সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ঢাকা থেকে মহাবিশ্বের গভীরে: বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা লামিয়া মওলার জ্যোতির্বিজ্ঞানে অসাধারণ অগ্রযাত্রা

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১০:৪৩
ঢাকার মেয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েলেসলি কলেজের জ্যোতির্বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ড. লামিয়া মওলা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মহাবিশ্বের গ্যালাক্সি নিয়ে গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার মেয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েলেসলি কলেজের জ্যোতির্বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ড. লামিয়া মওলা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মহাবিশ্বের গ্যালাক্সি নিয়ে গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

নুরুল্লাহ সাঈদ । আমেরিকা বাংলা
 

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বেড়ে ওঠা এক তরুণী এখন মহাবিশ্বের আদি গ্যালাক্সি, নক্ষত্রের জন্ম এবং ছায়াপথের বিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষণায় যুক্ত। তিনি লামিয়া মওলা। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েলেসলি কলেজের জ্যোতির্বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক এই বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া বিজ্ঞানী জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের তথ্য ব্যবহার করে প্রাচীন মহাবিশ্বের একটি নবীন গ্যালাক্সি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছেন। ২০২৪ সালে তাঁর সহলেখকত্বে প্রকাশিত গবেষণাটি বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে স্থান পায়। বর্তমানে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপকে ঘিরে নতুন বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানেও তাঁর আগ্রহ ও সম্পৃক্ততা রয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষাজীবন ও অভিজ্ঞতা থেকে আন্তর্জাতিক গবেষণায় পৌঁছানোর এই পথচলা তাঁকে বাংলাদেশি পাঠকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত করে তুলেছে।

 

ঢাকার আকাশ থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথে

লামিয়া মওলার জীবনের গল্পের একটি বিশেষ দিক হলো, ছোটবেলায় আকাশের তারা দেখা তাঁর নিয়মিত অভিজ্ঞতা ছিল না। ওয়েলেসলি কলেজের ২০২৬ সালের একটি ফিচারে তিনি জানিয়েছেন, ঢাকায় বেড়ে ওঠার সময় শহরের ধোঁয়া ও কৃত্রিম আলোর কারণে আকাশে তারা দেখার স্মৃতি তাঁর খুব একটা নেই। যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে পড়তে যাওয়ার পর তাঁর সামনে খুলে যায় এক নতুন জগৎ। ওয়েলেসলি কলেজের পর্যবেক্ষণাগারে টেলিস্কোপের মাধ্যমে মহাকাশ দেখার অভিজ্ঞতা তাঁকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট করে।

 

মজার বিষয় হলো, কলেজে ভর্তি হওয়ার সময় তাঁর পরিকল্পনা ছিল স্নায়ুবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার। কিন্তু প্রথম সেমিস্টারে স্নায়ুবিজ্ঞানের একটি প্রাথমিক কোর্সে ভর্তি হতে না পেরে তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানের একটি ক্লাসে অংশ নেন। নক্ষত্রের জীবনচক্র, সুপারনোভা এবং কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কে জানার পর বিষয়টির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। সেই আগ্রহই ধীরে ধীরে তাঁর শিক্ষাজীবনের গতিপথ বদলে দেয়। পরে তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানের গবেষণায় মনোনিবেশ করেন এবং পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণাকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন।

 

ওয়েলেসলি কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করার পর লামিয়া ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করেন এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানে পিএইচডি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ওয়েলেসলি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র মহাবিশ্বের প্রাথমিক পর্যায়ে গ্যালাক্সির গঠন ও বিবর্তন। এ জন্য তিনি হাবল ও জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণ এবং মহাজাগতিক সিমুলেশন ব্যবহার করেন।

 

ফায়ারফ্লাই স্পার্কল: মহাবিশ্বের শৈশবের এক ঝলক

লামিয়া মওলার গবেষণাকর্মের আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি হলো ‘ফায়ারফ্লাই স্পার্কল’ নামের একটি নবীন গ্যালাক্সি। ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে তিনি সহপ্রধান লেখক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। নাসা, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এবং কানাডীয় মহাকাশ সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের তথ্য ব্যবহার করে গবেষকেরা গ্যালাক্সিটির গঠন ও তারাগুচ্ছগুলো বিশ্লেষণ করেন।

