মিশিগান প্রাইমারিতে জয়ের পর সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়িদের বিরুদ্ধে ২০ গুণ বেড়েছে মুসলিমবিদ্বেষী পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিক নির্বাচনে বিজয়ের পর আবদুল এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে সামাজিক মাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষী বিদ্বেষমূলক প্রচারণা প্রায় ২০ গুণ বেড়েছে বলে এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (CSOH)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৫৫টি ইসলামবিদ্বেষী পোস্টে এল-সায়েদের নাম উল্লেখ করা হলেও ৪ থেকে ১০ আগস্টের মধ্যে সেই সংখ্যা প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৯৯টিতে পৌঁছে। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ ধরনের পোস্টের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৮৯৫ শতাংশ বেড়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে মোট ৩৮ হাজার ২৮০টি ইসলামবিদ্বেষী পোস্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ৪ থেকে ১০ আগস্টের সাত দিনেই করা হয়েছে প্রায় ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ পোস্ট। সবচেয়ে বেশি পোস্ট করা হয় ৫ আগস্ট, সেদিন একদিনেই ৬ হাজার ৯২৩টি পোস্ট প্রকাশিত হয়।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য ছড়ানো ৪ লাখ ৯ হাজার ৬৪০টি পোস্টও পর্যবেক্ষণ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। গ্রীষ্মকালজুড়ে এক দিনে সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৮৩টি এমন পোস্টও করা হয় ৫ আগস্ট।
গবেষণা অনুযায়ী, বিদ্বেষমূলক প্রচারণার বড় অংশজুড়ে এল-সায়েদকে ভিত্তিহীনভাবে "ইসলামি জিহাদি" হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং তাকে হামাস, হিজবুল্লাহ ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে জড়িয়ে নানা দাবি করা হয়েছে। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামী আইন চালু করতে চান, মুসলিম সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক অনুদানকে "সন্ত্রাসে অর্থায়ন" হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টি তথাকথিত "ইসলামপন্থী ও কমিউনিস্টদের দখলে চলে যাচ্ছে" এমন ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যও ছড়ানো হয়েছে।
কিছু পোস্টে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ টেনে এল-সায়েদকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। আবার কিছু পোস্টে পশ্চিমা দেশগুলো থেকে মুসলিমদের ব্যাপকভাবে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, এই প্রচারণার ধরন অনেকটাই নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে গত বছর মুসলিম প্রার্থী জোহরান মামদানির সফল প্রচারণার সময় দেখা ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের সঙ্গে মিল রয়েছে। কোনো মুসলিম প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে গেলে বা জয়ী হলে একই ধরনের বিদ্বেষমূলক ভাষা ও অভিযোগ বারবার সামনে আসে।
আবদুল এল-সায়েদ মিশিগানের সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তিনি কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেন। স্টিভেন্সের পক্ষে প্রভাবশালী লবিং সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (AIPAC) ৩ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল বলে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে।
আগামী নভেম্বরে অবসর নিতে যাওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্সের শূন্য আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন এল-সায়েদ। ডেমোক্র্যাটদের জন্য এই আসনটি সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় এল-সায়েদ জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা (মেডিকেয়ার ফর অল), রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব কমানো এবং ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা পুনর্বিবেচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
সম্প্রতি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি রাজনীতি থেকে অর্থের প্রভাব কমাতে চাই, মানুষের পকেটে অর্থ ফেরাতে চাই এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই।" একই সাক্ষাৎকারে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সমালোচনাকে দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এল-সায়েদকে "র্যাডিক্যাল লেফট সোশ্যালিস্ট", "কমিউনিস্ট" এবং ইহুদি ও ইসরায়েলবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যদিও এক নির্বাচনী বিতর্কে এল-সায়েদ নিজেকে সমাজতন্ত্রী নন উল্লেখ করে বলেন, "আমি সমাজতন্ত্রী নই। আমি এমন একজন পুঁজিবাদী, যিনি পুঁজিবাদ কীভাবে কাজ করে তা বোঝেন।"
গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের এক গোলটেবিল বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ব্যঙ্গাত্মকভাবে তাকে "প্রেসিডেন্ট আবদুল এল-সায়েদ" বলে উল্লেখ করেন।
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ডেমোক্রেসি নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এল-সায়েদ বলেন, তিনি প্রথম হওয়ার বিষয়টির চেয়ে নিজের অঙ্গরাজ্যের জন্য একজন কার্যকর সিনেটর হতে চান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি উন্মুক্ত, উদার ও বহুত্ববাদী দেশ, আর সেই মূল্যবোধই তিনি প্রতিনিধিত্ব করতে চান।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কে নতুন আসা বাংলাদেশিসহ ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়াতে চান এমন অভিবাসীদের জন্য বিনামূল্যে ইংরেজি শেখার একাধিক সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি, পাবলিক লাইব্রেরি এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনা খরচে ইংরেজি শেখানো হচ্ছে। কিছু কর্মসূচিতে ইংরেজির পাশাপাশি চাকরির প্রস্তুতি ও কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতার প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রস অফিস অব ইমিগ্র্যান্ট অ্যাফেয়ার্স পরিচালিত ‘উই স্পিক এনওয়াইসি’ কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে ইংরেজি শেখার সুযোগ রয়েছে। নতুন অভিবাসীদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় ইংরেজিতে দক্ষ করে তোলাই এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। সরাসরি ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইনে অংশ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। এই কর্মসূচির ক্লাসে সাধারণ কথোপকথনের পাশাপাশি নিউইয়র্কে দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয়ে ইংরেজি শেখানো হয়। ডাক্তার বা হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ, সন্তানের স্কুলে কথা বলা, কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগ, বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণ এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ইংরেজি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির বিভিন্ন শাখাতেও বিনামূল্যে ইংরেজি শেখার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি ক্লাস ও কথোপকথন চর্চার সুযোগ দেওয়া হয়। নতুনদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ের ক্লাসের পাশাপাশি কিছু স্থানে অপেক্ষাকৃত ভালো ইংরেজি জানা ব্যক্তিদের জন্যও আলাদা কার্যক্রম রয়েছে। ব্রুকলিন পাবলিক লাইব্রেরির বিভিন্ন শাখায়ও ইংরেজি শেখার ক্লাস ও কথোপকথন চর্চার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব ক্লাসে পড়া, লেখা, শোনা এবং কথা বলার দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিছু ক্লাসে আগে থেকে নিবন্ধনের প্রয়োজন হতে পারে, আবার নির্দিষ্ট কিছু কর্মসূচিতে সরাসরি উপস্থিত হয়েও অংশ নেওয়া যায়। চাকরির প্রস্তুতির সঙ্গে ইংরেজি শেখার সুযোগ রয়েছে সিটি কলেজ অব নিউইয়র্কেও। কর্মজীবী এবং চাকরি খুঁজছেন এমন অভিবাসীদের জন্য পরিচালিত বিনামূল্যের ইংরেজি কর্মসূচিতে ব্যাকরণ, পড়া, লেখা, শোনা ও কথা বলার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তবে সিটি কলেজের এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য কিছু যোগ্যতার শর্ত রয়েছে। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৯ বছর হতে হবে, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা হতে হবে এবং চাকরির জন্য প্রস্তুত বা কর্মসংস্থানের জন্য উপলব্ধ থাকতে হবে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা এই নির্দিষ্ট বিনামূল্যের কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন না। সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচির আওতাতেও ইংরেজি শেখার সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে প্রাথমিক, মধ্যম ও উচ্চ পর্যায়ের ইংরেজি ক্লাস পরিচালনা করা হয়। ইংরেজির পাশাপাশি কোনো কোনো কেন্দ্রে হাই স্কুল সমমানের পরীক্ষার প্রস্তুতির সুযোগও দেওয়া হয়। কিংসবরো কমিউনিটি কলেজেও ইংরেজি শেখার পাশাপাশি চাকরির উপযোগী দক্ষতা তৈরির কর্মসূচি রয়েছে। ২০২৬ সালের ফল সেমিস্টারে ইংরেজির সঙ্গে খাদ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত প্রশিক্ষণের একটি বিনামূল্যের কর্মসূচির তথ্য প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আগ্রহীরা যোগ্যতা ও আসন সম্পর্কে জানতে ৭১৮-৩৬৮-৪৮৭০ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন। তবে কিংসবরো কমিউনিটি কলেজের সব ইংরেজি কোর্স বিনামূল্যে নয়। প্রতিষ্ঠানটির কিছু নিবিড় ইংরেজি শিক্ষা কর্মসূচিতে