যুক্তরাষ্ট্রে সিটি জবসহ সরকারি চাকরি কীভাবে পাবেন, কোথায় আবেদন করবেন এবং কী কী সুবিধা রয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য সরকারি চাকরি হতে পারে স্থায়ী ক্যারিয়ার গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সিটি, কাউন্টি, স্টেট এবং ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসন, হিসাবরক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিবহন, জননিরাপত্তা, সামাজিক সেবা, ইঞ্জিনিয়ারিং, রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা ধরনের পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সরকারি চাকরিতে আবেদন করার নিয়ম বেসরকারি চাকরির মতো নয়। কোথায় চাকরিটি, কোন দপ্তরের অধীনে এবং পদটির জন্য পরীক্ষা বা বিশেষ যোগ্যতা প্রয়োজন কি না, তার ওপর পুরো প্রক্রিয়া নির্ভর করে।
সবচেয়ে আগে বুঝতে হবে, সিটি জব, স্টেট জব এবং ফেডারেল জব আলাদা। কোনো শহরের চাকরি হলে সেটি সিটি সরকারের অধীনে, স্টেট জব হলে রাজ্য সরকারের অধীনে এবং ফেডারেল জব হলে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে। তাই চাকরি খোঁজার জায়গাটিও আলাদা। ইউএসএ গভ-এর তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল চাকরির জন্য ইউএসএজবস প্রধান সরকারি প্ল্যাটফর্ম। আর স্টেট সরকারের চাকরির জন্য সংশ্লিষ্ট স্টেটের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টালে যেতে হয়। স্থানীয় সরকারের চাকরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সিটি বা কাউন্টির সরকারি ওয়েবসাইট দেখতে হয়।
নিউইয়র্ক সিটির চাকরি এর একটি ভালো উদাহরণ। নিউইয়র্ক সিটি সরকারের অধীনে তিন লাখের বেশি কর্মী এবং প্রায় ৮০টি এজেন্সি রয়েছে। ক্লেরিক্যাল ও প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে অর্থ ও হিসাব, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, সামাজিক সেবা, প্রকৌশল, রক্ষণাবেক্ষণ, জননিরাপত্তা এবং বিভিন্ন কারিগরি পেশায় চাকরির সুযোগ রয়েছে।
তবে নিউইয়র্ক সিটির চাকরির ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে। সিটির ৮০ শতাংশের বেশি চাকরিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা প্রয়োজন। অর্থাৎ শুধু চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে জীবনবৃত্তান্ত পাঠালেই অনেক ক্ষেত্রে হবে না। প্রথমে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিতে হতে পারে।
যে পদে পরীক্ষা প্রয়োজন, তার জন্য প্রথমে ওই পদের পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি বা নোটিশ ভালোভাবে পড়তে হবে। সেখানে কাজের ধরন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, পরীক্ষার পদ্ধতি, আবেদন করার সময়সীমা এবং পরীক্ষার ফি সম্পর্কে তথ্য থাকে। যোগ্যতা পূরণ করলে নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেসের অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেমের মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য আবেদন করা যায়। চাইলে নির্দিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্র থেকেও আবেদন করা যায়।
পরীক্ষার ধরনও সব পদের জন্য এক নয়। কিছু পরীক্ষা নির্দিষ্ট দিনে অনুষ্ঠিত হয়। আবার কিছু পদে শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনলাইনে মূল্যায়ন করা হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীর নাম নির্দিষ্ট তালিকায় আসে এবং নিয়োগকারী সিটি এজেন্সি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রার্থীদের ইন্টারভিউতে ডাকতে পারে।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির সব চাকরিতে পরীক্ষা লাগে না। কিছু পদে সরাসরি আবেদন করা যায়। এসব চাকরি সাধারণত সিটির চাকরির পোর্টালে প্রকাশ করা হয়। তাই শুধু সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার তালিকা দেখলেই হবে না, সরাসরি আবেদন করা যায় এমন চাকরিগুলোও নিয়মিত দেখা দরকার।
বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য বিদেশি ডিগ্রির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির কিছু চাকরিতে বিদেশ থেকে নেওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমান যাচাই করতে হতে পারে। তাই বাংলাদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা কেউ সরকারি চাকরিতে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বিদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল্যায়ন সম্পর্কে কী বলা হয়েছে, সেটি দেখে নেওয়া উচিত।
এবার আসা যাক স্টেট সরকারের চাকরিতে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি স্টেটের নিজস্ব চাকরির ব্যবস্থা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে জর্জিয়ায় সরকারি চাকরির জন্য টিম জর্জিয়া ক্যারিয়ার্স পোর্টাল ব্যবহার করা হয়। সেখানে রাজ্য সরকারের প্রায় ১০০টি এজেন্সিতে বিভিন্ন ধরনের চাকরির সুযোগ রয়েছে। চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে কাউন্টি, কাজের ক্ষেত্র এবং পদের ধরন অনুযায়ী অনুসন্ধান করা যায়।
জর্জিয়া স্টেটের চাকরিতে শিক্ষা, সাধারণ প্রশাসন, নিয়ন্ত্রক কাজ, আইন প্রয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সুযোগ রয়েছে। আবেদন করার আগে চাকরির দায়িত্ব, যোগ্যতা এবং আবেদনের নির্দেশনা ভালোভাবে পড়তে হয়। সব পদে একই ধরনের যোগ্যতা বা আবেদন পদ্ধতি থাকে না।
অন্য স্টেটেও একইভাবে সংশ্লিষ্ট স্টেট সরকারের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টাল ব্যবহার করতে হয়। অর্থাৎ আপনি নিউইয়র্ক, জর্জিয়া, নিউ জার্সি, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া কিংবা অন্য কোনো স্টেটে থাকলে প্রথমে সেই স্টেট সরকারের অফিসিয়াল চাকরির পোর্টাল খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি নিজের শহর ও কাউন্টির সরকারি চাকরির পেজও দেখা উচিত।
ফেডারেল সরকারের চাকরির প্রক্রিয়া আবার কিছুটা আলাদা। ফেডারেল চাকরির জন্য ইউএসএজবস হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির প্ল্যাটফর্ম। আবেদন শুরু করতে প্রথমে লগইন ডট গভ অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়। এরপর ইউএসএজবস প্রোফাইল তৈরি করে জীবনবৃত্তান্ত ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করা যায়।
চাকরি খোঁজার সময় শুধু পদের নাম দেখলেই হবে না। ফেডারেল চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে “হু মে অ্যাপ্লাই” এবং “হাউ টু অ্যাপ্লাই” অংশ বিশেষভাবে পড়তে হয়। কারণ সব ফেডারেল চাকরি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। কোনো পদ সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকতে পারে, আবার কোনো পদ নির্দিষ্ট যোগ্যতা বা বিশেষ নিয়োগের আওতায় থাকতে পারে।
ফেডারেল চাকরির আবেদন প্রক্রিয়ায় ইউএসএজবস সাধারণত জীবনবৃত্তান্ত ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংযুক্ত করার পর আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট সরকারি এজেন্সির নিজস্ব আবেদন ব্যবস্থায় নিয়ে যায়। সেখানে অতিরিক্ত তথ্য, প্রশ্নপত্র বা ডকুমেন্ট জমা দিতে হতে পারে। তাই ইউএসএজবসে “অ্যাপ্লাই” চাপার পরেই আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আবেদন শেষ হওয়ার পর অ্যাকাউন্টে গিয়ে আবেদনটি সফলভাবে জমা হয়েছে কি না নিশ্চিত করা উচিত।
আবেদন করার পর শুরু হয় বাছাই প্রক্রিয়া। সরকারি চাকরিতে অনেক সময় আবেদন পাওয়ার পর যোগ্যতা যাচাই, প্রাথমিক বাছাই, ইন্টারভিউ, নির্বাচন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের মতো একাধিক ধাপ থাকে। ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগকারী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। এরপর ইন্টারভিউ হতে পারে। নির্বাচিত প্রার্থীকে প্রথমে শর্তসাপেক্ষ চাকরির অফার দেওয়া হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড বা নিরাপত্তা যাচাই শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত অফার দেওয়া হয়।