 

গবেষণায় দেখা যায়, ফায়ারফ্লাই স্পার্কল এমন এক সময়ের গ্যালাক্সি, যখন বিগ ব্যাংয়ের পর মহাবিশ্বের বয়স ছিল আনুমানিক ৬০ কোটি বছর। অর্থাৎ, আজকের মহাবিশ্বের তুলনায় এটি অত্যন্ত প্রাচীন এক সময়ের দৃশ্য তুলে ধরে। গ্যালাক্সিটিতে ১০টি ঘন তারাগুচ্ছ শনাক্ত করা হয়, যেগুলোর বৈশিষ্ট্য গবেষকেরা বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করেন। গ্যালাক্সিটির ভরও এমন পর্যায়ের ছিল, যা একই বয়সে আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির সম্ভাব্য ভরের সঙ্গে তুলনীয়।

 

এই আবিষ্কারের গুরুত্ব বোঝার জন্য মনে রাখতে হবে, দূরবর্তী গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণ মানে আসলে অতীতের দিকে তাকানো। আলো আমাদের কাছে পৌঁছাতে সময় নেয়। তাই বহু কোটি আলোকবর্ষ দূরের কোনো গ্যালাক্সির আলো বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের অতীতের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারেন। ফায়ারফ্লাই স্পার্কলের মতো গ্যালাক্সি গবেষকদের দেখার সুযোগ দেয়, মহাবিশ্বের প্রাথমিক পর্যায়ে ছোট ছোট তারাগুচ্ছ কীভাবে একত্রিত হচ্ছিল এবং সময়ের সঙ্গে গ্যালাক্সি কীভাবে বিকশিত হতে পারে।

 

গবেষণাটিতে লামিয়া ও তাঁর সহকর্মীরা গ্যালাক্সিটির বিভিন্ন অংশ আলাদাভাবে শনাক্ত করে বিশ্লেষণ করেন। এত প্রাচীন একটি গ্যালাক্সিকে একাধিক স্বতন্ত্র তারাগুচ্ছের সমন্বয়ে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হওয়া বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে গ্যালাক্সি গঠনের প্রাথমিক পর্যায় সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। তবে এই একটি গবেষণাই মিল্কিওয়ের জন্ম ও বিবর্তনের সব প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। বরং এটি মহাবিশ্বের প্রাথমিক ইতিহাস বোঝার জন্য নতুন পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ তৈরি করেছে।

 

জেমস ওয়েবের তথ্য থেকে নতুন সম্ভাবনা

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও প্রাচীন বস্তু পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর শক্তিশালী ইনফ্রারেড যন্ত্রের সাহায্যে এমন সব গ্যালাক্সি দেখা সম্ভব হচ্ছে, যেগুলো থেকে আসা আলো মহাবিশ্বের প্রসারণের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে তরঙ্গদৈর্ঘ্যে পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে মহাবিশ্বের প্রাথমিক পর্যায়ের গ্যালাক্সি, নক্ষত্রের জন্ম এবং গ্যালাক্সির বিবর্তন নিয়ে বিজ্ঞানীরা নতুন তথ্য পাচ্ছেন।

 

লামিয়া মওলার গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি শুধু দূরবর্তী গ্যালাক্সির ছবি বিশ্লেষণ করেন না; সেই ছবির মধ্যে থাকা বিভিন্ন কাঠামোর ভৌত বৈশিষ্ট্য বোঝার চেষ্টা করেন। একটি গ্যালাক্সির ভর, তারাগুচ্ছের বিন্যাস এবং নক্ষত্র গঠনের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা অনুমান করতে পারেন, প্রাথমিক মহাবিশ্বে গ্যালাক্সি কীভাবে বেড়ে উঠেছিল। এসব পর্যবেক্ষণ মহাবিশ্বের বিবর্তন সম্পর্কে বিদ্যমান তাত্ত্বিক মডেল পরীক্ষা করতেও সাহায্য করে।

 

