জর্জিয়ায় বাড়ির দেয়াল ভেঙে প্রতিবেশীর ঘরে ঢুকে কিশোরীর ওপর হামলা ও ধর্ষণের হুমকি, গ্রেপ্তার যুবক
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে পাশের অ্যাপার্টমেন্টের দেয়াল ভেঙে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর ঘরে ঢুকে হামলার অভিযোগে ২৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, হামলার সময় কিশোরীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয় এবং একাধিকবার আঘাত করা হয়। ঘটনার সময় ঘরে ৫ ও ৭ বছর বয়সী আরও দুই শিশু ছিল।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ওবেদ রেয়েস। ৫ আগস্ট রাতে জর্জিয়ার গেইনসভিলে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে ঘটনাটি ঘটে। গেইনসভিল পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রেয়েস তার নিজের অ্যাপার্টমেন্টের একটি আলমারির পাশের দেয়ালে বড় একটি গর্ত করে পাশের ইউনিটে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি কিশোরীর ওপর হামলা চালান।
পুলিশের বরাতে নিউইয়র্ক পোস্ট ও পিপল জানিয়েছে, রেয়েস যে দেয়াল ভেঙেছিলেন সেটি দুই অ্যাপার্টমেন্টের মাঝখানে ছিল। দেয়ালটি ভেঙে তিনি পাশের ইউনিটের একটি আলমারিতে ঢোকেন। ওই সময় কিশোরী সেখানে দুই ছোট শিশুর সঙ্গে ছিল।
পুলিশের অভিযোগ, ঘরে ঢোকার পর রেয়েস কিশোরীকে ধরে ফেলেন এবং তাকে একাধিকবার ঘুষি মারেন। এ সময় তাকে ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়। কিশোরী নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে একপর্যায়ে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে ভবনের বাইরের চলাচলের পথে চলে আসতে সক্ষম হয়।
তবে পুলিশ বলছে, রেয়েস তাকে চুল ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিশোরীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং দ্রুত ৯১১-এ ফোন করেন। পুলিশ রাত ১০টার কিছু আগে ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলা চলমান অবস্থায় রেয়েসকে দেখতে পায়। পরে কর্মকর্তারা তাকে কিশোরীর কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে গ্রেপ্তার করেন।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুই অ্যাপার্টমেন্টের মাঝের দেয়ালে তৈরি হওয়া বড় গর্তের ছবিও প্রকাশ করেছে। ছবিতে দেয়ালের ভাঙা অংশ দিয়ে পাশের ইউনিটে প্রবেশের পথ তৈরি হওয়ার বিষয়টি দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই গর্ত ব্যবহার করেই রেয়েস পাশের অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকেছিলেন বলে তাদের তদন্তে উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় রেয়েসের বিরুদ্ধে চুরি বা অবৈধভাবে প্রবেশ, গুরুতর হামলা, ধর্ষণের চেষ্টা, অপহরণ এবং শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একটি অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে। তবে তার অভিবাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আদালতের নথি অনুযায়ী, রেয়েসকে হল কাউন্টি কারাগারে কোনো জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ফলে আইনগতভাবে তিনি অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত এবং মামলার পরবর্তী ধাপে আদালতে এসব অভিযোগের বিচার হবে।
গেইনসভিল পুলিশ প্রধান জে প্যারিশ ঘটনায় দ্রুত ৯১১-এ ফোন করা প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, আশপাশের মানুষের দ্রুত প্রতিক্রিয়ার কারণেই পুলিশ সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আরও ক্ষতি ঠেকাতে পেরেছে।
পুলিশ প্রধান আরও বলেন, ‘কিছু দেখলে জানানো’ ধরনের নাগরিক সচেতনতা একটি কমিউনিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার মতে, ঘটনাটি থেকে বোঝা যায়, সন্দেহজনক বা বিপজ্জনক পরিস্থিতি চোখে পড়লে দ্রুত জরুরি সেবায় খবর দেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিশোরী এই ঘটনার পর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ও শারীরিক পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনের মুখোমুখি হতে পারে। পুলিশ প্রধান তার প্রতি কমিউনিটির সমর্থন কামনা করেছেন।
ঘটনাটি গেইনসভিলে আবাসিক ভবনের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিবেশী ইউনিটের মধ্যে থাকা দেয়াল ভেঙে একজন ব্যক্তি অন্য অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করতে পারার বিষয়টি বাসিন্দাদের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে দেয়ালটি কীভাবে ভাঙা হয়েছিল এবং ভবনটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
