বিশ্ব

কারাগার থেকে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনিজুয়েলাবাসীর পাশে থাকার আহ্বান মাদুরোর

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ২:৩৯
কারাগার থেকে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনিজুয়েলাবাসীর পাশে থাকার আহ্বান মাদুরোর
কারাগার থেকে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনিজুয়েলাবাসীর পাশে থাকার আহ্বান মাদুরোর

ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা প্রলয়ঙ্করী জোড়া ভূমিকম্পের পর দেশের মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি জানিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল বন্দিশালায় আটক থাকা এই নেতা কারাগার থেকেই বিশেষ বার্তা পাঠিয়ে দুর্যোগকবলিত জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) তার দাপ্তরিক টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া ডট কম।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দূর প্রবাসের কারাগার থেকে পাঠানো ওই যৌথ বার্তায় মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস দে মাদুরো দেশের এই কঠিন সময়ে নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর জোর দেন। বার্তায় তারা বলেন, “আজকের বার্তা একটাই—সর্বোচ্চ ঐক্য, সর্বোচ্চ সংহতি এবং সর্বোচ্চ পদক্ষেপ।”

 

বার্তায় মাদুরো দেশের বর্তমান মানবিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে জনগণকে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কেউ যেন একা না থাকে এবং প্রতিটি পরিবার যেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের যত্ন নেয়। পাশাপাশি স্থানীয় উদ্ধারকারী দল, ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি।

 

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগকে একটি বড় জাতীয় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে সাবেক এই রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, “ভেনিজুয়েলা আজ বড় এক পরীক্ষার মুখোমুখি। তবে আমরা বিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও সংহতির মাধ্যমে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারব।” অতীতের মতো এবারও জনগণ ঘুরে দাঁড়াবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারে মার্কিন হেফাজতে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্র আইনে একাধিক অভিযোগে মামলা চলছে।

 

এদিকে, দেশের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো জানিয়েছেন, শক্তিশালী এই জোড়া ভূমিকম্পে ভেনিজুয়েলার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। রাজধানীসহ একাধিক শহরে বহু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে এবং অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১০টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপ অঞ্চলের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কিছুক্ষণ পরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারে এলাকায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়।

 

সংস্থাটির প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের তীব্রতা ও গভীরতার কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাদের গাণিতিক মডেল অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি ভেনিজুয়েলার প্রশাসন।

 

উদ্ধার কার্যক্রম চলমান থাকায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে আরও সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ভেনেজুয়েলায় বুধবারের শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাস এবং অন্যান্য শহর-গ্রামের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধারকাজ চলছে । ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প: নিহত ৩২, আহত অন্তত ৭০০

ভেনেজুয়েলায় ৭ মাত্রার বেশি শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত এবং ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। দেশটির রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহর ও গ্রামের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ জানান, এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আরও অন্তত ৭০০ জনকে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। দুটি কম্পনের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকা ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল। এ অঞ্চলে ভেনেজুয়েলার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার রয়েছে।   ভূমিকম্পের পরপরই দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের জিওলোকেশন করা একাধিক ভিডিওতে রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে। কয়েকটি ভিডিওতে পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত একাধিক ভবন ধসে পড়তে দেখা যায়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে আতঙ্কিত বাসিন্দাদের ভবন ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসতে দেখা গেছে। অনেকেই নিজেদের পরিবারের সদস্য ও পোষা প্রাণী নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। বুধবার দেশটিতে সরকারি ছুটির দিন ছিল। প্রতি বছর ২৪ জুন সেইন্ট জন ব্যাপটিস্টের জন্মদিবস এবং জাতীয় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভেনেজুয়ায় সরকারি ছুটি পালন করা হয়। ছুটির কারণে অধিকাংশ মানুষ ঘরে বা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন, ফলে ভূমিকম্পের সময় অনেকেই ভবনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন।   ইউএসজিএস সতর্ক করে জানিয়েছে, এই দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক এবং পরিস্থিতি আরও গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। ভেনেজুয়েলার যোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বহু ভবন ও বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরও অনেক ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।   এদিকে ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাসের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রাম বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে কারাকাসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ৩:৩৯
কারাগার থেকে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনিজুয়েলাবাসীর পাশে থাকার আহ্বান মাদুরোর

কারাগার থেকে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনিজুয়েলাবাসীর পাশে থাকার আহ্বান মাদুরোর