ফায়ারফ্লাই স্পার্কল নিয়ে গবেষণা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানজগতে আলোচনার জন্ম দেয়। তবে এই গবেষণার গুরুত্ব শুধু একটি নতুন গ্যালাক্সি শনাক্ত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেখায়, উন্নত টেলিস্কোপের মাধ্যমে মহাবিশ্বের প্রাচীনতম পর্যায়ের বস্তুগুলোকে আরও বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি গ্যালাক্সি বিশ্লেষণ করা গেলে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারবেন, ফায়ারফ্লাই স্পার্কলের মতো গ্যালাক্সি কতটা সাধারণ ছিল এবং সেগুলো কীভাবে পরবর্তী সময়ের বৃহৎ ছায়াপথে পরিণত হয়েছে।

 

রোমান স্পেস টেলিস্কোপ নিয়ে নতুন প্রত্যাশা

মহাবিশ্ব গবেষণার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। নাসার এই পর্যবেক্ষণাগারটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে একবারে আকাশের অনেক বড় অংশ পর্যবেক্ষণ করা যায়। এর ওয়াইড ফিল্ড ইনস্ট্রুমেন্ট হাবল স্পেস টেলিস্কোপের তুলনায় অন্তত ১০০ গুণ বড় আকাশের এলাকা দেখতে সক্ষম। এর ফলে বিশাল পরিসরে গ্যালাক্সি, গ্রহ এবং মহাবিশ্বের গঠন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

 

রোমান স্পেস টেলিস্কোপ ২০২৬ সালের ৩০ আগস্ট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। উৎক্ষেপণের পর থেকে মহাকাশযানটির যন্ত্রপাতি পরীক্ষা, ক্যালিব্রেশন এবং পর্যবেক্ষণের প্রস্তুতি চলছে। নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, টেলিস্কোপটির প্রথম ছবি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে প্রকাশের প্রত্যাশা রয়েছে। ফলে এখনো এর পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের ফলাফল সামনে আসেনি।

 

লামিয়া মওলা তাঁর পেশাগত যোগাযোগমাধ্যমে রোমান টেলিস্কোপের প্রথম ছবিগুলো বিশ্লেষণকারী গবেষকদের একজন হতে পারার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে তাঁর নির্দিষ্ট গবেষণার ভূমিকা এবং কোন পর্যবেক্ষণ প্রকল্পে তিনি কাজ করবেন, সে সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতে বক্তব্য দেওয়া জরুরি। রোমান মিশন নাসার একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ; একে কোনো একজন গবেষকের ব্যক্তিগত প্রকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

 

রোমান টেলিস্কোপের বড় সুবিধা হলো, এটি অল্প সময়ে আকাশের বিশাল অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এর মাধ্যমে কোটি কোটি মহাজাগতিক বস্তুর তথ্য সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে। বিজ্ঞানীরা এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে অন্ধকার শক্তি, গ্যালাক্সির গঠন, বহির্গ্রহ এবং মহাবিশ্বের বিবর্তন সম্পর্কে নতুন প্রশ্নের উত্তর খুঁজবেন। লামিয়ার মতো পর্যবেক্ষণভিত্তিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য এ ধরনের তথ্য ভবিষ্যতের গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

 

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণার সুযোগ

লামিয়া মওলার পরিচয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর গবেষণাগত সংযোগ। তিনি বাংলাদেশের ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকসের সহযোগী সদস্য। ২০২৪ সালে ফায়ারফ্লাই স্পার্কল নিয়ে গবেষণা প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়টি তাঁর অবদান তুলে ধরে। এই সংযোগ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণার সুযোগ সম্পর্কে আগ্রহ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।

 

আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান এখন আর শুধু বড় টেলিস্কোপের মাধ্যমে ছবি তোলার বিষয় নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে জটিল গাণিতিক বিশ্লেষণ, কম্পিউটার সিমুলেশন, বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং আন্তর্জাতিক গবেষক দলের সহযোগিতা। ফলে পদার্থবিজ্ঞান, গণিত, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও পরিসংখ্যানের শিক্ষার্থীদের জন্যও এই ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পর্যবেক্ষণ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে মহাবিশ্বের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন ধারণা তৈরি করা এখন গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

 