সরকারি চাকরির অন্যতম আকর্ষণ হলো বেনিফিট। তবে সব সরকারি চাকরিতে একই সুবিধা পাওয়া যায় না। স্টেট, সিটি বা ফেডারেল সরকারের নিয়ম এবং চাকরির ধরন অনুযায়ী সুবিধা পরিবর্তিত হয়।
ফেডারেল সরকারের যোগ্য কর্মীরা হেলথ, ডেন্টাল, ভিশন ও লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফ্লেক্সিবল স্পেন্ডিং অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ক্ষেত্রে লং টার্ম কেয়ার ইন্স্যুরেন্সের সুবিধা পেতে পারেন। ফেডারেল কর্মীদের জন্য অবসরকালীন সুবিধার ব্যবস্থাও রয়েছে।
জর্জিয়া স্টেটের সরকারি কর্মীদের জন্য মেডিকেল ও ডেন্টাল কভারেজ, অবসরকালীন সুবিধা, পেইড টাইম অফ এবং অন্যান্য কর্মী সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। স্টেট সরকারের চাকরির সুবিধার মধ্যে কর্মীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের অবসর পরিকল্পনাও রয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির চাকরির ক্ষেত্রেও বেতন ছাড়াও বিভিন্ন কর্মী সুবিধা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো কর্মী কোন সুবিধা পাবেন, সেটি তার পদ, চাকরির শ্রেণি, ইউনিয়ন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে শুধু বেতন নয়, সেই পদের বেনিফিট সম্পর্কিত তথ্যও দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি চাকরির কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অনেক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি সময় নিতে পারে। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা, যোগ্যতার তালিকা, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক বা একাধিক ধাপের কারণে চাকরি পেতে অপেক্ষা করতে হতে পারে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির পরীক্ষাভিত্তিক চাকরিতে পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে।
আরেকটি বিষয় হলো, সরকারি চাকরিতে আবেদন করার সময় সাধারণ একটি জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়ে দিলেই সব সময় কাজ হয় না। চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে যে যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে, জীবনবৃত্তান্ত ও আবেদনপত্রে সেই যোগ্যতার সঙ্গে নিজের শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতার মিল পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হয়। ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র বা অতিরিক্ত ডকুমেন্টও লাগতে পারে।
বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য নাগরিকত্বের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সব সরকারি চাকরিতে নাগরিকত্বের নিয়ম এক নয়। বিশেষ করে ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তির “হু মে অ্যাপ্লাই” অংশে কারা আবেদন করতে পারবেন, সেটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। তাই ইউএস সিটিজেন, গ্রিন কার্ডধারী বা অন্য কোনো ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস থাকলেই সব সরকারি চাকরিতে আবেদন করা যাবে, এমন ধারণা করা উচিত নয়। প্রতিটি পদের যোগ্যতা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।
সরকারি চাকরিতে আবেদন করার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতারণা থেকে সাবধান থাকা। সরকারি চাকরির জন্য কোনো ব্যক্তিকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। চাকরির আবেদন সব সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে করা উচিত। কেউ যদি চাকরি নিশ্চিত করার কথা বলে আগে টাকা চায় বা অফিসিয়াল প্রক্রিয়ার বাইরে ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংকিং তথ্য চায়, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
তাহলে একজন বাংলাদেশি কোথা থেকে শুরু করবেন?
