যুক্তরাষ্ট্রে সিটি জবসহ সরকারি চাকরি কীভাবে পাবেন, কোথায় আবেদন করবেন এবং কী কী সুবিধা রয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য সরকারি চাকরি হতে পারে স্থায়ী ক্যারিয়ার গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সিটি, কাউন্টি, স্টেট এবং ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসন, হিসাবরক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিবহন, জননিরাপত্তা, সামাজিক সেবা, ইঞ্জিনিয়ারিং, রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা ধরনের পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সরকারি চাকরিতে আবেদন করার নিয়ম বেসরকারি চাকরির মতো নয়। কোথায় চাকরিটি, কোন দপ্তরের অধীনে এবং পদটির জন্য পরীক্ষা বা বিশেষ যোগ্যতা প্রয়োজন কি না, তার ওপর পুরো প্রক্রিয়া নির্ভর করে।
সবচেয়ে আগে বুঝতে হবে, সিটি জব, স্টেট জব এবং ফেডারেল জব আলাদা। কোনো শহরের চাকরি হলে সেটি সিটি সরকারের অধীনে, স্টেট জব হলে রাজ্য সরকারের অধীনে এবং ফেডারেল জব হলে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে। তাই চাকরি খোঁজার জায়গাটিও আলাদা। ইউএসএ গভ-এর তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল চাকরির জন্য ইউএসএজবস প্রধান সরকারি প্ল্যাটফর্ম। আর স্টেট সরকারের চাকরির জন্য সংশ্লিষ্ট স্টেটের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টালে যেতে হয়। স্থানীয় সরকারের চাকরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সিটি বা কাউন্টির সরকারি ওয়েবসাইট দেখতে হয়।
নিউইয়র্ক সিটির চাকরি এর একটি ভালো উদাহরণ। নিউইয়র্ক সিটি সরকারের অধীনে তিন লাখের বেশি কর্মী এবং প্রায় ৮০টি এজেন্সি রয়েছে। ক্লেরিক্যাল ও প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে অর্থ ও হিসাব, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, সামাজিক সেবা, প্রকৌশল, রক্ষণাবেক্ষণ, জননিরাপত্তা এবং বিভিন্ন কারিগরি পেশায় চাকরির সুযোগ রয়েছে।
তবে নিউইয়র্ক সিটির চাকরির ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে। সিটির ৮০ শতাংশের বেশি চাকরিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা প্রয়োজন। অর্থাৎ শুধু চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে জীবনবৃত্তান্ত পাঠালেই অনেক ক্ষেত্রে হবে না। প্রথমে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিতে হতে পারে।
যে পদে পরীক্ষা প্রয়োজন, তার জন্য প্রথমে ওই পদের পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি বা নোটিশ ভালোভাবে পড়তে হবে। সেখানে কাজের ধরন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, পরীক্ষার পদ্ধতি, আবেদন করার সময়সীমা এবং পরীক্ষার ফি সম্পর্কে তথ্য থাকে। যোগ্যতা পূরণ করলে নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেসের অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেমের মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য আবেদন করা যায়। চাইলে নির্দিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্র থেকেও আবেদন করা যায়।
পরীক্ষার ধরনও সব পদের জন্য এক নয়। কিছু পরীক্ষা নির্দিষ্ট দিনে অনুষ্ঠিত হয়। আবার কিছু পদে শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনলাইনে মূল্যায়ন করা হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীর নাম নির্দিষ্ট তালিকায় আসে এবং নিয়োগকারী সিটি এজেন্সি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রার্থীদের ইন্টারভিউতে ডাকতে পারে।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির সব চাকরিতে পরীক্ষা লাগে না। কিছু পদে সরাসরি আবেদন করা যায়। এসব চাকরি সাধারণত সিটির চাকরির পোর্টালে প্রকাশ করা হয়। তাই শুধু সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার তালিকা দেখলেই হবে না, সরাসরি আবেদন করা যায় এমন চাকরিগুলোও নিয়মিত দেখা দরকার।
বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য বিদেশি ডিগ্রির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির কিছু চাকরিতে বিদেশ থেকে নেওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমান যাচাই করতে হতে পারে। তাই বাংলাদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা কেউ সরকারি চাকরিতে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বিদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল্যায়ন সম্পর্কে কী বলা হয়েছে, সেটি দেখে নেওয়া উচিত।
এবার আসা যাক স্টেট সরকারের চাকরিতে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি স্টেটের নিজস্ব চাকরির ব্যবস্থা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে জর্জিয়ায় সরকারি চাকরির জন্য টিম জর্জিয়া ক্যারিয়ার্স পোর্টাল ব্যবহার করা হয়। সেখানে রাজ্য সরকারের প্রায় ১০০টি এজেন্সিতে বিভিন্ন ধরনের চাকরির সুযোগ রয়েছে। চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে কাউন্টি, কাজের ক্ষেত্র এবং পদের ধরন অনুযায়ী অনুসন্ধান করা যায়।
জর্জিয়া স্টেটের চাকরিতে শিক্ষা, সাধারণ প্রশাসন, নিয়ন্ত্রক কাজ, আইন প্রয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সুযোগ রয়েছে। আবেদন করার আগে চাকরির দায়িত্ব, যোগ্যতা এবং আবেদনের নির্দেশনা ভালোভাবে পড়তে হয়। সব পদে একই ধরনের যোগ্যতা বা আবেদন পদ্ধতি থাকে না।
অন্য স্টেটেও একইভাবে সংশ্লিষ্ট স্টেট সরকারের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টাল ব্যবহার করতে হয়। অর্থাৎ আপনি নিউইয়র্ক, জর্জিয়া, নিউ জার্সি, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া কিংবা অন্য কোনো স্টেটে থাকলে প্রথমে সেই স্টেট সরকারের অফিসিয়াল চাকরির পোর্টাল খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি নিজের শহর ও কাউন্টির সরকারি চাকরির পেজও দেখা উচিত।
ফেডারেল সরকারের চাকরির প্রক্রিয়া আবার কিছুটা আলাদা। ফেডারেল চাকরির জন্য ইউএসএজবস হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির প্ল্যাটফর্ম। আবেদন শুরু করতে প্রথমে লগইন ডট গভ অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়। এরপর ইউএসএজবস প্রোফাইল তৈরি করে জীবনবৃত্তান্ত ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করা যায়।
চাকরি খোঁজার সময় শুধু পদের নাম দেখলেই হবে না। ফেডারেল চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে “হু মে অ্যাপ্লাই” এবং “হাউ টু অ্যাপ্লাই” অংশ বিশেষভাবে পড়তে হয়। কারণ সব ফেডারেল চাকরি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। কোনো পদ সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকতে পারে, আবার কোনো পদ নির্দিষ্ট যোগ্যতা বা বিশেষ নিয়োগের আওতায় থাকতে পারে।
ফেডারেল চাকরির আবেদন প্রক্রিয়ায় ইউএসএজবস সাধারণত জীবনবৃত্তান্ত ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংযুক্ত করার পর আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট সরকারি এজেন্সির নিজস্ব আবেদন ব্যবস্থায় নিয়ে যায়। সেখানে অতিরিক্ত তথ্য, প্রশ্নপত্র বা ডকুমেন্ট জমা দিতে হতে পারে। তাই ইউএসএজবসে “অ্যাপ্লাই” চাপার পরেই আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আবেদন শেষ হওয়ার পর অ্যাকাউন্টে গিয়ে আবেদনটি সফলভাবে জমা হয়েছে কি না নিশ্চিত করা উচিত।
আবেদন করার পর শুরু হয় বাছাই প্রক্রিয়া। সরকারি চাকরিতে অনেক সময় আবেদন পাওয়ার পর যোগ্যতা যাচাই, প্রাথমিক বাছাই, ইন্টারভিউ, নির্বাচন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের মতো একাধিক ধাপ থাকে। ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগকারী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। এরপর ইন্টারভিউ হতে পারে। নির্বাচিত প্রার্থীকে প্রথমে শর্তসাপেক্ষ চাকরির অফার দেওয়া হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড বা নিরাপত্তা যাচাই শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত অফার দেওয়া হয়।
