ভেনেজুয়েলায় জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্প: নিহত ৩২, আহত শতাধিক; ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চলছে
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহর ও গ্রাম থেকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আরও অন্তত ৭০০ জনকে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।
এর আগে বুধবার (২৪ জুন) এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। ভূমিকম্পের পর থেকে দেশজুড়ে অন্তত ২০টির বেশি পরবর্তী কম্পন অনুভূত হয়েছে, যা উদ্ধারকাজকে আরও জটিল করে তুলছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের উত্তর উপকূলীয় অঞ্চলগুলো। লা গুয়াইরা, আরাগুয়া, কারাবোবো ও ফালকোন অঙ্গরাজ্যে ভূমিকম্পের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। এসব এলাকায় বহু ভবন ও ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল কারাবোবো অঙ্গরাজ্যে, যা রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
ইউএসজিএস-এর প্রাথমিক বিশ্লেষণে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রায় ৪৪ শতাংশ এবং ১ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রায় ৩০ শতাংশ।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং পরিস্থিতি সামনে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ ভবনই ভূমিকম্প সহনশীল মানদণ্ডে নির্মিত নয়, ফলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভেনেজুয়েলার যোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু ভবন ধসে পড়েছে কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাসের অনেক এলাকা এবং দেশের বিভিন্ন শহর-গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে কারাকাসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। তবে বারবার আফটারশকের কারণে উদ্ধার তৎপরতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreইউরোপের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে পশ্চিম ইউরোপের বাজারে চীনা ব্র্যান্ডের তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ির অংশ বেড়ে ১৪ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ওই সময়ে বিক্রি হওয়া প্রতি সাতটি ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির একটি ছিল চীনা ব্র্যান্ডের। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান শ্মিট অটোমোটিভ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে চীনা ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮০০টি, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় বাজার অংশে প্রায় পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি। চীনের বিওয়াইডি, চেরি, এসএআইসি ও এক্সপেংয়ের মতো গাড়ি নির্মাতারা ইউরোপের বাজারে রপ্তানি বাড়িয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির বৈশ্বিক বাজারে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে চীনা শিল্পের সম্প্রসারণের মধ্যেই ইউরোপে এসব গাড়ির বিক্রি বাড়ছে। একই সময়ে কঠোর নির্গমন নীতির কারণে ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতাদেরও ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি বাড়াতে হচ্ছে। ফলে চীনা নির্মাতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ইউরোপের প্রচলিত গাড়ি নির্মাতাদের ওপর চাপ বাড়ছে। চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি বাড়ার বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে এসব গাড়ির ওপর শুল্ক এবং বাজার সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করছে। অভিযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি পাওয়া চীনা গাড়ি নির্মাতারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের বাজারে তুলনামূলক কম দামে গাড়ি বিক্রি করে বাজার দখলের চেষ্টা করছে। ইউরোপীয় নির্মাতাদের সুরক্ষায় কোটার ব্যবস্থা ও আরও বেশি শুল্ক আরোপের দাবিও জোরালো হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে কিছু চীনা নির্মাতার তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এর সঙ্গে নিয়মিত ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কও রয়েছে। ইউরোপে চীনা গাড়ির সবচেয়ে বড় বাজার এখন যুক্তরাজ্য। দেশটির সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ না করায় যুক্তরাজ্যে চীনা গাড়ির বিক্রি বেশি হয়েছে। পশ্চিম ইউরোপের ১৮টি বড় বাজারে চীনা ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির মোট বিক্রির প্রায় এক-চতুর্থাংশই যুক্তরাজ্যে হয়েছে। অন্যদিকে মোট