প্রথমে নিজের স্টেট, সিটি ও কাউন্টির সরকারি চাকরির পোর্টাল খুঁজে বের করতে হবে। এরপর নিজের শিক্ষা, কাজের অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স এবং দক্ষতার সঙ্গে মেলে এমন পদ খুঁজতে হবে। চাকরির বিজ্ঞপ্তিটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে দেখতে হবে পদটির জন্য কোনো পরীক্ষা দরকার কি না, ন্যূনতম যোগ্যতা কী, আবেদন কখন শেষ হবে এবং কী কী ডকুমেন্ট লাগবে। এরপর জীবনবৃত্তান্ত ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুত করে অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
নিউইয়র্কে থাকলে সিটি জবের পাশাপাশি নিউইয়র্ক স্টেট ও নিজের কাউন্টির চাকরিও দেখা যেতে পারে। জর্জিয়ায় থাকলে স্টেট সরকারের পাশাপাশি কাউন্টি ও সিটি সরকারের চাকরি খোঁজা উচিত। একইভাবে অন্য স্টেটেও স্থানীয় সরকার, কাউন্টি এবং স্টেট সরকারের আলাদা আলাদা চাকরির সুযোগ থাকে। ফেডারেল চাকরির জন্য আলাদাভাবে ইউএসএজবস ব্যবহার করতে হবে।
সরকারি চাকরি সবার জন্য একই রকম নয় এবং সব পদের বেতন বা সুবিধাও এক নয়। তবে স্থায়ী ক্যারিয়ার, নিয়মিত আয়, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, অবসরকালীন সুবিধা, পেইড টাইম অফ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনের সুযোগ খুঁজছেন এমন বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য সরকারি চাকরি একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যারিয়ার অপশন হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরিচিত কারও কাছ থেকে শোনা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি চাকরির অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি পড়ে আবেদন করা। কারণ একটি সিটি বা স্টেটের নিয়ম অন্য সিটি বা স্টেটে একই নাও হতে পারে। সঠিক জায়গায় চাকরি খোঁজা, যোগ্যতা যাচাই করা এবং আবেদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ ঠিকভাবে অনুসরণ করাই সরকারি চাকরিতে আবেদন করার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আবারও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হাম (মিজলস)। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৬৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। গত তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সংক্রমণের ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সিডিসির ১৩ আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশজুড়ে ৩৮টি পৃথক প্রাদুর্ভাব (আউটব্রেক) শনাক্ত হয়েছে। মোট আক্রান্তের ৯৪ শতাংশই এসব চলমান প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আক্রান্তদের মধ্যে ২ হাজার ৫৫০ জন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা এবং ১৬ জন আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়াসহ মোট ৪৭টি প্রশাসনিক এলাকায় হামের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সর্বশেষ উইসকনসিনেও নতুন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে, যা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের বিস্তারের অন্যতম কারণ শিশুদের মধ্যে এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকার হার কমে যাওয়া। একটি এলাকায় হার্ড ইমিউনিটি বা সামষ্টিক রোগ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাধারণত অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুর টিকাপ্রাপ্ত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় সেই হার এখন এর নিচে নেমে গেছে। উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের টিকাদান নিবন্ধন তথ্য অনুযায়ী, ২৪ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে এমএমআর টিকার কভারেজ ২০১৯ সালের ৮৪ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে কমে ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে ছয় বছর বয়সী শিশুদের টিকাদানের হারও ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। ক্লার্ক, মনরো, ভার্নন ও ক্রফোর্ড কাউন্টির মতো কিছু এলাকায় এই হার ৭০ শতাংশেরও নিচে নেমেছে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের হামে আক্রান্তদের ৯৩ শতাংশই টিকা নেননি অথবা তাদের টিকাদানের তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, কম টিকাদানের এলাকাগুলোতেই পারিবারিক ও কমিউনিটি পর্যায়ে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। নতুন নির্বাহী আদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত সম্মিলিত এমএমআর টিকাকে ভবিষ্যতে তিনটি পৃথক টিকায় বিভক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যদি দেশীয় উৎপাদন সম্ভব হয়। পাশাপাশি শিশুদের বিভিন্ন টিকা একসঙ্গে না দিয়ে আলাদা আলাদা সময়ে দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও শিশু চিকিৎসকেরা। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু ও কিশোরস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মেলিসা স্টকওয়েল নিউজউইককে বলেন, এমএমআর টিকাকে আলাদা করে দিলে পরিবারের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ বাড়বে। এতে শিশুদের নির্ধারিত সময়ে সব ডোজ সম্পন্ন না হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে এবং তারা দীর্ঘ সময় সুরক্ষার বাইরে থাকবে। তিনি বলেন, হাম নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহসহ গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। 'মিজলস কোলাবোরেটিভ'-এর নির্বাহী পরিচালক ডা. প্যাটসি স্টিঞ্চফিল্ড বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে সম্মিলিত এমএমআর টিকা নিরাপদভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দুই ডোজ টিকা নেওয়া ৯৯ শতাংশের বেশি মানুষের শরীরে কার্যকর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। তার ভাষায়, "এমএমআর টিকাকে আলাদা করার এই সুপারিশের পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।" লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডিও এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, টিকাদান নীতিতে এ ধরনের পরিবর্তন টিকা নিয়ে দ্বিধা আরও বাড়াতে পারে এবং শিশুদের অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে হাম, মাম্পস ও রুবেলার পৃথক টিকা বাজারে সহজলভ্য নয়। টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও আলাদা টিকা উৎপাদনের কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে সিডিসি এখনো তাদের বিদ্যমান নির্দেশনা বহাল রেখেছে। সংস্থাটি ১২ থেকে ১৫ মাস এবং ৪ থেকে ৬ বছর বয়সে দুটি ডোজ সম্মিলিত এমএমআর টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। উইসকনসিনসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগও অভিভাবকদের বর্তমান সিডিসি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, চলমান সংক্রমণের মধ্যে সময়মতো টিকা নেওয়াই হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সূত্র: সিডিসি, নিউজউইক।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রির সবচেয়ে খারাপ সময় এখন? নতুন প্রতিবেদনে যা জানা গেল
যুক্তরাষ্ট্রে সিটি জবসহ সরকারি চাকরি কীভাবে পাবেন, কোথায় আবেদন করবেন এবং কী কী সুবিধা রয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত ৫, পরে হামলাকারীরও লাশ উদ্ধার
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডায় স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত এক মার্কিন নারী তার ভেনিজুয়েলান স্বামীর মুক্তির জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তার স্বামীকে আটক করে। কোর্টনি ওয়াল্টার নামের ওই নারী জানান, গত ৩ আগস্ট কোকোনাট ক্রিকের কাছে তার স্বামী ৩৬ বছর বয়সী হোর্হে লুইস এলিয়েসার রুইজকে আটক করেন ইমিগ্রেশন এজেন্টরা। আটকের পর কাছাকাছি একটি পার্কিং লট থেকে রুইজ ফোন করে স্ত্রীকে তার আইসিই হেফাজতে যাওয়ার আকস্মিক খবরটি জানান। কোর্টনি