সরকারি চাকরির অন্যতম আকর্ষণ হলো বেনিফিট। তবে সব সরকারি চাকরিতে একই সুবিধা পাওয়া যায় না। স্টেট, সিটি বা ফেডারেল সরকারের নিয়ম এবং চাকরির ধরন অনুযায়ী সুবিধা পরিবর্তিত হয়।
ফেডারেল সরকারের যোগ্য কর্মীরা হেলথ, ডেন্টাল, ভিশন ও লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফ্লেক্সিবল স্পেন্ডিং অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ক্ষেত্রে লং টার্ম কেয়ার ইন্স্যুরেন্সের সুবিধা পেতে পারেন। ফেডারেল কর্মীদের জন্য অবসরকালীন সুবিধার ব্যবস্থাও রয়েছে।
জর্জিয়া স্টেটের সরকারি কর্মীদের জন্য মেডিকেল ও ডেন্টাল কভারেজ, অবসরকালীন সুবিধা, পেইড টাইম অফ এবং অন্যান্য কর্মী সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। স্টেট সরকারের চাকরির সুবিধার মধ্যে কর্মীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের অবসর পরিকল্পনাও রয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির চাকরির ক্ষেত্রেও বেতন ছাড়াও বিভিন্ন কর্মী সুবিধা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো কর্মী কোন সুবিধা পাবেন, সেটি তার পদ, চাকরির শ্রেণি, ইউনিয়ন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে শুধু বেতন নয়, সেই পদের বেনিফিট সম্পর্কিত তথ্যও দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি চাকরির কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অনেক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি সময় নিতে পারে। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা, যোগ্যতার তালিকা, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক বা একাধিক ধাপের কারণে চাকরি পেতে অপেক্ষা করতে হতে পারে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির পরীক্ষাভিত্তিক চাকরিতে পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে।
আরেকটি বিষয় হলো, সরকারি চাকরিতে আবেদন করার সময় সাধারণ একটি জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়ে দিলেই সব সময় কাজ হয় না। চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে যে যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে, জীবনবৃত্তান্ত ও আবেদনপত্রে সেই যোগ্যতার সঙ্গে নিজের শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতার মিল পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হয়। ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র বা অতিরিক্ত ডকুমেন্টও লাগতে পারে।
বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য নাগরিকত্বের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সব সরকারি চাকরিতে নাগরিকত্বের নিয়ম এক নয়। বিশেষ করে ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তির “হু মে অ্যাপ্লাই” অংশে কারা আবেদন করতে পারবেন, সেটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। তাই ইউএস সিটিজেন, গ্রিন কার্ডধারী বা অন্য কোনো ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস থাকলেই সব সরকারি চাকরিতে আবেদন করা যাবে, এমন ধারণা করা উচিত নয়। প্রতিটি পদের যোগ্যতা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।
সরকারি চাকরিতে আবেদন করার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতারণা থেকে সাবধান থাকা। সরকারি চাকরির জন্য কোনো ব্যক্তিকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। চাকরির আবেদন সব সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে করা উচিত। কেউ যদি চাকরি নিশ্চিত করার কথা বলে আগে টাকা চায় বা অফিসিয়াল প্রক্রিয়ার বাইরে ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংকিং তথ্য চায়, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
তাহলে একজন বাংলাদেশি কোথা থেকে শুরু করবেন?