বিক্রির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এসেছে ইতালি থেকে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি অবশ্য ইতালির এই উচ্চ বিক্রয়কে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখেছে। দেশটিতে লিপমোটর বিপুলসংখ্যক কম দামের টি০৩ বৈদ্যুতিক গাড়ি পাঠিয়েছে। সরকারি ক্রয় ভর্তুকির সুবিধায় একপর্যায়ে এসব গাড়ির দাম ৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত নেমে এসেছিল, যা প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডগুলোর কম দামের মডেলের তুলনায়ও অনেক কম। চীনা নির্মাতারা চলতি বছর ইউরোপের বাজারে ১২০টিরও বেশি ভিন্ন মডেলের গাড়ি বিক্রি করেছে। একই সময়ে ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলোর মডেলের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০০টি। তবে গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথিয়াস শ্মিট মনে করছেন, ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে চীনের অংশ হয়তো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এর একটি কারণ হিসেবে তিনি চীনা নির্মাতাদের প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির দিকে কিছুটা বেশি মনোযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। এসব গাড়িতে পেট্রোলচালিত ইঞ্জিনের সঙ্গে তুলনামূলক ছোট ব্যাটারি থাকে এবং বর্তমানে শুধু ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর যে অতিরিক্ত শুল্ক রয়েছে, তা এসব গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। শ্মিটের মতে, চীনা নির্মাতারা আগামী ১২ মাসে প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারে, কারণ এসব গাড়ি বর্তমানে অতিরিক্ত শুল্কের আওতার বাইরে রয়েছে। তবে আগামী ১২ মাসে এই সুবিধা বন্ধ হওয়ার কথা থাকায় চীনা নির্মাতারা ওই সময়ের মধ্যে সুযোগটি কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। এদিকে জার্মান গাড়ি নির্মাতা ভক্সওয়াগেনের প্রধান নির্বাহী অলিভার ব্লুম ইউরোপের প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপরও শুল্ক ব্যবস্থার পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপরও শুল্ক বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এদিকে ইউরোপের গাড়ির বাজারে টেসলার বিক্রিতেও ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্র দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই গাড়ি নির্মাতার বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। তুলনামূলক কম দামের মডেল থ্রি ও মডেল ওয়াইয়ের চাহিদা বাড়ায় এই বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই সময়ে ইউরোপের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া একক গাড়ির মডেল ছিল মডেল ওয়াই। গত বছর টেসলার বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তবে চলতি বছর ইউরোপের বাজারে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রিতে আবারও বৃদ্ধি দেখা গেছে।
সান ফ্রান্সিসকোতে বাসা ভাড়ায় নতুন রেকর্ড! দুই বেডরুমের ভাড়া ছাড়াল ৬ হাজার ডলার
সৌদি স্থাপনায় ড্রোন হামলা, দায় স্বীকার হুথিদের
ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সহিংসতা! তিন মাসে নিহত ২৫
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে এক বিদেশিকে অপহরণ করে দুই দিন আটকে রেখে মারধর, হুমকি ও নির্যাতনের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির জুডিশিয়ারি পুলিশ। গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশির বয়স ৩৫ ও ৪৩ বছর। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাদের গ্রেপ্তারে পরিচালিত অভিযানের সাংকেতিক নাম দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের মুদ্রা ‘টাকা’র নামে। পর্তুগালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জরনাল দে নোতিসিয়াসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুন লিসবনের একটি সড়ক থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই বিদেশিকে জোর করে একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হলেও পুরো সময় আটকে রাখা হয়েছিল। পর্তুগালের জুডিশিয়ারি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আটকে রাখার সময় ভুক্তভোগীকে বারবার মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার মুক্তির বিনিময়ে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত মুক্তিপণের অর্থ পরিশোধের পর ভুক্তভোগীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। নির্যাতনের কারণে পরে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়। চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর জুডিশিয়ারি পুলিশের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট তদন্ত শুরু করে। তদন্তে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার পর অভিযান চালিয়ে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাদের প্রাথমিক বিচারিক শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট আদালত বা বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হবে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। লিসবনের তদন্ত ও প্রসিকিউশন বিভাগের পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