জানান, স্বামীর এই অপ্রত্যাশিত আটকের ঘটনা তার ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তীব্র মানসিক চাপের কারণে তিনি ঠিকমতো খেতে পারছেন না এবং তার ওজনও আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। জানা গেছে, আটকের পর মিরামারের একটি ইমিগ্রেশন প্রসেসিং সেন্টারে নয় দিন কাটানোর পর, বর্তমানে রুইজকে পম্পানো বিচের ব্রোওয়ার্ড ট্রানজিশনাল সেন্টারে বন্দি রাখা হয়েছে। ২০২৫ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতি মূলত রুইজের বৈধ স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য চেষ্টা করছিলেন। কোর্টনির ভাষ্যমতে, তারা গত বছরের সেপ্টেম্বরে আই-১৩০ পিটিশন জমা দিয়েছিলেন, যা এখনো সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে আইসিই-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্রোওয়ার্ড কাউন্টিতে একটি নিয়মিত অভিযানের সময় রুইজকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ওই সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানের কথা স্বীকার করেন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের এপ্রিলে রুইজ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং ২০১২ সালের নভেম্বরে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তাকে দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমানে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলাকালীন হেফাজতে রাখা হয়েছে। রুইজের আইনজীবী ডেভিড এস্ট্রেলা আইসিই-এর এমন বিবৃতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, এতে একজন মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে রুইজের বিয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি জানান, আই-১৩০ পিটিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাউকে নির্বাসন থেকে রক্ষা না করলেও, রুইজের ক্ষেত্রে একটি আইনি স্থগিতাদেশ রয়েছে যা তাকে এই মুহূর্তে ভেনিজুয়েলায় ফেরত পাঠানোর পথে বাধা। এস্ট্রেলা বর্তমানে একটি হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন নিয়ে কাজ করছেন, যাতে রুইজকে মুক্তি দিয়ে তার অভিবাসন মামলাটি স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। আগামী সোমবার, ১৭ আগস্টের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার এই পিটিশনের জবাব দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোর্টনি এখন কেবল তার স্বামীকে ফিরে পাওয়ার আশায় প্রহর গুনছেন, যাতে তারা একসঙ্গে থেকে স্থায়ী বসবাসের এই আইনি লড়াইটা চালিয়ে যেতে পারেন।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩১ বছর বয়সেই ৭০ মিলিয়ন ডলারের রাজপ্রাসাদ কিনলেন এআই বিজ্ঞানী টনি
যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেইডের ‘এস্টেট রিকভারি’ নীতিতে বিপাকে মার্কিন পরিবারগুলো, ঝুঁকিতে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে সারাজীবনের সঞ্চয়ে গড়া স্বপ্নের বাড়ি, এক মাস পরই ভাঙার নোটিশ পেলেন দম্পতি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সমৃদ্ধ ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন এবার বিক্রির জন্য বাজারে এসেছে। 'গ্লেন স্যান্ডার্স ম্যানশন' নামের এই বিলাসবহুল ঐতিহাসিক বাড়িটির দাম হাঁকানো হয়েছে আট মিলিয়ন বা ৮০ লাখ ডলার। স্কোটিয়া এলাকায় মোহক নদীর তীরে অবস্থিত এই প্রাসাদটি নিউইয়র্কের টিকে থাকা তৃতীয় প্রাচীন বসতবাড়ি হিসেবে পরিচিত। ১৬৫৮ সালে আলেকজান্ডার লিন্ডসে গ্লেন নামের এক স্কটিশ ব্যবসায়ী নদীর তীরে পাথরের তৈরি এই বসতবাড়িটি নির্মাণ করেন এবং নিজের জন্মভূমির নামানুসারে এলাকাটির নাম রাখেন 'স্কোটিয়া'। সেই আদি এক কামরার ঘরটি আজও টিকে আছে এবং পুরো ম্যানশনটি তাকে ঘিরেই বিস্তৃত। গ্লেন পরিবার প্রায় ২৬৬ বছর ধরে এই সম্পত্তির মালিকানা ধরে রেখেছিল, যা পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে বিক্রি করে দেওয়া হয়। বর্তমান মালিকের ছেলে এবং এই