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণার সুযোগ বাড়ানো, শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণের দক্ষতা তৈরি করা এই ক্ষেত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। লামিয়া মওলার পথচলা দেখায়, একজন শিক্ষার্থী আগ্রহ ও উপযুক্ত সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষণায় অবদান রাখতে পারেন। তাঁর অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সামনে জ্যোতির্বিজ্ঞানকে পেশা হিসেবে বিবেচনা করার একটি বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরে।

 

সাফল্যের গল্পের আড়ালে রয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সাফল্য সাধারণত একদিনে আসে না। এর পেছনে থাকে দীর্ঘ শিক্ষাজীবন, গবেষণার পদ্ধতি শেখা, তথ্য বিশ্লেষণের দক্ষতা তৈরি এবং সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা। লামিয়া মওলার ক্ষেত্রেও তাঁর স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি, পর্যবেক্ষণাগারে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তী গবেষণার ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

 

তাঁর গল্পের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিনি শুরু থেকেই জ্যোতির্বিজ্ঞানকে নিজের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেননি। কলেজে ভর্তি হওয়ার সময় স্নায়ুবিজ্ঞানে আগ্রহী থাকা একজন শিক্ষার্থী পরে জ্যোতির্বিজ্ঞানে নিজের পথ খুঁজে পান। নতুন বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, প্রশ্ন করা এবং আগ্রহের জায়গা আবিষ্কার করার এই অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে।

 

বাংলাদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা একজন গবেষক হিসেবে লামিয়া মওলার আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক অবদান গর্বের বিষয়। তবে তাঁর সাফল্যের প্রকৃত মূল্যায়ন করতে হলে শুধু নামী প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নয়, গবেষণায় তাঁর নির্দিষ্ট অবদানও তুলে ধরা দরকার। ফায়ারফ্লাই স্পার্কল নিয়ে গবেষণায় তাঁর ভূমিকা, জেমস ওয়েবের তথ্য ব্যবহার এবং গ্যালাক্সির গঠন ও বিবর্তন বোঝার প্রচেষ্টা তাঁর কাজের বাস্তব গুরুত্ব তুলে ধরে।

 

ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবন থেকে মহাবিশ্বের প্রাচীন গ্যালাক্সি নিয়ে গবেষণা, লামিয়া মওলার এই যাত্রা বাংলাদেশের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক। তাঁর কাজ মনে করিয়ে দেয়, বিজ্ঞান এগিয়ে যায় কৌতূহল, প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধান এবং নতুন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মধ্য দিয়ে। মহাবিশ্বের শৈশৎকালীন গ্যালাক্সি নিয়ে তাঁর গবেষণা যেমন আমাদের অতীতকে বুঝতে সাহায্য করছে, তেমনি রোমান স্পেস টেলিস্কোপের মতো নতুন পর্যবেক্ষণাগার ভবিষ্যতে আরও অনেক অজানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সুযোগ তৈরি করবে। সেই বৈজ্ঞানিক যাত্রায় বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা একজন গবেষকের অবদান দেশের তরুণ প্রজন্মকে নতুন সম্ভাবনার কথা ভাবতে উৎসাহিত করতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হারের পর ব্রাজিলের ডানপন্থী নেতা ও সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে পৌঁছেছেন। ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনে হারের পর ব্রাজিল ছাড়লেন ফ্লাভিও বলসোনারো, পরিবার নিয়ে পৌঁছালেন মায়ামিতে