প্রথমে নিজের স্টেট, সিটি ও কাউন্টির সরকারি চাকরির পোর্টাল খুঁজে বের করতে হবে। এরপর নিজের শিক্ষা, কাজের অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স এবং দক্ষতার সঙ্গে মেলে এমন পদ খুঁজতে হবে। চাকরির বিজ্ঞপ্তিটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে দেখতে হবে পদটির জন্য কোনো পরীক্ষা দরকার কি না, ন্যূনতম যোগ্যতা কী, আবেদন কখন শেষ হবে এবং কী কী ডকুমেন্ট লাগবে। এরপর জীবনবৃত্তান্ত ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুত করে অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
নিউইয়র্কে থাকলে সিটি জবের পাশাপাশি নিউইয়র্ক স্টেট ও নিজের কাউন্টির চাকরিও দেখা যেতে পারে। জর্জিয়ায় থাকলে স্টেট সরকারের পাশাপাশি কাউন্টি ও সিটি সরকারের চাকরি খোঁজা উচিত। একইভাবে অন্য স্টেটেও স্থানীয় সরকার, কাউন্টি এবং স্টেট সরকারের আলাদা আলাদা চাকরির সুযোগ থাকে। ফেডারেল চাকরির জন্য আলাদাভাবে ইউএসএজবস ব্যবহার করতে হবে।
সরকারি চাকরি সবার জন্য একই রকম নয় এবং সব পদের বেতন বা সুবিধাও এক নয়। তবে স্থায়ী ক্যারিয়ার, নিয়মিত আয়, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, অবসরকালীন সুবিধা, পেইড টাইম অফ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনের সুযোগ খুঁজছেন এমন বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য সরকারি চাকরি একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যারিয়ার অপশন হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরিচিত কারও কাছ থেকে শোনা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি চাকরির অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি পড়ে আবেদন করা। কারণ একটি সিটি বা স্টেটের নিয়ম অন্য সিটি বা স্টেটে একই নাও হতে পারে। সঠিক জায়গায় চাকরি খোঁজা, যোগ্যতা যাচাই করা এবং আবেদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ ঠিকভাবে অনুসরণ করাই সরকারি চাকরিতে আবেদন করার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে কম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী বাসার সংকট তীব্র হলেও দেশের কিছু শহরে একই সময়ে শত শত এমন ইউনিট খালি পড়ে আছে। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে, যাদের জন্য এসব বাসা তৈরি করা হয়েছে, তাদের অনেকের কাছেই নির্ধারিত ভাড়াও সামর্থ্যের বাইরে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে অস্টিন, টেক্সাসের ৪৯ বছর বয়সী ম্যাথিউ ডেভিসের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। তিনি একটি গৃহহীন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকেন এবং রক্তের প্লাজমা দান করে সামান্য আয় করেন। মাসে ৪৫০ ডলারের একটি ছোট বাসাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ অস্টিনে শহর কর্তৃপক্ষের হিসাবে ৪ হাজার ৫০০টির বেশি সাশ্রয়ী বাসা খালি পড়ে আছে, যা মোট সাশ্রয়ী ইউনিটের প্রায় ১৬ শতাংশ। এমন পরিস্থিতি শুধু অস্টিনেই নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কম আয়ের মানুষদের জন্য সাশ্রয়ী বাসার ঘাটতি সবচেয়ে বেশি। ন্যাশনাল লো-ইনকাম হাউজিং কোয়ালিশনের হিসাবে, দেশের প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ অত্যন্ত কম আয়ের ভাড়াটিয়া পরিবারের বিপরীতে সাশ্রয়ী ভাড়ার বাসা রয়েছে প্রায় ৪০ লাখ। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় বাসার ঘাটতি প্রায় ৭০ লাখ। অত্যন্ত কম আয়ের পরিবার বলতে সাধারণত এমন পরিবারকে বোঝানো হয়, যাদের আয় দারিদ্র্যসীমার নিচে অথবা নিজ এলাকার মধ্যম আয়ের ৩০ শতাংশের মধ্যে। এই শ্রেণির মানুষদের মধ্যে কম বেতনের কর্মী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রতিবন্ধী মানুষও রয়েছেন। তাদের পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলছে বাড়িভাড়ার চাপ। গবেষণা অনুযায়ী, এই শ্রেণির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ পরিবার তাদের আয়ের অর্ধেকেরও বেশি রেন্ট ও ইউটিলিটি বিল দিতে ব্যয় করে। ফলে খাবার, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের জন্য হাতে খুব কম অর্থ থাকে। সমস্যার একটি বড় দিক হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তৈরি হওয়া অনেক ‘সাশ্রয়ী’ বাসা আসলে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষদের জন্য যথেষ্ট সাশ্রয়ী নয়। ২০২৪ সালে লো-ইনকাম হাউজিং ট্যাক্স ক্রেডিট কর্মসূচির আওতায় অর্থায়ন পাওয়া সাশ্রয়ী ইউনিটগুলোর মাত্র প্রায় ১২ শতাংশ ছিল অত্যন্ত কম আয়ের পরিবারের জন্য নির্ধারিত। অন্যদিকে অধিকাংশ ইউনিট এমন পরিবারগুলোর জন্য, যাদের আয় এলাকার মধ্যম আয়ের অন্তত ৫০ শতাংশ। ফলে কাগজে-কলমে এসব বাসা সাশ্রয়ী হলেও সবচেয়ে কম আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে। অস্টিনের চিত্রটিও বিষয়টি স্পষ্ট করে। শহরটি ২০১৮ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে অত্যন্ত কম আয়ের মানুষের জন্য ২০ হাজার বাসা তৈরির লক্ষ্য নিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সাল পর্যন্ত তৈরি হয়েছে মাত্র ৫৪৩টি। একই সময়ে এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ আয় করা পরিবারের জন্য পরিকল্পিত প্রায় ১৫ হাজার ইউনিটই তৈরি হয়ে গেছে। এর ফলে একদিকে গৃহহীন মানুষ নিজের জন্য একটি বাসা খুঁজে পাচ্ছেন না, অন্যদিকে তাদের জন্য নির্ধারিত কিছু ইউনিটও খালি পড়ে থাকছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন বাসা নির্মাণ করলেই এই সংকটের সমাধান হবে না। কার জন্য কত ভাড়ায় বাসা প্রয়োজন, সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সাশ্রয়ী বাসার কর্মসূচি সাজানো জরুরি। ম্যাথিউ ডেভিসের মতো মানুষের কাছে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত শুধু একটি বাসার প্রশ্ন নয়। নিজের একটি দরজা বন্ধ করে রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারার মতো একটি জায়গা পাওয়াই তাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া।
নিউইয়র্কের নামের রহস্য কী? ২০০০ বছর আগের ইতিহাসে মিলবে উত্তর
কুইন্সে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় হঠাৎ এনওয়াইপিডি রিক্রুটের মৃত্যু
ফোবানার ২০২৬–২৭ মেয়াদের নতুন চেয়ারম্যান জহির, নির্বাহী সচিব প্রিয়লাল
যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত কেনাকাটার জন্য ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে শুধু পেমেন্টের সুবিধাই নয়, ক্যাশব্যাক, রিওয়ার্ড পয়েন্ট, সাইনআপ বোনাস এবং বিভিন্ন বিশেষ অফার থেকেও আর্থিক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে কোন কার্ডে কী সুবিধা, কত খরচ করতে হবে, বার্ষিক ফি কত এবং সুদের হার কত, এসব হিসাব না করে শুধু বড় বোনাস দেখে কার্ড খুললে উল্টো আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও থাকে। ক্রেডিট কার্ডের অন্যতম আকর্ষণীয় সুবিধা হলো সাইনআপ বোনাস। অনেক কার্ডে নতুন গ্রাহককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ খরচ করার শর্তে কয়েকশ ডলারের সমপরিমাণ ক্যাশ বা রিওয়ার্ড পয়েন্ট দেওয়া হয়। যেমন কোনো কার্ডে প্রথম তিন মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ কেনাকাটা করলে কয়েকশ ডলারের বোনাস পাওয়া যেতে পারে। তবে এই ধরনের