টিউশন ফি ও অন্যান্য খরচ রয়েছে। তাই আবেদন করার আগে কোন কর্মসূচি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং কোনটিতে ফি রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমেও যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য ইংরেজি শেখা, সাধারণ শিক্ষা উন্নয়ন পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। পাঁচটি বরোর বিভিন্ন কেন্দ্রে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিছু কেন্দ্রে দিনের পাশাপাশি সন্ধ্যা ও সপ্তাহান্তেও ক্লাসের ব্যবস্থা থাকে, যা কর্মজীবীদের জন্য সুবিধাজনক। নিউইয়র্কে নতুন আসা অনেক বাংলাদেশির জন্য ইংরেজিতে দুর্বলতা চাকরি পাওয়া থেকে শুরু করে ডাক্তার দেখানো, সন্তানের স্কুলে যোগাযোগ, সরকারি অফিসে কাজ করা কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এসব বিনামূল্যের কর্মসূচি তাদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মক্ষেত্র ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের ক্লাসের সময়, আসন, নিবন্ধন পদ্ধতি এবং যোগ্যতার শর্ত এক নয়। কোনো কর্মসূচিতে সরাসরি গিয়ে অংশ নেওয়া গেলেও অন্য কর্মসূচিতে আগে থেকে নিবন্ধন, যোগ্যতা যাচাই বা ইংরেজি দক্ষতা নির্ধারণের পরীক্ষা দিতে হতে পারে। তাই ক্লাসে যোগ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বশেষ সময়সূচি, আসনের অবস্থা এবং ভর্তির শর্ত নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রে বাবাহীন ছেলেদের পাশে দাঁড়াতে একটি স্কুলে ছুটে এলেন ৬০০ এর বেশি মানুষ
দুই সন্তানকে কাছে পেতেই পদ ছাড়ছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট
জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন টাস্কফোর্স, ৬০০টির বেশি ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিক নির্বাচনে বিজয়ের পর আবদুল এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে সামাজিক মাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষী বিদ্বেষমূলক প্রচারণা প্রায় ২০ গুণ বেড়েছে বলে এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (CSOH)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৫৫টি ইসলামবিদ্বেষী পোস্টে এল-সায়েদের নাম উল্লেখ করা হলেও ৪ থেকে ১০ আগস্টের মধ্যে সেই সংখ্যা প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৯৯টিতে পৌঁছে। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ ধরনের পোস্টের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৮৯৫ শতাংশ বেড়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে মোট ৩৮ হাজার ২৮০টি ইসলামবিদ্বেষী পোস্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ৪ থেকে ১০ আগস্টের সাত দিনেই করা হয়েছে প্রায় ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ পোস্ট। সবচেয়ে বেশি পোস্ট করা হয় ৫ আগস্ট, সেদিন একদিনেই ৬ হাজার ৯২৩টি পোস্ট প্রকাশিত হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য ছড়ানো ৪ লাখ ৯ হাজার ৬৪০টি পোস্টও পর্যবেক্ষণ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। গ্রীষ্মকালজুড়ে এক দিনে সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৮৩টি এমন পোস্টও করা হয় ৫ আগস্ট। গবেষণা অনুযায়ী, বিদ্বেষমূলক প্রচারণার বড় অংশজুড়ে এল-সায়েদকে ভিত্তিহীনভাবে "ইসলামি জিহাদি" হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং তাকে হামাস, হিজবুল্লাহ ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে জড়িয়ে নানা দাবি করা হয়েছে। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামী আইন চালু করতে চান, মুসলিম সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক অনুদানকে "সন্ত্রাসে অর্থায়ন" হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টি তথাকথিত "ইসলামপন্থী ও কমিউনিস্টদের দখলে চলে যাচ্ছে" এমন ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যও ছড়ানো হয়েছে। কিছু পোস্টে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ টেনে এল-সায়েদকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। আবার কিছু পোস্টে পশ্চিমা দেশগুলো থেকে মুসলিমদের ব্যাপকভাবে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, এই প্রচারণার ধরন অনেকটাই নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে গত বছর মুসলিম প্রার্থী জোহরান মামদানির সফল প্রচারণার সময় দেখা ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের সঙ্গে মিল রয়েছে। কোনো মুসলিম প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে গেলে বা জয়ী হলে একই ধরনের বিদ্বেষমূলক ভাষা ও অভিযোগ বারবার সামনে আসে। আবদুল এল-সায়েদ মিশিগানের সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তিনি কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেন। স্টিভেন্সের পক্ষে প্রভাবশালী লবিং সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (AIPAC) ৩ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল বলে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে। আগামী নভেম্বরে অবসর নিতে যাওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্সের শূন্য আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন এল-সায়েদ। ডেমোক্র্যাটদের জন্য এই আসনটি সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় এল-সায়েদ জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা (মেডিকেয়ার ফর অল), রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব কমানো এবং ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা পুনর্বিবেচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি রাজনীতি থেকে অর্থের প্রভাব কমাতে চাই, মানুষের পকেটে অর্থ ফেরাতে চাই এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই।" একই সাক্ষাৎকারে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সমালোচনাকে দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এল-সায়েদকে "র্যাডিক্যাল লেফট সোশ্যালিস্ট", "কমিউনিস্ট" এবং ইহুদি ও ইসরায়েলবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যদিও এক নির্বাচনী বিতর্কে এল-সায়েদ নিজেকে সমাজতন্ত্রী নন উল্লেখ করে বলেন, "আমি সমাজতন্ত্রী নই। আমি এমন একজন পুঁজিবাদী, যিনি পুঁজিবাদ কীভাবে কাজ করে তা বোঝেন।" গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের এক গোলটেবিল বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ব্যঙ্গাত্মকভাবে তাকে "প্রেসিডেন্ট আবদুল এল-সায়েদ" বলে উল্লেখ করেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ডেমোক্রেসি নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এল-সায়েদ বলেন, তিনি প্রথম হওয়ার বিষয়টির চেয়ে নিজের অঙ্গরাজ্যের জন্য একজন কার্যকর সিনেটর হতে চান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি উন্মুক্ত, উদার ও বহুত্ববাদী দেশ, আর সেই মূল্যবোধই তিনি প্রতিনিধিত্ব করতে চান।
ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করবেন কীভাবে? সিটিজেন, নন-সিটিজেন ও রিমোট চাকরিতে যেভাবে আবেদন করবেন
ভুয়া পরিচয়ে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা
কানসাসে একই পরিবারের ৬ জনের মৃত্যু, স্ত্রী ও চার শিশুসন্তানকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের সমারভিল শহরে নিজ বাসা থেকে ৪৬ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যাওয়ার পর ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমারসেট কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, নিহত নারীর নাম অ্যালিন এসপিনাল (৪৬)। তিনি সমারভিলের ব্রুকসাইড অ্যাভিনিউয়ের একটি বাসায় বসবাস করতেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার কিছু আগে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ একটি ফোন আসে। ফোনে ওই বাসায় বসবাসকারী এক নারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার ভেতরে অ্যালিন এসপিনালকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার বুক, গলা ও উরুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের স্বামী ইগনাসিও এসপিনালকে (৫৫) সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে মঙ্গলবার নিউ জার্সির ওয়েস্ট নিউ ইয়র্ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রির হত্যা, বেআইনি উদ্দেশ্যে অস্ত্র রাখার অভিযোগ এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমারসেট কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তকারীরা সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন, বিভিন্ন আলামত ও ইলেকট্রনিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছেন এবং ফরেনসিক পরীক্ষা চালিয়ে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছেন। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, তদন্ত চলমান থাকায় এ মুহূর্তে ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য বা কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। নিউ জার্সির স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সোমারসেট কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় যৌথভাবে ঘটনাটির তদন্ত করছে। সূত্র: ফক্স নিউজ
অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তার ১৫ কোটি ডলারের চুক্তি ফিরিয়ে দিল ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ আইন প্রতিষ্ঠান
ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ১০ লাখের বেশি অভিবাসীর সুরক্ষা বাতিল, অনিশ্চয়তায় লাখো মানুষের ভবিষ্যৎ