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামিতে পৌঁছেছেন ডানপন্থী নেতা ও সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি সেখানে পৌঁছান। অর্থপাচারের অভিযোগে তদন্তের মধ্যে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট তাঁর পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর দেশ ছাড়ার ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও রোববারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার ঘোষণা না দিয়ে তিনি ভোটের ফল বাতিলের দাবিও তুলেছিলেন। এরপর মঙ্গলবার তাঁর অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আর্জেন্টিনার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ফ্লাভিও তাঁর স্ত্রী ফার্নান্দা আন্তুনেস ফিগেইরা বলসোনারো এবং দুই মেয়ে ক্যারোলিনা ও লুইজাকে নিয়ে ব্রাজিল থেকে আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা একটি বেসরকারি উড়োজাহাজে ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিলে যান। সেখান থেকে উড়োজাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার উদ্দেশে রওনা হয়। বুধবার সকালে মায়ামির কাছে ওপা-লক্কা এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি অবতরণ করে।   ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরায়েস ফ্লাভিওকে মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে তাঁর সাধারণ ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অর্থপাচারের অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ফ্লাভিও সেই নির্দেশ পালন করেছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো অপরাধের কথা স্বীকার করেননি।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফ্লাভিও ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ফ্লাভিওর যুক্তরাষ্ট্রে আসার বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছেন। ট্রাম্প এর আগে ফ্লাভিওর সঙ্গে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করেছিলেন।   ফ্লাভিওর বাবা ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোও ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে হারের পর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। পরে তিনি ব্রাজিলে ফিরে আসেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে জাইর বলসোনারোকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দি অবস্থায় সাজা ভোগ করছেন।   এদিকে নির্বাচনে জয়ী লুলা ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ার ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ব্রাজিলে থেকেই ফ্লাভিওর উচিত ছিল নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দেওয়া। অন্যদিকে ফ্লাভিওর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা জানিয়েছেন, তিনি পরিবারের সঙ্গে নিরাপদে আছেন।   ফ্লাভিওর দেশত্যাগ ব্রাজিলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। নির্বাচনের ফল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং তাঁর বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত নিয়ে সামনে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা এখন দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১১:২৭
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কম্বোডিয়ায় বিশ্বভ্রমণ স্থগিত করেছে মার্কিন ক্রুজ জাহাজ এমভি ওডিসি। ছবি: সংগৃহীত

হঠাৎ জ্বালানি তেলের ব্যয়ে ৩ বছরের বিশ্বভ্রমণ স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুস জাহাজ! অনিশ্চয়তায় ২০৩ যাত্রী

বিটিভির সাবেক বিতর্কিক রেবেকা শাফি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক গবেষণাজগতের পরিচিত মুখ। ছবি: সংগৃহীত

বিটিভির বিতর্কমঞ্চ থেকে হার্ভার্ড: বাংলাদেশের রেবেকা শাফির বিস্ময়কর সাফল্যযাত্রা

ঢাকার মেয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েলেসলি কলেজের জ্যোতির্বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ড. লামিয়া মওলা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মহাবিশ্বের গ্যালাক্সি নিয়ে গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা থেকে মহাবিশ্বের গভীরে: বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা লামিয়া মওলার জ্যোতির্বিজ্ঞানে অসাধারণ অগ্রযাত্রা

ক্যালিফোর্নিয়ায় জরুরি সহায়তা ও সুরক্ষা চাইছে সংগঠনগুলো
অভিবাসন অভিযান ঘিরে উদ্বেগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় জরুরি সহায়তা ও সুরক্ষা চাইছে সংগঠনগুলো

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান ঘিরে অভিবাসী পরিবারগুলোর উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে জরুরি আর্থিক সহায়তা, আইনি সুরক্ষা এবং সমন্বিত সরকারি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন অভিবাসী অধিকার সংগঠন। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো রাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অন্যান্য নির্বাচিত কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায়।   সংগঠনগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসনবিষয়ক ফেডারেল অভিযান নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেক পরিবার দৈনন্দিন কাজকর্ম, কর্মস্থলে যাতায়াত, সন্তানদের স্কুলে পাঠানো এবং প্রয়োজনীয় সরকারি ও সামাজিক সেবা গ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে। তবে এসব উদ্বেগের ব্যাপ্তি সম্পর্কে রাজ্যজুড়ে পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান ওই বিবৃতিতে দেওয়া হয়নি।   স্যাক্রামেন্টো, সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরীয় অঞ্চল, লস অ্যাঞ্জেলেস, সান দিয়েগো, মধ্য উপকূল এবং মধ্য উপত্যকার বিভিন্ন সংগঠন এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছে। তাদের দাবি, অভিবাসন অভিযানে কোনো পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য আটক হলে পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া, খাবার, শিশুদের দেখাশোনা এবং অন্যান্য জরুরি ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।   সংগঠনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তা চালুর পাশাপাশি আইনি অধিকার সম্পর্কে সহজবোধ্য তথ্য সরবরাহের দাবি জানিয়েছে। ইংরেজিতে সীমিত দক্ষতা রয়েছে এমন পরিবারগুলোর জন্য বিভিন্ন ভাষায় নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, অভিবাসনসংক্রান্ত কোনো অভিযান বা আটকের পরিস্থিতিতে পরিবারগুলো যেন দ্রুত আইনি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সামাজিক সেবার সন্ধান পায়, সে জন্য সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো দরকার।   এ ছাড়া স্থানীয় নগর পরিষদ ও কাউন্টি প্রশাসনগুলোর প্রতি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরি এবং অভিবাসীদের সহায়তায় কাজ করা সংগঠনগুলোর জন্য অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনগুলোর দাবি, শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য বা উদ্বেগ প্রকাশ যথেষ্ট নয়; ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাস্তব সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।   এই দাবি এমন সময় সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে অভিবাসননীতি রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, অভিবাসন অভিযান নিয়ে ভীতি ও অনিশ্চয়তা কিছু মানুষের জনজীবনে অংশগ্রহণ এবং ভোটসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলতে পারে। এটি সংগঠনগুলোর বক্তব্য; এর প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণে আরও তথ্য ও গবেষণা প্রয়োজন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ৯:৪৮
ঘড়ির সময় পরিবর্তন বন্ধে সিনেটকে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে ঘড়ির কাঁটা বদলের সময় ঘনিয়ে আসছে, আইন পাসে সিনেটকে ফের তাগিদ দিলেন ট্রাম্প