অফার নেওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্ধারিত খরচটি নিজের স্বাভাবিক বাজেটের মধ্যে আছে কি না। শুধু বোনাস পাওয়ার জন্য অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করলে সেই বোনাসের চেয়ে বেশি অর্থ খরচ হয়ে যেতে পারে। আবার সব ধরনের কেনাকাটাও সাইনআপ বোনাসের জন্য নির্ধারিত খরচের মধ্যে গণনা নাও হতে পারে। তাই কার্ডের শর্তগুলো ভালোভাবে পড়া জরুরি। ক্যাশব্যাকও ক্রেডিট কার্ডের বড় সুবিধা। কোনো কার্ডে গ্রোসারি, গ্যাস, রেস্টুরেন্ট বা নির্দিষ্ট অনলাইন কেনাকাটায় তুলনামূলক বেশি ক্যাশব্যাক দেওয়া হয়। আবার কিছু কার্ডে সব ধরনের কেনাকাটায় নির্দিষ্ট হারে ক্যাশব্যাক দেওয়া হতে পারে। তাই নিজের মাসিক খরচ কোন খাতে বেশি, সেটি আগে হিসাব করে কার্ড বেছে নিলে সুবিধা বেশি পাওয়া সম্ভব। অনেক কার্ডে ক্যাশব্যাকের পরিবর্তে পয়েন্ট বা মাইল দেওয়া হয়। এসব পয়েন্ট পরে ট্রাভেল, হোটেল, কেনাকাটা, স্টেটমেন্ট ক্রেডিট কিংবা অন্যান্য সুবিধার জন্য ব্যবহার করা যায়। তবে একটি পয়েন্টের প্রকৃত মূল্য কত এবং কোনভাবে ব্যবহার করলে বেশি সুবিধা পাওয়া যায়, তা কার্ডভেদে আলাদা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো বা সিএফপিবি জানিয়েছে, ক্রেডিট কার্ডের রিওয়ার্ড প্রোগ্রামে অনেক সময় জটিল শর্ত থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বোনাস পাওয়ার যোগ্যতা, পয়েন্ট ব্যবহারের নিয়ম বা রিওয়ার্ডের মূল্য পরিবর্তনের বিষয়গুলো শর্তের মধ্যে থাকতে পারে। তাই শুধু বিজ্ঞাপনে দেখানো বোনাসের পরিমাণ নয়, পুরো শর্ত ও নিয়ম দেখা গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেডিট কার্ডের বার্ষিক ফিও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ক্রেডিট কার্ডে কোনো বার্ষিক ফি নেই। আবার কিছু রিওয়ার্ড বা ট্রাভেল কার্ডে বছরে উল্লেখযোগ্য ফি থাকতে পারে। কোনো কার্ডে বার্ষিক ফি থাকলে ক্যাশব্যাক, পয়েন্ট, ট্রাভেল ক্রেডিটসহ মোট সুবিধা সেই ফি-এর চেয়ে বেশি কি না, সেটি হিসাব করে দেখা উচিত। কার্ডের বার্ষিক সুদের হার বা এপিআরও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কার্ডের বিজ্ঞাপনে বড় অঙ্কের ক্যাশব্যাক বা বোনাস দেখা গেলেও বকেয়া ব্যালেন্স বহন করলে সুদের খরচ দ্রুত সেই সুবিধা ছাড়িয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন বা এফটিসি বলছে, পুরো বিল পরিশোধ না করলে বকেয়া ব্যালেন্সের ওপর সুদ দিতে হতে পারে এবং শুধু ন্যূনতম পেমেন্ট দিয়ে চললে ঋণ পরিশোধে অনেক বেশি সময় লাগতে পারে। কিছু কার্ডে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শূন্য শতাংশ প্রাথমিক এপিআর দেওয়া হয়। এ ধরনের অফার বড় কেনাকাটা বা ব্যালেন্স ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। কিন্তু শূন্য শতাংশ অফার কতদিন থাকবে এবং অফার শেষ হওয়ার পর সুদের হার কত হবে, তা আগে থেকেই জানা জরুরি। এখানে শূন্য শতাংশ এপিআর এবং বিলম্বিত সুদের পার্থক্যও বুঝতে হবে। শূন্য শতাংশ এপিআর ধরনের অফারে প্রচারণামূলক সময়ের মধ্যে সাধারণত সুদ যোগ হয় না এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বকেয়া ব্যালেন্সের ওপর নিয়মিত সুদ শুরু হতে পারে। কিন্তু “নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ করলে সুদ নেই” ধরনের অফারে সময়সীমার মধ্যে পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ না করলে আগের সময়ের সুদও যোগ হতে পারে। ফলে বিজ্ঞাপনের ভাষা ভালোভাবে বোঝা জরুরি। ক্রেডিট কার্ড খোলার আগে বিদেশি লেনদেনের ফিও দেখা উচিত। যারা বাংলাদেশসহ অন্য দেশে নিয়মিত ভ্রমণ করেন বা বিদেশি মুদ্রায় কেনাকাটা করেন, তাদের জন্য এই ফি