পুলিশের তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়া এখনো চলমান। অভিযোগ প্রমাণিত হলে রেয়েসকে গুরুতর ফৌজদারি মামলায় শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে সবার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যবিমা চালুর প্রস্তাব ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ এখন আর সমর্থন করেন না বলে জানিয়েছেন হাউসের ডেমোক্রেটিক নেতা হাকিম জেফরিস। একই সঙ্গে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা বা ডিএসএর ঘোষিত কর্মসূচির প্রতিও সমর্থন নেই বলে স্পষ্ট করেছেন নিউইয়র্কের এই ডেমোক্র্যাট নেতা। রোববার এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান জানান জেফরিস। একসময় ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ বিলের সহ-উদ্যোক্তা থাকলেও বর্তমানে তিনি এই প্রস্তাবের পক্ষে নেই বলে জানান। জেফরিস বলেন, বর্তমানে তিনি ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ সংক্রান্ত কোনো আইনের সহ-উদ্যোক্তা নন এবং এটি সমর্থনও করেন না। ওয়েলকার তাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই প্রস্তাব সমর্থন করেন কি না। জবাবে জেফরিস তার বর্তমান অবস্থান অপরিবর্তিত রেখে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কংগ্রেসে উত্থাপিত ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ আইনগুলোতে তিনি সহ-উদ্যোক্তা হননি এবং বর্তমানে এগুলো সমর্থন করছেন না। ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ মূলত যুক্তরাষ্ট্রে একক সরকারি স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা চালুর একটি প্রস্তাব। এর আওতায় অধিকাংশ বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমার পরিবর্তে সরকার পরিচালিত একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে সব নাগরিককে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবটির সমর্থকেরা মনে করেন, এতে সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যক্তির নিজস্ব চিকিৎসা ব্যয় ও বেসরকারি বিমা ব্যবস্থার প্রশাসনিক খরচ কমতে পারে। সমালোচকেরা অবশ্য এর সম্ভাব্য বিপুল সরকারি ব্যয়, কর বাড়ার ঝুঁকি এবং বর্তমান চাকরিভিত্তিক স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থায় পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জেফরিসের অবস্থান পরিবর্তন ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরের মতপার্থক্যকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। দলের প্রগতিশীল অংশের কাছে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। অন্যদিকে জেফরিসসহ দলের মধ্যপন্থী নেতারা স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমানো এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। জেফরিস ডিএসএর কর্মসূচি থেকেও নিজেকে দূরে রেখেছেন। ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল রাজনীতিতে প্রভাব বাড়িয়েছে। বিভিন্ন প্রাথমিক নির্বাচনে সংগঠনটির সমর্থিত বা সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের সাফল্যও দলের মধ্যপন্থী ও প্রগতিশীল অংশের মধ্যে বিতর্ক বাড়িয়েছে। জেফরিস বলেন, ডেমোক্রেটিক ককাসে প্রগতিশীল, মধ্যপন্থী ও ব্লু ডগ ডেমোক্র্যাটদের মতো বিভিন্ন মতের মানুষ রয়েছেন। তবে ডিএসএ নিজে যে কর্মসূচি তুলে ধরেছে, তিনি সেটি সমর্থন করেন না। তার মতে, ডেমোক্র্যাটদের এখন মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার বাড়তি খরচকে তিনি সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে জেফরিস ‘মেডিকেয়ার ফর অল’-এর পরিবর্তে বিদ্যমান ব্যবস্থায় খরচ কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মেডিকেইডে রিপাবলিকানদের করা কাটছাঁট ফিরিয়ে নেওয়া এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যবিমা আইন বা অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের করছাড় বাড়ানোর পক্ষে কথা বলেছেন। স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে জেফরিসের বর্তমান অবস্থান তার আগের ভূমিকার তুলনায় ভিন্ন। তিনি ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ বিলের সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন। তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বে আসার পর সাম্প্রতিক সংস্করণগুলোর সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেননি। জেফরিসের সঙ্গে স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে প্রকাশ্য মতপার্থক্যও দেখিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্না। পৃথক এক সাক্ষাৎকারে খান্না বলেন, তিনি ‘মেডিকেয়ার ফর অল’কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রাধিকার হিসেবে দেখেন। তার দাবি, এই ব্যবস্থা স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ বিতর্ক শুধু স্বাস্থ্যসেবা নিয়েই সীমাবদ্ধ নয়। অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থা আইস বা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বিলুপ্ত করার দাবিতেও দলের প্রগতিশীল অংশের সঙ্গে জেফরিসের মতপার্থক্য রয়েছে। জেফরিস আইস পুরোপুরি বিলুপ্ত করার পক্ষে নন। তবে তিনি সংস্থাটির ব্যাপক সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত, মানবিক ও যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বর্তমানে আইসের কার্যক্রম ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে গেছে। এর আগে জেফরিস ও সিনেটের ডেমোক্রেটিক নেতা চাক শুমার আইসের কার্যক্রমে বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এর মধ্যে অভিবাসন কর্মকর্তাদের মুখ ঢেকে কাজ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা, দৃশ্যমান পরিচয়পত্র বহনের বাধ্যবাধকতা, স্কুল ও গির্জার কাছে অভিযান সীমিত করা, কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পরিধি বাড়ানো এবং বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়ম আরোপের প্রস্তাব ছিল। জেফরিসের এই বক্তব্যের ঠিক এক দিন আগে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির সদস্যরা আইস বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। একই সময়ে আইস সংস্কারের পক্ষে আরেকটি প্রস্তাবও বেশি ব্যবধানে অনুমোদিত হয়। ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির চেয়ার কেন মার্টিন অবশ্য মনে করিয়ে দিয়েছেন, দলের আনুষ্ঠানিক নীতিমালা প্রতি চার বছর পর জাতীয় সম্মেলনে নির্ধারিত হয়। জেফরিসের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ডেমোক্রেটিক পার্টি আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলের ভেতরের মতপার্থক্য সামলে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা আবারও হাউসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাবে। এজন্য অন্তত ২১৮টি আসন জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দল কাজ করছে বলেও জানান তিনি। তার বক্তব্যে মূল বার্তা ছিল, ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়টি রাখা উচিত। স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলোর কাছে দলকে বাস্তবসম্মত সমাধান তুলে ধরতে হবে বলে মনে করেন তিনি। অন্যদিকে, ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশ মনে করে, বিদ্যমান ব্যবস্থার ছোটখাটো সংস্কারের বদলে স্বাস্থ্যসেবা ও অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার। ফলে জেফরিসের বর্তমান অবস্থান দলের মধ্যপন্থী নেতৃত্ব ও প্রগতিশীল ঘরানার মধ্যে নীতিগত দূরত্বের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এ অবস্থায় ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ থেকে সরে আসা এবং ডিএসএর কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করে জেফরিস কার্যত ডেমোক্রেটিক পার্টির একটি মধ্যপন্থী অবস্থানই সামনে এনেছেন। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অবস্থান দলকে বৃহত্তর ভোটারগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে কতটা সহায়তা করবে, সেটিই এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অন্যতম আগ্রহের বিষয়।
জর্জিয়ায় বাড়ির দেয়াল ভেঙে প্রতিবেশীর ঘরে ঢুকে কিশোরীর ওপর হামলা ও ধর্ষণের হুমকি, গ্রেপ্তার যুবক
‘অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়’: র্যান্ডি ফাইন
ক্যালিফোর্নিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা হারিয়ে এতিম দুই মেয়ে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে পেল ৩৩ মিলিয়ন ডলার