ভোটের অভিযোগে আইনি জটিলতায় নিউইয়র্কের মারভা কুক

নাগরিকত্ব নেই জানতেন না নিউইয়র্কের নারী, ২০২২ সালের নির্বাচনে ভোট দেওয়ায় ফৌজদারি অভিযোগ

অভিবাসন নীতির পরিবর্তনে স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে উদ্বেগ

চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তা, আমেরিকায় স্বাস্থ্যবিমার যোগ্যতা হারানোর ঝুঁকি

সেন্ট্রাল পার্কে ম্যারাথনের শেষ মুহূর্ত দেখার বিশেষ সুযোগ
১ নভেম্বর নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথন, সেন্ট্রাল পার্কে দর্শকদের জন্য ৩৫০ বিনামূল্যের টিকিট

উইয়র্ক সিটির জনপ্রিয় ক্রীড়া আয়োজন টিসিএস নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথনের শেষ মুহূর্তগুলো সরাসরি দেখার সুযোগ করে দিতে ৩৫০টি বিনামূল্যের টিকিট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নগর প্রশাসন। এসব টিকিটের মাধ্যমে নির্বাচিত দর্শকেরা সেন্ট্রাল পার্কে ফিনিশিং লাইনের শেষ ২০০ মিটার অংশের গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডে বসে দৌড়বিদদের প্রতিযোগিতা শেষ করার রোমাঞ্চ উপভোগ করতে পারবেন। গত ২২ অক্টোবর মেয়র জোহরান মামদানির কার্যালয় এ উদ্যোগের কথা জানায়।   এ বছরের নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১ নভেম্বর, রোববার। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবার প্রায় ৬০ হাজার দৌড়বিদ এতে অংশ নেবেন। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের ভেরাজানো-ন্যারোজ ব্রিজ থেকে শুরু হয়ে প্রতিযোগীরা নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরো অতিক্রম করে ২৬ দশমিক ২ মাইল পথ পাড়ি দেবেন। তাঁদের গন্তব্য সেন্ট্রাল পার্কের ফিনিশিং লাইন। ম্যারাথন ঘিরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দুই মিলিয়নেরও বেশি দর্শক ও সমর্থকের সমাগম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিযোগিতার শেষ পর্যায়ে দৌড়বিদদের লক্ষ্যপূরণের মুহূর্ত দেখতে প্রতিবছরই দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ থাকে। এবার বিনামূল্যের টিকিটের উদ্যোগের ফলে নির্বাচিত দর্শকেরা গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডে বসে কাছ থেকে সেই অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির পর দৌড়বিদেরা পাঁচটি বরো পেরিয়ে ফিনিশিং লাইনের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় দর্শকদের উপস্থিতি তাঁদের উৎসাহ জোগায় এবং প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দময় করে তোলে। বিনামূল্যে টিকিট দেওয়ার উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো আরও বেশি নিউইয়র্কবাসীকে এই বড় ক্রীড়া আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করা এবং খেলাধুলা উপভোগের সুযোগ সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া। টিকিট পেতে আগ্রহীদের অনলাইনে আবেদন করতে বলা হয়েছিল। আবেদনের শেষ সময় ছিল ২৬ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট। নিউইয়র্ক রোড রানার্সের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে লটারির মাধ্যমে টিকিটপ্রাপ্তদের বেছে নেওয়ার কথা জানানো