স্পেনের ভবিষ্যৎ রানি লিওনরের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ, প্যারাট্রুপার হিসেবে গড়লেন ইতিহাস
হামলায় স্ত্রী ও ৬ সন্তানকে হারিয়েছিলেন, এবার ১,৫০০ দম্পতির সঙ্গে আবার বিয়ে করলেন সেই বাবা
কানেকটিকাটে স্ন্যাপ সুবিধা হারানো পরিবারকে ৩০০ ডলারের খাদ্য সহায়তা, প্রিপেইড কার্ডে মিলবে এলাউন্স
জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা ও আদর্শিক নেতা সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদীর নাতনি সোফিয়া ফারুক যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান রাজনীতিতে সক্রিয়। ২০২৫ সালে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের কাব কাউন্টি রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। স্থানীয় রিপাবলিকান রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা সোফিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা ‘আমেরিকাকে আবার মহান করার’ রাজনৈতিক ধারার সমর্থক হিসেবেও পরিচিত। সোফিয়ার পারিবারিক পরিচয়ও তাকে ঘিরে আগ্রহের অন্যতম কারণ। তিনি মওদূদী পরিবারের উত্তরসূরি। তবে তার বাবা সাইয়্যেদ হায়দার ফারুক মওদূদী, এই দাবির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রকাশ্য সূত্রে তার বাবার নাম সাইয়্যেদ আহমদ ফারুক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে কাব কাউন্টি রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচনে সোফিয়া ফারুক, মেরি ক্ল্যারিস হ্যাথাওয়ে ও ড. ফান ফং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনের আগে কাব কাউন্টি রিপাবলিকান অ্যাসেম্বলি সোফিয়া ও তার প্যানেলকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেয়। সংগঠনটি তার রাজনৈতিক কাজ, রিপাবলিকান পার্টির জন্য মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে। সোফিয়ার রাজনৈতিক অবস্থানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ইসরায়েল প্রশ্নে তার প্রকাশ্য অবস্থান। কাব কাউন্টি রিপাবলিকান অ্যাসেম্বলির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এক প্রার্থী ফোরামে সোফিয়া স্পষ্টভাবে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানান এবং সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা করার কথা বলেন। সংগঠনটি আরও জানায়, তিনি হামাসের নিন্দা করেছেন এবং সন্ত্রাসবাদ থেকে আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের অধিকার রয়েছে বলে মত দিয়েছেন। সোফিয়ার প্রকাশিত ছবিতেও তার পোশাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকার প্রতীকযুক্ত ল্যাপেল পিন দেখা যায়। এ কারণে তার রাজনৈতিক অবস্থান ও ইসরায়েলপন্থী অবস্থান নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে ছবিতে থাকা প্রতীক দেখে তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে অতিরিক্ত কোনো দাবি করা ঠিক হবে না। ২০২৫ সালের নির্বাচনী প্রচারে সোফিয়ার মুসলিম পারিবারিক পরিচয় নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কাব কাউন্টি রিপাবলিকান অ্যাসেম্বলি জানায়, সোফিয়া নিজেকে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেন। একই সঙ্গে সংগঠনটি তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে আক্রমণের সমালোচনা করে এবং জানায়, সোফিয়া হামাস ও অন্যান্য সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা করেছেন। শেষ পর্যন্ত কাব কাউন্টি রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচনে জয়ী হন মেরি ক্ল্যারিস হ্যাথাওয়ে। সোফিয়া ফারুক জয় না পেলেও নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জর্জিয়ার স্থানীয় রিপাবলিকান রাজনীতিতে তার পরিচিতি আরও বাড়ে। বর্তমানে কাব কাউন্টি রিপাবলিকান পার্টির নেতৃত্বসংক্রান্ত প্রকাশ্য তালিকায় সোফিয়ার নাম হাউস ডিস্ট্রিক্ট ৪১-এর চেয়ার হিসেবে রয়েছে।
আড়ালে থাকার পর প্রথমবার ভিডিওতে দেখা গেল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে
সিটবেল্ট না বাঁধায় এক শিশুর কারণে বাতিল পুরো ফ্লাইট, ভোগান্তিতে শতাধিক যাত্রী