কয়েক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে আইটি খাতে ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণকে অনেকেই দ্রুত চাকরিতে প্রবেশের একটি কার্যকর পথ হিসেবে দেখতেন। ডেভেলপমেন্ট, কিউএ, সাইবার সিকিউরিটি কিংবা ডেটাবেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতো ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক নতুন অভিবাসী ও ক্যারিয়ার পরিবর্তনকারী মূলধারার চাকরিতে প্রবেশ করেছেন। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত বিস্তার, প্রযুক্তি খাতে নিয়োগের পরিবর্তন এবং সাম্প্রতিক চাকরির বাজারের অস্থিরতা সেই পথকে আগের তুলনায় অনেক কঠিন করে তুলেছে। তবে এই অর্থে আইটি খাতে চাকরির সুযোগ শেষ হয়ে যাচ্ছে এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সফটওয়্যার ডেভেলপার, কিউএ অ্যানালিস্ট ও সফটওয়্যার টেস্টারদের চাকরি সম্মিলিতভাবে ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে। একই সময়ে আইটি সিকিউরিটি এনালিস্টদের চাকরি বাড়ার পূর্বাভাস ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রযুক্তি খাতের চাহিদা থাকছে, কিন্তু কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা থাকবে এবং একজন নতুন কর্মী সেই চাহিদার সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। প্রায় পাঁচ বছর আগের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের পার্থক্যটি নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে তুলে ধরেছেন ভার্জিনিয়ায় বসবাসকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইটি পেশাজীবী। তিনি জানান, তখন তিন থেকে চার মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই ডেভেলপার, সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ডেটাবেস সংশ্লিষ্ট কাজে প্রবেশের সুযোগ পেতেন। অনেকেই সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আইটি খাতে মূলধারার চাকরিতে ঢুকে পরে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তার মতে, সেই সময়ে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ অনেকের জন্য আইটি ক্যারিয়ারে প্রবেশের দরজা খুলে দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক চাকরির বাজারের অস্থিরতায় সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন শুধু নতুনদের জন্য নয়, আগে থেকেই কয়েক বছর অভিজ্ঞতা থাকা এবং ছাঁটাইয়ের কারণে চাকরি হারানো অনেক পেশাজীবীর জন্যও নতুন চাকরিতে ফিরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ভার্জিনিয়ার ওই পেশাজীবী মনে করেন, নতুনদের জন্য এখন শুধু একটি প্রশিক্ষণ শেষ করাই যথেষ্ট নয়। যে ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ নেওয়া হচ্ছে, সেই পদের বর্তমান চাহিদা, এআইয়ের প্রভাব এবং প্রশিক্ষণ শেষে বাস্তবে কী ধরনের কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো আগে বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। নিউইয়র্কের জিসান নামের এক ব্যক্তি এই পরিবর্তনের আরেকটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসার পর তিনি অন্যদের কাছ থেকে শুনেছিলেন, মাত্র কয়েক মাসের আইটি প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকে নিয়মিত চাকরিতে ঢুকেছেন। কেউ ডেভেলপার, কেউ সিকিউরিটি সংশ্লিষ্ট কাজে গেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনিও আইটি পেশায় প্রবেশের জন্য প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষ করেও অবশ্য তিনি চাকরি পাননি। জিসান জানান, প্রায় এক বছর ধরে চাকরির চেষ্টা করছেন, কিন্তু এখনো কাঙ্ক্ষিত আইটি চাকরি পাননি। ফলে প্রশিক্ষণ শেষ করার পরও চাকরি না পাওয়ার অনিশ্চয়তা তাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। জিসানের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ এখন আর চাকরিতে প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়। বিশেষ করে কোনো বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা ছাড়া নতুন প্রার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতার মাত্রা বেড়েছে। জর্জিয়ার আতিকের অভিজ্ঞতাও একই পরিবর্তনের আরেকটি দিক তুলে ধরে। তিন থেকে চার মাসের প্রশিক্ষণের পর তিনি আইটি খাতে চাকরিতে ঢুকেছিলেন। কিছুদিন কাজ করার পর প্রায় এক বছর আগে সেই চাকরি চলে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করেও আর আইটি চাকরিতে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে তিনি অ্যামাজনের ডেলিভারি ড্রাইভার হিসেবে কাজ করছেন। তিনটি অভিজ্ঞতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। আগে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণকে আইটিতে প্রবেশের দরজা হিসেবে দেখা গেলেও এখন প্রশিক্ষণ, চাকরি এবং চাকরি ধরে রাখার বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান বেড়েছে। এর পেছনে এআইয়ের প্রভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এআই অনেক পুনরাবৃত্তিমূলক ও নিয়মভিত্তিক কাজ দ্রুত করতে পারছে। ফলে নিয়োগদাতারা শুধু নির্দিষ্ট একটি প্রযুক্তি জানেন এমন কর্মীর বদলে এমন প্রার্থী খুঁজছেন, যিনি প্রযুক্তির পাশাপাশি সমস্যা বিশ্লেষণ, স্বয়ংক্রিয়করণ, এআই ব্যবহার এবং বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানে সক্ষম। তবে প্রযুক্তি খাত নিয়ে পুরোপুরি হতাশ হওয়ার কারণও নেই। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, এআই ও অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার কিছু পেশায় কর্মসংস্থান কমাতে পারে, আবার অন্য অনেক পেশায় নতুন কর্মসংস্থানের চাহিদা তৈরি করতে পারে। তথ্য নিরাপত্তা, ডেটা সায়েন্স এবং সফটওয়্যার উন্নয়নের মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে আগামী দশকেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে।
দীর্ঘ ডিউটিতে থাকা নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যদের পাশে সহকর্মীরা, ডাইকমানে খাবার নিয়ে পিবিএ ক্যান্টিন
ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো হয়ে আবারও ফিরছেন জনি ডেপ? চলছে জোর আলোচনা
কিমকে খুশি করতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমাচ্ছেন ট্রাম্প
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডাটা সেন্টার তৈরির জন্য বিপুল অঙ্কের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে খবরের শিরোনামে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির দুই সাধারণ নারী কৃষক। প্রায় ২৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন (২ কোটি ৬৪ লাখ) মার্কিন ডলারের চোখ ধাঁধানো প্রস্তাব পাওয়ার পরও নিজেদের ২০০ বছরের পুরোনো পারিবারিক কৃষিজমিতে এআই হাব গড়ে তুলতে দিতে সাফ অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মা ও মেয়ে। সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেলসিয়া বেয়ার এবং তাঁর মা ইদা হাডলস্টন শুরুতে জমি বিক্রিতে রাজি হয়েছিলেন। তবে যখনই জানতে পারেন যে সেখানে এআই বট পরিচালনার জন্য ডাটা সেন্টার তৈরি করা হবে, তখনই তারা তাৎক্ষণিকভাবে চুক্তি বাতিল করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় অন্ধ ডেলসিয়া বেয়ারের ৪৬৩ একর জমির জন্য প্রতি একরে ৪৮ হাজার ডলার এবং লাঠিতে ভর দিয়ে চলা তাঁর মা ইদার ৭১ একর জমির জন্য একরপ্রতি ৬০ হাজার ডলার—সব মিলিয়ে ২৬ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল নাম প্রকাশ না করা একটি এআই কোম্পানি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রযুক্তি জায়ান্ট 'মেটা'র সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে চুক্তি বাতিলের পর ডেলসিয়া কোম্পানিটির প্রতিনিধিদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তারা যেন আর কখনো ফিরে না আসেন। জমি বিক্রি না করার বিষয়ে ডেলসিয়া জানান, কেবল একটি এআই হাব তৈরির জন্য পারিবারিক জমি ছেড়ে দিলে পরকালে বা বিচার দিবসে তাকে স্রষ্টার কাছে জবাবদিহি করতে হতে পারে—এমন নৈতিক ও ধর্মীয় অনুভূতি থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে ডাটা সেন্টার নির্মাণকে কেন্দ্র করে মেসভিল শহরের বাসিন্দারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় অনেকেই সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা চিন্তা করে কোটি কোটি ডলারের বিনিময়ে নিজেদের জমি বিক্রি করতে রাজি হয়েছেন। তবে ডেলসিয়াসহ এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা পর্যন্ত দায়ের করেছেন। এই বিষয়ে মেটা জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে প্রকল্পের বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সাধারণ কৃষক হয়েও বিশাল অঙ্কের অর্থের মোহ ত্যাগ করে প্রযুক্তি পরাশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার এই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দ্বন্দ্ব ভুলে ফের একজোট ট্রাম্প-মাস্ক, মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য ১২ কোটি ডলার দিচ্ছেন ইলন
নিউইয়র্কে বিনা বেতনে কাজ করিয়ে ১০ লাখ ডলার মজুরি আত্মসাতের অভিযোগ, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে মামলা