প্রপার্টির লিস্টিং এজেন্ট অ্যাঞ্জেলো মাইকেল ম্যাজোন জুনিয়রও বাড়িটির এই প্রাচীনত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী এই বাড়িটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক রোমাঞ্চকর ঘটনা। পারিবারিক লোককথা অনুযায়ী, ফরাসি বন্দীদের প্রতি গ্লেন পরিবারের সহমর্মিতার কারণে ১৬৯০ সালের ভয়াবহ 'স্কেনেকট্যাডি গণহত্যা' থেকে এই বাড়িটি রক্ষা পেয়েছিল। এমনকি ফরাসি কর্মকর্তারা পরদিন সকালে নদী পার হয়ে এই বাড়িতে প্রাতরাশ সেরেছিলেন বলেও শোনা যায়। বর্তমানে যে প্রাসাদটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, তা ১৭১৩ সালে ক্যাপ্টেন জোহানেস 'জন' গ্লেন নির্মাণ করেন। ধারণা করা হয়, ১৬৫৮ সালের আদি ঘরের পাথর, কাঠ ও দরজা ব্যবহার করেই এটি তৈরি করা হয়েছিল। রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী অ্যাঞ্জেলো ম্যাজোন সিনিয়র ১৯৮৮ সালে এই সম্পত্তিটি কিনে নেন এবং পরের বছর একে 'ম্যাজোন হসপিটালিটি'-এর ফ্ল্যাগশিপ হিসেবে চালু করেন। তবে ৭৫ বছর বয়সী ম্যাজোন এখন বয়সের ভারে এই সুবিশাল সম্পত্তিটি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি জানান, দীর্ঘ চার-পাঁচ দশক ধরে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি এই ব্যবসাকে ৭ কোটি ডলারের কোম্পানিতে পরিণত করলেও, তার পরিবারে এই ব্যবসার হাল ধরার মতো কেউ নেই। তার ছেলে ম্যাজোন জুনিয়র পেশায় একজন অপেরা গায়ক ও রিয়েল এস্টেট এজেন্ট। এই ম্যানশনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর অতিথিদের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য তালিকা। ১৭৭৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন এই অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিদর্শনের সময় এখানে যাত্রাবিরতি করেছিলেন এবং একটি চা-চক্রে অংশ নিয়েছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া ১৭৯০-এর দশকের শেষদিকে ফরাসি বিপ্লবের পর নির্বাসিত জীবনে ভবিষ্যৎ ফরাসি রাজা লুইস ফিলিপও এই প্রাসাদে অবস্থান করেছিলেন, যার নামে আজও সেখানে একটি বেডরুম সংরক্ষিত রয়েছে। ঐতিহাসিক এই বাড়িটিতে এখনও এর আদি জানালা, মেঝে, কড়িকাঠ এবং ১৭১৩ সালের মূল দরজাগুলো অক্ষত রয়েছে। শুধু ইতিহাসই নয়, এই বাড়িটিকে ঘিরে রয়েছে অলৌকিক সব গল্পও। প্রাসাদের কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, এখানে প্রায়ই লাল পোশাক পরিহিত এক নারীর রহস্যময় উপস্থিতি টের পাওয়া যায়, যাকে অনেকেই আলেকজান্ডার গ্লেনের নাতনি ডেবোরা গ্লেন বলে মনে করেন। এছাড়া হঠাৎ করে পুরো বাড়ির আলো জ্বলে ওঠা বা নিজে থেকে পর্দা নড়ে ওঠার মতো অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন অনেকে। তবে বাড়ির লিস্টিং এজেন্টদের মতে, এখানকার ভূতগুলো বেশ 'বান্ধব' এবং তারা কারও কোনো ক্ষতি করে না বলে এই বিষয়ে খুব বেশি আলোচনা করা হয় না। প্রায় তিন একর জমির ওপর অবস্থিত এই সম্পত্তির মধ্যে ঐতিহাসিক মূল বাড়িটির আয়তন প্রায় দুই হাজার ৮০০ বর্গফুট, যেখানে একটি ২২ কক্ষের সরাইখানাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিক্রি হওয়া এই প্যাকেজের সঙ্গে একটি বাড়তি আকর্ষণও রয়েছে। এর ক্রেতা চাইলে নিচতলায় রেস্তোরাঁসহ একটি ৯৫ ইউনিটের অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স নির্মাণের পূর্বানুমোদিত সুবিধাও পাবেন। যদিও আইনিভাবে এই বাড়িটি ভেঙে ফেলার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই, তবে ম্যাজোন সিনিয়রের একান্ত চাওয়া, নতুন ক্রেতা যেন এই ঐতিহাসিক ভবনটি তাদের মতোই সযত্নে সংরক্ষণ করেন। কারণ, আজও এই প্রাসাদের প্রতিটি ঘর যেন আক্ষরিক অর্থেই আঠারো শতকের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস বিমানবন্দরে যাত্রীদের সুবিধায় ৩ লাখ ডলারে তৈরি হচ্ছে অজুর স্থান
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে প্রোপার্টি ট্যাক্স ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা, উদ্বিগ্ন বাড়ির মালিকরা