বিশ্ব

ইতালিতে তাপপ্রবাহে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, ৪১ ডিগ্রি ছোঁয়ার শঙ্কা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ০:৩৪
ইতালিতে তাপপ্রবাহে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা
ইতালিতে তাপপ্রবাহে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ ইতালিতে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রচণ্ড গরমে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ইতালির আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং আগামী সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

 

মঙ্গলবার ও বুধবার গরমজনিত কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে লোদি অঞ্চলে মাঠে কাজ করার সময় ৫৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে রয়েছেন পিয়াচেঞ্জা প্রদেশের একটি আঙুরখেতের ৬১ বছর বয়সী কৃষক, গারলাসকোর ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, নেপলসের এক গৃহহীন ব্যক্তি এবং পাদোভার এক শ্রমিক। এসব ঘটনার পর দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

 

তাপপ্রবাহের প্রভাব শুধু জনস্বাস্থ্যে নয়, পর্যটন খাতেও পড়তে শুরু করেছে। ফ্লোরেন্সের ঐতিহাসিক উফিজি গ্যালারির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকল হয়ে যাওয়ায় দর্শনার্থীদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে এবং সাময়িকভাবে টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন পর্যটনের ভর মৌসুমে এমন পরিস্থিতি পর্যটন খাতে চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতালির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওরাজিও শিল্লাচি জরুরি কারিগরি বৈঠক আহ্বান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রবীণ, শিশু এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

 

তীব্র গরমের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে আব্রুজ্জো অঞ্চলের পেসকারা ও তেরামো এলাকায় শত শত পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ সমস্যায় ভুগছে। কোথাও কোথাও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে, যা নগর জীবনে বাড়তি ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।

 

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা উষ্ণ বায়ুপ্রবাহের কারণে ইতালিতে এই অস্বাভাবিক তাপমাত্রা তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে দেশটির উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তাপপ্রবাহের অন্যতম উদ্বেগজনক দিক হলো রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি থাকা। অনেক এলাকায় রাতের তাপমাত্রা ২৬ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামছে না, যা মানবদেহের স্বাভাবিক বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

 

পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে দেশজুড়ে কঠোরতর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়ার এবং পর্যাপ্ত পানি পানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

বিশ্ব

View more
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপছে ভেনেজুয়েলা, ‘নতুন বন্ধু’ নিয়ে উদ্বিগ্ন ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ভূমিকম্প দুটিকে “অত্যন্ত শক্তিশালী” হিসেবে বর্ণনা করে বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেন।   আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুধবার (২৪ জুন) এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে দেশটিতে। ভূমিকম্পের পর থেকে অন্তত ২০টির বেশি পরবর্তী কম্পন অনুভূত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।   সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলীয় অঞ্চল। লা গুয়াইরা, আরাগুয়া, কারাবোবো এবং ফালকোন রাজ্যে ভূমিকম্পের প্রভাব সবচেয়ে তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব এলাকায় ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।   বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল কারাবোবো অঙ্গরাজ্যে, রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।   ইউএসজিএস-এর প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির হিসেবে, ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রায় ৪৪ শতাংশ এবং ১ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রায় ৩০ শতাংশ।   এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম।” দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।   একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তথ্য খুব আশাব্যঞ্জক নয় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি।   উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলায় একটি সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়, যেখানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে কারাবন্দি রয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্ক ইতোমধ্যেই উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ শুধু মানবিক সংকটই নয়, আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। উদ্ধার তৎপরতা, আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং সরকারের কার্যকর পদক্ষেপই এখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১:২৫
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা প্রতিহত করে ‘মর্যাদাপূর্ণ শক্তিশালী রাষ্ট্র’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ

ইরানের দাবি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা প্রতিহত করে ‘মর্যাদাপূর্ণ শক্তিশালী রাষ্ট্র’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ

জোড়া ভূমিকম্পে কাঁপল ভেনেজুয়েলা

“জোড়া ভূমিকম্পে কাঁপল ভেনেজুয়েলা, যা বলছেন আতঙ্কিত বাসিন্দারা”“জোড়া ভূমিকম্পে কাঁপল ভেনেজুয়েলা, যা বলছেন আতঙ্কিত বাসিন্দারা”

ইতালিতে তাপপ্রবাহে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা

ইতালিতে তাপপ্রবাহে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, ৪১ ডিগ্রি ছোঁয়ার শঙ্কা

পর্তুগালে বিদেশির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে
পর্তুগালে বিদেশির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বাংলাদেশির উপস্থিতি

