি লড়াই করেছে 'কচেট, পিট্রে অ্যান্ড ম্যাকার্থি' ল ফার্ম। রায়ের পর প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী নিল ম্যাকার্থি এক বিবৃতিতে বলেন, "আমরা আশা করছি আজকের এই রায় বে এরিয়ার সব বাবা-মায়ের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। মোরালেস পরিবারের দায়িত্বহীন সিদ্ধান্তের কারণে আজ দুটি ছোট মেয়েকে তাদের বাবা-মা ছাড়া জীবন কাটাতে হচ্ছে।"   তিনি আরও বলেন, "বাবা-মায়ের দায়িত্ব কেবল সন্তানকে একটি গাড়ি কিনে দিয়ে চুপচাপ বসে থাকা নয়। সন্তানের আচরণে যখন সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন তাদের অবশ্যই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে এমন ট্র্যাজেডি এড়ানো সম্ভব নয়।"   দুর্ঘটনার পর সিজার মোরালেসের বিচার হয়েছিল শিশু আদালতে। সেখানে ভেহিকুলার ম্যানস্লটার বা বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মানুষ হত্যার দায়ে তাকে মাত্র ৯০ দিনের ইলেকট্রনিক হোম মনিটরিংয়ের সাজা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, রেসিংয়ে অংশ নেওয়া অপর চালক কাইল হ্যারিসনকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে গত বছর সান মাতেও কাউন্টির একটি কারাগারে বন্দি অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে জুরি বোর্ড এতিম দুই কন্যাশিশুকে অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ১৯ মিলিয়ন ডলার এবং তাদের মানসিক ও অন্যান্য অপূরণীয় ক্ষতির জন্য প্রত্যেকে ৭ মিলিয়ন করে আরও ১৪ মিলিয়ন ডলার প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ মিলিয়ন ডলার।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ২১:৭
কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ এখনো আইটি খাতে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে পারে, তবে চাকরির বাজারে বেড়েছে দক্ষতার গুরুত্ব। ছবি: সংগৃহীত

তিন-ছয় মাসের আইটি প্রশিক্ষণেই চাকরি, সেই পথ কি এখনো খোলা? এআই যুগে নতুনদের সামনে বড় প্রশ্ন

ডাইকমান এলাকায় দায়িত্বরত নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যদের জন্য খাবার ও পানীয় নিয়ে পৌঁছায় পিবিএ ক্যান্টিন। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ডিউটিতে থাকা নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যদের পাশে সহকর্মীরা, ডাইকমানে খাবার নিয়ে পিবিএ ক্যান্টিন

ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো হয়ে আবারও ফিরছেন জনি ডেপ

ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো হয়ে আবারও ফিরছেন জনি ডেপ? চলছে জোর আলোচনা

কিমকে খুশি করতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমাচ্ছেন ট্রাম্প I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
কিমকে খুশি করতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমাচ্ছেন ট্রাম্প

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বনির্ধারিত যৌথ সামরিক মহড়ায় মার্কিন অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি এই মহড়ার পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্প মনে করেন, এই সামরিক মহড়া উত্তর কোরিয়ার প্রতি একটি অযৌক্তিক ও বৈরী বার্তা দেয়, যা তার বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার অত্যন্ত ভালো সম্পর্কের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে এই সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়ার দীর্ঘদিনের সিদ্ধান্তে তিনি মোটেও খুশি নন।   তিনি আরও জানান, এই মহড়াগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বরাবরের মতো এর বেশিরভাগ খরচ যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হয়। ট্রাম্প দাবি করেন, তার শাসনামলে উত্তর কোরিয়া কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল না এবং তারা যথেষ্ট সম্মানজনক আচরণ করেছে; তাই এই মহড়া তাদের প্রতি একটি সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত সংকেত দেয়। তবে মহড়াটি পুরোপুরি বাতিল করতে অনেক দেরি হয়ে গেছে জানিয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে এর আকার ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার’ নির্দেশ দিয়েছেন।   সোমবার থেকে শুরু হওয়া ১১ দিনব্যাপী এই মহড়ার নাম 'উলচি ফ্রিডম শিল্ড'। পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া ও তাদের মার্কিন মিত্ররা নিয়মিত এই গ্রীষ্মকালীন মহড়ার আয়োজন করে থাকে। তবে পিয়ংইয়ং সবসময়ই এই ধরনের মহড়ার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আগ্রাসনের প্রস্তুতি বা 'ড্রেস রিহার্সাল' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।   মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার কম্বাইন্ড ফোর্সেস কমান্ডের মুখপাত্র কর্নেল রায়ান ডোনাল্ড গত সোমবার জানিয়েছিলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনকারী উত্তর কোরিয়ার সেনাদের মোকাবিলা করার কৌশল নিয়েই এই মহড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এতে ড্রোন যুদ্ধ, জিপিএস ব্যাঘাত এবং সাইবার হামলার মতো বিষয়গুলোতে বিশেষ জোর দেওয়ার কথা ছিল।   উল্লেখ্য, এই মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার ১৮ হাজার এবং দেশটিতে মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ হাজার ৫০০ সেনার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।   নিজের প্রথম মেয়াদে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের লক্ষ্যে কিম জং উনের সঙ্গে ঐতিহাসিক সরাসরি আলোচনায় বসেছিলেন ট্রাম্প, যদিও শেষ পর্যন্ত ওই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। ২০১৯ সালে তাদের শেষবার সামনাসামনি দেখা হয়েছিল।   অন্যদিকে, ২০২৫ সালের জুনে ক্ষমতা গ্রহণের পর দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং তার পূর্বসূরির কট্টরপন্থী অবস্থান থেকে সরে এসে পিয়ংইয়ংকে নিঃশর্ত আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও তার এই আহ্বানে কোনো সাড়া দেয়নি। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ কোনো শান্তিচুক্তির বদলে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হওয়ায়, প্রযুক্তিগত ও আইনগতভাবে দুই কোরিয়া এখনও যুদ্ধাবস্থাতেই রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৯:২৮
২৬ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন মা-মেয়ে, ছাড়লেন না ২০০ বছরের পুরোনো পৈতৃক জমি

এআই ডাটা সেন্টারের জন্য মেটার ২৬ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন কেনটাকির মা-মেয়ে

দ্বন্দ্ব ভুলে ফের একজোট ট্রাম্প-মাস্ক, মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য ১২ কোটি ডলার দিচ্ছেন ইলন

দ্বন্দ্ব ভুলে ফের একজোট ট্রাম্প-মাস্ক, মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য ১২ কোটি ডলার দিচ্ছেন ইলন

নিউইয়র্কে বিনা বেতনে কাজ করিয়ে ১০ লাখ ডলার মজুরি আত্মসাতের অভিযোগ, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে মামলা

নিউইয়র্কে বিনা বেতনে কাজ করিয়ে ১০ লাখ ডলার মজুরি আত্মসাতের অভিযোগ, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে মামলা

0 Comments