নিহত ৩২, আহত শতাধিক; ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চলছে

ভেনেজুয়েলায় জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্প: নিহত ৩২, আহত শতাধিক; ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চলছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপছে ভেনেজুয়েলা, ‘নতুন বন্ধু’ নিয়ে উদ্বিগ্ন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা প্রতিহত করে ‘মর্যাদাপূর্ণ শক্তিশালী রাষ্ট্র’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ
ইরানের দাবি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা প্রতিহত করে ‘মর্যাদাপূর্ণ শক্তিশালী রাষ্ট্র’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অপ্রত্যাশিতভাবে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর ভাষায়, এই প্রতিরোধ শুধু সামরিক দিক থেকেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও ইরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।   বুধবার (২৪ জুন) এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, সাম্প্রতিক এই সংঘাতের মাধ্যমে ইরান এখন “বিশ্বের কাছে একটি শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।”   বক্তৃতায় তিনি দাবি করেন, হামলার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মনে করেছিল খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারা ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে ফেলতে পারবে।   “আমাদের শত্রুরা বিশ্বাস করেছিল, মাত্র তিন দিনের মধ্যে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে সেখানে নিজেদের অনুগত একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করবে,” বলেন তিনি।   তবে বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয় বলে দাবি করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে এমন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, যা প্রতিপক্ষের কল্পনারও বাইরে ছিল।   “আমাদের সেনারা এমন এক বীরত্বগাথা রচনা করেছে, যা শত্রুরা কখনো ভাবেনি,”—যোগ করেন পেজেশকিয়ান।   তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মুখে পশ্চিমা দেশগুলো তাদের সামরিক কৌশল পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। শুরুতে কঠোর অবস্থান নিলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতির পরিবর্তনে তাদের অবস্থান নরম হয় বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।   প্রসঙ্গত, সংঘাতের শুরুর দিকে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে ইরানের প্রতিরোধ এবং প্রত্যাশিত সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার পর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়।   বর্তমানে এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই দুই পক্ষ কূটনৈতিক আলোচনার পথে এগিয়েছে। দীর্ঘদিনের বৈরিতা নিরসনের লক্ষ্যে উভয় দেশ এখন আলোচনার টেবিলে বসেছে বলে জানা গেছে।   আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক রাজনীতিই নয়, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এই পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমীকরণকেও নতুন করে নির্ধারণ করতে পারে।   সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই তথ্য জানা গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১:৮
জোড়া ভূমিকম্পে কাঁপল ভেনেজুয়েলা

“জোড়া ভূমিকম্পে কাঁপল ভেনেজুয়েলা, যা বলছেন আতঙ্কিত বাসিন্দারা”“জোড়া ভূমিকম্পে কাঁপল ভেনেজুয়েলা, যা বলছেন আতঙ্কিত বাসিন্দারা”

ইতালিতে তাপপ্রবাহে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা

ইতালিতে তাপপ্রবাহে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, ৪১ ডিগ্রি ছোঁয়ার শঙ্কা

পর্তুগালে বিদেশির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে

পর্তুগালে বিদেশির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বাংলাদেশির উপস্থিতি

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা। ছবি: সংগৃহীত
দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, লাখো প্রাণহানির শঙ্কা

ভেনেজুয়েলায় এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (স্থানীয় সময়) বিকেলে মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে দেশটির উত্তরাঞ্চলে। এতে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু ভবন ধসে পড়েছে, অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং বহু মানুষ হতাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে। মাত্র এক মিনিট পর আরও শক্তিশালী দ্বিতীয় ভূমিকম্প একই অঞ্চলে আঘাত হানে। ইউএসজিএসের প্রাথমিক দুর্যোগ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে দুর্যোগের পরিধি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা সরকার হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, কারাকাসের বহু ভবন প্রবলভাবে দুলতে শুরু করলে আতঙ্কিত মানুষ দ্রুত রাস্তায় নেমে আসেন। কোথাও কোথাও ছাদের অংশ ভেঙে পড়ে, বিমানবন্দরে বিদ্যুতের স্পার্ক দেখা যায় এবং জরুরি ভিত্তিতে যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। রাজধানীর একটি বেসবল ম্যাচ চলাকালে ভূমিকম্প শুরু হলে খেলোয়াড়, দর্শক ও কর্মকর্তারা দ্রুত মাঠের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। বিদ্যুতের খুঁটি, গ্যালারি ও আশপাশের স্থাপনাগুলোও কেঁপে ওঠে।   ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকারী দল ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। অনেক স্বজনকে ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কারাকাসসহ বিভিন্ন শহরের বহু ভবন আংশিক বা পুরোপুরি ধসে পড়েছে। অনেক এলাকায় সড়কের ওপর আসবাবপত্র, ইট-পাথর ও ভবনের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। নিরাপত্তার কারণে বাসিন্দাদের অনেকেই ঘরের বাইরে অবস্থান করছেন।   ভূমিকম্পের সময় ভেনেজুয়েলায় ছিল জাতীয় ছুটির দিন। দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটল অব কারাবোবো দিবস উপলক্ষে অধিকাংশ মানুষ বাড়িতে বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছিলেন। ফলে জনসমাগমের মধ্যেই দুর্যোগটি আঘাত হানে। কারাকাসের পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দা ৪১ বছর বয়সী অ্যাস্ট্রিড রামিরেজ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, "কম্পন শুরু হতেই চারপাশে মানুষের চিৎকার শুনতে পাই। সবাই দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসছিল।"   দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার একাধিক অঙ্গরাজ্যে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তিনি বলেন, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালনা করা হচ্ছে এবং শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। ভূমিকম্পের পর যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র প্রথমে পুয়ের্তো রিকো এবং মার্কিন ও ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের জন্য সুনামির সতর্কতা জারি করেছিল। তবে পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর প্রায় এক ঘণ্টা পরে সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলা ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। এর আগে ১৮১২ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাস ও মেরিদা অঞ্চলে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল বলে ইউএসজিএসের তথ্য বলছে।   কর্তৃপক্ষ এখনও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ না করলেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, রয়টার্স ও ইউএসজিএস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ০:২
রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে উদ্ধার অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করলেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট

জাপানে ৬.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার পর জাপানেও শক্তিশালী ভূমিকম্প, বন্ধ বুলেট ট্রেন চলাচল

ইরানের অভিযোগ, ইউরোপীয় দেশগুলোও ছিল অভিযানে সহায়ক। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ন্যাটো সরাসরি জড়িত: ইরান

0 Comments