পর্তুগালে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। দেশটির অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংস্থা এআইএমএ (AIMA)-এর সর্বশেষ প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশটির প্রতি সাতজন বাসিন্দার মধ্যে একজন বিদেশি।   ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ জনসংখ্যার এই ইউরোপীয় দেশে এখন বৈধভাবে বসবাস করছেন ১৫ লাখেরও বেশি অভিবাসী, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ। মাত্র তিন বছর আগেও এই চিত্র ভিন্ন ছিল। ২০২৩ সালে পর্তুগালে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ লাখ ৪৪ হাজার, যা তখন মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশের সমান। অর্থাৎ, অল্প সময়ের ব্যবধানে অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়েছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রবৃদ্ধি পর্তুগালকে ইউরোপের অন্যতম অভিবাসীবান্ধব দেশে পরিণত করেছে।   এই বৃদ্ধির ধারায় বাংলাদেশিদের উপস্থিতিও দিন দিন দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। এআইএমএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশটিতে বৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল প্রায় ২৫ হাজার ৬৬৬ জন। তবে ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে যেসব আবেদন এআইএমএ-তে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, সেগুলোর নিষ্পত্তি হলে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্তুগালের শ্রমবাজারে কর্মীর চাহিদা, তুলনামূলক সহজ ভিসা প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি বসবাস ও নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ—এই তিনটি কারণ বিদেশিদের কাছে দেশটিকে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। নির্মাণ, কৃষি, পর্যটন ও সেবাখাতে কর্মীর ঘাটতি থাকায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য সেখানে সুযোগও বাড়ছে।   তবে এই সুযোগের পাশাপাশি কিছু ঝুঁকির কথাও তুলে ধরছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে যাওয়া অনেক আবেদনকারী দালালচক্র ও ভুয়া চাকরির প্রলোভনের শিকার হচ্ছেন। ফলে বিদেশে যাওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই এবং সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।   সামগ্রিকভাবে, পর্তুগালে অভিবাসীদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি দেশটির অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ০:২১
ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা। ছবি: সংগৃহীত

দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, লাখো প্রাণহানির শঙ্কা

রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে উদ্ধার অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করলেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট

জাপানে ৬.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার পর জাপানেও শক্তিশালী ভূমিকম্প, বন্ধ বুলেট ট্রেন চলাচল

ইরানের অভিযোগ, ইউরোপীয় দেশগুলোও ছিল অভিযানে সহায়ক। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ন্যাটো সরাসরি জড়িত: ইরান

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছে তেহরান। ইরানের দাবি, ইউরোপের কয়েকটি দেশ মার্কিন অভিযানে সহায়তা করেছে এবং ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই অভিযোগের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। তবে ইতালি ইতোমধ্যে এ বিষয়ে রুটের বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেছে, তারা সরাসরি সামরিক অভিযানের অনুমতি দেয়নি; কেবল প্রযুক্তিগত ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত হামলায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছে, তাদের আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় জবাবদিহি করতে হবে। তিনি ন্যাটো মহাসচিবের বক্তব্যকে পশ্চিমা দেশগুলোর সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি বলে দাবি করেন। ইরানের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে ইতালি ও রোমানিয়ার নাম উল্লেখ করে বলা হয়, এই দুই দেশের সরকারকে ব্যাখ্যা দিতে হবে তারা কেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে সহায়তা করেছে। তেহরানের ভাষ্য, এ ধরনের সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।   সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ইউরোপীয় মিত্ররা বিভিন্নভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছে। তিনি দাবি করেন, ইতালিতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি থেকে শত শত মার্কিন সামরিক বিমান উড্ডয়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া রোমানিয়াও আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহসহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে রুটের এই বক্তব্যের পরই ইতালির সরকার কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো বলেন, ইতালি কোনো সরাসরি যুদ্ধ অভিযান অনুমোদন করেনি। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রকে কেবল প্রযুক্তিগত ও লজিস্টিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক চুক্তি ও ইতালির সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, ন্যাটো মহাসচিবের বক্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।   এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতালির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে, দেশটি প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের সহায়তা দিয়েছিল এবং এ বিষয়ে সংসদ ও জনগণকে সম্পূর্ণ তথ্য জানানো হয়েছিল কি না। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভিযোগ, ন্যাটো মহাসচিবের মন্তব্য এবং ইতালির পাল্টা ব্যাখ্যা মিলিয়ে বিষয়টি এখন কূটনৈতিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে আগামী দিনগুলোতে আরও আলোচনা ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ২৩:১৪
ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে ভবন ধস। ছবি: সংগৃহীত

৭.১-এর পর ৭.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ভেনেজুয়েলা

খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফনে মোদিকে আমন্ত্রণ

খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফনে মোদিকে আমন্ত্রণ, ভারতের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

‘ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরান গাজার মতো ধ্বংস হতো’—পাকিস্তানে পেজেশকিয়ানের মন্তব্য

0 Comments