না থাকা কার্ড বেশি উপকারী হতে পারে। একই সঙ্গে ক্রেডিট স্কোরের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা দরকার। সময়মতো বিল পরিশোধ এবং দায়িত্বশীলভাবে ক্রেডিট ব্যবহার করলে ভালো ক্রেডিট ইতিহাস গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে সময়মতো পেমেন্ট না করলে বিলম্ব ফি, অতিরিক্ত সুদ এবং ক্রেডিট ইতিহাসে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে একসঙ্গে অনেকগুলো ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করার আগে সতর্ক হওয়া উচিত। নতুন কার্ডের আবেদন করলে সাধারণত ক্রেডিট রিপোর্টে অনুসন্ধানের রেকর্ড তৈরি হতে পারে। সামনে মর্টগেজ, গাড়ির ঋণ বা অন্য কোনো বড় ঋণের আবেদন করার পরিকল্পনা থাকলে নতুন ক্রেডিট অ্যাকাউন্ট খোলার সময় বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া দরকার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো প্রতি মাসে সময়মতো এবং সম্ভব হলে পুরো স্টেটমেন্ট ব্যালেন্স পরিশোধ করা। পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ করতে পারলে অনেক ক্ষেত্রে সুদ এড়ানো সম্ভব। শুধু ন্যূনতম পেমেন্ট দিলে বকেয়া অর্থের ওপর সুদ জমতে থাকে এবং ক্রেডিটের প্রকৃত খরচ বেড়ে যায়। ধরা যাক, একজন ব্যক্তি প্রতি মাসে এমন কিছু খরচ করেন যা তিনি যেকোনোভাবেই করতেন। সেই স্বাভাবিক খরচ সঠিক ক্যাশব্যাক বা রিওয়ার্ড কার্ডে করলে বছর শেষে কয়েকশ ডলারের সুবিধা পাওয়া সম্ভব। এর সঙ্গে উপযুক্ত সাইনআপ বোনাস যোগ হলে মোট সুবিধা আরও বাড়তে পারে। তবে এটি কোনো নিশ্চিত আয় নয় এবং সুবিধার পরিমাণ সম্পূর্ণভাবে কার্ডের শর্ত, ব্যক্তির খরচের ধরন এবং কার্ড ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে। তাই ক্রেডিট কার্ডকে অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে দেখার চেয়ে নিয়মিত খরচ থেকে অতিরিক্ত বেনিফিট পাওয়ার একটি আর্থিক টুল হিসেবে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত। ডেবিট কার্ডে যে খরচটি স্বাভাবিকভাবেই করা হতো, সেটি সঠিক ক্রেডিট কার্ডে করে এবং প্রতি মাসে পুরো বিল পরিশোধ করতে পারলে একই খরচ থেকে ক্যাশব্যাক বা রিওয়ার্ড পাওয়া যেতে পারে। নতুন কার্ড খোলার আগে তাই শুধু কত ডলার বোনাস দেওয়া হচ্ছে সেটি না দেখে বার্ষিক ফি, ক্যাশব্যাকের হার, সাইনআপ বোনাসের শর্ত, প্রাথমিক এপিআরের মেয়াদ, নিয়মিত সুদের হার, বিদেশি লেনদেনের ফি এবং নিজের খরচের সঙ্গে কার্ডটির সুবিধা কতটা মেলে, সবকিছু একসঙ্গে হিসাব করা উচিত। সঠিক কার্ড সঠিকভাবে ব্যবহার করলে দৈনন্দিন খরচ থেকেই বছরে কয়েকশ ডলারের বেনিফিট পাওয়া সম্ভব। তবে বোনাসের জন্য অপ্রয়োজনীয় খরচ করা বা সময়মতো বিল পরিশোধ না করলে সেই সুবিধাই বড় সুদের খরচে পরিণত হতে পারে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচনে মনোনয়ন ফি হাজার হাজার ডলার, আলোচনা কমিউনিটিতে
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের নথিপত্র দুদককে দিল এফবিআই
ফ্লোরিডায় ট্রাকের কেবিনে ছয় বছর চার শিশুকে আটকে রাখার অভিযোগ, দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড চায় রাষ্ট্রপক্ষ
নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র রুডি গিউলিয়ানি বলেছেন, ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠানে বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি অংশ নেওয়ায় তিনি ‘অপমানিত’ বোধ করছেন। একই সঙ্গে মামদানিকে এ সপ্তাহের স্মরণ অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার ডানপন্থি সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গিউলিয়ানি বলেন, “সে আসছে—এটা আমাকে অপমানিত করে।” এরপর তিনি মামদানির বিরুদ্ধে মুসলিমবিদ্বেষী ও ভিত্তিহীন নানা অভিযোগ তোলেন। মামদানি একজন মুসলিম হওয়ায় তাকে ৯/১১ হামলাকারীদের সঙ্গে তুলনা করেন গিউলিয়ানি। তার দাবি, মামদানি ও তার সমর্থিত মুসলিমরা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘নিয়ন্ত্রণে নিতে’ চায়। এমনকি তিনি অভিযোগ করেন, মামদানি এমন একটি আন্দোলনের সমর্থক, যে আন্দোলনের সঙ্গে ৯/১১ হামলার যোগ রয়েছে। গিউলিয়ানি বলেন, ৯/১১ হামলাকারীরা তাদের উদ্দেশ্য গোপন করেনি, কিন্তু মামদানি তা গোপন করার চেষ্টা করছেন। তবে তার এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। এক দিন আগে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ৮২ বছর বয়সী সাবেক মেয়র বলেন, মামদানির ‘সামান্য সহানুভূতি থাকলেও’ তার স্মরণ অনুষ্ঠানে যাওয়া উচিত নয়। কারণ, তার উপস্থিতি ৯/১১ হামলায় স্বজন হারানো পরিবারগুলোর জন্য কষ্টদায়ক হতে পারে বলে দাবি করেন তিনি। গিউলিয়ানির বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আরও বেড়েছে। ডানপন্থি কয়েকজন ব্যক্তি এরই মধ্যে মামদানিকে ৯/১১ স্মরণ অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ৯/১১ হামলায় স্বজন হারানো প্রায় ২৫০ পরিবারের একটি সংগঠন মামদানির অংশগ্রহণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ‘সেপ্টেম্বর ১১ ফ্যামিলিজ ফর পিসফুল টুমরোজ’ জানিয়েছে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, বেঁচে যাওয়া মানুষ ও উদ্ধারকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো নিউইয়র্কের মেয়রের দায়িত্বের অংশ। একই সঙ্গে মামদানিকে অনুষ্ঠান থেকে দূরে রাখার প্রচেষ্টার পেছনে থাকা ‘ইসলামবিদ্বেষী’ বক্তব্যেরও নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি। ৯/১১ হামলার সময় মামদানি ছিলেন মাত্র ৯ বছরের শিশু। তিনি তখন নিউইয়র্কের আপার ওয়েস্ট সাইডে স্কুলে পড়তেন। মেয়র হওয়ার পর তিনি হামলার victims-দের স্মরণে প্রতিবছর ‘সিটিওয়াইড ডে অব রিমেমব্রেন্স অ্যান্ড সার্ভিস’ পালনের উদ্যোগ নিয়েছেন। গত সপ্তাহেও তিনি ৯/১১ স্মরণে দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। সোমবার সাংবাদিকদের মামদানি বলেন, ২৫ বছর আগে ভয়াবহ ওই হামলায় যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাদের পরিবার এবং হামলার সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন দেওয়া উদ্ধারকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই এ সপ্তাহের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। গিউলিয়ানির মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার আর কিছু যোগ করার নেই। মামদানি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ৯/১১ স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। তার কর্মসূচি অনুযায়ী, এ সপ্তাহে তিনি আরও কয়েকটি অনুষ্ঠান ও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করবেন। এদিকে ৯/১১ হামলার পর ‘আমেরিকার মেয়র’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া গিউলিয়ানি গত কয়েক বছরে একাধিক আইনি ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল নিয়ে ভিত্তিহীন দাবি ছড়ানোর ঘটনায়ও তিনি ব্যাপক বিতর্কে জড়ান। নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসিতে তাকে আইন পেশা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন মামলাতেও তাকে আইনি লড়াই করতে হয়েছে।
গ্রিন কার্ডের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে মাকে হারালেন নেভাল একাডেমির ক্যাডেট!
অ্যাপলের বড় চমক আসছে ৯ সেপ্টেম্বর, উন্মোচন হতে পারে ফোল্ডেবল আইফোন