হয়। আবেদনকারীদের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। নির্বাচিত প্রত্যেকে সর্বোচ্চ দুটি টিকিট পেতে পারেন। দ্বিতীয় টিকিটটি যেকোনো বয়সের নিউইয়র্কবাসী ব্যবহার করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়সীমা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। নিউইয়র্ক রোড রানার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রব সিমেলখায়ার বলেন, ম্যারাথন নগরীর পরিচয়, কমিউনিটির সংহতি এবং মানুষের দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন। পাঁচটি বরো নিয়ে ম্যারাথন আয়োজনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিটি প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ আরও বেশি মানুষকে ফিনিশিং লাইনের আবেগঘন মুহূর্ত সরাসরি উপভোগের সুযোগ দেবে। গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডে বসে ম্যারাথনের সমাপ্তি দেখার টিকিটের সাধারণ মূল্য শুরু হয় ৫৫ ডলার থেকে। ফলে বিনামূল্যের টিকিট পাওয়া দর্শকেরা কোনো টিকিটমূল্য ছাড়াই প্রতিযোগিতার শেষ অংশ দেখার সুযোগ পাবেন। মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, বড় ক্রীড়া আয়োজনকে সাধারণ মানুষের আরও নাগালে নিয়ে আসার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ এই উদ্যোগ। এ পরিকল্পনার আওতায় বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচের জন্য সাশ্রয়ী টিকিটের সুযোগ, ২০২৬ সালের ইউএসএ ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড আউটডোর ও প্যারা ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে বিনামূল্যের টিকিট এবং গথাম এফসি নারী ফুটবল দলের ম্যাচে ১৫ ডলারের টিকিটের উদ্যোগও রয়েছে। এ ছাড়া গ্রীষ্মকালে বাস্কেটবল কোর্ট, সকার মাঠ ও অন্যান্য ক্রীড়াক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার হাজার ঘণ্টা খেলার সুযোগ তৈরির কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে নিক্সের প্লে-অফ ম্যাচ বিনামূল্যে দেখানো, চ্যাম্পিয়নশিপ উদ্‌যাপনে বিনামূল্যের টিকিট দেওয়া এবং পাঁচটি বরোতে বিশ্বকাপ ফ্যান ফেস্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও এর অন্তর্ভুক্ত। সিটি প্রশাসনের লক্ষ্য, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নিউইয়র্কবাসীর জন্য খেলাধুলায় অংশ নেওয়া এবং বড় ক্রীড়া আয়োজন উপভোগের সুযোগ বাড়ানো। নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথনের ফিনিশিং লাইনে বিনামূল্যে দর্শক প্রবেশের এই ব্যবস্থাও সেই পরিকল্পনার অংশ।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ৭:১৮
ভোটার তদন্ত ঘিরে নিউইয়র্কের অভিবাসী কমিউনিটিতে উদ্বেগ

ভোটার জালিয়াতির তদন্তে বাড়ি বাড়ি ফেডারেল এজেন্ট, নিউইয়র্কে অভিবাসীদের উদ্বেগ

ট্রাম্প পরিবারের মুনাফা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হিলারি

ট্রাম্প পরিবারের প্রেসিডেন্সিকাল মুনাফায় ১৩ লাখ মানুষের খাদ্যসহায়তা সম্ভব, দাবি হিলারি ক্লিনটনের

অভিবাসীদের নির্বাসন মামলা সাময়িক স্থগিতের ক্ষমতা পুনর্বহালের আবেদন নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট, নির্বাসন মামলা স্থগিতের সুযোগ বন্ধই থাকছে

0 Comments